📄 এস্তেখারার নিয়ম
যে ব্যক্তি স্বীয় মুসীবত অর্থাৎ রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের তরীকা ও পদ্ধতি অবগত হতে চায় সে যেন পাক-পবিত্র কাপড় পরিধান করে অযুসহ কেবলামুখী হয়ে ডান কাতে শয়ন করে ৭ বার করে সূরা শামস, সূরা লাইল এবং সূরা ইখলাস পাঠ করে। অপর এক রেওয়ায়াতে সূরা ইখলাসের পরিবর্তে সূরা ত্বীন-এর কথা এসেছে। অতঃপর এ দুআ পাঠ করবে।
اَللَّهُمَّ اَرِنِى فِى مَنَامِى كَذَا وَكَذَا (مقصود کا نام لے ) وَ اجْعَلْ لِى مِنْ اَمْرِى فَرَجًا وَارِنِيْ فِيْ مَنَامِيْ مَا أَسْتَعْمِلُ عَلَى إِجَابَةِ دَعْوَتِي -
এটা আমলকারী অভিজ্ঞ উলামাদের পদ্ধতি। এতএব যদি সে যা জানতে চায় তা সে রাত্রেই স্বপ্নে দেখে তবে তো উত্তম। নতুবা ক্রমাগত ৭ রাত একইভাবে এই আমল করতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ সপ্তম রাত পর্যন্ত সে অবশ্যই তার অবস্থা জেনে যাবে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ)
এস্তেখারার অর্থ হল মঙ্গল অন্বেষণ করা অর্থাৎ মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করা। এটাকে না রমল বলে, আর না ফাল বলে। রবং এটা হল দয়াময় মাওলা পাকের নিকট নিজের জন্য কল্যাণ চাওয়ার একটা আকুতি। তিনিই সকল দুঃখী ও সহায়হীনের ভরসা ও আশ্রয়স্থল, তাঁরই নিকট স্বীয় কল্যাণ ও হেদায়াতের মিনতি পেশ করা উচিত।
📄 সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার
(দারিদ্রবিমোচন ও প্রশস্ত রিযিকের জন্যে)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এস্তেগফারকে নিজের জন্য অপরিহার্য্য করে নিয়েছে আল্লাহ তা'আলা তাকে সকল অভাব অনটন ও দারিদ্র থেকে মুক্তি দেন এবং যে কোন চিন্তা ও পেরেশানী থেকে নাজাত দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আবূ দাউদ, নাসায়ী
যে কোন বালা-মুসীবত ও দুঃখ কষ্টের সময় দুইটি জিনিসই মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও পেরেশানী দূর করতে পারে। একটি হল অধিক পরিমাণে এস্তেগফার আর অপরটি হল সদকা-খয়রাত। হাদীস শরীফে বিভিন্ন এস্তেগফার বর্ণিত হয়েছে। এর যে কোন একটি পাঠ করাই যথেষ্ট। তবে বুখারী ও মুসলিম শরীফের নিম্নোক্ত সাইয়্যেদুল এস্তেগফারের বহু প্রশংসা উল্লেখিত হয়েছে।
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَعَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ .
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ
হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর দরবারে আরয করেছিলেনঃ "হে আমাদের পরওয়ারদিগার! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। সূরাহ আরাফ: আয়াতঃ ২৩
📄 ফাতেহাঃ সূরায়ে শেফা
পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরা ফাতেহাকে উলামাগণ সবচেয়ে মর্যাদাবান সূরা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) এই সূরা ফাতেহাকে "আযমে সূআর" বা সূরা সমূহের মর্যাদাবান সূরা এবং 'কুরআনুল আযীম' নামে উল্লেখ করেছেন। স্বয়ং রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
فَاتِحَةُ الْكِتَابِ شِفَاء لِكُلِّ دَاء
অর্থাৎ "সূরা ফাতেহা প্রত্যেক রোগের জন্য শেফা।"
📄 সূরা ফাতেহার কয়েকটি বিশেষ আমল
নিম্নে প্রদত্ত হল:
আমল-১: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম-এর শেষ অক্ষর "মীম" কে সূরা আলহামদুর সাথে মিলিয়ে ৪১বার পড়ুন এবং রোগীর উপর দম করুন। ইনশাআল্লাহ যে কোন ব্যথা ও রোগ ব্যাধি নিরাময় হবে।
আমল-২: ফজরের সুন্নত ও ফরয নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে সূরা ফাতেহাকে ৪১ বার বিসমিল্লাহ-এর সাথে মিলিয়ে পড়লে রুগ্ন ব্যক্তি আরোগ্য লাভ করবে। বিশেষতঃ চোখের রোগ বিদূরিত হবে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি ঋণমুক্ত হবে। দুর্বল সবল হবে।
আমল-৩ঃ ফজরের নামাযের পর ১২৫ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করলে অবশ্যই মকসুদ ও উদ্দেশ্য হাসিল হবে। ইনশাআল্লাহ
আমল-৪: আল্লামা আহমদ দায়রবী (রহঃ) বলেন, শরীরের যে কোন জায়গায় ব্যথা হলে ব্যথার স্থানে হাত রেখে ৭ বার সূরা ফাতেহা পাঠ করবে এবং আল্লাহর নিকট আরোগ্যের জন্য দুআ করবে। ইনশাআল্লাহ রোগী আরাম পাবে। ফতহুল মজীদ
হযরত আলী (রাযিঃ) ও এক বিশেষ তরতীব ও পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তালক্বীন দিয়েছেন। শায়খ মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী (রহঃ) ও এক খাস তরতীবে সূরা ফাতেহা পাঠ করার তরীকা বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে আবদুল ওয়াহহাব শা'রানী (রহঃ) ও সূরা ফাতেহা পাঠ করার এক বিশেষ নিয়ম পদ্ধতি বাৎলিয়েছেন।
আমল-৫: মানুষ বাধ্য করা, কল্যাণ লাভ এবং অনিষ্ঠতা থেকে বেঁচে থাকার জন্য নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সূরা ফাতেহা পাঠ অত্যন্ত উপকারী। তবে এই আমল কোন অবস্থাতেই অসৎ উদ্দেশ্যে করা যাবে না। তরতীবটি নিম্নরূপ:
ফজরের নামাযের পর বিসমিল্লাহসহ শুরু করবে-
রবিবার الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَلَمِينَ ৬১৬ বার
সোমবার الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ৬১৯ বার
মঙ্গলবার مُلِكِ يَوْمِ الدِّينِ ২৪২ বার
বুধবার إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ ৮৫৬ বার
বৃহষ্পতিবার اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ ১০৭০ বার
শুক্রবার صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ৮০৭ বার
শনিবার غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ ৪২০০ বার
আমল-৬: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, সূরা ফাতেহা বিষের ঔষধ। -দারেমী