📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 রোগ-ব্যাধি ও দুআ দরূদ

📄 রোগ-ব্যাধি ও দুআ দরূদ


পূর্বে আমরা দুইটি হাদীস উদ্ধৃত করেছি। যদ্বারা এ কথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে আখেরী রাসূল (সাঃ) রোগে চিকিৎসার সাথে সাথে দুআও করতেন। বস্তুতঃ হযরত সাহাবায়ে কেরামগণের আমলও এরূপই ছিল। তাঁরা না চিকিৎসা বর্জন করাকে বৈধ মনে করতেন। আর না চিকিৎসার উপর ভরসা করে মহান আল্লাহকে ভুলে যেতেন।
এ পর্যায়ে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের একটি ঘটনা পেশ করছি।
হযরত উসমান গনী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, একদা আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার ব্যথার অভিযোগ করি। তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, শরীরের যে জায়গায় ব্যথা হচ্ছে সেখানে হাত রাখ এবং ৩ বার বিসমিল্লাহ পড়। অতঃপর ৭ বার এই দুআটি পাঠ কর।
اعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأَحَاذِرُ
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আরো একটি ঘটনা লক্ষ্য করুন। তিনি বলেন, আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় হুযুর (সাঃ) তার হাল অবস্থা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি তার অসুখ ও কষ্টের কথা বলল। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কালিমা শিখিয়ে দেবনা যদ্বারা যে কোন রোগ ও কষ্ট দূর হয়ে যায়? লোকটি আরয করল, অবশ্যই বলুন ইয়া রাসূলাল্লাহ! হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তুমি এই দুআটি পাঠ করোঃ
تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ - الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذُ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكَ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِ وَكَبِّرُهُ تَكْبِيرًا -
কয়েকদিন পর যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার এই রাস্তা দিয়ে যান তখন লোকটির অবস্থা ভাল ছিল। লোকটি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে যে কালিমাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমি সর্বদাই এইগুলি পাঠ করি।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দম দরূদ

📄 দম দরূদ


عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِثَابِتٍ رَحِمَهُ اللهُ أَلَا أُرْقِيكَ بِرُقْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ بَلَى - قَالَ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مَذْهِبَ الْبَأْسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি হযরত সাবেত (রহঃ) কে বলেছেন আমি কি তোমাকে রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দম দরূদ অর্থাৎ ঝাড়-ফুঁকের নিয়ম শিখিয়ে দেবো না? হযরত সাবেত বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই শিখিয়ে দেন। হযরত আনাস (রাযিঃ) বললেন, রোগ-ব্যাধির জন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পাঠ করতেন।
"হে আল্লাহ! হে সকল মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন। আরোগ্যদান করুন! আপনিই আরোগ্য দানকারী, আপনি ব্যতীত কোন আরোগ্য দানকারী নাই। আপনি আরোগ্যদান করুন যারপর আর কোন কষ্ট থাকবে না।"-বুখারী শরীফ
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসটিও হযরত আনাস (রাযিঃ) এর বর্ণিত উপরোক্ত বয়ান ও আমলের সমর্থন করে। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعُودُ بَعْضَ أَهْلِهِ يَمْسَحُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَقُولُ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ - لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شَفَاء لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
"হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের কারো অসুখ হলে তাকে ইআদত করার সময় ডান হাত তার শরীরে ফেরাতেন এবং মুখে এই দুআ পাঠ করতেন। হে আল্লাহ! হে সকল মানুষের রব! কষ্ট দুর করে দিন। আরোগ্যদান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্যদানকারী নাই। এমন আরোগ্য দান করুন, যার পর আর কোন কষ্ট না থাকে। বুখারী শরীফ
এই ছিল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাড়-ফুঁক। এটাকে প্রচলিত ঝাড়-ফুঁকের নামে নামকরণ করা কোন ভাবেই সঙ্গত নয়। কোন যাদু মন্ত্র নয়। বরং কয়েকটি দুআর শব্দাবলী যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুবারক মুখে আদায় করেছেন। আর রুগ্নের আরোগ্যের জন্য সকল রোগের আরোগ্যদানকারী মহান আল্লাহর দরবারে দুআ করেছেন।
প্রচলিত অনৈসলামিক ঝাড়-ফুঁক ও ফালনামার সাথে একজন প্রকৃত মুসলমানের দূরবর্তী সম্পর্কও থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে বুখারী শরীফের নিম্নোক্ত হাদীসখানি লক্ষ্য করুন। ইরশাদ হচ্ছে:
"সত্তর হাজার এমন সৌভাগ্যশীল লোক রয়েছে যারা কোন হিসাব কিতাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরা হল সেই সব লোক যারা না ঝাড়-ফুঁক করে, না দাগ লাগায় আর না ফালনামায় বিশ্বাস করে বরং তারা স্বীয় পরওয়ারগিদারের উপর ভরসা রাখে।" বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, আহমদ
হযরত ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের উপরও একটু চিন্তা করুন। তিনি বলেনঃ
مَا أَنْزَلَ اللهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا وَقَدْ أَنْزَلَ مَعَهُ شِفَاءٌ عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
অর্থাৎ "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা এমন কোন রোগ-ব্যাধি দেন নাই যার সাথে এর প্রতিষেধক নাযিল করেন নাই। তবে এর জ্ঞান যাকে দেওয়ার তাকেই দিয়েছেন। আর যাকে বে-খবর রাখার তাকে বে-খবরই রেখেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেককে এর জ্ঞান দান করেন নাই।" - মুসতাদরাক

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 এস্তেখারার নিয়ম

📄 এস্তেখারার নিয়ম


যে ব্যক্তি স্বীয় মুসীবত অর্থাৎ রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের তরীকা ও পদ্ধতি অবগত হতে চায় সে যেন পাক-পবিত্র কাপড় পরিধান করে অযুসহ কেবলামুখী হয়ে ডান কাতে শয়ন করে ৭ বার করে সূরা শামস, সূরা লাইল এবং সূরা ইখলাস পাঠ করে। অপর এক রেওয়ায়াতে সূরা ইখলাসের পরিবর্তে সূরা ত্বীন-এর কথা এসেছে। অতঃপর এ দুআ পাঠ করবে।
اَللَّهُمَّ اَرِنِى فِى مَنَامِى كَذَا وَكَذَا (مقصود کا نام لے ) وَ اجْعَلْ لِى مِنْ اَمْرِى فَرَجًا وَارِنِيْ فِيْ مَنَامِيْ مَا أَسْتَعْمِلُ عَلَى إِجَابَةِ دَعْوَتِي -
এটা আমলকারী অভিজ্ঞ উলামাদের পদ্ধতি। এতএব যদি সে যা জানতে চায় তা সে রাত্রেই স্বপ্নে দেখে তবে তো উত্তম। নতুবা ক্রমাগত ৭ রাত একইভাবে এই আমল করতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ সপ্তম রাত পর্যন্ত সে অবশ্যই তার অবস্থা জেনে যাবে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ)
এস্তেখারার অর্থ হল মঙ্গল অন্বেষণ করা অর্থাৎ মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করা। এটাকে না রমল বলে, আর না ফাল বলে। রবং এটা হল দয়াময় মাওলা পাকের নিকট নিজের জন্য কল্যাণ চাওয়ার একটা আকুতি। তিনিই সকল দুঃখী ও সহায়হীনের ভরসা ও আশ্রয়স্থল, তাঁরই নিকট স্বীয় কল্যাণ ও হেদায়াতের মিনতি পেশ করা উচিত।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার

📄 সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার


(দারিদ্রবিমোচন ও প্রশস্ত রিযিকের জন্যে)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এস্তেগফারকে নিজের জন্য অপরিহার্য্য করে নিয়েছে আল্লাহ তা'আলা তাকে সকল অভাব অনটন ও দারিদ্র থেকে মুক্তি দেন এবং যে কোন চিন্তা ও পেরেশানী থেকে নাজাত দেন এবং তাকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দান করেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আবূ দাউদ, নাসায়ী
যে কোন বালা-মুসীবত ও দুঃখ কষ্টের সময় দুইটি জিনিসই মানুষের চিন্তা-ভাবনা ও পেরেশানী দূর করতে পারে। একটি হল অধিক পরিমাণে এস্তেগফার আর অপরটি হল সদকা-খয়রাত। হাদীস শরীফে বিভিন্ন এস্তেগফার বর্ণিত হয়েছে। এর যে কোন একটি পাঠ করাই যথেষ্ট। তবে বুখারী ও মুসলিম শরীফের নিম্নোক্ত সাইয়্যেদুল এস্তেগফারের বহু প্রশংসা উল্লেখিত হয়েছে।
اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَعَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ .
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَسِرِينَ
হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর দরবারে আরয করেছিলেনঃ "হে আমাদের পরওয়ারদিগার! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। যদি আপনি ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাব। সূরাহ আরাফ: আয়াতঃ ২৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00