📄 নামাযে শেফা বা আরোগ্য রয়েছে
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
إِنَّ فِي الصَّلُوةِ شِفَاءٌ
"নিশ্চয়ই নামাযে শেফা ও আরোগ্য রয়েছে।" ইবনে মাজাহ
নামায যাবতীয় আত্মিক ও দৈহিক রোগ-ব্যাধির শেফা ও আরোগ্য দান করে। এখানে আমরা পাকিস্তানের বিখ্যাত হৃদরোগ চিকিৎসক ডাক্তার মুহাম্মদ আলমগীর খানের গবেষণার সারাংশ উপস্থাপন করছি। তার এই গবেষণার দ্বারা হুযুর পাক (সাঃ)-এর উপরোক্ত বাণীর ব্যাখ্যা হয়ে যায়। তবে ব্যাখ্যা এজন্য নয় যে তাঁর কোন বাণী সত্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। বরং রাসূল (সাঃ)-এর বাণী সতত মহিয়ান ও পরম সত্য। তাঁর বাণীর যত ব্যাখ্যাই করা হোক তাও অতি নগণ্য হবে।
আল্লাহ তা'আলা পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করে দিয়ে আমাদের প্রতি বড় অনুগ্রহ করেছেন। নামায একদিকে আত্মিক উন্নতিদান করে এবং মন্দ ও অশ্লীলতা থেকে বের করে এনে পাক পবিত্র জীবন দেয়। অপরদিকে দৈহিক সুস্থতার জন্যও নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। মানুষের বয়ঃবৃদ্ধির সাথে সাথে তার দেহের কোল্যাস্টোল (CHOLESTEROLF) চর্বির দ্বারা দেহের শিরাগুলি ক্ষীণ হতে ক্ষীণতর হতে থাকে। এই ক্ষীণতার কারণে অসংখ্য রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। যেমন, ব্লাড প্রেসার, অর্ধাঙ্গ, হৃদরোগ, বৃদ্ধতা, হজম মন্দা ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখ্য।
এই চর্বির স্ফীতি রোধ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো ব্যয়াম। যা নামাযের মাধ্যমে অতি উত্তমভাবে পুরা হয়ে যায়। এ জন্যেই নামাযী ও শ্রমিক শ্রেণীর লোকদের মধ্যে এই রোগ-ব্যাধিগুলি তুলনামূলক খুবই কম হয়ে থাকে।
এবার নামাযের হিকমতপূর্ণ তরতীবের বিষয়টি লক্ষ্য করে দেখুন। যখন পেট খালী থাকে তখন নামাযের রাকআত সংখ্যাও কম থাকে। যেমন ফজর, আসর ও মাগরিবের সময় নামাযের রাকাআত সংখ্যা কম। কিন্তু খাওয়ার পর যোহর ও ঈশার নামাযে রাকাআতের সংখ্যা বেশী। কেননা, খাওয়ার দ্বারা চর্বির বৃদ্ধি ঘটে। রমযানুল মুবারকে মাগরিবের পর বেশী খাওয়া হয় তাই ইশার সময় তারাবীর নামাযে রাকাআতের সংখ্যা বেশি। এভাবে নামায রূহানী বরকতের সাথে সাথে একটি সামঞ্জস্যশীল দৈহিক ব্যয়ামও হয়ে যায়। এটা শরীরের রক্ত ঘন ও ঘাঢ় না হওয়ার কারণ হয়ে যায়।
(৩) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে নামায পড়ে দেখিয়েছেন এবং যেভাবে নামায পড়তে বলেছেন আমরা যদি ঠিক সেইভাবে যথাযথ নামায আদায় করি তাহলে শরীরের এমন কোন অঙ্গ বাকী থাকে না যার ব্যয়াম এমনিতেই উত্তম পদ্ধতিতে হয়ে যায় না। যেমন :
তাকবীরে উলাঃ তাকবীরে উলা অর্থাৎ নিয়ত বাঁধার জন্য যখন কনুই পর্যন্ত হাত কাঁধ বরাবর উত্থোলন করা হয় তখন স্বাভাবিক ভাবেই রক্ত সঞ্চালনের তীব্রতা বেড়ে যায়।
কিয়ামঃ অর্থাৎ দাঁড়ানোর অবস্থায় হাত বেঁধে রাখার সময় কনুই থেকে কজি ও আঙ্গুলের মাথা পর্যন্ত হাত ব্যবহৃত হয়। এতে রক্তের চলাচল তীব্র হয়।
রুকুঃ রুকুর সময় হাঁটু কনুই কজি এবং কোমরের সবগুলি জোড় প্রবলভাবে ঝাকুনী দেয়।
সেজদাঃ সেজদার অবস্থায় হাত পা পেট পিঠ 'কোমর রান ও শরীরের সবগুলি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জোড়ায় নাড়া পড়ে এবং টানটান অবস্থায় থাকে। সেজদারত অবস্থায় মেয়ে লোকদের বুক রানের সাথে মিশে থাকে। এতে তাদের বিশেষ অভ্যন্তরীণ রোগ-ব্যাধির উপশম হয়। এতদ্ব্যতীত সেজদার সময় রক্ত মস্তিষ্ক পর্যন্ত সঞ্চালিত হয়। যা সুস্থতার জন্য একান্ত আবশ্যকীয়।
তাশাহহুদঃ এই অবস্থায় কোমর থেকে পা পর্যন্ত রগগুলি টানটান হয়ে থাকে। একদিকে থাকে টাখনো ও পায়ের অন্যান্য জোড় এবং অন্যদিকে থাকে কোমর ও গর্দানের জোড়াগুলি।
সালামঃ সালাম ফেরানোর সময় গর্দানের দুই দিকের জোড়াগুলিই কাজ করে এবং গর্দান ঘুরানোর সময় রক্ত সঞ্চালন তীব্র হয়।
(৪) নামাযের এই নড়াচড়াগুলির দ্বারা একটি উত্তম ব্যায়াম হয়ে থাকে। নামাযের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকার কারণে কুদরতী ভাবে ব্যায়ামের মধ্যেও একটি সামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়। অন্যান্য ব্যায়ামের মত এতে কোন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার সৃষ্টি হয় না।
উত্তম পন্থায় রক্ত সঞ্চালিত হওয়ার কারণে হৃদযন্ত্র সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ থাকে। এতে না তো রক্ত ঘন হয়ে যায় আর না রক্তের সঞ্চালনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। 'হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যথার্থই বলেছেন, "মানুষের দেহে একটি গোশত পিন্ড আছে। তা যতক্ষণ সুস্থ থাকে ততক্ষণ সমগ্র শরীরই সুস্থ থাকে। আর যখন তা খারাপ হয়ে যায় তখন সারা দেহই খারাপ হয়ে যায়। সাবধান! খুব মনে রেখো! সেই গোশত পিন্ডটা হল মানুষের অন্তর বা কলব।" -মুসলিম ও নাসায়ী শরীফ
জামাআতে নামায পড়ার জন্য বারবার মসজিদে উপস্থিতি এবং বাড়ী থেকে মসজিদ ও মসজিদ থেকে বাড়ীতে যাওয়া আসা করা এবং এ বিষয়ে গুরুত্বের জন্য অতিরিক্ত সচেতনতা আত্মা ও দেহ উভয়ের জন্যই অশেষ কল্যাণকর ও বরকতম।
(৫) আজ বৈজ্ঞানিক গবেষণার পর আমরা দেহের তথ্য ও অবস্থা এবং রোগ-ব্যাধির বিষয়ে অবগত হতে পেরেছি। কিন্তু মানবজাতির মহান পথপ্রদর্শক চৌদ্দশ বছর আগেই আমাদরেকে এমন এক জীবন ব্যবস্থা দিয়ে গেছেন যা সর্বময় রহমত বরকত ও কল্যাণে ভরপুর।
📄 রোগ-ব্যাধি ও দুআ দরূদ
পূর্বে আমরা দুইটি হাদীস উদ্ধৃত করেছি। যদ্বারা এ কথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে আখেরী রাসূল (সাঃ) রোগে চিকিৎসার সাথে সাথে দুআও করতেন। বস্তুতঃ হযরত সাহাবায়ে কেরামগণের আমলও এরূপই ছিল। তাঁরা না চিকিৎসা বর্জন করাকে বৈধ মনে করতেন। আর না চিকিৎসার উপর ভরসা করে মহান আল্লাহকে ভুলে যেতেন।
এ পর্যায়ে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের একটি ঘটনা পেশ করছি।
হযরত উসমান গনী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, একদা আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আমার ব্যথার অভিযোগ করি। তখন হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, শরীরের যে জায়গায় ব্যথা হচ্ছে সেখানে হাত রাখ এবং ৩ বার বিসমিল্লাহ পড়। অতঃপর ৭ বার এই দুআটি পাঠ কর।
اعُوذُ بِاللَّهِ وَقُدْرَتِهِ مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأَحَاذِرُ
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত আরো একটি ঘটনা লক্ষ্য করুন। তিনি বলেন, আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাওয়ার সময় হুযুর (সাঃ) তার হাল অবস্থা জিজ্ঞাসা করলেন। লোকটি তার অসুখ ও কষ্টের কথা বলল। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাকে এমন কালিমা শিখিয়ে দেবনা যদ্বারা যে কোন রোগ ও কষ্ট দূর হয়ে যায়? লোকটি আরয করল, অবশ্যই বলুন ইয়া রাসূলাল্লাহ! হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তুমি এই দুআটি পাঠ করোঃ
تَوَكَّلْتُ عَلَى الْحَيِّ الَّذِي لَا يَمُوتُ - الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذُ وَلَدًا وَلَمْ يَكُن لَّهُ شَرِيكَ فِي الْمُلْكِ وَلَمْ يَكُن لَّهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِ وَكَبِّرُهُ تَكْبِيرًا -
কয়েকদিন পর যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবার এই রাস্তা দিয়ে যান তখন লোকটির অবস্থা ভাল ছিল। লোকটি আরয করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি আমাকে যে কালিমাগুলো শিখিয়ে দিয়েছিলেন আমি সর্বদাই এইগুলি পাঠ করি।
📄 দম দরূদ
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ لِثَابِتٍ رَحِمَهُ اللهُ أَلَا أُرْقِيكَ بِرُقْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ بَلَى - قَالَ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مَذْهِبَ الْبَأْسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ شِفَاءٌ لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি হযরত সাবেত (রহঃ) কে বলেছেন আমি কি তোমাকে রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দম দরূদ অর্থাৎ ঝাড়-ফুঁকের নিয়ম শিখিয়ে দেবো না? হযরত সাবেত বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই শিখিয়ে দেন। হযরত আনাস (রাযিঃ) বললেন, রোগ-ব্যাধির জন্য হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পাঠ করতেন।
"হে আল্লাহ! হে সকল মানুষের রব! কষ্ট দূর করুন। আরোগ্যদান করুন! আপনিই আরোগ্য দানকারী, আপনি ব্যতীত কোন আরোগ্য দানকারী নাই। আপনি আরোগ্যদান করুন যারপর আর কোন কষ্ট থাকবে না।"-বুখারী শরীফ
হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত হাদীসটিও হযরত আনাস (রাযিঃ) এর বর্ণিত উপরোক্ত বয়ান ও আমলের সমর্থন করে। হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বলেনঃ
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَعُودُ بَعْضَ أَهْلِهِ يَمْسَحُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى وَيَقُولُ اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبِ الْبَأْسَ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِيِّ - لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شَفَاء لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
"হযরত রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় পরিবারের কারো অসুখ হলে তাকে ইআদত করার সময় ডান হাত তার শরীরে ফেরাতেন এবং মুখে এই দুআ পাঠ করতেন। হে আল্লাহ! হে সকল মানুষের রব! কষ্ট দুর করে দিন। আরোগ্যদান করুন। আপনিই আরোগ্য দানকারী। আপনি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্যদানকারী নাই। এমন আরোগ্য দান করুন, যার পর আর কোন কষ্ট না থাকে। বুখারী শরীফ
এই ছিল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঝাড়-ফুঁক। এটাকে প্রচলিত ঝাড়-ফুঁকের নামে নামকরণ করা কোন ভাবেই সঙ্গত নয়। কোন যাদু মন্ত্র নয়। বরং কয়েকটি দুআর শব্দাবলী যা হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মুবারক মুখে আদায় করেছেন। আর রুগ্নের আরোগ্যের জন্য সকল রোগের আরোগ্যদানকারী মহান আল্লাহর দরবারে দুআ করেছেন।
প্রচলিত অনৈসলামিক ঝাড়-ফুঁক ও ফালনামার সাথে একজন প্রকৃত মুসলমানের দূরবর্তী সম্পর্কও থাকতে পারে না। এ ব্যাপারে বুখারী শরীফের নিম্নোক্ত হাদীসখানি লক্ষ্য করুন। ইরশাদ হচ্ছে:
"সত্তর হাজার এমন সৌভাগ্যশীল লোক রয়েছে যারা কোন হিসাব কিতাব ছাড়াই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এরা হল সেই সব লোক যারা না ঝাড়-ফুঁক করে, না দাগ লাগায় আর না ফালনামায় বিশ্বাস করে বরং তারা স্বীয় পরওয়ারগিদারের উপর ভরসা রাখে।" বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসায়ী, আহমদ
হযরত ইবনে মাসউদ (রাযিঃ)-এর বর্ণিত হাদীসের উপরও একটু চিন্তা করুন। তিনি বলেনঃ
مَا أَنْزَلَ اللهُ مِنْ دَاءٍ إِلَّا وَقَدْ أَنْزَلَ مَعَهُ شِفَاءٌ عَلِمَهُ مَنْ عَلِمَهُ وَجَهِلَهُ مَنْ جَهِلَهُ
অর্থাৎ "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তা'আলা এমন কোন রোগ-ব্যাধি দেন নাই যার সাথে এর প্রতিষেধক নাযিল করেন নাই। তবে এর জ্ঞান যাকে দেওয়ার তাকেই দিয়েছেন। আর যাকে বে-খবর রাখার তাকে বে-খবরই রেখেছেন। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক রোগেরই প্রতিষেধক সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কিন্তু প্রত্যেককে এর জ্ঞান দান করেন নাই।" - মুসতাদরাক
📄 এস্তেখারার নিয়ম
যে ব্যক্তি স্বীয় মুসীবত অর্থাৎ রোগ-ব্যাধি ইত্যাদি থেকে মুক্তি লাভের তরীকা ও পদ্ধতি অবগত হতে চায় সে যেন পাক-পবিত্র কাপড় পরিধান করে অযুসহ কেবলামুখী হয়ে ডান কাতে শয়ন করে ৭ বার করে সূরা শামস, সূরা লাইল এবং সূরা ইখলাস পাঠ করে। অপর এক রেওয়ায়াতে সূরা ইখলাসের পরিবর্তে সূরা ত্বীন-এর কথা এসেছে। অতঃপর এ দুআ পাঠ করবে।
اَللَّهُمَّ اَرِنِى فِى مَنَامِى كَذَا وَكَذَا (مقصود کا نام لے ) وَ اجْعَلْ لِى مِنْ اَمْرِى فَرَجًا وَارِنِيْ فِيْ مَنَامِيْ مَا أَسْتَعْمِلُ عَلَى إِجَابَةِ دَعْوَتِي -
এটা আমলকারী অভিজ্ঞ উলামাদের পদ্ধতি। এতএব যদি সে যা জানতে চায় তা সে রাত্রেই স্বপ্নে দেখে তবে তো উত্তম। নতুবা ক্রমাগত ৭ রাত একইভাবে এই আমল করতে থাকবে। ইনশাআল্লাহ সপ্তম রাত পর্যন্ত সে অবশ্যই তার অবস্থা জেনে যাবে। শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলবী (রহঃ)
এস্তেখারার অর্থ হল মঙ্গল অন্বেষণ করা অর্থাৎ মঙ্গল ও কল্যাণ প্রার্থনা করা। এটাকে না রমল বলে, আর না ফাল বলে। রবং এটা হল দয়াময় মাওলা পাকের নিকট নিজের জন্য কল্যাণ চাওয়ার একটা আকুতি। তিনিই সকল দুঃখী ও সহায়হীনের ভরসা ও আশ্রয়স্থল, তাঁরই নিকট স্বীয় কল্যাণ ও হেদায়াতের মিনতি পেশ করা উচিত।