📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সফরজাল বা বিহিদানা

📄 সফরজাল বা বিহিদানা


সফরজালকে ফারসী ভাষায় বাহ, উর্দুতে বাহি আর ইংরেজীতে কাওন্স (QUINCE), এবং বাংলায় বিহিদানা বলা হয়। এটা বহুল পরিচিত এবং টকমিষ্টি বিশিষ্ট একটা ফল।
বিহিদানা দিয়ে শরবত, রস এবং মোরব্বা তৈরী করা হয়। এটা দেহের শক্তিবর্ধক ও চিত্তের জন্য আনন্দদায়ক। পেট, যকৃৎ ও মন-মস্তিষ্ক সতেজকারী। হৃৎ কম্পন, যকৃৎ দাহ ও মানসিক দুর্বলতায় উপকারী। পিপাসা ও বমনের ক্ষেত্রে প্রশান্তিদায়ক। (কিতাবুল মুফরাদাত): পৃঃ ১১২
সফরজাল সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী-
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِيَدِهِ سَفَرُ جَلَّهُ فَقَالَ دُونَكَهَا يَا طَلْحَةٌ فَإِنَّهَا تَجِمُ الْفُؤَادِ
(১) “হযরত তালহা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, 'আমি একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হই, এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হস্ত মোবারকে একটা আমলকী বিহিদানা ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দানাটি দেখিয়ে বললেন, হে তালহা! এটা নিয়ে নাও, নিঃসন্দেহে এটা চিত্ত সতেজকারী।" -ইবনে মাজাহ, যাদুল মাআদ
(২) এ হাদীসটিই অন্য সনদে নিম্নোক্ত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে:
فَإِنَّهَا تَشَدُّ الْقَلْبُ وَتَطِيبُ النَّفْسَ وَتَذْهَبُ بَطْغَاء الصدر .
"নিশ্চয়ই এটা (বিহিদানা) ক্বলবের শক্তি বৃদ্ধি করে, মন প্রশান্ত করে এবং দম বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস কষ্ট দূর করে।" -নাসায়ী শরীফ
অন্য এক বর্ণনায় আছে-
وَيَجْلُوا الْفُؤاد
অর্থাৎ এটা মনকে স্বচ্ছ করে। -মুজামুল কাবীর, তাবরানী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 আজওয়া খেজুর বিষের মহৌষধ

📄 আজওয়া খেজুর বিষের মহৌষধ


খেজুরের স্বভাব তীব্র গরম। এ কারণে এটাকে নাতিশীতোষ্ণ ফল বলা হয়। খেজুরের মধ্যে প্রচুর খাদ্যোপাদান রয়েছে। এটা তাজা রক্ত উৎপন্নকারী, হজমশক্তি বর্ধক। যকৃৎ ও পাকাশয় সুস্থ্য রাখে এবং কামশক্তি বৃদ্ধি করে। শরীরকে মোটা করে এবং মুখের অর্ধাঙ্গ রোগ, পক্ষাঘাত এবং এ ধরনের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খুবই উপকারী।
খেজুরের বীচিও রোগ নিরাময়কারী। এটা পাতলা পায়খানা বন্ধ করে। পোড়া খেজুর বীচির চূর্ণ প্রবাহিত রক্ত বন্ধ করে এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে। এই চূর্ণ মাজন হিসাবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয়। -কিতাবুল মুফরাদাত: খাওয়াসসুল আদোবিয়াহঃ পৃঃ ৩৮৮
খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে। শুষ্ক কাশি এবং এজমা রোগে উপকারী। সিহত ও যিন্দেগীঃ পৃঃ ১২৪
খেজুরের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। এ গুলোর রং আকার আকৃতি এবং স্বাদ যেমন ভিন্ন তেমনি এগুলির ক্রিয়াও ভিন্ন। যেমন আম্বরী (উত্তম ধরনের খেজুর), বরনী, জাবী, জালী কালমাহ, শাকাবী, আজওয়া, ও সুখখাল্ (এই প্রকার খেজুরের শুধু বীচিই কাজে লাগে) ইত্যাদি।
আজওয়া: এ খেজুর মধ্যম আকৃতি বিশিষ্ট হয়ে থাকে। এর ঘনত্বও মধ্যম ধরনের এবং রং কালচে বর্ণের হয়। এই খেজুর সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
۱ - وَالْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِّنَ السَّم
"আজওয়া জান্নাতের ফল। এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে।" -তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ
আল্লাহর কি শান! এটা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি রোগ নিরাময়েরও প্রতিষেধক। তাছাড়া এতে প্রচুর খাদ্যোপাকরণ এবং অন্যান্য ফায়দা রয়েছে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 আজওয়া খেজুর দিলের ঔষধ

📄 আজওয়া খেজুর দিলের ঔষধ


আজওয়া অতি উন্নত পর্যায়ের খেজুর ও তৃপ্তিদায়ক। আজওয়া এবং অন্যান্য খেজুর সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এ অধ্যয়ের পূর্বে দেওয়া হয়েছে। এখানে আজওয়া খেজুর সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরো কয়েকটি বাণী পাঠ করুন। হযরত সায়ীদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেনঃ
مَرِضْتُ مُرْضًا فَاتَانِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعُودُنِي فَوَضَعَ يَدَهُ بَيْنَ ثديي حتى وَجَدَتْ بَرَدَهَا عَلَى فُؤَادِى وَقَالَ إِنَّكَ رَجُلٌ مُفْودٌ إِنْتِ الْحَارِثُ بْنَ كَلْدَةَ اخَا ثَقِيفِ فَإِنَّهُ رَجُلٌ يَتَطَبَّب فَلْيَاْخُذْ سَبْعَ تَمَرَاتٍ مِّنْ عَجْوَةِ الْمَدِينَةِ فَلْيَجَاهُنَّ بِنَوا هُنَّ ثُمَّ لِيَدَكَ بِهِنَّ .
“একদা আমি অসুস্থ হয়ে পড়লে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দেখতে তাশরীফ নিয়ে এলেন। তিনি স্বীয় হস্ত মোবারক আমার বুকের উপর রাখলেন। তাঁর পবিত্র হাতের শীতলতা আমার অন্তর পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, তুমি অন্তরে কষ্ট অনুভব করছ। তুমি হারেস ইবনে কালদাহ সাকিফীর নিকট যাও। কারণ সে একজন চিকিৎসক। সে যেন মদীনার সাতটি আজওয়া খেজুর নিয়ে বীচিসহ পিশে তোমার মুখে ঢেলে দেয়।” -আবূ দাউদ, মিশকাত
مَن تَصَبَّحَ كُلَّ يَوْمِ سَبْعَ تَمَرَاتِ عَجْوَةٍ لَّمْ يَضُرَّهُ فِي ذَلِكَ الْيَوْمِ سَمِّ وَلَا سِحْرُ
“হযরত সাআদ ইবনে আবূ ওয়াক্কাস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে সে দিন বিষ এবং যাদু তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।” -বুখারী শরীফ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 বরনী খেজুর

📄 বরনী খেজুর


عَنْ أَبِي سَعِيدِ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ تَمَرَاتِكُمُ الْبَرْنِي يُخْرِجُ الدَّاءَ وَلَا دَاءَ فِيهِ
“হযরত আবু সায়ীদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছেঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের খেজুরগুলির মধ্যে সর্বোত্তম খেজুর হলো বরণী। এটা রোগ নিরাময় করে এবং এতে কোন রোগ ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নাই।” -মুসতাদরাকে হাকিম
উল্লেখিত বর্ণনাটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ বিশেষ। পূর্ণ হাদীসের বিষয়বস্তু নিম্নরূপঃ একদা হজর নামক স্থানে কিছু লোক একটা প্রতিনিধি দলের আকারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়। কথা প্রসঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এলাকার খেজুরের নামের এক বিরাট ফিরিস্তি বর্ণনা করতে লাগলেন।
তখন তাদের মধ্যেকার এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উপর আমার মাতা পিতা কুরবান হোক, আপনি যদি হজরে অর্থাৎ আমাদের এলাকায় জন্ম গ্রহণ করতেন তথাপি এর চেয়ে বেশী নাম জানতেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর প্রেরিত রাসূল। অন্যথায় আপনি আমাদের এলাকার এত খেজুরের নাম জানতে পারতেন না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার সামনে এই মাত্র তোমাদের দেশের সমস্ত ভূখণ্ড তুলে ধরা হয়েছে এবং আমি এর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। তাই বুঝতে পারলাম তোমাদের এলাকায় খেজুরের মধ্যে বরণী খেজুরই সর্বোত্তম খেজুর। এটা রোগ নিরাময় করে এবং এতে কোন রোগ বা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হয় না।
বরণী খেজুর একেবারে কালো না হয়ে সামান্য লালিমা মিশ্রিত কালো রংগের হয়ে থাকে। এ খেজুরের আকার বড় এবং খুবই মিষ্টি। শাঁস অধিক এবং বীচি ছোট হয়। এ কারণে সকলেই এই খেজুর বেশী পছন্দ করে থাকে। আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই খেজুরকে রোগের ঔষধ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00