📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জখমে চিকিৎসা

📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জখমে চিকিৎসা


عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدِ السَّاعِدِي رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ سَأَلَهُ النَّاسُ بِأَيِّ شَيْءٍ دووی جرح رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ مَا بَقِيَ أَحَدٌ أَعْلَمَ بِهِ مِنِّي كَانَ يَجِئُ بِتُرْسِهِ فِيهِ مَاءً وَفَاطِمَهُ تَغْسِلُ عَنْ وَجْهِهِ الدَّمَ وَأُخِذَ حَصِيرٌ فَأُخْرِقَ فَحُشِيَ بِهِ جُرْحُه .
"হযরত সাহল ইবনে সায়াদ সায়ীদী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছেঃ লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জখমের চিকিৎসা কি দিয়ে করা হয়েছিল? তিনি জবাবে বললেন, এ সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক পরিজ্ঞাত কোন ব্যক্তি অবশিষ্ট নাই।” (অতঃপর বলতে লাগলেন) হযরত আলী (রাযিঃ) তাঁর ঢালে পানি নিতেন এবং হযরত ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর চেহারা মোবারক থেকে রক্ত মুছতেন। অতঃপর একটা চাটাই জ্বালান হল এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষতস্থানে চাটায়ের ছাই লাগিয়ে দেওয়া হল।" -বুখারী শরীফ
ইসলামের ইতিহাসে এটা একটা প্রসিদ্ধ ঘটনা যে, ওহুদের যুদ্ধে কাফেরদের প্রস্তরাঘাতে দোজাহানের বাদশাহ হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দন্ত মোবারক শহীদ হয়। কপাল মোবারক জখমী হয়। আহ্! তখন কতইনা হৃদয় বিদারক দৃশ্য ঘটেছিল! বিশ্ববাসীর যিনি রহমত হয়ে এসেছিলেন সেই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাফেররা আহত করার ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে।
পরবর্তী সময় এঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে শুধু এ হাদীসের রাবী হযরত সাহল ইবনে সাআদ সায়ীদী (রাযিঃ) জীবিত ছিলেন। তাই প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে তিনি স্বীয় জুবানে এ ঘটানাকে এভাবে প্রকাশ করেছেন। হযরত আলী (রাযিঃ) তাঁর ঢালে করে পানি ভরে আনেন। আর হযরত ফাতিমা (রাযিঃ) তাঁর মোবারক হাতে নিজে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করেন। কিন্তু তাঁরা দেখলেন এতে রক্তক্ষরণ বন্ধ • হচ্ছে না। অতঃপর হযরত ফাতিমা (রাযিঃ) চাটাইয়ের একটা টুকরা নিয়ে তাতে আগুন দিলেন। যখন এটা পুড়ে ছাই হয়ে গেল তখন ছাই ভষ্ম জখমের মুখে ভরে দিলেন। এতে রক্ত বন্ধ হয়ে যায়।
-বুখারী, মুসলিম, সুনানে আবূ দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, আহমদ
পাট এবং চাটাই পোড়া ছাই যখমের ক্ষত ও প্রবাহিত রক্ত বন্ধ করার একটি অতি উত্তম ও সহজ চিকিৎসা। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরীক্ষিত এই ব্যবস্থা আজও পল্লীগ্রামে বহুল পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নিউমোনিয়ায় যায়তুনের চিকিৎসা

📄 নিউমোনিয়ায় যায়তুনের চিকিৎসা


عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْعَتُ الزيت وَالْوَرْسُ مِنْ ذَاتِ الْجَنبِ .
"হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম (সাঃ) 'যাতুল যাম্ব' অর্থাৎ ফ্লুরিসি বা পাঁজরের ব্যথাজনিত রোগে যায়তুন এবং অরসের উপকারিতার প্রশংসা করতেন। -তিরমিযী, মিশকাত শরীফ
"অরস” ইয়ামন দেশে উৎপাদিত হলুদ বর্ণের এক প্রকার ঘাস। এতে সামান্য সুঘ্রাণ এবং তিক্ততা থাকে। কাপড় রঞ্জিত করার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। (ইমতিহানুল আতিব্বা) কোন কোন লোক 'অরস' দ্বারা "যাফরান" বুঝিয়ে থাকেন, এটা ঠিক নয়।
'যাইত' দ্বারা উদ্দেশ্য যায়তুন, যাকে ইংরেজীতে অলিভ (OLIVE) বলা হয়। এর পুষ্ট পাকা ফল থেকে তৈল বের হয়। যাকে আমরা রওগণ বলে থাকি। এ তৈল আরবীতে যায়তুন তৈল এবং ইংরেজীতে অলিভ অয়েল নামে পরিচিত। রং সবুজাভাব হলুদ হয়ে থাকে। যায়তুনের আলোচনা সম্ভবত সকল আসমানী সহীফায় এসেছে। তাওরাত এবং ইঞ্জিল ছাড়াও আল্লাহ তায়ালার সর্বশেষ কিতাব কুরআন মজীদেও এর আলোচনা এসেছে।
যেমন কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছেঃ
والتين والزيتونِ وَطُورِ سِينِينَ
প্রাচীন এবং আধুনিক চিকিৎসকগণ যায়তুন তেলের অশেষ প্রশংসা করেছেন এবং এটাকে ত্বক সিক্ত ও সতজেকারী হিসাবে সকলেই মেনে নিয়েছেন।
ঠান্ডাজনিত ব্যথা, দুর্বল শিশু ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের শক্তি বর্ধনে এ তৈল খুবই উপকারী। যায়তুনের তৈল কুষ্ঠ কাঠিন্য দূর করে, হাতের পাঞ্জা প্রশস্ত করে, শরীরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সর্বোপরি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ব্যথা উপশম করে। ত্বকাচ্ছাদন প্রদাহ বা চুলকানির জন্যও আরামদায়ক।
এটা শূলবেদনা এবং নাড়ীর বেদনারও মহৌষধ। সর্বোপরি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই যার গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন তার উপকারিতা সম্পর্কে আর কি সন্দেহ থাকতে পারে।
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম (রাযিঃ) বর্ণনা করেন:
تَدَاوَوَادَواء مِنْ ذَاتِ الْجُنَبِ بِالْقِسْطِ الْبَحْرِى وَالزَّيْتِ
"হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা পাঁজরের ব্যথাজনিত রোগে কুস্তেবহরী এবং যায়তুন তৈল দ্বারা চিকিৎসা নাও।" -ইবনে মাজাহ, আহমদ ও হাকেম

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সফরজাল বা বিহিদানা

📄 সফরজাল বা বিহিদানা


সফরজালকে ফারসী ভাষায় বাহ, উর্দুতে বাহি আর ইংরেজীতে কাওন্স (QUINCE), এবং বাংলায় বিহিদানা বলা হয়। এটা বহুল পরিচিত এবং টকমিষ্টি বিশিষ্ট একটা ফল।
বিহিদানা দিয়ে শরবত, রস এবং মোরব্বা তৈরী করা হয়। এটা দেহের শক্তিবর্ধক ও চিত্তের জন্য আনন্দদায়ক। পেট, যকৃৎ ও মন-মস্তিষ্ক সতেজকারী। হৃৎ কম্পন, যকৃৎ দাহ ও মানসিক দুর্বলতায় উপকারী। পিপাসা ও বমনের ক্ষেত্রে প্রশান্তিদায়ক। (কিতাবুল মুফরাদাত): পৃঃ ১১২
সফরজাল সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী-
دَخَلْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِيَدِهِ سَفَرُ جَلَّهُ فَقَالَ دُونَكَهَا يَا طَلْحَةٌ فَإِنَّهَا تَجِمُ الْفُؤَادِ
(১) “হযরত তালহা ইবনে উবাইদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, 'আমি একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হই, এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হস্ত মোবারকে একটা আমলকী বিহিদানা ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দানাটি দেখিয়ে বললেন, হে তালহা! এটা নিয়ে নাও, নিঃসন্দেহে এটা চিত্ত সতেজকারী।" -ইবনে মাজাহ, যাদুল মাআদ
(২) এ হাদীসটিই অন্য সনদে নিম্নোক্ত ভাষায় বর্ণিত হয়েছে:
فَإِنَّهَا تَشَدُّ الْقَلْبُ وَتَطِيبُ النَّفْسَ وَتَذْهَبُ بَطْغَاء الصدر .
"নিশ্চয়ই এটা (বিহিদানা) ক্বলবের শক্তি বৃদ্ধি করে, মন প্রশান্ত করে এবং দম বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্বাস কষ্ট দূর করে।" -নাসায়ী শরীফ
অন্য এক বর্ণনায় আছে-
وَيَجْلُوا الْفُؤاد
অর্থাৎ এটা মনকে স্বচ্ছ করে। -মুজামুল কাবীর, তাবরানী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 আজওয়া খেজুর বিষের মহৌষধ

📄 আজওয়া খেজুর বিষের মহৌষধ


খেজুরের স্বভাব তীব্র গরম। এ কারণে এটাকে নাতিশীতোষ্ণ ফল বলা হয়। খেজুরের মধ্যে প্রচুর খাদ্যোপাদান রয়েছে। এটা তাজা রক্ত উৎপন্নকারী, হজমশক্তি বর্ধক। যকৃৎ ও পাকাশয় সুস্থ্য রাখে এবং কামশক্তি বৃদ্ধি করে। শরীরকে মোটা করে এবং মুখের অর্ধাঙ্গ রোগ, পক্ষাঘাত এবং এ ধরনের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ অবশকারী রোগের জন্য খুবই উপকারী।
খেজুরের বীচিও রোগ নিরাময়কারী। এটা পাতলা পায়খানা বন্ধ করে। পোড়া খেজুর বীচির চূর্ণ প্রবাহিত রক্ত বন্ধ করে এবং ক্ষতস্থান পরিষ্কার করে। এই চূর্ণ মাজন হিসাবে ব্যবহার করলে দাঁত পরিষ্কার হয়। -কিতাবুল মুফরাদাত: খাওয়াসসুল আদোবিয়াহঃ পৃঃ ৩৮৮
খেজুর পেটের গ্যাস, শ্লেষ্মা, কফ দূর করে। শুষ্ক কাশি এবং এজমা রোগে উপকারী। সিহত ও যিন্দেগীঃ পৃঃ ১২৪
খেজুরের বিভিন্ন প্রকার রয়েছে। এ গুলোর রং আকার আকৃতি এবং স্বাদ যেমন ভিন্ন তেমনি এগুলির ক্রিয়াও ভিন্ন। যেমন আম্বরী (উত্তম ধরনের খেজুর), বরনী, জাবী, জালী কালমাহ, শাকাবী, আজওয়া, ও সুখখাল্ (এই প্রকার খেজুরের শুধু বীচিই কাজে লাগে) ইত্যাদি।
আজওয়া: এ খেজুর মধ্যম আকৃতি বিশিষ্ট হয়ে থাকে। এর ঘনত্বও মধ্যম ধরনের এবং রং কালচে বর্ণের হয়। এই খেজুর সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
۱ - وَالْعَجْوَةُ مِنَ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِّنَ السَّم
"আজওয়া জান্নাতের ফল। এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে।" -তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ
আল্লাহর কি শান! এটা খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি রোগ নিরাময়েরও প্রতিষেধক। তাছাড়া এতে প্রচুর খাদ্যোপাকরণ এবং অন্যান্য ফায়দা রয়েছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00