📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ত্বকাচ্ছাদন প্রদাহ বা চুলকানি রোগে রেশমী কাপড়

📄 ত্বকাচ্ছাদন প্রদাহ বা চুলকানি রোগে রেশমী কাপড়


ইসলাম অনুগত বান্দাদেরকে আয়েশী বা ভোগ বিলাসী যিন্দিগীর পরিবর্তে অনাড়ম্বর ও সরল জীবন যাপন প্রণালী শিক্ষা দেয়। সুখ অন্বেষণ ও আরাম প্রিয়তার পরিবর্তে কর্মঠ ও পরিশ্রমী করে তোলে। মূলতঃ ইসলামের ইবাদত বন্দেগী এই বাস্তবতার চাক্ষুষ প্রমাণ এবং ইসলামের পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধানই এ ব্যাপারে যথার্থ সাক্ষী।
ইসলামী জীবন ব্যবস্থায় স্বর্ণ ও রৌপ্যের বর্তন ব্যবহারের কোন প্রকার অনুমতি নাই। তবে মহিলাদের জন্য স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকারাদি ব্যবহারের অনুমতি অবশ্যই রয়েছে। তবে এগুলির পরিমাণ একটা নির্দিষ্ট সীমায় অর্থাৎ নেছাব পরিমাণে পৌছালে যাকাত দেয়া ফরয। পুরুষদের জন্য স্বর্ণ, রৌপ্য এবং রেশমী কাপড় ব্যবহারের অনুমতি যদিও নাই তবে অসুস্থতার মজবুরীতে এ নির্দেশেরও ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।
যেমন হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে:
رَخَّصَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلزُّبَيْرِ وَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا فِي لُبْسِ الْحَرِيرِ لِحِكَّةٍ كَانَتْ بِهِمَا -
"হযরত রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খারেশ বা চুলকানির কারণে হযরত জাবের (রাযিঃ) এবং হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) কে রেশমের কাপড় পরার অনুমতি দিয়েছিলেন।"-বুখারী, মুসলিম
রেশমী পোষাক কোমল ও ঠান্ডা হয়ে থাকে বিধায় খারেশ রোগীদের জন্য খুবই আরামদায়ক হয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 অতিরিক্ত রক্তে সিংগা লাগান

📄 অতিরিক্ত রক্তে সিংগা লাগান


সাধারণ প্রচলিত ঔষধ ছাড়াও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যান্য ঔষধেরও পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন তীরের জখম ও কাঁটা বিধলে উত্তপ্ত লোহার দাগ দেওয়া বা অতিরিক্ত রক্ত চাপে সিংগা লাগানো। ফোঁড়া দুম্বল ইত্যাদির অপারেশন। এক বিশেষ ইসতিসকার (এক প্রকার ব্যাধি যাতে রোগী খুব বেশী পানি পান করতে চায়) চিকিৎসায় এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় পেট ছিদ্র করা ইত্যাদি।
এখানে আমরা হযরত নাফে (রাযিঃ)-এর ভাষায় সিংগা লাগানো সম্পর্কে হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ বর্ণনা করছিঃ
قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرُ رَض يَا نَافِعُ رَض يَنْبَعَ لِى الدَّمُ فَأْتِنِي بِحَجَّامِ وَاجْعَلْهُ شَابًا وَلَا تَجْعَلُهُ شَيْخًا وَلَا صَبِيًّا وَقَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ عُمَرَ رَض سَمِعْتُ رَسُولَ الله اللهِ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحِجَامَةَ عَلَى الرِّزْقِ أَمْثَلُ وَهِيَ تَزِيدُ فِي الْعَقْلِ وَيَزِيدُ فِي الْحِفْظِ
"হযরত নাফে (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমাকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিঃ) একদা বললেন, হে নাফে, আমার রক্তের মধ্যে বিশেষ চাপ (উত্তেজনা বা স্ফুটন) সৃষ্টি হচ্ছে। এমন একজন হাজ্জাম (সিংগা লাগানেওয়ালা) ডাক - সে যেন যুবক হয়- বৃদ্ধ অথবা অল্প বয়সী না হয়। অতঃপর হযরত ইবনে ওমর (রাযিঃ) বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, খালি পেটে সিংগা লাগান খুবই উত্তম। এতে জ্ঞান বৃদ্ধি হয় এবং স্মৃতি ও মেধাশক্তি প্রখর পায়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 জবের দালিয়া (জবের ছাতু ও গুড় বা চিনি দ্বারা তৈরী এক প্রকার গোল্লা)

📄 জবের দালিয়া (জবের ছাতু ও গুড় বা চিনি দ্বারা তৈরী এক প্রকার গোল্লা)


জব খাদ্য দ্রব্য সম্পর্কিত একটা অতি পরিচিত নাম। এটাকে যদিও নিম্নশ্রেণী ও গরীব দুঃখীদের খাদ্য মনে করা হয় তথাপি এর ছাতু দ্বারা তৈরী শরবত গ্রীষ্মকালে ব্যাপকভাবে পান করা হয়ে থাকে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগীদের জন্য জবকে একটা উত্তম পথ্য, পেটের পীড়ার একটি উপকারী ঔষধ এবং দুর্বলতায় বিশেষ শক্তি বর্ধক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন।
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্রা স্ত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিবারের কারো জ্বর হলে তার জন্য জবের দালিয়া তৈরী করার নির্দেশ দিতেন এবং সেমতে তা তৈরী করে রোগীদের খাওয়ানা হতো।" -যাদুল মাআদ
উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর অপর এক বর্ণনাঃ
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قِيلَ لَهُ إِنَّ فَلَانَا وَجَعَ لَا يَطْعَمُ الطَّعَامَ قَالَ عَلَيْكُمْ بِالتَّلْبِينَةِ فَحُسُوهُ إِيَّاهَا وَيَقُولُ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا تَغْسِلُ بَطْنَ أَحَدِكُمْ كَمَا تَغْسِلُ إِحْدَاكُنَّ وَجْهَهَا مِنَ الْوَسَخِ .
"কেউ যদি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এ সংবাদ নিয়ে আসত যে, অমুক ব্যক্তির পেটে অসুখ, খানা পিনা গ্রহণ করছে না। তাহলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দিতেন 'তাকে তালবিনা (জবের দালিয়া) তৈরী করে খাওয়াও।" অতঃপর তিনি বলতেন, আল্লাহর কছম। এটা তোমাদের পটকে এমনভাবে পরিষ্কার করে যেমনভাবে কোন ব্যক্তি স্বীয় চেহারা ময়লা হতে পরিষ্কার করে থাকে।" -যাদুল মাআদ, মুসতাদরাকে হাকেম
বুখারী এবং মুসলিম শরীফের বর্ণনাঃ কোন বাড়িতে কারো আকস্মিক মৃত্যু হলে হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) তালবিনার বুন্দিয়া রান্নার জন্য নির্দেশ দিতেন। সেমতে তালবিনা পাকানো হত, আর হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) নিজ হাতে গোস্ত ও রুটির টুকরা এক সাথে মিশিয়ে সরীদ তৈরী করতেন এবং সরীদের মধ্যে তালবINA মিশিয়ে বলতেন, "তোমরা এটা খাও।" কারণ আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তালবINA রোগীদের মনে শান্তি আনে এবং মৃত্যু শোক দূর করে। -যাদুল মাআদঃ ২য় খন্ড, মুসতাদরাকে হাকেম।
আমাদের দেশে মৃত ব্যক্তির জন্য শোক পালনকালে খিচুরী, রুটি ও পিঠা পাকানোর প্রচলন রয়েছে। আর এটা সাধারণতঃ মাইয়্যেতের কোন নিকট আত্মীয় স্বজন নিজেদের পক্ষ হতে নিয়ে আসে। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত খাদ্য হলো তালবীনা ও সরীদ। এটা একদিকে যেমন খাদ্য অপর দিকে শোকের প্রতিষেধকও বটে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ইসতেসকা (সৌথ বা দেহে পানি আসা) রোগের জন্য অপারেশন

📄 ইসতেসকা (সৌথ বা দেহে পানি আসা) রোগের জন্য অপারেশন


মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা সংক্রান্ত হাদীসসমূহ পাঠকালে খুবই আশ্চর্যকর এবং গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্বের সন্ধান মিলে। বিশেষ করে এ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হই যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু হেকিমী বিষয় এবং চিকিৎসার প্রতি আগ্রহীই ছিলেন না বরং এ শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায়ও অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি চিকিৎসা শাস্ত্রের উপকারিতায় বিশ্বাসী ছিলেন ঠিকই তবে রোগ এবং এর চিকিৎসা আল্লাহর পক্ষ হতে নির্ধারিত বলেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই শিক্ষার ফলেই মুসলিম জাতি রোগের চিকিৎসা গ্রহণ না করে সবকিছুই ভাগ্যের উপর ছেড়ে দেয় না।
এ সম্পর্কে হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ)-এর বর্ণনা লক্ষ্য করুন:
إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ طَبِيبًا أَنْ يَبْطَ بَطَنَ رَجُلٍ أَجْوَى الْبَطَنِ
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইসতেস্কা বা সৌথ রোগ গ্রন্থ এক রোগীর চিকিৎসককে হুকুম করলেন, "তার পেটে সেগাফ (অর্থাৎ অপারেশন) কর।"
অতঃপর কেউ আরয করলেন-
يَا رَسُولَ اللهِ! هَلْ يَنْفَعُ الطَّبُ؟ قَالَ الَّذِي أَنْزَلَ الدَّاءَ أَنْزَلَ الشَّفَاءَ فِيمَا شَاءَ .
"ইয়া রাসূলাল্লাহ! চিকিৎসা কি উপকারে আসে? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জবাবে বললেন, যিনি রোগ দিয়েছেন, তিনি প্রতিষেধক দিয়েছেন। তিনি যে কোন জিনিসের মাধ্যমে ইচ্ছা মুক্তি দেন।" -যাদুল মাআদঃ খন্ড: ২
ইসতেস্কার বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। তন্মধ্যে এক প্রকার হলো ইসতেসকায়ে ঝাকি। এই প্রকার ইসতেসকা বা সৌথ রোগীর চিকিৎসার জন্য অপারেশন করা হয়। উপরোক্ত বর্ণনায় এটাই সুস্পষ্ট হয়ে উঠে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উল্লেখিত ব্যাধির বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কেও ধারণা ছিল। শুধু তাই নয়, রোগের কোন্ পর্যায়ে কি ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন এটাও জানা ছিল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00