📄 গৃহ্ণশী বা সাইটিকায় দুম্বার চাকি
-মুজামুল আওসাতঃ তাবরানী
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ دَوَاءُ عِرْقِ النِّسَاءِ الْيَةُ شَاءَ أَعْرَابِيَةٍ تُذَابُ ثُمَّ تُجْزَا ثَلَاثَةَ أَجْزَاء فَتُشْرَبُ فِي ثَلَاثَةِ أَيام .
হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, দুম্বার চাক্কির মধ্যে বেদনা রোগের শেফা রয়েছে। এটাকে দ্রবণ করে (পিশে বা গলিয়ে) তিনভাগ করবে এবং তিন দিন সেবন করবে।"-মুসতাদরাকে হাকেম
এ সম্পর্কে মুসতাদরাকে হাকেম নামক কিতাবে তিনটি রেওয়ায়াতের উল্লেখ আছে। সেখানে এ কথা অতিরিক্ত রয়েছে যে, চাক্কি অতি বড় বা ছোট না হওয়া চাই। এই ঔষধ মুখের লালা সহ সেব্য অর্থাৎ পানি ইত্যাদির সঙ্গে সেবন করবে না। এছাড়া উক্ত হাদীস শরীফে শাতুন ও কাবশুন -এর চাক্কির কথা উল্লেখ আছে। সম্ভবত উক্ত শব্দ দুটি দুম্বাকে বুঝাবার জন্যেই ব্যবহৃত হয়েছে। কেননা বকরীর চাক্কি হয় না।
গৃদ্ধশী বা সাইটিকা মূলত: একটি অতিশয় জটিল রোগ। তবে এটা যে শুধু মাত্র মহিলাদের রোগ এটা মনে করে কেউ যেন বিভ্রান্ত না হয়। বরং এটা এক প্রকার কঠিন বেদনার নাম যা পুরুষ মহিলা নির্বিশেষে সকলেরই হতে পারে। ইংরেজীতে এটাকে সিয়াটিক পেইন (SCIATIC PAIN) বলে। সাধারণতঃ এ বেদনা মেরুদন্ডের হাড্ডি থেকে আরম্ভ করে রগের মধ্য দিয়ে পায়ের গিট পর্যন্ত নিম্নভাগে অসহনীয় উপায়ে সঞ্চারিত হতে থাকে।
দুর্বলতা, বার্ধক্য ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের শুষ্কতা এ রোগের কারণ। আর দুম্বার চাক্কীই যে এ রোগের উৎকৃষ্ট ঔষধ এটা সুস্পষ্ট।
📄 জ্বরের চিকিৎসায় ঠান্ডা পানি
জ্বর একটা প্রসিদ্ধ রোগ। সকল দেশের প্রত্যেক এলাকায় এ রোগের প্রকোপ দেখা যায়। ছোট বড় যুবক বৃদ্ধ, নির্বিশেষে সকলেই এই রোগের শিকার হয়ে থাকে। এ জ্বর যেমন অনেক প্রকার তেমনি এর কারণ বা উপসর্গও অসংখ্য। গ্রীষ্ম প্রধান দেশে জ্বরের প্রকোপ খুব বেশী দেখা যায়। এখানকার মানুষ প্রচন্ড গরম ও সূর্যোত্তাপে খুবই অস্থির হয়ে পড়ে। যার ফলে জ্বরের উত্তাপের সীমা চরমে পৌঁছে। বর্তমানে এ ধরনের রোগীকে বরফের সেল দ্বারা ঠান্ডা করা হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঠান্ডা পানিকে জ্বরের একটা উৎকৃষ্ট চিকিৎসা সাব্যস্ত করেছেন। এ সম্পর্কে একাধিক সাহাবায়ে কিরাম হতে রেওয়ায়াত বর্ণিত রয়েছে।
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - الْحُمَّى مِنْ كَيْرِ جَهَنَّمَ فَلَمْحُوهَا مِنْكُمْ بِالْمَاءِ الْبَارِدِ
"জ্বর জাহান্নামের একটা উত্তপ্ত পাত্র বিশেষ তোমরা ঠান্ডা পানির দ্বারা এটাকে দূর কর।" -সুনানে ইবনে মাজাহ
কোন কোন রেওয়ায়াতে আছে যমযমের পানি দ্বারা ঠান্ডা করবে।
হযরত সামুরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত :
عَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - الحمى قطعة من النار ......
"জ্বর জাহান্নামের উত্তাপের অংশ বিশেষ। তোমরা ঠান্ডা পানি দ্বারা এটা ঠান্ডা কর।"- মুস্তাদরাকে হাকেম, তাবরানী।
হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত :
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ - الحمى من في جهنم ......
"জ্বর জাহান্নামের তাপ। পানি দ্বারা এটাকে ঠান্ডা কর।" - ইবনে মাজাহ, মালেক, আহমদ, নাসায়ী, হাকেম
প্রায় অনুরূপ একটা হাদীস হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকেও বর্ণিত রয়েছে। প্রখ্যাত হেকীম জালিনুস স্বীয় "হীলাতুল বার" নামক কিতাবে জ্বরের জন্য পানিকে সর্বোত্তম উপকারী বলে বর্ণনা করেছেন। যুগশ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ইমাম রাযী (রহঃ) তাঁর 'কাবীর' গ্রন্থে জ্বরের জন্যে ঠান্ডা পানি ব্যবহারের বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন।
📄 কুম্বা চক্ষু রোগের ঔষধ
'কুম্মা' কে উর্দুতে কুম্ব বা কুম্বী বলা হয়। এটা দেখতে দুগ্ধবরণ ক্ষুদ্রাকার বলের মত। বর্ষাকালে আপনা থেকেই জন্মে। চাষাবাদ প্রয়োজন হয় না। কুম্বির ক্রিয়া ঠান্ডা। এর তরকারী সুস্বাদু। এটা শুকিয়ে চিবিয়ে খেলে বমি উপশম হয়। এটা প্রধানত তিন প্রকার (১) সাদা (২) লাল ও (৩) কালো। কালচে কুম্বী খুবই বিষাক্ত হয়ে থাকে। এটাকে হিন্দীতে “পদ ভেড়া” বলে। আহার্য এবং ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত কুম্বা আরবীতে 'আল কুম্বা' নামে পরিচিত। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ পাঠ করুন :
أَنَّ نَاسًا مِّنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا لِرَسُولِ اللهِ ص الْكَمَاةُ جَدُرِيُّ الْأَرْضِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْكَفْاةُ مِنَ الْمَنْ وَمَاءُ هَا شِفَاء الْعَيْنِ .
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় সাহাবী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আরয করলেন, কুম্বী তো জমিনের বসন্ত রোগ! তাদের একথা শ্রবণ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কুম্বী তো মান্না (ঐ খাদ্য যা বনী ঈসরাইলকে মাঠে দান করা হয়েছিল।) থেকে উৎপন্ন। আর এর পানি চক্ষু রোগের প্রতিষেধক। অতঃপর হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) তাঁর নিজের ব্যক্তিগত ঘটনা বর্নণা করেন যে, আমি তিন, চার বা পাঁচটি কুম্বা সংগ্রহ করি এবং এগুলি নিংড়িয়ে একটা ছোট শিশিতে ভরে রাখি। আমার এক বাঁদীর চোখে ব্যথা ছিল, আমি তার চোখে সেই পানি লাগিয়ে দিলাম এবং সে সুস্থ হয়ে গেল।" -তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) তাঁর বাঁদীর চোখের যে অসুবিধার কথা উল্লেখ করেছেন তা ছিল "আমাশ' অর্থাৎ চক্ষু ক্ষীণ দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়া। এ রোগে চক্ষু থেকে অধিকাংশ সময় পানি ঝরতে থাকে এবং চক্ষু স্থির রেখে দীর্ঘক্ষণ কোন কিছুতে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখা সম্ভব হয় না।
আমাদের দেশের চক্ষু বিশেষজ্ঞগণের উক্ত ঔষধের উপর প্রাকটিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা করা আবশ্যক এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘোষণা অনুযায়ী এতে চক্ষু রোগের কি কি শেফা রয়েছে এবং এটা ব্যবহার বিধিইবা কি তা তলিয়ে দেখা উচিত।
📄 মাছি বাহিত রোগ ও চিকিৎসা
মাছিকে ফারসী ভাষায় "মাগাস” এবং আরবীতে "যুবাব" বলা হয়। মাছি একটা উড্ডয়নশীল তুচ্ছ ও ঘৃণিত প্রাণী। এটা সাধারণতঃ ময়লাযুক্ত স্থানে বসে এবং তথায় বসবাস করে। এ কারণে কেউই এ প্রাণীটিকে পছন্দ করে না। মাছির মল যদি কোন রশি ইত্যাদির উপর লেগে থাকে তা পানিতে ভিজিয়ে কানে প্রবেশ করালে কানের ব্যথা উপশমহয়। কাউকে না জানিয়ে মাছির মল গুড়ের সঙ্গে মিশ্রিত করে ১১দিন খাওয়ালে পান্ডব রোগের অশেষ উপকার হয়।" -কিতাবুল মুফরাদাত, খাওয়াসসুল আদবিয়াঃ পৃঃ ৩৪১
মাছি সম্পর্কিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মূল্যবান বাণী লক্ষ্য করুনঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي اِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَامْقُلُوهُ فَإِنَّ فِي اَحَدٍ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الْآخِرِ شِفَاءً
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের কারো পানির পাত্রে মাছি পতিত হলে এটাকে সম্পূর্ণ ডুবিয়ে উঠাও। কেননা মাছির এক পাখায় রোগ ও অপর পাখায় রোগের প্রতিষেধক রয়েছে।" -বুখারী ও মুসলিম শরীফ
অন্য এক হাদীসের শেষ বাক্যটি এরূপ "মাছির বিষক্রিয়া সম্পর্কে কারো অজানা নেই। তবে এর এক পাখায় রোগ এবং অন্য পাখায় শেফা রয়েছে।" এ সম্পর্কে কারো যদি দ্বিমত থাকে; তার স্মরণ রাখা উচিত যে, এটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী। সুতরাং এতে সন্দেহ পোষণ করার কোন অবকাশই নাই। এটাও বাস্তব বিষয় যে, বল্লা ও বিচ্ছুর ক্ষত স্থানে মাছি মালিশ দিলে আরামবোধ হয়। এ সকল তত্ত্ব দ্বারা সুস্পষ্ট বুঝা যায়, মাছির মধ্যে রোগ নিরাময়ের প্রভাব রয়েছে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে যদি মাছি নিমজ্জিত খানা অথবা পানকৃত পানি গ্রহণ করা না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠে সেখানে বলা হবে যে, এর সম্পর্ক ইচ্ছার সঙ্গে এবং প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ব্যাপার। সুতরাং কোন ব্যক্তি এমন আহার্যাদি গ্রহণ করতে না চাইলে এতে জোর করার কিছুই নাই।