📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সিনা সকল রোগের প্রতিষেধক

📄 সিনা সকল রোগের প্রতিষেধক


"হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
لَوْ أَنَّ شَيْئًا كَانَ فِيهِ الشَّفَاءُ مِنَ الْمَوْتِ لَكَانَ فِي السَّنَاءِ
"যদি কোন প্রতিষেধকের মধ্যে মৃত্যু থেকে নিরাময় থাকত তবে তা সিনার মধ্যে থাকত।"
অতঃপর তিনি ইরশাদ করেন-
عَلَيْكُمْ بِالسَّنَاءِ فَإِنَّهُمَا شِفَاءُ مِنْ كُلِّ دَاءٍ إِلَّا السَّامَ .
"তোমরা অবশ্যই সিনা ব্যবহার করবে, কেননা এটা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের শেফা দানকারী মহৌষধ।"
উম্মি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মূল্যবান বাণীর আলোকে ডাক্তারী পরীক্ষা নিরীক্ষা লক্ষ্য করুন, দেখবেন তা অক্ষরে অক্ষরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মূল্যবান বাণীর সমর্থন করেছে।
সিনা সর্ব রোগের প্রতিষেধক। এটা মস্তিষ্ক পরিষ্কার করে, কোমর ব্যথা- ফ্লুরিসি বা পার্শ্ব বেদনা, নিউমোনিয়া, উরুর উপরাংশের ব্যথা, গিটবাত, এবং পালা জ্বরে তা ব্যবহৃত হয়। সিনা ক্রিমিনাশক। পূর্ণ মাথা ব্যথা, মাথার এক পার্শ্বের ব্যথা এবং মৃগী রোগের জন্য উপকারী। এটা বিষাক্ত নয় এবং এতে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নাই। -মুফরাদাতঃ পৃষ্ঠা: ২২৪
সিনা অনেক প্রকারের হয়ে থাকে। প্রসিদ্ধ প্রকারগুলি হল- সিনায়ে মাক্কী বা হেজাজী, সিনায়ে রোমী, সিনায়ে মিসরী, সিনায়ে আসকারী এবং সিনায়ে হিন্দী। সিনার আরও একটি প্রকার আছে, যা সর্বত্র পাওয়া যায়। এটা রক্ত পরিষ্কার করে, কোনী নূখা ও শ্বাস কষ্টের জন্য উপকারী। সিনা চোখের পর্দা কাটে এবং শুল বেদনা দূর করে। সিনা আজো বিভিন্ন পন্থায় শত শত রোগের ঔষধ হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মুসাববরের ব্যবহার বিধি

📄 মুসাববরের ব্যবহার বিধি


মুসাবরর একটি বিস্বাদ ও অত্যন্ত তিক্ত কাল রঙের একপ্রকার গুড়ো। এর তাছীর গরম ও শুষ্ক। চিকিৎসকগণ এটাকে বিরোচক এবং পাকস্থলী ও হার্টের শক্তিবদ্ধক বলে থাকেন। অধিক বায়ু নির্গমন ও মস্তিষ্ক বিকৃতির জন্যও ফলদায়ক। -মুফারাদাত: পৃষ্ঠাঃ ৮৫
মুসাববর সম্পর্কে হযরত উম্মে সালমা (রাযিঃ)-এর রেওয়ায়াতটি লক্ষ্য করুন। তিনি বলেনঃ
دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ تُوُفِّيَ أَبُو سَلَمَةَ وَقَدْ جَعَلْتُ عَلَى صَبْرٍ أَفَقَالَ مَا ذَا يَا أُمَّ سَلَمَهُ ؟ فَقُلْتُ إِنَّهُ هُوَ صَبْرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَيْسَ فِيهِ طيبُ - قَالَ إِنَّهُ يَشُبُّ وَجْهَهُ فَلَا تَجْعَلْهُ إِلَّا بِاللَّيْلِ وَنَهَى عَنْهُ بِالنَّهَارِ .
"আবূ সালমার ইন্তেকালের পর হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তাশরীফ নিয়ে আসেন। এ সময় আমার মুখে মুসাববর লাগিয়ে রেখেছিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, উম্মে সালমা! এগুলি কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এগুলি মুসাববর! এর মধ্যে কোন সুগন্ধি নাই। হুযুর বললেন, এটা চেহারাকে পরিষ্কার ও সজীব করে। সুতরাং তুমি এটা রাতে লাগিও। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিনে ব্যবহার করতে নিষেধ করেন।"
ভেবে দেখুন! হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার সাথে সাথে পবিত্রতা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতি কত তীক্ষ্ণ দৃষ্টি ছিল। তিনি কোন প্রকার দৃষ্টিকটু ও বিশ্রি অবস্থা পছন্দ করতেন না। এমনিভাবে তাঁর পুত পবিত্র ও সূরুচিপূর্ণ স্বভাব কোন বিস্বাদ ও দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু সহ্য করতে পারতো না।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সুরমা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়

📄 সুরমা দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়


আধুনিক ফ্যাশনের যুগে চোখে সুরমা লাগানো প্রাচীনত্বের নিদর্শন হয়ে গেছে। পক্ষান্তরে বিভিন্ন প্রকারের পাউডার, ক্রীম, পালিশ ও অন্যান্য প্রসাধনী এত অধিকহারে ব্যবহার করা হচ্ছে যে, তাতে মানুষের চেহারা সুরতই বদলে যায়। অথচ এগুলির বেশীর ভাগই এমন যা অঙ্গ প্রত্যঙ্গ চামড়া এবং সৃষ্টিগত রঙ, রূপ ও সৌন্দর্যকে এমনভাবে বিনষ্ট করে দেয় যে, অনেক ক্ষেত্রে মানুষের গঠনই বিকৃত হয়ে যায়।
এবার আসুন! মানবতার প্রতি অনুগ্রহশীল বিশ্ব নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুরমা সম্পর্কিত মহামূল্যবান বাণী পাঠ করুন।
হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন-
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عَلَيْكُمْ بِالْإِثْمِدِ عِنْدَ النَّوْمِ فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ .
"আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলতে শুনেছি যে, তোমরা ঘুমানোর আগে অবশ্যই চোখে সুরমা লাগিও। কেননা, নিঃসন্দেহে সুরমা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করে ও চুল গজায়।" -মুসতাদরাক, ইবনে মাজাহ
সুরমা শুধুমাত্র একটি ফ্যাশন বা সৌন্দর্যের ব্যাপারই নয়। বরং এর মধ্যে উপকারিতাও রয়েছে। এখানে বিভিন্ন কৃত্রিম বস্তুর দ্বারা সংমিশ্রিত বাজারী সুরমার কথা বলা হয় নাই। বরং সম্পূর্ণ নির্ভেজাল সুরমা সম্পর্কেই বলা হয়েছে যে, ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা লাগানোর অভ্যাস করে নাও। এতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায়। দৃষ্টি শক্তিশালী হয়। চুল গজায়। দামী ঔষধ পত্রের দ্বারা তোমরা যা পেতে চাও কুদরতী সুরমার দ্বারা তোমরা তা বিনা মূল্যেই পেয়ে যাবে। আর সৌন্দর্য তো এমনিতেই হাসিল হবে।
কত সৌভাগ্যশীল সেইসব পুরুষ ও নারী, যারা সুন্নত মনে করে এবং প্রিয় নবীর আদেশ পালনার্থে চোখে সুরমা ব্যবহার করে দৃষ্টির প্রখরতা বৃদ্ধি ও সওয়াবের ভান্ডার সমৃদ্ধ করছে।
সুরমা কিভাবে লাগাবে? হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই বার ডান চোখে ও দুই বার বাম চোখে সুরমা লাগাতেন। অতঃপর একবার কাঠিতে সুরমা নিয়ে উভয় চোখে লাগাতেন। এভাবে সংখ্যার মধ্যে বেজোড় হয়ে যেত। তিনি বেজোড় সংখ্যা খুবই পছন্দ করতেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 কুস্ত্ (কুড় বা আগর কাঠ) গলনালীর আবদ্ধতা ও গলগন্ড রোগের চিকিৎসা

📄 কুস্ত্ (কুড় বা আগর কাঠ) গলনালীর আবদ্ধতা ও গলগন্ড রোগের চিকিৎসা


কুস্ত বা আগর কাঠকে ফারসীতে কুস্তাহ এবং হিন্দীতে গোঠ বলা হয়; আর এর ইংরেজী নাম হলো কাস্টাস্ রোট (Castus Root)। এ কুস্ত দুইপ্রকার। একটা হলো কুস্তে বাহরী বা সাদা কুসত্ এবং অন্যটি হলো কুস্তে হিন্দী (কুস্তে আসওয়াদ বা কালো গোঠ)। স্বাদের দিক থেকেও কুস্ত দুইপ্রকার। একটা কুস্তে হালুয়ে বা মিষ্টি কুস্ত। অন্যটি কুস্তে মুররা বা তিক্ত কুস্ত। মূলত: কুস্তের স্বাদ যে শুধু তিক্ত বা মিষ্ট তা নয় বরং এর প্রতিক্রিয়া (Action) বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে।
তিক্ত গোঠ বিষাক্ত হয়ে থাকে। এটা খাওয়া যায় না, শুধু মাত্র বাহ্যিক প্রয়োগ অর্থাৎ প্রলেপ, মালিশ, ইত্যাদি রূপে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ ঔষধটি পাকস্থলীর বায়ু ও ওয়ারাম বা ফোলা ব্যাধি নিরাময় করে। তাছাড়া শরীরের প্রধান প্রধান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শক্তিশালী করে এবং খেঁচুনী (পেশী সংকোচন) রোগ দূর করে। হাঁপানী, এজমা, নিউমোনিয়া, শ্লেষ্মা (কফ) রোগের জন্যও বিশেষ উপকারী। -কিতাবুল মুফরাদাত খাওয়াসসুল আদবিয়া: পৃঃ ২৮৪
মিষ্টি গোঠের শিকড় সুঘ্রাণযুক্ত হয়। এটা শরীরের প্রধান অঙ্গসমূহ তথা হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, যকৃৎ, অন্ডকোষ ইত্যাদির জন্য শক্তিবর্ধক। এছাড়া অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও শক্তিশালী করে। মস্তিষ্ক জনিত রোগ, প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত, "লাকোয়া" বা মুখের অর্ধাঙ্গ ও কম্পন রোগের (এ রোগে হাত পা কাঁপতে থাকে) জন্যও বিশেষ উপকারী। খাওয়াসুল আদোবিয়া: পৃঃ ২৮৫
কুস্তের উপকারীতা সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বর্ণনা লক্ষ্য করুন।
عَنْ أَنَسٍ رَضِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُعَذِّبُوا -١ صُبْيَانَكُمْ بِالْغَمْرِ مِنَ الْغَدَارَةِ وَعَلَيْكُمْ بِالْقِسْطِ .
(১) "হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমাদের বাচ্চাদের গলগ্রহ হলে গন্ডদেশ মালিশ করে ও দাবিয়ে কষ্ট দিও না। বরং তোমরা কুস্ত ব্যবহার কর।" -বুখারী, মুসলিম
عَنْ أَمْ قَيْسٍ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى مَا تَدْعُونَ أَوْلَادَكُنَّ بِهَذَا الْخِلَاقِ عَلَيْكُنَّ بِهَذَا الْعُودِ الْهِنْدِي .
(২) "হযরত উম্মে কায়েস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের গলা মালিশ করে ও দাবিয়ে (এমন) কঠিন চিকিৎসা কেন করছ? তোমাদের হিন্দী উদ বা কুস্ত ব্যবহার করা উচিত।" -বুখারী, মুসলিম
সুনানে ইবনে মাজাহ এবং মুসতাদরাকে হাকেম নামক কিতাবদ্বয়ে হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাযিঃ) কর্তৃক একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত আছে, "একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর ঘরে তাশরীফ নিয়ে যান। এ সময় হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর নিকট একটি শিশু ছিল। সে গলনালির আবদ্ধতা জনিত রোগে খুবই কাতর ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কুস্তে হিন্দী নামক ঔষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন। হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) নবী করীম (সাঃ)-এর পরামর্শানুযায়ী ঔষধ করায় শিশুটি আরোগ্য লাভ করে।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00