📄 পবিত্র কুরআন একখানা রোগ নিরাময় ব্যবস্থাপত্র
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ "আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যা ঈমানদারদের জন্য শেফা ও রহমত স্বরূপ।"-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত: ৮২
পবিত্র কালাম এমন শেফা ও রোগ মুক্তির মহৌষধ যার মধ্যে আত্মিক ও দৈহিক সর্বপ্রকার অসুস্থতার শেফা ও নিরাময় রয়েছে। এমনকি এতে চারিত্রিক দোষ ও সামাজিক বিপথগামীদেরও শিক্ষা রয়েছে। যে সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আল্লাহর কালামের দিক নির্দেশনা গ্রহণ করে নিয়েছে, তারা সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত এবং চিকিৎসক থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে গেছে। এই দাবীর প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় পাতায় বিদ্যমান রয়েছে। এখানে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানার একটি উদাহরণ পেশ করছি।
খায়রুল কুরুনের যমানায় মদীনা শরীফের ডাক্তারগণ হাতের উপর হাত রেখে বসে থাকত। এমনকি এক ডাক্তার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই অভিযোগ নিয়ে এল যে, কোন রোগীই তার নিকট যায় না। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবত এর কারণ এই যে, এই সকল লোকেরা সে পর্যন্ত খানার প্রতি হাত বাড়ায়না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তীব্র ক্ষুধা অনুভব না করে। আর পরিপূর্ণ রূপে পেটভরার পূর্বেই খানা খাওয়া ছেড়ে দেয়। তাই মনে করা যায় যে কম খাওয়ার কারণেই তাদের সুস্থতা বজায় আছে।
পবিত্র কুরআন এখনও রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র। তবে শর্ত হলো এর উপর যথাযথ আমল করতে হবে। কুরআনকে শুধু উত্তম মনে করা এবং পাঠ করতে থাকা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ মহাপবিত্র গ্রন্থখানিকে আমরা আমাদের অমূল্য জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গ্রহণ করে না নিব ততদিন আমরা এ থেকে কিভাবে উপকৃত হবো?
📄 মেহদী ব্যবহারের উপকারিতা
মেহদী আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর পূর্ণ বৈশিষ্ট্য সাধারণ লোকের তো দূরের কথা অনেক শিক্ষিত লোকেরও জানা নাই। সাধারণতঃ মেহেদী পাতা পিষে হাতে পায়ে সৌন্দেয্যের জন্য অথবা গরমী দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিবাহ-শাদী, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেহদীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ডাক্তারী গবেষণানুযায়ী মেহদী রক্ত পরিষ্কারকারী এবং চর্ম রোগের জন্য উপকারী। কুষ্ঠরোগী, আগুনে পোড়া এবং পান্ডব রোগের জন্যও মেহদীর ব্যবহার খুব উপকারী। মেহদীর প্রলেপ ফোলা, ফোস্কা, আগুনে চামড়া পুড়ে যাওয়া রোগীর জন্য খুবই উত্তম প্রতিষেধক। মেহদীর বৈশিষ্ট্য ঠান্ডা।" -কিতাবুল মুফরাদাত, খাওয়াসুল আদবিয়াঃ পৃঃ ৩৫২
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে মেহদী পাতাকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করতেনঃ
(ক) ফোঁড়া পাকানোর জন্য (খ) শরীরে কাঁটা ইত্যাদি বিধলে (গ) মাথা ব্যথার জন্য।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেমা হযরত সালামা বিনতে উম্মে রাফে (রাযিঃ) বলেন:
مَا كَانَ يَكُونُ بِرَسُولِ اللَّهِ قرحة وَلَا نَكَبَةُ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَا .
"যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ফোঁড়া পাচড়া বের হত অথবা কাঁটা বা এই প্রকারের কিছু ঢুকে যেত তখনই তিনি আমাকে বলতেন এর উপর মেহদী লাগিয়ে দাও।" -মিশকাত, তিরমিযী
অপর এক হাদীসে ইবনে মাজার বরাত দিয়ে আল্লামা ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) নকল করেন যে,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَدَعَ غَلَفَ رَأْسَهُ بِالْحِنَاءِ وَيَقُولُ إِنَّهُ نَافِعُ بِإِذْنِ اللَّهِ مِنَ الصَّدِعِ
"যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা ব্যথা দেখা দিত তখনই তিনি মাথায় মেহেদী লাগাতেন আর বলতে থাকতেন যে, আল্লাহর হুকুমে এটা মাথা ব্যথার শেফাদানকারী।
📄 শিবরম একটি গরম জোলাপ বা বিরেচক
শিবরম এক প্রকার মিষ্টি ধরনের চারাগাছ যা বাঁশের কঞ্চির মত সোজা ও চিকন গিরাযুক্ত হয়ে থাকে। এর চারা গাছের উচ্চতা প্রায় এক হাত পরিমাণ হয়। এ গাছের গায়ে এক প্রকার পশম বা লোম বিশেষ থাকে যা উঠিয়ে ফেললে ভিতর থেকে দদুগোন এর মত চিকন সূত বা তত্ত্ব বেরিয়ে আসে।
এর রং সবুজ-লাল অথবা সাদাটে হলুদ বর্ণের এবং ফুল নীল রংগের হয়ে থাকে। স্বাদ তিক্ত এবং স্বভাব গরম ও রুক্ষ তবে এটা চতুর্থ পর্যায়ের গরম ও রুক্ষ ঔষধ এটা শরীরের যে কোন দুষিত পদার্থ পেশাবের সাথে বের করে দেয়।
কোন কোন প্রকারের শিবরম অত্যন্ত বিষাক্ত হয়ে থাকে, যা জীবন সংহারক বিষের চেয়ে কম নয়। এ ঔষধটি কফ এবং পাগলামীকে দাস্তের মাধ্যমে নিরাময় করে। শিবরমের তীব্র ও খারাপ প্রতিক্রিয়া এবং বিষাক্ততার কারণে কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এটা ব্যবহার করা আদৌ ঠিক নয়। এ ব্যাপারে স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ লক্ষ্যণীয়:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلُهَا بِمَا تَسْتَمْشِينَ قَالَتْ بِالشَّبْرَمِ قَالَ حَارٌ حَارٌ .
"হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি জোলাবের জন্য কি ব্যবহার কর? তিনি বললেন- শিবরম। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাররুন! হাররুন!! এটা গরম এটা গরম। এই শব্দটি “হার” ও পড়া যায় অর্থাৎ খুব গরম এবং “হুর্র” ও পড়া যায়। অর্থাৎ গরম এবং অধিক দাস্ত সৃষ্টিকারী।" তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোলাবের জন্য শিবরম-এর পরিবর্তে কালোজিরার ব্যবহারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।"
📄 মধুতে শেফা
আরবী পরিভাষায় মধু পোকাকে "নাহল" বলাহয়। পবিত্র কুরআনে এই নামে একটি স্বতন্ত্র সূরাই বিদ্যমান রয়েছে।
সূরাহ নাহলের ৪৯ নং আয়াতে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন:
فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ
"মধুর মধ্যে মানুষের শেফা রয়েছে"। মধু শেফা দানকারী" এ ঘোষণা প্রায় আজ থেকে চৌদ্দশত বছর পূর্বে করা হয়েছে। যা এখনও পূর্বের ন্যায় যথার্থ এবং সমগ্র বিজ্ঞান জগতই এই দাবী স্বীকার করে নিয়েছে।
মধু ঔষধ এবং খাদ্য উভয়ই। এ সুস্বাদু খাদ্যটি ছোট বড় প্রত্যেক দেশের এবং সকল পর্যায়ের মানুষই অত্যন্ত আগ্রহ সহকারে ব্যবহার করে থাকে। কেনই বা করবেনা, এটাতো তিব্বে ইলাহী ও তিব্বে নববী অর্থাৎ খোদায়ী চিকিৎসা ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা বিধানের অন্তর্ভুক্ত।
হাদীস গ্রন্থের প্রসিদ্ধ কিতাব জামে সগীরে বর্ণিত আছে:
عَلَيْكُمْ بِالشَّفَاءَ بْنِ الْعَيْلِ وَالْقُرْآنِ
অর্থাৎ "মধু এবং কুরআনের মাধ্যমে তোমাদের চিকিৎসা নেওয়া উচিত।” - সূনানে ইবনে মাজাহ, হাকেম
এই হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, মধু এবং কুরআন মজীদ আমাদের জন্য শেফার মাধ্যম। আর এর দ্বারা ফায়দা হাসিল করা সকলের জন্যই অবশ্য কর্তব্য।
হযরত নাফে (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত নিম্নোক্ত রেওয়ায়াত সম্পর্কে একটু ভেবে দেখুন।
اِبْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا كَانَتْ تَخْرُجُ بِهِ قَرْحَةٌ وَلَا شَيْءٍ إِلَّا لَطَعَ الْمُوَضَعَ بِالْعَسَلِ وَيَقْرَأُ يَخْرُجُ مِنْ بُطُونِهَا شَرَابٌ مُخْتَلِفُ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ
"হযরত ইবনে ওমর (রাযিঃ)-এর যখনি কোন ফোঁড়া, পাঁচড়া বা অন্য কিছু বের হত, তিনি তার উপর মধু লাগিয়ে দিয়ে পবিত্র কালামের এ আয়াত তেলাওয়াত করতেন- যার অর্থঃ "আল্লাহ তা'আলা মধুমক্ষিকার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় এবং মধু বের করে থাকেন, যার মধ্যে মানুষের শেফা ও রোগ মুক্তি রয়েছে।"