📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ঔষধের সাথে দুআ

📄 ঔষধের সাথে দুআ


আধুনিক যুগে মানুষের মস্তিষ্কে বস্তুবাদ এতই প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে, যার ফলে কিছু সংখ্যক লোক আল্লাহওয়ালা ব্যক্তিদের ঝাড়-ফুঁক ও দোয়া কালামকে একেবারেই নিঃষ্প্রয়োজন ও অনর্থক মনে করে থাকে। ঔষধ ব্যতীত তারা অন্য কিছুই বুঝে না। তবে ঔষধ সুস্থতার মাধ্যম মাত্র। সুস্থতা দানকারী নয়। সুস্থতাতো একমাত্র মহান রাব্বুল আলামীনের হাতে। যদি ঔষধ ব্যবহারের দ্বারাই সুস্থতা লাভ করা যেত তাহলে কোন অসুস্থ ব্যক্তিই ঔষধ ব্যবহারের পর অসুস্থ থেকে যেত না। তাই আমাদের কখনও এই ধ্রুব সত্যটি ভুলে গেলে চলবে না যে, শেফা দানের ক্ষমতা এক মাত্র আল্লাহর হাতে। সুতরাং সুস্থতা লাভের জন্যে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে মুখাপেক্ষী হওয়া উচিত। ঔষধকে শুধুমাত্র একটি অবশ্য কার্যকর ও উপকারী মাধ্যম মনে করা চাই।
এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উত্তম নমুনা ও আদর্শ লক্ষ্যণীয়।
একবার হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মহিয়সী স্ত্রীদের মধ্য হতে কোন এক স্ত্রীর আঙ্গুলে ফোঁড়া বের হয়। এই স্ত্রীই বর্ণনা করেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন:
هَلْ عِنْدَكِ ذَرِيرَةً؟ قُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ شَعْهَا عَلَيْهَا ، وَقَالَ قُولِي - اللَّهُمَّ مُصَغِرَ الْكَبِيرِ وَمُكَبِّرَ الصَّغِيرِ صَغَرُ مَا بِي
"তোমার নিকট কি "যারিরাহ” (চিরতা) আছে? আমি বললাম জী, হ্যাঁ। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ফোঁড়ার উপর "যারিরাহ" লাগিয়ে দাও এবং এই দোয়া পাঠ কর:
اللَّهُمَّ مُصَغِرَ الْكَبِيرِ وَمُكَبِّرَ الصَّغِيرِ صَغَرُ مَا بِي
স্বয়ং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে হযরত আলী (রাযিঃ) থেকে এ সম্পর্কিত একটি ঘটনা বর্ণিত আছে। একরাত্রে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ আদায়কালে (অন্ধকারে) তাঁর হাত মুবারক মাটিতে রাখলে এক কমবখত বিচ্ছু এসে তাঁর পবিত্র হাতে দংশন করল। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটু লবণ চেয়ে নিয়ে পানিতে মিশালেন। অতঃপর ঐ লবণ মিশ্রিত পানি বিচ্ছুর দংশিত স্থানে ঢালতে লাগলেন। তিনি (একহাতে পানি ঢালছিলেন এবং অন্য হাত দ্বারা ক্ষতস্থান মালিশরত অবস্থায় পবিত্র কুরআনের শেষ দুই সূরা নাস ও ফালাক পাঠ করছিলেন।" -তিরমিযী, বায়হাকী, মিশকাত
এভাবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঔষধ ব্যবহারের সাথে সাথে দুআও জারী রেখেছেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 পবিত্র কুরআন একখানা রোগ নিরাময় ব্যবস্থাপত্র

📄 পবিত্র কুরআন একখানা রোগ নিরাময় ব্যবস্থাপত্র


আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِلْمُؤْمِنِينَ
অর্থাৎ "আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যা ঈমানদারদের জন্য শেফা ও রহমত স্বরূপ।"-সূরা বনী ইসরাঈল: আয়াত: ৮২
পবিত্র কালাম এমন শেফা ও রোগ মুক্তির মহৌষধ যার মধ্যে আত্মিক ও দৈহিক সর্বপ্রকার অসুস্থতার শেফা ও নিরাময় রয়েছে। এমনকি এতে চারিত্রিক দোষ ও সামাজিক বিপথগামীদেরও শিক্ষা রয়েছে। যে সকল সৌভাগ্যবান ব্যক্তি আল্লাহর কালামের দিক নির্দেশনা গ্রহণ করে নিয়েছে, তারা সকল প্রকার রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত এবং চিকিৎসক থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে গেছে। এই দাবীর প্রমাণ ইতিহাসের পাতায় পাতায় বিদ্যমান রয়েছে। এখানে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যমানার একটি উদাহরণ পেশ করছি।
খায়রুল কুরুনের যমানায় মদীনা শরীফের ডাক্তারগণ হাতের উপর হাত রেখে বসে থাকত। এমনকি এক ডাক্তার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এই অভিযোগ নিয়ে এল যে, কোন রোগীই তার নিকট যায় না। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সম্ভবত এর কারণ এই যে, এই সকল লোকেরা সে পর্যন্ত খানার প্রতি হাত বাড়ায়না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তীব্র ক্ষুধা অনুভব না করে। আর পরিপূর্ণ রূপে পেটভরার পূর্বেই খানা খাওয়া ছেড়ে দেয়। তাই মনে করা যায় যে কম খাওয়ার কারণেই তাদের সুস্থতা বজায় আছে।
পবিত্র কুরআন এখনও রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র। তবে শর্ত হলো এর উপর যথাযথ আমল করতে হবে। কুরআনকে শুধু উত্তম মনে করা এবং পাঠ করতে থাকা যথেষ্ট নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত এ মহাপবিত্র গ্রন্থখানিকে আমরা আমাদের অমূল্য জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসাবে গ্রহণ করে না নিব ততদিন আমরা এ থেকে কিভাবে উপকৃত হবো?

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মেহদী ব্যবহারের উপকারিতা

📄 মেহদী ব্যবহারের উপকারিতা


মেহদী আমাদের দেশে ব্যাপক হারে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এর পূর্ণ বৈশিষ্ট্য সাধারণ লোকের তো দূরের কথা অনেক শিক্ষিত লোকেরও জানা নাই। সাধারণতঃ মেহেদী পাতা পিষে হাতে পায়ে সৌন্দেয্যের জন্য অথবা গরমী দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিবাহ-শাদী, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ছাড়াও অন্যান্য অনুষ্ঠানে মেহদীর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ডাক্তারী গবেষণানুযায়ী মেহদী রক্ত পরিষ্কারকারী এবং চর্ম রোগের জন্য উপকারী। কুষ্ঠরোগী, আগুনে পোড়া এবং পান্ডব রোগের জন্যও মেহদীর ব্যবহার খুব উপকারী। মেহদীর প্রলেপ ফোলা, ফোস্কা, আগুনে চামড়া পুড়ে যাওয়া রোগীর জন্য খুবই উত্তম প্রতিষেধক। মেহদীর বৈশিষ্ট্য ঠান্ডা।" -কিতাবুল মুফরাদাত, খাওয়াসুল আদবিয়াঃ পৃঃ ৩৫২
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে মেহদী পাতাকে ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করতেনঃ
(ক) ফোঁড়া পাকানোর জন্য (খ) শরীরে কাঁটা ইত্যাদি বিধলে (গ) মাথা ব্যথার জন্য।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদেমা হযরত সালামা বিনতে উম্মে রাফে (রাযিঃ) বলেন:
مَا كَانَ يَكُونُ بِرَسُولِ اللَّهِ قرحة وَلَا نَكَبَةُ إِلَّا أَمَرَنِي أَنْ أَضَعَ عَلَيْهَا الْحِنَا .
"যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ফোঁড়া পাচড়া বের হত অথবা কাঁটা বা এই প্রকারের কিছু ঢুকে যেত তখনই তিনি আমাকে বলতেন এর উপর মেহদী লাগিয়ে দাও।" -মিশকাত, তিরমিযী
অপর এক হাদীসে ইবনে মাজার বরাত দিয়ে আল্লামা ইবনে কাইয়্যিম (রহঃ) নকল করেন যে,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا صَدَعَ غَلَفَ رَأْسَهُ بِالْحِنَاءِ وَيَقُولُ إِنَّهُ نَافِعُ بِإِذْنِ اللَّهِ مِنَ الصَّدِعِ
"যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাথা ব্যথা দেখা দিত তখনই তিনি মাথায় মেহেদী লাগাতেন আর বলতে থাকতেন যে, আল্লাহর হুকুমে এটা মাথা ব্যথার শেফাদানকারী।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 শিবরম একটি গরম জোলাপ বা বিরেচক

📄 শিবরম একটি গরম জোলাপ বা বিরেচক


শিবরম এক প্রকার মিষ্টি ধরনের চারাগাছ যা বাঁশের কঞ্চির মত সোজা ও চিকন গিরাযুক্ত হয়ে থাকে। এর চারা গাছের উচ্চতা প্রায় এক হাত পরিমাণ হয়। এ গাছের গায়ে এক প্রকার পশম বা লোম বিশেষ থাকে যা উঠিয়ে ফেললে ভিতর থেকে দদুগোন এর মত চিকন সূত বা তত্ত্ব বেরিয়ে আসে।
এর রং সবুজ-লাল অথবা সাদাটে হলুদ বর্ণের এবং ফুল নীল রংগের হয়ে থাকে। স্বাদ তিক্ত এবং স্বভাব গরম ও রুক্ষ তবে এটা চতুর্থ পর্যায়ের গরম ও রুক্ষ ঔষধ এটা শরীরের যে কোন দুষিত পদার্থ পেশাবের সাথে বের করে দেয়।
কোন কোন প্রকারের শিবরম অত্যন্ত বিষাক্ত হয়ে থাকে, যা জীবন সংহারক বিষের চেয়ে কম নয়। এ ঔষধটি কফ এবং পাগলামীকে দাস্তের মাধ্যমে নিরাময় করে। শিবরমের তীব্র ও খারাপ প্রতিক্রিয়া এবং বিষাক্ততার কারণে কোন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত এটা ব্যবহার করা আদৌ ঠিক নয়। এ ব্যাপারে স্বয়ং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ লক্ষ্যণীয়:
عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلُهَا بِمَا تَسْتَمْشِينَ قَالَتْ بِالشَّبْرَمِ قَالَ حَارٌ حَارٌ .
"হযরত আসমা বিনতে উমাইস (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি জোলাবের জন্য কি ব্যবহার কর? তিনি বললেন- শিবরম। তখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হাররুন! হাররুন!! এটা গরম এটা গরম। এই শব্দটি “হার” ও পড়া যায় অর্থাৎ খুব গরম এবং “হুর্‌র” ও পড়া যায়। অর্থাৎ গরম এবং অধিক দাস্ত সৃষ্টিকারী।" তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোলাবের জন্য শিবরম-এর পরিবর্তে কালোজিরার ব্যবহারকে প্রাধান্য দিয়েছেন।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00