📄 সংযম ও তকদীর
عَنْ أَبِي خَزَامَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرَاَيْتَ رَقَى نَسْتَرقِيهَا وَدَوَاء نَتَدَاوَى بِهِ وَتُقَاةٌ نَتَّقِيهَا هَلْ تَرُدُّ مِنْ قَدْرِ الله فَقَالَ هِيَ مِنْ قَدْرِ اللَّهِ
"হযরত আবূ খুযামা (রাযি) বর্ণনা করেন, আমি (একবার) আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা যে সব ঝাড়ফুঁক করি এবং যে সকল ঔষধের দ্বারা চিকিৎসা করি এবং যে সকল বিষয়ে আমরা সতর্কতা অবলম্বন করি এগুলো কি আল্লাহর নির্ধারিত তকদীরকে প্রতিহত করতে পারে? এ বিষয়ে আপনি কি বলেন? হুযুর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জওয়াব দিলেন, তোমরা যা কর স্বয়ং এগুলিও আল্লাহর নির্ধারিত তকদীরের অন্তর্ভুক্ত।" -ইবনে মাজাহ, তিরমিযী, হাকেম
হাদীস শরীফের বক্তব্য অত্যন্ত সুস্পষ্ট। কোন ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। নেকদিল সাহাবীর এটাই জিজ্ঞাস্য ছিল যে, আমরা যে ঝাড়ফুঁক ও ঔষধ পত্র ব্যবহার করি এবং বিভিন্ন বিষয়ে বাচ-বিচার করে ও সতর্কতা অবলম্বন করে চলি, এগুলি কি আল্লাহর লিখিত তকদীরকে বদলে দিতে পারে? যদি কারো তকদীরে রোগ লেখা থাকে বা রোগের কারণে তার মৃত্যু লেখা থাকে, তাহলে আমাদের অবলম্বন করা পন্থাগুলি কি তা টলাতে পারবে? প্রায়শঃ আমাদের মনেও এ ধরনের বিভিন্ন সন্দেহ ও সংশয় এসে থাকে। চিন্তা করে দেখুন এ প্রসঙ্গে হুযুর (সাঃ) কত হিকমতপূর্ণ জওয়াব দিয়েছেন যে, তোমাদের এই দম-দরূদ, ঝাড়ফুঁক ঔষধ পত্র ও সতর্কতা এগুলির আল্লাহর হুকুমেরই অন্তর্ভুক্ত। কে জানে যে, দয়াময় আল্লাহ তা'আলা এ গুলির মাধ্যমেই কারো আরোগ্য লেখে রেখেছেন।
এমতাবস্থায় আমাদের জন্য একান্ত জরুরী হল, প্রয়োজনীয় সর্বপ্রকার ওসিলা ও সতর্কতা অবলম্বন করা এবং এগুলিকে তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী মনে না করা। কেননা, এই ওসিলাসমূহ অবলম্বন করাও আল্লাহর নির্দেশ এবং হুযুর পাক (সাঃ)-এর সুন্নত। কোন ক্রমেই এগুলি তাওয়া'স্কুলের বিরোধী নয়।
📄 চোখের অসুখে খেজুর থেকে সাবধানতা
"হযরত উম্মে মুনযির বিনতে কায়েস আনসারিয়্যা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, একদিন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাড়ীতে তশরীফ নিয়ে আসেন। তাঁর সঙ্গে হযরত আলী (রাযিঃ) ও ছিলেন। হযরত আলী সবেমাত্র অসুখ থেকে উঠেছিলেন।। আমাদের বাড়ীতে খেজুরের বাধা টানানো ছিল। বর্ণনাকারীণী বলেন, হুযুর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে খেজুর খেতে আরম্ভ করেন। অতঃপর হযরত আলীও উঠে আসেন এবং খেজুর খেতে শুরু করেন। তখন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, আলী! তুমি এখনো দুর্বল। তাই তুমি খেজুর খেয়ো না। একথা শুনে হযরত আলী (রাযিঃ) খেজুর খাওয়া বন্ধ করে দেন।" -মিশকাত, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযী শরীফ
এ প্রসঙ্গে হযরত সুহাইব (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত রেওয়ায়াতও পাঠ করুন।
তিনি বলেন:
قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَيْنَ يَدَيْهِ خُبْرٌ وَتَمْرُ فَقَالَ ادْنُ فَكُلُ فَأَخَذْتُ تَمْراً فَأَ كَلْتُ فَقَالَ أَتَأْكُلُ تَمْراً وَبِكَ رَمَدٌ ...... (الى آخر)
“আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হই। তাঁর সম্মুখে তখন রুটি ও খেজুর রাখা ছিল। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কাছে এসো, খেতে বস। আমি বসে খেজুর খেতে শুরু করি। অতঃপর হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তোমার চোখে অসুখ আর তুমি এই অবস্থায় খেজুর খাবে? -যাদুল মাআদ
খেজুরের উপকারীতা সম্পর্কে আমরা অন্য এক অধ্যায়ে আলোচনা করেছি যে, খেজুর অত্যন্ত শক্তিশালী ও রক্ত বর্ধক। বিভিন্ন অসুখ বিসুখে ও বিশেষ ঔষধে খেজুর ব্যবহার করা হয়। এতদসত্ত্বেও এর তাছীর ও প্রতিক্রিয়া গরম। তাই অসময়ে এবং অধিক পরিমাণে খেজুর খাওয়া ক্ষতিকর হয়। বিশেষতঃ যখন চোখে ব্যথা ও জ্বালা পোড়া থাকে তখন খেজুর খাওয়া থেকে বেঁচে থাকা খুবই জরুরী।
📄 ক্ষতিকর ঔষধ ব্যবহার না করা
عَنِ الْأَعْمَشِ سَمِعْتُ حَيَّانَ جَدَّ ابْنِ أَبْحَرَ الْكَبِيرِ يَقُولُ دَعِ الدَّوَاءَ مَا احْتَمَلَ جَسَدُكَ الداء .
"হযরত আমাশ (রাযি) বলেন, আমি ইবনে আবাহরুল কবীরের পৌত্রের মাধ্যমে শুনেছি, তিনি বলেন, ঐ সকল ঔষধ বর্জন কর যা খেলে সুস্থ শরীর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।" -মুজামুল কবীর
অসুস্থ ব্যক্তি কিসে আরাম পাবে, কিসে তার শক্তি অর্জিত হবে ও অসুস্থতা দূর হবে- ঔষধদাতা চিকিৎসকের এটাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। আর এ মহান উদ্দেশ্য নিয়েই মানুষ তিক্ত স্বাদহীন ঔষধ সেবন করে, ইনজেকশন নেয়, অপারেশনের কষ্ট সহ্য করে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি এমন কোন ঔষধ হয়, যা এক রোগে উপকারী কিন্তু তাতে অন্য কোন রোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তবে ঐ ঔষধ বর্জন কর। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা এটাই যে, যদি কোন ঔষধ দ্বারা রোগ সৃষ্টি হওয়ার ভয় থাকে তবে তা ত্যাগ কর।
📄 শিংগা লাগান
আমি বহুক্ষেত্রে লক্ষ্য করেছি যে, হাতুড়ে এবং অনভিজ্ঞ ডাক্তার অনেক সময় তাঁর রোগীদের এমন ঔষধ দিয়ে থাকে যা কোন একটি রোগকে তো দূর করে দেয় ঠিকই তবে অপর একটি রোগ সৃষ্টিরও কারণ হয়ে যায়। অনুরূপভাবে সস্তা খ্যাতি, নাম যশের আকাংখী ও লোভী চিকিৎসকগণ জেনে বুঝেই এ ধরনের ভুল চিকিৎসা ত্যাগ করে না।
মূলতঃ এ সকল লোক মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে বেআইনীভাবে খেল-তামাশা করছে এবং আল্লাহর ভয়ে কম্পিত হচ্ছে না।
عَنْ سَمُرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَيْرُ مَا تَدَاوَيْتُم بِهِ الْحَجَمُ
"হযরত সামুরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের চিকিৎসা সমূহের মধ্যে সর্বোত্তম চিকিৎসা হল শিংগা লাগান।"-মুসতাদরাক
"হযরত আবদুর রহমান ইবনে আবু নাঈম থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হযরত আবূ হুরাইরা (রাযি) বর্ণনা করেছেন যে, আমাকে আবুল কাসিম হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, জিব্রাঈল (আঃ) তাঁকে এ সংবাদ দিয়েছেন:
إِنَّ الْحَجَمَ أَفْضَلُ مَا تَدَاوَى بِهِ النَّاسُ
"মানুষ যে সকল জিনিস দ্বারা চিকিৎসা করে তন্মধ্যে উত্তম চিকিৎসা হচ্ছে শিংগা লাগান।" -মুসতাদরাক
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিংগা লাগানোর জন্য চন্দ্র মাসের সর্বাপেক্ষা উত্তম তারিখগুলি নির্ধারণ করে বলেছেন, চন্দ্র মাসের ১৭, ১৯ এবং ২১ তারিখে শিংগা লাগাবে। বুধবারকে শিংগা লাগানোর অনোপযোগী বলেছেন।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাগল, কুষ্ঠ রোগী এবং মৃগী রোগের জন্য শিংগা লাগানোকে চিকিৎসা হিসাবে নির্বাচন করেছেন।
অনুরূপভাবে হযরত ইবনে উমর (রাযি) থেকে বর্ণিত: হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শিংগা লাগালে জ্ঞান বৃদ্ধি পায় এবং স্মৃতি শক্তি প্রখর হয়।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাযি) থেকে বর্ণিত, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, শিংগা লাগানোর ফলে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি পায় এবং পিঠ হালকা হয়।
আমি এ সকল হাদীস মুসতাদরাকে হাকিমের চিকিৎসা অধ্যায় থেকে বর্ণনা করেছি।
চীন দেশে শিংগা লাগানোর এ পদ্ধতিটি আকুপেংচার নামে পরিচিত। এখনও আমেরিকার হাসপাতালে এ পদ্ধতির চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। পাকিস্তানে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসার প্রচলন আছে।।