📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 শেষ মূহুর্তের দুআ

📄 শেষ মূহুর্তের দুআ


প্রতিটি জীবিত প্রাণীকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। যে এ পৃথিবীতে এসেছে তাকে একদিন না একদিন এ নশ্বর পৃথিবী থেকে শেষ গন্তব্যের দিকে নিশ্চিত পাড়ি জমাতে হবে। যিন্দিগীর এ শেষ মুহূর্তটি নিজের এবং অপরের সকলের জন্য বড় শক্ত পরীক্ষা। আর এ পরীক্ষার মুহূর্তটি খুবই তিক্ত। আপনারা হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন মরণ পথের যাত্রী কি অবস্থায় দীর্ঘ সফরে যাত্রা করে।
আল্লামা ইকবাল ঠিকই বলেছেন
نشان مرد مومن با تو گویم * چو مرگ آید تبسم برلب اوست
"আমি তোমাকে বলে দিব মর্দে মুমিনের চিহ্ন কি? "যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তখন তার ঠোঁটে হাঁসি ফুটে উঠে।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির আমলনামা কালো এবং নেকের পাল্লা খালি থাকে তাকে চরম হতাশা ও কষ্ট নিয়ে দুনিয়া ত্যাগ করতে হয়। এ সময় শারীরিক কষ্ট পাওয়া একটা প্রকৃতির বিধান। তবে দুনিয়া ত্যাগ করার জন্য পূর্বে থেকেই তৈরী না হওয়ার যে অবস্থা তা আরো কঠিন।
দোজাহানের সর্দার আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরজগতের সফরের জন্য সফরের সামানা কিভাবে বাঁধতেন? তা হযরতের পবিত্রা স্ত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর মুখে শুনুন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর অন্তিম মুহূর্তে এ কথা বলতে শুনেছি, (এ সময় তিনি আমার গায়ে টেক লাগিয়ে ছিলেন)।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالْرَّفِيقِ الَّا عَلَى .
"হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত দান করুন, আর আমাকে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মিলিয়ে দিন।" -বুখারী, মুসলিম
হযরত আয়েশা (রাযিঃ) আরো বলেন, আমার নিকট পানি ভর্তি একটা পাত্র ছিল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোবারক হাত পেয়ালার মধ্যে ডুবাচ্ছিলেন এবং স্বীয় মুখমন্ডলের উপর লাগাচ্ছিলেন। আর মুখে উচ্চারণ করছিলেনঃ
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى غَمَرَاتِ الْمُوتِ وَسَكَرَاتِ الْمَوْتِ
"হে আল্লাহ! আমাকে মৃত্যুর কঠোরতা থেকে সাহায্য করুন।" -তিরমিযী শরীফ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমবেদনা প্রকাশক লিপি

📄 নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমবেদনা প্রকাশক লিপি


হযরত মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিঃ) একজন সুপ্রসিদ্ধ আনসারী সাহাবী। তিনি মাদীনার সেই সত্তরজন সৌভাগ্যশালী সাহাবাগণের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মক্কা হতে হিজরত করে মদীনায় আগমন করার দাওয়াত দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত মুয়ায (রাযিঃ) কে ইয়ামন প্রদেশের কাজী নিযুক্ত করেছিলেন। তাঁর প্রাণপ্রিয় পুত্রের ইন্তিকালের পর হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট সমবেদনামূলক যে পত্র পাঠিয়েছিলেন তা আমি নিম্নে উদ্ধৃত করছি। একটু লক্ষ্য করে দেখুন, তা কত অলংকারপূর্ণ, সমবেদনা প্রকাশক ও সান্ত্বনামূলক পত্র। সমবেদনা প্রকাশ ও সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য এর চেয়ে উত্তম কোন শব্দ ও বাক্য সম্বলিত পত্র হতেই পারে না।
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيمِ
আল্লাহর নামে শুরু করছি। যিনি অত্যন্ত দয়াশীল এবং বড়ই মেহেরবান
سَلَامٌ عَلَيْكَ فَإِنِّي أَحْمَدُ إِلَيْكَ اللهُ الَّذِي لَا اِلهَ اِلَّا هُوَ اَمَّا بَعْدُ فَاعْظَمُ اللَّهُ لَكَ الْأَجْرَ وَالْهَمَكَ الصَّبْرَ وَرَزَقْنَا وَإِيَّاكَ الشَّكْرَ ، فَإِنَّ أَنْفُسَنَا وَأَمْوَالَنَا وَأَهْلِيْنَا مِنْ
مَوَاهِبِ اللَّهِ عَزَّ وَ جَلَّ هَنِينَةٌ ، وَعَوَارِيَةُ الْمُسْتَودِعَةِ مُتَعَ بِهَا إِلَى أَجَلٍ مَعْدُودٍ يَقْبِضُهَا لِوَقْتٍ مَّعْلُوم - ثُمَّ أَفْرِضُ عَلَيْنَا الشُّكْرِ إِذَا أَعْطَى - وَالصَّبْرُ إِذَا بَتَلَى
فَكَانَ ابْنُكَ مِنْ مَوَاهِبِ الالهية وَعَوَارِيَةُ المُستَودِعَةِ مَتَعَكَ غِبْطَةٌ وَسُرُورًا يَقْبِضُهُ بِأَجْرٍ كَثِير - الصَّلُوةُ وَالرَّحْمَةُ وَالْهُدَى إِنْ صَبَرْتَ فَاصْبِرْ - وَلَا يَحِيطُ جَزْعُكَ أَجْرَكَ فَتَنْدِمَ - وَاعْلَمْ إِنَّ الْجَزَعَ لَا يَرُدُّ شَيْئًا وَلَا يَدْفَعُ حُزْنَا مَا هُوَ نَازِلُ وَاصْبَرُ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُحْسِنِينَ .
"আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ হতে মুয়ায ইবনে জাবল (রাঃ)-এর প্রতি। তোমার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।"
আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি যিনি ব্যতীত কোন মাবুদ নাই। আম্মা বাদ, আল্লাহ তোমাকে বড় প্রতিদান (পুরস্কার) দান করুন এবং ধৈর্য্য ধরার তাওফীক দান করুন। আমাদেরকে এবং তোমাকে শুকরিয়া আদায়করনেওয়ালা করুন।
নিশ্চয়ই আমাদের জীবন, আমাদের সম্পদ এবং আমাদের সন্তান-সন্তুতি মহান আল্লাহর উত্তম দান এবং ধার গ্রহণ করা আমানত স্বরূপ। যার থেকে আমরা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ফায়াদা লুটছি এবং তিনি নির্ধারিত সময় আবার তা কজা করে নিচ্ছেন। তাই আমাদের উপর তাঁর দানের শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব এবং তিনি যখন আমাদের পরীক্ষায় ফেলেন তখনও ধৈর্য্য ধারণ করা ওয়াজিব। তোমার পুত্র মহান আল্লাহর দান এবং তোমার নিকট ধার দেওয়া আমানত ছিল। আল্লাহ তাকে তোমার জন্য লোভনীয় এবং সুখ ও উল্লাসের কারণ বানিয়েছিলেন। তিনিই তাকে তোমার থেকে এক বড় প্রতিদানের বদলে নিয়ে নিয়েছেন। এখন তুমি যদি ধৈর্য্য ধর তবে রহমত বরকত ও হেদায়েত লাভ করবে। তোমার অধৈর্য যেন তোমার প্রতিদানকে নষ্ট করে তোমাকে লজ্জিত না করে।
আর খুব স্মরণ রেখ, অধৈর্য্যের মাধ্যমে কিছুই অর্জিত হয় না এবং আগত পেরেশানীও তাতে দূর হয় না।
ধৈর্য্য ধারণ কর। কারণ আল্লাহ তা'আলা নিশ্চয়ই নেককার লোকদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।" -বুখারী শরীফ ও আবূ দাউদ শরীফ
নবী করীম (সাঃ) আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণকীর্তন করার পর প্রাপকের জন্য ধৈর্য্য ও শুকরিয়ার দুআ করলেন। উক্ত দুআর মধ্যে নিজেকেও শামিল করলেন। অতঃপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমাদের জান-মাল হোক অথবা পরিবার-পরিজন হোক সব কিছুই আল্লাহ তা'আলার দান। এগুলির মর্যাদা ধার লওয়া আমানত বৈ কিছুই নয়। এগুলি সবই আল্লাহ তা'আলা আমাদের উপকারের জন্য দান করেছেন। সুতরাং উক্ত নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আমাদের উপর ওয়াজিব। তবে তিনি যখন স্বীয় আমানত ফিরিয়ে নিয়ে আমাদের পরীক্ষায় ফেলেন তখন আমাদের জন্য সবর করা একান্ত আবশ্যক।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও লিখেন যে, নিঃসন্দেহে তোমার প্রাণপ্রিয় পুত্র তোমার জন্য এক বড় নিয়ামত, গর্বের ধন ও মঙ্গলজনক ছিল। একারণে সে আল্লাহর নিকট ফিরে যাওয়ায় তুমি সে পরিমাণই সওয়াব ও প্রতিদানের অধিকারী হবে। তবে অধৈর্য্য ও হা-হুতাশ, কান্নাকাটি করায় কিছুই অর্জিত হবে না, আর পেরেশানিও দূর হবে না। সুতরাং ধৈর্য্য ধারণ কর, আল্লাহ নেককার লোকদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।"
(১) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পত্রের সম্বোধনে বহুবচন ক্রিয়া ব্যবহার করে নিজেকেও এর মধ্যে শামিল করেছেন। এতে আপনত্ব ও মহব্বতের যে আবেগ ও অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে তা অন্য কোন ভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
(২) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধু মাত্র, প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ধৈর্য ও শুকরিয়ার শিক্ষা দেন নাই বরং সর্বপ্রথমে মরহুমকে স্মরণ করেছেন ও তাঁর মঙ্গল কামনা করেছেন, যার একটা প্রতিক্রিয়া কুদরতীভাবেই শোকার্ত পিতার উপর পড়েছে।
(৩) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি অধৈর্যের নিন্দা না করে বরং খুবই হিকমতের সাথে এর হাকীকতের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন- যা চলে গেছে ধৈর্য্যহারা হলেও তা আর ফিরে আসবে না এবং মৃত্যু শোকও হালকা না হয়ে বরং বাড়তে থাকবে। অন্য দিকে ধৈর্য ধারণ করায় নেকী আছে, তাই অধৈর্য হয়ে নেকী নষ্ট করবে কেন?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00