📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্লেগ আক্রান্ত এলাকা

📄 প্লেগ আক্রান্ত এলাকা


হযরত ওসমান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ করেছেনঃ
الطَّاعُونُ رِجْزُ أَوْ عَذَابٌ ارْسِلَ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَوْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سمعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدُمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضِ وَانتُم بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا فَرَارًا مِنْهُ .
"প্লেগ এক প্রকার নিকৃষ্ট কষ্টদায়ক রোগ বা আযাব যা বনী ইসরাইল অথবা তোমাদের পূর্ববর্তী কোন সম্প্রদায়ের উপর পাঠান হয়েছিল। যখন জানতে পারবে যে, ওমুক জায়গায় প্লেগ রোগ ছড়িয়ে গেছে তবে সেখানে যাবে না। আর তোমরা যেখানে আছ সেখানে যদি প্লেগ এসে থাকে তবে ঐ স্থান থেকে পলায়ন করে যাবে না।" -বুখারী ও মুসলিম
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্লেগকে এক প্রকার জঘন্য রোগ বা আযাব বলে ব্যাখ্যা করে সকল প্রকার সন্দেহ নিরসন করে দিয়েছেন। কতইনা জ্ঞানগর্ভ ইরশাদ যে, যেখানে এহেন কষ্টদায়ক রোগটি ছড়িয়ে আছে সেখানে নিজে গিয়ে "আ-বয়েল আমারে খা" প্রবাদ বাক্যটির মত নিজ হাতে রোগকে দাওয়াত দিও না। আর যদি তোমাদের নিজ এলাকায় এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে থাকে তবে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে উক্ত সংক্রামক ব্যাধিকে অন্য এলাকায় নিয়ে যেও না। উদ্দেশ্য এই যে, এ ধরনের ব্যাধি থেকে নিজে দূরে থাক এবং জেনে শুনে নিজেকে নিজে ধ্বংসের মধ্যে ফেল না। তবে যদি নিজে এ ব্যাধি থেকে বাঁচতে না পার তবে কমপক্ষে অপরকে বাঁচাতে চেষ্টা কর। কেননা যেভাবে ব্যাধি থেকে নিজেকে নিজে রক্ষা করা প্রয়োজন তদ্রূপ অন্যকে রক্ষা করাও প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। অতএব, এটা কিভাবে সম্ভব যে, কোন মুসলমান নিজের কারণে অন্যকে বিপদে ফেলবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্লেগ খোদায়ী বিধান

📄 প্লেগ খোদায়ী বিধান


আমি খোলাফায়ে রাশেদার স্বর্ণযুগ হতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা সহীহ বুখারী শরীফ হতে বর্ণনা করছি। একদা হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) শাম দেশের দিকে যাওয়ার প্রাক্কালে "সুরাগ" নামক স্থানে পৌঁছে জানতে পারলেন ওখানে (শামদেশে) প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সেখানেই যাত্রা বিরতি করে জরুরী পরামর্শ সভা আহবান করলেন।
সর্বপ্রথম নিয়মানুায়ী সর্বাগ্রে হিজরতকারীদেরকে পরামর্শের জন্যে ডাকলেন। তাঁদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় প্রথম সারির আনসারদেরকে ডাকলেন। তাঁরাও একমত হতে পারলেন না। অতঃপর তিনি মক্কা বিজয়কালীন সময়ের সুপ্রসিদ্ধ কোরাইশদেরকে ডাকলেন, তারা সকলেই একমত হয়ে সৈন্য বাহিনী ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি এ রায় অনুযায়ী মুসলিম সৈন্যদেরকে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। এ সময় হযরত আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আপনারা কি আল্লাহ তা'আলার তকদীর থেকে ভেগে যেতে চান। প্রত্যুত্তুরে হযরত ওমর (রাযিঃ) বললেন-
نَعَمْ نَفِرُ مِنْ قَدْرِ اللَّهِ إِلَى قَدْرِ اللَّهِ
"হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত তকদীর থেকে ভেগে আল্লাহর তা'আলার (অন্য) তকদীরের দিকে যেতে চাই।" অতঃপর হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (যা আমি পূর্বে বর্ণনা করেছি) শুনালেন। তখন হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) এ কারণে শুকরিয়া আদায় করলেন যে, তার ফায়সালা নবী করীম (সাঃ)-এর মতানুযায়ী হয়েছে। সুতরাং প্লেগ যেমন খোদায়ী বিধান তেমনি এটা থেকে দূরে থাকা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া চিকিৎসা, তদবীর করাও খোদায়ী বিধানের অংশ বিশেষ। মুর্খরা এ রোগটিকে একটা আযাব মনে করে থাকে এবং এর চিকিৎসাকে খোদায়ী বিধানের সঙ্গে যুদ্ধের শামিল মনে করে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্লেগ রোগ এবং শাহাদাত

📄 প্লেগ রোগ এবং শাহাদাত


কোন কোন ধর্মের লোকেরা ব্যাধিকে আযাব এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ মনে করে। আমাদের মতে ব্যাধি একটা পরীক্ষা এবং যারা এ পরীক্ষায় সফলকাম হন ব্যাধি তাদের মর্যাদা বৃদ্ধির একটা অছিলা হয়ে যায়। রোগে পতিত হলে মানুষ আল্লাহর অধিক নৈকট্য লাভ করে থাকে। কারণ মানুষ তখন আল্লাহর নিকট দুআ মাঙ্গতে থাকে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্লেগ রোগকে (যা মহামারী আকারে আসে এবং দূরারোগ্য ব্যাধি হিসাবে মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়) মুসলমানদের শাহাদাত লাভের অছিলা বলে উল্লেখ করেছেন।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
الطاعون شهادة لكل مسلم شَهَادَةً من
"প্লেগ প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে শাহাদাত লাভের একটি অছিলা।"
হাদীস শাস্ত্রের প্রসিদ্ধ কিতাব মুয়াত্তা ইমাম মালেক এবং সুনানে আবু দাউদে এ সম্পর্কে একটা দীর্ঘ হাদীস রয়েছে। যার মধ্যে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শহীদ সম্পর্কে বলেছেন যে,
আল্লাহর রাস্তায় জীবন উৎসর্গকারী ছাড়াও শহীদ হওয়ার সাতটি উপায় রয়েছে তন্মধ্যে প্রথমটি হল-
المطعون شهيد
"প্লেগ রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ।"

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 শেষ মূহুর্তের দুআ

📄 শেষ মূহুর্তের দুআ


প্রতিটি জীবিত প্রাণীকে অবশ্যই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। যে এ পৃথিবীতে এসেছে তাকে একদিন না একদিন এ নশ্বর পৃথিবী থেকে শেষ গন্তব্যের দিকে নিশ্চিত পাড়ি জমাতে হবে। যিন্দিগীর এ শেষ মুহূর্তটি নিজের এবং অপরের সকলের জন্য বড় শক্ত পরীক্ষা। আর এ পরীক্ষার মুহূর্তটি খুবই তিক্ত। আপনারা হয়ত লক্ষ্য করে থাকবেন মরণ পথের যাত্রী কি অবস্থায় দীর্ঘ সফরে যাত্রা করে।
আল্লামা ইকবাল ঠিকই বলেছেন
نشان مرد مومن با تو گویم * چو مرگ آید تبسم برلب اوست
"আমি তোমাকে বলে দিব মর্দে মুমিনের চিহ্ন কি? "যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয় তখন তার ঠোঁটে হাঁসি ফুটে উঠে।
পক্ষান্তরে যে ব্যক্তির আমলনামা কালো এবং নেকের পাল্লা খালি থাকে তাকে চরম হতাশা ও কষ্ট নিয়ে দুনিয়া ত্যাগ করতে হয়। এ সময় শারীরিক কষ্ট পাওয়া একটা প্রকৃতির বিধান। তবে দুনিয়া ত্যাগ করার জন্য পূর্বে থেকেই তৈরী না হওয়ার যে অবস্থা তা আরো কঠিন।
দোজাহানের সর্দার আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরজগতের সফরের জন্য সফরের সামানা কিভাবে বাঁধতেন? তা হযরতের পবিত্রা স্ত্রী হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ)-এর মুখে শুনুন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর অন্তিম মুহূর্তে এ কথা বলতে শুনেছি, (এ সময় তিনি আমার গায়ে টেক লাগিয়ে ছিলেন)।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالْرَّفِيقِ الَّا عَلَى .
"হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমার উপর রহমত দান করুন, আর আমাকে আমার সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে মিলিয়ে দিন।" -বুখারী, মুসলিম
হযরত আয়েশা (রাযিঃ) আরো বলেন, আমার নিকট পানি ভর্তি একটা পাত্র ছিল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মোবারক হাত পেয়ালার মধ্যে ডুবাচ্ছিলেন এবং স্বীয় মুখমন্ডলের উপর লাগাচ্ছিলেন। আর মুখে উচ্চারণ করছিলেনঃ
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى غَمَرَاتِ الْمُوتِ وَسَكَرَاتِ الْمَوْتِ
"হে আল্লাহ! আমাকে মৃত্যুর কঠোরতা থেকে সাহায্য করুন।" -তিরমিযী শরীফ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00