📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হাই তোলা শয়তানের কাজ

📄 হাই তোলা শয়তানের কাজ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَنَا ثَوْبُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَثَائَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَالَ هَا ضَحِكَ الشَّيْطَانُ
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, হাই তোলা শয়তান থেকে উৎপত্তি হয়। সুতরাং তোমাদের কারো হাই এলে যথা সম্ভব এটাকে ফিরিয়ে রাখবে। কেননা তোমাদের কেউ যখন (হাই তোলার সময়) "হা" করে তখন শয়তান হেসে দেয়।"-বুখারী শরীফ
হাই সাধারনত: ক্লান্তি এবং খারাপ কল্পনা জল্পনার কারণে এসে থাকে বা যখন ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি পায় তখন বার বার হাই আসতে থাকে। অনুরূপভাবে অনিচ্ছা ও অনাগ্রহও হাই আসার কারণ হয়। উদাহরণ স্বরূপ কোথাও কোন বক্তৃতা ও ওয়াজ চলছে আর কোন শ্রবণকারী ওয়াজ শুনতে শুনতে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তখন তার হাই আসা শুরু হয়ে যাবে। হাই তোলার দ্বারা মানুষের চেহারার অবস্থা খুবই বিকৃত হয়ে পড়ে, সুশ্রী মানুষেরও আকৃতি বিগড়ে যায়। দেখনে ওয়ালাদের নিকট এ অবস্থাটি খুবই বিশ্রী মনে হয়। ক্লাশ চলাকালীন অবস্থায় ছাত্রদের হাই এবং বক্তৃতা ও ওয়াজ শ্রবণ অবস্থায় শ্রোতাদের হাই শিক্ষক ও ওয়াজকারীর জন্য অত্যন্ত মনো বেদনার কারণ হয়। মেহমান হাই ছাড়তে লাগলে মেজবানের নিকট এটা অসহ্য মনে হয়।
স্বভাবগত মনোচিকিৎসক হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাই শয়তানের কাজ, যথাসম্ভব এটাকে ফিরিয়ে রাখ। যদি অনিচ্ছাকৃত হাই এসে যায় তবে অন্ততপক্ষে মুখ অতিরিক্ত ফাঁক করা থেকে বিরত থাক এবং হা শব্দটির আওয়ায বের করো না।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 যাদু মন্ত্র ও দুআ

📄 যাদু মন্ত্র ও দুআ


ঝাড়-ফুঁক, দরূদ, অযীফাহ এবং দুআ সম্পর্কে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় হাদীস বর্ণনা করছি। তবে (নাউজুবিল্লাহ) এগুলির মধ্যে কোন শিরক বেহুদা বা নিরর্থক কিছু নাই। পক্ষান্তরে যাদু, মন্ত্র ইত্যাদির মধ্যে সব ধরনের খারাবী রয়েছে যা কখনও ইসলাম স্বীকৃতি দেয় নাই। নিম্নে আমি আবূ দাউদ শরীফ থেকে একটি সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাকৃত হাদীসের তরজমা নকল করছি যা মিশকাতুল মাসাবীহ কিতাবেও রয়েছে।
و في عنى خطأ فَقَالَ مَا هَذَا ؟ إِنَّ عَبْدَ اللهِ رَضِى فِي انِ عَبْدِ اللهِ শিفاء لا يغادر سقما শব্দের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। পুরো হাদীসের অর্থ নিম্নরূপঃ
"হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) এর স্ত্রী হযরত যয়নব (রাযিঃ) বলেন, আমার স্বামী হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) আমার গলায় সামান্য একটু সুতা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি? আমি উত্তরে বললাম এক ব্যক্তি ঝাড়-ফুঁক • দিয়ে আমাকে এটা গলায় বাঁধার জন্যে দিয়েছে। এ কথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) ওটা ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে বললেন- “হে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের গৃহিনী! তোমরা শিরিকের মুখাপেক্ষী হইও না। কেননা আমি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি- ঝাড়-ফুঁক, পৈতা এবং যাদু শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
হযরত যয়নব (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার স্বামীকে বললাম, আমার চোখে অসুখ হলে অমুক ইহুদীর কাছে গিয়ে ঝাড়-ফুঁক করাতাম এবং তার মাধ্যমেই আমি সুস্থ হয়েছি। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন? এ কথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, এটা একটা শয়তানী আমল যা ঐ ব্যক্তি তার নিজের হাতে করত। যখন মন্তরপড়া শেষ হত তখন শয়তান দূর হয়ে যেত। এ ক্ষেত্রে তোমাদের জন্যে ঐ শব্দগুলিই পাঠ করা যথেষ্ট ছিল যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তাহল-
اذهِب الْبَأْسَ رَبَّ النَّاسِ - وَاشْفِ أَنْتَ الشَّافِي - لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَؤُكَ - شِفَاءٌ لَّا يُغَادِرُ سَقَمًا .
“হে মানুষের প্রতিপালক! কষ্ট দূর করে দিন। হে রোগ আরোগ্যকারী! শেফা দান করুন। আপনি ব্যতীত আর কেউ আরোগ্যদানকারী নাই। আপনার শেফা এমন যার পর আর কোন রোগ বাকী থাকে না।"

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্লেগ আক্রান্ত এলাকা

📄 প্লেগ আক্রান্ত এলাকা


হযরত ওসমান (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইরশাদ করেছেনঃ
الطَّاعُونُ رِجْزُ أَوْ عَذَابٌ ارْسِلَ عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَوْ عَلَى مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَإِذَا سمعْتُمْ بِهِ بِأَرْضٍ فَلَا تَقْدُمُوا عَلَيْهِ وَإِذَا وَقَعَ بِأَرْضِ وَانتُم بِهَا فَلَا تَخْرُجُوا مِنْهَا فَرَارًا مِنْهُ .
"প্লেগ এক প্রকার নিকৃষ্ট কষ্টদায়ক রোগ বা আযাব যা বনী ইসরাইল অথবা তোমাদের পূর্ববর্তী কোন সম্প্রদায়ের উপর পাঠান হয়েছিল। যখন জানতে পারবে যে, ওমুক জায়গায় প্লেগ রোগ ছড়িয়ে গেছে তবে সেখানে যাবে না। আর তোমরা যেখানে আছ সেখানে যদি প্লেগ এসে থাকে তবে ঐ স্থান থেকে পলায়ন করে যাবে না।" -বুখারী ও মুসলিম
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্লেগকে এক প্রকার জঘন্য রোগ বা আযাব বলে ব্যাখ্যা করে সকল প্রকার সন্দেহ নিরসন করে দিয়েছেন। কতইনা জ্ঞানগর্ভ ইরশাদ যে, যেখানে এহেন কষ্টদায়ক রোগটি ছড়িয়ে আছে সেখানে নিজে গিয়ে "আ-বয়েল আমারে খা" প্রবাদ বাক্যটির মত নিজ হাতে রোগকে দাওয়াত দিও না। আর যদি তোমাদের নিজ এলাকায় এ রোগটি ছড়িয়ে পড়ে থাকে তবে সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে উক্ত সংক্রামক ব্যাধিকে অন্য এলাকায় নিয়ে যেও না। উদ্দেশ্য এই যে, এ ধরনের ব্যাধি থেকে নিজে দূরে থাক এবং জেনে শুনে নিজেকে নিজে ধ্বংসের মধ্যে ফেল না। তবে যদি নিজে এ ব্যাধি থেকে বাঁচতে না পার তবে কমপক্ষে অপরকে বাঁচাতে চেষ্টা কর। কেননা যেভাবে ব্যাধি থেকে নিজেকে নিজে রক্ষা করা প্রয়োজন তদ্রূপ অন্যকে রক্ষা করাও প্রত্যেক মুসলমানের নৈতিক দায়িত্ব। অতএব, এটা কিভাবে সম্ভব যে, কোন মুসলমান নিজের কারণে অন্যকে বিপদে ফেলবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্লেগ খোদায়ী বিধান

📄 প্লেগ খোদায়ী বিধান


আমি খোলাফায়ে রাশেদার স্বর্ণযুগ হতে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা সহীহ বুখারী শরীফ হতে বর্ণনা করছি। একদা হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) শাম দেশের দিকে যাওয়ার প্রাক্কালে "সুরাগ" নামক স্থানে পৌঁছে জানতে পারলেন ওখানে (শামদেশে) প্লেগ রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি সেখানেই যাত্রা বিরতি করে জরুরী পরামর্শ সভা আহবান করলেন।
সর্বপ্রথম নিয়মানুায়ী সর্বাগ্রে হিজরতকারীদেরকে পরামর্শের জন্যে ডাকলেন। তাঁদের মধ্যে মতানৈক্য দেখা দেওয়ায় প্রথম সারির আনসারদেরকে ডাকলেন। তাঁরাও একমত হতে পারলেন না। অতঃপর তিনি মক্কা বিজয়কালীন সময়ের সুপ্রসিদ্ধ কোরাইশদেরকে ডাকলেন, তারা সকলেই একমত হয়ে সৈন্য বাহিনী ফিরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তিনি এ রায় অনুযায়ী মুসলিম সৈন্যদেরকে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দিলেন। এ সময় হযরত আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ্ (রাযিঃ) বললেন, আপনারা কি আল্লাহ তা'আলার তকদীর থেকে ভেগে যেতে চান। প্রত্যুত্তুরে হযরত ওমর (রাযিঃ) বললেন-
نَعَمْ نَفِرُ مِنْ قَدْرِ اللَّهِ إِلَى قَدْرِ اللَّهِ
"হ্যাঁ, আমরা আল্লাহ তা'আলার নির্ধারিত তকদীর থেকে ভেগে আল্লাহর তা'আলার (অন্য) তকদীরের দিকে যেতে চাই।" অতঃপর হযরত আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) হযরত আবূ সায়ীদ খুদরী (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস (যা আমি পূর্বে বর্ণনা করেছি) শুনালেন। তখন হযরত উমর ফারুক (রাযিঃ) এ কারণে শুকরিয়া আদায় করলেন যে, তার ফায়সালা নবী করীম (সাঃ)-এর মতানুযায়ী হয়েছে। সুতরাং প্লেগ যেমন খোদায়ী বিধান তেমনি এটা থেকে দূরে থাকা এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া চিকিৎসা, তদবীর করাও খোদায়ী বিধানের অংশ বিশেষ। মুর্খরা এ রোগটিকে একটা আযাব মনে করে থাকে এবং এর চিকিৎসাকে খোদায়ী বিধানের সঙ্গে যুদ্ধের শামিল মনে করে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00