📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ছুত-ছাত অর্থাৎ সংক্রমণ, স্পর্শ ইত্যাদি

📄 ছুত-ছাত অর্থাৎ সংক্রমণ, স্পর্শ ইত্যাদি


ছুত-ছাত সম্পর্কে আমাদের দেশে দুই বিপরীত মত দেখা যায়। এক দল কোন প্রকার ছুত-ছাত বা সংক্রামক ব্যাধিতে বিশ্বাসী নয়। তাদের মতে এমন কোন রোগ নাই যা একজন থেকে অন্যের মধ্যে ছড়াতে পারে। তারা ছুত-ছাতকে মনগড়া খেয়াল মনে করে এবং ঈমানের দুর্বলতা অথবা কমপক্ষে খোদা প্রদত্ত তাকদীর থেকে দূরে চলে গেছে বলে অহেতুক মন্তব্য করে থাকে। বাস্তবে কতিপয় সংক্রামক ব্যাধি রয়েছে। যেমন কফ, ইনফ্লুয়েনজা, বসন্তরোগ, কলেরা, তাউন, ইত্যাদি। এগুলি একজন রুগ্ন ব্যক্তি থেকে অপর সুস্থ্য ব্যক্তির উপর এমন প্রভাব ফেলে যেমন আগুন, পানি, ঠান্ডা ও গরম শরীরের উপর স্বীয় বৈশিষ্ট্যগত প্রভাব বিস্তার করে। তবে এগুলি সবই আল্লাহর হুকুমে হয়ে থাকে।
অন্য একদল ছুত-ছাত সম্পর্কে কল্পিতভাবে ভয়ের এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা সুন্নত তরীকায়ও রোগীর সাথে মিশে না। এক বর্তনে একত্রে খানা খায় না। শরিকানা গ্লাস ব্যবহার করে না। রুমাল এবং তোয়ালে একে অপরেরটি ব্যবহার করে না। ছুত লাগার চিন্তা তাদের উপর এ পরিমাণ চেপে বসেছে যে প্রতিটি শরীকানা বিষয় তাদের নিকট স্বাস্থ্য রক্ষানীতির পরিপন্থী। এ সকল ব্যক্তি এ ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনকে ঈমান ও একীনের উপর প্রধান্য দেয়। এ সম্পর্কে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি কি, নিম্নোক্ত হাদীসের আলোকে লক্ষ্য করুন।
হযরত ইবনে আতিয়া (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
لَا عَدْوَى وَلَا هَامَ، وَلَا صَفَرَ، وَلَا يَحِلُّ الْمُقْرِضُ عَلَى الْمُصِحِ وَلْيَحْلِلِ الْمُصْحَ حَيْثُ شَاءَ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ إِنَّهُ أَذًى
"ছুত-ছাত, পেঁচা ও মৃত আত্মার শুগন (ভবিষ্যতে ভাল মন্দের লক্ষণ) কোন বিষয় নয়। আর সফর মাসেও অশুভ কোন কিছু নাই। অবশ্য রুগ্ন পশু সুস্থ পশুর কাছে নিয়ে যাবে না। সুস্থ জানোয়ারকে যেখানে ইচ্ছা নিয়ে যাও। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসুল। এর কারণ কি? ইরশাদ করলেন, এটা ঘৃণা অথবা কষ্টের বিষয়।" -মুয়াত্তা ইমাম মালেক, কিতাবুল জামে

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁচি দেওয়ার পদ্ধতি

📄 হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাঁচি দেওয়ার পদ্ধতি


শায়েখ আবূ হাইয়্যান ইসপাহানী (রহঃ) রচিত আখলাকুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমি তিনটি হাদীস বর্ণনা করছি। তিনটি হাদীসেরই রাবী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ)। তিনি বর্ণনা করেনঃ
١ - كَانَ إِذَا عَطَسَ غَضَّ بِهَا صُوتَهُ وَأَمْسَكَ عَلَى وَجْه .
- كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَطَسَ وَضَعَ يَدَهُ أَوْ تُوبَهُ عَلَى فَمِهِ وَخَفَضَ بِهَا صُوتَه .
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا عَطَسَ عَطَى وَجْهَهُ بِنُوبِهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى حَاجِبَيْهِ .
(১) "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচি দেওয়ার সময় নিজ আওয়াজকে নীচু করে নিতেন এবং মুখমন্ডলকে ঢেকে রাখতেন।"
(২) "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাঁচি দিতেন তখন তার হাত অথবা কাপড় মুখের উপর রাখতেন এবং আওয়াজ ছোট করে নিতেন।"
(৩) "নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হাঁচি এলে স্বীয় চেহারা মোবারককে তাঁর কাপড় দ্বারা ঢেকে নিতেন এবং তাঁর দুই হাত কপাল মোবারকের উপর রাখতেন।" -আল বাইয়্যেনাতঃ করাচী, জিলহজ্ব ১৩৯০ হিঃ
আল্লাহ! আল্লাহ! নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাব কতই না পবিত্রতা ও সূক্ষ্মদর্শীতায় ভরপুর ছিল এবং অপরের অসুবিধা ও কষ্টের ব্যাপারে তিনি কতইনা সতর্ক ছিলেন।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হাঁচি এবং অশুভ লক্ষণ

📄 হাঁচি এবং অশুভ লক্ষণ


সাধারণভাবে হাঁচি দেওয়াকে মজলিসের আদবের খেলাপ মনে করা হয়। কল্পনা ও সন্দেহ পুঁজক হিন্দু সম্প্রদায় ও অন্যান্য কল্পনা পূজারী জাতিও হাঁচিকে একটা বড় অশুভ লক্ষণ মনে করে থাকে। সম্ভবতঃ এ ধরনের বিজাতীয় সংশ্রবের ফলেই কিছু কিছু মুসলমানও এমন ধারণা পোষণ করতে শুরু করেছে। আমাদের ভাষা ও সাহিত্যের ভেতরেও এ ধরনের কিছু ভ্রান্ত পরিভাষা অনুপ্রবেশ করেছে।
স্মরণ রাখবেন! হাঁচির মধ্যে কোন প্রকার অশুভ লক্ষণ নাই। বেশীর থেকে বেশী এটা একটা রোগ বা রোগের লক্ষণ। আমাদের নবী এবং খোদার হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাঁচির জন্য আল্লাহর হামদ, প্রশংসা, শুকরিয়া ও অভিনন্দনকে ওয়াজিব বলেছেন। তিনি ইরশাদ করেছেন, "কোন ব্যক্তির হাঁচি এলে সে আলহামদুলিল্লাহ বলবে। আর হাঁচি শ্রবণকারী يُرْحَمُكَ الله বলবে অর্থাৎ তোমার উপর আল্লাহ রহমত বর্ষন করুন। অতঃপর দোয়ার জবাবে হাঁচি দাতা বলবে- يَهْدِيكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ এবং তোমাদের শান (অবস্থা) ঠিক রাখুন।"-বুখারী, মুসলিম
একটু চিন্তা করে দেখুন, হাঁচি কোন অভিশাপ নয় এবং কোন কুলক্ষণও নয় বরং আল্লাহর রহমত অথবা তাঁর রহমতের অছিলা। এ কারণে হাঁচিদাতার উপর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব। আর হাঁচিদাতার সঙ্গে একত্রে উপবেশনকারী এবং শ্রবণকারীদের উপর হাঁচিদাতার জন্য দুআ করা সুন্নত। যার শুকরিয়া হিসাবে হাঁচিদাতা পুনরায় তাদের জন্য হেদায়াত, সুস্থতা ও নিরাপত্তার দুআ করে। এভাবে সমস্ত মজলিসটি সওয়াব, মঙ্গল ও বকরতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে শর্ত হলো নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নত মুতাবিক আমল হতে হবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 হাই তোলা শয়তানের কাজ

📄 হাই তোলা শয়তানের কাজ


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ التَنَا ثَوْبُ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَثَائَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَرُدَّهُ مَا اسْتَطَاعَ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَالَ هَا ضَحِكَ الشَّيْطَانُ
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, হাই তোলা শয়তান থেকে উৎপত্তি হয়। সুতরাং তোমাদের কারো হাই এলে যথা সম্ভব এটাকে ফিরিয়ে রাখবে। কেননা তোমাদের কেউ যখন (হাই তোলার সময়) "হা" করে তখন শয়তান হেসে দেয়।"-বুখারী শরীফ
হাই সাধারনত: ক্লান্তি এবং খারাপ কল্পনা জল্পনার কারণে এসে থাকে বা যখন ঘুমের প্রভাব বৃদ্ধি পায় তখন বার বার হাই আসতে থাকে। অনুরূপভাবে অনিচ্ছা ও অনাগ্রহও হাই আসার কারণ হয়। উদাহরণ স্বরূপ কোথাও কোন বক্তৃতা ও ওয়াজ চলছে আর কোন শ্রবণকারী ওয়াজ শুনতে শুনতে বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে তখন তার হাই আসা শুরু হয়ে যাবে। হাই তোলার দ্বারা মানুষের চেহারার অবস্থা খুবই বিকৃত হয়ে পড়ে, সুশ্রী মানুষেরও আকৃতি বিগড়ে যায়। দেখনে ওয়ালাদের নিকট এ অবস্থাটি খুবই বিশ্রী মনে হয়। ক্লাশ চলাকালীন অবস্থায় ছাত্রদের হাই এবং বক্তৃতা ও ওয়াজ শ্রবণ অবস্থায় শ্রোতাদের হাই শিক্ষক ও ওয়াজকারীর জন্য অত্যন্ত মনো বেদনার কারণ হয়। মেহমান হাই ছাড়তে লাগলে মেজবানের নিকট এটা অসহ্য মনে হয়।
স্বভাবগত মনোচিকিৎসক হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হাই শয়তানের কাজ, যথাসম্ভব এটাকে ফিরিয়ে রাখ। যদি অনিচ্ছাকৃত হাই এসে যায় তবে অন্ততপক্ষে মুখ অতিরিক্ত ফাঁক করা থেকে বিরত থাক এবং হা শব্দটির আওয়ায বের করো না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00