📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 দুঃখ-কষ্ট এবং রোগ-ব্যাধি গোনাহের কাফফারা

📄 দুঃখ-কষ্ট এবং রোগ-ব্যাধি গোনাহের কাফফারা


রোগ-ব্যাধি নিঃসন্দেহে কষ্টদায়ক, তবে সর্বদা এটা আযাব হিসাবে আসে না। যা আমি এখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের আলোকে বর্ণনা করেছি। রোগ-ব্যাধি যে গোনাহের কাফফারা এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীস দেখে নিন। ইরশাদ হচ্ছেঃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ مَا يُصِيبُ الْمُسْلِمَ مِنْ وَصَبٍ وَلَا نَصَبٍ وَلَا سَقَمٍ وَلَا حُزْنٍ حَتَّى الْهَم بِهَمَةٍ إِلَّا كُفَرُ بِهِ عَنْ سَيِّاتِهِ
"হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মুসলমানের এমন কোন ব্যথা, কষ্ট, ক্লান্তি, রোগ, পেরেশানি বা কোন ছোট থেকে ছোট কষ্ট নাই যার দ্বারা তার পাপ দূর না হয়।"-বুখারী, মুসলিম
অপর এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছেঃ
"ما مِن أمري مؤمن ولا مؤمنة يمرض إلا جعله الله كفارة لما مضى من ذنوبه
"মুমিন পুরুষ অথবা মহিলা মাত্রই কোন রোগগ্রস্থ হলে আল্লাহ উক্ত রোগীকে তার পূর্বের গোনাহ মাফের একটা অছিলা করে দেন।"
হযরত আবু নাঈম (রাযিঃ) ও এ সম্পর্কে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন-
"يا فكر تول- الله الامراض كفارة لما مضى
কিছু ভুল-ভ্রান্তি হয়ে যায় রোগ তার কাফফারা স্বরূপ।” কারও মাথায় যদি এ চিন্তা ও সন্দেহ আসে যে, রোগ কি করে গোনাহের কাফফারা হয়? তবে তার স্মরণ রাখা উচিত, যেমনভাবে আগুনের ভাট্টি লোহার মরিচা দূর করে, স্বর্ণকারের কাঠালা স্বর্ণের ময়লা পরিষ্কার করে ফেলে তেমনি রোগ শয্যায় মানুষ অনিচ্ছাকৃত আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে। তার মুখে অকৃত্রিমভাবে আল্লাহ আল্লাহ শব্দ এসে পড়ে। সে তার স্বীয় অপরাধের জন্যে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয় এবং ভবিষ্যতের জন্যে সে গোনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প নিয়ে রোগ শয্যা ত্যাগ করে। দয়াময় আল্লাহর নিকট বান্দার এ ভঙ্গিটা খুবই পছন্দনীয়।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মৃত্যুর প্রার্থনা করো না

📄 মৃত্যুর প্রার্থনা করো না


عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَتَمَنِينَ أَحَدُكُمُ الْمَوْتَ
"হযরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যুর প্রার্থনা না করে।" আবূ দাউদ
উক্ত সাহাবী নিম্নের শব্দ সমূহের মাধ্যমে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম-এর ইরশাদ এভাবে বর্ণনা করেনঃ
لَا يَدْعُونَ أَحَدُكُمْ بِالْمَوتِ بِضُرٍّ نَزَلَ بِهِ وَلَكِنْ يَقُولُ اللَّهُمَّ أَحِينِي مَا كَانَتِ الْحَيَاةُ خَيْرًا إِلَى وَتَوَفَّنِي إِذَا كَانَتِ الْوَفَاةُ خَيْرًا لِي
"তোমাদের কেউ কষ্টের কারণে মৃত্যুর দুআ করো না বরং এ কথা বল, হে আল্লাহ! যতদিন আমার জীবিত থাকা উত্তম ততদিন আমাকে জীবিত রাখুন এবং যখন আমার জন্যে মৃত্যু উত্তম তখন আমাকে মৃত্যু দিন। -সুনানে আবূ দাউদ
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম খুবই পরিষ্কার ভাষায় মৃত্যুর আকাংখা ও দুআ করতে নিষেধ করেছেন এবং আত্মহত্যাকে হারাম মৃত্যু বলে ঘোষণা করেছেন। ঐ সকল লোকেরাই মুত্যুর আকাংখা করে থাকে এবং হাতছানি দিয়ে মৃত্যুকে ডাকতে থাকে যারা দীর্ঘ মেয়াদী বিমার অথবা কষ্টে হতবুদ্ধি বা চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে বা অভাব ও ব্যর্থতায় মন অধৈর্য হয়ে যায়। পক্ষান্তরে দয়া আধার সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর যারা দৃঢ় ঈমান রাখে তাদের নিরাশ হওয়ার কোন কারণ নাই। কেবল মাত্র কাফেরগণই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ থাকে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন-
لَا تَايْنَسُوا مِنْ رُوحِ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ لَا يَا بْنَسُ مِنْ رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
"তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেবল কাফের সম্প্রদায়ই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।" - সূরাহ ইউসুফ: আয়াত: ৮৭, ১২

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 যে কখনও অসুস্থ হয় নাই

📄 যে কখনও অসুস্থ হয় নাই


রোগ-ব্যাধি মানুষের গোনাহের কাফফারা স্বরূপ হয়ে থাকে। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কতিপয় বাণী লক্ষ্য করেছেন। এখন যে কখনও রোগে পড়ে নাই তার বিষয় লক্ষ্য করুন।
হযরত আমের ইবনে রাম (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবায়ে কেরামদের মজলিসে বললেন, নিশ্চয়ই কোন মুমিনের যদি রোগ হয় অতঃপর আল্লাহ আরোগ্য দান করেন তবে এটা তার পিছনের গোনাহর কাফফারা হয়ে যায়। (এ কথা শুনে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশে পাশে যে সকল সাহাবাগণ বসা ছিলেন তাদের একজন বলে উঠলেন-
يَا رَسُولَ اللَّهِ ۚ وَمَا الْأَسْقَامُ ؟ مَا مَرِضْتُ قَطْ
"হে আল্লাহর রাসূল! বিমারের অর্থ কি? আল্লাহর ফযলে আমারতো কখনও অসুখ-বিসুখ হয় নাই।"
قَالَ قُمْ فَلَسْتَ مِنًا
"নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেন, উঠে দাঁড়াও, তুমি আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নও।” -আবু দাউদ
দেখা গেল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোগকে ঈমানের একটা আলামত হিসাবে উল্লেখ করেছেন। যে ব্যক্তি কখনও রোগে পতিত হয় না তার ঈমান এবং পবিত্রতার মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্যত্র ইরশাদ করেনঃ
عَجِبْتُ لِلْمُؤْمِنِ جَزْعَةٌ مِّنَ السَّقَمِ وَلَوْ يَعْلَمُ مَالَهُ فِي السَّقَمِ وَجَبَ أَنْ يَكُونَ سَقِيمًا حَتَّى يَلْقَى اللَّهُ تَعَالَى
"ঐ মুমিনের প্রতি আমি আশ্চর্য হই, যে মুমিন হয়েও রোগের কারণে অধৈর্য্য হয়। যদি সে জানত যে রোগের মধ্যে তার কি উপকার রয়েছে তাহলে সে অবশ্যই আল্লাহ তা'আলার সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত রোগাক্রান্ত থাকতে চাইত।" -বায্যার

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 রোগকে গাল মন্দ করো না

📄 রোগকে গাল মন্দ করো না


রোগ সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি কি তা জেনেছেন, আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম রোগকে গোনাহের কাফফারা, সওয়াবের অগ্রদূত এবং নেকীর কারণ বলে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে আমাদের বুযুর্গগণ সুস্থ থাকার জন্যও এভাবে দুআ করতেন, "মাওলা করীম! রোগের মত নিয়ামতকে সুস্থতার নিয়ামত দ্বারা বদলিয়ে দিন।" এ কারণে কোন সাচ্চা মুসলমানের পক্ষে রোগকে গালমন্দ করা কখনও ভাল কাজ নয়। এ সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশার একটা ঘটনা দেখুন।
হযরত জাবের (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, একদা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সায়েব অথবা উম্মে মুসাইয়্যেব (রাযিঃ)-এর নিকট তাশরীফ নিয়ে গেলেন এবং তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার কি হয়েছে যার কারণে তুমি কাঁপছ? তিনি বললেন
الْحَمَى لَا بَارَكَ اللَّهُ فِيهَا
জ্বরে আক্রান্ত হয়েছি। আল্লাহ এর কল্যাণ না করুন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বললেনঃ
ہو دورود لا تَسبّى الْحُمَّى فَإِنَّهَا تَذْهِبُ خَطَايَا بَنِي آدَمَ كَمَا يُذْهِبُ الْخَيْرُ خَبَثَ الْحَدِيدِ
"জ্বরকে গালি দিও না। কারণ এটা আদম সন্তানের গোনাহ সমূহ এমনভাবে দূর করে দেয় যেমনভাবে কামারের ভাট্টি জং এবং ময়লা পরিষ্কার করে ফেলে।" -মুসলিম শরীফ
এ সম্পর্কে আরো একটি ঘটনা লক্ষ্য করুন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সময় এক ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলে জনৈক ব্যক্তি বললেন, তার কতই না সুন্দর মৃত্যু হল, কোন রোগ না ভুগেই মৃত্যুর সঙ্গে আলিঙ্গন করল।" লোকটির একথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার উপর আফসোস, তুমি জান না, যদি আল্লাহ তাকে কোন রোগে আক্রান্ত করতেন, তাহলে ঐ রোগের কারণে তার গোনাহ সমূহ দূর হয়ে যেত।" -মুয়াত্তা ইমাম মালেক

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00