📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ছায়া ও রোদ্র

📄 ছায়া ও রোদ্র


মৌসুমের পরিবর্তনে স্বভাবের উপর প্রভাব পড়ে। সুতরাং প্রত্যেক মৌসুমের পরিবর্তনকালে মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি প্রভাবিত হয়। তাই প্রকৃতিগত ভাবেই বসন্তের আগমনে আনন্দ উচ্ছ্বাস এবং বর্ষাকালে অলসতা ও মন্দাভাব দেখা দেয়। ঠিক এমনিভাবে হঠাৎ করে আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তন মানুষের মন-মেজাজ ও স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মকাল থেকে শীতকালে পদার্পণের সময় সর্দি লাগা এবং শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে যাওয়ার সময় গরম লেগে যাওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার।
মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে জনাব রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুভূতি অত্যন্ত তীব্র ছিল। তাই তিনি অতি সাধারণ বিষয়গুলির প্রতিও তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন এবং তাদের যথাযথ হেদায়াত দিয়েছেন।
হুযূরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সম্মানিত সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেনঃ
قَالَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الْفَيِّ فَقَلَصَ عَنْهُ الظُّلُّ فَصَارَ بَعْضُهُ فِي الشَّمْسِ وَبَعْضُهُ فِي الظل فليقم
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যদি তোমাদের কেউ ছায়ার নীচে (বসা বা শুয়া অবস্থায়) থাকে। আর ছায়া তার থেকে দূরে সরে যায় এবং তার দেহের কিছু অংশ ছায়ায় আর কিছু অংশ রোদ্রে থাকে, এমতবস্থায় তার (সেখান থেকে) উঠে যাওয়া উচিৎ। অর্থাৎ অর্ধেক ছায়া ও অর্ধেক রোদে থাকবে না। হয়তো ছায়ায়ই বসবে অথবা রোদ্রেই বসবে।
এ বিষয়ে হযরত ইবনে বুরাইদা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত রেওয়ায়াতটিও বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেনঃ
أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَقْعُدَ الرَّجُلُ بَيْنَ الظَّلِّ وَالشَّمْسِ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোদ ও ছায়ায় (অর্ধেক ছায়ায় ও অর্ধেক রোদে) বসতে নিষেধ করেছেন।” -জামে সগীর

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 সফরে রাত্রি যাপন

📄 সফরে রাত্রি যাপন


হযরত রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে ঘুমাতেন? এ ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরামদের থেকে বহু সংখ্যক রেওয়ায়াত বিদ্যমান রয়েছে। যেমন হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান কাতে শয়ন করতেন। ডান হাত গালের নীচে তাকিয়া হিসাবে রেখে দিতেন। এবং কেবলামুখী হয়ে আরাম করতেন। এটা হল হযরতের ঘরে শুয়ার অবস্থা।
এবার সফরের সময় তিনি কিভাবে আরাম করতেন ও শয়ন করতেন তার বিবরণ শুনুন :
قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ فِي سَفَرٍ فَعَرَسَ بِلَيْلٍ اضْطَجَعَ عَلَى يَمِينِهِ وَإِذَا عَرَّسَ قَبِيلَ الصبح نَصَبَ ذِراعَهُ وَوَضَعَ رَأْسَهُ عَلَى كَفِهِ
“হযরত আবূ ক্বাতাদা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেনঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সফরের অবস্থায় কোথাও রাত্রি যাপন করতেন তখন তিনি ডান কাতে শুতেন। আর রাত্রির শেষ দিকে নিজের হাত দাঁড় করিয়ে তাতে মাথা মুবারক রেখে আরাম করতেন।” -মুসলিম শরীফ
উলামাগণ এই রেওয়ায়াতের ব্যাখ্যা এভাবে করেছেন যে, রাত্রের শেষ ভাগে এসে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত উঁচু করে তাতে মাথা রেখে এ জন্য শুইতেন যাতে নিদ্রা গভীর হয়ে ফজরের নামায আওয়াল ওয়াক্তে আদায় করতে অসুবিধা না হয়। সফরে ক্লান্তি আসা একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। বিশেষতঃ যখন রাত্রের বেলা সফর করা হয়। সফরের শেষ পর্যায়ে এসে মুসাফির ক্লান্তিতে ভেঙ্গে পড়ে। অপর দিকে তখন নিদ্রা তার উপর প্রচন্ডভাবে হামলা করে বসে। এমতাবস্থায় গা এলিয়ে দেওয়ার সাথে সাথে সে গভীর নিদ্রায় অবচেতন হয়ে পড়ে। তখন মানুষের আর দুনিয়ার কোন খবর থাকে না।
এক হাদীসে হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভাষায় সফর-এর আদব বর্ণনা করেন। এখানে উক্ত হাদীসের শেষ অংশ বর্ণনা করা হল।
وَإِذَا عَرَّسْتُمْ فَاجْتَنِبُوا الطَّرِيقَ فَإِنَّهَا طُرُقُ الدَّوَابِ وَمَأْوَى الْهَوَامِّ بِاللَّيْلِ .
"সফররত অবস্থায় (কোথাও) রাত্রি যাপনের প্রয়োজন হলে সচরাচর চলাচলের স্থান (রাস্তা) থেকে সরে যেয়ে আরাম করবে। যেহেতু রাস্তা চতুষ্পদ জন্তু ও বিষাক্ত কীট (অর্থাৎ কেন্নো, সরীসৃপ জাতীয় প্রাণী ইত্যাদির চলাচলের স্থান।" -মিশকাত শরীফ
চিন্তা করে দেখুন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের কোন কোন দিকে এবং জিন্দেগীর কি কি ক্ষুদাতিক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে ভেবেছেন। সত্য কথা বলতে কি জীবনের এমন কোন দিক নাই যার সম্পর্কে আখেরী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কর্ম পদ্ধতি ও সুস্পষ্ট উপদেশ উপস্থিত নাই। ইসলামী শিক্ষার এ ব্যাপকতা দেখে কোন কোন ইসলাম বিরোধী বা বিধর্মী পর্যন্তও এ কথা মানতে বাধ্য যে, ইসলাম একটা পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। এটা শুধু মাত্র চারিত্রিক রীতিনীতি অথবা সঠিক ইবাদত বন্দেগীই শিক্ষা দেয় না।
ইরশাদ হচ্ছে, সফরে রাত্রি যাপনের প্রয়োজন হলে রাস্তা ছেড়ে প্রধান সড়ক থেকে দূরে সরে তাঁবু ফেলবে। কেননা এটা পোকামাকড়, গবাদি পশু এবং সাপ বিচ্ছুরও বিচরণের স্থান। যাতে এমন না হয় যে, গভীর ঘুমের মধ্যে এগুলির কোনটি দ্বারা কেউ আক্রান্ত হয় গেল। বস্তুতঃ এটাই হল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য যে, একে অপরের কাজে সাহায্যকারী ও সহানুভূতিশীল হবে এবং কেউ কারো চলার পথে বিঘ্ন ঘটাবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00