📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 কুষ্ঠ কাঠিন্যের প্রতিকার

📄 কুষ্ঠ কাঠিন্যের প্রতিকার


عَنْ سُرَاقَةَ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَمَرَنَا أَنْ نَتَوَكَّاءَ عَلَى الْيُسْرَى وَنَنْصِبَ اليَمَنى
"হযরত সুরাকা ইবনে মালেক (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন যে, আমরা যেন পায়খনার সময় বাম পায়ের উপর চাপ দেই এবং ডান পা খাড়া রাখি।" -তাবরানী
এবার আপনি একটু নিজের দৈহিক মেশিনারী অবস্থার চিত্রটি লক্ষ্য করুন। মানুষ আহার করার পর তার নির্যাস নিংড়িয়ে রক্ত মাংসের সাথে মিশে যায় এবং অবশিষ্ট অতিরিক্ত অংশ সমস্ত নাড়িভুঁড়ি হয়ে বাম দিকের নাড়িতে একত্রিত হয়ে থাকে। আর পায়খানার সময় এখান থেকেই মলের আকৃতিতে তা বের হয়।
চিকিৎসকগণ বলেন যে, যদি বাম পায়ের মাধ্যমে এই অতিরিক্ত খাদ্যাংশ ধারণকৃত নাড়ির উপর চাপ দেওয়া হয় তাহলে মল বের হওয়ার ব্যাপারে খুবই সহায়ক হয়। সমস্ত মল অতি সহজে বের হয়ে আসে। পাকস্থলী পরিষ্কার হয়। কুষ্ঠ-কাঠিন্য থাকে না। মন প্রফুল্ল হয়। মনের অস্থিরতা ও অশান্তি দূর হয়ে যায়। মানুষের মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ও উদ্যম সৃষ্টি হয়।
এখানে চিন্তার বিষয় হল এই যে, হযরত রসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবী ও রসূল হিসাবে প্রেরিত হয়েছিলেন। ডাক্তার ও চিকিৎসক হিসাবে তিনি আবির্ভূত হন নাই। তিনি কোন দিন এরূপ দাবীও করেন নাই। কিন্তু তাঁর প্রতিটি কথা হিকমত প্রজ্ঞা ও স্বভাবগত মৌল নীতিমালার সাথে শতকরা একশত ভাগই সামঞ্জস্যশীল। হবেই বা না কেন? একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, "প্রাজ্ঞ ব্যক্তির কোন কথাই প্রজ্ঞাশূন্য হয় না।" সর্বোপরি তিনি তো। ছিলেন অহী প্রাপ্ত। আল্লাহ তা'আলা স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোন কথা বলেন না।" -সূরা নাজমঃ আয়াত: ৩

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 প্রস্রাব ও পায়খানার আদব

📄 প্রস্রাব ও পায়খানার আদব


বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব জীবনের প্রতিটি শাখাতেই দিক-নির্দেশনা রেখে গেছেন। জীবনের এমন কোন দিক শাখা ও বিভাগ নাই যা হুযূর পাক (সঃ)-এর হেদায়াত থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে। প্রস্রাব পায়খানার কথাই ধরুন। এ বিষয়ে ডজন ডজন আহকাম বিদ্যমান রয়েছেন। এখানে আমরা জরুরী আহকাম সমূহের শুধুমাত্র সারাংশ পেশ করছি।
(১) হুযূর পাক (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ পায়খানার সময় বসে বাম পায়ের উপর অধিক জোর দেওয়া চাই। যেমন হযরত সুরাকা ইবনে মালেক (রাঃ)-এর রেওয়ায়াতে আছে যে, হূযূর (সাঃ)-আমাদেরকে হুকুম করেছেন যে, পায়খানায় বসার সময় আমরা যেন বাম পায়ের উপর জোর দেই এবং ডান পা খাড়া রাখি। -তাবরানী
আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি যে, চিকিৎসা শাস্ত্রের মতে ও এই পদ্ধতি কুষ্ঠ কাঠিন্যের একটি উত্তম প্রতিকার। কেননা, খাদ্যের নির্যাস শোধিত হয়ে যাওয়ার পর অবশিষ্ট অংশ অন্য সকল নাড়িভুঁড়ি দিয়ে অগ্রসর হয়ে বাম পাশের নাড়িতে জমা হতে থাকে। পায়খানার চাপ সৃষ্টি হলে এখান থেকে তা বের হয়। যদি বাম পায়ের দ্বারা এই নাড়ির উপর জোর দেওয়া হয় তাহলে বর্জাংশ সহজে বের হতে তা সহায়ক হয় এবং কুষ্ঠ কাঠিন্য থেকে মুক্ত থাকা যায়।
(২) পায়খানা করার পর ঢিলা ব্যবহার করার হুকুম রয়েছে। আগে ঢিলার দ্বারা পরিষ্কার করে পরে পানি ব্যবহার করতে হবে।
যারা পায়খানার পর পানি ব্যবহার না করে শুধুমাত্র টয়লেট পেপার দিয়ে পরিচ্ছন্ন হয় তাদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ-ব্যাধি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষতঃ এই সকল লোকদের মলদ্বারে এক প্রকার ফোঁড়া বের হয়ে থাকে। চিকিৎসা শাস্ত্রে এটাকে (PILONIDAL SINUS) বলা হয়। অপারেশন ছাড়া এই রোগের কোন চিকিৎসা নাই।
এতদ্ব্যতীত এই সকল লোকদের পেশাবের রাস্তায় পুঁজ হয়ে যায়। বিশেষ করে মহিলাদের পায়খানার ক্ষতিকর জীবাণু প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে মূত্রাশয় পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এতে মুত্রাশয়ে মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। কোন কোন সময় এই রোগ এমন অবস্থায় ধরা পড়ে যখন আর এর কোন চিকিৎসার সুযোগ থাকে না।
(৩) পেশাবের পরও মাটির ঢিলার ব্যবহার করা সুন্নতে নববী। অতঃপর পানির দ্বারা পবিত্রতা হাসিল করা অত্যাবশ্যক। এতদ্ব্যতীত নামায পড়া যায় না। এ কথার অর্থ হল এই যে, পরিপূর্ণ পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত নামাযের ন্যায় ইবাদতও কবুল হয় না। এজন্যেই বলা হয়েছে যে, পবিত্রতা ঈমানের অঙ্গ।
বর্তমান যুগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার উপর খুবই জোর দেওয়া হয়। বস্তুত এটা একটা জরুরী বিষয়। কিন্তু ইসলাম বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সাথে অভ্যন্তরীণ পাক পবিত্রতার প্রতিও তেমনি গুরুত্বারোপ করেছে। যদি মন পবিত্র না হয়ে শুধু তন উজালা হয় তাহলে এটা কি মানুষের কোন বৈশিষ্ট্য হবে? সুতরাং আত্মার পরিশুদ্ধতার জন্য দেহের পবিত্রতাও একান্ত জরুরী।
(৪) হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন বৃক্ষের ছায়ায় প্রস্রাব পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। হুযুরের এই নির্দেশর মধ্যে অসংখ্য হিকমত রয়েছে। বিশেষতঃ ছায়াযুক্ত গাছের নীচে মুসাফির ও পথচারীরা বিশ্রাম করে থাকে। এরূপ স্থানে প্রস্রাব পায়খানা করে নোংরা করা কোন ভাবেই শোভনীয় নয়।
(৫) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ
لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ
অর্থাৎ "তোমাদের কেউ যেন বন্ধ পানিতে পেশাব না করে।" -বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 লূ হাওয়া বা গরম বাতাস থেকে আত্মরক্ষা

📄 লূ হাওয়া বা গরম বাতাস থেকে আত্মরক্ষা


এক সাহাবী বর্ণনা করেন-
رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَعَلَيْهِ عِمَامَةً سَوْدَاءُ قَدْ أَرْخَى طَرَفَيْهَا بَيْنَ كَتِفَيْهِ
"আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিম্বরের উপর কাল পাগড়ী পরিহিত অবস্থায় দেখেছি। তখন পাগড়ীর দুই প্রান্ত তাঁর কাঁধের উপর ঝুলছিল। -মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ী
গ্রীষ্মকালে সব জায়গাতেই অন্যান্য সময়ের তুলনায় অধিক গরম পড়ে থাকে। বিশেষতঃ গ্রীষ্ম প্রধান দেশগুলিতে তো এই তাপমাত্রা অনেক বেশী বেড়ে যায়। তখন প্রচন্ড তাপের মৌসুমে রোদ্রে বের হলে শরীরে লু হাওয়া লেগে যায়। এটাকে HEAT STROKE বলে।
লু হাওয়া লাগার কারণে দেহের তাপমাত্রা ১০৬ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যায়। কোথাও কোথাও এই তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ১১০ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌছে যায়। ফলে নির্ঘাত মৃত্যু মুখে পতিত হয়।
দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার কেন্দ্র মানুষের মাথার পেছনের অংশ মস্তিষ্কে বিদ্যমান রয়েছে। তাই মাথা ও ঘাড়ের পেছনের অংশ ঢেকে রাখার দ্বারা এই দুর্বিপাক থেকে আত্মরক্ষা করা যেতে পারে। সুতরাং, হুযূর পাক (সাঃ) এমনভাবে পাগড়ী পরিধান করেছিলেন যেন মাথা ও ঘাড়ের পেছনের অংশ ঢেকে থাকে। আরব এলাকার লোকদের বর্তমান প্রচলিত পোষাকও স্বাস্থ্য রক্ষার একটি উত্তম পদ্ধতি। অর্থাৎ মাথায় রুমাল ও শরীরে ঢিলা-ঢালা জামা ব্যবহার। যা মাথা ও শরীরকে লু হাওয়ার আক্রমণ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ রাখে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 ছায়া ও রোদ্র

📄 ছায়া ও রোদ্র


মৌসুমের পরিবর্তনে স্বভাবের উপর প্রভাব পড়ে। সুতরাং প্রত্যেক মৌসুমের পরিবর্তনকালে মানুষের স্বভাব-প্রকৃতি প্রভাবিত হয়। তাই প্রকৃতিগত ভাবেই বসন্তের আগমনে আনন্দ উচ্ছ্বাস এবং বর্ষাকালে অলসতা ও মন্দাভাব দেখা দেয়। ঠিক এমনিভাবে হঠাৎ করে আবহাওয়া ও তাপমাত্রার পরিবর্তন মানুষের মন-মেজাজ ও স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তার করে। গ্রীষ্মকাল থেকে শীতকালে পদার্পণের সময় সর্দি লাগা এবং শীতকাল থেকে গ্রীষ্মকালে যাওয়ার সময় গরম লেগে যাওয়া একটি সাধারণ ব্যাপার।
মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে জনাব রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুভূতি অত্যন্ত তীব্র ছিল। তাই তিনি অতি সাধারণ বিষয়গুলির প্রতিও তীক্ষ্ণ নজর রেখেছেন এবং তাদের যথাযথ হেদায়াত দিয়েছেন।
হুযূরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও সম্মানিত সাহাবী হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেনঃ
قَالَ إِذَا كَانَ أَحَدُكُمْ فِي الْفَيِّ فَقَلَصَ عَنْهُ الظُّلُّ فَصَارَ بَعْضُهُ فِي الشَّمْسِ وَبَعْضُهُ فِي الظل فليقم
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যদি তোমাদের কেউ ছায়ার নীচে (বসা বা শুয়া অবস্থায়) থাকে। আর ছায়া তার থেকে দূরে সরে যায় এবং তার দেহের কিছু অংশ ছায়ায় আর কিছু অংশ রোদ্রে থাকে, এমতবস্থায় তার (সেখান থেকে) উঠে যাওয়া উচিৎ। অর্থাৎ অর্ধেক ছায়া ও অর্ধেক রোদে থাকবে না। হয়তো ছায়ায়ই বসবে অথবা রোদ্রেই বসবে।
এ বিষয়ে হযরত ইবনে বুরাইদা (রাযিঃ) কর্তৃক বর্ণিত রেওয়ায়াতটিও বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেনঃ
أَنْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَقْعُدَ الرَّجُلُ بَيْنَ الظَّلِّ وَالشَّمْسِ
“রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোদ ও ছায়ায় (অর্ধেক ছায়ায় ও অর্ধেক রোদে) বসতে নিষেধ করেছেন।” -জামে সগীর

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00