📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক

📄 গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক


গরুর দুধের উপকারিতা সকল জাতির মধ্যেই স্বীকৃত। কোন কোন কল্পনা পূজারী জাতিতো গরুকে উপাস্যের মর্যাদা দিয়ে রেখেছে। তারা গো পূজা করে থাকে। প্রাচীন মিসরীয় সম্প্রদায় এবং ভারতীয় হিন্দু সমাজ এদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আঃ) এর মাধ্যমে মিসরীয়দের হাতে গরু জবাই করিয়েছিলেন। আর এ ভাবেই বনী ইসরাঈলদের অন্তর থেকে গরুর পবিত্রতা ও এর উপাসনা করার ভ্রান্তি বিদূরীত হয়েছিল। ভারতীয় হিন্দুরা আজো গরুকে গোমাতা বলে এবং এর পূজা অর্চনায় লিপ্ত রয়েছে।
রাসূলে উম্মী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সবকিছু উৎসর্গিত হোক! তিনি গরুর বিভিন্ন উপকারিতার কথা বলেছেন। কিন্তু গরুকে পবিত্র মনে করে এটাকে পূজা করার কল্পিত ভূত ভেঙ্গে মিসমার করে দিেেছন। তিনি বুঝিয়েছেন যে, আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের মস্তক একমাত্র চরম সত্য ও পরম উপাস্য আল্লাহ তা'আলার সম্মুখেই নত হতে পারে। এই সমগ্র বিশ্বজগত, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষ-লতা, পশু-পাখি ও জীব-জন্তু মানুষের খেদমতের জন্য সৃস্টি করা হয়েছে। এগুলি মানুষের উপাস্য ও প্রভু হতে পারে না।
এবার গরুর উপকারীতা সম্পর্কিত হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী প্রত্যক্ষ করুন। হযরত সুহাইব (রাযিঃ) বলেন, পেয়ারা নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন:
عَلَيْكُمْ بِلَيْنِ الْبَقَرِ فَإِنَّهَا شِفَاءٌ وَسَمْنْهَا دَوَاء وَلَحُومُهَا دَاءً
'গাভীর দুধ তোমাদের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কেননা গরুর দুধ আরোগ্যদানকারী। এর ঘি হল ঔষধ স্বরূপ এবং এর গোশতের মধ্যে রোগ রয়েছে।'
চিন্তা করে দেখুন, এই তিনটি বিষয় আজো পর্যন্ত যথাস্থানে সঠিক ও স্বীকৃত সত্য হয়ে আছে। প্রাচ্য পশ্চাত্য সর্বত্রই আজো শিশুদেরকে মায়ের দুধের পর গরুর দুধই পান করানো হয়। কেননা এই দুধ তুলনামূলক হালকা ও দ্রুত পরিপাক হয়ে থাকে। তাছাড়া গরুর দুধ শক্তি বর্ধক এবং আরোগ্যদানকারীও বটে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 মধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী

📄 মধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী


মধুর কল্যাণ ও উপকারিতা সম্পর্কিত বিভিন্ন হাদীস চতুর্থ অধ্যায়ে উল্লেখিত হয়েছে। যেগুলিতে হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন রোগ-ব্যাধিতে মধুকে ঔষুধ হিসাবে ব্যবহার করার কথা বলেছেন। এখানে আমরা তাঁর এমন কয়টি বাণী পেশ করছি। যেগুলিতে তিনি মধুকে স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হিসাবে ব্যবহার করার জন্য তাকীদ করেছেন।
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘনিষ্ঠ ও সুপ্রসিদ্ধ সাহাবী হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন-
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَعَقَ الْعَسَلَ ثَلْثَ غَدُوةٍ فِي كُلِّ شَهْرٍ لَمْ يَصِبْهُ عَظِيمُ الْبَلَاءِ
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে তিন দিন সকালে মধু চাটিয়া খাবে, তার কোন বড় রোগ হবে না।" -মিশকাত শরীফ
এই বিষয়ে হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আরেকজন সম্মানিত সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন-
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْكُمْ بِالشَّفَاتَيْنِ الْعَسَلِ وَالْقُرْآنِ
"রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা দুটি শেফাদানকারী বস্তুকে নিজেদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করে নাও। একটি মধু, (আহার্যের মধ্যে) অপরটি কুরআন (কিতাব সমূহের মধ্যে)" -মিশকাত শরীফ
কারণ এর মধ্যে প্রথমটি (মধু) মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং দৈহিক রোগ-ব্যাধি শেফাদানে এক অব্যর্থ মহৌষধ। আর দ্বিতীয়টি দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতার গ্যারান্টি। বহু শতাব্দী ধরে মানুষ এই দুটি নুসখার দ্বারা উপকৃত হয়ে আসছে এবং আজো হচ্ছে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 রাস্তার প্রশস্ততা ও পরিচ্ছন্নতা

📄 রাস্তার প্রশস্ততা ও পরিচ্ছন্নতা


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اتَّقُوا اللَّاعِنَيْنِ قَالُوا وَمَا اللَّاعِنَانِ ؟ قَالَ الَّذِي يَتَخَلَّى فِي طَرِيقِ النَّاسِ أَوْ ظِلِّهِمْ .
হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, তোমরা অভিশম্পাতের দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাক। সাহাবায়ে কেরাম আরয করলেন, সেই দুটি কাজ কি? তিনি ইরশাদ করলেন, মানুষের চলার পথে (সড়কে) বা ছায়াযুক্ত স্থানে পায়খানা করা।" -মুসলিম শরীফ, রিয়াযুস সালেহীন
হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি আল্লাহর অসংখ্য দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক। তিনি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে খুবই ভালবাসতেন। পাক-পবিত্রতার প্রতি তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। কারণ এই দু'টি বিষয় শুধু স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যই জরুরী নয় বরং আধ্যাত্মিক উৎকর্ষতা ও বাতেনী স্বচ্ছতার জন্যও তেমনি অপরিহার্য।
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো ইরশাদ করেছেনঃ
اجْعَلُو الطَّرِيقَ سَبْعَةَ اَذْرُعٍ
"রাস্তা ও গলি সাত হাত প্রশস্ত রেখো।"-আবূ দাউদ, ইবনে মাজাহ
হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্মাণ বিদ্যা শিখানোর জন্য আগমন করেন নাই। তিনি শহরের পরিকল্পনাবিদ বা এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞও ছিলেন না। তিনি ছিলেন নবুওয়াতের মহান মর্যাদায় অভিষিক্ত। তাঁর আগমন ঘটেছিল মানবতার মহান শিক্ষকরূপে। কিন্তু এতদসত্ত্বেও জীবনের কোন একটি দিকও তাঁর দৃষ্টি থেকে আড়ালে ছিল না। তিনি রাস্তা ও গলি পথকে প্রশস্ত রাখতে বলে নগর প্রকৌশলী ও পরিকল্পনাবিদদেরকেও তাঁর দিক নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত রাখেন নাই।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 বদ্ধ পানিতে প্রস্রাবের নিষিদ্ধতা

📄 বদ্ধ পানিতে প্রস্রাবের নিষিদ্ধতা


عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، نَهَى أَنْ تَبَالَ فِي الْمَاءِ الرَّاكِدِ
হযরত জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রশ্রাব করতে নিষেধ করেছেন।" -রিয়াযুস সালেহীন, মুসলিম শরীফ
এ কথা তো সকলেরই জানা আছে যে, প্রবাহিত পানি পাক। তা নদী, সমুদ্র, নহর বা ঝর্ণা যাই হোক- এ গুলোর পানি পাক। এমনিভাবে পুকুর বা বড় হাউজের বদ্ধ পানিও পাক হয়ে থাকে। এই বড়র পরিমাপ, দৈর্ঘ প্রস্ত ও গভীরতায় ন্যূনতম কতটুকু হতে হবে, ফিকাহবিদগণ তা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। প্রচলিত ভাষায় যাকে 'দাহ দাদাহ' বলা হয়।
বদ্ধ পানি পাক হওয়ার জন্য শর্ত হল এই যে, পানির রঙ গন্ধ ও স্বাদ পরিবর্তন না হতে হবে। অন্যভাবে কথাটাকে এভাবেও বলা যায় যে, পানির পরিমাণ বেশী হবে এবং মাটি বা অন্য কিছুর সংমিশ্রণের দ্বারা পানির আসল অবস্থায় পরিবর্তন না আসতে হবে।
একথা স্পষ্ট যে, হাউজ বা পুকুরের অধিক পানিতে পেশাব করার দ্বারা না পানির রঙ বদলাবে, না স্বাদ নষ্ট হবে। আর না দুর্গন্ধ সৃষ্টি হবে। এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে এই পানি নাপাকও হবে না। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়াসাল্লামের স্বভাবগত রুচিবোধ ও পরিচ্ছন্নতা এটাকে পছন্দ করে নাই যে, কেউ বন্ধ পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করুক আর তা অন্য লোকদের জন্য কষ্ট ও বিরক্তির উদ্রেক হোক। কেননা শুধু আইনের ধারা রক্ষা করে চললেই জীবন সুখময় হয়ে উঠে না এবং হৃদয়ের প্রশান্তি অর্জিত হয় না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00