📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 মেসওয়াক ও নববী আদর্শ

📄 মেসওয়াক ও নববী আদর্শ


মেসওয়াক সম্পর্কে আপনারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি বাণী পাঠ করেছেন। এবার আপনারা তাঁর ব্যক্তিগত আমল দেখুন। যা আমাদের সকলের জন্য নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম আদর্শ ও একমাত্র নমুনা।
(এক) হযরত সুরাইহ ইবনে হানী (রাযিঃ) বলেনঃ
قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ بِالسَّوَاكِ
"আমি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি কাজ করতেন? তিনি জওয়াব দিলেন, সর্বপ্রথম তিনি মেসওয়াক করতেন।"-রিয়াযুস সালেহীন
قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ النَّوْمِ يَسُوصُ فَاهُ بالسواك
(দুই) "হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ পরিষ্কার করতেন।" বুখারী ও মুসলিম
(তিন) তৃতীয় হাদীসটিও হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন-
كنا نعد لرسول الله صلى الله عليه وسلم سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء أن يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضأ ويصلى
"আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মেসওয়াক ও অযুর পানি তৈরী করে রেখে দিতাম। রাতে আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন তখন উঠে তিনি মেসওয়াক করে অযু করতেন ও নামায পড়তেন।"- মুসলিম শরীফ
উপরোক্ত তিনটি পবিত্র হাদীসের আলোকে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন! হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেসওয়াকের প্রতি কিরূপ গুরুত্ব দিতেন!

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 মুখের পরিচ্ছন্নতা

📄 মুখের পরিচ্ছন্নতা


طهروا افواهكم
"তোমারা মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখ।"-বায্যার
মুখ পরিষ্কার রাখার বড় মাধ্যম ও পন্থা হল দাঁত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। যদি দাঁত পরিষ্কার না থাকে বা দাঁতে কোন প্রকার রোগ-ব্যাধি থাকে তবে তা দেখতেই শুধু অপরিষ্কার ও বিশ্রী দেখায় না। বরং এ থেকে দুর্বিষহ দুর্গন্ধও বের হয়। যদ্বারা পাশের লোকেরা ক্ষুব্ধ হয় এবং তিরস্কার করে। তাই এ বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম হেদায়েত তো এই দিয়েছেন যে-
مَنْ أَكَلَ فَلْيَتَخَلَّلٌ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি খানা খাবে সে যেন খেলাল করে। (দারামী) খেলাল করার দ্বারা দাঁতের গোড়ায় আটকে যাওয়া খাদ্যাংশ বের হয়ে যাবে, যা মুখ দুর্গন্ধযুক্ত ও দাঁত খারাপ করে।
এ প্রসঙ্গে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি ইরশাদ হল এই যে,
بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَبَعْدَهُ
অর্থাৎ "আহারের আগে এবং আহারের পর অযু করার দ্বারা খানায় বরকত হয়।" -আবূ দাউদ, তিরমিযী
খানার আগে পরে অযু করার অর্থ হল হাত ধোয়া ও কুল্লি করা। যা মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখার অপর একটি বিশেষ পন্থা।
দাঁত ও মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে হুযুর (সাঃ)-এর তৃতীয় ইরশাদ এবং তাঁর সমগ্র জীবনের অন্যতম একটি আমল হল মেসওয়াক। মেসওয়াক সম্পর্কে আমরা পূর্বে বিভিন্ন হাদীস উদ্ধৃত করেছি। এখানে এই বিষয়ে আরো একটি হাদীস সংযোজন করা হল। হাদীসটি বুখারী, মুসলিম এবং নাসায়ী শরীফে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্ণিত হয়েছে যে,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَاكُ عَرْضًا
অর্থাৎ "হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতের প্রস্থে মেসওয়াক করতেন।" এভাবে মেসওয়াক করার দ্বারা দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয় না এবং দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার সুন্দর ও ঝকঝকে থাকে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 খাৎনা বহু রোগের প্রতিরোধক

📄 খাৎনা বহু রোগের প্রতিরোধক


عَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَّا حَسَن وَ حُسَيْنِ وَمُحْسِن فَإِنَّمَا سَمَّاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَى عَنْهُمْ وَحَلَقَ رُؤسَهُمْ وَتَصَدَّقَ وَأَمَرَ بِأَنْ يَخْتَتِنُوا
"হযরত আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হাসান, হোসাইন ও মুহাসসিনের নামে রেখেছেন, তাদের আকীকা করেছেন। তাদের মাথা মুন্ডিয়েছেন। তাদের সদকা দিয়েছেন এবং তাদের খাৎনা করিয়েছেন। তাবরানী
খাৎনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটা এমন এক সুন্নত যার মর্যাদা ওয়াজিবের সন্নিকটবর্তী। ইসলামে এর একটি বিশেষ ও মৌলিক স্থান নির্ধারিত রয়েছে। এ জন্যই সাধারণ মানুষের পরিভাষায় খান্নাকে মুসলমানী নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে এবং এটাকে মুসলমান হওয়ার নিদর্শন হিসাবে কল্পনা করা হয়। খাৎনা কেবলমাত্র একটি রুসম বা প্রথা নয়। বরং এটা বহু কল্যাণ সম্বলিত একটি সুন্নত। অপরদিকে যারা খাৎনা করেনা তাদের মধ্যে নিম্নোক্ত রোগ-ব্যাধিগুলি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
(১) গুপ্তাঙ্গের বাড়তি চামড়া না কাটার কারণে এই অতিরিক্ত চামড়ায় এক প্রকার বিষাক্ত পুঁজ জমা হয়ে যায়। যা বেশ কয়েকটি রোগের কারণ হয়।
(২) বাড়তি চামড়ার পুঁজের দ্বারা এক প্রকার ক্ষতরোগের সৃষ্টি হয়। স্বামীর মাধ্যমে স্ত্রীর মধ্যেও এই ক্ষতরোগ সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থাকে।
(৩) সাধারণতঃ গুপ্তাঙ্গে ব্যথা ও জ্বালা পোড়া সৃষ্টি হয়ে থাকে।
(৪) প্রায়শই এমন হয় যে, খাৎনা না করার দরুন বাড়তি চামড়া গুপ্তাংগের আগার নরম অংশের সাথে মিলিত হয়ে যায়। এতে প্রস্রাবে বাধার সৃষ্টি হয়। এই প্রতিবন্ধকতা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয় এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ-ব্যাধির উপসর্গ সৃষ্টির কারণ হয়। (ইসলাম ও তিব্বে জাদীদ থেকে সংগৃহীত)।
ভেবে দেখুন! ইসলামী শিক্ষার এমন কোন্ দিক রয়েছে যা সর্বোতোভাবে কল্যাণকর নয়। এবং এমন কোন্ খারাবী, অকল্যাণ ও কষ্ট নাই যাতে ইসলামের হুকুম আহকাম ও বিধি বিধান মেনে না চলার কারণে পতিত হতে হয় না?

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান 📄 গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক

📄 গরুর দুধ স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক


গরুর দুধের উপকারিতা সকল জাতির মধ্যেই স্বীকৃত। কোন কোন কল্পনা পূজারী জাতিতো গরুকে উপাস্যের মর্যাদা দিয়ে রেখেছে। তারা গো পূজা করে থাকে। প্রাচীন মিসরীয় সম্প্রদায় এবং ভারতীয় হিন্দু সমাজ এদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আঃ) এর মাধ্যমে মিসরীয়দের হাতে গরু জবাই করিয়েছিলেন। আর এ ভাবেই বনী ইসরাঈলদের অন্তর থেকে গরুর পবিত্রতা ও এর উপাসনা করার ভ্রান্তি বিদূরীত হয়েছিল। ভারতীয় হিন্দুরা আজো গরুকে গোমাতা বলে এবং এর পূজা অর্চনায় লিপ্ত রয়েছে।
রাসূলে উম্মী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সবকিছু উৎসর্গিত হোক! তিনি গরুর বিভিন্ন উপকারিতার কথা বলেছেন। কিন্তু গরুকে পবিত্র মনে করে এটাকে পূজা করার কল্পিত ভূত ভেঙ্গে মিসমার করে দিেেছন। তিনি বুঝিয়েছেন যে, আশরাফুল মাখলুকাত মানুষের মস্তক একমাত্র চরম সত্য ও পরম উপাস্য আল্লাহ তা'আলার সম্মুখেই নত হতে পারে। এই সমগ্র বিশ্বজগত, পাহাড়-পর্বত, বৃক্ষ-লতা, পশু-পাখি ও জীব-জন্তু মানুষের খেদমতের জন্য সৃস্টি করা হয়েছে। এগুলি মানুষের উপাস্য ও প্রভু হতে পারে না।
এবার গরুর উপকারীতা সম্পর্কিত হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী প্রত্যক্ষ করুন। হযরত সুহাইব (রাযিঃ) বলেন, পেয়ারা নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেন:
عَلَيْكُمْ بِلَيْنِ الْبَقَرِ فَإِنَّهَا شِفَاءٌ وَسَمْنْهَا دَوَاء وَلَحُومُهَا دَاءً
'গাভীর দুধ তোমাদের জন্য অপরিহার্য করে নাও। কেননা গরুর দুধ আরোগ্যদানকারী। এর ঘি হল ঔষধ স্বরূপ এবং এর গোশতের মধ্যে রোগ রয়েছে।'
চিন্তা করে দেখুন, এই তিনটি বিষয় আজো পর্যন্ত যথাস্থানে সঠিক ও স্বীকৃত সত্য হয়ে আছে। প্রাচ্য পশ্চাত্য সর্বত্রই আজো শিশুদেরকে মায়ের দুধের পর গরুর দুধই পান করানো হয়। কেননা এই দুধ তুলনামূলক হালকা ও দ্রুত পরিপাক হয়ে থাকে। তাছাড়া গরুর দুধ শক্তি বর্ধক এবং আরোগ্যদানকারীও বটে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px