📄 মেসওয়াক
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -۱
اكثرت عليكم في السواك
হাদীস-১ হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হযরত রাসূলু মাকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমি তোমাদেরকে বেশী বেশী মেসওয়াক করার নির্দেশ দিচ্ছি।"-বুখারী শরীফ
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ الله عنها أن النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السواك -২
مطهرة للفم مرضاة للرب
হাদীস-২ হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন মেসওয়াক মুখের পবিত্রতাকারী এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।"-নাসায়ী
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي أَوْ عَلَى النَّاسِ لَا مُرْتُهُمْ بِالسَّوَاكِ مَعَ كُلِّ صَلُوةٍ
হাদীস-৩ হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যদি আমার এরূপ ধারনা না হত যে, এই বিষয়টি আমার উম্মতের উপর (অথবা বলেছেন যে লোকদের উপর) কঠিন হয়ে যাবে তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রত্যেক নামাযের জন্য (অযুর সাথে) মেসওয়াক করার হুকুম দিতাম। -বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ
এখানে আপনারা মেসওয়াক সম্পর্কে হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তিনটি বাণী পাঠ করেছেন। এগুলি হল এতদ্বসম্পর্কিত হুযূরের বহু হাদীসের মধ্যে কয়েকটি নমুনামাত্র। এ ব্যাপারে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার এবং অনেক বেশী বেশী তাকীদ করেছেন। যেমন আপনারা একটু আগেই তাঁর ইরশাদ পড়েছেন যে, তোমরা বেশী বেশী মেসওয়াক কর। মেসওয়াক মুখকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র করে। আর এ কথা কারো অজানা নয় যে, মেসওয়াক দাঁত পরিষ্কার রাখার একটি সর্বোত্তম মাধ্যম। মেসওয়াক না করলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ আসে। দাঁত অপরিষ্কার হয়ে যায়। আর এর প্রভাব সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে পতিত হয়। এই কারণে শুধুমাত্র পরিপাক শক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং বিভিন্ন প্রকারের ব্যথা ও রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। অতএব, মেসওয়াক মূলতঃ আমাদের নিজেদেরই কল্যাণ বয়ে আনে। আর এর মাধ্যমে মুফতে আমাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জিত হয়ে যায়।
📄 মেসওয়াক ও নববী আদর্শ
মেসওয়াক সম্পর্কে আপনারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কয়েকটি বাণী পাঠ করেছেন। এবার আপনারা তাঁর ব্যক্তিগত আমল দেখুন। যা আমাদের সকলের জন্য নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম আদর্শ ও একমাত্র নমুনা।
(এক) হযরত সুরাইহ ইবনে হানী (রাযিঃ) বলেনঃ
قُلْتُ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا بِأَيِّ شَيْءٍ كَانَ يَبْدَأُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ بَيْتَهُ؟ قَالَتْ بِالسَّوَاكِ
"আমি হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাযিঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম কি কাজ করতেন? তিনি জওয়াব দিলেন, সর্বপ্রথম তিনি মেসওয়াক করতেন।"-রিয়াযুস সালেহীন
قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ النَّوْمِ يَسُوصُ فَاهُ بالسواك
(দুই) "হযরত হুযাইফা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে, রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ঘুম থেকে জাগতেন তখন মেসওয়াক দিয়ে তাঁর মুখ পরিষ্কার করতেন।" বুখারী ও মুসলিম
(তিন) তৃতীয় হাদীসটিও হযরত আয়েশা (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন-
كنا نعد لرسول الله صلى الله عليه وسلم سواكه وطهوره فيبعثه الله ما شاء أن يبعثه من الليل فيتسوك ويتوضأ ويصلى
"আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য তাঁর মেসওয়াক ও অযুর পানি তৈরী করে রেখে দিতাম। রাতে আল্লাহ তা'আলা যখন তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন তখন উঠে তিনি মেসওয়াক করে অযু করতেন ও নামায পড়তেন।"- মুসলিম শরীফ
উপরোক্ত তিনটি পবিত্র হাদীসের আলোকে গভীরভাবে চিন্তা করে দেখুন! হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেসওয়াকের প্রতি কিরূপ গুরুত্ব দিতেন!
📄 মুখের পরিচ্ছন্নতা
طهروا افواهكم
"তোমারা মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখ।"-বায্যার
মুখ পরিষ্কার রাখার বড় মাধ্যম ও পন্থা হল দাঁত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা। যদি দাঁত পরিষ্কার না থাকে বা দাঁতে কোন প্রকার রোগ-ব্যাধি থাকে তবে তা দেখতেই শুধু অপরিষ্কার ও বিশ্রী দেখায় না। বরং এ থেকে দুর্বিষহ দুর্গন্ধও বের হয়। যদ্বারা পাশের লোকেরা ক্ষুব্ধ হয় এবং তিরস্কার করে। তাই এ বিষয়ে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম হেদায়েত তো এই দিয়েছেন যে-
مَنْ أَكَلَ فَلْيَتَخَلَّلٌ
অর্থাৎ যে ব্যক্তি খানা খাবে সে যেন খেলাল করে। (দারামী) খেলাল করার দ্বারা দাঁতের গোড়ায় আটকে যাওয়া খাদ্যাংশ বের হয়ে যাবে, যা মুখ দুর্গন্ধযুক্ত ও দাঁত খারাপ করে।
এ প্রসঙ্গে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেকটি ইরশাদ হল এই যে,
بَرَكَةُ الطَّعَامِ الْوُضُوءُ قَبْلَهُ وَبَعْدَهُ
অর্থাৎ "আহারের আগে এবং আহারের পর অযু করার দ্বারা খানায় বরকত হয়।" -আবূ দাউদ, তিরমিযী
খানার আগে পরে অযু করার অর্থ হল হাত ধোয়া ও কুল্লি করা। যা মুখ ও দাঁত পরিষ্কার রাখার অপর একটি বিশেষ পন্থা।
দাঁত ও মুখ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে হুযুর (সাঃ)-এর তৃতীয় ইরশাদ এবং তাঁর সমগ্র জীবনের অন্যতম একটি আমল হল মেসওয়াক। মেসওয়াক সম্পর্কে আমরা পূর্বে বিভিন্ন হাদীস উদ্ধৃত করেছি। এখানে এই বিষয়ে আরো একটি হাদীস সংযোজন করা হল। হাদীসটি বুখারী, মুসলিম এবং নাসায়ী শরীফে সংরক্ষিত রয়েছে। বর্ণিত হয়েছে যে,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَاكُ عَرْضًا
অর্থাৎ "হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতের প্রস্থে মেসওয়াক করতেন।" এভাবে মেসওয়াক করার দ্বারা দাঁতের মাড়ি ক্ষয় হয় না এবং দাঁত সম্পূর্ণ পরিষ্কার সুন্দর ও ঝকঝকে থাকে।
📄 খাৎনা বহু রোগের প্রতিরোধক
عَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَّا حَسَن وَ حُسَيْنِ وَمُحْسِن فَإِنَّمَا سَمَّاهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَى عَنْهُمْ وَحَلَقَ رُؤسَهُمْ وَتَصَدَّقَ وَأَمَرَ بِأَنْ يَخْتَتِنُوا
"হযরত আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে হাসান, হোসাইন ও মুহাসসিনের নামে রেখেছেন, তাদের আকীকা করেছেন। তাদের মাথা মুন্ডিয়েছেন। তাদের সদকা দিয়েছেন এবং তাদের খাৎনা করিয়েছেন। তাবরানী
খাৎনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। এটা এমন এক সুন্নত যার মর্যাদা ওয়াজিবের সন্নিকটবর্তী। ইসলামে এর একটি বিশেষ ও মৌলিক স্থান নির্ধারিত রয়েছে। এ জন্যই সাধারণ মানুষের পরিভাষায় খান্নাকে মুসলমানী নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে এবং এটাকে মুসলমান হওয়ার নিদর্শন হিসাবে কল্পনা করা হয়। খাৎনা কেবলমাত্র একটি রুসম বা প্রথা নয়। বরং এটা বহু কল্যাণ সম্বলিত একটি সুন্নত। অপরদিকে যারা খাৎনা করেনা তাদের মধ্যে নিম্নোক্ত রোগ-ব্যাধিগুলি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থাকে।
(১) গুপ্তাঙ্গের বাড়তি চামড়া না কাটার কারণে এই অতিরিক্ত চামড়ায় এক প্রকার বিষাক্ত পুঁজ জমা হয়ে যায়। যা বেশ কয়েকটি রোগের কারণ হয়।
(২) বাড়তি চামড়ার পুঁজের দ্বারা এক প্রকার ক্ষতরোগের সৃষ্টি হয়। স্বামীর মাধ্যমে স্ত্রীর মধ্যেও এই ক্ষতরোগ সংক্রমিত হওয়ার আশংকা থাকে।
(৩) সাধারণতঃ গুপ্তাঙ্গে ব্যথা ও জ্বালা পোড়া সৃষ্টি হয়ে থাকে।
(৪) প্রায়শই এমন হয় যে, খাৎনা না করার দরুন বাড়তি চামড়া গুপ্তাংগের আগার নরম অংশের সাথে মিলিত হয়ে যায়। এতে প্রস্রাবে বাধার সৃষ্টি হয়। এই প্রতিবন্ধকতা অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয় এবং বিভিন্ন প্রকার রোগ-ব্যাধির উপসর্গ সৃষ্টির কারণ হয়। (ইসলাম ও তিব্বে জাদীদ থেকে সংগৃহীত)।
ভেবে দেখুন! ইসলামী শিক্ষার এমন কোন্ দিক রয়েছে যা সর্বোতোভাবে কল্যাণকর নয়। এবং এমন কোন্ খারাবী, অকল্যাণ ও কষ্ট নাই যাতে ইসলামের হুকুম আহকাম ও বিধি বিধান মেনে না চলার কারণে পতিত হতে হয় না?