📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্যের জন্য দু’আ

📄 স্বাস্থ্যের জন্য দু’আ


তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এক বদরী সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামাযের পর কিসের দুআ করব? রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
سَلِ اللَّهُ الْعَافِيَةَ
"আল্লাহ তা'আলার নিকট স্বাস্থ্য ও সুস্থতার দুআ করবে।" অতঃপর সাহাবী আবারও এই একই প্রশ্ন করলে হুযূর (সাঃ) পুনরায় তাকে বললেনঃ
اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
"তুমি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য দুআ করবে।"-তিরমিযী শরীফ
এটা 'তো হলে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী একজন সাহাবীকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ ও শিক্ষা। এবার হযরত আব্বাস (রাযিঃ)-এর প্রতি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশবাণী লক্ষ্য করুন, তিনি ইরশাদ করেন:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
"হে আব্বাস! হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আপনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রার্থনা করুন।"
আল্লাহ! আল্লাহ! স্বাস্থ্য কত বড় নিয়ামত যে, আখিরী নবীর মর্যাদায় অভিষিক্ত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার এই স্বাস্থের জন্য দুআ করার উপদেশ ও তালীম দিয়েছেন। যদি সাহাবী অন্য দুআর কথাও জিজ্ঞাসা করেছেন, তবুও তিনি সেই স্বাস্থের জন্য দুআ করার বিষয়টিই পুনরুল্লেখ করেছেন। এতদসত্ত্বেও যদি আমরা স্বাস্থের কদর ও মর্যাদা না বুঝি এবং নিজের ও অন্যান্যদের স্বাস্থের প্রতি লক্ষ্য না রাখি, স্বাস্থের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় না করি তাহলে এটা নিয়ামত অস্বীকার করার চেয়ে কোন অংশেই কম হবে না। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত অস্বীকার করার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে। নিয়ামতের অমর্যাদাকারী ও অকৃতজ্ঞদের প্রতি কখনও সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয় না।
হুযুর সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার নিয়ামত সমূহের মধ্যে কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম যে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে তা হল-
اَلَمْ نُصِحَ لَكَ جِسْمَكَ
"আমি কি তোমাকে দৈহিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দান করেছিলাম না?"
-তিরমিযী শরীফ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্যের জন্য হুযুর (সাঃ)-এর দুআ

📄 স্বাস্থ্যের জন্য হুযুর (সাঃ)-এর দুআ


সরওয়ারে কায়েনাত হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় মাওলা পাকের দরবারে স্বাস্থ্য, সুস্থ্যতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যে সকল দুআ করেছেন সেগুলির মধ্যে চিন্তা করে দেখুন। আমরা এখানে তাঁর বহু দু'আর মধ্যে কেবল দুইটি দুআ অর্থসহ উপস্থাপন করছি।
নাসায়ী শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন:
اللهم إني اسألك العافية في الدنيا والآخرة
"ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের সুস্থতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করি।"
হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র যবানে প্রায় সর্বদাই এই দুআ উচ্চারিত হত:
اللهم إني اسألك صحة في إيمان وإيمانا فى حسن خلق ونجاحاً يتبعه فلاحاً ورحمة منك وعافية ومغفرة منك ورضواناً
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঈমানের সাথে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রার্থনা করি এবং উত্তম চরিত্রের সাথে ঈমান প্রার্থনা করি। এবং মুক্তি প্রার্থনা করি যারপর কামিয়াবী ও সফলতা নসীব হবে। আপনার রহমত প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট স্বাস্থ্য, সুস্থতা, শান্তি, নিরাপত্তা, ক্ষমা ও সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি।"
উপরোক্ত দুআ সমূহের দ্বারা এ কথা সুস্পষ্ট রূপে অনুমিত হয় যে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা আল্লাহ তা'আলার একটি মহান নিয়ামত। এটা এমন এক নিয়ামত যা আখিরী নবী (সাঃ) ও আল্লাহর নিকট বেশী বেশী চাইতেন। তাঁর বিশেষ দুআ সমূহের মধ্যে সর্বদাই তিনি এই দুআগুলিকেও শামিল রাখতেন। অতএব কতইনা উত্তম হয় যদি আপনিও এই দুআগুলি মুখস্থ করে নেন এবং নিজের দুআগুলির মধ্যে এগুলিকেও শামিল করে নেন! কেননা, দুআর দ্বারা একদিকে যেমন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা হয় অপরদিকে এতে বান্দার নিজের ইচ্ছা ও দৃঢ়তারও প্রকাশ ঘটে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্য ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার পাঁচটি মৌল বিধান

📄 স্বাস্থ্য ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার পাঁচটি মৌল বিধান


হযরত আবূ হুরাইরা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত:
قال الفطرة خمس أو خمس من الفطرة الختان والإستحداد وتقليم الأظفار، ونتف الإبط، وقص الشارب
"রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, স্বভাবজাত বিষয় পাঁচটি অথবা বলেছেন পাঁচটি বিষয় স্বভাবের অন্তর্গত-
১. খাতনা করা, ২. নাভীর নীচের পশম পরিষ্কার করা, ৩. নখ কাটা, ৪. বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং ৫. গোঁফ ছাঁটা।"
হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপরোক্ত বাণীতে পাঁচটি বিষয়কে মানব স্বভাবের সার বলা হয়েছে। এই বিষয় গুলি সুন্নাতে নববীর অন্তর্ভুক্ত। হুযূর আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগুলির উপর আমল করার জন্য কঠোর ভাবে তাকীদ করেছেন। এগুলির উপর আমল না করাকে মাকরূহ হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। সর্বোপরি তাঁর অপছন্দের কারণ বলেছেন।
চিন্তা করুন! এ পাঁচটি বিষয়ের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিচ্ছন্নতা ও পাক-পবিত্রতার কত উপকারিতা ও কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আর থাকবেই না বা কেন? বস্তুতঃ ইসলাম তো হল স্বভাবগতধর্ম। ইসলামের প্রতি আহবানকারী ও এর প্রবর্তক হলেন স্বভাবের সবচেয়ে প্রজ্ঞাবান ও সুবিজ্ঞ ব্যক্তি। তাঁর প্রতিটি কথা স্বভাবেরই প্রতিধ্বনি। তাঁর প্রতিটি কথা ও দিক নির্দেশনাই মানবীয় কল্যাণে ভরপুর।
এক. খাতনা হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর সুন্নত। চিকিৎসকগণ এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন যে, খাতনা করার দ্বারা মানুষ প্রস্রাব ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগ থেকে আপনা থেকেই নিরাপদ হয়ে যায়।
দুই. নাভীর নিম্নাংশের লোম যদিও বাহ্যত দৃষ্টিগোচর হয় না কিন্তু এগুলি পরিষ্কার না করার কারণে শুধু যে স্বভাবের মধ্যে বিষণ্ণতা পয়দা হয় তাই নয় বরং এর দ্বারা মনের মধ্যে মালিন্য ও অপবিত্রতা বৃদ্ধি পায়।
তিন. নখ কাটা শুধু হাতের পরিচ্ছন্নতা এবং বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্যই জরুরী নয়; বরং স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও তা অতিশয় জরুরী। যদি নখ কাটা না হয় তাহলে তা ময়লা ও আবর্জনার ভান্ডার হয়ে যায়।
চার. বগলের লোমগুলি যদি নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার করা না হয় তাহলে এতে চরম দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। যা পাশে বসা লোকেরাও অনুভব করে।
পাঁচ. হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোঁফ ছেটে ফেলার জন্যও খুবই তাকীদ করেছেন। কেননা যদি গোঁফ ছেটে রাখা না হয় তাহলে যে কোন পানীয় বস্তু নাপাক হয়েই কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্য রক্ষার চার নীতি

📄 স্বাস্থ্য রক্ষার চার নীতি


হযরত জাবের (রাযিঃ) হতে বর্ণিত:
غَطُّوا الْإِناءَ وَأَكُوا السَّقَاءَ، وَاغْلِقُوا الْأَبْوَابَ وَاطْفُوا السَّرَاجَ
"হযরত রাসূল আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা বরতন ঢেকে রাখবে, পানির কলসের মুখ বন্ধ করে রাখবে, দরজার অর্গল বন্ধ করে রাখবে এবং (ঘুমানোর পূর্বে) চেরাগ নিভিয়ে দেবে।" - মুসলিম শরীফ
এটা একটা সুদীর্ঘ হাদীস। আমরা এখানে কেবল হাদীসের প্রথম কিছু অংশ উদ্ধৃত করলাম। এতে হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বাস্থ্য রক্ষা বিষয়ক চারটি নীতি বর্ণনা করেছেন। হাদীসের পরবর্তী অংশে তিনি এ চারটি নীতির বিভিন্ন কারণ ও দর্শন বর্ণনা করেছেন। যেমনঃ
প্রথম নীতিঃ غطوا الاناء। বাসন-পত্র ঢেকে রাখা। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা যদি বাসনপত্র ঢেকে রাখ তাহলে শয়তানের পক্ষে সেগুলি খোলার সুযোগ হবে না। তিনি বলেছেন, যদি বাসন পত্র ঢেকে রাখার জন্য আর কিছু না পাও তাহলে বাসনপত্রের মুখে অন্তত কোন লাকড়ি বা খড়ির টুকরাই রেখে দিও। কেননা খোলা পাত্রে যে কোন পোকামাকড় ইত্যাদি ক্ষতিকর জিনিস পতিত হওয়ার আশংকা থাকে।
দ্বিতীয় নীতিঃ او كُوا السَّقَاء। কলস বা পানীয় পাত্রের মুখ বন্ধ রাখা। হুযুর (সাঃ) ইরশাদ করেছেন যে, তোমার যদি কলসের মুখ বন্ধ রাখার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন কর তাহলে শয়তান কলসের মুখ খোলার (এবং পানি নষ্ট করার) সুযোগ পাবে না।
তৃতীয় নীতি : غلقوا الابواب। ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখা। এভাবে তোমরা শয়তানের ঘরের ভেতর প্রবেশ করার সুযোগ নষ্ট করতে পারবে। নতুবা শয়তান তোমাদের গাফলতির সুযোগে ঘরে প্রবেশ করে তোমাদের অনেক অনিষ্ট করে ফেলতে পারে।
চতুর্থ নীতি: واطفوا السراج এবং বাতি নিভিয়ে দেওয়া। এ ব্যাপারে হুযূর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন যে, তোমরা যদি বাতি জ্বালিয়ে রেখেই ঘুমিয়ে পড়, তাহলে তোমাদের ঘুমন্ত অবস্থায় ইঁদুর বাতির আগুন থেকে ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। চিন্তা করে দেখুন, এই চারটি নীতি মানব জীবনের জন্য কত জরুরী!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00