📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্য আল্লাহর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত

📄 স্বাস্থ্য আল্লাহর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত


হাদীসের সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ নাসায়ী শরীফে বর্ণিত হয়েছে-
إِنَّ النَّاسَ لَمْ يُعْطُوا شَيْئًا أَفْضَلَ مِنَ الْعَفْوِ وَالْعَافِيَةِ
"নিশ্চয় মানুষকে স্বাস্থ্য ও সুস্থতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোন নিয়ামত দান করা হয় নাই।"
মহান আল্লাহ তা'আলার এই সুমহান অনুগ্রহের কিছুটা অনুমান হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর এক সাহাবীর মধ্যে অনুষ্ঠিত নিম্নোক্ত কথোপকথনের দ্বারা করা যেতে পারে।
হযরত আবু দারদা (রাযিঃ) বর্ণনা করেন, আমি আরয করলাম "ইয়া রাসূলাল্লাহ! যদি আমার স্বাস্থ্য ভাল থাকে এবং আমি সুস্থ থাকি তবে আমি শোকর আদায় করি। এই অবস্থাটি আমার নিকট সেই অবস্থার চেয়ে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় যে আমি অসুস্থতার দ্বারা পরীক্ষায় পতিত হই এবং ধৈর্য ধারণ করি।" (আমার এই কথা শ্রবণ করে) রাসূলে খোদা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেনঃ
وَرَسُولُ اللهِ يُحِبُّ مَعَكَ الْعَافِية
"আল্লাহর রাসূলও তোমার সাথে স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে পছন্দ করেন।" -তিববুন নববী: আলাউদ্দীন আল কাহ্হাল
চিন্তা করে দেখুন! স্বাস্থ্য আল্লাহর তাআলার কত বড় নিয়ামত যে, দয়াময় আল্লাহর প্রিয় হাবীব স্বয়ং এটাকে পছন্দ করেন ও ভালবাসেন। এজন্যেই আল্লাহর সেই সকল প্রিয়বান্দা যারা সর্বাবস্থাতেই সবর, ধৈর্য ও শোকর আদায় করাকে নিজেদের জন্য পরম সৌভাগ্যের ধন মনে করেন এবং অসুখ বিসুখকে দর্জা বুলন্দী ও উন্নতির মাধ্যম গণ্য করেন। তাদেরকেও অসুস্থতা থেকে সুস্থতার জন্য সাধারণত এরূপ বিনীত ভাষায় দুআ করতে দেখা যায় যে, "হে করুণাময় প্রভু! আপনি অসুস্থতার নিয়ামতকে সুস্থতার সুমহান নিয়ামত দ্বারা বদল করে দিন।" এরূপ দুআ তারা এ জন্যেই করে থাকেন যে, অসুখ-বিসুখে পতিত হয়ে সবর ও ধৈর্য ধারণ করা ওয়াজিব। আর সুস্থতার সময় শোকর করা ওয়াজিব। বস্তুতঃ শোকর আদায় করা সর্বাবস্থাতেই আফযল ও শ্রেষ্ঠ।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য

📄 স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য


قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّحَةُ وَالْفَرَاغُ نِعْمَتَانِ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ عَزَّ وَ جَلَّ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ
"হযরত রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ স্বাস্থ্য ও স্বাচ্ছন্দ্য মহান রাব্বুল আলামীনের নিয়ামত সমূহের মধ্যে দুটি (বিশেষ) নিয়ামত। অধিকাংশ লোক এই দুটি নিয়ামতের ব্যাপারে ক্ষতি ও ধোঁকায় পতিত রয়েছে।"-যাদুল মাআদ
বাক্য বিন্যাসের ক্ষেত্রে কিছু শব্দ অগ্রপশ্চাত হয়ে হাদীসটি বুখারী শরীফে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ
نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِّنَ النَّاسِ الصَّحَةُ وَالْفَرَاغُ
"সরওয়ারে কায়েনাত সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, দুটি নিয়ামত রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে অধিকাংশ লোক ধোকাগ্রস্ত হয়ে আছে। একটি স্বাস্থ্য এবং অপরটি স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বচ্ছলতা।"-সহীহ বুখারী শরীফ
এ ব্যাপারে সামান্যতম শোবা-সন্দেহ ও সংশয়ের অবকাশ নাই যে, পার্থিব ভোগ-বিলাসের লালসার কারণে অধিকাংশ লোক এই দুইটি নিয়ামতের ব্যাপারে চরম গাফলত ও উদাসিনতার শিকার হয়ে যায় এবং এই ধোঁকায় পতিত হয়ে যায় যে, স্বাস্থ্য সর্বদাই অটুট থাকবে এবং স্বাচ্ছন্দ ও স্বচ্ছলতা কখনও নিঃশেষ হবে না। অথচ এগুলি তো হল নিতান্তই সাময়িক জিনিস। যা আজ আছে তো কাল থাকবে না। বরং পরম সত্য তো হল এই যে, এক মুহূর্তেরও ভরসা-বিশ্বাস নাই।
সুতরাং মানুষের উপর একান্ত অপরিহার্য কর্তব্য হল এই যে, যদি স্বাস্থ্যের ন্যায় মহান নিয়ামত অর্জিত হয় তাহলে আল্লাহ তা'আলার শোকর আদায় করবে এবং এর যথাযথ যত্ন নিবে, মর্যাদা দিবে ও কদর করবে। যদি স্বচ্ছলতার দৌলত নসীব হয় তাহলে অস্বচ্ছলতার ও দারিদ্রাবস্থার চিন্তা করবে এবং এই স্বচ্ছলতা ও স্বাচ্ছন্দ্যকে আল্লাহ তা'আলার একটি বিশেষ নিয়ামত মনে করবে। কোনভাবেই গর্ব ও অহংকারের শিকার হবে না।

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্যের জন্য দু’আ

📄 স্বাস্থ্যের জন্য দু’আ


তিরমিযী শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, এক বদরী সাহাবী হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হয়ে আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! নামাযের পর কিসের দুআ করব? রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:
سَلِ اللَّهُ الْعَافِيَةَ
"আল্লাহ তা'আলার নিকট স্বাস্থ্য ও সুস্থতার দুআ করবে।" অতঃপর সাহাবী আবারও এই একই প্রশ্ন করলে হুযূর (সাঃ) পুনরায় তাকে বললেনঃ
اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
"তুমি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য দুআ করবে।"-তিরমিযী শরীফ
এটা 'তো হলে বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী একজন সাহাবীকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশ ও শিক্ষা। এবার হযরত আব্বাস (রাযিঃ)-এর প্রতি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপদেশবাণী লক্ষ্য করুন, তিনি ইরশাদ করেন:
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَبَّاسُ يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ
"হে আব্বাস! হে আল্লাহর রাসূলের চাচা! আপনি আল্লাহ তা'আলার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রার্থনা করুন।"
আল্লাহ! আল্লাহ! স্বাস্থ্য কত বড় নিয়ামত যে, আখিরী নবীর মর্যাদায় অভিষিক্ত হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বার বার এই স্বাস্থের জন্য দুআ করার উপদেশ ও তালীম দিয়েছেন। যদি সাহাবী অন্য দুআর কথাও জিজ্ঞাসা করেছেন, তবুও তিনি সেই স্বাস্থের জন্য দুআ করার বিষয়টিই পুনরুল্লেখ করেছেন। এতদসত্ত্বেও যদি আমরা স্বাস্থের কদর ও মর্যাদা না বুঝি এবং নিজের ও অন্যান্যদের স্বাস্থের প্রতি লক্ষ্য না রাখি, স্বাস্থের জন্য আল্লাহর শোকর আদায় না করি তাহলে এটা নিয়ামত অস্বীকার করার চেয়ে কোন অংশেই কম হবে না। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামত অস্বীকার করার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর হয়ে থাকে। নিয়ামতের অমর্যাদাকারী ও অকৃতজ্ঞদের প্রতি কখনও সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয় না।
হুযুর সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আল্লাহ তা'আলার নিয়ামত সমূহের মধ্যে কিয়ামতের দিন বান্দাকে সর্বপ্রথম যে নিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে তা হল-
اَلَمْ نُصِحَ لَكَ جِسْمَكَ
"আমি কি তোমাকে দৈহিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দান করেছিলাম না?"
-তিরমিযী শরীফ

📘 তিব্বে নববী বিশ্ব নবীর চিকিৎসা বিধান > 📄 স্বাস্থ্যের জন্য হুযুর (সাঃ)-এর দুআ

📄 স্বাস্থ্যের জন্য হুযুর (সাঃ)-এর দুআ


সরওয়ারে কায়েনাত হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় মাওলা পাকের দরবারে স্বাস্থ্য, সুস্থ্যতা, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য যে সকল দুআ করেছেন সেগুলির মধ্যে চিন্তা করে দেখুন। আমরা এখানে তাঁর বহু দু'আর মধ্যে কেবল দুইটি দুআ অর্থসহ উপস্থাপন করছি।
নাসায়ী শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করতেন:
اللهم إني اسألك العافية في الدنيا والآخرة
"ইয়া আল্লাহ! আমি আপনার নিকট দুনিয়া ও আখিরাতের সুস্থতা ও কল্যাণ প্রার্থনা করি।"
হযরত রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পবিত্র যবানে প্রায় সর্বদাই এই দুআ উচ্চারিত হত:
اللهم إني اسألك صحة في إيمان وإيمانا فى حسن خلق ونجاحاً يتبعه فلاحاً ورحمة منك وعافية ومغفرة منك ورضواناً
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঈমানের সাথে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা প্রার্থনা করি এবং উত্তম চরিত্রের সাথে ঈমান প্রার্থনা করি। এবং মুক্তি প্রার্থনা করি যারপর কামিয়াবী ও সফলতা নসীব হবে। আপনার রহমত প্রার্থনা করি এবং আপনার নিকট স্বাস্থ্য, সুস্থতা, শান্তি, নিরাপত্তা, ক্ষমা ও সন্তুষ্টি প্রার্থনা করি।"
উপরোক্ত দুআ সমূহের দ্বারা এ কথা সুস্পষ্ট রূপে অনুমিত হয় যে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা আল্লাহ তা'আলার একটি মহান নিয়ামত। এটা এমন এক নিয়ামত যা আখিরী নবী (সাঃ) ও আল্লাহর নিকট বেশী বেশী চাইতেন। তাঁর বিশেষ দুআ সমূহের মধ্যে সর্বদাই তিনি এই দুআগুলিকেও শামিল রাখতেন। অতএব কতইনা উত্তম হয় যদি আপনিও এই দুআগুলি মুখস্থ করে নেন এবং নিজের দুআগুলির মধ্যে এগুলিকেও শামিল করে নেন! কেননা, দুআর দ্বারা একদিকে যেমন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা হয় অপরদিকে এতে বান্দার নিজের ইচ্ছা ও দৃঢ়তারও প্রকাশ ঘটে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00