📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন

📄 নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন


নিজের নেক আমলগুলো যথাসম্ভব গোপন রাখাই উত্তম। সৌভাগ্যবান সেই সাত শ্রেণি, যাদেরকে আল্লাহ আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মধ্যে দুটো শ্রেণি হলো: যে এমনভাবে দান-সাদকা করে যে, তার ডান হাত কী দান করছে তা তার বাম হাত টের পায় না। আরেক শ্রেণি হলো, তারা নির্জন-নিরিবিলিতে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যায় অবিরতভাবে।১১৩
এদের কমন বৈশিষ্ট হলো, তারা গোপনে নেক আমল করতেন। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণা ও কিয়ামতের দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে আমলের চেয়ে সংগোপনে অধিক আমল করে। ১১৪
সাহাবাদের মধ্যে এটি ছিল একটি কমন বৈশিষ্ট্য। আবু বকর (রাদি) চুপে চুপে গিয়ে এক বৃদ্ধার খেদমত করে আসতেন এবং খাইয়ে দিতেন। জানতে পেরে উমার (রাদি)-ও তাকে অনুসরণ করতেন। আলি (রাদি) নিজ কাঁধে করে বস্তিবাসীদের নিকট খাবার পৌঁছাতেন অথচ তাদেরকে তিনি নিজের পরিচয় দিতেন না। যেদিন তিনি মারা যান, সেদিন তাঁর পিঠে দাগ দেখা যায়; সেটা দেখে এবং বস্তিবাসীর খাবারের জন্য হাহাকার দেখে সবাই বুঝতে পারে যে, তিনি এতদিন খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এমন উদাহরণ সাহাবা-তাবিঈদের মাঝে অসংখ্য।
ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, পূর্বসূরি নেককারদের একটি কমন বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা অন্তত একটি নেক আমলকে এতটাই গোপন রাখতেন যে, তাঁদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরাও জানতো না। সেটা এ-কারণে যে, যাতে অন্তত এই একটি আমলের ব্যাপারে পুরোপুরি পরিতুষ্ট থাকা যায়।
শায়খ আবদুল আজিজ আত-ত্বরিফি হাফি বলেন-
۱۱۵ اکتم حسناتك كما تكتم سيئاتك
এমনভাবে লুকিয়ে রাখো তোমার নেক আমলগুলো, যেভাবে তুমি তোমার মন্দ আমলগুলো লুকিয়ে রাখো।
নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন।
আমলের গোপনীয়তা যত বেশি হবে, ঈমানের দৃঢ়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। কেননা পেরেকের ভেতরটা যতটা গভীরে লুকিয়ে থাকবে, পেরেকের বাইরের অংশ ততটা মজবুত হবে।
কখনো কি দেখেছেন, বিরাট পেরেক সহজেই তুলে ফেলা হচ্ছে; অথচ ছোট পেরেক কিছুতেই উপড়ানো যাচ্ছে না! আসল রহস্যটা কিন্তু পেরেকের গোপন অংশে, যা মজবুতভাবে গভীরে গাঁtha আছে।
উল্লেখ্য যে, গোপন আমলে উৎসাহিত করছি মানে এই নয় যে, প্রকাশ্যে নেক আমল করা যাবে না। অবশ্যই করা যাবে। এর প্রমাণও সাহাবাদের মধ্যে অহরহ আছে। তবে গোপন আমল উত্তম। গোপন আমলে ইখলাস থাকে বেশি।

টিকাঃ
১১৩ সহিহ বুখারি: ১৪২৩, সহিহ মুসলিম: ১০০১
১১৪ তারতিবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরিবুল মাসালিক: ৫১/২
সিয়ার আলাম আন নুবালা, ৬/১০০

নিজের নেক আমলগুলো যথাসম্ভব গোপন রাখাই উত্তম। সৌভাগ্যবান সেই সাত শ্রেণি, যাদেরকে আল্লাহ আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মধ্যে দুটো শ্রেণি হলো: যে এমনভাবে দান-সাদকা করে যে, তার ডান হাত কী দান করছে তা তার বাম হাত টের পায় না। আরেক শ্রেণি হলো, তারা নির্জন-নিরিবিলিতে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যায় অবিরতভাবে।১১৩
এদের কমন বৈশিষ্ট হলো, তারা গোপনে নেক আমল করতেন। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণা ও কিয়ামতের দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে আমলের চেয়ে সংগোপনে অধিক আমল করে। ১১৪
সাহাবাদের মধ্যে এটি ছিল একটি কমন বৈশিষ্ট্য। আবু বকর (রাদি) চুপে চুপে গিয়ে এক বৃদ্ধার খেদমত করে আসতেন এবং খাইয়ে দিতেন। জানতে পেরে উমার (রাদি)-ও তাকে অনুসরণ করতেন। আলি (রাদি) নিজ কাঁধে করে বস্তিবাসীদের নিকট খাবার পৌঁছাতেন অথচ তাদেরকে তিনি নিজের পরিচয় দিতেন না। যেদিন তিনি মারা যান, সেদিন তাঁর পিঠে দাগ দেখা যায়; সেটা দেখে এবং বস্তিবাসীর খাবারের জন্য হাহাকার দেখে সবাই বুঝতে পারে যে, তিনি এতদিন খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এমন উদাহরণ সাহাবা-তাবিঈদের মাঝে অসংখ্য।
ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, পূর্বসূরি নেককারদের একটি কমন বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা অন্তত একটি নেক আমলকে এতটাই গোপন রাখতেন যে, তাঁদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরাও জানতো না। সেটা এ-কারণে যে, যাতে অন্তত এই একটি আমলের ব্যাপারে পুরোপুরি পরিতুষ্ট থাকা যায়।
শায়খ আবদুল আজিজ আত-ত্বরিফি হাফি বলেন-
۱۱۵ اکتم حسناتك كما تكتم سيئاتك
এমনভাবে লুকিয়ে রাখো তোমার নেক আমলগুলো, যেভাবে তুমি তোমার মন্দ আমলগুলো লুকিয়ে রাখো।
নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন।
আমলের গোপনীয়তা যত বেশি হবে, ঈমানের দৃঢ়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। কেননা পেরেকের ভেতরটা যতটা গভীরে লুকিয়ে থাকবে, পেরেকের বাইরের অংশ ততটা মজবুত হবে।
কখনো কি দেখেছেন, বিরাট পেরেক সহজেই তুলে ফেলা হচ্ছে; অথচ ছোট পেরেক কিছুতেই উপড়ানো যাচ্ছে না! আসল রহস্যটা কিন্তু পেরেকের গোপন অংশে, যা মজবুতভাবে গভীরে গাঁtha আছে।
উল্লেখ্য যে, গোপন আমলে উৎসাহিত করছি মানে এই নয় যে, প্রকাশ্যে নেক আমল করা যাবে না। অবশ্যই করা যাবে। এর প্রমাণও সাহাবাদের মধ্যে অহরহ আছে। তবে গোপন আমল উত্তম। গোপন আমলে ইখলাস থাকে বেশি।

টিকাঃ
১১৩ সহিহ বুখারি: ১৪২৩, সহিহ মুসলিম: ১০০১
১১৪ তারতিবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরিবুল মাসালিক: ৫১/২
সিয়ার আলাম আন নুবালা, ৬/১০০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00