📄 নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের সামনে বললেন, 'নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে গেলো।' সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! একাকী মানুষ কারা?' তিনি বলেন, 'আল্লাহর বেশি বেশি জিকরকারীগণ।'১০৫ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, তুমি যখন ইন্তেকাল করবে, তখনো তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকরে আর্দ্র থাকবে।'১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা যতক্ষণ আমার জিকর করে এবং আমার জন্য তার দুই ঠোঁট নাড়াচাড়া করে, ততক্ষণ আমি তার সঙ্গে থাকি।১০৭ ইমাম মুজাহিদ ইবনু জাবর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো বান্দা যখন তার হৃদয় দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাআলা তখন মুমিনদের হৃদয়গুলোকে তার দিকে অগ্রসর করে দেন।১০৮
মহান ব্যক্তি তাবিঈ আবু মুসলিম আল-খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ খুব বেশি বেশি জিকির করতেন। তাঁর জিহ্বা সবসময় আল্লাহর স্মরণে নড়তে থাকত। তাই এটা দেখে এক লোক একদিন তাঁর একজন সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করল, আপনার এই বন্ধু কি পাগল? আবু মুসলিম এটা শুনে উত্তর দিলেন, না ভাই, বরং এটা হচ্ছে পাগলামি থেকে বেঁচে থাকার উপায়।১০৯
ইমাম শাফেঈ (রহ) কাছে জানতে চাওয়া হলো, কীভাবে আপনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বললেন, আমি সেইভাবে ইলমের পিছনে ছুটেছি, যেভাবে একজন মা হারানো সন্তানকে খোঁজে।
নিঃসন্দেহে, আল্লাহর জিকরে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে একাকী হয়ে যান। কারণ, তাঁরা নিরিবিলিতে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। এতেই তাঁদের পরিতৃপ্তি।
টিকাঃ
১০৫. মুসলিম, আস-সহিহ: ৪/২০৬২
১০৬. বুখারি, আস-সহিহ: ১/৭২; ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩/৯৯
১০৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২/৫৪০; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ২/১২৪৬; হাদিসে কুদসিয়া
১০৮. আবু নুআইম আসবাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩/২৮০
১০৯. আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ, জাওয়াইদুজ জুহদ, পৃষ্ঠা: ৩৮৪
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের সামনে বললেন, 'নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে গেলো।' সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! একাকী মানুষ কারা?' তিনি বলেন, 'আল্লাহর বেশি বেশি জিকরকারীগণ।'১০৫ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, তুমি যখন ইন্তেকাল করবে, তখনো তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকরে আর্দ্র থাকবে।'১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা যতক্ষণ আমার জিকর করে এবং আমার জন্য তার দুই ঠোঁট নাড়াচাড়া করে, ততক্ষণ আমি তার সঙ্গে থাকি।১০৭ ইমাম মুজাহিদ ইবনু জাবর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো বান্দা যখন তার হৃদয় দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাআলা তখন মুমিনদের হৃদয়গুলোকে তার দিকে অগ্রসর করে দেন।১০৮
মহান ব্যক্তি তাবিঈ আবু মুসলিম আল-খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ খুব বেশি বেশি জিকির করতেন। তাঁর জিহ্বা সবসময় আল্লাহর স্মরণে নড়তে থাকত। তাই এটা দেখে এক লোক একদিন তাঁর একজন সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করল, আপনার এই বন্ধু কি পাগল? আবু মুসলিম এটা শুনে উত্তর দিলেন, না ভাই, বরং এটা হচ্ছে পাগলামি থেকে বেঁচে থাকার উপায়।১০৯
ইমাম শাফেঈ (রহ) কাছে জানতে চাওয়া হলো, কীভাবে আপনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বললেন, আমি সেইভাবে ইলমের পিছনে ছুটেছি, যেভাবে একজন মা হারানো সন্তানকে খোঁজে।
নিঃসন্দেহে, আল্লাহর জিকরে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে একাকী হয়ে যান। কারণ, তাঁরা নিরিবিলিতে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। এতেই তাঁদের পরিতৃপ্তি।
টিকাঃ
১০৫. মুসলিম, আস-সহিহ: ৪/২০৬২
১০৬. বুখারি, আস-সহিহ: ১/৭২; ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩/৯৯
১০৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২/৫৪০; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ২/১২৪৬; হাদিসে কুদসিয়া
১০৮. আবু নুআইম আসবাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩/২৮০
১০৯. আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ, জাওয়াইদুজ জুহদ, পৃষ্ঠা: ৩৮৪
📄 আল্লাহ কাকে হিফাজত করেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি আল্লাহর হেফাজত করো আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। যদি তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তখন তাকে তুমি তোমার পাশে পাবে।১১০
ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ হেফাজত করার অর্থ হলো আল্লাহ বিধি-নিষেধ মেনে চলা। যে এগুলো মেনে চলবে তারাই হলো আল্লাহর বিধান হিফাজতকারী। যাদের প্রশংসাই আল্লাহ কুরআন মাজিদে করছেন।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ
এটাই সেই ওয়াদা যা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী ও হিফাজতকারীর জন্য।
مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতো এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো। [সুরা ক্বাফ আয়াত : ৩২-৩৩]
ইমাম শাফি'ঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন— মানুষকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এবং মানুষের সমালোচনা থেকে বাঁচারও কোনো উপায় নেই। সুতরাং তুমি তোমার জন্য যা উপকারী তা আঁকড়ে ধরো। ১১১
ফুজাইল বিন ইয়াজকে একথা জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার নিকট কোন বিষয়টি অতিশয় গুরুতর মনে হয়? তিনি বলেন, এমন অন্তর যা প্রতিপালকের যথাযথ পরিচয় লাভের পরও তার অবাধ্য হয়।
টিকাঃ
১১০. সুনানে তিরমিজি ২৫১৬
১১১. আবু নুআইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৯/১৩০
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি আল্লাহর হেফাজত করো আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। যদি তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তখন তাকে তুমি তোমার পাশে পাবে।১১০
ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ হেফাজত করার অর্থ হলো আল্লাহ বিধি-নিষেধ মেনে চলা। যে এগুলো মেনে চলবে তারাই হলো আল্লাহর বিধান হিফাজতকারী। যাদের প্রশংসাই আল্লাহ কুরআন মাজিদে করছেন।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ
এটাই সেই ওয়াদা যা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী ও হিফাজতকারীর জন্য।
مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতো এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো। [সুরা ক্বাফ আয়াত : ৩২-৩৩]
ইমাম শাফি'ঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন— মানুষকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এবং মানুষের সমালোচনা থেকে বাঁচারও কোনো উপায় নেই। সুতরাং তুমি তোমার জন্য যা উপকারী তা আঁকড়ে ধরো। ১১১
ফুজাইল বিন ইয়াজকে একথা জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার নিকট কোন বিষয়টি অতিশয় গুরুতর মনে হয়? তিনি বলেন, এমন অন্তর যা প্রতিপালকের যথাযথ পরিচয় লাভের পরও তার অবাধ্য হয়।
টিকাঃ
১১০. সুনানে তিরমিজি ২৫১৬
১১১. আবু নুআইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৯/১৩০
📄 সালাফদের গোপনে ক্রন্দন সেবা
আমর ইবনে সাবিত রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন আলি ইবনুল হুসাইন রহিমাহুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাতি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ছেলে মারা গেলেন। লোকেরা তাকে গোসল দিতে লাগলো। তখন তারা তার পিঠে কীসের যেন কালো দাগ দেখতে পেলো। তারা উপস্থিত অন্যদেরকে জিজ্ঞেস করলো, উনার পিঠে এটি কিসের দাগ? তাঁর কাছের লোকেরা বলল, তিনি রাতের বেলা পিঠে আটার বস্তা নিয়ে বের হয়ে মদিনার গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। (এই বস্তা বহনের কারণে পিঠে দাগ পড়ে কালো হয়ে গেছে)। ১১২
মহান সালাফগণ দান করতেন গোপনে। তারা মানবসেবা করতেন গোপনে। তাদের প্রত্যেকটা আমল সিয়াম, কিয়ামুল লাইল, দান-সদকা সবগুলোই ছিল গোপনে। মহান সালাফগণ এমনভাবে ইবাদত করতেন, তাদের ঘরের স্ত্রীসন্তান পর্যন্ত জানতেন না।
মানবসেবা আমরাও করি, ইবাদত আমরাও করি কিন্তু এমনভাবে করি অনলাইন-অফলাইনে এ যেন প্রচার হয়, সবাই যেন আমাকে চিনে। আমি অমুক এত টাকা দান করেছি। এতজন মানুষকে খাবার খাইয়েছি। এমনও তো মাঝে মাঝে ফেসবুকে দেখা যায়, একজন ব্যক্তিকে দান করছে, সঙ্গে ১০/২০জন মানুষের ছবি তোলার জন্য হাত এগিয়ে দেয়। যেন সারাদেশের লোক আমাকে চিনে, আমার নাম হয়, লোকেরা যেন বলে যে, অমুক ব্যক্তি ও এত-কত টাকা দান করেছে। আমাকে নিয়ে যেন সবাই বড় কিছু ভাবে।
আল ইয়াজুবিল্লাহ!
আমল প্রচারকারী ব্যক্তির আমল তার মাথার ওপরে ওঠে না।
ইমাম ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ বলেন-নিজের একান্ত গোপন এমন কিছু আমল করুন, যেগুলো একদম কেউই জানবে না আপনি আর আপনার রব ছাড়া। এমনভাবে নিজের ভালো আমলগুলো গোপন রাখুন, যেভাবে চোর-ডাকাতের ভয়ে মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রাখেন।
ভালো কাজ করুন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, লোকের বাহবা পাওয়ার জন্য নয়।
আপনার নেক আমলসমূহ সেভাবে গোপন করুন, যেভাবে আপনার পাপকাজসমূহ লোকজন থেকে আড়ালে করেন। হায়! সেদিন কত বৃহৎ কাজ বরবাদ হয়ে যাবে, নিয়তে গোলমাল থাকার কারণে। আবার কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমল ও মিজানের পাল্লায় বিশাল ভারী হবে বিশুদ্ধ নিয়াতের কারণে।
টিকাঃ
১১২. সিফাতুস সফওয়াঃ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬
আমর ইবনে সাবিত রহিমাহুল্লাহ বলেন, যখন আলি ইবনুল হুসাইন রহিমাহুল্লাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নাতি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর ছেলে মারা গেলেন। লোকেরা তাকে গোসল দিতে লাগলো। তখন তারা তার পিঠে কীসের যেন কালো দাগ দেখতে পেলো। তারা উপস্থিত অন্যদেরকে জিজ্ঞেস করলো, উনার পিঠে এটি কিসের দাগ? তাঁর কাছের লোকেরা বলল, তিনি রাতের বেলা পিঠে আটার বস্তা নিয়ে বের হয়ে মদিনার গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতেন। (এই বস্তা বহনের কারণে পিঠে দাগ পড়ে কালো হয়ে গেছে)। ১১২
মহান সালাফগণ দান করতেন গোপনে। তারা মানবসেবা করতেন গোপনে। তাদের প্রত্যেকটা আমল সিয়াম, কিয়ামুল লাইল, দান-সদকা সবগুলোই ছিল গোপনে। মহান সালাফগণ এমনভাবে ইবাদত করতেন, তাদের ঘরের স্ত্রীসন্তান পর্যন্ত জানতেন না।
মানবসেবা আমরাও করি, ইবাদত আমরাও করি কিন্তু এমনভাবে করি অনলাইন-অফলাইনে এ যেন প্রচার হয়, সবাই যেন আমাকে চিনে। আমি অমুক এত টাকা দান করেছি। এতজন মানুষকে খাবার খাইয়েছি। এমনও তো মাঝে মাঝে ফেসবুকে দেখা যায়, একজন ব্যক্তিকে দান করছে, সঙ্গে ১০/২০জন মানুষের ছবি তোলার জন্য হাত এগিয়ে দেয়। যেন সারাদেশের লোক আমাকে চিনে, আমার নাম হয়, লোকেরা যেন বলে যে, অমুক ব্যক্তি ও এত-কত টাকা দান করেছে। আমাকে নিয়ে যেন সবাই বড় কিছু ভাবে।
আল ইয়াজুবিল্লাহ!
আমল প্রচারকারী ব্যক্তির আমল তার মাথার ওপরে ওঠে না।
ইমাম ইবনে হাজম রহিমাহুল্লাহ বলেন-নিজের একান্ত গোপন এমন কিছু আমল করুন, যেগুলো একদম কেউই জানবে না আপনি আর আপনার রব ছাড়া। এমনভাবে নিজের ভালো আমলগুলো গোপন রাখুন, যেভাবে চোর-ডাকাতের ভয়ে মূল্যবান সম্পদ লুকিয়ে রাখেন।
ভালো কাজ করুন একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, লোকের বাহবা পাওয়ার জন্য নয়।
আপনার নেক আমলসমূহ সেভাবে গোপন করুন, যেভাবে আপনার পাপকাজসমূহ লোকজন থেকে আড়ালে করেন। হায়! সেদিন কত বৃহৎ কাজ বরবাদ হয়ে যাবে, নিয়তে গোলমাল থাকার কারণে। আবার কত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আমল ও মিজানের পাল্লায় বিশাল ভারী হবে বিশুদ্ধ নিয়াতের কারণে।
টিকাঃ
১১২. সিফাতুস সফওয়াঃ খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৯৬
📄 নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন
নিজের নেক আমলগুলো যথাসম্ভব গোপন রাখাই উত্তম। সৌভাগ্যবান সেই সাত শ্রেণি, যাদেরকে আল্লাহ আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মধ্যে দুটো শ্রেণি হলো: যে এমনভাবে দান-সাদকা করে যে, তার ডান হাত কী দান করছে তা তার বাম হাত টের পায় না। আরেক শ্রেণি হলো, তারা নির্জন-নিরিবিলিতে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যায় অবিরতভাবে।১১৩
এদের কমন বৈশিষ্ট হলো, তারা গোপনে নেক আমল করতেন। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণা ও কিয়ামতের দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে আমলের চেয়ে সংগোপনে অধিক আমল করে। ১১৪
সাহাবাদের মধ্যে এটি ছিল একটি কমন বৈশিষ্ট্য। আবু বকর (রাদি) চুপে চুপে গিয়ে এক বৃদ্ধার খেদমত করে আসতেন এবং খাইয়ে দিতেন। জানতে পেরে উমার (রাদি)-ও তাকে অনুসরণ করতেন। আলি (রাদি) নিজ কাঁধে করে বস্তিবাসীদের নিকট খাবার পৌঁছাতেন অথচ তাদেরকে তিনি নিজের পরিচয় দিতেন না। যেদিন তিনি মারা যান, সেদিন তাঁর পিঠে দাগ দেখা যায়; সেটা দেখে এবং বস্তিবাসীর খাবারের জন্য হাহাকার দেখে সবাই বুঝতে পারে যে, তিনি এতদিন খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এমন উদাহরণ সাহাবা-তাবিঈদের মাঝে অসংখ্য।
ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, পূর্বসূরি নেককারদের একটি কমন বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা অন্তত একটি নেক আমলকে এতটাই গোপন রাখতেন যে, তাঁদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরাও জানতো না। সেটা এ-কারণে যে, যাতে অন্তত এই একটি আমলের ব্যাপারে পুরোপুরি পরিতুষ্ট থাকা যায়।
শায়খ আবদুল আজিজ আত-ত্বরিফি হাফি বলেন-
۱۱۵ اکتم حسناتك كما تكتم سيئاتك
এমনভাবে লুকিয়ে রাখো তোমার নেক আমলগুলো, যেভাবে তুমি তোমার মন্দ আমলগুলো লুকিয়ে রাখো।
নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন।
আমলের গোপনীয়তা যত বেশি হবে, ঈমানের দৃঢ়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। কেননা পেরেকের ভেতরটা যতটা গভীরে লুকিয়ে থাকবে, পেরেকের বাইরের অংশ ততটা মজবুত হবে।
কখনো কি দেখেছেন, বিরাট পেরেক সহজেই তুলে ফেলা হচ্ছে; অথচ ছোট পেরেক কিছুতেই উপড়ানো যাচ্ছে না! আসল রহস্যটা কিন্তু পেরেকের গোপন অংশে, যা মজবুতভাবে গভীরে গাঁtha আছে।
উল্লেখ্য যে, গোপন আমলে উৎসাহিত করছি মানে এই নয় যে, প্রকাশ্যে নেক আমল করা যাবে না। অবশ্যই করা যাবে। এর প্রমাণও সাহাবাদের মধ্যে অহরহ আছে। তবে গোপন আমল উত্তম। গোপন আমলে ইখলাস থাকে বেশি।
টিকাঃ
১১৩ সহিহ বুখারি: ১৪২৩, সহিহ মুসলিম: ১০০১
১১৪ তারতিবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরিবুল মাসালিক: ৫১/২
সিয়ার আলাম আন নুবালা, ৬/১০০
নিজের নেক আমলগুলো যথাসম্ভব গোপন রাখাই উত্তম। সৌভাগ্যবান সেই সাত শ্রেণি, যাদেরকে আল্লাহ আরশের ছায়ায় স্থান দিবেন। তাদের মধ্যে দুটো শ্রেণি হলো: যে এমনভাবে দান-সাদকা করে যে, তার ডান হাত কী দান করছে তা তার বাম হাত টের পায় না। আরেক শ্রেণি হলো, তারা নির্জন-নিরিবিলিতে আল্লাহকে স্মরণ করে আর তাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বয়ে যায় অবিরতভাবে।১১৩
এদের কমন বৈশিষ্ট হলো, তারা গোপনে নেক আমল করতেন। ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, যে ব্যক্তি মৃত্যুযন্ত্রণা ও কিয়ামতের দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে চায়, সে যেন প্রকাশ্যে আমলের চেয়ে সংগোপনে অধিক আমল করে। ১১৪
সাহাবাদের মধ্যে এটি ছিল একটি কমন বৈশিষ্ট্য। আবু বকর (রাদি) চুপে চুপে গিয়ে এক বৃদ্ধার খেদমত করে আসতেন এবং খাইয়ে দিতেন। জানতে পেরে উমার (রাদি)-ও তাকে অনুসরণ করতেন। আলি (রাদি) নিজ কাঁধে করে বস্তিবাসীদের নিকট খাবার পৌঁছাতেন অথচ তাদেরকে তিনি নিজের পরিচয় দিতেন না। যেদিন তিনি মারা যান, সেদিন তাঁর পিঠে দাগ দেখা যায়; সেটা দেখে এবং বস্তিবাসীর খাবারের জন্য হাহাকার দেখে সবাই বুঝতে পারে যে, তিনি এতদিন খাবার পৌঁছে দিয়েছেন। এমন উদাহরণ সাহাবা-তাবিঈদের মাঝে অসংখ্য।
ইবনুল কাইয়িম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, পূর্বসূরি নেককারদের একটি কমন বৈশিষ্ট্য ছিল যে, তারা অন্তত একটি নেক আমলকে এতটাই গোপন রাখতেন যে, তাঁদের স্ত্রী বা পরিবারের সদস্যরাও জানতো না। সেটা এ-কারণে যে, যাতে অন্তত এই একটি আমলের ব্যাপারে পুরোপুরি পরিতুষ্ট থাকা যায়।
শায়খ আবদুল আজিজ আত-ত্বরিফি হাফি বলেন-
۱۱۵ اکتم حسناتك كما تكتم سيئاتك
এমনভাবে লুকিয়ে রাখো তোমার নেক আমলগুলো, যেভাবে তুমি তোমার মন্দ আমলগুলো লুকিয়ে রাখো।
নেক আমল যথাসম্ভব গোপনে করুন।
আমলের গোপনীয়তা যত বেশি হবে, ঈমানের দৃঢ়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। কেননা পেরেকের ভেতরটা যতটা গভীরে লুকিয়ে থাকবে, পেরেকের বাইরের অংশ ততটা মজবুত হবে।
কখনো কি দেখেছেন, বিরাট পেরেক সহজেই তুলে ফেলা হচ্ছে; অথচ ছোট পেরেক কিছুতেই উপড়ানো যাচ্ছে না! আসল রহস্যটা কিন্তু পেরেকের গোপন অংশে, যা মজবুতভাবে গভীরে গাঁtha আছে।
উল্লেখ্য যে, গোপন আমলে উৎসাহিত করছি মানে এই নয় যে, প্রকাশ্যে নেক আমল করা যাবে না। অবশ্যই করা যাবে। এর প্রমাণও সাহাবাদের মধ্যে অহরহ আছে। তবে গোপন আমল উত্তম। গোপন আমলে ইখলাস থাকে বেশি।
টিকাঃ
১১৩ সহিহ বুখারি: ১৪২৩, সহিহ মুসলিম: ১০০১
১১৪ তারতিবুল মাদারিক ওয়া তাক্বরিবুল মাসালিক: ৫১/২
সিয়ার আলাম আন নুবালা, ৬/১০০