📄 বান্দার প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ
যিনি না-বলা কথাগুলো শুনেন; যিনি হৃদয়ের অগোছালো কথাগুলো পড়ে নিতে পারেন। যিনি বোবার ভাষা বোঝেন। যিনি চাওয়ার আগেই অভাব পূরণ করেন। তিনিই আমার রব।
এক ব্যক্তি জীবনভর গুনাহ করেছিল, কখনো পর্য্যের ধারে কাছেও যায়নি। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন সে তার পরিবার-পরিজনকে বলল, আমি মারা গেলে আমার লাশ পুড়িয়ে ফেলবে। পুড়িয়ে যে ছাই হবে তার অর্ধেক স্থলে অর্ধেক জলে ফেলে দেবে। পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞেস করল, কেন এমন অদ্ভুত কাজ করতে বলছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ যদি আমায় ধরতে পারেন, এমন শাস্তি দিবেন আর অন্য কাউকে দিবে না। তার অপরাধের কথা সে নিজে জানতো আবার আল্লাহর আযাবের ভয়ও করত। কিন্তু আগুনে পোড়ালে আল্লাহ তাআলা তাকে ধরতে পারবেন না, এই মিথ্যা ধারণা থেকে হয়তো এমনটা করতে বলেছিল।
লোকটি মারা যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা তার ইচ্ছেমতো লাশের ছাই মাটিতে এবং পানিতে ছিটিয়ে দিলো। আল্লাহ তায়ালা তার ছাইগুলো একত্রিত করলেন। তার আকৃতি দান করলেন। তারপর আল্লাহ তালাআ তাকে বললেন, তুমি কেন এমনটা করলে। সে বললো, আমার রব আপনার ভয়েই আমি এমনটি করতে বলেছিলাম আপনিতো সর্বজ্ঞ। তারা জবাব শুনে আল্লাহ তাআলা খুশি হলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (মুসলিম ৬৭৩০)
প্রিয় পাঠক, হাদিসটি দিকে লক্ষ্য করুন! উক্ত ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে মুখে যেটা বলেছে, সেটা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলার শক্তি ও ক্ষমতাকে সে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করবেন, তিনি যে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম, ভালো কাজ করলে পুরস্কার এবং খারাপ কাজ করলে শাস্তি দিতে পারেন, এটা তিনি অস্বীকার করেছেন। এত বড় মারাত্মক কথা বলার পরেও সারা জীবন গুনাহের কাজ করার পরেও শুধুমাত্র একটি কথা বলার কারণে (ইয়া আল্লাহ আপনার ভয়ে করেছি, আপনি তো সর্বজ্ঞ, আপনি তো সবই জানেন। আমি এটা কেন করেছি। আমি এটা আপনার ভয়ে করেছি) আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং জান্নাত দান করলেন। সুবহানাল্লাহ আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দয়া কত বিশাল। আমরা অনেক সময় আক্ষেপ করে বলতে থাকি, আল্লাহ কী আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের দুআ কবুল করবেন, আমরা তো অনেক পাপী ব্যক্তি। এই ছোট্ট হাদিস থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ
তিনি বললেন, আমি যাকে চাই তাকে আমার আজাব দিই। আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। [সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৬]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٍ.
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু। [সুরা আল- বাকারা, আয়াত: ১৪৩]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন—
فَانْظُرْ إِلَى أَثْرِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا * إِنَّ ذُلِكَ لَمُحْيِ الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
অতএব, আপনি আল্লাহর রহমতের চিহ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিন। কীভাবে তিনি জমিনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন। [সুরা আর-রুম, আয়াত: ৫০]
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে মজিদে বলেন—
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ.
বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'। [সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন- (হাদিসে কুদসি) তোমাদের প্রত্যেককেই পথভ্রষ্ট, তবে যাকে আমি হিদায়েত দান করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়েত চাও আমি তোমাদের হেদায়েত দান করব। হে আমার বান্দারা, তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাদেরকে খাবার দান করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদের খাবার দান করব। আমার বান্দারা তোমরা প্রত্যেকেই বস্ত্রহীন, তবে আমি যাকে বস্ত্র পরিধান করাই। সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদের বস্ত্র দান করব। হে আমার বান্দারা, তোমরা দিনে-রাতে গুনাহ করতে থাকো, আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করব। আমার বান্দারা তোমাদের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকদিন যদি একটি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আমার কাছে চায়, আমি প্রত্যেকের চাওয়া পূর্ণ করব। এতে আমার ভাণ্ডার থেকে এতটুকু কমবে যতটুকু সাগরের সাগরে সুই ডুবালে সাগর থেকে কমে যায়। ১০৪
টিকাঃ
১০৪. সহিহ মুসলিম ২৫৭৭
যিনি না-বলা কথাগুলো শুনেন; যিনি হৃদয়ের অগোছালো কথাগুলো পড়ে নিতে পারেন। যিনি বোবার ভাষা বোঝেন। যিনি চাওয়ার আগেই অভাব পূরণ করেন। তিনিই আমার রব।
এক ব্যক্তি জীবনভর গুনাহ করেছিল, কখনো পর্য্যের ধারে কাছেও যায়নি। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো, তখন সে তার পরিবার-পরিজনকে বলল, আমি মারা গেলে আমার লাশ পুড়িয়ে ফেলবে। পুড়িয়ে যে ছাই হবে তার অর্ধেক স্থলে অর্ধেক জলে ফেলে দেবে। পরিবারের সদস্যরা তাকে জিজ্ঞেস করল, কেন এমন অদ্ভুত কাজ করতে বলছেন। তিনি বললেন, আল্লাহ যদি আমায় ধরতে পারেন, এমন শাস্তি দিবেন আর অন্য কাউকে দিবে না। তার অপরাধের কথা সে নিজে জানতো আবার আল্লাহর আযাবের ভয়ও করত। কিন্তু আগুনে পোড়ালে আল্লাহ তাআলা তাকে ধরতে পারবেন না, এই মিথ্যা ধারণা থেকে হয়তো এমনটা করতে বলেছিল।
লোকটি মারা যাওয়ার পর পরিবারের লোকেরা তার ইচ্ছেমতো লাশের ছাই মাটিতে এবং পানিতে ছিটিয়ে দিলো। আল্লাহ তায়ালা তার ছাইগুলো একত্রিত করলেন। তার আকৃতি দান করলেন। তারপর আল্লাহ তালাআ তাকে বললেন, তুমি কেন এমনটা করলে। সে বললো, আমার রব আপনার ভয়েই আমি এমনটি করতে বলেছিলাম আপনিতো সর্বজ্ঞ। তারা জবাব শুনে আল্লাহ তাআলা খুশি হলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন। (মুসলিম ৬৭৩০)
প্রিয় পাঠক, হাদিসটি দিকে লক্ষ্য করুন! উক্ত ব্যক্তি বাহ্যিকভাবে মুখে যেটা বলেছে, সেটা কুফরির অন্তর্ভুক্ত। কেননা আল্লাহ তাআলার শক্তি ও ক্ষমতাকে সে অস্বীকার করেছে এবং আল্লাহ রব্বুল আলামিন যে মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করবেন, তিনি যে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম, ভালো কাজ করলে পুরস্কার এবং খারাপ কাজ করলে শাস্তি দিতে পারেন, এটা তিনি অস্বীকার করেছেন। এত বড় মারাত্মক কথা বলার পরেও সারা জীবন গুনাহের কাজ করার পরেও শুধুমাত্র একটি কথা বলার কারণে (ইয়া আল্লাহ আপনার ভয়ে করেছি, আপনি তো সর্বজ্ঞ, আপনি তো সবই জানেন। আমি এটা কেন করেছি। আমি এটা আপনার ভয়ে করেছি) আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং জান্নাত দান করলেন। সুবহানাল্লাহ আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দয়া কত বিশাল। আমরা অনেক সময় আক্ষেপ করে বলতে থাকি, আল্লাহ কী আমাদের কথা শুনবেন, আমাদের দুআ কবুল করবেন, আমরা তো অনেক পাপী ব্যক্তি। এই ছোট্ট হাদিস থেকে আমাদের সকলের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ
তিনি বললেন, আমি যাকে চাই তাকে আমার আজাব দিই। আর আমার রহমত সব বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করেছে। [সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৫৬]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٍ.
নিশ্চয় আল্লাহ মানুষের প্রতি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু। [সুরা আল- বাকারা, আয়াত: ১৪৩]
আল্লাহ তাআলা আরো বলেছেন—
فَانْظُرْ إِلَى أَثْرِ رَحْمَتِ اللَّهِ كَيْفَ يُحْيِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا * إِنَّ ذُلِكَ لَمُحْيِ الْمَوْتَى وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.
অতএব, আপনি আল্লাহর রহমতের চিহ্নসমূহের প্রতি দৃষ্টি দিন। কীভাবে তিনি জমিনের মৃত্যুর পর তা জীবিত করেন। নিশ্চয় এভাবেই তিনি মৃতকে জীবিত করেন। [সুরা আর-রুম, আয়াত: ৫০]
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কালামে মজিদে বলেন—
قُلْ يُعِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ، إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ.
বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজের উপর বাড়াবাড়ি করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'। [সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেন- (হাদিসে কুদসি) তোমাদের প্রত্যেককেই পথভ্রষ্ট, তবে যাকে আমি হিদায়েত দান করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে হিদায়েত চাও আমি তোমাদের হেদায়েত দান করব। হে আমার বান্দারা, তোমাদের প্রত্যেকেই ক্ষুধার্ত, তবে আমি যাদেরকে খাবার দান করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে খাদ্য চাও, আমি তোমাদের খাবার দান করব। আমার বান্দারা তোমরা প্রত্যেকেই বস্ত্রহীন, তবে আমি যাকে বস্ত্র পরিধান করাই। সুতরাং তোমরা আমার কাছে বস্ত্র চাও, আমি তোমাদের বস্ত্র দান করব। হে আমার বান্দারা, তোমরা দিনে-রাতে গুনাহ করতে থাকো, আমি তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করি। সুতরাং তোমরা আমার কাছে মাফ চাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করব। আমার বান্দারা তোমাদের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকদিন যদি একটি পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আমার কাছে চায়, আমি প্রত্যেকের চাওয়া পূর্ণ করব। এতে আমার ভাণ্ডার থেকে এতটুকু কমবে যতটুকু সাগরের সাগরে সুই ডুবালে সাগর থেকে কমে যায়। ১০৪
টিকাঃ
১০৪. সহিহ মুসলিম ২৫৭৭
📄 কোনো গুনাহ কি বান্দার জন্য কল্যাণকর
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, গুনাহ কি বান্দার জন্য কল্যাণকর। তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি গুনাহের পর বান্দা লজ্জিত হয়, অনুতপ্ত হয়, তাওবা ও ইস্তিগফার করে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহকে জিজ্ঞেস করা হলো, গুনাহ কি বান্দার জন্য কল্যাণকর। তিনি বললেন, হ্যাঁ, যদি গুনাহের পর বান্দা লজ্জিত হয়, অনুতপ্ত হয়, তাওবা ও ইস্তিগফার করে।
📄 নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের সামনে বললেন, 'নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে গেলো।' সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! একাকী মানুষ কারা?' তিনি বলেন, 'আল্লাহর বেশি বেশি জিকরকারীগণ।'১০৫ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, তুমি যখন ইন্তেকাল করবে, তখনো তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকরে আর্দ্র থাকবে।'১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা যতক্ষণ আমার জিকর করে এবং আমার জন্য তার দুই ঠোঁট নাড়াচাড়া করে, ততক্ষণ আমি তার সঙ্গে থাকি।১০৭ ইমাম মুজাহিদ ইবনু জাবর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো বান্দা যখন তার হৃদয় দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাআলা তখন মুমিনদের হৃদয়গুলোকে তার দিকে অগ্রসর করে দেন।১০৮
মহান ব্যক্তি তাবিঈ আবু মুসলিম আল-খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ খুব বেশি বেশি জিকির করতেন। তাঁর জিহ্বা সবসময় আল্লাহর স্মরণে নড়তে থাকত। তাই এটা দেখে এক লোক একদিন তাঁর একজন সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করল, আপনার এই বন্ধু কি পাগল? আবু মুসলিম এটা শুনে উত্তর দিলেন, না ভাই, বরং এটা হচ্ছে পাগলামি থেকে বেঁচে থাকার উপায়।১০৯
ইমাম শাফেঈ (রহ) কাছে জানতে চাওয়া হলো, কীভাবে আপনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বললেন, আমি সেইভাবে ইলমের পিছনে ছুটেছি, যেভাবে একজন মা হারানো সন্তানকে খোঁজে।
নিঃসন্দেহে, আল্লাহর জিকরে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে একাকী হয়ে যান। কারণ, তাঁরা নিরিবিলিতে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। এতেই তাঁদের পরিতৃপ্তি।
টিকাঃ
১০৫. মুসলিম, আস-সহিহ: ৪/২০৬২
১০৬. বুখারি, আস-সহিহ: ১/৭২; ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩/৯৯
১০৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২/৫৪০; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ২/১২৪৬; হাদিসে কুদসিয়া
১০৮. আবু নুআইম আসবাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩/২৮০
১০৯. আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ, জাওয়াইদুজ জুহদ, পৃষ্ঠা: ৩৮৪
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদের সামনে বললেন, 'নিঃসঙ্গ একাকী মানুষগুলো এগিয়ে গেলো।' সাহাবিগণ প্রশ্ন করলেন, 'হে আল্লাহর রাসুল! একাকী মানুষ কারা?' তিনি বলেন, 'আল্লাহর বেশি বেশি জিকরকারীগণ।'১০৫ হাদিসে এসেছে, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো, তুমি যখন ইন্তেকাল করবে, তখনো তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকরে আর্দ্র থাকবে।'১০৬
আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা যতক্ষণ আমার জিকর করে এবং আমার জন্য তার দুই ঠোঁট নাড়াচাড়া করে, ততক্ষণ আমি তার সঙ্গে থাকি।১০৭ ইমাম মুজাহিদ ইবনু জাবর রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কোনো বান্দা যখন তার হৃদয় দিয়ে আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তাআলা তখন মুমিনদের হৃদয়গুলোকে তার দিকে অগ্রসর করে দেন।১০৮
মহান ব্যক্তি তাবিঈ আবু মুসলিম আল-খাওলানি রাহিমাহুল্লাহ খুব বেশি বেশি জিকির করতেন। তাঁর জিহ্বা সবসময় আল্লাহর স্মরণে নড়তে থাকত। তাই এটা দেখে এক লোক একদিন তাঁর একজন সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করল, আপনার এই বন্ধু কি পাগল? আবু মুসলিম এটা শুনে উত্তর দিলেন, না ভাই, বরং এটা হচ্ছে পাগলামি থেকে বেঁচে থাকার উপায়।১০৯
ইমাম শাফেঈ (রহ) কাছে জানতে চাওয়া হলো, কীভাবে আপনি ইলম অর্জন করেছেন। তিনি বললেন, আমি সেইভাবে ইলমের পিছনে ছুটেছি, যেভাবে একজন মা হারানো সন্তানকে খোঁজে।
নিঃসন্দেহে, আল্লাহর জিকরে অভ্যস্ত ব্যক্তিরা মাঝে মাঝে একাকী হয়ে যান। কারণ, তাঁরা নিরিবিলিতে আল্লাহর স্মরণে ব্যস্ত থাকেন। এতেই তাঁদের পরিতৃপ্তি।
টিকাঃ
১০৫. মুসলিম, আস-সহিহ: ৪/২০৬২
১০৬. বুখারি, আস-সহিহ: ১/৭২; ইবনু হিব্বান, আস-সহিহ: ৩/৯৯
১০৭. আহমাদ, আল-মুসনাদ: ২/৫৪০; ইবনু মাজাহ, আস-সুনান: ২/১২৪৬; হাদিসে কুদসিয়া
১০৮. আবু নুআইম আসবাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩/২৮০
১০৯. আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ, জাওয়াইদুজ জুহদ, পৃষ্ঠা: ৩৮৪
📄 আল্লাহ কাকে হিফাজত করেন
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি আল্লাহর হেফাজত করো আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। যদি তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তখন তাকে তুমি তোমার পাশে পাবে।১১০
ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ হেফাজত করার অর্থ হলো আল্লাহ বিধি-নিষেধ মেনে চলা। যে এগুলো মেনে চলবে তারাই হলো আল্লাহর বিধান হিফাজতকারী। যাদের প্রশংসাই আল্লাহ কুরআন মাজিদে করছেন।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ
এটাই সেই ওয়াদা যা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী ও হিফাজতকারীর জন্য।
مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতো এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো। [সুরা ক্বাফ আয়াত : ৩২-৩৩]
ইমাম শাফি'ঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন— মানুষকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এবং মানুষের সমালোচনা থেকে বাঁচারও কোনো উপায় নেই। সুতরাং তুমি তোমার জন্য যা উপকারী তা আঁকড়ে ধরো। ১১১
ফুজাইল বিন ইয়াজকে একথা জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার নিকট কোন বিষয়টি অতিশয় গুরুতর মনে হয়? তিনি বলেন, এমন অন্তর যা প্রতিপালকের যথাযথ পরিচয় লাভের পরও তার অবাধ্য হয়।
টিকাঃ
১১০. সুনানে তিরমিজি ২৫১৬
১১১. আবু নুআইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৯/১৩০
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি আল্লাহর হেফাজত করো আল্লাহ তোমার হেফাজত করবেন। যদি তুমি আল্লাহর হেফাজত করো, তখন তাকে তুমি তোমার পাশে পাবে।১১০
ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহ হেফাজত করার অর্থ হলো আল্লাহ বিধি-নিষেধ মেনে চলা। যে এগুলো মেনে চলবে তারাই হলো আল্লাহর বিধান হিফাজতকারী। যাদের প্রশংসাই আল্লাহ কুরআন মাজিদে করছেন।
هَٰذَا مَا تُوعَدُونَ لِكُلِّ أَوَّابٍ حَفِيظٌ
এটাই সেই ওয়াদা যা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, প্রত্যেক আল্লাহ অভিমুখী ও হিফাজতকারীর জন্য।
مَّنْ خَشِيَ الرَّحْمَٰنَ بِالْغَيْبِ وَجَاءَ بِقَلْبٍ مُّنِيبٍ
যে না দেখে দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে ভয় করতো এবং বিনীত অন্তরে উপস্থিত হতো। [সুরা ক্বাফ আয়াত : ৩২-৩৩]
ইমাম শাফি'ঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন— মানুষকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। এবং মানুষের সমালোচনা থেকে বাঁচারও কোনো উপায় নেই। সুতরাং তুমি তোমার জন্য যা উপকারী তা আঁকড়ে ধরো। ১১১
ফুজাইল বিন ইয়াজকে একথা জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার নিকট কোন বিষয়টি অতিশয় গুরুতর মনে হয়? তিনি বলেন, এমন অন্তর যা প্রতিপালকের যথাযথ পরিচয় লাভের পরও তার অবাধ্য হয়।
টিকাঃ
১১০. সুনানে তিরমিজি ২৫১৬
১১১. আবু নুআইম, হিলয়াতুল আউলিয়া: ৯/১৩০