📄 প্রকৃত মুসলিম এবং মুজাহিদদেরকে
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহবা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, তা যে বর্জন করে।"
টিকাঃ
ইবনু বায, আল মাজমু'উ: ৬/৩৫০
মুসলিম ১/১৪ হাঃ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫
📄 হাশরের ময়দানে আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ الْعَادِلُ، وَشَابُّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقُ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعًا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أَخْفَى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلُ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ ".
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়ায় (অন্য বর্ণনায়, তাঁর আরশের ছায়ায়) আশ্রয় দিবেন। যথা:
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক।
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে, তার রবের ইবাদতের মধ্যে।
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে রয়েছে।
৪. সে দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর রাহে। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য।
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়। কিন্তু সে এ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, 'আমি আল্লাহকে ভয় করি'।
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না।
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।১০০
টিকাঃ
১০০. সহিহ বুখারি (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১০/ আজান (كتاب الأذان) ৪২৮।
📄 লোক দেখানো ইবাদত
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
مَن تَعَلَّمَ عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ الله لا يَتَعَلَّمُه إِلا ليُصيب به عرضاً مِنْ الدُّنْيَا لَم يجد عرف الجنة يوم القيامة يعني رِيحَهَا .
যে ইলম দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়ে থাকে, সে ইলমকে যদি কোনো ব্যক্তি দুনিয়াবি কোনো উদ্দেশ্যে শেখে, কিয়ামতের দিন সে জান্নাত পাবে না, এমনকি সুঘ্রাণও পাবে না।১০১
টিকাঃ
১০১. আবু দাউদ: ৩৬৬৪, ইবনে মাজা: ২৫২, আল্লামা আলবানি রহ. হাদিসটিকে সহিহ বলে আখ্যায়িত করেন।
📄 সর্বপ্রথম জাহান্নামে প্রবেশ করা
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন-
» إن أول الناس يقضى يوم القيامة عَلَيْهِ: رجل استشهد فَأُتِي بِهِ فَعَرَّفه نعمه فعرفها، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلتُ فِيكَ حَتَّى استشهدتُ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكنكَ قَاتَلْتَ لأَن يُقَالَ: جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ. ثم أُمر به فسحب على وجههِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرجل تَعَلَّمَ العلمَ وَعَلَّمه وقَرَأَ القُرْآنَ، فَأُتِي بِهِ فَعَرَفُهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْت العِلْمَ وَعَلمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ القُرْآنَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلكنك تَعَلَّمْتَ العلم لِيُقَالَ: عَالِمُ، وَقَرَأْتَ القُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِيُّ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ. وَوَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِن أَصْنَافِ المَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفُه نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفِقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ثُم أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ.
কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, তিনি হলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হন, তারপর তাকে ডাকা হবে এবং তার নিকট তার নিয়ামতসমূহ তুলে ধরা হলে সে তা চিনতে পারবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি এ সব নিয়ামতের মুকাবালায় কি আমল করছ? সে বলল, তোমার রাহে আমি যুদ্ধ করছি এবং শহিদ হয়েছি। আল্লাহ বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি যুদ্ধ করছ, যাতে মানুষ তোমাকে বাহাদুর বলে। তা তোমাকে বলা হয়েছে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হলে, তাকে তার চেহারার উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।
এক ব্যক্তি ইলম অর্জন করল, মানুষকে শেখালো এবং কুরআন পড়ল। তারপর তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হলো এবং তার উপর আল্লাহর নিয়ামতসমূহ তুলে ধরা হলে, সে তা চিনতে পারলো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি এ বিষয়ে কি আমল করছ? বলল, আমি ইলম শিখেছি এবং শিখিয়েছি। তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছি। সে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি ইলম শিখেছ, যাতে তোমাকে আলেম বলা হয়। আর কুরআন তিলাওয়াত করেছ, যাতে তোমাকে এ কথা বলা হয়, লোকটি কারী। আর দুনিয়াতে তোমাকে তা বলা হয়েছে। তার পর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হলে, তাকে তার চেহারার উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।১০২
বিশর ইবনুল হারিস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ইবাদতের মিষ্টতা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার এবং তোমার কামনা-বাসনার মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করবে।১০০
টিকাঃ
১০০ মুসলিম: ১৯০৫
১০২ যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১০/৪৭৩
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন-
» إن أول الناس يقضى يوم القيامة عَلَيْهِ: رجل استشهد فَأُتِي بِهِ فَعَرَّفه نعمه فعرفها، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: قَاتَلتُ فِيكَ حَتَّى استشهدتُ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكنكَ قَاتَلْتَ لأَن يُقَالَ: جَرِيءٌ، فَقَدْ قِيلَ. ثم أُمر به فسحب على وجههِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرجل تَعَلَّمَ العلمَ وَعَلَّمه وقَرَأَ القُرْآنَ، فَأُتِي بِهِ فَعَرَفُهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْت العِلْمَ وَعَلمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ القُرْآنَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلكنك تَعَلَّمْتَ العلم لِيُقَالَ: عَالِمُ، وَقَرَأْتَ القُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِيُّ، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ. وَوَجُلٌ وَسَّعَ اللهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِن أَصْنَافِ المَالِ كُلِّهِ، فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفُه نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفِقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ. قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ: هُوَ جَوَادٌ، فَقَدْ قِيلَ ثُم أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ.
কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম যে ব্যক্তির বিচার করা হবে, তিনি হলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হন, তারপর তাকে ডাকা হবে এবং তার নিকট তার নিয়ামতসমূহ তুলে ধরা হলে সে তা চিনতে পারবে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তুমি এ সব নিয়ামতের মুকাবালায় কি আমল করছ? সে বলল, তোমার রাহে আমি যুদ্ধ করছি এবং শহিদ হয়েছি। আল্লাহ বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি যুদ্ধ করছ, যাতে মানুষ তোমাকে বাহাদুর বলে। তা তোমাকে বলা হয়েছে। তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হলে, তাকে তার চেহারার উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।
এক ব্যক্তি ইলম অর্জন করল, মানুষকে শেখালো এবং কুরআন পড়ল। তারপর তাকে আল্লাহর দরবারে উপস্থিত করা হলো এবং তার উপর আল্লাহর নিয়ামতসমূহ তুলে ধরা হলে, সে তা চিনতে পারলো। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি এ বিষয়ে কি আমল করছ? বলল, আমি ইলম শিখেছি এবং শিখিয়েছি। তোমার সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছি। সে বললেন, তুমি মিথ্যা বলছ, তুমি ইলম শিখেছ, যাতে তোমাকে আলেম বলা হয়। আর কুরআন তিলাওয়াত করেছ, যাতে তোমাকে এ কথা বলা হয়, লোকটি কারী। আর দুনিয়াতে তোমাকে তা বলা হয়েছে। তার পর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হলে, তাকে তার চেহারার উপর উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়।১০২
বিশর ইবনুল হারিস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ইবাদতের মিষ্টতা অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার এবং তোমার কামনা-বাসনার মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করবে।১০০
টিকাঃ
১০০ মুসলিম: ১৯০৫
১০২ যাহাবি, সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১০/৪৭৩