📄 আল্লাহর জন্য ভালোবাসার ফজিলত
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করবে। যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক প্রিয় হবে। অন্য কোনো ব্যক্তিকে সে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে। আল্লাহ কুফুরি থেকে রক্ষা করার পর আবার তাতে ফিরে যাওয়া তার কাছে আগুনে নিক্ষেপের মতো অপছন্দনীয় হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে। যা দেখে নবি এবং শহিদগণ ঈর্ষা করবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর জন্য দান করল কিংবা আল্লাহর জন্য দান করা থেকে বিরত রইল এবং আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করল কিংবা আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ অন্যকে ভালোবাসলে যেন তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়।
আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এক ব্যক্তি তার ভাইকে দেখানোর জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য রাস্তায় একজন ফেরেস্তা মোতায়েন করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেস্তার কাছে পৌঁছালো, তখন ফেরেস্তা জিজ্ঞেস করলেন তুমি কোথায় যাচ্ছ। সে বলল, আমি ওই গ্রামের এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেস্তা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অনুগ্রহ আছে, যা তুমি বৃদ্ধি করতে চাও। সে বলল না! আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেস্তা বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কাছে এই পায়গাম নিয়ে এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন। যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাঁর জন্যই ভালোবেসেছো।
হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা একে অন্যকে ভালোবাসে, পরস্পর ওঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাৎ করে কিংবা একে অন্যের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কারো উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে যেয়ো না। মনে রেখো, অন্ধকারে তোমার ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।
أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه *
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? [সুরা জুমার, আয়াত: ৩৬]
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। [সুরা ত্বলাক, আয়াত : ৩]
টিকাঃ
১০ সহিহ মুসলিম ২৫৬৪
১১. সহিহ মুসলিম : ৪৩
৯৭. মুসনাদে আহমদ: ২১৫২৫
📄 দুর্ভাগ্য-সৌভাগ্যের আলামত পাঁচটি
ইমাম ফুযাইল বিন ইয়াদ্ব (রাহ.) বলেন, দুঃখ-দুর্ভাগ্যের আলামত পাঁচটি-
১. অন্তর কঠিন ও শক্ত হওয়া;
২. চোখ অশ্রুসজল না হওয়া;
৩. লজ্জা-শরম কম হওয়া;
৪. দুনিয়ার প্রতি মুহাব্বাত এবং
৫. দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা।
এর বিপরীতে পাঁচটি বিষয় সৌভাগ্যের আলামত-
১. অন্তরের দৃঢ়তা;
২. তাকওয়া;
৩. দুনিয়ার প্রতি অনীহা;
৪. স্বাভাবিক লজ্জা-শরম থাকা এবং
৫. ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) অর্জন করা।
যে অন্তর আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, সেই অন্তরালে দুনিয়ার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তাই তো আজকে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আমাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বিজড়িত হয় না।
শায়খ আবদুল আজিজ ইবনু শায়খ আবদুল আজিজ ইবনু বাজ (রাহ.) বলেন, আল্লাহর দিকে আহবানকারী ও উপদেশ দানকারী ব্যক্তি হলো ডাক্তারের মতো; সে উপযুক্ত সময়, উপযুক্ত পরিমাণ ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রচেষ্টা চালাবে।
📄 প্রকৃত মুসলিম এবং মুজাহিদদেরকে
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, প্রকৃত মুসলিম সে-ই, যার জিহবা ও হাত থেকে সকল মুসলিম নিরাপদ থাকে এবং প্রকৃত মুহাজির সে-ই, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন, তা যে বর্জন করে।"
টিকাঃ
ইবনু বায, আল মাজমু'উ: ৬/৩৫০
মুসলিম ১/১৪ হাঃ৪০, আহমাদ ৬৭৬৫
📄 হাশরের ময়দানে আরশের ছায়াতলে আশ্রয় পাবে
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ الإِمَامُ الْعَادِلُ، وَشَابُّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ رَبِّهِ، وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقُ فِي الْمَسَاجِدِ، وَرَجُلَانِ تَحَابًا فِي اللَّهِ اجْتَمَعًا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ، وَرَجُلٌ طَلَبَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ أَخْفَى حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ، وَرَجُلُ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ ".
আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে দিন আল্লাহর রহমতের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা তাঁর ছায়ায় (অন্য বর্ণনায়, তাঁর আরশের ছায়ায়) আশ্রয় দিবেন। যথা:
১. ন্যায়পরায়ণ শাসক।
২. সে যুবক যার জীবন গড়ে উঠেছে, তার রবের ইবাদতের মধ্যে।
৩. সে ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সঙ্গে লেগে রয়েছে।
৪. সে দুই ব্যক্তি যারা পরস্পরকে ভালোবাসে আল্লাহর রাহে। তারা একত্র হয় আল্লাহর জন্য এবং পৃথকও হয় আল্লাহর জন্য।
৫. সে ব্যক্তি যাকে কোনো উচ্চ বংশীয় রূপসী নারী আহ্বান জানায়। কিন্তু সে এ বলে তা প্রত্যাখ্যান করে যে, 'আমি আল্লাহকে ভয় করি'।
৬. সে ব্যক্তি যে এমন গোপনে দান করে যে, তার ডান হাত যা খরচ করে বাম হাত তা জানে না।
৭. সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর জিকির করে, ফলে তার দুচোখ দিয়ে অশ্রু প্রবাহিত হয়।১০০
টিকাঃ
১০০. সহিহ বুখারি (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), অধ্যায়: ১০/ আজান (كتاب الأذان) ৪২৮।