📄 আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার উপায় কি?
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর দেয়া প্রাপ্ত নেয়ামতরাজির প্রতি মনোযোগ সহকারে দৃষ্টি দেওয়া ও নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হতে থাকে。
ইমাম সুফিয়ান সাওরিকে জিজ্ঞেস করা হলো, নেক আমল কী? জবাবে তিনি বলেন, যে আমল দ্বারা তুমি কারো নিকট নিজের প্রশংসার আশা করো না। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা করা হয়, তাই নেক আমল।
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, যে যত বেশি আল্লাহর মারেফত (আল্লাহকে চেনা) অর্জন করবে, তার তাওয়াক্কুল তত বেশি শক্তিশালী হবে।
টিকাঃ
বাহজাতুল মাজালিস: ৩/৩৪৪
মাদারিজুস সালিকিন
📄 আল্লাহর নিকট মর্যাদিশীল ব্যক্তি
মানুষ আল্লাহর নিকট মর্যাদাশীল হয়, তাকওয়ার কারণে। অনেক মানুষ আছে, যাদের দুর্বলতা দরিদ্রতার কারণে মানুষ হেয় প্রতিপন্ন করে কিন্তু আল্লাহর নিকট সে তার অধিক মর্যাদাশীল। কারণ, আল্লাহ তাআলা কারো টাকাপয়সা যশখ্যাতি দেখেন না, তিনি দেখেন তাকওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَكُمْ
তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের আকৃতি ও সম্পদের দিকে লক্ষ্য করেন না। তিনি লক্ষ্য করেন তোমাদের অন্তর এবং আমলের দিকে।
ফুজাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, সুসংবাদ তার জন্য যে মানুষের মাঝে নির্জনতা বোধ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যায়।
মানুষের স্মরণে অন্তরে ব্যধি সৃষ্টি হয়, আর আল্লাহর স্মরনে অন্তর থেকে ব্যাধি দূর হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا.
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে, পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য (বান্দাদের হৃদয়ে) ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন। [সুরা মারইয়াম আয়াত: ৯৬]
📄 আল্লাহর জন্য ভালোবাসার ফজিলত
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার মধ্যে তিনটি গুণ থাকবে, সে ঈমানের স্বাদ অনুভব করবে। যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সর্বাধিক প্রিয় হবে। অন্য কোনো ব্যক্তিকে সে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে। আল্লাহ কুফুরি থেকে রক্ষা করার পর আবার তাতে ফিরে যাওয়া তার কাছে আগুনে নিক্ষেপের মতো অপছন্দনীয় হবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করবেন, যারা আমার সন্তুষ্টির জন্য একে অন্যকে ভালোবেসেছিল, তারা কোথায়? আজ আমি তাদেরকে আমার আরশের ছায়াতলে আশ্রয় দান করব।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যারা পরস্পরে ভালোবাসার সম্পর্ক রাখে, কেয়ামতের দিন তাদের জন্য নুরের মিম্বর স্থাপন করা হবে। যা দেখে নবি এবং শহিদগণ ঈর্ষা করবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে আল্লাহর জন্য দান করল কিংবা আল্লাহর জন্য দান করা থেকে বিরত রইল এবং আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক স্থাপন করল কিংবা আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করল, তার ঈমান পূর্ণতা লাভ করল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ অন্যকে ভালোবাসলে যেন তাকে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দেয়।
আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এক ব্যক্তি তার ভাইকে দেখানোর জন্য অন্য এক গ্রামে গেল। আল্লাহ তাআলা তার জন্য রাস্তায় একজন ফেরেস্তা মোতায়েন করলেন। সে ব্যক্তি যখন ফেরেস্তার কাছে পৌঁছালো, তখন ফেরেস্তা জিজ্ঞেস করলেন তুমি কোথায় যাচ্ছ। সে বলল, আমি ওই গ্রামের এক ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য যেতে চাই। ফেরেস্তা বললেন, তার কাছে কি তোমার কোনো অনুগ্রহ আছে, যা তুমি বৃদ্ধি করতে চাও। সে বলল না! আমি তো শুধু আল্লাহর জন্যই তাকে ভালোবাসি। ফেরেস্তা বললেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার কাছে এই পায়গাম নিয়ে এসেছি যে, আল্লাহ তোমাকে ভালোবাসেন। যেমন তুমি তোমার ভাইকে তাঁর জন্যই ভালোবেসেছো।
হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য যারা একে অন্যকে ভালোবাসে, পরস্পর ওঠাবসা ও দেখা-সাক্ষাৎ করে কিংবা একে অন্যের জন্য খরচ করে, তাদের জন্য আমার ভালোবাসা ওয়াজিব হয়ে যায়।
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, কারো উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে যেয়ো না। মনে রেখো, অন্ধকারে তোমার ছায়াও তোমাকে ছেড়ে চলে যায়।
أَلَيْسَ اللَّهُ بِكَافٍ عَبْدَه *
আল্লাহ কি তাঁর বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? [সুরা জুমার, আয়াত: ৩৬]
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট। [সুরা ত্বলাক, আয়াত : ৩]
টিকাঃ
১০ সহিহ মুসলিম ২৫৬৪
১১. সহিহ মুসলিম : ৪৩
৯৭. মুসনাদে আহমদ: ২১৫২৫
📄 দুর্ভাগ্য-সৌভাগ্যের আলামত পাঁচটি
ইমাম ফুযাইল বিন ইয়াদ্ব (রাহ.) বলেন, দুঃখ-দুর্ভাগ্যের আলামত পাঁচটি-
১. অন্তর কঠিন ও শক্ত হওয়া;
২. চোখ অশ্রুসজল না হওয়া;
৩. লজ্জা-শরম কম হওয়া;
৪. দুনিয়ার প্রতি মুহাব্বাত এবং
৫. দীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা।
এর বিপরীতে পাঁচটি বিষয় সৌভাগ্যের আলামত-
১. অন্তরের দৃঢ়তা;
২. তাকওয়া;
৩. দুনিয়ার প্রতি অনীহা;
৪. স্বাভাবিক লজ্জা-শরম থাকা এবং
৫. ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) অর্জন করা।
যে অন্তর আল্লাহর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ হওয়ার কথা ছিল, সেই অন্তরালে দুনিয়ার ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তাই তো আজকে আল্লাহকে পাওয়ার জন্য, জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য আমাদের চোখ দিয়ে অশ্রু বিজড়িত হয় না।
শায়খ আবদুল আজিজ ইবনু শায়খ আবদুল আজিজ ইবনু বাজ (রাহ.) বলেন, আল্লাহর দিকে আহবানকারী ও উপদেশ দানকারী ব্যক্তি হলো ডাক্তারের মতো; সে উপযুক্ত সময়, উপযুক্ত পরিমাণ ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে প্রচেষ্টা চালাবে।