📄 নির্ভর গুনাহ
ইবনুল জাওজি রহিমাহুল্লাহ বলেন, গুনাহ থেকে সাবধান! গুনাহ থেকে সাবধান! বিশেষত নির্জনের গুনাহ থেকে। কেননা, আল্লাহর সঙ্গে দ্বন্দ্ব করা বান্দাকে আল্লাহর চোখে মূল্যহীন করে দেয়। তোমার ও আল্লাহর মাঝের নিভৃতের অবস্থাকে সংশোধন কর; তবে তিনি তোমার বাহ্যিক অবস্থাগুলো সংশোধন করে দিবেন।৮৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের রব বলেন, হে বনি আদম তুমি আমার ইবাদতের জন্য মনোনিবেশ করো, আমি তোমার অন্তরকে সচ্ছলতায় ভরে দেব, তোমার হাত রিজিক দ্বারা পূর্ণ করে দেব। হে বনি আদম, তুমি আমার থেকে দূরে যেয়ো না। ফলে আমি তোমার অন্তর পূর্ণ করে দেব এবং তোমার দুহাতকে কর্ম ব্যস্ত করে দেব।৮৭
ফুজাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, সুসংবাদ তার জন্য যে মানুষের মাঝে নির্জনতা বোধ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যায়।
টিকাঃ
৮৬. সাইদুল খাত্বের, পৃষ্ঠা-২০৭
৮৭. সহিহ হাদিসে কুদসি, হাদিস নং ২৭
📄 আমলের স্বাদ
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহকে বলতে শুনেছি! যদি আমলের কারণে তুমি হৃদয়ের স্বাদ অনুভব না করো; তাহলে ওই আমলে ত্রুটি রয়েছে ধরে নাও। কেননা আল্লাহ তো পরম প্রতিদান দাতা অর্থাৎ তিনি আমলকারীর দুনিয়াতে অন্তরের প্রশান্তি দিয়ে তার প্রতিদান দেন এবং তুমি যদি তা না পাও, তাহলে মনে করতে হবে তোমার আমলে ভেজাল আছে।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللَّهِ أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর জিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি পায়। [সুরা রাদ আয়াত ২৮]
📄 আল্লাহর দিকে অগ্রসর হওয়ার উপায় কি?
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, আল্লাহর দেয়া প্রাপ্ত নেয়ামতরাজির প্রতি মনোযোগ সহকারে দৃষ্টি দেওয়া ও নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পর্যবেক্ষণ করার মাধ্যমে একজন বান্দা আল্লাহর দিকে অগ্রসর হতে থাকে。
ইমাম সুফিয়ান সাওরিকে জিজ্ঞেস করা হলো, নেক আমল কী? জবাবে তিনি বলেন, যে আমল দ্বারা তুমি কারো নিকট নিজের প্রশংসার আশা করো না। অর্থাৎ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য যা করা হয়, তাই নেক আমল।
ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, যে যত বেশি আল্লাহর মারেফত (আল্লাহকে চেনা) অর্জন করবে, তার তাওয়াক্কুল তত বেশি শক্তিশালী হবে।
টিকাঃ
বাহজাতুল মাজালিস: ৩/৩৪৪
মাদারিজুস সালিকিন
📄 আল্লাহর নিকট মর্যাদিশীল ব্যক্তি
মানুষ আল্লাহর নিকট মর্যাদাশীল হয়, তাকওয়ার কারণে। অনেক মানুষ আছে, যাদের দুর্বলতা দরিদ্রতার কারণে মানুষ হেয় প্রতিপন্ন করে কিন্তু আল্লাহর নিকট সে তার অধিক মর্যাদাশীল। কারণ, আল্লাহ তাআলা কারো টাকাপয়সা যশখ্যাতি দেখেন না, তিনি দেখেন তাকওয়া।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَكُمْ
তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকি।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের আকৃতি ও সম্পদের দিকে লক্ষ্য করেন না। তিনি লক্ষ্য করেন তোমাদের অন্তর এবং আমলের দিকে।
ফুজাইল রহিমাহুল্লাহ বলেন, সুসংবাদ তার জন্য যে মানুষের মাঝে নির্জনতা বোধ করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে যায়।
মানুষের স্মরণে অন্তরে ব্যধি সৃষ্টি হয়, আর আল্লাহর স্মরনে অন্তর থেকে ব্যাধি দূর হয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوْا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ سَيَجْعَلُ لَهُمُ الرَّحْمَنُ وُدًّا.
নিশ্চয় যারা ঈমান আনে এবং সৎ কাজ করে, পরম করুণাময় অবশ্যই তাদের জন্য (বান্দাদের হৃদয়ে) ভালোবাসা সৃষ্টি করবেন। [সুরা মারইয়াম আয়াত: ৯৬]