📄 নিঃসন্দেহে কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে
আমাদের জীবনটা যে কষ্ট এবং স্বস্তির একটি চক্র, সেটাও এই আয়াত দুটিতে দেখানো হয়েছে। কোনো কষ্ট থেকে স্বস্তি পেলে আমরা যেন মনে না করি যে, এখন থেকে শুধু আরামেই থাকবো। এত বড় একটা কষ্ট পার করলাম, আর কোনো কষ্ট নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমাকে দেবেন না? আমি না একজন পিওর মুসলিম? যারা রবের ইবাদত করে তাদের বিপদ হবে কেন—তারপর যখন আবার জীবনে কোনো কষ্ট আসে, তখন হতাশায় ডুবে যাই— কেন? আমার জীবনে বারবার কষ্ট আসে কেন? আমি কী অন্যায় করেছি? আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, জাকাত দেই। তাহলে আমার জীবনে বারবার কষ্ট আসে কেন?
আমরা যদি তিন ধরনের মানুষকে দেখি—
১) নিয়মিত মুসলিম কিন্তু ঈমানে ফাটল আছে।
২) নামে মুসলিম, কাজে যে কী, সে নিজেও জানে না।
৩) বাইরে মুসলিম, ভেতরে ইসলাম-বিদ্বেষী— এদেরকে আলাদা করার জন্য আল্লাহ তাআলা নানা ধরনের পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষাগুলো অনেক সময় ভীষণ কষ্টের হয়। কিন্তু এই পরীক্ষাগুলোর মধ্য দিয়েই তাদের ঈমানের যাচাই হয়ে যায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
مَا وَدَّعَكَ رَبُّكَ وَ مَا قَلَى *
তোমার রব তোমাকে পরিত্যাগ করেননি এবং অসন্তুষ্টও হননি।
و للاخرة خير لك من الاولى
আর অবশ্যই তোমার জন্য পরবর্তী সময় পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে উত্তম।
আমার সবচাইতে প্রিয় আয়াত—
وَ لَسَوْفَ يُعْطِيكَ رَبُّكَ فَتَرَضَى .
আর অচিরেই তোমার রব তোমাকে এত দান করবেন, ফলে তুমি সন্তুষ্ট হবে। [সুরা আদ দোহা, আয়াত: ৩-৫]
এক বিজ্ঞ আলেম বলেছেন যে, আমি যখনই আল্লাহর কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাআলা যদি সেটি আমাকে দেন, তাহলে আমি একবার সন্তুষ্ট হই। আর তিনি যদি আমাকে সেটা না দেন, আমি দশবার সন্তুষ্ট হই। কেননা প্রথমটি হলো, আমার ইচ্ছা আর দ্বিতীয়টি হলো, সেই মহান প্রতিপালকের ইচ্ছা, যিনি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন। সুবহানাল্লাহ!
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
বস্তুত আল্লাহই জানেন, তোমরা জানো না।
বিশ্বাস করুন, আল্লাহ যা নেয়, তার থেকে হাজার গুণ বেশি তিনি ফিরত দেন। হয়তো বাহ্যিকভাবে মনে হবে কেন আমার সঙ্গে বারবার এমন হয়। কেন আমি যেটা চাই কখনই সেটা আমার হয় না। কিন্তু পরক্ষণেই দেখবেন, আপনি যেটা চাইতেন সেটা কখনোই আপনার জন্য কখনোই কল্যাণকর ছিল না।
وَ وَجَدَكَ ضَالًا فَهَدَى
আর তিনি তোমাকে পেয়েছেন পথহারা। তারপর তোমারে সঠিক পথ দিয়েছেন। [সুরা দোহা আয়াত: ৭]
সুবহানাল্লাহ, কত প্রশান্তিকর এই আয়াতগুলো।
কুরআনে শুধু এই আয়াত নয়, এরকম আরও অনেক আয়াত রয়েছে, যা আমাদেরকে হতাশা, অস্থিরতা ও অপ্রাপ্তির কষ্ট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। জীবনে কেন কোনো একটি কষ্ট এসেছে, তা বুঝতে সাহায্য করবে। কুরআন আমাদের আত্মার জন্য এক নিরাময়। একে আল্লাহ তাআলা পাঠিয়েছেন যেন দিশেহারা মানবজাতি পথ খুঁজে পায়। এ কারণে কুরআনে আমরা অনেক আয়াত পাই, যেখানে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে জীবনের নানা সমস্যা মোকাবেলা করার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন।
চারদিকে এত কষ্ট, এত কান্না, এত হতাশা ভাবছেন আপনার কী দোষ?
وَأَنَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى
তিনিই সেই সত্তা, যিনি মানুষকে হাসান এবং কাঁদান। তিনিই তো মৃত্যু দেন, জীবন দেন। [আন-নাজম, আয়াত: ৪৩]
যখন বিপদ আসবে তখন কি করবেন ভাবছেন-
أَوَ لَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُوْنَ فِي كُلِّ عَامٍ مَّرَّةٍ أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوْبُوْنَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُوْنَ .
তারা কি লক্ষ্য করে দেখে না যে, প্রতি বছর তাদের উপর দুই-একবার বিপদ আসছে? এরপরও ওরা তওবা করে না, উপলব্ধি করার চেষ্টা করে না। [আত-তাওবা, আয়াত: ১২৬]
জীবনটা অতিরিক্ত কষ্টের মনে হচ্ছে? আর পারছেন না সহ্য করতে?
لَا يُكَلِّفُ اللهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَ عَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَت رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا .
আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা কখনো দেন না। প্রত্যেকেই যা ভালো করেছে, তার পুরস্কার পায়; যা খারাপ করেছে, তার পরিণাম ভোগ করে। [আল-বাক্বারা : ২৮৬]
জীবনটা শুধুই কষ্ট আর কষ্ট? কোনো ভালো কিছু নেই?
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অবশ্যই অন্য কোনো না কোনো দিক থেকে স্বস্তি রয়েছে। কোনো সন্দেহ নেই, অবশ্যই প্রতিটি কষ্টের সঙ্গে অন্য দিকে স্বস্তি আছেই। [আল-ইনশিরাহ : ৫-৬]
আপনি নামাজ, রোজা, জাকাত সব নিয়ম মেনে চলেন। তারপরও আপনার জীবনে কেন এত কষ্ট?
وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ ، فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ
মানুষ কি ভেবেছে যে, তাদেরকে কোনো পরীক্ষা না করেই ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ, তারা মুখে বলছে, আমরা তো মুমিন! [আল-আনকাবুত : ২]
أَمْ حَسِبْتُمْ أَنْ تَدْخُلُوا الْجَنَّةَ وَ لَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جُهَدُوْا مِنْكُمْ وَ يَعْلَمَ الصَّبِرِينَ .
তোমরা কি ভেবেছিলে যে, তোমাদের মধ্যে থেকে কারা আল্লাহর পথে আপ্রাণ চেষ্টা করে এবং কারা ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা করে—সেটা আল্লাহ প্রকাশ না করে দেওয়ার আগেই তোমরা জান্নাত পেয়ে যাবে? [আলে-ইমরান ১৪২]
وَ مَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَ نَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ أَعْمَى.
যেই আমার পথনির্দেশ থেকে দূরে চলে যাবে, তারই জীবন হয়ে যাবে ভীষণ কষ্টের। [সুরা ত্বাহা, আয়াত: ১২৪]
অশান্তিতে ছটফট করছেন? রাতে ঘুমাতে পারছেন না? ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন? ওষুধ খেয়েও মনে শান্তি আসছে না?
الَّذِينَ آمَنُوا وَتَطْمَئِنُّ قُلُوْبُهُمْ بِذِكْرِ اللَّهِ * أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ ()
যাদের ঈমান আছে, তারা যখন আল্লাহর কথা ভাবে, জিকির করে, তখন তাদের মন শান্তি খুঁজে পায়। মনে রেখো, আল্লাহর কথা ভাবলে, জিকির করলে, নিশ্চয়ই মনে শান্তি খুঁজে পাবেই। [সুরা আর-রাদ, আয়াত : ২৮]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
তোমরা যারা বিশ্বাস করেছ, ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা করো এবং নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। কারণ আল্লাহ তাদের সঙ্গে আছেন, যারা ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা করে। [আল-বাক্বারাহ: ১৫৩]
দেশে অরাজকতা, অশান্তি ও অপরাধ দেখে সবসময় অকালে মৃত্যুর ভয়ে কাবু হয়ে আছেন? ভাবছেন বিদেশে চলে যাবেন?
أَيْنَ مَا تَكُوْنُوْا يُدْرِكُكُمُ الْمَوْتُ وَ لَوْ كُنْتُمْ فِي بُرُوْجٍ مُّشَيَّدَةٍ
তুমি যেখানেই যাও না কেন, মৃত্যু তোমাকে ধরবেই। তুমি যদি অনেক উঁচু দালান বানিয়েও থাকো। [আন-নিসা, আয়াত: ৭৮]
বলো, তোমরা যদি নিজেদের ঘরের ভিতরেও থাকতে, যারা খুন হবে বলে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তারা নিজেরাই বের হয়ে নিজেদের মৃত্যুর সঙ্গে দেখা করতে যেত। [আল-ইমরান, আয়াত: ১৫৪]
আপনার কোনো নিকটজন প্রাণ হারালো আর আপনি ভাবছেন- হায়, যদি সে অমুক করত, অমুক না করত, তাহলে সে বেঁচে যেত?
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ كَفَرُوا وَقَالُوا لِإِخْوَانِهِمْ إِذَا ضَرَبُوا فِي الْأَرْضِ أَوْ كَانُوا غُزّى لَوْ كَانُوا عِنْدَنَا مَا مَاتُوا وَمَا قُتِلُوا لِيَجْعَلَ اللَّهُ ذَلِكَ حَسْرَةً فِي قُلُوبِهِمْ وَاللَّهُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
তোমরা যারা বিশ্বাস করেছ বলে দাবি করো, ওই সব কাফিরদের মতো হয়ো না, যারা তাদের ভাইদের সম্পর্কে বলে (যখন তারা ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিল, ভ্রমণে গিয়েছিল), হায়রে, যদি তারা আমাদের সঙ্গে থাকতো, তাহলে তারা মারা যেত না, খুনও হতো না।
আল্লাহ এই ধরনের চিন্তাভাবনাকে তাদের অন্তরে তীব্র মানসিক যন্ত্রণার উৎস করে দেন। শুধুমাত্র আল্লাহই প্রাণ দেন, মৃত্যু ঘটান। তোমরা কী করো, তার সব তিনি দেখছেন। [আলে-ইমরান, আয়াত : ১৫৬]
অমুকের এত বাড়ি-গাড়ি-টাকা দেখে ভাবছেন, কেন তার মতো জীবন আপনার হলো না! কিন্তু আপনি কি জানেন; তাদের সম্পদ দিয়ে আল্লাহ কি করতে চান? দেখুন আল্লাহ কি বলেন-
وَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَأَوْلَادُهُمْ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ
ওদের এত ধনসম্পত্তি, সন্তানসন্ততি তোমাকে আশ্চর্যান্বিত করে না দেয়। এগুলো দিয়ে আল্লাহ শুধুমাত্র ওদেরকে এই দুনিয়াতে পরীক্ষা নিতে চান, যেন তাদের আত্মা কাফির অবস্থায় এখান থেকে চিরবিদায় নেয়। [আত-তাওবাহ, আয়াত:৮৫]
চাকরি হারিয়ে আপনার মাথায় হাত। কেন আপনার সঙ্গে এমনটা হলো? কেন আপনার সন্তান এত গুরুতর অসুস্থ হলো? কেন আপনার বাবা এই দুঃসময়ে মারা গেলেন?
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ . الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ . أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتُ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةً وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ
আমি তোমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পত্তি, জীবন এবং ফসল হারানো দিয়ে পরীক্ষা করবোই। জীবনে কোনো বিপদ এলে যারা ধৈর্যের সঙ্গে চেষ্টা করে এবং বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বলে, আমরা তো আল্লাহর জন্যই। আল্লাহরই কাছে আমরা শেষ পর্যন্ত ফিরে যাবো। তাদেরকে সুসংবাদ দাও! ওদের উপর তাদের প্রভুর কাছ থেকে আছে বিশেষ অনুগ্রহ এবং শান্তি। এধরনের মানুষরাই সঠিকপথে আছে। [আল-বাকারা, আয়াত: ১৫৫-১৫৭]
وَ اعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَالُكُمْ وَ أَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ ، وَ أَنَّ اللَّهَ عِنْدَه أَجْرُ عَظِيمُ
মনে রেখো, তোমার যা ধনসম্পদ আছে এবং তোমার সন্তানরা, এগুলো শুধু তোমার জন্য পরীক্ষা ছাড়া আর কিছু নয়। আর মনে রেখো, আল্লাহর কাছে রয়েছে অপরিসীম পুরস্কার। [আল-আনফাল, আয়াত: ২৮]
أَوَ لَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُوْنَ فِي كُلِّ عَامٍ مَّرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوْبُوْنَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ.
তারা কি লক্ষ্য করে দেখে না যে, প্রতিবছর তাদের উপর দুই-একবার বিপদ আসছে? এর পরও ওরা তওবাহ করে না, উপলব্ধি করার চেষ্টা করে না। [আত-তাওবাহ, আয়াত : ১২৬]
আসুন আমরা কুরআনের আয়াতগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করি। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কুরআন দিয়েছেন এক আত্মিক নিরাময় হিসেবে। আমাদের অনেক মানসিক সমস্যার সমাধান রয়েছে কুরআনে। নিয়মিত বুঝে কুরআন পড়লে আমরা খুব সহজেই ওষুধের উপর আমাদের নির্ভরতা কমিয়ে আনতে পারব, স্ট্রেস-ডিপ্রেশন থেকে মুক্ত হয়ে শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ জীবনযাপন করতে পারব ইনশাআল্লাহ।
তাই যখনই কোনো কাজ থেকে অবসর পাও, তখনই নিবেদিত হও, তোমার প্রভুকে পাওয়ার জন্য তাঁর দিকে ফিরে যাও।
এই শেষ আয়াতটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম কোনো পার্টটাইম প্রজেক্ট নয় যে, বাকি সব কাজ শেষ হলে যদি সময় পাওয়া যায় তো একা কিছু ধর্মকর্ম করবো, না হলে কী আর করা? পড়ালেখা, চাকরি, পরিবারের দেখাশোনা, ইসলামের দাওয়াত দেওয়া, আর্টিকেল লেখা, ফেইসবুকে ধর্মের কথা বলা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সমস্যার সমাধান করা, এত সব দায়িত্বের পর একা ধর্মকর্ম করার সময় কোথায়?
বরং আল্লাহ তাআলা বলছেন যে, যখনি আমরা কাজের ফাঁকে সময় পাবো, তখনি যেন আমরা আল্লাহর তাআলা প্রতি আরও নিবেদিত হই। শুধুই আল্লাহর তাআলা প্রতি একান্ত ইবাদতে নিজেকে ক্লান্ত করে ফেলি। একান্তে আল্লাহর তাআলা ইবাদত খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আল্লাহ আপনাকে যেসব নিয়ামত দান করেছেন, তার প্রত্যেকটির কথা স্মরণ করুন। এ নিয়ামত বিশেষ আকারে নিজেকে প্রকাশ করতে চায়। সামগ্রিকভাবে সমস্ত নিয়ামত প্রকাশের পদ্ধতি নিম্নরূপ: মুখে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে এবং একথায় স্বীকৃতি দিতে হবে যে, আমি যেসব নিয়ামত লাভ করেছি, সবই আল্লাহর মেহেরবানি ও অনুগ্রহের ফল। এর মধ্যে কোনো একটিও আমার নিজের ব্যক্তিগত উপার্জনের ফসল নয়।
মানুষ সৃষ্টির সেরা। কিন্তু মানুষ আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে ভুলে গিয়ে আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করে। বান্দার প্রতি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করে দিয়ে আল্লাহ তাআলা খুব আক্ষেপের সঙ্গে বলেন-
يَأَيُّهَا الْإِنْسَانُ مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الكَرِيمِ
হে মানুষ! কীসে তোমাকে তোমার মহান পালনকর্তা সম্পর্কে বিভ্রান্ত করল।
الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّنَكَ فَعَدَلَكَ
অথচ যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুবিন্যস্ত করেছেন এবং সুষম করেছেন। [সুরা ইনফিতার : ৬, ৭]
অন্য আয়াতে তিনি বলেছেন-
كَيْفَ تَكْفُرُوْنَ بِاللَّهِ وَ كُنْتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ، ثُمَّ يُمِيْتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُوْنَ .
কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরি অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি তোমরা প্রত্যাবর্তন করবে। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮]
আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে কতটা ভালোবাসে, সেটা বোঝার জন্য এই হাদিসটাই যথেষ্ট।
শয়তান চায় বান্দাকে জাহান্নামে নিয়ে যেতে। পক্ষান্তরে আল্লাহ চায় বান্দাকে চিরস্থায়ী জান্নাতে নিতে। তাই তো আল্লাহ তায়ালা বান্দার অল্প আমলেই বেশি সওয়াব দিয়ে থাকেন। যেমন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ সম্পর্কে বলেছেন, 'যে ব্যক্তি কোনো সৎকাজের ইচ্ছা করে কিন্তু তা করেনি, আল্লাহ তাআলা তাকে পূর্ণ একটি নেকি দান করেন। আর যদি ইচ্ছা করার পর এ কাজ করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে দশগুণ হতে ৭০০ গুণ পর্যন্ত, এমনকি তার চেয়ে বেশি গুণ সওয়াব দান করেন। পক্ষান্তরে কোনো ব্যক্তি যদি গোনাহের কাজের ইচ্ছা করে, কিন্তু তা সে করেনি। তাহলে আল্লাহ তার বিনিময়ে একটি পূর্ণ নেকি লিখে দেন। আর যদি ইচ্ছা করার পর সে গুনাহ এর কাজটি করে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার একটিমাত্র গুনাহ লিখে দেন।
এই দুনিয়ার মূল্য কত? যার পেছনে আমরা পাগলের মতো ছুটছি?
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَوْ كَانَتِ الدُّنْيَا تَعْدِلُ عِنْدَ اللَّهِ جَنَاحَ بَعُوضَةٍ مَا سَقَى كَافِرًا مِنْهَا شَرْبَةَ مَاءٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثُ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
সাহল ইবনু সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নিকট যদি এই পৃথিবীর মূল্য মশার একটি পাখার সমান হতো, তাহলে তিনি কোনো কাফিরকে এখানকার পানির এক ঢোকও পান করাতেন না।
حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ شَدَّادٍ، قَالَ كُنْتُ مَعَ الرَّكْبِ الَّذِينَ وَقَفُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى السَّخْلَةِ الْمَيِّتَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَرَوْنَ هَذِهِ هَانَتْ عَلَى أَهْلِهَا حِينَ أَلْقَوْهَا " . قَالُوا مِنْ هَوَانِهَا أَلْقَوْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " فَالدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا " . وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَابْنِ عُمَرَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ الْمُسْتَوْرِدِ حَدِيثُ حَسَنٌ .
মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ (রা) থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, আমি আরোহীদলের সঙ্গে ছিলাম, যারা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে একটি মৃত ছাগল ছানার পাশে এসে দাঁড়ান। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রশ্ন করলেন, তোমরা কি মনে কর, তার মনিবের নিকট এটা নিকৃষ্ট ও মূল্যহীন হওয়ায় সে তা নিক্ষেপ করেছে? তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এটা মূল্যহীন হওয়ার কারণে তারা ফেলে দিয়েছে। তিনি বললেন, তার মনিবের নিকট এটা যতটুক মূল্যহীন, আল্লাহ তাআলার নিকট পৃথিবীটা এর চেয়েও অধিক মূল্যহীন ও নিকৃষ্ট।
টিকাঃ
". জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩২০
". জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩২৫
📄 আল্লাহ কেন মানুষ সৃষ্টি করেছেন
দুনিয়াতে মানুষের আগমন ও জীবনের লক্ষ্য হলো, আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধানের বাস্তবায়ন তথা তাঁর ইবাদত-বন্দেগী করা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন—
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ
আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধুমাত্র আমার ইবাদত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি। অর্থাৎ ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি। [সূরা যারিয়াত : আয়াত ৫৬]
সূরা যারিয়াতের এ আয়াতে উঠে এসেছে মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কি? আর ইবাদতই বা কি?
মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলার ইবাদত-বন্দেগী করা। আর ইবাদত হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নির্দেশিত পথে ও মতে জীবন পরিচালনা করা। আল্লাহ ‘ইবাদত’ শব্দটি ‘আবদ’ শব্দ হতে এসেছে। আর ‘আবদ’ অর্থ হলো দাস বা গোলাম। সুতরাং ‘লিয়া’ বুদুন তথা ইবাদত’ মানে হলো, আল্লাহর গোলামি করা বা বন্দেগি করা। আর দুনিয়াতে যে ব্যক্তি আল্লাহর গোলামি করবে, ওই ব্যক্তিই সফলকাম।
ইবাদত সম্পর্কে মানুষের ভুল ধারণা! মানুষ মনে করে, কুরআনে নির্দেশ পালনে নামাজ আদায় করা, রোজা ও হজ পালন করা, জাকাত দেয়া, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার, কুরআন তেলাওয়াত করার নামই ইবাদত। না, ইবাদত মানে তা নয়।
ইসলামের সকল বিধিবিধান পালন করা এবং আল্লাহ তাআলার যা নিষেধ করেছেন, সেগুলো থেকে বিরত থাকার নাম ইবাদত। কিন্তু মিথ্যা কথা বলে, সুদ-ঘুষে জড়িত থেকে লোক দেখানো ইবাদত করে, বেহায়াপনা, চোগলখুরি, হিংসা-বিদ্বেষ ও মুনাফেকির সঙ্গে লিপ্ত থেকে শুধুমাত্র নামাজ রোজার মতো অন্যান্য আমল করার নাম ইবাদত নয়।
কুরআন-সুন্নাহর নিষেধগুলো পরিত্যাগ করে আদেশ পালন হলো ইবাদত তথা বন্দেগি। কারণ, ইবাদত হলো আল্লাহ তাআলা হুকুম-আহকাম যথাযথভাবে পালন করা। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন-
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ .
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাক এবং আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা। [সুরা হাশর: আয়াত ৭]
টিকাঃ
৭৯ দা রিযাল লাউড
📄 প্রতিপালক হিসাবে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হওয়ার অর্থ
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ওই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পেয়েছে, যে রব হিসেবে আল্লাহকে, দ্বীন হিসেবে ইসলামকে এবং রাসুল হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে সন্তুষ্ট।৭৯
আল্লাহকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেওয়ার অর্থ হলো তাকদির ও আল্লাহর ব্যবস্থার উপর সন্তুষ্ট থাকা। অর্থাৎ অন্তরে বিশ্বাস রাখা বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তার জন্য ক্ষতিকর নয় এবং যা তার জন্য ক্ষতিকর, তা তার জন্য নির্ধারিত করা হয়নি। সঙ্গে সঙ্গে যে সকল বিষয় তার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা। বান্দা যখন আল্লাহকে সন্তুষ্ট চিত্তে মেনে নেবে, তখন আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে যান। আর কারো প্রতি আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্ট হলে তিনি তাকে সন্তুষ্ট করবেন এবং তাকে হেফাজত করবেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারাও আল্লাহ তাআলার প্রতি সন্তুষ্ট। [সুরা মায়েদা, আয়াত: ১১৯]
হাসান ইবনে উরওয়াহ তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলতেন, আমার সঙ্গে আমার রবের আচরণ কতই না চমৎকার। তিনি আমার থেকে একটা অঙ্গ নিয়েছেন বাকি তিনটা অঙ্গ রেখে দিয়েছেন।
ক্যান্সারের কারণে তার হাঁটুর দিক থেকে একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছিল [কিতাবুজ জুহদ] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন! আমার উম্মতের সকলে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে যারা অস্বীকার করে তারা প্রবেশ করবে না। সাহাবিরা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অস্বীকারকারী কারা? তিনি বলেন, যারা আমার আনুগত্য করবে, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যারা আমার অবাধ্য করবে, তারাই হলো অস্বীকারকারী।৮০
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুগত সম্পর্কে সুরা নিসার ৬৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا .
হে নবি আপনার প্রতিপালকের শপথ, তারা কখনও ঈমানদার হতে পারবে না, যে পর্যন্ত তারা আপনাকে তাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিচারক না করে এবং আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের মনে কোনো অনীহা বা দুঃখ না থাকে এবং যে পর্যন্ত তারা আপনার বিচারকে সম্পূর্ণরূপে মনেপ্রাণে না মেনে নেয়।
রাসুল হিসেবে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর সন্তুষ্ট থাকার দাবি হলো-তাঁর সকল কথাকে বিশ্বাস করা, তাঁকে ভালোবাসা, তাঁর আদেশসমূহ মেনে চলা, নিষিদ্ধ বিষয়কে বর্জন করা। তাঁর আনীত দ্বীন তথা জীবন-বিধানকে জীবনের পন্থা হিসেবে গ্রহণ করা।
টিকাঃ
*. সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৬, সহিহ মুসলিম ৩৪
৮০ বুখারী ৭২৮০
📄 দুনিয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক কি?
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، أَخْبَرَنِي الْمَسْعُودِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَصِيرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَرَ فِي جَنْبِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ وِطَاءً . فَقَالَ " ما لِي وَمَا لِلدُّنْيَا مَا أَنَا فِي الدُّنْيَا إِلَّا كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثُ حَسَنٌ صَحِيحُ .
আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত-তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সালাম কোনো একসময় খেজুর পাতার মাদুরে শুয়েছিলেন। তিনি ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে দাঁড়ালে দেখা গেল, তার গায়ে মাদুরের দাগ পড়ে গেছে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা আপনার জন্য যদি একটি নরম বিছানার (তোষক) ব্যবস্থা করতাম। তিনি বললেন, দুনিয়ার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? দুনিয়াতে আমি এমন একজন পথচারী মুসাফির ছাড়া তো আর কিছুই নই, যে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিলো, তারপর তা ছেড়ে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে গেল। ৮২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنِ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الدُّنْيَا سِجْنُ الْمُؤْمِنِ وَجَنَّةُ الْكَافِرِ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, দুনিয়া (পার্থিব জীবন) মুমিনদের জন্য কারাগারস্বরূপ এবং কাফিরদের জন্য জান্নাত স্বরূপ।৮৩
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—আল্লাহ যখন কাউকে ভালোবাসেন, তখন তাকে দুনিয়া থেকে সেভাবে দূরে রাখেন, যেভাবে তোমরা অসুস্থ ব্যক্তিকে পানি থেকে দূরে রাখো।৮৪
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমার জন্য যা কল্যাণকর, তা অর্জনের জন্য তুমি প্রলুব্ধ হও আর আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও। কখনই হতাশ হয়ো না। যদি কখনো বিপদে পড়, তবে কখনই এ-কথা বলবে না যে, যদি আমি এমন এমন করতাম, তাহলে তো আর এটি হতো ন! বরং তুমি বলবে, সবই আল্লাহ তাআলা কর্তৃক নির্ধারিত ব্যাপার; তিনি যা ইচ্ছা তা করেছেন। কেননা 'যদি' (কথাটি) শয়তানের কাজের পথ খুলে দেয়।৮৫
টিকাঃ
৮১ আল-মুদহাশ, ২৭০ পৃষ্ঠা
• জামেআত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩৭৭
৮৩. জামে' আত-তিরমিজি, হাদিস নং ২৩২৪
৮৪. ইবনু হিব্বان, আস-সহিহ: ২/৪৪৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ: ৪/২১০
৮৫. সহিহ মুসলিম: ২৬৬৪