📄 বিপদের সময়ে ৩টি হাদিস
বিপদের সময়ের এই হাদিসগুলো স্মরণ করুন দুশ্চিন্তা কেটে যাবে, ইনশাআল্লাহ।
এক. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যে ব্যক্তির কল্যাণ চান তাকে বিপদে ফেলেন।
দুই. রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন দুনিয়াতে তার জন্য তাড়াতাড়ি বিপদাপদ নাজিল করে দেন। আর যখন তিনি তাঁর বান্দার অমঙ্গলের ইচ্ছা করেন, তখন তাকে গোনাহের মধ্যে ছেড়ে দেন। অবশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পাকড়াও করবেন।
তিন. নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—বিপদাপদ যত বড় হয়, তার প্রতিদানও তত বড় হয়। আল্লাহ, তাআলা যখন কোনো সম্প্রদায়কে ভালোবাসেন, তখন তিনি তাদের পরীক্ষা নেন। যে তাতে সন্তুষ্ট থাকবে তার জন্য হবে আল্লাহ সন্তুষ্টি। আর তাতে যে অসন্তুষ্ট হবে তার জন্য হবে আল্লাহর অসন্তুষ্টি।
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—অন্যের নিকট নিজের দুঃখ বলে বেড়ানোর অভ্যাস স্বেচ্ছায় নিজেকে লাঞ্ছিত করার নামান্তর মাত্র।
সুতরাং দুঃখ যদি বলতে হয়, তাহলে যিনি সমাধানের মালিক, যিনি দুঃখ মুছে দেওয়ার মালিক, যিনি আপনার সবকিছু সহজ করে দেওয়ার মালিক, সেই মহান আল্লাহর কাছে আপনার সবকিছু পেশ করুন।
মনে রাখবেন, আল্লাহ আপনার মনের ব্যথা, আকুলতা যেভাবে বুঝবেন এবং সমাধান করবেন, তা দুনিয়ার কোনো মাখলুকাতের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং যা কিছু চাওয়ার আল্লাহর কাছেই চান।
টিকাঃ
৭৪. বুখারি, রিয়াদুস সালিহিন, ৩৯
৭৫. তিরমিজি, রিয়াদুস সালিহিন, ৪৩
৭৬. তিরমিজি, হাদিস নং-২৩৯৫
📄 দুঃখকষ্ট ভুলিয়ে দেওয়ার মতো কিছু আয়াত
আমরা সবাই শান্তি খুঁজি। কিন্তু অধিকাংশ মানুষই শান্তি খুঁজি যিনি শান্তির মালিক তার অবাধ্য হয়ে। যিনি শান্তির মালিক তাঁর অবাধ্য হয়ে কি শান্তি খুঁজে পাওয়া যায়?
মানসিক দুশ্চিন্তা বা ডিপ্রেশনের সময় অনেকেই গান শুনে, মুভি দেখে কষ্ট ভুলবার চেষ্টা করে। আসলেই কি এভাবে দুঃখকষ্ট নিবারণ হয়? মোটেই না। বরং সাময়িক ফ্যান্টাসিতে ভোগা যায়। অথচ পবিত্র কুরআনে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা সত্যিই একজন মানুষের সব দুঃখকষ্ট ভুলিয়ে দিতে পারে। আসুন দেখি সেরকমই কিছু আয়াত—
سَيَجْعَلُ اللَّهُ بَعْدَ عُسْرِ يُسْرًا
আল্লাহ কষ্টের পর সুখ দিবেন। [সুরা তালাক : ৭]
إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে রয়েছে স্বস্তি। [সুরা ইনশিরাহ : ৬]
إِنَّمَا أَشْكُو بَتِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ
আমি তো আমার দুঃখ ও অস্থিরতাগুলো আল্লাহর সমীপেই নিবেদন করছি’ [সুরা ইউসুফ, আয়াত: ৮৬]
أَلَا إِنَّ نَصْرَ اللَّهِ قَرِيبٌ
জেনে রেখো, আল্লাহর সাহায্য নিকটে। [সুরা বাকারা: ২১৪]
وَلَا تَيْأَسُوا مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِنَّهُ لَا يَيْأَسُ مِن رَّوْحِ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْكَافِرُونَ
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না। [সুরা ইউসুফ : ৮৭]
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
আল্লাহ কোনো ব্যক্তির উপর তার সাধ্যের চাইতে বেশি বোঝা চাপিয়ে দেন না। [সুরা বাকারা: ২৮৬]
وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَيْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
এবং অবশ্যই আমি তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, মাল ও জানের ক্ষতি ও ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে। তবে সুসংবাদ দাও ধৈর্যশীলদের। [সুরা বাক্বারা : ১৫৫]
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ
হে ঈমানদারগণ, তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। [সুরা বাকারা : ১৫৩]
وَلَمْ أَكُن بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا
হে আল্লাহ, আমি তো কখনো আপনাকে ডেকে ব্যর্থ হইনি। [সুরা মারইয়াম : ৪]