📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 পরিশুদ্ধ অন্তর গুণাবলি

📄 পরিশুদ্ধ অন্তর গুণাবলি


ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমাদের অন্তর যদি পরিশুদ্ধ হতো, তাহলে গুনাহ করার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে তোলপাড় ও অশান্তি শুরু হয়ে যেত।
এ সমস্যার সর্বোৎকৃষ্ট সমাধান হলো, আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়া। যে আল্লাহর এবং কুরআনের নিকটবর্তী হতে চায়, তার উচিত নিজেকে ফিতনাহ থেকে হেফাজত করা। সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে ঐ সকল গুনাহ থেকেও দূরে রাখতে হবে, যা কিনা আল্লাহর কালাম থেকে তাকে নিবৃত্ত করে রাখে।
ইবনে কুদামা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, অন্তর যদি পরিশুদ্ধ হতো, তাহলে সামান্য সতর্ক বাণীতেই আমরা ভয় পেতাম। কিন্তু কলুষিত অন্তরের কারণে বিশাল আজাবের ভয়ও আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হয়।
ইবরাহিম কায়েস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, অন্তরের পরিশুদ্ধি এই পাঁচটি বিষয়ের মধ্যেই আছে-
১. কুরআন পড়া, কুরআন বুঝা আর বাস্তব জীবনে কুরআনের প্রতিফলন ঘটানো।
২. নিজের পাকস্থলী খালি রাখা। অর্থাৎ কম আহার করা।
৩. কিয়ামুল লাইল অর্থাৎ রাতের সালাতে অভ্যস্ত হওয়া।
৪. সূর্যোদয়ের পূবের আন্তরিক দুআ ও ইস্তিগফার।
৫. নেককার ব্যক্তিদের সোহবত (সঙ্গ)।
দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যদি আল্লাহর কালামের সঙ্গে আপনার কোনো সম্পর্ক না থাকে, তাহলে নিজের উপর কান্না করুন।
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহর খুব সুন্দর একই সঙ্গে বেশ মারাত্মক একটা উক্তি রয়েছে-যদি কেউ জানতে চায় যে আল্লাহর চোখে তার মর্যাদা কেমন, সে যেন দেখে আল্লাহ তাকে কী কী কাজে ব্যস্ত করে রাখেন।
তিনি খুব সুন্দরভাবে বলছেন, 'একটিবার তাকিয়ে দেখুন আল্লাহ আপনাকে কোন অবস্থায় রেখেছেন? কিসে ব্যস্ত রেখেছেন? তাহলে বুঝতে পারবেন, আল্লাহর নিকট আপনার মর্যাদা কেমন!
মানুষের ভালোবাসা অর্জন করতে উমার রাদি. তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় বলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনটি গুণ তোমাকে তোমার ভাইয়ের ভালোবাসা পাইয়ে দিবে, যখন সাক্ষাৎ হবে তাকে সালাম দেবে; বসার স্থানকে তার জন্য প্রশস্ত করে দেবে (অর্থাৎ, সে যখন আসবে, তাকে সুন্দরভাবে বসতে দেবে) এবং তার সবচেয়ে প্রিয় নামে সম্বোধন করে তাকে ডাক দেবে। ৫৩
১. সম্পর্ক তৈরিতে সালামের চেয়ে অধিক কার্যকর কিছু আমি আজ পর্যন্ত পাইনি। এমনকি ভেঙে যাওয়া সম্পর্ক জোড়া লাগাতে একটি মাত্র সালামই অনেক সময় যথেষ্ট হয়ে যায়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি কি তোমাদের এমন বিষয় দেখিয়ে দেবো না, যা করলে তোমাদের মাঝে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? সাহাবিগণ বলেন, নিশ্চয়ই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে সালামের প্রসার ঘটাও। ৫৪
২. বসার স্থান প্রশস্ত করে দেওয়া আপাতদৃষ্টিতে ঠুনকো ব্যাপার মনে হলেও এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। এতে আগন্তুক বুঝতে পারে যে, তাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
৩. সুন্দর সুন্দর নামে ডাকার মাধ্যমে ভালোবাসা গভীর হয়। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে কখনও কখনও আদর করে 'আয়িশ' বলেও ডাকতেন। ৫৫
হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি নিজ আমলনামা দেখে খুশি হতে চায়, সে যেন বেশি করে ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে। ৫৬
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সুসংবাদ তার জন্য, যে তার আমলনামায় অনেক বেশি ইস্তিগফার পেয়েছে। ৫৭
ইস্তিগফার করা যায় তিন ভাবে-
১. জিহ্বার মাধ্যমে ইস্তিগফার:
শুধু জিহ্বার মাধ্যমে যে ইস্তিগফার করা হয়, সেটির মর্যাদা কম। তবে তা ইস্তিগফার হিসেবে গণ্য হবে।
২. অন্তরের মাধ্যমে ইস্তিগফার: এটি আল্লাহর নিকট উঁচু মর্যাদার ইস্তিগফার। অন্তরে গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং আল্লাহর নিকট মনে মনে ক্ষমা চাওয়া।
৩. অন্তর ও জিহ্বার সমন্বয়ে ইস্তিগফার : এভাবে ইস্তিগফার করা সর্বোত্তম ও সর্বোৎকৃষ্ট। এতে অন্তরে গুনাহের জন্য অনুশোচনা করা হয় ও মুখ দিয়ে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
হে ইবনু উমর! তুমি দুনিয়াতে এমনভাবে বসবাস করবে, যেন তুমি মুসাফির। তুমি নিজেকে কবরবাসীদের কাতারে মনে করবে।

টিকাঃ
৫৩. বাইহাকি, শুআবুল ঈমান: ৮৩৯৮
৫৪. মুসলিম, আস-সহিহ: ৫৪
৫৫. বুখারি, আস-সহিহ: ৬২০১
৫৬. সহিহুল জামি': ৫৯৫, সিলসিলা সহিহাহ: ২২৯৯
৫৭. সহিহুল জামি': ৩৯৩০

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন না

📄 আল্লাহ তাআলা যা ভালোবাসেন না


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন তার ইবাদত করার জন্য। তাঁর আদেশ পালন করার জন্য। তাঁর নিষেধকে বর্জন করার জন্য। এখন আমরা পবিত্র কুরআনে কারিম থেকে কিছু আয়াত তুলে ধরবো, যে কাজগুলো করলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ভালোবাসবেন না, আমরা সেই কাজগুলো বর্জন করার চেষ্টা করব। আর যে কাজগুলো করলে আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ভালোবাসবেন, সে কাজগুলো আমরা করার চেষ্টা করব, বিইজনিল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার আলামত হলো, সে অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ أَثِيمٍ
আল্লাহ অবিশ্বাসী পাপীদের ভালোবাসেন না।
فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
আল্লাহ কাফেরদের ভালোবাসেন না। [আলে ইমরান, আয়াত: ৩২]
وَالله لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ
আল্লাহ জালিমদের ভালোবাসেন না। [আলে ইমরান, আয়াত: ৫৭]
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِينَ
আল্লাহ গর্বিত উৎফুল্লকারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা কাসাস, আয়াত: ৭৬]
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَنْ كَانَ مُخْتَالًا فَخُورًا
আল্লাহ গর্বকারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা নিসা, আয়াত: ৩৬]
إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْتَكْبِرِينَ
আল্লাহ অহংকারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা নাহল, আয়াত: ২৩]
إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
আল্লাহ অপব্যয়কারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা আনআম, আয়াত: ১৪১]
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْخَائِنِينَ
আল্লাহ আমানতের খেয়ানতকারীদের ভালোবাসেন না। [সুরা আনফাল, আয়াত: ৫৮]
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ مَن كَانَ خَوَّانًا أَثِيمًا
আল্লাহ খেয়ানতকারী পাপীদের ভালোবাসেন না। [সুরা নিসা, আয়াত: ১০৭]
إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ كُلَّ خَوَّانٍ كَفُورٍ
আল্লাহ খেয়ানতকারী কাফেরদের ভালোবাসেন না। [সুরা হাজ, আয়াত: ৩৮]
لا يُحِبُّ اللَّهُ الجَهْرَ بِالسُّوءِ مِنَ القَولِ
আল্লাহ কথায় (ভাষায়) মন্দ প্রকাশ করা ভালোবাসেন না। [সুরা নিসা, আয়াত: ১৪৮]
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الفَسَادَ
আল্লাহ ফাসাদ বিপর্যয় ভালোবাসেন না। [সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৫]
وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ
আল্লাহ ফাসাদকারীদের (বিশৃঙ্খলাকারীদের) ভালোবাসেন না। [সরা মায়িদা, আয়াত: ৬৪]
فَكَرِهْتُمُوهُ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ تَوَّابٌ رَّحِيمٌ
কারও অগোচরে তার দোষচর্চা করো না; পশ্চাতে নিন্দা করা আপন ভাইয়ের লাশের মাংস ভক্ষণ করার সমতুল্য। গিবতকারীরা বা পরনিন্দাকারীরা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়া ভালোবাসো কি? [সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২]
ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, বান্দা যখন আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার জীবনের সময়গুলো তখন তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে আসে। এভাবে সময় নষ্ট করতে করতে একসময় তার সামনে সেই দিনটি চলে আসবে, যখন তাকে বলতে হবে, হায় আফসোস, আমি যদি আমার এই জীবনের জন্য আগে কিছু পাঠাতাম।

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন না

📄 আল্লাহ কাদের ভালোবাসেন না


আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা একটি মারাত্মক অপরাধ। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীদের নিন্দা করেন এবং তাদেরকে লানত ও অভিসম্পাত দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন-
فَهَلْ عَسَيْتُمْ إِنْ تَوَلَّيْتُمْ أَنْ تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَتُقَطَّعُوا أَرْحَامَكُمْ، أولَيكَ الَّذِينَ لَعَنَهُمُ اللَّهُ فَأَصَمَّهُمْ وَ أَعْمَى أَبْصَارَهُمْ، أَفَلَا يَتَدَبَّرُوْنَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوْبِ أَقْفَالُهَا.
ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ তাআলা এদেরকেই করেন অভিশপ্ত, বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন। [সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ২২-২৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী জান্নাতে যাবে না। [৬১]
আবু মুসা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
ثَلاثَةُ لا يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ مُدْمِنُ الْخَمْرِ وَقَاطِعُ الرَّحِمِ وَمُصَدِّقُ بالسحر.
তিন ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। অভ্যস্ত মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী ও যাদুতে বিশ্বাসী।।[৬২]
আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর নেক আমল আল্লাহ তাআলা গ্রহণ করেন না।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
إِنَّ أَعْمَالَ بَنِي آدَمَ تُعْرَضُ كُلَّ خَمِيْسٍ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ، فَلا يُقْبَلُ عَمَلُ قَاطِع رَحِمٍ .
আদম সন্তানের আমলসমূহ প্রতি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত্রিতে (আল্লাহ তাআলার নিকট) উপস্থাপন করা হয়। তখন আত্মীয়তার বন্ধন বিচ্ছিন্নকারীর আমল গ্রহণ করা হয় না। [৬৩]
আল্লাহ তাআলা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারীর শাস্তি দুনিয়াতেই দিয়ে থাকেন। উপরন্তু আখিরাতের শাস্তি তো তার জন্য প্রস্তুত আছেই।
আবু বাকরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-
مَا مِنْ ذَنْبٍ أَجْدَرُ أَنْ يُعَجِلَ الله لِصَاحِبِهِ الْعُقُوْبَةَ فِي الدُّنْيَا مَعَ مَا يَدَّخِرُ لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْبَغْيِ وَقَطِيْعَةِ الرَّحِمِ .
দুটি গুনাহ ছাড়া এমন কোনো গুনাহ নেই যে গুনাহগারের শাস্তি আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতেই দিবেন এবং তা দেওয়াই উচিত, উপরন্তু তার জন্য আখিরাতের শাস্তি তো আছেই। গুনাহ দুটি হচ্ছে, অত্যাচার ও আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকারী। [৬৪]
কেউ আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করলে আল্লাহ তাআলাও তার সঙ্গে নিজ সম্পর্ক ছিন্ন করেন।
আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যক্তি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার এমন কিছু আত্মীয়স্বজন রয়েছে, যাদের সঙ্গে আমি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করি; অথচ তারা আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি; অথচ তারা আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। আমি তাদের সঙ্গে ধৈর্যের পরিচয় দেই; অথচ তারা আমার সঙ্গে কঠোরতা দেখায়। অতএব, তাদের সঙ্গে এখন আমার করণীয় কী? তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-
لَئِنْ كُنْتَ كَمَا قُلْتَ فَكَأَنَّمَا تُسِفُهُمُ الْمَلَّ، وَلَا يَزَالُ مَعَكَ مِنَ اللَّهِ ظَهِيرُ عَلَيْهِمْ مَا دُمْتَ عَلَى ذَلِكَ .
তুমি যদি সত্যি কথাই বলে থাকো, তা হলে তুমি যেন তাদেরকে উত্তপ্ত ছাই খাইয়ে দিচ্ছো। আর তুমি যতদিন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করতে থাকবে ততদিন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের ওপর তোমার জন্য একজন সাহায্যকারী নিযুক্ত থাকবে।"

টিকাঃ
৬১. সহিহ বুখারি, হাদীস নং ৫৯৮৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৫৬; তিরমিজি, হাদিস নং ১৯০৯; আবু দাউদ, হাদিস নং ১৬৯৬; আবদুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২০২৩৮; বায়হাকি, হাদিস নং ১২৯৯৭।
৬২. আহমদ, হাদিস নং ১৯৫৮৭; হাকিম, হাদিস নং ৭২৩৪; ইবন হিব্বান, হাদিস নং ৫৩৪৬।
৬৩. আহমদ, হাদিস নং ১০২৭৭।
৬৪. আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৯০২; তিরমিজি, হাদিস নং ২৫১১; ইবন মাজা, হাদিস নং ৪২৮৬; ইবন হিব্বান, হাদিস নং ৪৫৫, ৪৫৬; বাজ্জার, হাদিস নং ৩৬৯৩; আহমাদ, হাদিস নং ২০৩৯০, ২০৩৯৬, ২০৪১৪।
*. সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৫৫৮

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আল্লাহ যা ভালোবাসেন

📄 আল্লাহ যা ভালোবাসেন


إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ
আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন। [সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৫]
وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ
আল্লাহ পবিত্রদের ভালোবাসেন। [সুরা তাওবা, আয়াত: ১০৮]
إِنَّ اللهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ المُتَطَهِّرِينَ
আল্লাহ তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। সুরা বাকারা: ২২২
فَإِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
আল্লাহ মুত্তাকিদের ভালোবাসেন। [আলে ইমরান : ৭৬]
وَ اللهُ يُحِبُّ الصَّبِرِينَ
আল্লাহ ধৈর্যশীল ব্যক্তিদের ভালোবাসেন। [আল ইমরান, আয়াত : ১৪৬]
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ
আল্লাহ (তাঁর ওপর) নির্ভরকারীদের ভালোবাসেন। [আল ইমরান, আয়াত : ১৫৯]
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ.
আল্লাহ ন্যায়নিষ্ঠদের ভালোবাসেন। [সুরা মায়িদা, আয়াত: ৪২]
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الَّذِينَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِهِ صَفًّا كَأَنَّهُم بُنْيَانُ مَّرْصُوصٌ.
আল্লাহ সেই লোকদের ভালোবাসেন, যারা তাঁর পথে এমনভাবে কাতারবন্দি হয়ে লড়াই করে যেন তারা সিসা গলিয়ে ঢালাই করা এক মজবুত দেয়াল। [সুরা ছফ, আয়াত: ৪]
তাবিয়ি রবি ইবনু আনাস (রাহ) বলেন, মহান আল্লাহকে ভালোবাসার চিহ্ন হলো, বেশি বেশি তাঁর জিকর (স্মরণ) করা; কেননা কোনো কিছুকে বেশি করে স্মরণ করা ব্যতীত তাকে কখনোই তুমি ভালোবাসতে পারবে না।
দ্বীনের আলামত হলো, আল্লাহর জন্য ইখলাস (একনিষ্ঠতা) অবলম্বন করা। ইলমের (জ্ঞানের) পরিচয় হলো, মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর ভয়। কৃতজ্ঞতা আদায়ের প্রমাণ হলো, আল্লাহর ফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া এবং তাঁর তাকদিরের প্রতি (নিজেকে) সমর্পণ করা। ৬৬

টিকাঃ
৬৬. খুত্তালি, আল-মাহাব্বাতু লিল্লাহ: ৩২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00