📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 হতাশাগ্রস্তদের জন্য সুসংবাদ

📄 হতাশাগ্রস্তদের জন্য সুসংবাদ


আল জাব্বার মহামান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার শরীর ও মনের ভাঙন ঠিক করে দেন। আল্লাহ, বিস্ময়করভাবে বান্দার ভাঙা হৃদয়ে জোড়া লাগিয়ে দেন। আপনার অন্তরটা যদি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে 'আল জাব্বারের' কাছে বলুন। তিনি আপনার ভাঙা হৃদয়ে জোড়া লাগিয়ে দিবেন।
আল্লাহ হচ্ছেন جبار জাব্বার। জাব্বার শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে ভাঙা জিনিসে জোড়া লাগানো।
আপনার ব্যথা যত পীড়াদায়কই হোক না কেন, আপনি যতই দুর্বল হন না কেন, বিপদাপদ আপনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে আল জব্বারের কাছে বলুন, তিনি সেটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিতে সক্ষম।
আপনি জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে আপনি শত দ্বিধা আর দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ 'আল জব্বার' আপনার অগোছালো জীবনকে এক নিমিষেই গুছিয়ে দিতে পারেন আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনকে সুশৃঙ্খল করে দিতে পারেন।
সমস্যার আবর্তে দিশেহারা, যার সামনে কোনো পথই খোলা নেই, পরিস্থিতির উপর যার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন মানুষের পাশে যে সত্তা দাঁড়ান, তিনি হচ্ছেন আল জাব্বার। আপনি সেজদায় পড়ে যান, অবনত হয়ে দুআ করতে থাকেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে আল জাব্বারের উপর ভরসা করুন, তিনি আপনার জীবনে সব অসাধ্যকে সাধন করবেন আর অসম্ভবকে করে দিবেন সম্ভব।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আজ-জাওজিয়া বলেন, যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য কষ্টকর সকল কাজ সহজ হয়ে যায়, যখন তারা জানেন যে, আল্লাহ তাদেরকে শুনছেন। ৪১
দুঃচিন্তা করবেন না। আল্লাহর সাহায্য বান্দার জীবনে বিপদ-আপদ আর দুঃখ-কষ্ট আর কঠিন সময়ের অনুপাতে আসে। আপনি যত ব্যথা পাবেন, বিপরীতে ততই আরামের ব্যবস্থা আল্লাহ, আপনার জন্য করে দিবেন। আপনি যত বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন, আল্লাহ আপনাকে তত বেশি প্রতিদান দিবেন। আপনি যতখানি আক্রান্ত হবেন, আল্লাহ তার চাইতে বেশি আপনাকে আরোগ্য আর নিরাপত্তা দিবেন।
আপনি আল্লাহর জন্য যত বড় স্যাক্রিফাইস করবেন, আল্লাহ আপনাকে ততবড় প্রতিদান দিয়ে অন্তর প্রশান্ত করে দিবেন।
হাদিসে এসেছে, তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর উপর সুধারণা পোষণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে। ৪২
আপনার চোখ থেকে যত ফোঁটা অশ্রু ঝরবে, বিপরীতে আল্লাহ আপনাকে ততখানি সুখ দিবেন।
সময় যখন অনুকূলে থাকবে না, চারদিক থেকে যখন বিষণ্ণতা চেপে ধরবে, তখন একবার আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকাবেন আর বিশ্বাস রাখুন ‘আরশে আজিমে’ একজন আছেন, যিনি আপনার প্রতিটা ঘটনার সাক্ষী। যিনি আপনার চোখ থেকে পড়া প্রতিটা অশ্রুকণার চড়া মূল্য দিবেন।
যিনি আপনাকে কখনোই পরিত্যাগ করেননি আর ভবিষ্যৎও আপনাকে ছেড়ে যাবেন না। এই বিশ্বাস রাখুন, তিনি আপনাকে এমন কোনো পরীক্ষায় ফেলেন না, যা আপনার সাধ্যের বাইরে।
যখন আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইবেন, দুআ করবেন তখন অলৌকিক এ বিশ্বাস রাখুন। পরিবেশ-পরিস্থিতি আর সময়ের কারণে আপনি হয়তো ধরে নিয়েছেন, আল্লাহর কাছে যা চেয়েছেন, তা কখনো পাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি ভুলে গেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিবেশ-পরিস্থিতি আর সময়ের মুখাপেক্ষী নন। বরং আসমান-জমিনে যা কিছু আছে, সবকিছুই আল্লাহর মুখাপেক্ষী।
তাছাড়া দুআ করার সময় এই বিশ্বাস রাখবেন, আপনার দুআ অবশ্যই কবুল হবে। আল্লাহর নিশ্চয়ই আপনার ডাকে সাড়া দিবেন।
কারণ, সহিহ হাদিস এসেছে, অন্যমনস্ক, অমনোযোগী এবং গাফেল অন্তরের দুআ আল্লাহ কবুল করেন না। [তিরমিজি হাদিস : ৩৪৭৯]

টিকাঃ
৪১. আল-ফাওয়াঈদ
৪২. মুসলিম, আস-সহিহ: ২৮৭৭

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আপনি কি মাজলুম

📄 আপনি কি মাজলুম


যে আপনার সঙ্গে মিথ্যে বলেছে, আপনাকে ঠকিয়েছে, আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—সবাইকে ক্ষমা করে দিন। এ কাজ আপনাকে সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর উপর ভরসা করতে শেখাবে। আপনাকে শেখাবে কেবল আল্লাহর উপরই ভরসা করতে আর সৃষ্টির কাছ থেকে کم প্রত্যাশা করতে।
এটা আপনাকে শেখাবে দিন শেষে আল্লাহ ছাড়া আপনার আর কোনো যাওয়ার জায়গা নেই আর কোনো শক্তি নেই। মনে রাখবেন, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কর্মের জন্য জবাবদিহি করা লাগবে আর আপনাকেও আপনার কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই তাদের ক্ষমা করে দিন, আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন আর দিনশেষে একটা পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে ঘুমাতে যান।

টিকাঃ
৪৩. দাওয়া পেইজ থেকে সংগৃহীত

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 বারবার তওবা করার পর পাপ করা

📄 বারবার তওবা করার পর পাপ করা


যারা বারবার তাওবা করার পরও পাপ করছেন, তাদের জন্য চমৎকার উপকার দিবে এই দুআ।
নিজের চরিত্র হেফাজত ও মনের কুধারণা থেকে মুক্তির জন্য সব সময় এই দুআ সিজদা ও সালাম ফিরানোর আগে পড়তে পারবেন।
আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। তাই বেশি বেশি তাওবা করবেন।
দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চেয়ে দুআ- জিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ স্বীয় চাচা কুতবাহ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ، وَالأَعْمَالِ والأَهْواءِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-কি অলআ'মা-লি অলআহওয়া।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।৪৪
কিয়ামতের দিন সব থেকে নেকির পাল্লা ভারী হবে চরিত্রবান ব্যক্তির।
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কিয়ামত দিবসে মুমিনের দাঁড়িপাল্লায় সচ্চরিত্র ও সদাচারের চেয়ে অধিক ওজনের আর কোনো জিনিস হবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা অশ্লীল ও কটুভাষীর প্রতি রাগান্বিত হন।

টিকাঃ
৪৪. তিরমিজি ৩৫৯১

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 ঈমানের পরীক্ষা

📄 ঈমানের পরীক্ষা


গুনাহ ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পর গুনাহ করার সুযোগ আরও বেড়ে যায়। হারাম ইনকাম ছেড়ে দেওয়ার সংকল্প করতেই নতুন নতুন হারামের অফার এসে ধরা দেয়। হিজাব শুরু করার নিয়ত করতেই এমন সব জায়গা থেকে চাকরির অফার আসে, যাদের একমাত্র শর্তই হয় হিজাব ছেড়ে দেওয়া। দ্বীনদার কাউকে বিয়ের ইচ্ছে প্রকাশ করার পর কেবল দ্বীনের ব্যাপারে বেখবর এরকম পরিবার থেকেই প্রস্তাব আসা শুরু হয়।
এমনই কি হচ্ছে আপনার সঙ্গে? যদি হয়ে থাকে, সুসংবাদ গ্রহণ করুন আল্লাহমুখী হওয়ার প্রথম পদক্ষেপটি গৃহীত হয়েছে। তাই তো শয়তান বাড়িয়ে দিয়েছে তার চেষ্টাকে। সে তো কখনই চাইবে না, নতুন করে তার একজন শত্রু তৈরি হোক।
আপনি হয়তো হোঁচট খাবেন, হয়তো পড়ে যাবেন। উঠে দাঁড়ান, বারবার, প্রতিবার। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নিজেকে ব্যর্থ ভাবারও কোনো কারন নেই। ব্যর্থ তো সে, যে চেষ্টা ছেড়ে দেয়।
আপনার রব ভালো করেই জানেন, শয়তানের ধোঁকাগুলো তার বান্দার জন্য কত মারাত্মক। যার মোকাবেলা করা তাঁর এই দুর্বল বান্দার জন্য সহজ কিছু নয়। তিনি দেখছেন, দুনিয়ার চাকচিক্য কীভাবে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। লোলুপ দৃষ্টি নিজের অজান্তেই বারবার সেদিকে পড়ে যায়, আপনার ইলাহ ঠিকই জানেন।
ভেঙে পড়বেন না, নিরাশ হবেন না। সাহায্য আসবেই। এটা আল্লাহর ওয়াদা। কবে আসবে?
জেনে রাখ, নিশ্চয়ই আল্লাহর সাহায্য অতি নিকটে। [সুরা বাক্বারা, আয়াত ২১৪]
ইমাম আশ-শাফিঈ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-তোমার যাত্রা যদি হয় আল্লাহর পথে, তবে দৌড়াও-থেমো না। কষ্ট হলে গতি কমিয়ে নাও। কখনো ক্লান্ত হয়ে পড়লে হেঁটে চলো।
যদি তা-ও না পারো, তবে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও এগিয়ে যাও। তবুও কখনো পেছনে ফিরে যেয়ো না; তোমার এই যাত্রা থামিয়ে দিয়ো না।
সব নিয়ামত সবসময় আনন্দের নয়; আবার বিপদ-আপদ মানেই বিপর্যয় নয়!
ইমাম আবু হাজম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এমন প্রত্যেক নিয়ামতই মুসিবত, যা (ব্যক্তিকে) আল্লাহ তাআলার নিকটবর্তী করে না।৪৮
শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'প্রতিটি নিয়ামতই সম্মান নয়, আবার পরীক্ষা মানেই আজাব নয়।৪৯

টিকাঃ
৪৮ ইবনু আবিদ দুনিয়া, কিতাবুশ শুক্-র: ৬০
৪৯ মাজমুউর রাসাইল: ১/৬৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00