📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 হাদিসের শিক্ষা ও মাসায়েল

📄 হাদিসের শিক্ষা ও মাসায়েল


এক. হাসবুনাল্লাহু ওয়া-নি'মাল ওয়াকিল দুআটির ফজিলت প্রমাণিত হলো। এ দুআটি যেমন মুসলিম জাতির পিতা ইবরাহিম খলিলুল্লাহ আলাইহিস সালাম চরম বিপদের মুহূর্তে পাঠ করেছিলেন, তেমনি সাইয়েদুল মুরসালিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বিপদের সময় তা পাঠ করেছেন।
দুই. মানুষের পক্ষ থেকে আগত আঘাত, আক্রমণ ও বিপদের সময় এ দুআটি পাঠ করা আল্লাহ তাআলার প্রতি তাওয়াক্কুলের একটি বড় প্রমাণ। তাই তো যখন মানুষেরা ইবরাহিম আলাইহিস সালামকে আগুনে নিক্ষেপ করেছিল, তখন তিনি এ দুআটি পড়েই আল্লাহর প্রতি তাওয়াক্কুলের প্রমাণ রেখেছিলেন। একইভাবে উহুদ যুদ্ধের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতির পর যখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম আবার শত্রু বাহিনীর আক্রমণের খবর পেলেন, তখন তারা এ দুআটি পাঠ করে আল্লাহর ওপর নির্ভেজাল তাওয়াক্কুলের প্রমাণ দিয়েছেন।
তিন. এ দুআটি আল্লাহর কাছে এত প্রিয় যে, তিনি তাঁর পবিত্র কালামে এ দুআ পড়ার ঘটনাটি তুলে ধরেছেন। আর যারা এটি পড়েছেন তাদের প্রশংসা করেছেন।
চার. শত্রুর পক্ষ থেকে আগত ভয়াবহ বিপদ বা আক্রমণের মুখে এ দুআটি সে-ই পড়তে পারে, যার ঈমান তখন বেড়ে যায়। যে পাঠ করে তার ঈমান যে বৃদ্ধি পেয়েছে তা-ও বুঝা যায়।
পাঁচ. দুআটি পাঠ করতে হবে অন্তর দিয়ে। অর্থ ও মর্ম উপলব্ধি করে। ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এমনভাবে পাঠ করেছিলেন বলেই আল্লাহর সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছিলেন। আর সাইয়েদুল আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবায়ে কিরাম এমনভাবে পাঠ করতে পেরেছিলেন বলেই তো তা আল্লাহর কাছে কবুল হয়েছিল, ফলে শত্রুরা ভয়ে পালিয়ে ছিল। এমন যদি হয় যে, শুধু মুখে বললাম, কিন্তু কি বললাম তা বুঝলাম না। তাহলে এতে কাজ হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।
ছয়. 'হাসবুনাল্লাহ' আর 'হাসবিআল্লাহ'-এর পার্থক্য হলো, এক বচন ও বহু বচনের। প্রথমটির অর্থ আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট। আর দ্বিতীয়টির অর্থ হলো, আল্লাহ আমার জন্য যথেষ্ট। এক বচনে হাসবি আল্লাহ.. আর বহু বচনে হাসবুনাল্লাহ... বলতে হয়। ইবারহিম আলাইহিস সালাম ছিলেন একা। তাই তিনি হাসবি আল্লাহ... বলেছেন।
হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে গুহায় ছিলাম, আমি মুশরিকদের পদচারণা প্রত্যক্ষ করছিলাম, আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কেউ যদি পা উঠায় তাহলেই আমাদের দেখে ফেলবে, তিনি বললেন, আমাদের দুজন সম্পকে তোমার কী ধারণা? আমাদের তৃতীয়জন হলেন-আল্লাহ। অর্থাৎ তিনি আমাদের সাহায্যকারী।
إِلَّا تَنْصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللهُ إِذْ اَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَ جَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَى وَ كَلِمَةُ اللهِ هِيَ الْعُلْيَا وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ.
যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, তবে আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছেন যখন কাফিররা তাকে বের করে দিল, সে ছিল দুজনের দ্বিতীয়জন। যখন তারা উভয়ে পাহাড়ের একটি গুহায় অবস্থান করছিল, সে তার সঙ্গীকে বলল, 'তুমি পেরেশান হয়ো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন'। অতঃপর আল্লাহ তার উপর তাঁর পক্ষ থেকে প্রশান্তি নাজিল করলেন এবং তাকে এমন এক সৈন্যবাহিনী দ্বারা সাহায্য করলেন, যাদেরকে তোমরা দেখোনি এবং তিনি কাফিরদের বাণী অতি নিচু করে দিলেন। আর আল্লাহর বাণীই সুউচ্চ। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান। [সুরা তাওবা, আয়াত: ৪০]

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 হতাশাগ্রস্তদের জন্য সুসংবাদ

📄 হতাশাগ্রস্তদের জন্য সুসংবাদ


আল জাব্বার মহামান্বিত সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দার শরীর ও মনের ভাঙন ঠিক করে দেন। আল্লাহ, বিস্ময়করভাবে বান্দার ভাঙা হৃদয়ে জোড়া লাগিয়ে দেন। আপনার অন্তরটা যদি ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে 'আল জাব্বারের' কাছে বলুন। তিনি আপনার ভাঙা হৃদয়ে জোড়া লাগিয়ে দিবেন।
আল্লাহ হচ্ছেন جبار জাব্বার। জাব্বার শব্দের একটি অর্থ হচ্ছে ভাঙা জিনিসে জোড়া লাগানো।
আপনার ব্যথা যত পীড়াদায়কই হোক না কেন, আপনি যতই দুর্বল হন না কেন, বিপদাপদ আপনাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে আল জব্বারের কাছে বলুন, তিনি সেটাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে জোড়া লাগিয়ে দিতে সক্ষম।
আপনি জীবনের সমস্যাগুলো নিয়ে আপনি শত দ্বিধা আর দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে থাকতে পারেন, কিন্তু আল্লাহ 'আল জব্বার' আপনার অগোছালো জীবনকে এক নিমিষেই গুছিয়ে দিতে পারেন আর অনিয়ন্ত্রিত জীবনকে সুশৃঙ্খল করে দিতে পারেন।
সমস্যার আবর্তে দিশেহারা, যার সামনে কোনো পথই খোলা নেই, পরিস্থিতির উপর যার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, এমন মানুষের পাশে যে সত্তা দাঁড়ান, তিনি হচ্ছেন আল জাব্বার। আপনি সেজদায় পড়ে যান, অবনত হয়ে দুআ করতে থাকেন। যেকোনো পরিস্থিতিতে আল জাব্বারের উপর ভরসা করুন, তিনি আপনার জীবনে সব অসাধ্যকে সাধন করবেন আর অসম্ভবকে করে দিবেন সম্ভব।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম আজ-জাওজিয়া বলেন, যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে, তাদের জন্য কষ্টকর সকল কাজ সহজ হয়ে যায়, যখন তারা জানেন যে, আল্লাহ তাদেরকে শুনছেন। ৪১
দুঃচিন্তা করবেন না। আল্লাহর সাহায্য বান্দার জীবনে বিপদ-আপদ আর দুঃখ-কষ্ট আর কঠিন সময়ের অনুপাতে আসে। আপনি যত ব্যথা পাবেন, বিপরীতে ততই আরামের ব্যবস্থা আল্লাহ, আপনার জন্য করে দিবেন। আপনি যত বেশি পরীক্ষার সম্মুখীন হবেন, আল্লাহ আপনাকে তত বেশি প্রতিদান দিবেন। আপনি যতখানি আক্রান্ত হবেন, আল্লাহ তার চাইতে বেশি আপনাকে আরোগ্য আর নিরাপত্তা দিবেন।
আপনি আল্লাহর জন্য যত বড় স্যাক্রিফাইস করবেন, আল্লাহ আপনাকে ততবড় প্রতিদান দিয়ে অন্তর প্রশান্ত করে দিবেন।
হাদিসে এসেছে, তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর উপর সুধারণা পোষণ করা ব্যতীত মৃত্যুবরণ না করে। ৪২
আপনার চোখ থেকে যত ফোঁটা অশ্রু ঝরবে, বিপরীতে আল্লাহ আপনাকে ততখানি সুখ দিবেন।
সময় যখন অনুকূলে থাকবে না, চারদিক থেকে যখন বিষণ্ণতা চেপে ধরবে, তখন একবার আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকাবেন আর বিশ্বাস রাখুন ‘আরশে আজিমে’ একজন আছেন, যিনি আপনার প্রতিটা ঘটনার সাক্ষী। যিনি আপনার চোখ থেকে পড়া প্রতিটা অশ্রুকণার চড়া মূল্য দিবেন।
যিনি আপনাকে কখনোই পরিত্যাগ করেননি আর ভবিষ্যৎও আপনাকে ছেড়ে যাবেন না। এই বিশ্বাস রাখুন, তিনি আপনাকে এমন কোনো পরীক্ষায় ফেলেন না, যা আপনার সাধ্যের বাইরে।
যখন আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইবেন, দুআ করবেন তখন অলৌকিক এ বিশ্বাস রাখুন। পরিবেশ-পরিস্থিতি আর সময়ের কারণে আপনি হয়তো ধরে নিয়েছেন, আল্লাহর কাছে যা চেয়েছেন, তা কখনো পাওয়া আপনার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু আপনি ভুলে গেছেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পরিবেশ-পরিস্থিতি আর সময়ের মুখাপেক্ষী নন। বরং আসমান-জমিনে যা কিছু আছে, সবকিছুই আল্লাহর মুখাপেক্ষী।
তাছাড়া দুআ করার সময় এই বিশ্বাস রাখবেন, আপনার দুআ অবশ্যই কবুল হবে। আল্লাহর নিশ্চয়ই আপনার ডাকে সাড়া দিবেন।
কারণ, সহিহ হাদিস এসেছে, অন্যমনস্ক, অমনোযোগী এবং গাফেল অন্তরের দুআ আল্লাহ কবুল করেন না। [তিরমিজি হাদিস : ৩৪৭৯]

টিকাঃ
৪১. আল-ফাওয়াঈদ
৪২. মুসলিম, আস-সহিহ: ২৮৭৭

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আপনি কি মাজলুম

📄 আপনি কি মাজলুম


যে আপনার সঙ্গে মিথ্যে বলেছে, আপনাকে ঠকিয়েছে, আপনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—সবাইকে ক্ষমা করে দিন। এ কাজ আপনাকে সত্যিকার অর্থেই আল্লাহর উপর ভরসা করতে শেখাবে। আপনাকে শেখাবে কেবল আল্লাহর উপরই ভরসা করতে আর সৃষ্টির কাছ থেকে کم প্রত্যাশা করতে।
এটা আপনাকে শেখাবে দিন শেষে আল্লাহ ছাড়া আপনার আর কোনো যাওয়ার জায়গা নেই আর কোনো শক্তি নেই। মনে রাখবেন, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কর্মের জন্য জবাবদিহি করা লাগবে আর আপনাকেও আপনার কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। তাই তাদের ক্ষমা করে দিন, আল্লাহর উপর ছেড়ে দিন আর দিনশেষে একটা পরিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে ঘুমাতে যান।

টিকাঃ
৪৩. দাওয়া পেইজ থেকে সংগৃহীত

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 বারবার তওবা করার পর পাপ করা

📄 বারবার তওবা করার পর পাপ করা


যারা বারবার তাওবা করার পরও পাপ করছেন, তাদের জন্য চমৎকার উপকার দিবে এই দুআ।
নিজের চরিত্র হেফাজত ও মনের কুধারণা থেকে মুক্তির জন্য সব সময় এই দুআ সিজদা ও সালাম ফিরানোর আগে পড়তে পারবেন।
আল্লাহ তাওবাকারীকে ভালোবাসেন। তাই বেশি বেশি তাওবা করবেন।
দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চেয়ে দুআ- জিয়াদ ইবনে ইলাক্বাহ স্বীয় চাচা কুতবাহ ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দুআ পড়তেন—
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ، وَالأَعْمَالِ والأَهْواءِ
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিন মুনকারা-তিল আখলা-কি অলআ'মা-লি অলআহওয়া।
অর্থাৎ হে আল্লাহ! অবশ্যই আমি আপনার নিকট দুশ্চরিত্র, অসৎ কর্ম ও কু-প্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।৪৪
কিয়ামতের দিন সব থেকে নেকির পাল্লা ভারী হবে চরিত্রবান ব্যক্তির।
আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'কিয়ামত দিবসে মুমিনের দাঁড়িপাল্লায় সচ্চরিত্র ও সদাচারের চেয়ে অধিক ওজনের আর কোনো জিনিস হবে না। কেননা আল্লাহ তাআলা অশ্লীল ও কটুভাষীর প্রতি রাগান্বিত হন।

টিকাঃ
৪৪. তিরমিজি ৩৫৯১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00