📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 অন্তরের ঔষধ

📄 অন্তরের ঔষধ


আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা পবিত্র কালামে মাজিদে বলেন-
الَّا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوْبُ
জেনে রাখ, আল্লাহর স্মরণ দ্বারাই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়। [সুরা রাদ, আয়াত : ২৮]
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-প্রত্যেক মানুষের অন্তরেই কিছুটা অস্থিরতা বিদ্যমান, যা শুধুমাত্র আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব। প্রত্যেকটা অন্তরেই একাকীত্বের অনুভূতি বিদ্যমান, যা শুধুমাত্র আল্লাহর নৈকট্য লাভের নির্মূল করা সম্ভব। প্রত্যেক অন্তরেই ভয় এবং উদ্বেগ বিদ্যমান, যা শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে ছুটে যাওয়ার মাধ্যমেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। প্রত্যেকটা অন্তরেই কিছুটা দুখানুভূতি বিদ্যমান, যা কেবলমাত্র আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার মাধ্যমেই মোচন করা সম্ভব।

টিকাঃ
**. মাদারিজুস সালিকিন ৩/১৫৬

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 ধোঁকার দুনিয়া

📄 ধোঁকার দুনিয়া


দুনিয়া একটা ধূসর মরীচিকা, রবকে বেমালুম ভুলে গিয়ে যার পিছনে রাতদিন আমরা ছুটছি। ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ কত সুন্দর করেই না বলেছেন।
দুনিয়া হলো পতিতা নারীর মতো যে একজন স্বামীর সঙ্গে স্থির থাকে না বরং একাধিক স্বামী তালাশ করে, তাদের সঙ্গে আরও বেশি ভালো থাকার আশায়। ফলে সে বিপদগামী হওয়া ব্যতীত সন্তুষ্ট থাকে না। দুনিয়ার পিছনে ঘোরা হলো হিংস্র জানোয়ারের চারণভূমিতে বিচরণ করার মতো। এতে সাঁতার কাটা মানে কুমিরের পুকুরে সাঁতার কাটার মতো। দুনিয়ার দ্বারা আনন্দিত হওয়া মানে হলো নিশ্চিত দুশ্চিন্তায় পতিত হওয়া। দুনিয়ার ব্যথা-বেদনাগুলো এর স্বাদ থেকেই সৃষ্টি হয়। এর দুঃখ কষ্টগুলো এর আনন্দ থেকেই জন্ম নেয়।”

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 তোমার সফলতা কোথায়

📄 তোমার সফলতা কোথায়


সুরা তাওবার ৭২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَتِ جَنَّتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ خُلِدِينَ فِيهَا وَمَسْكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّتِ عَدْنٍ وَرِضْونٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ذُلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীদের জন্য এমন জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার তলদেশে প্রবাহিত হয় প্রস্রবণ। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। যার ওয়াদা আল্লাহ দিয়েছেন। আর এসব কাননকুঞ্জে থাকবে পরিচ্ছন্ন থাকার ঘর। বস্তুত এ সমুদয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। এটিই হলো মহাসাফল্য। [সুরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৭২]

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 আল্লাহর দয়ার বিশালতা

📄 আল্লাহর দয়ার বিশালতা


আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রাহিমাহুল্লাহ বলেন! উবাইদা ইবনে সামেত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম বলেন, যখন কেয়ামত হয়ে যাবে এবং আল্লাহ সৃষ্টিকুলের হিসাব-নিকাশ থেকে অবসরে যাবেন, তখন দুই ব্যক্তি থেকে যাবে তাদের ব্যাপারে জাহান্নামের ফায়সালা হবে। জাহান্নামের উদ্দেশ্যে তাদের নিয়ে যাবার কালে তাদের একজন বারবার পিছন দিকে তাকাবে। তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ বলবেন তাকে ফিরিয়ে আনো ফেরেশতারা তাকে ফিরিয়ে আনবে। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করবেন, তুমি বারবার পিছনের দিকে কেন তাকাচ্ছিলে। সে বলবে, আমি আশা রাখছিলাম আপনি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করবেন। তখন তার ব্যাপারে জান্নাতের নির্দেশ দেওয়া হবে। তখন সে বলবে আমার রব আমাকে এত দিয়েছেন যে, আমি যদি সমস্ত জান্নাতবাসীকে আহার করায় তবু আমার কাছে যা আছে তা থেকে কিছু কমবে না। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন হাদীসটি বর্ণনা করতেন, তখন তার চেহারা আনন্দের ছাপ দেখা যেত।২
ইমাম বায়হাকি রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন। আনাস ইবনে মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একদা দুজন লোক মরুভূমিতে চলছিল, তাদের একজন আবেদ আর অপরজন গুনাগার। পথিমধ্যে গুনাগার ব্যক্তি তার কাছে থাকা একটি পানির পাত্র বের করল। আবেদ লোকটির কাছে কোনো পানি ছিল না। সে পিপাসিত হয়ে পড়ল তখন সে গুনাগার লোকটির উদ্দেশ্যে বলল, হে অমুক আমাকে পানি দাও, আমি পিপাসায় মরে যাবো। গুনাগার লোকটি বলল, দেখো আমার কাছে একটি মাত্র পানির পাত্র আছে আর আমরা মরুভূমিতে আছি এখন আমি যদি তোমাকে এইটুকু দিয়ে দেই তাহলে আমি মারা পড়বো। এর পর আবার চলতে লাগল একটু পর আবেদ ব্যক্তিটি খুবই পিপাসার্ত হয়ে গুনাগার লোকটির উদ্দেশ্য আবার বলল, হে অমুক আমাকে পানি দাও, আমি পিপাসায় মরে যাব। গুনাহগার লোকটি বলল, দেখো, আমার কাছে একটি মাত্র পানির পাত্র আছে, আর আমরা মরুভূমিতে আছি। এখন আমি তোমাকে এইটুকু দিয়ে দেই, তাহলে আমি মারা পড়বো। এরপর তারা উভয়ে চলতে থাকলো। কিছুক্ষণ পর সেই লোকটি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়ে গেল। সে লোকটির উদ্দেশ্যে বলল আমাকে পানি দাও, আমি পিপাসায় মারা যাচ্ছি। তখন গুনাহগার লোকটি মনে মনে বলল, আল্লাহর কসম যদি এই নেককার লোকটি এভাবে মারা যায়, তাহলে আল্লাহর কাছে আমার কোনো উপায় থাকবে না। এই ভেবে সে তার উপর কিছু পানি ছিটিয়ে দিলো, তাকে কিছু পানি পান করালো। এরপর তারা আবার মরুভূমিতে পথ চলতে লাগল। চলতে চলতে একসময় মরুভূমি শেষ হয়ে গেল।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কেয়ামতের দিনে যখন উভয়কে হিসাব-নিকাশের জন্য দাঁড় করানো হবে, তখন আবেদনের জন্য জান্নাতের ফয়সালা হয়ে যাবে, গুনাগার লোকটির জন্য গুনাহের কারণে জাহান্নামে ফয়সালা হবে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এমন সময়ই গুনাহগার আবেদ লোকটিকে চিনে ফেলবে কিন্তু আবেদ লোকটি গুনাগার কে চিনতে পারবে না। তখন সে আবেদ কে যেয়ে বলবে, আমি সেই লোক, যে তোমাকে মরুভূমিতে একদিন নিজের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছিলাম। আজ আমার জাহান্নামের ফয়সালা হয়ে গেছে। তুমি আমার জন্য তোমার রবের নিকট সুপারিশ করো। তখন লোকটি আল্লাহর দরবারে তার জন্য সুপারিশ করে বলবে, হে আল্লাহ এই লোকটি নিজের উপর আমাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল তাকে আজ আমার জন্য দিয়ে দিন। তখন ওই গুনাহগার কে আবেদের কাছে সোপর্দ করে দেওয়া হবে। ফলে আবেদ লোকটি তার হাত ধরে তাকে নিয়ে সোজা জান্নাতে চলে যাবে।
সুবহানআল্লাহ, প্রিয় পাঠক! একবার ভেবে দেখুন আমার রবের কত দয়া। মাত্র একদিন একজন আবেদ ব্যক্তিকে পানি দেওয়ার কারণে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে মাফ করে দিবেন কিয়ামতের দিনে। এখানে শিক্ষণীয় ঘটনা হলো, আমরা যেন নিজের গুনাহের কারণে হতাশ হয়ে না যাই। আমরা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ে না যাই।

টিকাঃ
**. মুসনাদে আহমাদ ৩৭/৪৫৪
ইমাম বায়হাকি রহিমাহুল্লাহ বলেন উল্লিখিত হাদিসটি দুর্বল জামিউল আহাদিসুল কুদসিয়্যাহ ৬৫২, কিতাবুল ফিতান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00