📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 যে কাজ জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে

📄 যে কাজ জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে


মুআজ ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন কাজ বলুন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
তিনি বললেন, তুমি এক বৃহৎ বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। এটা তার জন্য খুবই সহজ, আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন। তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, জাকাত দাও, রমযানে রোজা রাখ এবং (কাবা) ঘরে হজ কর।
তারপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের কল্যাণের দরজা দেখাব না? রোজা হচ্ছে ঢাল। সাদকা গোনাহকে নিঃশেষ করে দেয়। পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়; তেমনি কোনো ব্যক্তির গভীর রাতের নামাজ তাকে আল্লাহর ওলি বানিয়ে দেয়।
তিনি পড়েন تتجافي جنوبهم عن المضاجع
যার অর্থ হলো, তারা শয্যা পরিত্যাগ করে তাদের রবকে ভয়ে ও আশায় ডাকে আল্লাহ তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করে। তাদের কর্মের জন্য যে চক্ষু শীতলকারী প্রতিফল রক্ষিত আছে, তা তাদের কেউই জানে না। [সূরা আস-সাজদাহ ১৬-১৭]
তিনি আবার বলেন, আমি তোমাদের কর্মের মূল এবং তার স্তম্ভ ও তার সর্বোচ্চ চূড়া, বলবো কি?
আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, কর্মের মূল হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হচ্ছে জিহাদ।
তারপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে এসব কিছু আয়ত্তে রাখার জিনিস বলবো না? আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি নিজের জিভ ধরে বললেন, এটাকে সংযত কর। আমি জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর নবি! আমরা যা বলি, তার হিসাব হবে কি?
তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, হে মুআজ! জিভের উৎপন্ন ফসল ব্যতীত আর এমন কিছু আছে কি, যা মানুষকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে?

টিকাঃ
তিরমিজি হা/২৬১৬, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭৩

মুআজ ইবন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন কাজ বলুন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
তিনি বললেন, তুমি এক বৃহৎ বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। এটা তার জন্য খুবই সহজ, আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন। তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তাঁর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না, নামাজ প্রতিষ্ঠা কর, জাকাত দাও, রমযানে রোজা রাখ এবং (কাবা) ঘরে হজ কর।
তারপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের কল্যাণের দরজা দেখাব না? রোজা হচ্ছে ঢাল। সাদকা গোনাহকে নিঃশেষ করে দেয়। পানি যেমন আগুনকে নিভিয়ে দেয়; তেমনি কোনো ব্যক্তির গভীর রাতের নামাজ তাকে আল্লাহর ওলি বানিয়ে দেয়।
তিনি পড়েন تتجافي جنوبهم عن المضاجع
যার অর্থ হলো, তারা শয্যা পরিত্যাগ করে তাদের রবকে ভয়ে ও আশায় ডাকে আল্লাহ তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন তা থেকে ব্যয় করে। তাদের কর্মের জন্য যে চক্ষু শীতলকারী প্রতিফল রক্ষিত আছে, তা তাদের কেউই জানে না। [সূরা আস-সাজদাহ ১৬-১৭]
তিনি আবার বলেন, আমি তোমাদের কর্মের মূল এবং তার স্তম্ভ ও তার সর্বোচ্চ চূড়া, বলবো কি?
আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি বললেন, কর্মের মূল হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে নামাজ এবং তার সর্বোচ্চ চূড়া হচ্ছে জিহাদ।
তারপর তিনি বলেন, আমি কি তোমাকে এসব কিছু আয়ত্তে রাখার জিনিস বলবো না? আমি নিবেদন করি, হে আল্লাহর রাসুল! অবশ্যই বলুন। তিনি নিজের জিভ ধরে বললেন, এটাকে সংযত কর। আমি জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর নবি! আমরা যা বলি, তার হিসাব হবে কি?
তিনি বললেন, তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক, হে মুআজ! জিভের উৎপন্ন ফসল ব্যতীত আর এমন কিছু আছে কি, যা মানুষকে মুখ থুবড়ে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করে?

টিকাঃ
তিরমিজি হা/২৬১৬, ইবনু মাজাহ হা/৩৯৭৩

📘 দ্যা রিয়েল লাভ > 📄 বিপদ যখন রহমত হয়

📄 বিপদ যখন রহমত হয়


আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহকে হিফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করবেন। আল্লাহকে স্মরণ করো, আল্লাহ তোমাকে স্মরণ করবেন। যখন কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন কোনো সাহায্যের দরকার হবে, আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে।
জেনে রেখো, সারা পৃথিবীর সব সৃষ্টি যদি এক জায়গায় জড়ো হয় আর তোমার উপকার করতে চায়। আর আল্লাহ যদি তা লিখে না রাখেন, তাহলে সারা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি তোমার কোনো উপকার করতে পারবেন না। আর সারা দুনিয়ার সব সৃষ্টি একত্রিত হয়ে ও যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়। আর আল্লাহ যদি তা না চান, তাহলে সারা দুনিয়া মিলে তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! কলম তুলে নেওয়া হয়েছে আর কালি শুকিয়ে গেছে।২৪
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি জ্বরে ভুগছিলেন।
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনার যে প্রচণ্ড জ্বর!' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ! তোমাদের দুজনের সমান আমার জ্বর আসে।' আমি বললেন, 'তার জন্যই কি আপনার পুরস্কারও দ্বিগুণ?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ! ব্যাপার তা-ই। (অনুরূপ) যেকোনো মুসলিমকে কোনো কষ্ট পৌঁছে, কাঁটা লাগে অথবা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার পাপসমূহকে মোচন করে দেন এবং তার পাপসমূহকে এভাবে ঝরিয়ে দেওয়া হয়; যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।'২৫
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-জীবনের সব দুঃখকে এক সিজদাহ দিয়ে বিদায় করে দিন।
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-যার আত্মসম্মানবোধ আছে সে কোনো দিন দুনিয়াবি জীবনকে কোনো মূল্য দেয় না।২৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু মাসউদ (রা.)-কে বলেন- 'বেশি দুশ্চিন্তা করবে না। আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তা ঘটবেই। যে রিজিক তোমার জন্য আছে, তা আসবেই। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (বলা) হলো নিরানব্বইটি রোগের আরোগ্য, যার সবচেয়ে কমটি হলো দুশ্চিন্তা।
ইমাম ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ বলেন-জেনে রাখো! জীবনে রয়েছে অনেক উত্থান ও পতন। কখনো দারিদ্র্য, কখনো সচ্ছলতা। কখনো সম্মান, কখনো লাঞ্চনা। প্রকৃতপক্ষে সেই হচ্ছে সুখী; যে সকল অবস্থাতেই দৃঢ় থাকে।২৮
মায়মুন ইবনে মেহরان রাহিমাহুল্লাহ বলেন-বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি হতে পারবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না কঠোরভাবে নিজের হিসেব নিজেই না নিবে।২৯

টিকাঃ
২৪. সহিহ আত তিরমিজি
২৫. সহিহুল বুখারি ৫৬৪৮, ৫৬৪৭, ৫৬৬০, ৫৬৬১
২৬. ইবনুল জাওযি, সিফাতুস সাফওয়া: ২/৭৭
২৭. তাবারানি, আল-আসওয়াত: ৫০২৮
২৮. সাইদ আল-খাতিরঃ ২৮২

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহকে হিফাজত করো, আল্লাহ তোমাকে হিফাজত করবেন। আল্লাহকে স্মরণ করো, আল্লাহ তোমাকে স্মরণ করবেন। যখন কিছু চাইবে, তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে। যখন কোনো সাহায্যের দরকার হবে, আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে।
জেনে রেখো, সারা পৃথিবীর সব সৃষ্টি যদি এক জায়গায় জড়ো হয় আর তোমার উপকার করতে চায়। আর আল্লাহ যদি তা লিখে না রাখেন, তাহলে সারা পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি তোমার কোনো উপকার করতে পারবেন না। আর সারা দুনিয়ার সব সৃষ্টি একত্রিত হয়ে ও যদি তোমার কোনো ক্ষতি করতে চায়। আর আল্লাহ যদি তা না চান, তাহলে সারা দুনিয়া মিলে তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না! কলম তুলে নেওয়া হয়েছে আর কালি শুকিয়ে গেছে।২৪
ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি জ্বরে ভুগছিলেন।
আমি বললাম, 'হে আল্লাহর রাসুল! আপনার যে প্রচণ্ড জ্বর!' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ! তোমাদের দুজনের সমান আমার জ্বর আসে।' আমি বললেন, 'তার জন্যই কি আপনার পুরস্কারও দ্বিগুণ?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ! ব্যাপার তা-ই। (অনুরূপ) যেকোনো মুসলিমকে কোনো কষ্ট পৌঁছে, কাঁটা লাগে অথবা তার চেয়েও কঠিন কষ্ট হয়, আল্লাহ তাআলা এর কারণে তার পাপসমূহকে মোচন করে দেন এবং তার পাপসমূহকে এভাবে ঝরিয়ে দেওয়া হয়; যেভাবে গাছ তার পাতা ঝরিয়ে দেয়।'২৫
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-জীবনের সব দুঃখকে এক সিজদাহ দিয়ে বিদায় করে দিন।
মুহাম্মাদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-যার আত্মসম্মানবোধ আছে সে কোনো দিন দুনিয়াবি জীবনকে কোনো মূল্য দেয় না।২৬
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইবনু মাসউদ (রা.)-কে বলেন- 'বেশি দুশ্চিন্তা করবে না। আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন, তা ঘটবেই। যে রিজিক তোমার জন্য আছে, তা আসবেই। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লা-হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ (বলা) হলো নিরানব্বইটি রোগের আরোগ্য, যার সবচেয়ে কমটি হলো দুশ্চিন্তা।
ইমাম ইবনুল জাওজি রাহিমাহুল্লাহ বলেন-জেনে রাখো! জীবনে রয়েছে অনেক উত্থান ও পতন। কখনো দারিদ্র্য, কখনো সচ্ছলতা। কখনো সম্মান, কখনো লাঞ্চনা। প্রকৃতপক্ষে সেই হচ্ছে সুখী; যে সকল অবস্থাতেই দৃঢ় থাকে।২৮
মায়মুন ইবনে মেহরان রাহিমাহুল্লাহ বলেন-বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুত্তাকি হতে পারবে না, যতক্ষন পর্যন্ত না কঠোরভাবে নিজের হিসেব নিজেই না নিবে।২৯

টিকাঃ
২৪. সহিহ আত তিরমিজি
২৫. সহিহুল বুখারি ৫৬৪৮, ৫৬৪৭, ৫৬৬০, ৫৬৬১
২৬. ইবনুল জাওযি, সিফাতুস সাফওয়া: ২/৭৭
২৭. তাবারানি, আল-আসওয়াত: ৫০২৮
২৮. সাইদ আল-খাতিরঃ ২৮২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00