📄 আল্লাহ তার বান্দাদের কতটা ভালোবাসেন
আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি কতটা দয়াময়, তা এই হাদিসটি পড়লে আমরা বুঝতে পারবো। এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি অশেষ রহমত ও দয়া। এ সম্পর্কে কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন-
جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا * وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُون
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুত তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [সুরা আনআম: ১৬০]
আল্লাহ তায়ালা হাদিসে কুদসিতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'যখন কোনো বান্দা এক বিঘত আমার দিকে অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। আর যখন বান্দা আমার দিকে একহাত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক কদম এগিয়ে যাই। আর বান্দা যখন আমার দিকে হেঁটে হেঁটে আসে, তখন আমি তার নিকট দৌড়ে আসি।'১৭
বান্দা গুনাহ করতে পছন্দ করে আর মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করতে পছন্দ করে। তাই তো আল্লাহ তায়ালা সর্বদা বান্দার জিহ্বার দিকে তাকিয়ে থাকেন, কখন বান্দা আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করে ফিরে আসে। যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা রাতে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন, যেন দিনের গোনাগার তওবা করে। আবার তিনি দিনে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতের গুনাহগার তওবা করে।'১৮
টিকাঃ
১৭. সহিহ বুখারি: ৭৫৩৬
১৮. মুসলিম: ৬৮৮২
আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি কতটা দয়াময়, তা এই হাদিসটি পড়লে আমরা বুঝতে পারবো। এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে বান্দার প্রতি অশেষ রহমত ও দয়া। এ সম্পর্কে কুরআনেও আল্লাহ তায়ালা ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন-
جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا * وَمَن جَاءَ بِالسَّيِّئَةِ فَلَا يُجْزَى إِلَّا مِثْلَهَا وَهُمْ لَا يُظْلَمُون
যে একটি সৎকর্ম করবে, সে তার দশগুণ পাবে এবং যে একটি মন্দ কাজ করবে, সে তার সমান শাস্তিই পাবে। বস্তুত তাদের প্রতি জুলুম করা হবে না। [সুরা আনআম: ১৬০]
আল্লাহ তায়ালা হাদিসে কুদসিতে বলেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'যখন কোনো বান্দা এক বিঘত আমার দিকে অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক হাত এগিয়ে যাই। আর যখন বান্দা আমার দিকে একহাত অগ্রসর হয়, তখন আমি তার দিকে এক কদম এগিয়ে যাই। আর বান্দা যখন আমার দিকে হেঁটে হেঁটে আসে, তখন আমি তার নিকট দৌড়ে আসি।'১৭
বান্দা গুনাহ করতে পছন্দ করে আর মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করতে পছন্দ করে। তাই তো আল্লাহ তায়ালা সর্বদা বান্দার জিহ্বার দিকে তাকিয়ে থাকেন, কখন বান্দা আল্লাহ তায়ালার কাছে তওবা করে ফিরে আসে। যেমনটি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'আল্লাহ তায়ালা রাতে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন, যেন দিনের গোনাগার তওবা করে। আবার তিনি দিনে তার ক্ষমার হাত প্রসারিত করেন, যেন রাতের গুনাহগার তওবা করে।'১৮
টিকাঃ
১৭. সহিহ বুখারি: ৭৫৩৬
১৮. মুসলিম: ৬৮৮২
📄 একাকীত্ব সময় আপনি কি করবেন
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বান্দার দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু সময় থাকা উচিত, যখন সে একা হবে। এই একাকী মুহূর্তগুলো সে দুআ, জিকির করে কাটাবে, সালাত আদায় করবে এবং পরকাল নিয়ে চিন্তাভাবনা, আত্মজিজ্ঞাসা এবং অন্তরের শুদ্ধির জন্য কাজ করবে। এছাড়া আরও যত বিষয় রয়েছে যেগুলো একা না হলে হয় না, সেগুলোর জন্য নির্জনতা বেছে নেবে।'১৯
টিকাঃ
১৯. মাজমু আল-ফাতাওয়া, ১০/৪২৫
ইমাম ইবনু তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বান্দার দৈনন্দিন জীবনে এমন কিছু সময় থাকা উচিত, যখন সে একা হবে। এই একাকী মুহূর্তগুলো সে দুআ, জিকির করে কাটাবে, সালাত আদায় করবে এবং পরকাল নিয়ে চিন্তাভাবনা, আত্মজিজ্ঞাসা এবং অন্তরের শুদ্ধির জন্য কাজ করবে। এছাড়া আরও যত বিষয় রয়েছে যেগুলো একা না হলে হয় না, সেগুলোর জন্য নির্জনতা বেছে নেবে।'১৯
টিকাঃ
১৯. মাজমু আল-ফাতাওয়া, ১০/৪২৫
📄 তোমার নফস তোমার শত্রুর মতো
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তোমার আত্মা (নফস) তোমার শত্রুর মতো। সে যখন তোমাকে সতর্ক দেখে, তখন তোমার আনুগত্য করে যায়। আর যখন তোমার মধ্যে দুর্বলতা দেখে, তখন তোমাকে কয়েদির মতো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
টিকাঃ
২০. বাদাইউল ফাউয়াইদ: ৩/১২০২
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, তোমার আত্মা (নফস) তোমার শত্রুর মতো। সে যখন তোমাকে সতর্ক দেখে, তখন তোমার আনুগত্য করে যায়। আর যখন তোমার মধ্যে দুর্বলতা দেখে, তখন তোমাকে কয়েদির মতো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।
টিকাঃ
২০. বাদাইউল ফাউয়াইদ: ৩/১২০২
📄 আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ উত্তম কিছু দেন
আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ উত্তম উত্তম কিছু দিয়ে এর প্রতিদান দেন। মক্কায় থাকাকালে এক আবেদের সকল সম্পদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি চরম ক্ষুধার্ত হয়ে গেলেন ও খাদ্যের অভাবে মরণাপন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। একদিন মক্কার চত্বরে হেঁটে বেড়ানোর সময় তিনি একটি হার (নেকলেস) পেলেন। এটাকে তিনি তার আস্তিনের ভিতরে রেখে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। পথে একজন মানুষের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো, যিনি ঘোষণা দিচ্ছিলেন যে, তিনি একটি হার হারিয়েছেন। গরিব লোকটি পরে বলেছেন যে, আমি তাকে আমার নিকট এর বিবরণ দেয়ার জন্য বললাম।
আর তিনি এত নিখুঁতভাবে এর বিবরণ দিলেন যে, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ রইল না। আমি তার কাছ থেকে কোনোরূপ পুরস্কার গ্রহণ না করেই তাকে হারটি দিয়ে দিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি এটাকে তোমার কারণে দিয়ে দিয়েছি, অতএব, যা এর চেয়ে উত্তম তা দিয়ে আমাকে প্রতিদান দাও।
এরপর তিনি সাগরে গিয়ে ছোট একটি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করলেন। অল্প সময় যেতে না যেতেই প্রচণ্ড বায়ুসহ এক ঝড় এলো আর (তার) নৌকাটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলো। নৌকাটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল আর লোকটি একটি কাঠের টুকরো ধরে ঝুলে থাকতে বাধ্য হলেন।
প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু তাকে ডানে-বামে নিয়ে গেল। অবশেষে তিনি ভাসতে ভাসতে একটি দ্বীপের তীরে গেলেন। সেখানে মানুষে ভরপুর একটি মসজিদ পেলেন; লোকেরা সেখানে সালাত পড়ছিল, তাই তিনিও তাদের সঙ্গে সালাতে যোগ দিলেন। তিনি অংশ বিশেষ লিখিত কিছু কাগজ পেলেন ও সেগুলো পড়তে শুরু করলেন। দ্বীপের লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি কুরআন পড়ছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা বলল, আপনি আমাদের শিশুদেরকে কুরআন শিক্ষা দিন। তাই তিনি তাদেরকে কুরআন শেখাতে শুরু করলেন ও তার কাজের জন্য তিনি একটি ভাতা (বেতন) গ্রহণ করলেন। একদিন তারা তাকে লিখতে দেখল ও জিজ্ঞেস করল, আপনি কি আমাদের শিশুদেরকে লেখা শেখাবেন? আবারও তিনি হ্যাঁ বললেন এবং একটি বেতনের বিনিময়ে তাদেরকে লেখা শেখাতে শুরু করলেন।
কিছুদিন পর তারা তাকে বলল, আমাদের নিকট একটি এতিম বালিকা আছে। তার পিতা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আপনি কি তাকে বিয়ে করবেন? তিনি বিয়েতে রাজি হলেন। তিনি পরে বর্ণনা করেছেন, আমি তাকে বিয়ে করে যখন বাসর রাতে তার দিকে তাকালাম, তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সে হুবহু সেই একই হার পরে আছে। আমি তাকে বললাম, আমাকে হারের গল্প বলতে। সে বলল যে, তার পিতা এটাকে মক্কায় হারিয়ে ফেলেছিল এবং একটি লোক এটা পেয়ে তার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিল। সে বলল যে, তার পিতা সর্বদা সেজদার সময় তার মেয়ের জন্য দুআ করত, সে যেন ঐ লোকের মতো সৎ স্বামী পেয়ে ধন্য হয়। আমি তখন তাকে জানালাম যে, আমিই সে লোক ছিলাম।
তিনি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করেছেন, তাই আল্লাহ, তাকে এমন জিনিস দিয়ে প্রতিদান দিলেন, যা ছিল আরও ভালো।
إِنَّ الله طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبَاً
নিশ্চয় আল্লাহ উত্তম ও পবিত্র এবং তিনি উত্তম ও পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ (কবুল) করেন না।
ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহ.)-সহ অনেকেই এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন।
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا আর তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে স্থির করে রেখেছেন একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রায়। [সুরা তালাক, আয়াত: ২৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি আল্লাহর ভয়ে কোনো জিনিস বর্জন করলে, আল্লাহ, তোমাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করবেন।""
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-যারা আল্লাহর উপরে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য কষ্টকর সকল কাজই সহজ হয় যায়, যখন তারা জানে যে, আল্লাহ তাদেরকে শুনছেন (দেখছেন)।
আল্লাহর জন্য কিছু ত্যাগ করলে আল্লাহ উত্তম উত্তম কিছু দিয়ে এর প্রতিদান দেন। মক্কায় থাকাকালে এক আবেদের সকল সম্পদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তিনি চরম ক্ষুধার্ত হয়ে গেলেন ও খাদ্যের অভাবে মরণাপন্ন হয়ে গিয়েছিলেন। একদিন মক্কার চত্বরে হেঁটে বেড়ানোর সময় তিনি একটি হার (নেকলেস) পেলেন। এটাকে তিনি তার আস্তিনের ভিতরে রেখে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। পথে একজন মানুষের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হলো, যিনি ঘোষণা দিচ্ছিলেন যে, তিনি একটি হার হারিয়েছেন। গরিব লোকটি পরে বলেছেন যে, আমি তাকে আমার নিকট এর বিবরণ দেয়ার জন্য বললাম।
আর তিনি এত নিখুঁতভাবে এর বিবরণ দিলেন যে, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ রইল না। আমি তার কাছ থেকে কোনোরূপ পুরস্কার গ্রহণ না করেই তাকে হারটি দিয়ে দিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ! আমি এটাকে তোমার কারণে দিয়ে দিয়েছি, অতএব, যা এর চেয়ে উত্তম তা দিয়ে আমাকে প্রতিদান দাও।
এরপর তিনি সাগরে গিয়ে ছোট একটি নৌকায় করে যাত্রা শুরু করলেন। অল্প সময় যেতে না যেতেই প্রচণ্ড বায়ুসহ এক ঝড় এলো আর (তার) নৌকাটিকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলো। নৌকাটি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেল আর লোকটি একটি কাঠের টুকরো ধরে ঝুলে থাকতে বাধ্য হলেন।
প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ু তাকে ডানে-বামে নিয়ে গেল। অবশেষে তিনি ভাসতে ভাসতে একটি দ্বীপের তীরে গেলেন। সেখানে মানুষে ভরপুর একটি মসজিদ পেলেন; লোকেরা সেখানে সালাত পড়ছিল, তাই তিনিও তাদের সঙ্গে সালাতে যোগ দিলেন। তিনি অংশ বিশেষ লিখিত কিছু কাগজ পেলেন ও সেগুলো পড়তে শুরু করলেন। দ্বীপের লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি কুরআন পড়ছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারা বলল, আপনি আমাদের শিশুদেরকে কুরআন শিক্ষা দিন। তাই তিনি তাদেরকে কুরআন শেখাতে শুরু করলেন ও তার কাজের জন্য তিনি একটি ভাতা (বেতন) গ্রহণ করলেন। একদিন তারা তাকে লিখতে দেখল ও জিজ্ঞেস করল, আপনি কি আমাদের শিশুদেরকে লেখা শেখাবেন? আবারও তিনি হ্যাঁ বললেন এবং একটি বেতনের বিনিময়ে তাদেরকে লেখা শেখাতে শুরু করলেন।
কিছুদিন পর তারা তাকে বলল, আমাদের নিকট একটি এতিম বালিকা আছে। তার পিতা খুব ভালো মানুষ ছিলেন। আপনি কি তাকে বিয়ে করবেন? তিনি বিয়েতে রাজি হলেন। তিনি পরে বর্ণনা করেছেন, আমি তাকে বিয়ে করে যখন বাসর রাতে তার দিকে তাকালাম, তখন আমি দেখতে পেলাম যে, সে হুবহু সেই একই হার পরে আছে। আমি তাকে বললাম, আমাকে হারের গল্প বলতে। সে বলল যে, তার পিতা এটাকে মক্কায় হারিয়ে ফেলেছিল এবং একটি লোক এটা পেয়ে তার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিল। সে বলল যে, তার পিতা সর্বদা সেজদার সময় তার মেয়ের জন্য দুআ করত, সে যেন ঐ লোকের মতো সৎ স্বামী পেয়ে ধন্য হয়। আমি তখন তাকে জানালাম যে, আমিই সে লোক ছিলাম।
তিনি আল্লাহর জন্য কোনো কিছু ত্যাগ করেছেন, তাই আল্লাহ, তাকে এমন জিনিস দিয়ে প্রতিদান দিলেন, যা ছিল আরও ভালো।
إِنَّ الله طَيِّبُ لَا يَقْبَلُ إِلَّا طَيِّبَاً
নিশ্চয় আল্লাহ উত্তম ও পবিত্র এবং তিনি উত্তম ও পবিত্র জিনিস ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ (কবুল) করেন না।
ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহ.)-সহ অনেকেই এই ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَل لَّهُ مَخْرَجًا যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্যে নিষ্কৃতির পথ বের করে দেবেন।
وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا আর তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিজিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেনই। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে স্থির করে রেখেছেন একটি সুনির্দিষ্ট মাত্রায়। [সুরা তালাক, আয়াত: ২৩]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তুমি আল্লাহর ভয়ে কোনো জিনিস বর্জন করলে, আল্লাহ, তোমাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করবেন।""
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন-যারা আল্লাহর উপরে বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য কষ্টকর সকল কাজই সহজ হয় যায়, যখন তারা জানে যে, আল্লাহ তাদেরকে শুনছেন (দেখছেন)।