📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 জীবনীশক্তি যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে

📄 জীবনীশক্তি যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে


এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 অন্তঃপ্রবাহী নতুন চিন্তা

📄 অন্তঃপ্রবাহী নতুন চিন্তা


আমেরিকার ইতিহাসে যে ক'জন জ্ঞানী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে উইলিয়াম জেম্স এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তারই উল্লেখিত একটি বক্তব্য আমরা নীচে দেখতে পাব। বক্তব্যটি আপনাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিধর। উইলিয়াম জেমস বলেছেন, "আমার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো যে, মানুষ তার মনোবৃত্তির পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।” যেমনটা আপনি ভাববেন, আপনার জীবনটা তেমনই হবে। কাজেই আপনার মনের যত জীর্ণ পুরাতন, ক্লান্ত, শ্রান্ত বিবর্ণ-মলিন চিন্তা ধারণাগুলো আছে সেগুলো ধুয়ে মুছে ফেলুন। সেখানে মনকে নির্ভেজাল সৃজনশীল বিশ্বাস চিন্তায় এবং যত সৎ গুণাবলী আছে সেসবে ভরে ফেলুন এই পদ্ধতি চর্চার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার জীবনের সত্যিকার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন জীবন গঠন করতে পারেন।
ব্যক্তিত্ব পূণর্গঠনের এমন চিন্তা চেতনা আপনি কোথায় পাবেন? একজন ব্যবসায়ী নির্বাহীকে আমি জানি বিনীত একজন মানুষ কিন্তু কটির ধরনটি এমন যিনি কখনো কোন কাজে পরাজিত হননি।
কোন সমস্যা নয় উন্নয়নের পথে কোন বাধা নয় শ্রবং কোন বাধা বিঘ্নই কখনও তাকে নত করতে পারেনি। প্রতিটি কঠিন অবস্থারে অভাবিক আশাবাদী মনোভাব নিয়ে আক্রমণ করেছেন এবং তার প্রেমেই দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে তার সিদ্ধান্তই ঠিকমত কাজ করবে এবং দেখা গেছে যে কী অদ্ভূতভাবে সব সময় সবকিছু তার পক্ষেই কাজ করেছে। মনে হচ্ছে কি এক যাদুকরী স্পর্শ তার জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে।
এমন এক স্পর্শ যা কখনও ব্যর্থ হয়নি। লোকটি এমন নিশ্চিত পন্থা অবলম্বনের পিছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা না থেকেই পারে না আর আমি অবশ্যই তার কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার বিনীত স্বভাবের কারণে এবং চাপা স্বভাববশত তার কাছ থেকে তার নিজের সম্বন্ধে কিছু টেনে বের করা কঠিন ছিল। একদিন যখন তিনি বেশ চমৎকার মেজাজে ছিলেন, সেদিন তার গোপন তথ্য আমাকে জানিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে তা অতি সহজ সরল কিন্তু কার্যকারী গোপন তথ্য। আমি তার কারখানার যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করছিলাম আধুনিক এবং হাল আমলের কাঠামো, এবং এর বেশির ভাগই এয়ার কন্ডিশন্ড। সর্বাধুনিক মেশিনপ্রত্র এবং উৎপাদন পদ্ধতি কারখানাটিকে একটি দক্ষতাপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নীতি মনে হয় ত্রুটি পূর্ণ মানুষের মধ্যে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন, ব্যবসা সুনামের একটি উৎসাহ উদ্দীপনা যেন পুরো প্রতিষ্ঠানে ব্যপ্তি লাভ করেছিল।
তার অফিসটি অত্যাধুনিকভাবে কারুকার্য করা হয়েছিল এবং সুন্দর সুন্দর ডেস্ক, উলেন কাপড়ের কাজ, বিদেশী কাঠের প্যানেল দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
কারুকার্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে বিস্ময়কর পাঁচটি রঙ একত্র করে এবং তা হয়েছে খুবই মনোরম। সব মিলিয়ে এটাই হলো শেষ কথা যে, এ অতি সুন্দর, তারপর অন্যকিছু। তারপর কল্পনা করুন, দারুণ সুচারুভাবে পলিশ করা মেহগিনি কাঠের ডেস্কের উপর আমি যখন দেখলাম বহু ব্যবহার ধন্য একটি পুরনো বাইবেল তখন আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম। অত্যাধুনিক কক্ষগুলোর মধ্যে ঐ বাইবেলটিই ছিল একমাত্র পুরাতন বস্তু। আমি মন্তব্য করলাম আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যেন পুরনো বাইবেলটি এখানে এক অদ্ভূত অসংলগ্নতা। জবাবে বললেন, 'ঐ বইটি' বাইবেলটির দিকে আঙ্গুল তুলে দেখালেন, এ কারখানার যত অধ্যাধুিনিক যন্ত্রপাতি আছে তারমধ্যে এ বাইবেলটিই সর্বাপেক্ষা অত্যাধুনিক। (অন্যন্য ধর্মগ্রন্থও তাই) যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে করতে জরাজীর্ণ হয়ে যায় সাজসজ্জার ধরণ পাল্টে যেতে পারে কিন্তু ঐ বইটি আমাদের সবকিছুর চেয়ে এগিয়ে আছে, কিন্তু তবুও তা কখনও সেকেলে হয়ে যায় না। যখন আমি কলেজে গিয়েছিলাম আমার খ্রীষ্টান মা ঐ বাইবেলটি আমাকে দিয়েছিলেন এবং উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, যদি আমি বইটি পড়ি এবং এর শিক্ষাগুলো অনুশীলন করি তাহলে আমি শিখতে পারবে কিভাবে সাফল্যের মধ্য দিয়ে জীবন চালিয়ে নেয়া যায়। আমি ভেবেছিলাম তিনি শুধুমাত্র একজন চমৎকার বৃদ্ধা মহিলাই ছিলেন। মৃদু হেসে বললেন তিনি, 'আশ্চর্য : সন্ধিলগ্নে তাকে মনে হতো বুড়া কিন্তু আসলে তত বৃদ্ধা তিনি নন।' আমি তাকে তুষ্ট করার জন্যই আমি বাইবেলটি নিয়েছিলাম এবং সত্যি যে বছরের পর বছর বইটি পড়েই ছিল, আমি কখনও বইটির দিকে তাকিয়ে দেখিনি। আমার মনে হয়েছিল বইটি আমার কোন কাজে আসবে না।
“বেশ”, কিছুটা অমার্জিত ভাষায়ই বলতে থাকলেন তিনি, "আমি ছিলাম একজন মাদকাসক্ত। একজন ফালতু মানুষ ছিলাম আমি। তীব্র বিশৃঙ্খল এক জীবন ছিল আমার।"
প্রথম প্রথম সবকিছুই ভুল ভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে চলছিল কারণ আমি ভ্রান্তি বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম, আমার কাজকর্ম সবকিছু ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। কোন কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছিলাম না আমি, সবকিছুতে ব্যর্থতাই ছিল আমার একমাত্র পরিণতি। এখন আমি বুঝতে পারছি যে, আমার প্রধান সমস্যাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা। আমি ছিলাম নেতিবাচকের ধারক, আমি ছিলাম ক্রুদ্ধ দাম্ভিক একগুঁয়ে। কেউ কিছু বলতে পারত না আমাকে। আমার এমন ধারনা ছিল যে, আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক। সবার প্রতি কেমন পীড়াগ্রস্থ মনোভাব ছিল আমার অল্প হলেও বিস্ময়কর সত্যি যে কেউ আমাকে পছন্দ করত না। সত্যি বলতে কি, আমি একেবারেই ব্যর্থই হয়েছিলাম। এভাবেই চলছিল তার বিষাদময় জীবন। একদিন রাতে কিছু কাগজপত্রের উপর চোখ বুলাবার সময়, বলে চললেন তিনি, হঠাৎ করেই অনেকদিন ভুলে থাকা বাইবেলের দিকে চোখ পড়ে আমার। হারানোদিনের সব মনে পড়তে থাকে আমার এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইবেলটি পড়তে থাকি আমি। আপনি জানেন কি, কী অদ্ভূত একটা ব্যাপার ঘটে গেল? এক মুহূর্তের মধ্যেই আমির সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল।
দেখুন, যখন আমি বাইবেল পড়া শুরু করি একটি বাক্য যেন লাফ দিয়ে আমার চোখের সামনে চলে আসে, একটিমাত্র বাক্য আমার জীবন পরিবর্তন করে ফেলে। এবং আমি যখন বলি পরিবর্তন হয়ে গেছে, অর্থাৎ আমি বুঝতে চাইছি পরিবর্তন হয়েই গেল। যখন থেকে আমি ঐ বাক্যটি পড়তে থাকি সবকিছু বিস্ময়করভাবে অন্যরকম হয়ে যায়।
কী সেই বিস্ময়কর বাক্যটি? আমি তা জানতে চেয়েছিলাম, এবং ধীরে ধীরে বললেন তিনি “ঈশ্বরই আমার জীবনের শক্তি.... এরই উপর আমি দৃঢ় রূপে বিশ্বাস স্থাপন করব (সাম সঙ্গীত xxvi. 1. 3)
"আমি জানিনা কেমন করে কেন সেই একটিমাত্র বাক্য আমার উপর এমন প্রভাব বিস্তার করল তিনি বলে চললেন, কিন্তু তা হয়েছিল। এখন আমি জানি যে, আমি কেমন দুর্বল ছিলাম এবং কেমন ব্যর্থ একজন মানুষ। কারণ আমার কোন বিশ্বাস ছিল না।
কোন আত্মবিশ্বাস ছিলনা। আমি ছিলাম খুব নেতিবাচক পরাজয় বরণে অভ্যস্ত এক মানুষ। কিন্তু ঐ দিনই কিছু একটা ঘটে গেল আমার মনে। আমি অনুমান করছি যা আমার মধ্যে ঘটলো তা হলো, অন্যকিছু, যাকে বলে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমার ধ্যান ধারনা পাল্টে গেল। নেতিবাচক একটি অবস্থা থেকে আমি ইতিবাচক একটি অবস্থায় পদর্পন করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম দৃঢ় বিশ্বাসে ঈশ্বরকে অন্তরে ধরে রাখব আমি, এবং আন্তরিকভাবে সবচেয়ে যা ভালো তাই করব, বাইবেলে যেসব নীতিমালার কথা লিখিত হয়েছে তা মেনে চলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। (সব ধর্মশাস্ত্রের জন্যও এটি প্রযোজ্য) যখন আমি তেমনটি করলাম কিছু নতুন ধরনের চিন্তা আমি ধারণ করলাম। ভিন্ন ধরনের চিন্তা চর্চা শুরু করলাম। আমি এক সময় আমার ব্যর্থতার জায়গাটা জুড়ে গেল আধ্যাত্মিক চিন্তন অভিজ্ঞতায় এবং নব্য চিন্তনের অন্তপ্রবাহ ক্রমে ক্রমে, কিন্তু সত্যিকারভাবে আমাকে পূর্ণগঠিত করতে থাকল। সুতরাং এখানেই আমি শেষ করছি সেই ব্যবসায়ী লোকটির কাহিনী। তিনি তার চিন্তাভাবনা পাল্টে ফেলেছিলেন যে, পুরনো চিন্তা ভাবনাগুলো তাকে হারিয়ে দিচ্ছিল পদে পদে এবং তিক্তভাবে, সে জায়গায় শেষ পর্যন্ত জয়ের পতাকা উড্ডীন হলো বিজয় গর্বে।
এই যে ঘটনা হলো, তার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ব্যর্থ হবার কথা এবং অসুখি হবার কথা ভাবতে পারেন তবে সেই আপনি আবার সাফল্য লাভ করার কথা এবং সুখি হবার কথাও ভাবতে পারেন। যে দুনিয়াতে আপনি বাস করছেন সেখানে প্রাথমিকভাবে বাইরের অবস্থা থেকে বা পরিস্থিতি থেকে কোন কিছু নির্ধারিত হয় না। কিন্তু হয় চিন্তাশক্তির দ্বারা যা যথারীতি আপনার মনকে জুড়ে রয়েছে। মার্কাস অরেলিয়াসের সেই কথা গুলোস্মরণ করুন, তিনি প্রাচীনকালের একজন বড় চিন্তাবিদ, তিনি বলেছেন, “মানুষের জীবন তেমনই হয় যেমনটা সেভাবে।”
আমেরিকার সুবিজ্ঞ পণ্ডিত, ঐক্যের জন্য যিনি সব সময় কাজ করেছেন, মি. রালফ উয়ালডো এমারসন, তিনি বলেছেন, "একজন মানুষ তেমনই হয়, সারাদিন যেমন সে ভাবে।” একজন বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ বলেছেন, “মানুষের স্বভাবের এমন এক গভীর প্রবণতা রয়েছে যা তাকে ক্রমাগত কল্পনার মধ্য দিয়ে ঠিক তার আকাঙ্খিত বাস্তবতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।"
এমন কথিত আছে যে 'চিন্তা' হলো এমন এক বস্তু, যার মধ্যে মূলত গতিশীল এক শক্তি নিহিত রয়েছে। যে অনুশীলন যারা করে তার শক্তির বিচারে একজন তাৎক্ষনিকভাবে এমন গুণবিচার করে তা নিরুপন করতে পারে।
আসলে আপনি নিজেই একটি পরিস্থিতির ভেতর বা বাইরের উদ্ভেয়দিকই ভাবতে পারেন। আপনার চিন্তার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অসুস্থ করে ফেলতে পারেন। আবার ঐ একই চিন্তা শক্তির দ্বারা নিজেকে সুস্থ্যও করতে পারেন। শেষের ক্ষেত্রে চিন্ত াটি ভিন্ন এবং আরোগ্যকর ধরনের চিন্তা। এক ধরনের চিন্তা করুন এবং যার মাধ্যমে আপনি পরিস্থিতিকে আয়ত্বে আনতে পারবেন তা আগে চিহ্নিত করুন। আবার অন্যরকম চিন্তা করুন দেখবেন তার ফলও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কারো কোন অবস্থা তৈরি হয় চিন্তার দ্বারা এবং অঅেবস্থা উৎসারিত চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইতিবাচক চিন্তা করুন, উদাহারণ স্বরূপ আপনার ইতিবাচক চিন্তাশক্তি নিয়োজিত করলে দেখবেন সাফল্যদায়ী ফল উৎপাদন করেছে আপনার জন্য। ইতিবাচক চিন্তা আপনার চারিদিকে এক প্রসন্ন পরিবেশ তৈরি করেছে যা ঐ চিন্তা উত্থিত উন্নত ইতিবাচক ফল। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তা করে দেখুন দেখবেন, আপনি অপ্রসন্ন পরিবেশের ঘেরা জালে আবদ্ধ হয়ে হাঁস ফাঁস করছেন।
আপনার পরিস্থিতির পরিবর্তনের পেছনের প্রথম উৎসটি হলো, আপনার ভিন্ন ধরনের চিন্তা অসন্তুষ্টিকর পরিস্থিতিকে আপনি কোনোভাবে ইতিবাচক বলে মেনে নেবেন না, কিন্তু মনে মনে একটি সুন্দর ইতিবাচক ছবি আকার দিন। যেমনটি হলে খুবই ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন। ছবিটি মনশ্চক্ষুর সম্মুখে তুলে ধরুন একে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলুন, এর উপর বিশ্বাস রাখুন এর জন্য প্রার্থনা করুন এর পেছনে শ্রম দিন, দেখবেন ইতিবাচক চিন্তার মধ্য দিয়ে যে প্রতিবিম্ব আপনি মনে মনে কল্পনা করেছেন সেই অনুসারে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশ্বব্রহ্মণ্ডে এটি মহানতম একটি বিধান আমি যখন একজন অল্প বয়সের যুবক তখনই এই সত্য বিধান আমি আবিষ্কার করেছিলাম একথা আমি অকপটে বলার ইচ্ছা রাখি। অনেক পরে আমার জীবনে এ সত্য বিধান ধীর ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং একে আমার একটি মহানতম বিধান বলে মনে হয়, যদি ও ঈশ্বরের সাথে আমার সম্পর্ক হওয়ার বিষয়টিও সর্বাপেক্ষা মহান এক আবিষ্কার। এবং গভীরভাবে ভাবতে গেলে এই বিধানটি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার একটি কারণ, এ থেকেই ব্যক্তির সাথে ঐশ্বশক্তির সংযোজক পথ তৈরি হয়।
এই মহান বিধান সংক্ষেপে এবং সাধারণভাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে আপনি যদি নৈতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে ফলাফল নেতিবাচকই হবে। যদি ইতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে তার ফলাফলও দাঁড়াবে ইতিবাচক। সৌভাগ্য লাভের এবং সাফল্য লাভের এই হলো অবাক করা বিধান। তিনটি মাত্র শব্দ, বিশ্বাস করুন এবং সফল হোন (believe and succeed)
খুব মজার এক পন্থায় আমি এই বিধান সম্বন্ধে জেনেছি। কয়েক বছর আগে আমাদের একটি দল, দলটি গঠিত হয়েছিল লোয়ে থোমাস ক্যাথেচইন এডি রিকেনবেকার, ব্রান্স রিকি, রেমন্ড থনবার্গ এবং আরও কয়েকজন মিলে আত্ম অণুপ্রেরণায় এবং স্বউদ্যোগে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করি, ম্যাগাজিনের নাম 'গাইড পোষ্টস'। এই ম্যাগাজিনের দু'টো উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমটি হলো, বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যারা তাদের কষ্ট ভোগ জীয় করেছেন তাদের কাহিনী প্রকাশ, কারণ এই কাহিনীগুলো সাফল্যজনক ভাবে বাঁচতে, ভয়ভীতির উপর জয়ী হতে, কোন নাজুক অবস্থার উপর, কোন বাধা বিপত্তির উপর, বাবা বিয়ের উপর, এবং বিদ্বেষের উপর জয় লাভ করতে শিক্ষা দেয়। সার্বিক নেতিবাচক অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বাসই মহাশক্তি, এ শিক্ষা দেয় এ কাহিনীগুলো।
দ্বিতীয়ত, একটি লাভহীন, অসাম্প্রদায়িক, পরস্পর বিশ্বাসী প্রকাশক হিসেবেই এই মহান শিক্ষা আমাদের দেয় যে, ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ ধারায় মধ্যমনি স্বয়ং বিধাতা এবং জাতিবৃন্দ তার উপর এবং তার বিধানের উপর বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত।
এই ম্যাগাজিন তার পাঠক পাঠিকাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইতিহাসে আমেরিকা হলো সেই মহান জাতি, যে জাতি একটি সঠিক ধর্মীর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা যদি তা বজায় না রাখি তাহলে আমাদের 'মুক্তি' অধিকতর বাজে অবস্থার দিকে যাবে।
প্রকাশক হিসেবে মি. রেমন্ড থর্নবার্গ এবং সম্পাদক হিসেবে আমি এ ম্যাগাজিন থেকে কোন আর্থিক সহায়তা নেইনি। বিশ্বাসের উপর ভর করে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সত্যি বলতে কি এর প্রথম অফিসগুলো ছিল নিউ ইয়ার্কের পলি নামক ছোট একটি গ্রামের এক মুদি দোকানের গুদামের উপর তলায়। কয়েকটি কক্ষ নিয়ে।
অফিসে ছিল ধার করা একজন টাইপিস্ট, কয়েকটি নরবরে চেয়ার, ব্যস, বড় মাপের কিছু ধারণা এবং বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই ছিলনা আমাদের। ধীরে ধীরে ২৫,০০০ হাজার গ্রাহকের একটি তালিকা হাতে এসে যায় আমাদের ভবিষ্যতটা মনে হয়েছিল নিশ্চিত সাফল্যমণ্ডিত কিন্তু হঠাৎ একদিন রাতে অফিসে আগুন লেগে গেল এবং ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রকাশনা অফিস জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেল, এর সাথে সাথে গেল আমাদের সৌভাগ্যের আমাদের ভরসার সেই ২৫,০০০ গ্রাহকের তালিকাটাও। বোকার মত আমরা ঐ তালিকার কোন নকল কপি তৈরি করে রাখিনি।
লোয়েল থোমাস, অনুগত এবং 'গাইড পোষ্টস' ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠপোষক এই দুর্ঘটনার শুরু থেকেই তার রেডিও মারফত এই দুঃখজনক পরিস্থিতি প্রচার করতে শুরু করেন এবং এর ফলস্বরূপ আমরা খুব শীঘ্রই ৩০,০০০ গ্রাহক পেয়ে যাই। আসলে এর মধ্যে পুরনো সব কজনতো ছিলই নতুন কয়েকজনও এসে যুক্ত হয়েছিল তাদের সাথে।
গ্রাহকের তালিকা মোটামুটি ৪০,০০০ এসে দাঁড়ায় কিন্তু খরচও বাড়তে থাকে আরো দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে ম্যাগাজিনটি মোট খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়ে গেল, কারণ এতে আমাদের বার্তাটি প্রচার করা জরুরী ছিল, কিন্তু এর পেছনে যে খরচ তা ছিল আমাদের প্রত্যাশার বাইরে, কাজেই দারুণ অর্থ সংকটে পড়লাম আমরা। আসলে একবার মনেই হয়েছিল এই ম্যাগাজিনের প্রকাশ চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
এই দশায় যখন পড়েছি, তখন আমরা একটি আহ্বান করলাম, এবং আমি নিশ্চিত যে আপনি জীবনে এমন দুঃখজনক, বাচক এবং আশা ভরসাহীন সভায় কখনও যোগ দেননি।
সভাটি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল যেন আশাহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পেতে কোথায় হাত পাতবো আমরা? যেন একটি পথ খুঁজে পেতে এমন মনে হলো যে গরু মেরে জুতা দান করব আমরা। একেবারে ভেঙ্গে পড়লাম, হতাশায় মন কানায় কানায় ভরে উঠলো।
একজন মহিলা এই সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করতাম। একটি কারণে তাকে এই সভায় অন্তভূক্ত করা হয়েছিল। কারণ আমাদের ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা শুরু করার সময় তিনি আমাদের ২০০০ ডলার প্রদান করেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম একই জায়গায় দ্বিতীয়বারও হয়ত আলো এসে পড়তে পারে। কিন্তু এসময় তিনি আমাদের যা কিছু দিলেন তার দাম টাকার চেয়েও বেশি।
নৈরাশাপূর্ণ অন্ধকারময় এ সভায় সেই মহিলা অনেকক্ষণ একেবারে নীরব থাকলেন, কিন্তু অবশেষে তিনি কথা বললেন: "ভদ্রমহোদয়গণ আমার মনে হয়, আপনার খুবই খুশি হবেন যদি আমি আপনাদের এ পরিস্থিতিতে আরেকবার টাকা দিই। আপনাদের এই দুর্দশার দহন জ্বালা আমি টাকা দিয়ে নির্বাপন করতে পারি। কিন্তু এবার আমি আপনাদের এমন কি একটি সেন্টও দিতে যাচ্ছি না।”
কিন্তু এতে আমাদের দুর্দশার কোন সুরাহা হবে না। উল্টো আমাদের দুর্দশার পরিমাণ আরো বাড়বে। "কিন্তু” তিনি বলে চললেন, "আমি আপনাদের টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান কিছু দেব।”
তার কথা আমাদের খুব অবাক করে দিল, কারণ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকতে পারে আমরা সম্ভবত তেমন কিছু চিন্তাই করতে পারছিলাম না।
“আমি আপনাদের একটি বিশেষ ধারণা দিতে যাচ্ছি,” তিনি বলে চললেন, "একটি গঠনমূলক ধারণা।"
'বেশ'গাছাড়াভাবে ভাবতে থাকলাম আমরা, যে একটি ধারণা দিয়ে আমরা কিভাবে আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করব?
আহ, কিন্তু ধারণা এমন এক ব্যাপার যে তা ঠিকই আপনাদের গুঞ্জনা বিল পরিশোধ করতে সাহায্য করবে। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি সাফল্যজনক কাজের পেছনে যে প্রথম পরিকল্পনা তা হলো গঠনমূলক ধারণা পাকাপোক্ত করা। প্রথমে ধারণা করা তারপর এতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, তারপরে পদক্ষেপ হলো এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করা। এ হলো সেই পথ যে পথে চূড়ান্ত সাফল্য। "এখন” তিনি বললেন, ধারণাটি হলো এমন, বর্তমান সমস্যাটি কি? আপনাদের সমস্যাটি হলো এই যে, এখন আপনাদের সবকিছুর অভাব। আপনাদের টাকার অভাব। আপনাদের গ্রাহকের অভাব। আপনাদের সরঞ্জামের অভাব। আপনাদের ধারণা বা বুদ্ধির অভাব। আপনাদের সাহসের অভাব। এই যে প্রয়োজনীয় এতো কিছুর অভাব আপনাদের, কিন্তু কেন? উত্তরটা সহজ, কারণ আপনারা অভাবের কথাই ভাবছেন। যদি আপনারা ভাবেন যে আপনাদের অভাব আছে তাহলে আপনারা এমন এক অবস্থা সৃষ্টি করেন যা অভাবের অবস্থাই জন্ম দেয়। আপনি যার অভাব বোধ করেন তার উপর আপনার মনের ক্রমাগত চাপ আপনার গঠনমূলক শক্তিকে হতাশায় দুর্বল করে ফেলে অথচ তা থাকলে আপনাদের গাইড পোস্টস ম্যাগাজিনের উন্নতি কল্পে উদ্যম যোগাতে পারত।
অনেককিছু করার দৃষ্টিকোন থেকে 'কঠোর পরিশ্রম করছেন আপনারা কিন্তু সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আপনারা,” অথচ তা আপনাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় শক্তি যোগাতো। ইতিবাচক চিন্তাকে কাজে লাগাননি আপনারা। তার বদলে আপনারা ভেবেছেন শুধু অভাবের কথা।
এই পরিস্থিতির সংশোধন করতে চাইলে মানসিক অবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে, এবং ভাবতে হবে সৌভাগ্যের কথা, সাফল্যের কথা। এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলনের "কিন্তু তা খুব দ্রুত করা সম্ভব যদি আপনি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। পদ্ধতিটা হলো মনশ্চক্ষে দেখা, অর্থাৎ গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন সাফল্যের সাথে চলতে; মনশ্চক্ষে এটাই দেখতে হবে। মনে মনে এমন একটি ছবি আঁকুন যে গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন দারুণ এক ম্যাগাজিন সারাদেশে জুড়ে এ ম্যাগাজিন সমাদৃত। মনশ্চক্ষে দেখুন যে, বহুসংখ্যক গ্রাহক আপনাদের রয়েছে সবাই গভীর আগ্রহের সাথে এই অনুপ্রেরণাদায়ী বস্তুটি পড়ছে এবং লাভবান হচ্ছে। মনে মনে এমন এক জীবনের প্রতিকৃতি চিহ্নিত করুন যা এই মাসিক গাইডেড পোয়েটস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত দর্শন শিক্ষার মাধ্যমে সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে।
“মনে মনে এমন ছবি আঁকবেন না যা কষ্ট বেদনায় মনকে ভারাক্রান্ত করে, কিন্তু মনকে তার ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন এবং মনশ্চক্ষে শক্তি এবং সাফল্যকেই কেবল দেখুন, অন্য কিছু নয়। মনশ্চক্ষে কল্পিত প্রাপ্তির এলাকা পর্যন্ত যখন আপনারা আপনাদের চিন্তাকে তুলে আনতে পারবেন তখন দেখবেন আপনারা আপনাদের কষ্ট বেদনাকে উপেক্ষা করতে পারছেন, বরং যতটা পারা কথা তার চেয়ে বেশিই পারছেন এবং এভাবে আপনারা আরও উৎসাহ উদ্দীপক দৃশ্যাবলিও পেয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের সমস্যার উপর সবসময় আধিপত্য বিস্তার করে চলুন। কখনও নিজেকে সমস্যা মোকাবিলা করতে যাবেন না।” “আমাকে বলতে দিন,” ক্লিফ বললেন। “এ পরিস্থিতিতে নিজেদের চালিয়ে নেবার জন্য কত পরিমাণ গ্রাহক আপনাদের প্রয়োজন?” খুব দ্রুত ভাবলাম আমরা এবং বললাম: “৪০ হাজার গ্রাহক” আমাদের কাছে ছিল হাজার চল্লিশ গ্রাহক।
“ঠিক আছে,” বেশ দৃঢ়তার সাথে বললেন তিনি, এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। কাজটা সহজ। মনশ্চক্ষে দেখুন বেশ কয়েক লক্ষ গ্রাহক আপনাদের এই ম্যাগাজিন পড়ে গঠনমূলক কিছু সহায়তা পাচ্ছে এবং আপনারা তা পারেন। আসলে, যে মুহূর্তে আপনারা মনশ্চক্ষে ঐ গ্রাহকদের দেখছেন, ধরে নিন ইতোমধ্যে আপনারা তা পেয়েই গেছেন।”
আমার দিকে ঘুরে তিনি বললেন : “নারম্যান, এই মুহূর্তে আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন? ঐ দিকে তাকান, আপনার সামনে তাকান। আপনার মনশ্চক্ষে আপনি দেখতে পাচ্ছেন কি?” আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এবং আমি সন্দেহের সাথেই বললাম : “বেশ, তা হতে পারে, কিন্তু তা বেশ খানিকটা জ্যাঁৎসা মনে হচ্ছে আমার কাছে।”
আমার প্রতি কিছুটা হতাশ হলেন তিনি। আমি ভেবেছিলাম, যখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : “আপনি কি কাল্পনিক ভাবে এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন না?”
আমি অনুমান করছি যে, আমার কল্পনাশক্তি ঠিক মত কাজ করছিল না কারণ যা সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তা হলো, বাস্তবে আমাদের ঐ ৪০ হাজার গ্রাহক।
তারপর তিনি আমার পুরনো বন্ধু রেমন্ড থর্নবার্গের দিকে ফিরলেন, যিনি বরাবরই বিজয় গর্বে মহিমান্বিত এবং আশীর্বাদপুষ্ট এক ব্যক্তি, এবং ভদ্রমহিলা তাকে তার ডাকনাম ধরে ডেকে বললেন, “পিংকি আপনি কি এক লক্ষ্য গ্রাহক মনশ্চক্ষুতে দেখতে পাচ্ছেন?"
আমি কিছুটা সন্দেহ করেছিলাম যে, পিংকি হয়ত তাদের দেখে থাকবেন। তিনি একজন রাবার শিল্প উৎপাদনকারী। তিনি স্বাধীনভাবে কিছু সময় এই মুনাফাহীন ম্যাগাজিনের অনুপ্রেরণা ও অগ্রগতির জন্য দিয়ে থাকেন এবং আপনি সাধারণভাবে চিন্তা করতে পারবেন না যে, এই রাবার শিল্পপতি এ ধরনের চন্তার কোন রকম সারা দেবেন। কিন্তু গঠনমূলক কোন চিন্তা করার মত মনোবৃত্তি তার আছে তার মুখের উপর মহিলার মোহিনী দৃষ্টি আমি লক্ষ্য করলাম। বিস্মিত দৃষ্টিতে তিনি সোজা মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলেন যখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন "আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন?"
"হ্যাঁ, বেশ আগ্রহের সাথে জোরে বলে উঠলেন তিনি, “হ্যাঁ, আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি।” উত্তেজিত হয়ে আমি দাবি করলাম, কোথায়? তাদের দেখাবেন কি?
তখন আমিও মনশ্চক্ষুতে তাদের দেখতে শুরু করলাম। এখন, আমাদের ঐ বন্ধু আবার বলে চললেন, "আসুন আমরা সবাই একত্রে প্রণত হয়ে বিধাতার ধন্যবাদ দিই আমাদেরকে লক্ষ গ্রাহক দেবার জন্য।"
অকপটে ভাবলাম এতে করে বিধাতাকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতিতেই ফেলা হলো, কিন্তু শাস্ত্রে লিখিত একটি বাণীতে এর সমর্থন পাওয়া গেল, সেখানে লিখা প্রার্থনায় বিশ্বাস সহকারে তুমি যা যা চাইবে তার সবকিছুই তোমাকে দেয়া হবে।” (মথি xxi .22) তার অর্থ হলো, যখন তুমি কিছু বাঞ্ছা কর একই সময়ে মনশ্চক্ষুতে দেখ যে, তোমার যাচিত বস্তু বাস্তবিকই পেয়ে গেছ। বিশ্বাস কর যে, যদি বিধাতার ইচ্ছা হয় এবং তার দৃষ্টিতে তা সঙ্গত হয়, এবং তা যদি স্বার্থপরভাবে না চাওয়া হয় কিন্তু তাতে যদি মানুষের কল্যাণ হয় তবে সেই মুহূর্তেই তা প্রদান করা হবে।
এই পথ অবলম্বন করতে যদি আপনাদের কষ্ট হয় তাহলে আমি বলতে চাই যে, এই মুহূর্ত থেকে যখন গাইড পোষ্টসে যে লিখা বের হচ্ছে এই সমসয় থেকেই এই ম্যাগাজিন আর কখনও কিছুর জন্য অভাবে পড়বেনা। এ ম্যাগাজিনের পিছনে অনেক ভালো ভালো বন্ধু জুটে গেল এবং তাদের পক্ষ থেকে ভালো ভরসাও পাওয়া গেল। সব সময় বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারল সহজেই, প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম কিনতে পারলো নিজের খরচ নিজেই জোটাতে পারলো এবং আমি যখন এ কথাগুলো লিখছি তখন গাইডপোস্টস পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় মিলিয়নের কাছাকাছি সীমার পৌঁছেছে। এবং আরও অনেক গ্রাহক নিয়মিত আসতে লাগলো। কোন কোন সময় এমনও দেখা গেল যে, প্রতিদিন তিন চার হাজার পর্যন্ত গ্রাহকও বাড়তে থাকলো।
এই ঘটনা আমি যে আমাদের গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের প্রচার প্রসার বাড়াবার জন্য উল্লেখ করছি তা নয়, যদিও আমি খুব শক্ত হাতে এই ম্যাগাজিন আমাদের পাঠকদের মাঝে পূর্ণর্বার ছাপতে শুরু করলাম, এবং আপনি যদি এর গ্রাহক হতে চান, তাহলে আরো তথ্যের জন্য গাইড পোস্টস পলিং নিউইয়র্ক, এ ঠিকানায় লিখুন। কিন্তু এ কাহিনী আমি বলছি কারণ আমি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলাম এবং অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, টলমল করে হলেও একটি বিধানের উপর আমি পতিত হয়েছি। ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের জন্য এ এক বিস্ময়কর বিধান। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ বিধান প্রয়োগ করবো এবং যেখানেই আমি তা করেছি সেখানেই এর অসাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। আর যেখানে আমি তা করতে ব্যর্থ হয়েছি সেক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল হাতছাড়া হয়ে গেছে আমার।
এটা এমন একটি সাধারণ বিষয় অর্থাৎ আপনার সমস্যা বিধাতার হাতে ন্যস্ত করুন। চিন্তার মাধ্য দিয়ে নিজেকে সমস্যার উর্ধ্বে তুলে ধরুন যাতে সমস্যাটির নীচ থেকে উপর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে পারেন, শুধু উপরের অংশ টুকু নয়। বিধাতার ইচ্ছা অনুসারে একে যাচাই করে দেখুন। অর্থাৎ যা কিছু ভ্রান্তিপূর্ণ তারই জন্য সংগ্রাম করে জয়ী হতে চাওয়া ঠিক হবে না। প্রথমে নিশ্চিত হোন যে যা চাইছেন তা আধ্যাত্মিকভাবে এবং নৈতিকভাবে সঠিক কিনা। ভুল কিম্বা ত্রুটি পূর্ণ কিছু থেকে আপনি নিশ্চয়ই কখনও কোন সঠিক ফলাফল পেতে পারেন না। যদি আপনার চিন্তা ত্রুটিপূর্ণ হয় তবে তার ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। যে ত্রুটিপূর্ণই হয় তবে তা ত্রুটিপূর্ণ তা কখনই সঠিক কিছু জেতে পারে না। যদি এর অস্তি
কাজেই নিশ্চিত হোন যে এটা সঠিক, তারপর বিধাতার নামে তা ধারণ করুন এবং মনশ্চক্ষুতে তার একটি ফলাফল দেখতে থাকুন। সৌভাগ্যের সাফল্যজনক সম্পাদনের এবং প্রাপ্তির ধারণাকে মনে মনে বদ্ধমূল করুন। কখনও ব্যর্থ হবার চিন্তা পোষণ করবেন না। মনে যদি পরাজিত হবার নেতিবাচক চিন্তা এসেই যায় তবে ইতিবাচক চিন্তার নিশ্চিত বোধকে বাড়িয়ে তাকে নির্বাসিত করুন। জোরে বলুন বিধাতা এখনই আমাকে জয়ী করবেন। এখনই তিনি আমার আরাধ্য প্রাপ্তি আমাকে দিচ্ছেন। যে মানসিক দৃষ্টি আপনি নিজেই তৈরি করেন এবং চেতনায় দৃঢ়ভাবে ধারন করেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে যদি আপনি অবিরত আপনার চিন্তায় দৃঢ়তা বজায় রাখেন এবং আধ্যবসায় সহকারে কাজে লাগিয়ে যান এবং কার্যকারিতা বজায় রাখেন এই সৃজনশীল পদ্ধতি এভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্ত:দৃষ্টিতে দেখুন, প্রার্থনায় ক্রিয়াশীল হোন এবং চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত করুন।
যেসব ব্যক্তিবর্গ তাদের সারা জীবনের পদচারণায় যেসব উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছেন তারা সবাই এই বিধানের মূল্য সম্বন্ধে অবগত ছিলেন।
হেনরী যে কাইজার নামে এক লোক আমাকে বলেছেন যে, একসময় তিনি নদীর তীরে সকাল বেলাকার আগন্তকদের জন্য একটি মজলিস তৈরি করছিলেন এবং প্রচণ্ড ঝড় আর বন্যা এসে সব মেশিনপত্র সমাধিস্ত করে দিয়ে গেল এবং যা যা করা হয়েছিল তার সবই ধ্বংস করে ফেলল। পানি সরে যাবার পর তিনি যখন ক্ষয়ক্ষতি দেখতে বের হয়েছেন, তখন তিনি দেখলেন যে, তার কর্মচারীরা সব মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে এবং কাদা পানির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সমাধিস্ত মেশিনপত্র দেখতে তিনি তাদের কাছে এসে একটু হেসে বললেন, তোমরা এত বিষণ্ণ কেন?
"আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি সর্বনাশ হয়ে গেছে আমাদের? সমস্ত মেশিনপত্র আমাদের কাদায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
“কিসের কাদায় বেশ প্রফুল্ল মনে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
“কিসের কাদা মানে? অবাক হয়ে তার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন সবাই। আপনার চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন একেবারে কাদার সমুদ্র "ওহ, হাসলেন তিনি, আমিত কোন কাদাই দেখতে পাচ্ছি না।”
"আপনি কিভাবে একথা বলছেন? সবাই জিজ্ঞেস করলো তাকে।
"কারণ, বলতে শুরু করলেন মি. কাইজার আমি তো পরিষ্কার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, এবং সেখানে, কোন কাদা টাদা নেই। সেখানে আাছে শুধু সূর্যালোক এবং আমি কখনও এমন কোন কাদা দেখিনি যা সূর্যালোকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। অতি শীঘ্রই কাদা শুকিয়ে যাবে, এবং তোমাদের মেশিনের মেশিনপত্র সরিয়ে আনতে পারবে এবং আবার সবকিছু শুরু করতে পারবে।
কি নির্ভূল তার কথা। যদি আপনি নীচের কাদার দিকে তাকান, তবে আপনার মনে হবে আপনি হেরে গেছেন, আপনার পরাজয় আপনিই ডেকে আনবেন। আশাবাদী দর্শন প্রার্থনা আর বিশ্বাসের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে অনিবার্যভাবে সাফল্য লাভকে বাস্তবায়িত করবে।
আমার আর এক বন্ধু যার শুরুটা ছিল একেবারেই নিচু মানের কিন্তু পরবর্তীতে তার সাফল্য ছিল সর্বজন বিদিত। সেই স্কুল জীবন থেকে তাকে আমি জানি একেবারেই আনাড়ি এক ছেলে, আকর্ষণহীণ লজ্জাতুর এক গ্রাম্য ছেলে। কিন্তু তার সম্বল মাত্র ছিল তার চরিত্র এবং তীক্ষ্ম মেধা শক্তি, অন্তত আমি জীবনে যাদের সম্মুখিন হয়েছি তারমধ্যে অগ্রগণ্য। আজ সে তার পেশায় একজন সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সাফল্যের পিছনে গোপন শক্তিটি কী
“সেই মানুষগুলো যারা বছরের পর বছর আমার সাথে কাজ করেছেন, এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একজন বালককে যে, অপরিমিত সুযোগ সুবিদা দিয়েছে এই ছিল তার জবাব।
"হ্যাঁ আমি জানি এ সত্যি কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আপনার নিজস্ব কোনো কৌশল অবশ্যই আছে এবং এটা পেতে আমি খুবই আগ্রহী" "এ হলো আপনার সমস্যাগুলো সম্পর্কে আপনার চিন্তা ধারা কেমন তাই,” জবাবে সে কথাগুলো বলল।
"একটি সমস্যা যখন এসে যায় তখন আমি আমার মনের শক্তি দিয়ে তাকে আক্রমণ করি এবং ভেঙ্গে চুরমান করে দিই। এর উপর আমি আমার সমস্ত মানসিক শক্তি প্রয়োগ করি। দ্বিতীয়ত: এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি। তৃতীয়ত: আমি মনে মনে সাফল্যের ছবি এঁকে ফেলি। চতুর্থত: আমি সব সময় নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, “কোন কাজটি সঠিক যা আমার করা উচিত?”
কারণ তিনি বললেন, "আমার নির্ধারিত বিষয় যদি ভুল হয় তবে তার ফলাফল সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। এমন কোন ভুল নেই যা থেকে সঠিক ফলাফল আসতে পারে।” পঞ্চমত: আমি যা পেয়েছি তার সবই আমি দিয়ে দিচ্ছি। আমি জোর দিয়ে একথা বলতে চাই যে, যদি আপনি পরাজয়ের কথা ভাবেন তবে ঠিক তখনই সেই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বরং নতুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করুন। সমস্ত কষ্ট ভোগান্তির উপর জয় লাভ করতে এবং অভিষ্ট কাজে সাফল্য লাভ করতে সেই হল প্রথম এবং প্রধান কাজ।” ঠিক মুহুর্তে যখন আপনি এ বইটি পড়ছেন সম্ভাবনাময় ধারনাগুলো তখন আপনার মনে বিরাজ করছে। এগুলোকে বের করে এনে এবং এগুলোকে আরো উন্নীত করে আপনার আর্থিক সমস্যা আপনি সুরাহা করতে পারেন, আপনার ব্যবসায়িক অবস্থার পরিবর্তন সাধন করতে পারেন, নিজের এবং আপনার পরিবারের পরিচর্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এবং আপনার ঝুকিপূর্ণ কাজে সাফল্য লাভ করতে পারেন। এসব সৃজনশীল চিন্তার দৃঢ় অন্তপ্রবাহ এবং বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে আপনি আপনার জীবনকে নতুনভাবে করতে এবং বরাবর এই নতুন অবস্থা ধরে রাখতে পারেন।
একটা সময় ছিল যখন নির্বোধের মত ধারণা আমি নির্দিধায় মেনে নিয়েছিলাম। বিশ্বাস এবং সৌভাগ্যের শক্তির কোন সম্পর্ক ছিল না, তাই যখন কোন এক ব্যক্তি যখন ধর্মশক্তির কথা বললেন, তখন থেকে কোনদিন এ ধারণাগুলোর সাফল্য লাভের ব্যাপারে সম্পৃক্ত করিনি সে আলাপটা হয়েছিল শুধু মাত্র কর্তব্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপর। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারছি যে, এ ধরণের এবং ব্যক্তিবিশেষের উন্নতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, এ বিশ্বব্রহ্মান্ডে বিস্ময়কর শক্তি রয়েছে এবং তাই এই শক্তি ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে নিহিত থাকতেই পারে। এমন এক শক্তি যা সমস্ত পরাজয়কে উড়িয়ে দিতে পারে। একজন মানুষকে কষ্ট ভোগান্তির অবস্থা থেকে উপরে তুলে ধরতে পারে। আনবিক শক্তির তেজষ্ক্রিয়তা আমরা দেখেছি। আমরা জানি এই বিশ্বব্রহ্মন্ড কি বিস্ময়কর এবং প্রচণ্ড শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। সেই একই প্রচণ্ড শক্তি রয়েছে মানুষের মনে। পৃথিবীর বুকে এমন কোন শক্তি নেই যা মানুষের মনের শক্তির সম্ভাবনাময় শক্তির চেয়ে বড়। একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষেও তার ধারণার চাইতেও বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম।
এটা সত্যি যে যারা এই কথাগুলো সম্পর্কে যত্নশীল নয় তাদের কথা আলাদা। যখন আপনি সত্যিকারভাবে নিজেকে বুঝতে শেখেন তখন আপনি আবিস্কার করতে পারবেন যে, আপনার মনে এরকম সৃজনশীল ধারনা পুঞ্জিভূত রয়েছে। তাই আপনার আর কোন কিছুর অভাব থাকতে পারে না। ঐশ্বিশক্তির দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে আপনি যদি আপনার মধ্যেকার শক্তির পুরোপুরি এবং যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনার জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করা সম্ভব।
আপনি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করতে চাইবেন তা করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, যে কোন কিছু আপনি বিশ্বাস করবেন অথবা মনশ্চক্ষুতে দর্শন করবেন, যে কোন কিছু যার জন্য আপনি প্রর্থনা করবেন এবং তার জন্য কাজ করবেন। আপনার মনের ভেতর গভীরভাবে তাকান। কারণ সেখানেই আছে অত্যাশ্চর্য বিস্ময়।
আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন আপনি তার উত্তরণ ঘটাতে পারেন। প্রথম আপনার মনকে আপনি শান্ত করুন, যাতে মনের গভীর থেকে অনুপ্রেরণা উদয় হতে পারে। বিশ্বাস করুন যে বিধাতা এখনই আপনাকে সাহায্য করছে মনশ্চক্ষুতে সাফল্যই শুধু দেখুন অন্য কিছু নয়। আধাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার বিধান সমূহ আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃঢ়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন ব্যর্থতার ছবি নয়। আধ্যাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার পারে আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃড়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন, ব্যর্থতার ছবি নয়। এসব করুন এবং তাতে সৃজনশীল চিন্তাধারা আপনার মন থেকে স্বাধীন ধারায় বইতে শুরু করবে। এ এক অশ্চর্য বিধান, এমন একটা কিছু যা একজনের জীবনচিত্রই পাল্টে দিতে পারে কি আপনার নিজের জীবনটাও। নতুন চিন্তার অন্তপ্রবাহ আপনার অত্মিলব্ধ কষ্ট ভোগান্তি যা এখন আপনাকে ভুগিয়ে মারছে তাকে উড়িয়ে দিয়ে আপনাকে এক নতুন মানুষে রূপ দিতে পারে এবং আমি আবার বলছি প্রতিটি কষ্ট ভোগান্তি।
সর্বশেষ উল্লেখিত বিশ্লেষণে কেন একজন মানুষ সৃজনশীল এবং কৃতকার্য জীবন যাপনে ব্যর্থ হয় তার কারণ দেখানো হয়েছে এবং কারণটা হলো তার নিজের কৃত ভুল। তার ভাবনাই তো ত্রুটিপূর্ণ। তার চিন্তা ভাবনার সংশোধন করা প্রয়োজন। সঠিক চিন্তার অনুশীলন করা প্রয়োজন তার। যখন সাম সঙ্গীত ২৩ এ বলা হচ্ছে 'তিনি আমাকে ন্যায্যতার পথে পরিচালিত করেন। তার অর্থ শুধু এই নয় যে, এ পথ শুধুই সত্যানুরাগীর পথ। যাদের মন সৎ মানসিকতায় প্রতিষ্ঠিত ভাববাদী ইসাইয়া যখন বলছেন, "দুষ্টেরা তাদের পথ পরিত্যাগ করুক এবং অধার্মিকেরা পরিত্যাগ করুক দুষ্ট চিন্তা।” (ইসাইয় iv.7) তার অর্থ শধু এই নয় যে, একজন ব্যক্তি শুধু মন্দ থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কিছু করবে, কিন্তু তাকে তার চিন্তার ধরনও পাল্টাতে হবে, অসৎ চিন্তা পরিত্যাগ করে সৎচিন্তা করতে হবে। ভুল কিছু তাকে হটিয়ে দিয়ে সত্যে উপণীত হতে হবে। সাফাল্যপূর্ণ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার সবচেয়ে গোপন বিষয়টি হলো জীবনে ভুলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং সত্যের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে হবে। নতুন, সঠিক সুস্থ চিন্তা মনের মধ্য দিয়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর সৃজনশীলতার সাথে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, কারণ সত্য থেকে সব সময় সঠিক প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটে এবং তাই, তা থেকে আসে সঠিক ফলাফল।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, এক যুবক ছেলেকে চিনতাম আমি এবং আমার সারাজীবনের যত অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এই ছেলেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ এবং সবদিক থেকে। যদিও তার ছিল সম্ভাবনাময় এক মনোরম ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। এক লোক তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে একটা কাজে নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার আগ্রহ শীতল হয়ে যায় এবং সে চাকরি হারাতে তার খুব বেশিদিন লাগেনি। এভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া বহুবার ঘটেছে তার জীবনে। কাজ হাতে পেয়ে সে অবস্থাতেই ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। সবকিছুর সাথেই সংযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সে। সঠিক কিছু করতেই পারেনি সে এবং সে আমাকে জিজ্ঞেস করতো, "আমার কি এমন ভুল হচ্ছে, যার ফলে সবকিছুই ভুল হয়ে যাচ্ছে?"
তখনও তার মধ্যে অহমিকা বোধ ছিল খুবই প্রবল। সে ছিল দাম্ভিক এবং আত্মতুষ্ট এক মানুষ এবং উত্তেজিত হয়ে যাওয়া এবং সবাইকে দোষানো ছিল তার অভ্যাস কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটি সে দেখতে পেত না। সে যে অফিসে সে কাজ করেছে সব জায়গাতেই কিছু না কিছু ভুল করেছে এবং রায় অরগানাইজেশন তাকে চাকরি দিয়েছে সবার সাথেই ভুল করেছে সে। তার জন্য সে অন্য সবাইকে দোষী করত কিন্তু নিজেকে নয়। সে কখনও নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখেনি। তার কখনও এমন মনে হয়নি যে তার নিজের ও ভুল থাকতে পারে।
যা হোক এক রাত্রে, সে আমার সাথে কথা বলতে চায় এবং যেহেতু আমাকে এক জায়গায় বক্তৃতা দেবার জন্য শ'খানেক মাইল ড্রাইভ করে যেতে হয়েছিল। কাজেই ঐ ছেলেটিই আমাকে সেখানে ড্রাইভ করে নিয়ে যায় এবং আবার নিয়েও আসে। ফেরার পথে তখন প্রায় মাঝ রাত, হামবার্গার এবং এককাপ কফি খাবার জন্য রাস্তায় পাশে এক দোকানে থামি আমরা। আমি জানি না ঐ হামবার্গার, স্যান্ডউইচে কি ছিল, সেই থেকে হামবার্গারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নতুন করে বেড়ে যায়, কারণ হঠাৎ করে সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি পেয়ে গেছি, আমি তা পেয়ে গেছি” কি পেয়ে গেছ তুমি? অবাক হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
আমি আমার উত্তর খুঁজে পেয়েছি। এখন আমি জানি আমার কি সমস্যা। এটাই হলো সেই যার জন্য আমার সবকিছু ভুল হয়ে যায়। কারণ আমি নিজেই এক মূর্তিমান ভুল।
হাত দিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে বললাম, “শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছ?”
“কেন স্বচ্ছ পাথরের মত এখন তা পরিস্কার,” সে বলল, আমি ভুল চিন্তা করে আসছি, এবং ফলস্বরূপ ভুলই হয়েছে আমার ভাগ্য লিপি।
ইতোমধ্যে আমরা আমাদের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, চারিদিকে চাঁদের আলোর বন্যা যেন এবং তাকে বললাম, "হ্যারি, তুমি অবশ্যই এক পা সামনে বাড়বে এবং বিধাতার কাছে এ সংসারে চলার জন্য সঠিক পথ কামনা করবে।” বাইবেল থেকে এই পড়িটি উল্লেখ করলাম।
“সত্যকে জানবে তুমি, এবং এই সত্যই তোমাকে মুক্ত করবে।” (জন viii, 32) আপন মনে সত্যকে লাভ কর এবং তাতে তুমি তোমার ব্যর্থতা থেকে রেহাই পাবে। এভাবে সে যীশুখ্রীস্টের একজন গভীর অনুরাগী ভক্ত হয়ে উঠলো এবং তার চিন্তাধারা পুরোপুরি পাল্টে গেল এবং পাল্টে গেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোও, পাল্টে গেল ভুল চিন্তা এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজকর্ম, সমস্ত কিছু তার স্বভাব প্রকৃতি থেকে দূর হয়ে গেল। ত্রুটিপূর্ণ ধরণ পাল্টে ধর্মশীল সহজ সরল এক পথ বেছে আড়ে নিল। যখন থেকে সে নিজেকে সংশোধন করল তখন থেকে তার সবকিছুতে সঠিক ফল আসতে শুরু করল।
নিচে সাতটি বাস্তবসম্মত পাথেয় দেয়া হলো যেগুলো আপনার মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসবে। নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফিরে আসতে সহায়তা করবে, আপনার মধ্য থেকে সৃজনশীল নতুন চিন্তা উৎসারিত হবে, ভ্রমাত্মক ধরণ থেকে শুদ্ধাত্মক ধরণে উত্তরণের জন্য। চেষ্টা করুন, দিখন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন। অবশ্যই তার প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবেন।
১. পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য সবকিছুর জন্য ইচ্ছে করেই আশাবাদ নিয়ে কথাগুলো বলুন, আপনার কাজ সম্বন্ধে, আপনার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সবকিছু নিয়ে আশাপ্রদভাবে কথা বলার জন্য আপনার নিজের পথ চেয়ে আসুন। এটা কঠিন হবে, কারণ সম্ভবত আপনি দুঃখবাদী বা নৈরাশ্যবাদী বলে ওভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত। এই নেতিবাচক অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত করুন, এমনকি যদি তার জন্য ইচ্ছাশক্তিতে কাজে লাগাতে হয় তবুও।
২। চব্বিশ ঘণ্টার জন্য আশাবাদ নির্ভর কথা বলার পর ঠিক একইভাবে এক সপ্তার জন্য অনুশীলনটি চালিয়ে যান, তারপর আপনাকে এক বা দুদিনের বাস্ত ববাদী বলে অনুমোদন করা যেতে পারে। আপনি তখন আবিস্কার করতে সক্ষম হবেন যে, বাস্তববাদী শব্দটার অর্থ কী, যেখানে এক সপ্তাহ আগে আপনি আসলেই ছিলেন একজন অমঙ্গলবাদী, কিন্তু এখন যে আপনি 'বাস্ত ববাদী' শব্দটার অর্থ বেরকরছেন তা একবারেই ভিন্ন রকমের, এ হলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির নতুন আত্মপ্রকাশ। বেশিরভাগ লোকেরা বলে থাকেন যে, ওরা বাস্তববাদী হওয়াতে নিজেরা নিজেদের ঠকায়, তারা নেতিবাচক ছাড়া আর কিছু নয়।
আপনি যেমন আপনার শরীরকে নিয়মিত খাওয়ান ঠিক তেমনি আপনার মনকেও আপনাকে খাবার দিতে হবে এবং আপনার মনকে স্বাস্থ্যবান করতে হলে তাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মত চিন্তা করতে হবে। কাজেই, আজ থেকেই আপনি নেতিবাচক চিন্তার জায়গায় ইতিবাচক চিন্তা স্থানান্তর করুণ। প্রথমেই শুরু করুন নতুন নিয়ম দিয়ে এবং বিশ্বাস শক্তির উপর নির্ভর করে প্রতিটি শব্দের উপর জয়ী হবার জন্য নম্বর তুলতে থাকুন। কাজটা ঠিক এভাবেই চালিয়ে যেতে থাকুন যে পর্যন্ত না নতুন নিয়মের চারটি পুস্তকের এমন প্রতিটি খণ্ড লিখনের উপর চিহ্নিত করণের কাজ সমাপ্ত হয় অর্থাৎ মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন লিখিত চার খন্ড। বিশেষ করে মার্কের লিখা থেকে xi পদ ২২, ২৩, ২৪ চিহ্নিত করুন। ওখানে যে পদগুলো লিখিত আছে সেসবই আপনাকে আপনার নম্বর পূরণের শক্তি প্রদান করবে এবং সেগুলো আপনার চেতনার গভীরে ধারণ করে রাখুন।
তারপর সেই চিহ্নিত খণ্ড লিখনগুলো মুখস্ত করুন। একেকদিন একেকটা মুখস্থ করুন যে পর্যন্ত না চিহ্নিত পুরো তালিকাটি মুখস্থ বলতে না পারেন। এতে সময় লাগবে, কিন্তু মনে রাখুন এতে যে সময়টুকু লাগবে তার পড়তার থেকে বেশি সময় আপনি খরচ করেছেন নেতিবাচক চিন্তার পেছনে ছুটতে ছুটতে যা কিছু যত কিছু আপনি ভুলতে চেষ্টা এবং সময় দুটোই লাগবে।
আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে কে সবচেয়ে ইতিবাচক চিন্তার ধারক তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তার সামাজিক আচার-আচরণকে নিয়ে চর্চা করুন। আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের কিন্তু প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু কিছু সময়ের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে তাদের কাছাকাছি হোন, যে পর্যন্ত না তাদের নেতিবাচক শক্তিকে আপনি শোষণ করে নিচ্ছেন, তারপর আপনি আবার আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের মধ্যে ফিরে যেতে পারেন এবং তাদের মধ্যে আপনার নতুন লব্ধ চিন্তাগুলো মেলে ধরতে পারেন তাদের নেতিবাচকতা গ্রহণ না করে।
যুক্তিতর্ক এড়িয়ে চলুন, কিন্তু যখনই কোন নেতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখেন, তখনই ইতিবাচক এবং আশাবাদী মতবাদ দিয়ে তা প্রতিরোধ করুন।
অনেক প্রার্থনা করুন এবং সবসময় আপনার প্রার্থনা ধন্যবাদজ্ঞাপক করে তুলুন এই অনুভূতিতে যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে মহান এবং বিস্ময়কর কিছু দিচ্ছেন; কারণ যদি আপনি ভাবেন যে, সেই অর্থাৎ ঈশ্বরই নিশ্চয়ই আপনাকে সেসব দিচ্ছেন। যতটুকুতে আপনার বিশ্বাস তার চেয়ে বড় কোন আশীর্বাদ। তিনি আপনাকে দেবেন না। তিনি আপনাকে বিরাট কিছু দিতে চান, কিন্তু এমনকি তিনি আপনাকে এমন বড় কিছু নিতে বাধ্য করতে পারেন না, যা গ্রহণ করতে আপনি বিশ্বাস সহযোগে সজ্জিত হয়েছেন। “আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি হা হোক।” (মথি ix 29)
অপেক্ষাকৃত ভালো এবং সাফল্যপূর্ণ জীবন যাপনের পেছনে যে গোপন শক্তি তার মূলে হলো, জীর্ণ পুরাতন ও মৃত, রূগ্ন চিন্তা সেসব ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তার বদলে নতুন মূল, গতিশীল চিন্তাশক্তির উন্মেষ ঘটাতে হবে। আপনি এর উপর নির্ভর করতে পারেন- অন্ত প্রবাহী এক নতুন চিন্তা আপনাকে আপনার জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

আমেরিকার ইতিহাসে যে ক'জন জ্ঞানী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে উইলিয়াম জেম্স এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তারই উল্লেখিত একটি বক্তব্য আমরা নীচে দেখতে পাব। বক্তব্যটি আপনাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিধর। উইলিয়াম জেমস বলেছেন, "আমার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো যে, মানুষ তার মনোবৃত্তির পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।” যেমনটা আপনি ভাববেন, আপনার জীবনটা তেমনই হবে। কাজেই আপনার মনের যত জীর্ণ পুরাতন, ক্লান্ত, শ্রান্ত বিবর্ণ-মলিন চিন্তা ধারণাগুলো আছে সেগুলো ধুয়ে মুছে ফেলুন। সেখানে মনকে নির্ভেজাল সৃজনশীল বিশ্বাস চিন্তায় এবং যত সৎ গুণাবলী আছে সেসবে ভরে ফেলুন এই পদ্ধতি চর্চার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার জীবনের সত্যিকার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন জীবন গঠন করতে পারেন।
ব্যক্তিত্ব পূণর্গঠনের এমন চিন্তা চেতনা আপনি কোথায় পাবেন? একজন ব্যবসায়ী নির্বাহীকে আমি জানি বিনীত একজন মানুষ কিন্তু কটির ধরনটি এমন যিনি কখনো কোন কাজে পরাজিত হননি।
কোন সমস্যা নয় উন্নয়নের পথে কোন বাধা নয় শ্রবং কোন বাধা বিঘ্নই কখনও তাকে নত করতে পারেনি। প্রতিটি কঠিন অবস্থারে অভাবিক আশাবাদী মনোভাব নিয়ে আক্রমণ করেছেন এবং তার প্রেমেই দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে তার সিদ্ধান্তই ঠিকমত কাজ করবে এবং দেখা গেছে যে কী অদ্ভূতভাবে সব সময় সবকিছু তার পক্ষেই কাজ করেছে। মনে হচ্ছে কি এক যাদুকরী স্পর্শ তার জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে।
এমন এক স্পর্শ যা কখনও ব্যর্থ হয়নি। লোকটি এমন নিশ্চিত পন্থা অবলম্বনের পিছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা না থেকেই পারে না আর আমি অবশ্যই তার কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার বিনীত স্বভাবের কারণে এবং চাপা স্বভাববশত তার কাছ থেকে তার নিজের সম্বন্ধে কিছু টেনে বের করা কঠিন ছিল। একদিন যখন তিনি বেশ চমৎকার মেজাজে ছিলেন, সেদিন তার গোপন তথ্য আমাকে জানিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে তা অতি সহজ সরল কিন্তু কার্যকারী গোপন তথ্য। আমি তার কারখানার যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করছিলাম আধুনিক এবং হাল আমলের কাঠামো, এবং এর বেশির ভাগই এয়ার কন্ডিশন্ড। সর্বাধুনিক মেশিনপ্রত্র এবং উৎপাদন পদ্ধতি কারখানাটিকে একটি দক্ষতাপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নীতি মনে হয় ত্রুটি পূর্ণ মানুষের মধ্যে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন, ব্যবসা সুনামের একটি উৎসাহ উদ্দীপনা যেন পুরো প্রতিষ্ঠানে ব্যপ্তি লাভ করেছিল।
তার অফিসটি অত্যাধুনিকভাবে কারুকার্য করা হয়েছিল এবং সুন্দর সুন্দর ডেস্ক, উলেন কাপড়ের কাজ, বিদেশী কাঠের প্যানেল দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
কারুকার্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে বিস্ময়কর পাঁচটি রঙ একত্র করে এবং তা হয়েছে খুবই মনোরম। সব মিলিয়ে এটাই হলো শেষ কথা যে, এ অতি সুন্দর, তারপর অন্যকিছু। তারপর কল্পনা করুন, দারুণ সুচারুভাবে পলিশ করা মেহগিনি কাঠের ডেস্কের উপর আমি যখন দেখলাম বহু ব্যবহার ধন্য একটি পুরনো বাইবেল তখন আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম। অত্যাধুনিক কক্ষগুলোর মধ্যে ঐ বাইবেলটিই ছিল একমাত্র পুরাতন বস্তু। আমি মন্তব্য করলাম আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যেন পুরনো বাইবেলটি এখানে এক অদ্ভূত অসংলগ্নতা। জবাবে বললেন, 'ঐ বইটি' বাইবেলটির দিকে আঙ্গুল তুলে দেখালেন, এ কারখানার যত অধ্যাধুিনিক যন্ত্রপাতি আছে তারমধ্যে এ বাইবেলটিই সর্বাপেক্ষা অত্যাধুনিক। (অন্যন্য ধর্মগ্রন্থও তাই) যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে করতে জরাজীর্ণ হয়ে যায় সাজসজ্জার ধরণ পাল্টে যেতে পারে কিন্তু ঐ বইটি আমাদের সবকিছুর চেয়ে এগিয়ে আছে, কিন্তু তবুও তা কখনও সেকেলে হয়ে যায় না। যখন আমি কলেজে গিয়েছিলাম আমার খ্রীষ্টান মা ঐ বাইবেলটি আমাকে দিয়েছিলেন এবং উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, যদি আমি বইটি পড়ি এবং এর শিক্ষাগুলো অনুশীলন করি তাহলে আমি শিখতে পারবে কিভাবে সাফল্যের মধ্য দিয়ে জীবন চালিয়ে নেয়া যায়। আমি ভেবেছিলাম তিনি শুধুমাত্র একজন চমৎকার বৃদ্ধা মহিলাই ছিলেন। মৃদু হেসে বললেন তিনি, 'আশ্চর্য : সন্ধিলগ্নে তাকে মনে হতো বুড়া কিন্তু আসলে তত বৃদ্ধা তিনি নন।' আমি তাকে তুষ্ট করার জন্যই আমি বাইবেলটি নিয়েছিলাম এবং সত্যি যে বছরের পর বছর বইটি পড়েই ছিল, আমি কখনও বইটির দিকে তাকিয়ে দেখিনি। আমার মনে হয়েছিল বইটি আমার কোন কাজে আসবে না।
“বেশ”, কিছুটা অমার্জিত ভাষায়ই বলতে থাকলেন তিনি, "আমি ছিলাম একজন মাদকাসক্ত। একজন ফালতু মানুষ ছিলাম আমি। তীব্র বিশৃঙ্খল এক জীবন ছিল আমার।"
প্রথম প্রথম সবকিছুই ভুল ভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে চলছিল কারণ আমি ভ্রান্তি বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম, আমার কাজকর্ম সবকিছু ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। কোন কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছিলাম না আমি, সবকিছুতে ব্যর্থতাই ছিল আমার একমাত্র পরিণতি। এখন আমি বুঝতে পারছি যে, আমার প্রধান সমস্যাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা। আমি ছিলাম নেতিবাচকের ধারক, আমি ছিলাম ক্রুদ্ধ দাম্ভিক একগুঁয়ে। কেউ কিছু বলতে পারত না আমাকে। আমার এমন ধারনা ছিল যে, আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক। সবার প্রতি কেমন পীড়াগ্রস্থ মনোভাব ছিল আমার অল্প হলেও বিস্ময়কর সত্যি যে কেউ আমাকে পছন্দ করত না। সত্যি বলতে কি, আমি একেবারেই ব্যর্থই হয়েছিলাম। এভাবেই চলছিল তার বিষাদময় জীবন। একদিন রাতে কিছু কাগজপত্রের উপর চোখ বুলাবার সময়, বলে চললেন তিনি, হঠাৎ করেই অনেকদিন ভুলে থাকা বাইবেলের দিকে চোখ পড়ে আমার। হারানোদিনের সব মনে পড়তে থাকে আমার এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইবেলটি পড়তে থাকি আমি। আপনি জানেন কি, কী অদ্ভূত একটা ব্যাপার ঘটে গেল? এক মুহূর্তের মধ্যেই আমির সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল।
দেখুন, যখন আমি বাইবেল পড়া শুরু করি একটি বাক্য যেন লাফ দিয়ে আমার চোখের সামনে চলে আসে, একটিমাত্র বাক্য আমার জীবন পরিবর্তন করে ফেলে। এবং আমি যখন বলি পরিবর্তন হয়ে গেছে, অর্থাৎ আমি বুঝতে চাইছি পরিবর্তন হয়েই গেল। যখন থেকে আমি ঐ বাক্যটি পড়তে থাকি সবকিছু বিস্ময়করভাবে অন্যরকম হয়ে যায়।
কী সেই বিস্ময়কর বাক্যটি? আমি তা জানতে চেয়েছিলাম, এবং ধীরে ধীরে বললেন তিনি “ঈশ্বরই আমার জীবনের শক্তি.... এরই উপর আমি দৃঢ় রূপে বিশ্বাস স্থাপন করব (সাম সঙ্গীত xxvi. 1. 3)
"আমি জানিনা কেমন করে কেন সেই একটিমাত্র বাক্য আমার উপর এমন প্রভাব বিস্তার করল তিনি বলে চললেন, কিন্তু তা হয়েছিল। এখন আমি জানি যে, আমি কেমন দুর্বল ছিলাম এবং কেমন ব্যর্থ একজন মানুষ। কারণ আমার কোন বিশ্বাস ছিল না।
কোন আত্মবিশ্বাস ছিলনা। আমি ছিলাম খুব নেতিবাচক পরাজয় বরণে অভ্যস্ত এক মানুষ। কিন্তু ঐ দিনই কিছু একটা ঘটে গেল আমার মনে। আমি অনুমান করছি যা আমার মধ্যে ঘটলো তা হলো, অন্যকিছু, যাকে বলে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমার ধ্যান ধারনা পাল্টে গেল। নেতিবাচক একটি অবস্থা থেকে আমি ইতিবাচক একটি অবস্থায় পদর্পন করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম দৃঢ় বিশ্বাসে ঈশ্বরকে অন্তরে ধরে রাখব আমি, এবং আন্তরিকভাবে সবচেয়ে যা ভালো তাই করব, বাইবেলে যেসব নীতিমালার কথা লিখিত হয়েছে তা মেনে চলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। (সব ধর্মশাস্ত্রের জন্যও এটি প্রযোজ্য) যখন আমি তেমনটি করলাম কিছু নতুন ধরনের চিন্তা আমি ধারণ করলাম। ভিন্ন ধরনের চিন্তা চর্চা শুরু করলাম। আমি এক সময় আমার ব্যর্থতার জায়গাটা জুড়ে গেল আধ্যাত্মিক চিন্তন অভিজ্ঞতায় এবং নব্য চিন্তনের অন্তপ্রবাহ ক্রমে ক্রমে, কিন্তু সত্যিকারভাবে আমাকে পূর্ণগঠিত করতে থাকল। সুতরাং এখানেই আমি শেষ করছি সেই ব্যবসায়ী লোকটির কাহিনী। তিনি তার চিন্তাভাবনা পাল্টে ফেলেছিলেন যে, পুরনো চিন্তা ভাবনাগুলো তাকে হারিয়ে দিচ্ছিল পদে পদে এবং তিক্তভাবে, সে জায়গায় শেষ পর্যন্ত জয়ের পতাকা উড্ডীন হলো বিজয় গর্বে।
এই যে ঘটনা হলো, তার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ব্যর্থ হবার কথা এবং অসুখি হবার কথা ভাবতে পারেন তবে সেই আপনি আবার সাফল্য লাভ করার কথা এবং সুখি হবার কথাও ভাবতে পারেন। যে দুনিয়াতে আপনি বাস করছেন সেখানে প্রাথমিকভাবে বাইরের অবস্থা থেকে বা পরিস্থিতি থেকে কোন কিছু নির্ধারিত হয় না। কিন্তু হয় চিন্তাশক্তির দ্বারা যা যথারীতি আপনার মনকে জুড়ে রয়েছে। মার্কাস অরেলিয়াসের সেই কথা গুলোস্মরণ করুন, তিনি প্রাচীনকালের একজন বড় চিন্তাবিদ, তিনি বলেছেন, “মানুষের জীবন তেমনই হয় যেমনটা সেভাবে।”
আমেরিকার সুবিজ্ঞ পণ্ডিত, ঐক্যের জন্য যিনি সব সময় কাজ করেছেন, মি. রালফ উয়ালডো এমারসন, তিনি বলেছেন, "একজন মানুষ তেমনই হয়, সারাদিন যেমন সে ভাবে।” একজন বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ বলেছেন, “মানুষের স্বভাবের এমন এক গভীর প্রবণতা রয়েছে যা তাকে ক্রমাগত কল্পনার মধ্য দিয়ে ঠিক তার আকাঙ্খিত বাস্তবতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।"
এমন কথিত আছে যে 'চিন্তা' হলো এমন এক বস্তু, যার মধ্যে মূলত গতিশীল এক শক্তি নিহিত রয়েছে। যে অনুশীলন যারা করে তার শক্তির বিচারে একজন তাৎক্ষনিকভাবে এমন গুণবিচার করে তা নিরুপন করতে পারে।
আসলে আপনি নিজেই একটি পরিস্থিতির ভেতর বা বাইরের উদ্ভেয়দিকই ভাবতে পারেন। আপনার চিন্তার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অসুস্থ করে ফেলতে পারেন। আবার ঐ একই চিন্তা শক্তির দ্বারা নিজেকে সুস্থ্যও করতে পারেন। শেষের ক্ষেত্রে চিন্ত াটি ভিন্ন এবং আরোগ্যকর ধরনের চিন্তা। এক ধরনের চিন্তা করুন এবং যার মাধ্যমে আপনি পরিস্থিতিকে আয়ত্বে আনতে পারবেন তা আগে চিহ্নিত করুন। আবার অন্যরকম চিন্তা করুন দেখবেন তার ফলও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কারো কোন অবস্থা তৈরি হয় চিন্তার দ্বারা এবং অঅেবস্থা উৎসারিত চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইতিবাচক চিন্তা করুন, উদাহারণ স্বরূপ আপনার ইতিবাচক চিন্তাশক্তি নিয়োজিত করলে দেখবেন সাফল্যদায়ী ফল উৎপাদন করেছে আপনার জন্য। ইতিবাচক চিন্তা আপনার চারিদিকে এক প্রসন্ন পরিবেশ তৈরি করেছে যা ঐ চিন্তা উত্থিত উন্নত ইতিবাচক ফল। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তা করে দেখুন দেখবেন, আপনি অপ্রসন্ন পরিবেশের ঘেরা জালে আবদ্ধ হয়ে হাঁস ফাঁস করছেন।
আপনার পরিস্থিতির পরিবর্তনের পেছনের প্রথম উৎসটি হলো, আপনার ভিন্ন ধরনের চিন্তা অসন্তুষ্টিকর পরিস্থিতিকে আপনি কোনোভাবে ইতিবাচক বলে মেনে নেবেন না, কিন্তু মনে মনে একটি সুন্দর ইতিবাচক ছবি আকার দিন। যেমনটি হলে খুবই ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন। ছবিটি মনশ্চক্ষুর সম্মুখে তুলে ধরুন একে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলুন, এর উপর বিশ্বাস রাখুন এর জন্য প্রার্থনা করুন এর পেছনে শ্রম দিন, দেখবেন ইতিবাচক চিন্তার মধ্য দিয়ে যে প্রতিবিম্ব আপনি মনে মনে কল্পনা করেছেন সেই অনুসারে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশ্বব্রহ্মণ্ডে এটি মহানতম একটি বিধান আমি যখন একজন অল্প বয়সের যুবক তখনই এই সত্য বিধান আমি আবিষ্কার করেছিলাম একথা আমি অকপটে বলার ইচ্ছা রাখি। অনেক পরে আমার জীবনে এ সত্য বিধান ধীর ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং একে আমার একটি মহানতম বিধান বলে মনে হয়, যদি ও ঈশ্বরের সাথে আমার সম্পর্ক হওয়ার বিষয়টিও সর্বাপেক্ষা মহান এক আবিষ্কার। এবং গভীরভাবে ভাবতে গেলে এই বিধানটি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার একটি কারণ, এ থেকেই ব্যক্তির সাথে ঐশ্বশক্তির সংযোজক পথ তৈরি হয়।
এই মহান বিধান সংক্ষেপে এবং সাধারণভাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে আপনি যদি নৈতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে ফলাফল নেতিবাচকই হবে। যদি ইতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে তার ফলাফলও দাঁড়াবে ইতিবাচক। সৌভাগ্য লাভের এবং সাফল্য লাভের এই হলো অবাক করা বিধান। তিনটি মাত্র শব্দ, বিশ্বাস করুন এবং সফল হোন (believe and succeed)
খুব মজার এক পন্থায় আমি এই বিধান সম্বন্ধে জেনেছি। কয়েক বছর আগে আমাদের একটি দল, দলটি গঠিত হয়েছিল লোয়ে থোমাস ক্যাথেচইন এডি রিকেনবেকার, ব্রান্স রিকি, রেমন্ড থনবার্গ এবং আরও কয়েকজন মিলে আত্ম অণুপ্রেরণায় এবং স্বউদ্যোগে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করি, ম্যাগাজিনের নাম 'গাইড পোষ্টস'। এই ম্যাগাজিনের দু'টো উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমটি হলো, বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যারা তাদের কষ্ট ভোগ জীয় করেছেন তাদের কাহিনী প্রকাশ, কারণ এই কাহিনীগুলো সাফল্যজনক ভাবে বাঁচতে, ভয়ভীতির উপর জয়ী হতে, কোন নাজুক অবস্থার উপর, কোন বাধা বিপত্তির উপর, বাবা বিয়ের উপর, এবং বিদ্বেষের উপর জয় লাভ করতে শিক্ষা দেয়। সার্বিক নেতিবাচক অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বাসই মহাশক্তি, এ শিক্ষা দেয় এ কাহিনীগুলো।
দ্বিতীয়ত, একটি লাভহীন, অসাম্প্রদায়িক, পরস্পর বিশ্বাসী প্রকাশক হিসেবেই এই মহান শিক্ষা আমাদের দেয় যে, ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ ধারায় মধ্যমনি স্বয়ং বিধাতা এবং জাতিবৃন্দ তার উপর এবং তার বিধানের উপর বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত।
এই ম্যাগাজিন তার পাঠক পাঠিকাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইতিহাসে আমেরিকা হলো সেই মহান জাতি, যে জাতি একটি সঠিক ধর্মীর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা যদি তা বজায় না রাখি তাহলে আমাদের 'মুক্তি' অধিকতর বাজে অবস্থার দিকে যাবে।
প্রকাশক হিসেবে মি. রেমন্ড থর্নবার্গ এবং সম্পাদক হিসেবে আমি এ ম্যাগাজিন থেকে কোন আর্থিক সহায়তা নেইনি। বিশ্বাসের উপর ভর করে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সত্যি বলতে কি এর প্রথম অফিসগুলো ছিল নিউ ইয়ার্কের পলি নামক ছোট একটি গ্রামের এক মুদি দোকানের গুদামের উপর তলায়। কয়েকটি কক্ষ নিয়ে।
অফিসে ছিল ধার করা একজন টাইপিস্ট, কয়েকটি নরবরে চেয়ার, ব্যস, বড় মাপের কিছু ধারণা এবং বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই ছিলনা আমাদের। ধীরে ধীরে ২৫,০০০ হাজার গ্রাহকের একটি তালিকা হাতে এসে যায় আমাদের ভবিষ্যতটা মনে হয়েছিল নিশ্চিত সাফল্যমণ্ডিত কিন্তু হঠাৎ একদিন রাতে অফিসে আগুন লেগে গেল এবং ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রকাশনা অফিস জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেল, এর সাথে সাথে গেল আমাদের সৌভাগ্যের আমাদের ভরসার সেই ২৫,০০০ গ্রাহকের তালিকাটাও। বোকার মত আমরা ঐ তালিকার কোন নকল কপি তৈরি করে রাখিনি।
লোয়েল থোমাস, অনুগত এবং 'গাইড পোষ্টস' ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠপোষক এই দুর্ঘটনার শুরু থেকেই তার রেডিও মারফত এই দুঃখজনক পরিস্থিতি প্রচার করতে শুরু করেন এবং এর ফলস্বরূপ আমরা খুব শীঘ্রই ৩০,০০০ গ্রাহক পেয়ে যাই। আসলে এর মধ্যে পুরনো সব কজনতো ছিলই নতুন কয়েকজনও এসে যুক্ত হয়েছিল তাদের সাথে।
গ্রাহকের তালিকা মোটামুটি ৪০,০০০ এসে দাঁড়ায় কিন্তু খরচও বাড়তে থাকে আরো দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে ম্যাগাজিনটি মোট খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়ে গেল, কারণ এতে আমাদের বার্তাটি প্রচার করা জরুরী ছিল, কিন্তু এর পেছনে যে খরচ তা ছিল আমাদের প্রত্যাশার বাইরে, কাজেই দারুণ অর্থ সংকটে পড়লাম আমরা। আসলে একবার মনেই হয়েছিল এই ম্যাগাজিনের প্রকাশ চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
এই দশায় যখন পড়েছি, তখন আমরা একটি আহ্বান করলাম, এবং আমি নিশ্চিত যে আপনি জীবনে এমন দুঃখজনক, বাচক এবং আশা ভরসাহীন সভায় কখনও যোগ দেননি।
সভাটি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল যেন আশাহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পেতে কোথায় হাত পাতবো আমরা? যেন একটি পথ খুঁজে পেতে এমন মনে হলো যে গরু মেরে জুতা দান করব আমরা। একেবারে ভেঙ্গে পড়লাম, হতাশায় মন কানায় কানায় ভরে উঠলো।
একজন মহিলা এই সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করতাম। একটি কারণে তাকে এই সভায় অন্তভূক্ত করা হয়েছিল। কারণ আমাদের ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা শুরু করার সময় তিনি আমাদের ২০০০ ডলার প্রদান করেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম একই জায়গায় দ্বিতীয়বারও হয়ত আলো এসে পড়তে পারে। কিন্তু এসময় তিনি আমাদের যা কিছু দিলেন তার দাম টাকার চেয়েও বেশি।
নৈরাশাপূর্ণ অন্ধকারময় এ সভায় সেই মহিলা অনেকক্ষণ একেবারে নীরব থাকলেন, কিন্তু অবশেষে তিনি কথা বললেন: "ভদ্রমহোদয়গণ আমার মনে হয়, আপনার খুবই খুশি হবেন যদি আমি আপনাদের এ পরিস্থিতিতে আরেকবার টাকা দিই। আপনাদের এই দুর্দশার দহন জ্বালা আমি টাকা দিয়ে নির্বাপন করতে পারি। কিন্তু এবার আমি আপনাদের এমন কি একটি সেন্টও দিতে যাচ্ছি না।”
কিন্তু এতে আমাদের দুর্দশার কোন সুরাহা হবে না। উল্টো আমাদের দুর্দশার পরিমাণ আরো বাড়বে। "কিন্তু” তিনি বলে চললেন, "আমি আপনাদের টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান কিছু দেব।”
তার কথা আমাদের খুব অবাক করে দিল, কারণ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকতে পারে আমরা সম্ভবত তেমন কিছু চিন্তাই করতে পারছিলাম না।
“আমি আপনাদের একটি বিশেষ ধারণা দিতে যাচ্ছি,” তিনি বলে চললেন, "একটি গঠনমূলক ধারণা।"
'বেশ'গাছাড়াভাবে ভাবতে থাকলাম আমরা, যে একটি ধারণা দিয়ে আমরা কিভাবে আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করব?
আহ, কিন্তু ধারণা এমন এক ব্যাপার যে তা ঠিকই আপনাদের গুঞ্জনা বিল পরিশোধ করতে সাহায্য করবে। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি সাফল্যজনক কাজের পেছনে যে প্রথম পরিকল্পনা তা হলো গঠনমূলক ধারণা পাকাপোক্ত করা। প্রথমে ধারণা করা তারপর এতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, তারপরে পদক্ষেপ হলো এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করা। এ হলো সেই পথ যে পথে চূড়ান্ত সাফল্য। "এখন” তিনি বললেন, ধারণাটি হলো এমন, বর্তমান সমস্যাটি কি? আপনাদের সমস্যাটি হলো এই যে, এখন আপনাদের সবকিছুর অভাব। আপনাদের টাকার অভাব। আপনাদের গ্রাহকের অভাব। আপনাদের সরঞ্জামের অভাব। আপনাদের ধারণা বা বুদ্ধির অভাব। আপনাদের সাহসের অভাব। এই যে প্রয়োজনীয় এতো কিছুর অভাব আপনাদের, কিন্তু কেন? উত্তরটা সহজ, কারণ আপনারা অভাবের কথাই ভাবছেন। যদি আপনারা ভাবেন যে আপনাদের অভাব আছে তাহলে আপনারা এমন এক অবস্থা সৃষ্টি করেন যা অভাবের অবস্থাই জন্ম দেয়। আপনি যার অভাব বোধ করেন তার উপর আপনার মনের ক্রমাগত চাপ আপনার গঠনমূলক শক্তিকে হতাশায় দুর্বল করে ফেলে অথচ তা থাকলে আপনাদের গাইড পোস্টস ম্যাগাজিনের উন্নতি কল্পে উদ্যম যোগাতে পারত।
অনেককিছু করার দৃষ্টিকোন থেকে 'কঠোর পরিশ্রম করছেন আপনারা কিন্তু সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আপনারা,” অথচ তা আপনাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় শক্তি যোগাতো। ইতিবাচক চিন্তাকে কাজে লাগাননি আপনারা। তার বদলে আপনারা ভেবেছেন শুধু অভাবের কথা।
এই পরিস্থিতির সংশোধন করতে চাইলে মানসিক অবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে, এবং ভাবতে হবে সৌভাগ্যের কথা, সাফল্যের কথা। এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলনের "কিন্তু তা খুব দ্রুত করা সম্ভব যদি আপনি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। পদ্ধতিটা হলো মনশ্চক্ষে দেখা, অর্থাৎ গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন সাফল্যের সাথে চলতে; মনশ্চক্ষে এটাই দেখতে হবে। মনে মনে এমন একটি ছবি আঁকুন যে গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন দারুণ এক ম্যাগাজিন সারাদেশে জুড়ে এ ম্যাগাজিন সমাদৃত। মনশ্চক্ষে দেখুন যে, বহুসংখ্যক গ্রাহক আপনাদের রয়েছে সবাই গভীর আগ্রহের সাথে এই অনুপ্রেরণাদায়ী বস্তুটি পড়ছে এবং লাভবান হচ্ছে। মনে মনে এমন এক জীবনের প্রতিকৃতি চিহ্নিত করুন যা এই মাসিক গাইডেড পোয়েটস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত দর্শন শিক্ষার মাধ্যমে সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে।
“মনে মনে এমন ছবি আঁকবেন না যা কষ্ট বেদনায় মনকে ভারাক্রান্ত করে, কিন্তু মনকে তার ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন এবং মনশ্চক্ষে শক্তি এবং সাফল্যকেই কেবল দেখুন, অন্য কিছু নয়। মনশ্চক্ষে কল্পিত প্রাপ্তির এলাকা পর্যন্ত যখন আপনারা আপনাদের চিন্তাকে তুলে আনতে পারবেন তখন দেখবেন আপনারা আপনাদের কষ্ট বেদনাকে উপেক্ষা করতে পারছেন, বরং যতটা পারা কথা তার চেয়ে বেশিই পারছেন এবং এভাবে আপনারা আরও উৎসাহ উদ্দীপক দৃশ্যাবলিও পেয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের সমস্যার উপর সবসময় আধিপত্য বিস্তার করে চলুন। কখনও নিজেকে সমস্যা মোকাবিলা করতে যাবেন না।” “আমাকে বলতে দিন,” ক্লিফ বললেন। “এ পরিস্থিতিতে নিজেদের চালিয়ে নেবার জন্য কত পরিমাণ গ্রাহক আপনাদের প্রয়োজন?” খুব দ্রুত ভাবলাম আমরা এবং বললাম: “৪০ হাজার গ্রাহক” আমাদের কাছে ছিল হাজার চল্লিশ গ্রাহক।
“ঠিক আছে,” বেশ দৃঢ়তার সাথে বললেন তিনি, এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। কাজটা সহজ। মনশ্চক্ষে দেখুন বেশ কয়েক লক্ষ গ্রাহক আপনাদের এই ম্যাগাজিন পড়ে গঠনমূলক কিছু সহায়তা পাচ্ছে এবং আপনারা তা পারেন। আসলে, যে মুহূর্তে আপনারা মনশ্চক্ষে ঐ গ্রাহকদের দেখছেন, ধরে নিন ইতোমধ্যে আপনারা তা পেয়েই গেছেন।”
আমার দিকে ঘুরে তিনি বললেন : “নারম্যান, এই মুহূর্তে আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন? ঐ দিকে তাকান, আপনার সামনে তাকান। আপনার মনশ্চক্ষে আপনি দেখতে পাচ্ছেন কি?” আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এবং আমি সন্দেহের সাথেই বললাম : “বেশ, তা হতে পারে, কিন্তু তা বেশ খানিকটা জ্যাঁৎসা মনে হচ্ছে আমার কাছে।”
আমার প্রতি কিছুটা হতাশ হলেন তিনি। আমি ভেবেছিলাম, যখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : “আপনি কি কাল্পনিক ভাবে এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন না?”
আমি অনুমান করছি যে, আমার কল্পনাশক্তি ঠিক মত কাজ করছিল না কারণ যা সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তা হলো, বাস্তবে আমাদের ঐ ৪০ হাজার গ্রাহক।
তারপর তিনি আমার পুরনো বন্ধু রেমন্ড থর্নবার্গের দিকে ফিরলেন, যিনি বরাবরই বিজয় গর্বে মহিমান্বিত এবং আশীর্বাদপুষ্ট এক ব্যক্তি, এবং ভদ্রমহিলা তাকে তার ডাকনাম ধরে ডেকে বললেন, “পিংকি আপনি কি এক লক্ষ্য গ্রাহক মনশ্চক্ষুতে দেখতে পাচ্ছেন?"
আমি কিছুটা সন্দেহ করেছিলাম যে, পিংকি হয়ত তাদের দেখে থাকবেন। তিনি একজন রাবার শিল্প উৎপাদনকারী। তিনি স্বাধীনভাবে কিছু সময় এই মুনাফাহীন ম্যাগাজিনের অনুপ্রেরণা ও অগ্রগতির জন্য দিয়ে থাকেন এবং আপনি সাধারণভাবে চিন্তা করতে পারবেন না যে, এই রাবার শিল্পপতি এ ধরনের চন্তার কোন রকম সারা দেবেন। কিন্তু গঠনমূলক কোন চিন্তা করার মত মনোবৃত্তি তার আছে তার মুখের উপর মহিলার মোহিনী দৃষ্টি আমি লক্ষ্য করলাম। বিস্মিত দৃষ্টিতে তিনি সোজা মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলেন যখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন "আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন?"
"হ্যাঁ, বেশ আগ্রহের সাথে জোরে বলে উঠলেন তিনি, “হ্যাঁ, আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি।” উত্তেজিত হয়ে আমি দাবি করলাম, কোথায়? তাদের দেখাবেন কি?
তখন আমিও মনশ্চক্ষুতে তাদের দেখতে শুরু করলাম। এখন, আমাদের ঐ বন্ধু আবার বলে চললেন, "আসুন আমরা সবাই একত্রে প্রণত হয়ে বিধাতার ধন্যবাদ দিই আমাদেরকে লক্ষ গ্রাহক দেবার জন্য।"
অকপটে ভাবলাম এতে করে বিধাতাকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতিতেই ফেলা হলো, কিন্তু শাস্ত্রে লিখিত একটি বাণীতে এর সমর্থন পাওয়া গেল, সেখানে লিখা প্রার্থনায় বিশ্বাস সহকারে তুমি যা যা চাইবে তার সবকিছুই তোমাকে দেয়া হবে।” (মথি xxi .22) তার অর্থ হলো, যখন তুমি কিছু বাঞ্ছা কর একই সময়ে মনশ্চক্ষুতে দেখ যে, তোমার যাচিত বস্তু বাস্তবিকই পেয়ে গেছ। বিশ্বাস কর যে, যদি বিধাতার ইচ্ছা হয় এবং তার দৃষ্টিতে তা সঙ্গত হয়, এবং তা যদি স্বার্থপরভাবে না চাওয়া হয় কিন্তু তাতে যদি মানুষের কল্যাণ হয় তবে সেই মুহূর্তেই তা প্রদান করা হবে।
এই পথ অবলম্বন করতে যদি আপনাদের কষ্ট হয় তাহলে আমি বলতে চাই যে, এই মুহূর্ত থেকে যখন গাইড পোষ্টসে যে লিখা বের হচ্ছে এই সমসয় থেকেই এই ম্যাগাজিন আর কখনও কিছুর জন্য অভাবে পড়বেনা। এ ম্যাগাজিনের পিছনে অনেক ভালো ভালো বন্ধু জুটে গেল এবং তাদের পক্ষ থেকে ভালো ভরসাও পাওয়া গেল। সব সময় বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারল সহজেই, প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম কিনতে পারলো নিজের খরচ নিজেই জোটাতে পারলো এবং আমি যখন এ কথাগুলো লিখছি তখন গাইডপোস্টস পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় মিলিয়নের কাছাকাছি সীমার পৌঁছেছে। এবং আরও অনেক গ্রাহক নিয়মিত আসতে লাগলো। কোন কোন সময় এমনও দেখা গেল যে, প্রতিদিন তিন চার হাজার পর্যন্ত গ্রাহকও বাড়তে থাকলো।
এই ঘটনা আমি যে আমাদের গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের প্রচার প্রসার বাড়াবার জন্য উল্লেখ করছি তা নয়, যদিও আমি খুব শক্ত হাতে এই ম্যাগাজিন আমাদের পাঠকদের মাঝে পূর্ণর্বার ছাপতে শুরু করলাম, এবং আপনি যদি এর গ্রাহক হতে চান, তাহলে আরো তথ্যের জন্য গাইড পোস্টস পলিং নিউইয়র্ক, এ ঠিকানায় লিখুন। কিন্তু এ কাহিনী আমি বলছি কারণ আমি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলাম এবং অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, টলমল করে হলেও একটি বিধানের উপর আমি পতিত হয়েছি। ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের জন্য এ এক বিস্ময়কর বিধান। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ বিধান প্রয়োগ করবো এবং যেখানেই আমি তা করেছি সেখানেই এর অসাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। আর যেখানে আমি তা করতে ব্যর্থ হয়েছি সেক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল হাতছাড়া হয়ে গেছে আমার।
এটা এমন একটি সাধারণ বিষয় অর্থাৎ আপনার সমস্যা বিধাতার হাতে ন্যস্ত করুন। চিন্তার মাধ্য দিয়ে নিজেকে সমস্যার উর্ধ্বে তুলে ধরুন যাতে সমস্যাটির নীচ থেকে উপর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে পারেন, শুধু উপরের অংশ টুকু নয়। বিধাতার ইচ্ছা অনুসারে একে যাচাই করে দেখুন। অর্থাৎ যা কিছু ভ্রান্তিপূর্ণ তারই জন্য সংগ্রাম করে জয়ী হতে চাওয়া ঠিক হবে না। প্রথমে নিশ্চিত হোন যে যা চাইছেন তা আধ্যাত্মিকভাবে এবং নৈতিকভাবে সঠিক কিনা। ভুল কিম্বা ত্রুটি পূর্ণ কিছু থেকে আপনি নিশ্চয়ই কখনও কোন সঠিক ফলাফল পেতে পারেন না। যদি আপনার চিন্তা ত্রুটিপূর্ণ হয় তবে তার ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। যে ত্রুটিপূর্ণই হয় তবে তা ত্রুটিপূর্ণ তা কখনই সঠিক কিছু জেতে পারে না। যদি এর অস্তি
কাজেই নিশ্চিত হোন যে এটা সঠিক, তারপর বিধাতার নামে তা ধারণ করুন এবং মনশ্চক্ষুতে তার একটি ফলাফল দেখতে থাকুন। সৌভাগ্যের সাফল্যজনক সম্পাদনের এবং প্রাপ্তির ধারণাকে মনে মনে বদ্ধমূল করুন। কখনও ব্যর্থ হবার চিন্তা পোষণ করবেন না। মনে যদি পরাজিত হবার নেতিবাচক চিন্তা এসেই যায় তবে ইতিবাচক চিন্তার নিশ্চিত বোধকে বাড়িয়ে তাকে নির্বাসিত করুন। জোরে বলুন বিধাতা এখনই আমাকে জয়ী করবেন। এখনই তিনি আমার আরাধ্য প্রাপ্তি আমাকে দিচ্ছেন। যে মানসিক দৃষ্টি আপনি নিজেই তৈরি করেন এবং চেতনায় দৃঢ়ভাবে ধারন করেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে যদি আপনি অবিরত আপনার চিন্তায় দৃঢ়তা বজায় রাখেন এবং আধ্যবসায় সহকারে কাজে লাগিয়ে যান এবং কার্যকারিতা বজায় রাখেন এই সৃজনশীল পদ্ধতি এভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্ত:দৃষ্টিতে দেখুন, প্রার্থনায় ক্রিয়াশীল হোন এবং চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত করুন।
যেসব ব্যক্তিবর্গ তাদের সারা জীবনের পদচারণায় যেসব উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছেন তারা সবাই এই বিধানের মূল্য সম্বন্ধে অবগত ছিলেন।
হেনরী যে কাইজার নামে এক লোক আমাকে বলেছেন যে, একসময় তিনি নদীর তীরে সকাল বেলাকার আগন্তকদের জন্য একটি মজলিস তৈরি করছিলেন এবং প্রচণ্ড ঝড় আর বন্যা এসে সব মেশিনপত্র সমাধিস্ত করে দিয়ে গেল এবং যা যা করা হয়েছিল তার সবই ধ্বংস করে ফেলল। পানি সরে যাবার পর তিনি যখন ক্ষয়ক্ষতি দেখতে বের হয়েছেন, তখন তিনি দেখলেন যে, তার কর্মচারীরা সব মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে এবং কাদা পানির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সমাধিস্ত মেশিনপত্র দেখতে তিনি তাদের কাছে এসে একটু হেসে বললেন, তোমরা এত বিষণ্ণ কেন?
"আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি সর্বনাশ হয়ে গেছে আমাদের? সমস্ত মেশিনপত্র আমাদের কাদায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
“কিসের কাদায় বেশ প্রফুল্ল মনে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
“কিসের কাদা মানে? অবাক হয়ে তার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন সবাই। আপনার চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন একেবারে কাদার সমুদ্র "ওহ, হাসলেন তিনি, আমিত কোন কাদাই দেখতে পাচ্ছি না।”
"আপনি কিভাবে একথা বলছেন? সবাই জিজ্ঞেস করলো তাকে।
"কারণ, বলতে শুরু করলেন মি. কাইজার আমি তো পরিষ্কার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, এবং সেখানে, কোন কাদা টাদা নেই। সেখানে আাছে শুধু সূর্যালোক এবং আমি কখনও এমন কোন কাদা দেখিনি যা সূর্যালোকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। অতি শীঘ্রই কাদা শুকিয়ে যাবে, এবং তোমাদের মেশিনের মেশিনপত্র সরিয়ে আনতে পারবে এবং আবার সবকিছু শুরু করতে পারবে।
কি নির্ভূল তার কথা। যদি আপনি নীচের কাদার দিকে তাকান, তবে আপনার মনে হবে আপনি হেরে গেছেন, আপনার পরাজয় আপনিই ডেকে আনবেন। আশাবাদী দর্শন প্রার্থনা আর বিশ্বাসের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে অনিবার্যভাবে সাফল্য লাভকে বাস্তবায়িত করবে।
আমার আর এক বন্ধু যার শুরুটা ছিল একেবারেই নিচু মানের কিন্তু পরবর্তীতে তার সাফল্য ছিল সর্বজন বিদিত। সেই স্কুল জীবন থেকে তাকে আমি জানি একেবারেই আনাড়ি এক ছেলে, আকর্ষণহীণ লজ্জাতুর এক গ্রাম্য ছেলে। কিন্তু তার সম্বল মাত্র ছিল তার চরিত্র এবং তীক্ষ্ম মেধা শক্তি, অন্তত আমি জীবনে যাদের সম্মুখিন হয়েছি তারমধ্যে অগ্রগণ্য। আজ সে তার পেশায় একজন সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সাফল্যের পিছনে গোপন শক্তিটি কী
“সেই মানুষগুলো যারা বছরের পর বছর আমার সাথে কাজ করেছেন, এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একজন বালককে যে, অপরিমিত সুযোগ সুবিদা দিয়েছে এই ছিল তার জবাব।
"হ্যাঁ আমি জানি এ সত্যি কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আপনার নিজস্ব কোনো কৌশল অবশ্যই আছে এবং এটা পেতে আমি খুবই আগ্রহী" "এ হলো আপনার সমস্যাগুলো সম্পর্কে আপনার চিন্তা ধারা কেমন তাই,” জবাবে সে কথাগুলো বলল।
"একটি সমস্যা যখন এসে যায় তখন আমি আমার মনের শক্তি দিয়ে তাকে আক্রমণ করি এবং ভেঙ্গে চুরমান করে দিই। এর উপর আমি আমার সমস্ত মানসিক শক্তি প্রয়োগ করি। দ্বিতীয়ত: এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি। তৃতীয়ত: আমি মনে মনে সাফল্যের ছবি এঁকে ফেলি। চতুর্থত: আমি সব সময় নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, “কোন কাজটি সঠিক যা আমার করা উচিত?”
কারণ তিনি বললেন, "আমার নির্ধারিত বিষয় যদি ভুল হয় তবে তার ফলাফল সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। এমন কোন ভুল নেই যা থেকে সঠিক ফলাফল আসতে পারে।” পঞ্চমত: আমি যা পেয়েছি তার সবই আমি দিয়ে দিচ্ছি। আমি জোর দিয়ে একথা বলতে চাই যে, যদি আপনি পরাজয়ের কথা ভাবেন তবে ঠিক তখনই সেই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বরং নতুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করুন। সমস্ত কষ্ট ভোগান্তির উপর জয় লাভ করতে এবং অভিষ্ট কাজে সাফল্য লাভ করতে সেই হল প্রথম এবং প্রধান কাজ।” ঠিক মুহুর্তে যখন আপনি এ বইটি পড়ছেন সম্ভাবনাময় ধারনাগুলো তখন আপনার মনে বিরাজ করছে। এগুলোকে বের করে এনে এবং এগুলোকে আরো উন্নীত করে আপনার আর্থিক সমস্যা আপনি সুরাহা করতে পারেন, আপনার ব্যবসায়িক অবস্থার পরিবর্তন সাধন করতে পারেন, নিজের এবং আপনার পরিবারের পরিচর্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এবং আপনার ঝুকিপূর্ণ কাজে সাফল্য লাভ করতে পারেন। এসব সৃজনশীল চিন্তার দৃঢ় অন্তপ্রবাহ এবং বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে আপনি আপনার জীবনকে নতুনভাবে করতে এবং বরাবর এই নতুন অবস্থা ধরে রাখতে পারেন।
একটা সময় ছিল যখন নির্বোধের মত ধারণা আমি নির্দিধায় মেনে নিয়েছিলাম। বিশ্বাস এবং সৌভাগ্যের শক্তির কোন সম্পর্ক ছিল না, তাই যখন কোন এক ব্যক্তি যখন ধর্মশক্তির কথা বললেন, তখন থেকে কোনদিন এ ধারণাগুলোর সাফল্য লাভের ব্যাপারে সম্পৃক্ত করিনি সে আলাপটা হয়েছিল শুধু মাত্র কর্তব্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপর। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারছি যে, এ ধরণের এবং ব্যক্তিবিশেষের উন্নতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, এ বিশ্বব্রহ্মান্ডে বিস্ময়কর শক্তি রয়েছে এবং তাই এই শক্তি ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে নিহিত থাকতেই পারে। এমন এক শক্তি যা সমস্ত পরাজয়কে উড়িয়ে দিতে পারে। একজন মানুষকে কষ্ট ভোগান্তির অবস্থা থেকে উপরে তুলে ধরতে পারে। আনবিক শক্তির তেজষ্ক্রিয়তা আমরা দেখেছি। আমরা জানি এই বিশ্বব্রহ্মন্ড কি বিস্ময়কর এবং প্রচণ্ড শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। সেই একই প্রচণ্ড শক্তি রয়েছে মানুষের মনে। পৃথিবীর বুকে এমন কোন শক্তি নেই যা মানুষের মনের শক্তির সম্ভাবনাময় শক্তির চেয়ে বড়। একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষেও তার ধারণার চাইতেও বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম।
এটা সত্যি যে যারা এই কথাগুলো সম্পর্কে যত্নশীল নয় তাদের কথা আলাদা। যখন আপনি সত্যিকারভাবে নিজেকে বুঝতে শেখেন তখন আপনি আবিস্কার করতে পারবেন যে, আপনার মনে এরকম সৃজনশীল ধারনা পুঞ্জিভূত রয়েছে। তাই আপনার আর কোন কিছুর অভাব থাকতে পারে না। ঐশ্বিশক্তির দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে আপনি যদি আপনার মধ্যেকার শক্তির পুরোপুরি এবং যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনার জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করা সম্ভব।
আপনি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করতে চাইবেন তা করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, যে কোন কিছু আপনি বিশ্বাস করবেন অথবা মনশ্চক্ষুতে দর্শন করবেন, যে কোন কিছু যার জন্য আপনি প্রর্থনা করবেন এবং তার জন্য কাজ করবেন। আপনার মনের ভেতর গভীরভাবে তাকান। কারণ সেখানেই আছে অত্যাশ্চর্য বিস্ময়।
আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন আপনি তার উত্তরণ ঘটাতে পারেন। প্রথম আপনার মনকে আপনি শান্ত করুন, যাতে মনের গভীর থেকে অনুপ্রেরণা উদয় হতে পারে। বিশ্বাস করুন যে বিধাতা এখনই আপনাকে সাহায্য করছে মনশ্চক্ষুতে সাফল্যই শুধু দেখুন অন্য কিছু নয়। আধাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার বিধান সমূহ আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃঢ়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন ব্যর্থতার ছবি নয়। আধ্যাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার পারে আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃড়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন, ব্যর্থতার ছবি নয়। এসব করুন এবং তাতে সৃজনশীল চিন্তাধারা আপনার মন থেকে স্বাধীন ধারায় বইতে শুরু করবে। এ এক অশ্চর্য বিধান, এমন একটা কিছু যা একজনের জীবনচিত্রই পাল্টে দিতে পারে কি আপনার নিজের জীবনটাও। নতুন চিন্তার অন্তপ্রবাহ আপনার অত্মিলব্ধ কষ্ট ভোগান্তি যা এখন আপনাকে ভুগিয়ে মারছে তাকে উড়িয়ে দিয়ে আপনাকে এক নতুন মানুষে রূপ দিতে পারে এবং আমি আবার বলছি প্রতিটি কষ্ট ভোগান্তি।
সর্বশেষ উল্লেখিত বিশ্লেষণে কেন একজন মানুষ সৃজনশীল এবং কৃতকার্য জীবন যাপনে ব্যর্থ হয় তার কারণ দেখানো হয়েছে এবং কারণটা হলো তার নিজের কৃত ভুল। তার ভাবনাই তো ত্রুটিপূর্ণ। তার চিন্তা ভাবনার সংশোধন করা প্রয়োজন। সঠিক চিন্তার অনুশীলন করা প্রয়োজন তার। যখন সাম সঙ্গীত ২৩ এ বলা হচ্ছে 'তিনি আমাকে ন্যায্যতার পথে পরিচালিত করেন। তার অর্থ শুধু এই নয় যে, এ পথ শুধুই সত্যানুরাগীর পথ। যাদের মন সৎ মানসিকতায় প্রতিষ্ঠিত ভাববাদী ইসাইয়া যখন বলছেন, "দুষ্টেরা তাদের পথ পরিত্যাগ করুক এবং অধার্মিকেরা পরিত্যাগ করুক দুষ্ট চিন্তা।” (ইসাইয় iv.7) তার অর্থ শধু এই নয় যে, একজন ব্যক্তি শুধু মন্দ থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কিছু করবে, কিন্তু তাকে তার চিন্তার ধরনও পাল্টাতে হবে, অসৎ চিন্তা পরিত্যাগ করে সৎচিন্তা করতে হবে। ভুল কিছু তাকে হটিয়ে দিয়ে সত্যে উপণীত হতে হবে। সাফাল্যপূর্ণ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার সবচেয়ে গোপন বিষয়টি হলো জীবনে ভুলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং সত্যের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে হবে। নতুন, সঠিক সুস্থ চিন্তা মনের মধ্য দিয়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর সৃজনশীলতার সাথে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, কারণ সত্য থেকে সব সময় সঠিক প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটে এবং তাই, তা থেকে আসে সঠিক ফলাফল।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, এক যুবক ছেলেকে চিনতাম আমি এবং আমার সারাজীবনের যত অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এই ছেলেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ এবং সবদিক থেকে। যদিও তার ছিল সম্ভাবনাময় এক মনোরম ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। এক লোক তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে একটা কাজে নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার আগ্রহ শীতল হয়ে যায় এবং সে চাকরি হারাতে তার খুব বেশিদিন লাগেনি। এভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া বহুবার ঘটেছে তার জীবনে। কাজ হাতে পেয়ে সে অবস্থাতেই ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। সবকিছুর সাথেই সংযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সে। সঠিক কিছু করতেই পারেনি সে এবং সে আমাকে জিজ্ঞেস করতো, "আমার কি এমন ভুল হচ্ছে, যার ফলে সবকিছুই ভুল হয়ে যাচ্ছে?"
তখনও তার মধ্যে অহমিকা বোধ ছিল খুবই প্রবল। সে ছিল দাম্ভিক এবং আত্মতুষ্ট এক মানুষ এবং উত্তেজিত হয়ে যাওয়া এবং সবাইকে দোষানো ছিল তার অভ্যাস কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটি সে দেখতে পেত না। সে যে অফিসে সে কাজ করেছে সব জায়গাতেই কিছু না কিছু ভুল করেছে এবং রায় অরগানাইজেশন তাকে চাকরি দিয়েছে সবার সাথেই ভুল করেছে সে। তার জন্য সে অন্য সবাইকে দোষী করত কিন্তু নিজেকে নয়। সে কখনও নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখেনি। তার কখনও এমন মনে হয়নি যে তার নিজের ও ভুল থাকতে পারে।
যা হোক এক রাত্রে, সে আমার সাথে কথা বলতে চায় এবং যেহেতু আমাকে এক জায়গায় বক্তৃতা দেবার জন্য শ'খানেক মাইল ড্রাইভ করে যেতে হয়েছিল। কাজেই ঐ ছেলেটিই আমাকে সেখানে ড্রাইভ করে নিয়ে যায় এবং আবার নিয়েও আসে। ফেরার পথে তখন প্রায় মাঝ রাত, হামবার্গার এবং এককাপ কফি খাবার জন্য রাস্তায় পাশে এক দোকানে থামি আমরা। আমি জানি না ঐ হামবার্গার, স্যান্ডউইচে কি ছিল, সেই থেকে হামবার্গারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নতুন করে বেড়ে যায়, কারণ হঠাৎ করে সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি পেয়ে গেছি, আমি তা পেয়ে গেছি” কি পেয়ে গেছ তুমি? অবাক হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
আমি আমার উত্তর খুঁজে পেয়েছি। এখন আমি জানি আমার কি সমস্যা। এটাই হলো সেই যার জন্য আমার সবকিছু ভুল হয়ে যায়। কারণ আমি নিজেই এক মূর্তিমান ভুল।
হাত দিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে বললাম, “শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছ?”
“কেন স্বচ্ছ পাথরের মত এখন তা পরিস্কার,” সে বলল, আমি ভুল চিন্তা করে আসছি, এবং ফলস্বরূপ ভুলই হয়েছে আমার ভাগ্য লিপি।
ইতোমধ্যে আমরা আমাদের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, চারিদিকে চাঁদের আলোর বন্যা যেন এবং তাকে বললাম, "হ্যারি, তুমি অবশ্যই এক পা সামনে বাড়বে এবং বিধাতার কাছে এ সংসারে চলার জন্য সঠিক পথ কামনা করবে।” বাইবেল থেকে এই পড়িটি উল্লেখ করলাম।
“সত্যকে জানবে তুমি, এবং এই সত্যই তোমাকে মুক্ত করবে।” (জন viii, 32) আপন মনে সত্যকে লাভ কর এবং তাতে তুমি তোমার ব্যর্থতা থেকে রেহাই পাবে। এভাবে সে যীশুখ্রীস্টের একজন গভীর অনুরাগী ভক্ত হয়ে উঠলো এবং তার চিন্তাধারা পুরোপুরি পাল্টে গেল এবং পাল্টে গেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোও, পাল্টে গেল ভুল চিন্তা এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজকর্ম, সমস্ত কিছু তার স্বভাব প্রকৃতি থেকে দূর হয়ে গেল। ত্রুটিপূর্ণ ধরণ পাল্টে ধর্মশীল সহজ সরল এক পথ বেছে আড়ে নিল। যখন থেকে সে নিজেকে সংশোধন করল তখন থেকে তার সবকিছুতে সঠিক ফল আসতে শুরু করল।
নিচে সাতটি বাস্তবসম্মত পাথেয় দেয়া হলো যেগুলো আপনার মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসবে। নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফিরে আসতে সহায়তা করবে, আপনার মধ্য থেকে সৃজনশীল নতুন চিন্তা উৎসারিত হবে, ভ্রমাত্মক ধরণ থেকে শুদ্ধাত্মক ধরণে উত্তরণের জন্য। চেষ্টা করুন, দিখন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন। অবশ্যই তার প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবেন।
১. পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য সবকিছুর জন্য ইচ্ছে করেই আশাবাদ নিয়ে কথাগুলো বলুন, আপনার কাজ সম্বন্ধে, আপনার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সবকিছু নিয়ে আশাপ্রদভাবে কথা বলার জন্য আপনার নিজের পথ চেয়ে আসুন। এটা কঠিন হবে, কারণ সম্ভবত আপনি দুঃখবাদী বা নৈরাশ্যবাদী বলে ওভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত। এই নেতিবাচক অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত করুন, এমনকি যদি তার জন্য ইচ্ছাশক্তিতে কাজে লাগাতে হয় তবুও।
২। চব্বিশ ঘণ্টার জন্য আশাবাদ নির্ভর কথা বলার পর ঠিক একইভাবে এক সপ্তার জন্য অনুশীলনটি চালিয়ে যান, তারপর আপনাকে এক বা দুদিনের বাস্ত ববাদী বলে অনুমোদন করা যেতে পারে। আপনি তখন আবিস্কার করতে সক্ষম হবেন যে, বাস্তববাদী শব্দটার অর্থ কী, যেখানে এক সপ্তাহ আগে আপনি আসলেই ছিলেন একজন অমঙ্গলবাদী, কিন্তু এখন যে আপনি 'বাস্ত ববাদী' শব্দটার অর্থ বেরকরছেন তা একবারেই ভিন্ন রকমের, এ হলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির নতুন আত্মপ্রকাশ। বেশিরভাগ লোকেরা বলে থাকেন যে, ওরা বাস্তববাদী হওয়াতে নিজেরা নিজেদের ঠকায়, তারা নেতিবাচক ছাড়া আর কিছু নয়।
আপনি যেমন আপনার শরীরকে নিয়মিত খাওয়ান ঠিক তেমনি আপনার মনকেও আপনাকে খাবার দিতে হবে এবং আপনার মনকে স্বাস্থ্যবান করতে হলে তাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মত চিন্তা করতে হবে। কাজেই, আজ থেকেই আপনি নেতিবাচক চিন্তার জায়গায় ইতিবাচক চিন্তা স্থানান্তর করুণ। প্রথমেই শুরু করুন নতুন নিয়ম দিয়ে এবং বিশ্বাস শক্তির উপর নির্ভর করে প্রতিটি শব্দের উপর জয়ী হবার জন্য নম্বর তুলতে থাকুন। কাজটা ঠিক এভাবেই চালিয়ে যেতে থাকুন যে পর্যন্ত না নতুন নিয়মের চারটি পুস্তকের এমন প্রতিটি খণ্ড লিখনের উপর চিহ্নিত করণের কাজ সমাপ্ত হয় অর্থাৎ মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন লিখিত চার খন্ড। বিশেষ করে মার্কের লিখা থেকে xi পদ ২২, ২৩, ২৪ চিহ্নিত করুন। ওখানে যে পদগুলো লিখিত আছে সেসবই আপনাকে আপনার নম্বর পূরণের শক্তি প্রদান করবে এবং সেগুলো আপনার চেতনার গভীরে ধারণ করে রাখুন।
তারপর সেই চিহ্নিত খণ্ড লিখনগুলো মুখস্ত করুন। একেকদিন একেকটা মুখস্থ করুন যে পর্যন্ত না চিহ্নিত পুরো তালিকাটি মুখস্থ বলতে না পারেন। এতে সময় লাগবে, কিন্তু মনে রাখুন এতে যে সময়টুকু লাগবে তার পড়তার থেকে বেশি সময় আপনি খরচ করেছেন নেতিবাচক চিন্তার পেছনে ছুটতে ছুটতে যা কিছু যত কিছু আপনি ভুলতে চেষ্টা এবং সময় দুটোই লাগবে।
আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে কে সবচেয়ে ইতিবাচক চিন্তার ধারক তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তার সামাজিক আচার-আচরণকে নিয়ে চর্চা করুন। আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের কিন্তু প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু কিছু সময়ের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে তাদের কাছাকাছি হোন, যে পর্যন্ত না তাদের নেতিবাচক শক্তিকে আপনি শোষণ করে নিচ্ছেন, তারপর আপনি আবার আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের মধ্যে ফিরে যেতে পারেন এবং তাদের মধ্যে আপনার নতুন লব্ধ চিন্তাগুলো মেলে ধরতে পারেন তাদের নেতিবাচকতা গ্রহণ না করে।
যুক্তিতর্ক এড়িয়ে চলুন, কিন্তু যখনই কোন নেতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখেন, তখনই ইতিবাচক এবং আশাবাদী মতবাদ দিয়ে তা প্রতিরোধ করুন।
অনেক প্রার্থনা করুন এবং সবসময় আপনার প্রার্থনা ধন্যবাদজ্ঞাপক করে তুলুন এই অনুভূতিতে যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে মহান এবং বিস্ময়কর কিছু দিচ্ছেন; কারণ যদি আপনি ভাবেন যে, সেই অর্থাৎ ঈশ্বরই নিশ্চয়ই আপনাকে সেসব দিচ্ছেন। যতটুকুতে আপনার বিশ্বাস তার চেয়ে বড় কোন আশীর্বাদ। তিনি আপনাকে দেবেন না। তিনি আপনাকে বিরাট কিছু দিতে চান, কিন্তু এমনকি তিনি আপনাকে এমন বড় কিছু নিতে বাধ্য করতে পারেন না, যা গ্রহণ করতে আপনি বিশ্বাস সহযোগে সজ্জিত হয়েছেন। “আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি হা হোক।” (মথি ix 29)
অপেক্ষাকৃত ভালো এবং সাফল্যপূর্ণ জীবন যাপনের পেছনে যে গোপন শক্তি তার মূলে হলো, জীর্ণ পুরাতন ও মৃত, রূগ্ন চিন্তা সেসব ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তার বদলে নতুন মূল, গতিশীল চিন্তাশক্তির উন্মেষ ঘটাতে হবে। আপনি এর উপর নির্ভর করতে পারেন- অন্ত প্রবাহী এক নতুন চিন্তা আপনাকে আপনার জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

আমেরিকার ইতিহাসে যে ক'জন জ্ঞানী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে উইলিয়াম জেম্স এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তারই উল্লেখিত একটি বক্তব্য আমরা নীচে দেখতে পাব। বক্তব্যটি আপনাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিধর। উইলিয়াম জেমস বলেছেন, "আমার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো যে, মানুষ তার মনোবৃত্তির পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।” যেমনটা আপনি ভাববেন, আপনার জীবনটা তেমনই হবে। কাজেই আপনার মনের যত জীর্ণ পুরাতন, ক্লান্ত, শ্রান্ত বিবর্ণ-মলিন চিন্তা ধারণাগুলো আছে সেগুলো ধুয়ে মুছে ফেলুন। সেখানে মনকে নির্ভেজাল সৃজনশীল বিশ্বাস চিন্তায় এবং যত সৎ গুণাবলী আছে সেসবে ভরে ফেলুন এই পদ্ধতি চর্চার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার জীবনের সত্যিকার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন জীবন গঠন করতে পারেন।
ব্যক্তিত্ব পূণর্গঠনের এমন চিন্তা চেতনা আপনি কোথায় পাবেন? একজন ব্যবসায়ী নির্বাহীকে আমি জানি বিনীত একজন মানুষ কিন্তু কটির ধরনটি এমন যিনি কখনো কোন কাজে পরাজিত হননি।
কোন সমস্যা নয় উন্নয়নের পথে কোন বাধা নয় শ্রবং কোন বাধা বিঘ্নই কখনও তাকে নত করতে পারেনি। প্রতিটি কঠিন অবস্থারে অভাবিক আশাবাদী মনোভাব নিয়ে আক্রমণ করেছেন এবং তার প্রেমেই দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে তার সিদ্ধান্তই ঠিকমত কাজ করবে এবং দেখা গেছে যে কী অদ্ভূতভাবে সব সময় সবকিছু তার পক্ষেই কাজ করেছে। মনে হচ্ছে কি এক যাদুকরী স্পর্শ তার জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে।
এমন এক স্পর্শ যা কখনও ব্যর্থ হয়নি। লোকটি এমন নিশ্চিত পন্থা অবলম্বনের পিছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা না থেকেই পারে না আর আমি অবশ্যই তার কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার বিনীত স্বভাবের কারণে এবং চাপা স্বভাববশত তার কাছ থেকে তার নিজের সম্বন্ধে কিছু টেনে বের করা কঠিন ছিল। একদিন যখন তিনি বেশ চমৎকার মেজাজে ছিলেন, সেদিন তার গোপন তথ্য আমাকে জানিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে তা অতি সহজ সরল কিন্তু কার্যকারী গোপন তথ্য। আমি তার কারখানার যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করছিলাম আধুনিক এবং হাল আমলের কাঠামো, এবং এর বেশির ভাগই এয়ার কন্ডিশন্ড। সর্বাধুনিক মেশিনপ্রত্র এবং উৎপাদন পদ্ধতি কারখানাটিকে একটি দক্ষতাপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নীতি মনে হয় ত্রুটি পূর্ণ মানুষের মধ্যে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন, ব্যবসা সুনামের একটি উৎসাহ উদ্দীপনা যেন পুরো প্রতিষ্ঠানে ব্যপ্তি লাভ করেছিল।
তার অফিসটি অত্যাধুনিকভাবে কারুকার্য করা হয়েছিল এবং সুন্দর সুন্দর ডেস্ক, উলেন কাপড়ের কাজ, বিদেশী কাঠের প্যানেল দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
কারুকার্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে বিস্ময়কর পাঁচটি রঙ একত্র করে এবং তা হয়েছে খুবই মনোরম। সব মিলিয়ে এটাই হলো শেষ কথা যে, এ অতি সুন্দর, তারপর অন্যকিছু। তারপর কল্পনা করুন, দারুণ সুচারুভাবে পলিশ করা মেহগিনি কাঠের ডেস্কের উপর আমি যখন দেখলাম বহু ব্যবহার ধন্য একটি পুরনো বাইবেল তখন আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম। অত্যাধুনিক কক্ষগুলোর মধ্যে ঐ বাইবেলটিই ছিল একমাত্র পুরাতন বস্তু। আমি মন্তব্য করলাম আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যেন পুরনো বাইবেলটি এখানে এক অদ্ভূত অসংলগ্নতা। জবাবে বললেন, 'ঐ বইটি' বাইবেলটির দিকে আঙ্গুল তুলে দেখালেন, এ কারখানার যত অধ্যাধুিনিক যন্ত্রপাতি আছে তারমধ্যে এ বাইবেলটিই সর্বাপেক্ষা অত্যাধুনিক। (অন্যন্য ধর্মগ্রন্থও তাই) যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে করতে জরাজীর্ণ হয়ে যায় সাজসজ্জার ধরণ পাল্টে যেতে পারে কিন্তু ঐ বইটি আমাদের সবকিছুর চেয়ে এগিয়ে আছে, কিন্তু তবুও তা কখনও সেকেলে হয়ে যায় না। যখন আমি কলেজে গিয়েছিলাম আমার খ্রীষ্টান মা ঐ বাইবেলটি আমাকে দিয়েছিলেন এবং উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, যদি আমি বইটি পড়ি এবং এর শিক্ষাগুলো অনুশীলন করি তাহলে আমি শিখতে পারবে কিভাবে সাফল্যের মধ্য দিয়ে জীবন চালিয়ে নেয়া যায়। আমি ভেবেছিলাম তিনি শুধুমাত্র একজন চমৎকার বৃদ্ধা মহিলাই ছিলেন। মৃদু হেসে বললেন তিনি, 'আশ্চর্য : সন্ধিলগ্নে তাকে মনে হতো বুড়া কিন্তু আসলে তত বৃদ্ধা তিনি নন।' আমি তাকে তুষ্ট করার জন্যই আমি বাইবেলটি নিয়েছিলাম এবং সত্যি যে বছরের পর বছর বইটি পড়েই ছিল, আমি কখনও বইটির দিকে তাকিয়ে দেখিনি। আমার মনে হয়েছিল বইটি আমার কোন কাজে আসবে না।
“বেশ”, কিছুটা অমার্জিত ভাষায়ই বলতে থাকলেন তিনি, "আমি ছিলাম একজন মাদকাসক্ত। একজন ফালতু মানুষ ছিলাম আমি। তীব্র বিশৃঙ্খল এক জীবন ছিল আমার।"
প্রথম প্রথম সবকিছুই ভুল ভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে চলছিল কারণ আমি ভ্রান্তি বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম, আমার কাজকর্ম সবকিছু ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। কোন কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছিলাম না আমি, সবকিছুতে ব্যর্থতাই ছিল আমার একমাত্র পরিণতি। এখন আমি বুঝতে পারছি যে, আমার প্রধান সমস্যাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা। আমি ছিলাম নেতিবাচকের ধারক, আমি ছিলাম ক্রুদ্ধ দাম্ভিক একগুঁয়ে। কেউ কিছু বলতে পারত না আমাকে। আমার এমন ধারনা ছিল যে, আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক। সবার প্রতি কেমন পীড়াগ্রস্থ মনোভাব ছিল আমার অল্প হলেও বিস্ময়কর সত্যি যে কেউ আমাকে পছন্দ করত না। সত্যি বলতে কি, আমি একেবারেই ব্যর্থই হয়েছিলাম। এভাবেই চলছিল তার বিষাদময় জীবন। একদিন রাতে কিছু কাগজপত্রের উপর চোখ বুলাবার সময়, বলে চললেন তিনি, হঠাৎ করেই অনেকদিন ভুলে থাকা বাইবেলের দিকে চোখ পড়ে আমার। হারানোদিনের সব মনে পড়তে থাকে আমার এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইবেলটি পড়তে থাকি আমি। আপনি জানেন কি, কী অদ্ভূত একটা ব্যাপার ঘটে গেল? এক মুহূর্তের মধ্যেই আমির সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল।
দেখুন, যখন আমি বাইবেল পড়া শুরু করি একটি বাক্য যেন লাফ দিয়ে আমার চোখের সামনে চলে আসে, একটিমাত্র বাক্য আমার জীবন পরিবর্তন করে ফেলে। এবং আমি যখন বলি পরিবর্তন হয়ে গেছে, অর্থাৎ আমি বুঝতে চাইছি পরিবর্তন হয়েই গেল। যখন থেকে আমি ঐ বাক্যটি পড়তে থাকি সবকিছু বিস্ময়করভাবে অন্যরকম হয়ে যায়।
কী সেই বিস্ময়কর বাক্যটি? আমি তা জানতে চেয়েছিলাম, এবং ধীরে ধীরে বললেন তিনি “ঈশ্বরই আমার জীবনের শক্তি.... এরই উপর আমি দৃঢ় রূপে বিশ্বাস স্থাপন করব (সাম সঙ্গীত xxvi. 1. 3)
"আমি জানিনা কেমন করে কেন সেই একটিমাত্র বাক্য আমার উপর এমন প্রভাব বিস্তার করল তিনি বলে চললেন, কিন্তু তা হয়েছিল। এখন আমি জানি যে, আমি কেমন দুর্বল ছিলাম এবং কেমন ব্যর্থ একজন মানুষ। কারণ আমার কোন বিশ্বাস ছিল না।
কোন আত্মবিশ্বাস ছিলনা। আমি ছিলাম খুব নেতিবাচক পরাজয় বরণে অভ্যস্ত এক মানুষ। কিন্তু ঐ দিনই কিছু একটা ঘটে গেল আমার মনে। আমি অনুমান করছি যা আমার মধ্যে ঘটলো তা হলো, অন্যকিছু, যাকে বলে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমার ধ্যান ধারনা পাল্টে গেল। নেতিবাচক একটি অবস্থা থেকে আমি ইতিবাচক একটি অবস্থায় পদর্পন করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম দৃঢ় বিশ্বাসে ঈশ্বরকে অন্তরে ধরে রাখব আমি, এবং আন্তরিকভাবে সবচেয়ে যা ভালো তাই করব, বাইবেলে যেসব নীতিমালার কথা লিখিত হয়েছে তা মেনে চলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। (সব ধর্মশাস্ত্রের জন্যও এটি প্রযোজ্য) যখন আমি তেমনটি করলাম কিছু নতুন ধরনের চিন্তা আমি ধারণ করলাম। ভিন্ন ধরনের চিন্তা চর্চা শুরু করলাম। আমি এক সময় আমার ব্যর্থতার জায়গাটা জুড়ে গেল আধ্যাত্মিক চিন্তন অভিজ্ঞতায় এবং নব্য চিন্তনের অন্তপ্রবাহ ক্রমে ক্রমে, কিন্তু সত্যিকারভাবে আমাকে পূর্ণগঠিত করতে থাকল। সুতরাং এখানেই আমি শেষ করছি সেই ব্যবসায়ী লোকটির কাহিনী। তিনি তার চিন্তাভাবনা পাল্টে ফেলেছিলেন যে, পুরনো চিন্তা ভাবনাগুলো তাকে হারিয়ে দিচ্ছিল পদে পদে এবং তিক্তভাবে, সে জায়গায় শেষ পর্যন্ত জয়ের পতাকা উড্ডীন হলো বিজয় গর্বে।
এই যে ঘটনা হলো, তার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ব্যর্থ হবার কথা এবং অসুখি হবার কথা ভাবতে পারেন তবে সেই আপনি আবার সাফল্য লাভ করার কথা এবং সুখি হবার কথাও ভাবতে পারেন। যে দুনিয়াতে আপনি বাস করছেন সেখানে প্রাথমিকভাবে বাইরের অবস্থা থেকে বা পরিস্থিতি থেকে কোন কিছু নির্ধারিত হয় না। কিন্তু হয় চিন্তাশক্তির দ্বারা যা যথারীতি আপনার মনকে জুড়ে রয়েছে। মার্কাস অরেলিয়াসের সেই কথা গুলোস্মরণ করুন, তিনি প্রাচীনকালের একজন বড় চিন্তাবিদ, তিনি বলেছেন, “মানুষের জীবন তেমনই হয় যেমনটা সেভাবে।”
আমেরিকার সুবিজ্ঞ পণ্ডিত, ঐক্যের জন্য যিনি সব সময় কাজ করেছেন, মি. রালফ উয়ালডো এমারসন, তিনি বলেছেন, "একজন মানুষ তেমনই হয়, সারাদিন যেমন সে ভাবে।” একজন বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ বলেছেন, “মানুষের স্বভাবের এমন এক গভীর প্রবণতা রয়েছে যা তাকে ক্রমাগত কল্পনার মধ্য দিয়ে ঠিক তার আকাঙ্খিত বাস্তবতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।"
এমন কথিত আছে যে 'চিন্তা' হলো এমন এক বস্তু, যার মধ্যে মূলত গতিশীল এক শক্তি নিহিত রয়েছে। যে অনুশীলন যারা করে তার শক্তির বিচারে একজন তাৎক্ষনিকভাবে এমন গুণবিচার করে তা নিরুপন করতে পারে।
আসলে আপনি নিজেই একটি পরিস্থিতির ভেতর বা বাইরের উদ্ভেয়দিকই ভাবতে পারেন। আপনার চিন্তার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অসুস্থ করে ফেলতে পারেন। আবার ঐ একই চিন্তা শক্তির দ্বারা নিজেকে সুস্থ্যও করতে পারেন। শেষের ক্ষেত্রে চিন্ত াটি ভিন্ন এবং আরোগ্যকর ধরনের চিন্তা। এক ধরনের চিন্তা করুন এবং যার মাধ্যমে আপনি পরিস্থিতিকে আয়ত্বে আনতে পারবেন তা আগে চিহ্নিত করুন। আবার অন্যরকম চিন্তা করুন দেখবেন তার ফলও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কারো কোন অবস্থা তৈরি হয় চিন্তার দ্বারা এবং অঅেবস্থা উৎসারিত চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইতিবাচক চিন্তা করুন, উদাহারণ স্বরূপ আপনার ইতিবাচক চিন্তাশক্তি নিয়োজিত করলে দেখবেন সাফল্যদায়ী ফল উৎপাদন করেছে আপনার জন্য। ইতিবাচক চিন্তা আপনার চারিদিকে এক প্রসন্ন পরিবেশ তৈরি করেছে যা ঐ চিন্তা উত্থিত উন্নত ইতিবাচক ফল। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তা করে দেখুন দেখবেন, আপনি অপ্রসন্ন পরিবেশের ঘেরা জালে আবদ্ধ হয়ে হাঁস ফাঁস করছেন।
আপনার পরিস্থিতির পরিবর্তনের পেছনের প্রথম উৎসটি হলো, আপনার ভিন্ন ধরনের চিন্তা অসন্তুষ্টিকর পরিস্থিতিকে আপনি কোনোভাবে ইতিবাচক বলে মেনে নেবেন না, কিন্তু মনে মনে একটি সুন্দর ইতিবাচক ছবি আকার দিন। যেমনটি হলে খুবই ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন। ছবিটি মনশ্চক্ষুর সম্মুখে তুলে ধরুন একে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলুন, এর উপর বিশ্বাস রাখুন এর জন্য প্রার্থনা করুন এর পেছনে শ্রম দিন, দেখবেন ইতিবাচক চিন্তার মধ্য দিয়ে যে প্রতিবিম্ব আপনি মনে মনে কল্পনা করেছেন সেই অনুসারে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশ্বব্রহ্মণ্ডে এটি মহানতম একটি বিধান আমি যখন একজন অল্প বয়সের যুবক তখনই এই সত্য বিধান আমি আবিষ্কার করেছিলাম একথা আমি অকপটে বলার ইচ্ছা রাখি। অনেক পরে আমার জীবনে এ সত্য বিধান ধীর ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং একে আমার একটি মহানতম বিধান বলে মনে হয়, যদি ও ঈশ্বরের সাথে আমার সম্পর্ক হওয়ার বিষয়টিও সর্বাপেক্ষা মহান এক আবিষ্কার। এবং গভীরভাবে ভাবতে গেলে এই বিধানটি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার একটি কারণ, এ থেকেই ব্যক্তির সাথে ঐশ্বশক্তির সংযোজক পথ তৈরি হয়।
এই মহান বিধান সংক্ষেপে এবং সাধারণভাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে আপনি যদি নৈতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে ফলাফল নেতিবাচকই হবে। যদি ইতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে তার ফলাফলও দাঁড়াবে ইতিবাচক। সৌভাগ্য লাভের এবং সাফল্য লাভের এই হলো অবাক করা বিধান। তিনটি মাত্র শব্দ, বিশ্বাস করুন এবং সফল হোন (believe and succeed)
খুব মজার এক পন্থায় আমি এই বিধান সম্বন্ধে জেনেছি। কয়েক বছর আগে আমাদের একটি দল, দলটি গঠিত হয়েছিল লোয়ে থোমাস ক্যাথেচইন এডি রিকেনবেকার, ব্রান্স রিকি, রেমন্ড থনবার্গ এবং আরও কয়েকজন মিলে আত্ম অণুপ্রেরণায় এবং স্বউদ্যোগে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করি, ম্যাগাজিনের নাম 'গাইড পোষ্টস'। এই ম্যাগাজিনের দু'টো উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমটি হলো, বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যারা তাদের কষ্ট ভোগ জীয় করেছেন তাদের কাহিনী প্রকাশ, কারণ এই কাহিনীগুলো সাফল্যজনক ভাবে বাঁচতে, ভয়ভীতির উপর জয়ী হতে, কোন নাজুক অবস্থার উপর, কোন বাধা বিপত্তির উপর, বাবা বিয়ের উপর, এবং বিদ্বেষের উপর জয় লাভ করতে শিক্ষা দেয়। সার্বিক নেতিবাচক অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বাসই মহাশক্তি, এ শিক্ষা দেয় এ কাহিনীগুলো।
দ্বিতীয়ত, একটি লাভহীন, অসাম্প্রদায়িক, পরস্পর বিশ্বাসী প্রকাশক হিসেবেই এই মহান শিক্ষা আমাদের দেয় যে, ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ ধারায় মধ্যমনি স্বয়ং বিধাতা এবং জাতিবৃন্দ তার উপর এবং তার বিধানের উপর বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত।
এই ম্যাগাজিন তার পাঠক পাঠিকাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইতিহাসে আমেরিকা হলো সেই মহান জাতি, যে জাতি একটি সঠিক ধর্মীর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা যদি তা বজায় না রাখি তাহলে আমাদের 'মুক্তি' অধিকতর বাজে অবস্থার দিকে যাবে।
প্রকাশক হিসেবে মি. রেমন্ড থর্নবার্গ এবং সম্পাদক হিসেবে আমি এ ম্যাগাজিন থেকে কোন আর্থিক সহায়তা নেইনি। বিশ্বাসের উপর ভর করে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সত্যি বলতে কি এর প্রথম অফিসগুলো ছিল নিউ ইয়ার্কের পলি নামক ছোট একটি গ্রামের এক মুদি দোকানের গুদামের উপর তলায়। কয়েকটি কক্ষ নিয়ে।
অফিসে ছিল ধার করা একজন টাইপিস্ট, কয়েকটি নরবরে চেয়ার, ব্যস, বড় মাপের কিছু ধারণা এবং বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই ছিলনা আমাদের। ধীরে ধীরে ২৫,০০০ হাজার গ্রাহকের একটি তালিকা হাতে এসে যায় আমাদের ভবিষ্যতটা মনে হয়েছিল নিশ্চিত সাফল্যমণ্ডিত কিন্তু হঠাৎ একদিন রাতে অফিসে আগুন লেগে গেল এবং ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রকাশনা অফিস জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেল, এর সাথে সাথে গেল আমাদের সৌভাগ্যের আমাদের ভরসার সেই ২৫,০০০ গ্রাহকের তালিকাটাও। বোকার মত আমরা ঐ তালিকার কোন নকল কপি তৈরি করে রাখিনি।
লোয়েল থোমাস, অনুগত এবং 'গাইড পোষ্টস' ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠপোষক এই দুর্ঘটনার শুরু থেকেই তার রেডিও মারফত এই দুঃখজনক পরিস্থিতি প্রচার করতে শুরু করেন এবং এর ফলস্বরূপ আমরা খুব শীঘ্রই ৩০,০০০ গ্রাহক পেয়ে যাই। আসলে এর মধ্যে পুরনো সব কজনতো ছিলই নতুন কয়েকজনও এসে যুক্ত হয়েছিল তাদের সাথে।
গ্রাহকের তালিকা মোটামুটি ৪০,০০০ এসে দাঁড়ায় কিন্তু খরচও বাড়তে থাকে আরো দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে ম্যাগাজিনটি মোট খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়ে গেল, কারণ এতে আমাদের বার্তাটি প্রচার করা জরুরী ছিল, কিন্তু এর পেছনে যে খরচ তা ছিল আমাদের প্রত্যাশার বাইরে, কাজেই দারুণ অর্থ সংকটে পড়লাম আমরা। আসলে একবার মনেই হয়েছিল এই ম্যাগাজিনের প্রকাশ চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
এই দশায় যখন পড়েছি, তখন আমরা একটি আহ্বান করলাম, এবং আমি নিশ্চিত যে আপনি জীবনে এমন দুঃখজনক, বাচক এবং আশা ভরসাহীন সভায় কখনও যোগ দেননি।
সভাটি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল যেন আশাহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পেতে কোথায় হাত পাতবো আমরা? যেন একটি পথ খুঁজে পেতে এমন মনে হলো যে গরু মেরে জুতা দান করব আমরা। একেবারে ভেঙ্গে পড়লাম, হতাশায় মন কানায় কানায় ভরে উঠলো।
একজন মহিলা এই সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করতাম। একটি কারণে তাকে এই সভায় অন্তভূক্ত করা হয়েছিল। কারণ আমাদের ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা শুরু করার সময় তিনি আমাদের ২০০০ ডলার প্রদান করেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম একই জায়গায় দ্বিতীয়বারও হয়ত আলো এসে পড়তে পারে। কিন্তু এসময় তিনি আমাদের যা কিছু দিলেন তার দাম টাকার চেয়েও বেশি।
নৈরাশাপূর্ণ অন্ধকারময় এ সভায় সেই মহিলা অনেকক্ষণ একেবারে নীরব থাকলেন, কিন্তু অবশেষে তিনি কথা বললেন: "ভদ্রমহোদয়গণ আমার মনে হয়, আপনার খুবই খুশি হবেন যদি আমি আপনাদের এ পরিস্থিতিতে আরেকবার টাকা দিই। আপনাদের এই দুর্দশার দহন জ্বালা আমি টাকা দিয়ে নির্বাপন করতে পারি। কিন্তু এবার আমি আপনাদের এমন কি একটি সেন্টও দিতে যাচ্ছি না।”
কিন্তু এতে আমাদের দুর্দশার কোন সুরাহা হবে না। উল্টো আমাদের দুর্দশার পরিমাণ আরো বাড়বে। "কিন্তু” তিনি বলে চললেন, "আমি আপনাদের টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান কিছু দেব।”
তার কথা আমাদের খুব অবাক করে দিল, কারণ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকতে পারে আমরা সম্ভবত তেমন কিছু চিন্তাই করতে পারছিলাম না।
“আমি আপনাদের একটি বিশেষ ধারণা দিতে যাচ্ছি,” তিনি বলে চললেন, "একটি গঠনমূলক ধারণা।"
'বেশ'গাছাড়াভাবে ভাবতে থাকলাম আমরা, যে একটি ধারণা দিয়ে আমরা কিভাবে আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করব?
আহ, কিন্তু ধারণা এমন এক ব্যাপার যে তা ঠিকই আপনাদের গুঞ্জনা বিল পরিশোধ করতে সাহায্য করবে। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি সাফল্যজনক কাজের পেছনে যে প্রথম পরিকল্পনা তা হলো গঠনমূলক ধারণা পাকাপোক্ত করা। প্রথমে ধারণা করা তারপর এতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, তারপরে পদক্ষেপ হলো এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করা। এ হলো সেই পথ যে পথে চূড়ান্ত সাফল্য। "এখন” তিনি বললেন, ধারণাটি হলো এমন, বর্তমান সমস্যাটি কি? আপনাদের সমস্যাটি হলো এই যে, এখন আপনাদের সবকিছুর অভাব। আপনাদের টাকার অভাব। আপনাদের গ্রাহকের অভাব। আপনাদের সরঞ্জামের অভাব। আপনাদের ধারণা বা বুদ্ধির অভাব। আপনাদের সাহসের অভাব। এই যে প্রয়োজনীয় এতো কিছুর অভাব আপনাদের, কিন্তু কেন? উত্তরটা সহজ, কারণ আপনারা অভাবের কথাই ভাবছেন। যদি আপনারা ভাবেন যে আপনাদের অভাব আছে তাহলে আপনারা এমন এক অবস্থা সৃষ্টি করেন যা অভাবের অবস্থাই জন্ম দেয়। আপনি যার অভাব বোধ করেন তার উপর আপনার মনের ক্রমাগত চাপ আপনার গঠনমূলক শক্তিকে হতাশায় দুর্বল করে ফেলে অথচ তা থাকলে আপনাদের গাইড পোস্টস ম্যাগাজিনের উন্নতি কল্পে উদ্যম যোগাতে পারত।
অনেককিছু করার দৃষ্টিকোন থেকে 'কঠোর পরিশ্রম করছেন আপনারা কিন্তু সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আপনারা,” অথচ তা আপনাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় শক্তি যোগাতো। ইতিবাচক চিন্তাকে কাজে লাগাননি আপনারা। তার বদলে আপনারা ভেবেছেন শুধু অভাবের কথা।
এই পরিস্থিতির সংশোধন করতে চাইলে মানসিক অবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে, এবং ভাবতে হবে সৌভাগ্যের কথা, সাফল্যের কথা। এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলনের "কিন্তু তা খুব দ্রুত করা সম্ভব যদি আপনি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। পদ্ধতিটা হলো মনশ্চক্ষে দেখা, অর্থাৎ গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন সাফল্যের সাথে চলতে; মনশ্চক্ষে এটাই দেখতে হবে। মনে মনে এমন একটি ছবি আঁকুন যে গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন দারুণ এক ম্যাগাজিন সারাদেশে জুড়ে এ ম্যাগাজিন সমাদৃত। মনশ্চক্ষে দেখুন যে, বহুসংখ্যক গ্রাহক আপনাদের রয়েছে সবাই গভীর আগ্রহের সাথে এই অনুপ্রেরণাদায়ী বস্তুটি পড়ছে এবং লাভবান হচ্ছে। মনে মনে এমন এক জীবনের প্রতিকৃতি চিহ্নিত করুন যা এই মাসিক গাইডেড পোয়েটস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত দর্শন শিক্ষার মাধ্যমে সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে।
“মনে মনে এমন ছবি আঁকবেন না যা কষ্ট বেদনায় মনকে ভারাক্রান্ত করে, কিন্তু মনকে তার ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন এবং মনশ্চক্ষে শক্তি এবং সাফল্যকেই কেবল দেখুন, অন্য কিছু নয়। মনশ্চক্ষে কল্পিত প্রাপ্তির এলাকা পর্যন্ত যখন আপনারা আপনাদের চিন্তাকে তুলে আনতে পারবেন তখন দেখবেন আপনারা আপনাদের কষ্ট বেদনাকে উপেক্ষা করতে পারছেন, বরং যতটা পারা কথা তার চেয়ে বেশিই পারছেন এবং এভাবে আপনারা আরও উৎসাহ উদ্দীপক দৃশ্যাবলিও পেয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের সমস্যার উপর সবসময় আধিপত্য বিস্তার করে চলুন। কখনও নিজেকে সমস্যা মোকাবিলা করতে যাবেন না।” “আমাকে বলতে দিন,” ক্লিফ বললেন। “এ পরিস্থিতিতে নিজেদের চালিয়ে নেবার জন্য কত পরিমাণ গ্রাহক আপনাদের প্রয়োজন?” খুব দ্রুত ভাবলাম আমরা এবং বললাম: “৪০ হাজার গ্রাহক” আমাদের কাছে ছিল হাজার চল্লিশ গ্রাহক।
“ঠিক আছে,” বেশ দৃঢ়তার সাথে বললেন তিনি, এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। কাজটা সহজ। মনশ্চক্ষে দেখুন বেশ কয়েক লক্ষ গ্রাহক আপনাদের এই ম্যাগাজিন পড়ে গঠনমূলক কিছু সহায়তা পাচ্ছে এবং আপনারা তা পারেন। আসলে, যে মুহূর্তে আপনারা মনশ্চক্ষে ঐ গ্রাহকদের দেখছেন, ধরে নিন ইতোমধ্যে আপনারা তা পেয়েই গেছেন।”
আমার দিকে ঘুরে তিনি বললেন : “নারম্যান, এই মুহূর্তে আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন? ঐ দিকে তাকান, আপনার সামনে তাকান। আপনার মনশ্চক্ষে আপনি দেখতে পাচ্ছেন কি?” আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এবং আমি সন্দেহের সাথেই বললাম : “বেশ, তা হতে পারে, কিন্তু তা বেশ খানিকটা জ্যাঁৎসা মনে হচ্ছে আমার কাছে।”
আমার প্রতি কিছুটা হতাশ হলেন তিনি। আমি ভেবেছিলাম, যখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : “আপনি কি কাল্পনিক ভাবে এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন না?”
আমি অনুমান করছি যে, আমার কল্পনাশক্তি ঠিক মত কাজ করছিল না কারণ যা সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তা হলো, বাস্তবে আমাদের ঐ ৪০ হাজার গ্রাহক।
তারপর তিনি আমার পুরনো বন্ধু রেমন্ড থর্নবার্গের দিকে ফিরলেন, যিনি বরাবরই বিজয় গর্বে মহিমান্বিত এবং আশীর্বাদপুষ্ট এক ব্যক্তি, এবং ভদ্রমহিলা তাকে তার ডাকনাম ধরে ডেকে বললেন, “পিংকি আপনি কি এক লক্ষ্য গ্রাহক মনশ্চক্ষুতে দেখতে পাচ্ছেন?"
আমি কিছুটা সন্দেহ করেছিলাম যে, পিংকি হয়ত তাদের দেখে থাকবেন। তিনি একজন রাবার শিল্প উৎপাদনকারী। তিনি স্বাধীনভাবে কিছু সময় এই মুনাফাহীন ম্যাগাজিনের অনুপ্রেরণা ও অগ্রগতির জন্য দিয়ে থাকেন এবং আপনি সাধারণভাবে চিন্তা করতে পারবেন না যে, এই রাবার শিল্পপতি এ ধরনের চন্তার কোন রকম সারা দেবেন। কিন্তু গঠনমূলক কোন চিন্তা করার মত মনোবৃত্তি তার আছে তার মুখের উপর মহিলার মোহিনী দৃষ্টি আমি লক্ষ্য করলাম। বিস্মিত দৃষ্টিতে তিনি সোজা মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলেন যখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন "আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন?"
"হ্যাঁ, বেশ আগ্রহের সাথে জোরে বলে উঠলেন তিনি, “হ্যাঁ, আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি।” উত্তেজিত হয়ে আমি দাবি করলাম, কোথায়? তাদের দেখাবেন কি?
তখন আমিও মনশ্চক্ষুতে তাদের দেখতে শুরু করলাম। এখন, আমাদের ঐ বন্ধু আবার বলে চললেন, "আসুন আমরা সবাই একত্রে প্রণত হয়ে বিধাতার ধন্যবাদ দিই আমাদেরকে লক্ষ গ্রাহক দেবার জন্য।"
অকপটে ভাবলাম এতে করে বিধাতাকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতিতেই ফেলা হলো, কিন্তু শাস্ত্রে লিখিত একটি বাণীতে এর সমর্থন পাওয়া গেল, সেখানে লিখা প্রার্থনায় বিশ্বাস সহকারে তুমি যা যা চাইবে তার সবকিছুই তোমাকে দেয়া হবে।” (মথি xxi .22) তার অর্থ হলো, যখন তুমি কিছু বাঞ্ছা কর একই সময়ে মনশ্চক্ষুতে দেখ যে, তোমার যাচিত বস্তু বাস্তবিকই পেয়ে গেছ। বিশ্বাস কর যে, যদি বিধাতার ইচ্ছা হয় এবং তার দৃষ্টিতে তা সঙ্গত হয়, এবং তা যদি স্বার্থপরভাবে না চাওয়া হয় কিন্তু তাতে যদি মানুষের কল্যাণ হয় তবে সেই মুহূর্তেই তা প্রদান করা হবে।
এই পথ অবলম্বন করতে যদি আপনাদের কষ্ট হয় তাহলে আমি বলতে চাই যে, এই মুহূর্ত থেকে যখন গাইড পোষ্টসে যে লিখা বের হচ্ছে এই সমসয় থেকেই এই ম্যাগাজিন আর কখনও কিছুর জন্য অভাবে পড়বেনা। এ ম্যাগাজিনের পিছনে অনেক ভালো ভালো বন্ধু জুটে গেল এবং তাদের পক্ষ থেকে ভালো ভরসাও পাওয়া গেল। সব সময় বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারল সহজেই, প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম কিনতে পারলো নিজের খরচ নিজেই জোটাতে পারলো এবং আমি যখন এ কথাগুলো লিখছি তখন গাইডপোস্টস পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় মিলিয়নের কাছাকাছি সীমার পৌঁছেছে। এবং আরও অনেক গ্রাহক নিয়মিত আসতে লাগলো। কোন কোন সময় এমনও দেখা গেল যে, প্রতিদিন তিন চার হাজার পর্যন্ত গ্রাহকও বাড়তে থাকলো।
এই ঘটনা আমি যে আমাদের গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের প্রচার প্রসার বাড়াবার জন্য উল্লেখ করছি তা নয়, যদিও আমি খুব শক্ত হাতে এই ম্যাগাজিন আমাদের পাঠকদের মাঝে পূর্ণর্বার ছাপতে শুরু করলাম, এবং আপনি যদি এর গ্রাহক হতে চান, তাহলে আরো তথ্যের জন্য গাইড পোস্টস পলিং নিউইয়র্ক, এ ঠিকানায় লিখুন। কিন্তু এ কাহিনী আমি বলছি কারণ আমি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলাম এবং অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, টলমল করে হলেও একটি বিধানের উপর আমি পতিত হয়েছি। ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের জন্য এ এক বিস্ময়কর বিধান। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ বিধান প্রয়োগ করবো এবং যেখানেই আমি তা করেছি সেখানেই এর অসাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। আর যেখানে আমি তা করতে ব্যর্থ হয়েছি সেক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল হাতছাড়া হয়ে গেছে আমার।
এটা এমন একটি সাধারণ বিষয় অর্থাৎ আপনার সমস্যা বিধাতার হাতে ন্যস্ত করুন। চিন্তার মাধ্য দিয়ে নিজেকে সমস্যার উর্ধ্বে তুলে ধরুন যাতে সমস্যাটির নীচ থেকে উপর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে পারেন, শুধু উপরের অংশ টুকু নয়। বিধাতার ইচ্ছা অনুসারে একে যাচাই করে দেখুন। অর্থাৎ যা কিছু ভ্রান্তিপূর্ণ তারই জন্য সংগ্রাম করে জয়ী হতে চাওয়া ঠিক হবে না। প্রথমে নিশ্চিত হোন যে যা চাইছেন তা আধ্যাত্মিকভাবে এবং নৈতিকভাবে সঠিক কিনা। ভুল কিম্বা ত্রুটি পূর্ণ কিছু থেকে আপনি নিশ্চয়ই কখনও কোন সঠিক ফলাফল পেতে পারেন না। যদি আপনার চিন্তা ত্রুটিপূর্ণ হয় তবে তার ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। যে ত্রুটিপূর্ণই হয় তবে তা ত্রুটিপূর্ণ তা কখনই সঠিক কিছু জেতে পারে না। যদি এর অস্তি
কাজেই নিশ্চিত হোন যে এটা সঠিক, তারপর বিধাতার নামে তা ধারণ করুন এবং মনশ্চক্ষুতে তার একটি ফলাফল দেখতে থাকুন। সৌভাগ্যের সাফল্যজনক সম্পাদনের এবং প্রাপ্তির ধারণাকে মনে মনে বদ্ধমূল করুন। কখনও ব্যর্থ হবার চিন্তা পোষণ করবেন না। মনে যদি পরাজিত হবার নেতিবাচক চিন্তা এসেই যায় তবে ইতিবাচক চিন্তার নিশ্চিত বোধকে বাড়িয়ে তাকে নির্বাসিত করুন। জোরে বলুন বিধাতা এখনই আমাকে জয়ী করবেন। এখনই তিনি আমার আরাধ্য প্রাপ্তি আমাকে দিচ্ছেন। যে মানসিক দৃষ্টি আপনি নিজেই তৈরি করেন এবং চেতনায় দৃঢ়ভাবে ধারন করেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে যদি আপনি অবিরত আপনার চিন্তায় দৃঢ়তা বজায় রাখেন এবং আধ্যবসায় সহকারে কাজে লাগিয়ে যান এবং কার্যকারিতা বজায় রাখেন এই সৃজনশীল পদ্ধতি এভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্ত:দৃষ্টিতে দেখুন, প্রার্থনায় ক্রিয়াশীল হোন এবং চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত করুন।
যেসব ব্যক্তিবর্গ তাদের সারা জীবনের পদচারণায় যেসব উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছেন তারা সবাই এই বিধানের মূল্য সম্বন্ধে অবগত ছিলেন।
হেনরী যে কাইজার নামে এক লোক আমাকে বলেছেন যে, একসময় তিনি নদীর তীরে সকাল বেলাকার আগন্তকদের জন্য একটি মজলিস তৈরি করছিলেন এবং প্রচণ্ড ঝড় আর বন্যা এসে সব মেশিনপত্র সমাধিস্ত করে দিয়ে গেল এবং যা যা করা হয়েছিল তার সবই ধ্বংস করে ফেলল। পানি সরে যাবার পর তিনি যখন ক্ষয়ক্ষতি দেখতে বের হয়েছেন, তখন তিনি দেখলেন যে, তার কর্মচারীরা সব মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে এবং কাদা পানির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সমাধিস্ত মেশিনপত্র দেখতে তিনি তাদের কাছে এসে একটু হেসে বললেন, তোমরা এত বিষণ্ণ কেন?
"আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি সর্বনাশ হয়ে গেছে আমাদের? সমস্ত মেশিনপত্র আমাদের কাদায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
“কিসের কাদায় বেশ প্রফুল্ল মনে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
“কিসের কাদা মানে? অবাক হয়ে তার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন সবাই। আপনার চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন একেবারে কাদার সমুদ্র "ওহ, হাসলেন তিনি, আমিত কোন কাদাই দেখতে পাচ্ছি না।”
"আপনি কিভাবে একথা বলছেন? সবাই জিজ্ঞেস করলো তাকে।
"কারণ, বলতে শুরু করলেন মি. কাইজার আমি তো পরিষ্কার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, এবং সেখানে, কোন কাদা টাদা নেই। সেখানে আাছে শুধু সূর্যালোক এবং আমি কখনও এমন কোন কাদা দেখিনি যা সূর্যালোকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। অতি শীঘ্রই কাদা শুকিয়ে যাবে, এবং তোমাদের মেশিনের মেশিনপত্র সরিয়ে আনতে পারবে এবং আবার সবকিছু শুরু করতে পারবে।
কি নির্ভূল তার কথা। যদি আপনি নীচের কাদার দিকে তাকান, তবে আপনার মনে হবে আপনি হেরে গেছেন, আপনার পরাজয় আপনিই ডেকে আনবেন। আশাবাদী দর্শন প্রার্থনা আর বিশ্বাসের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে অনিবার্যভাবে সাফল্য লাভকে বাস্তবায়িত করবে।
আমার আর এক বন্ধু যার শুরুটা ছিল একেবারেই নিচু মানের কিন্তু পরবর্তীতে তার সাফল্য ছিল সর্বজন বিদিত। সেই স্কুল জীবন থেকে তাকে আমি জানি একেবারেই আনাড়ি এক ছেলে, আকর্ষণহীণ লজ্জাতুর এক গ্রাম্য ছেলে। কিন্তু তার সম্বল মাত্র ছিল তার চরিত্র এবং তীক্ষ্ম মেধা শক্তি, অন্তত আমি জীবনে যাদের সম্মুখিন হয়েছি তারমধ্যে অগ্রগণ্য। আজ সে তার পেশায় একজন সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সাফল্যের পিছনে গোপন শক্তিটি কী
“সেই মানুষগুলো যারা বছরের পর বছর আমার সাথে কাজ করেছেন, এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একজন বালককে যে, অপরিমিত সুযোগ সুবিদা দিয়েছে এই ছিল তার জবাব।
"হ্যাঁ আমি জানি এ সত্যি কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আপনার নিজস্ব কোনো কৌশল অবশ্যই আছে এবং এটা পেতে আমি খুবই আগ্রহী" "এ হলো আপনার সমস্যাগুলো সম্পর্কে আপনার চিন্তা ধারা কেমন তাই,” জবাবে সে কথাগুলো বলল।
"একটি সমস্যা যখন এসে যায় তখন আমি আমার মনের শক্তি দিয়ে তাকে আক্রমণ করি এবং ভেঙ্গে চুরমান করে দিই। এর উপর আমি আমার সমস্ত মানসিক শক্তি প্রয়োগ করি। দ্বিতীয়ত: এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি। তৃতীয়ত: আমি মনে মনে সাফল্যের ছবি এঁকে ফেলি। চতুর্থত: আমি সব সময় নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, “কোন কাজটি সঠিক যা আমার করা উচিত?”
কারণ তিনি বললেন, "আমার নির্ধারিত বিষয় যদি ভুল হয় তবে তার ফলাফল সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। এমন কোন ভুল নেই যা থেকে সঠিক ফলাফল আসতে পারে।” পঞ্চমত: আমি যা পেয়েছি তার সবই আমি দিয়ে দিচ্ছি। আমি জোর দিয়ে একথা বলতে চাই যে, যদি আপনি পরাজয়ের কথা ভাবেন তবে ঠিক তখনই সেই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বরং নতুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করুন। সমস্ত কষ্ট ভোগান্তির উপর জয় লাভ করতে এবং অভিষ্ট কাজে সাফল্য লাভ করতে সেই হল প্রথম এবং প্রধান কাজ।” ঠিক মুহুর্তে যখন আপনি এ বইটি পড়ছেন সম্ভাবনাময় ধারনাগুলো তখন আপনার মনে বিরাজ করছে। এগুলোকে বের করে এনে এবং এগুলোকে আরো উন্নীত করে আপনার আর্থিক সমস্যা আপনি সুরাহা করতে পারেন, আপনার ব্যবসায়িক অবস্থার পরিবর্তন সাধন করতে পারেন, নিজের এবং আপনার পরিবারের পরিচর্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এবং আপনার ঝুকিপূর্ণ কাজে সাফল্য লাভ করতে পারেন। এসব সৃজনশীল চিন্তার দৃঢ় অন্তপ্রবাহ এবং বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে আপনি আপনার জীবনকে নতুনভাবে করতে এবং বরাবর এই নতুন অবস্থা ধরে রাখতে পারেন।
একটা সময় ছিল যখন নির্বোধের মত ধারণা আমি নির্দিধায় মেনে নিয়েছিলাম। বিশ্বাস এবং সৌভাগ্যের শক্তির কোন সম্পর্ক ছিল না, তাই যখন কোন এক ব্যক্তি যখন ধর্মশক্তির কথা বললেন, তখন থেকে কোনদিন এ ধারণাগুলোর সাফল্য লাভের ব্যাপারে সম্পৃক্ত করিনি সে আলাপটা হয়েছিল শুধু মাত্র কর্তব্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপর। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারছি যে, এ ধরণের এবং ব্যক্তিবিশেষের উন্নতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, এ বিশ্বব্রহ্মান্ডে বিস্ময়কর শক্তি রয়েছে এবং তাই এই শক্তি ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে নিহিত থাকতেই পারে। এমন এক শক্তি যা সমস্ত পরাজয়কে উড়িয়ে দিতে পারে। একজন মানুষকে কষ্ট ভোগান্তির অবস্থা থেকে উপরে তুলে ধরতে পারে। আনবিক শক্তির তেজষ্ক্রিয়তা আমরা দেখেছি। আমরা জানি এই বিশ্বব্রহ্মন্ড কি বিস্ময়কর এবং প্রচণ্ড শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। সেই একই প্রচণ্ড শক্তি রয়েছে মানুষের মনে। পৃথিবীর বুকে এমন কোন শক্তি নেই যা মানুষের মনের শক্তির সম্ভাবনাময় শক্তির চেয়ে বড়। একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষেও তার ধারণার চাইতেও বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম।
এটা সত্যি যে যারা এই কথাগুলো সম্পর্কে যত্নশীল নয় তাদের কথা আলাদা। যখন আপনি সত্যিকারভাবে নিজেকে বুঝতে শেখেন তখন আপনি আবিস্কার করতে পারবেন যে, আপনার মনে এরকম সৃজনশীল ধারনা পুঞ্জিভূত রয়েছে। তাই আপনার আর কোন কিছুর অভাব থাকতে পারে না। ঐশ্বিশক্তির দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে আপনি যদি আপনার মধ্যেকার শক্তির পুরোপুরি এবং যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনার জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করা সম্ভব।
আপনি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করতে চাইবেন তা করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, যে কোন কিছু আপনি বিশ্বাস করবেন অথবা মনশ্চক্ষুতে দর্শন করবেন, যে কোন কিছু যার জন্য আপনি প্রর্থনা করবেন এবং তার জন্য কাজ করবেন। আপনার মনের ভেতর গভীরভাবে তাকান। কারণ সেখানেই আছে অত্যাশ্চর্য বিস্ময়।
আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন আপনি তার উত্তরণ ঘটাতে পারেন। প্রথম আপনার মনকে আপনি শান্ত করুন, যাতে মনের গভীর থেকে অনুপ্রেরণা উদয় হতে পারে। বিশ্বাস করুন যে বিধাতা এখনই আপনাকে সাহায্য করছে মনশ্চক্ষুতে সাফল্যই শুধু দেখুন অন্য কিছু নয়। আধাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার বিধান সমূহ আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃঢ়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন ব্যর্থতার ছবি নয়। আধ্যাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার পারে আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃড়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন, ব্যর্থতার ছবি নয়। এসব করুন এবং তাতে সৃজনশীল চিন্তাধারা আপনার মন থেকে স্বাধীন ধারায় বইতে শুরু করবে। এ এক অশ্চর্য বিধান, এমন একটা কিছু যা একজনের জীবনচিত্রই পাল্টে দিতে পারে কি আপনার নিজের জীবনটাও। নতুন চিন্তার অন্তপ্রবাহ আপনার অত্মিলব্ধ কষ্ট ভোগান্তি যা এখন আপনাকে ভুগিয়ে মারছে তাকে উড়িয়ে দিয়ে আপনাকে এক নতুন মানুষে রূপ দিতে পারে এবং আমি আবার বলছি প্রতিটি কষ্ট ভোগান্তি।
সর্বশেষ উল্লেখিত বিশ্লেষণে কেন একজন মানুষ সৃজনশীল এবং কৃতকার্য জীবন যাপনে ব্যর্থ হয় তার কারণ দেখানো হয়েছে এবং কারণটা হলো তার নিজের কৃত ভুল। তার ভাবনাই তো ত্রুটিপূর্ণ। তার চিন্তা ভাবনার সংশোধন করা প্রয়োজন। সঠিক চিন্তার অনুশীলন করা প্রয়োজন তার। যখন সাম সঙ্গীত ২৩ এ বলা হচ্ছে 'তিনি আমাকে ন্যায্যতার পথে পরিচালিত করেন। তার অর্থ শুধু এই নয় যে, এ পথ শুধুই সত্যানুরাগীর পথ। যাদের মন সৎ মানসিকতায় প্রতিষ্ঠিত ভাববাদী ইসাইয়া যখন বলছেন, "দুষ্টেরা তাদের পথ পরিত্যাগ করুক এবং অধার্মিকেরা পরিত্যাগ করুক দুষ্ট চিন্তা।” (ইসাইয় iv.7) তার অর্থ শধু এই নয় যে, একজন ব্যক্তি শুধু মন্দ থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কিছু করবে, কিন্তু তাকে তার চিন্তার ধরনও পাল্টাতে হবে, অসৎ চিন্তা পরিত্যাগ করে সৎচিন্তা করতে হবে। ভুল কিছু তাকে হটিয়ে দিয়ে সত্যে উপণীত হতে হবে। সাফাল্যপূর্ণ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার সবচেয়ে গোপন বিষয়টি হলো জীবনে ভুলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং সত্যের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে হবে। নতুন, সঠিক সুস্থ চিন্তা মনের মধ্য দিয়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর সৃজনশীলতার সাথে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, কারণ সত্য থেকে সব সময় সঠিক প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটে এবং তাই, তা থেকে আসে সঠিক ফলাফল।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, এক যুবক ছেলেকে চিনতাম আমি এবং আমার সারাজীবনের যত অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এই ছেলেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ এবং সবদিক থেকে। যদিও তার ছিল সম্ভাবনাময় এক মনোরম ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। এক লোক তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে একটা কাজে নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার আগ্রহ শীতল হয়ে যায় এবং সে চাকরি হারাতে তার খুব বেশিদিন লাগেনি। এভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া বহুবার ঘটেছে তার জীবনে। কাজ হাতে পেয়ে সে অবস্থাতেই ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। সবকিছুর সাথেই সংযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সে। সঠিক কিছু করতেই পারেনি সে এবং সে আমাকে জিজ্ঞেস করতো, "আমার কি এমন ভুল হচ্ছে, যার ফলে সবকিছুই ভুল হয়ে যাচ্ছে?"
তখনও তার মধ্যে অহমিকা বোধ ছিল খুবই প্রবল। সে ছিল দাম্ভিক এবং আত্মতুষ্ট এক মানুষ এবং উত্তেজিত হয়ে যাওয়া এবং সবাইকে দোষানো ছিল তার অভ্যাস কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটি সে দেখতে পেত না। সে যে অফিসে সে কাজ করেছে সব জায়গাতেই কিছু না কিছু ভুল করেছে এবং রায় অরগানাইজেশন তাকে চাকরি দিয়েছে সবার সাথেই ভুল করেছে সে। তার জন্য সে অন্য সবাইকে দোষী করত কিন্তু নিজেকে নয়। সে কখনও নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখেনি। তার কখনও এমন মনে হয়নি যে তার নিজের ও ভুল থাকতে পারে।
যা হোক এক রাত্রে, সে আমার সাথে কথা বলতে চায় এবং যেহেতু আমাকে এক জায়গায় বক্তৃতা দেবার জন্য শ'খানেক মাইল ড্রাইভ করে যেতে হয়েছিল। কাজেই ঐ ছেলেটিই আমাকে সেখানে ড্রাইভ করে নিয়ে যায় এবং আবার নিয়েও আসে। ফেরার পথে তখন প্রায় মাঝ রাত, হামবার্গার এবং এককাপ কফি খাবার জন্য রাস্তায় পাশে এক দোকানে থামি আমরা। আমি জানি না ঐ হামবার্গার, স্যান্ডউইচে কি ছিল, সেই থেকে হামবার্গারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নতুন করে বেড়ে যায়, কারণ হঠাৎ করে সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি পেয়ে গেছি, আমি তা পেয়ে গেছি” কি পেয়ে গেছ তুমি? অবাক হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
আমি আমার উত্তর খুঁজে পেয়েছি। এখন আমি জানি আমার কি সমস্যা। এটাই হলো সেই যার জন্য আমার সবকিছু ভুল হয়ে যায়। কারণ আমি নিজেই এক মূর্তিমান ভুল।
হাত দিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে বললাম, “শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছ?”
“কেন স্বচ্ছ পাথরের মত এখন তা পরিস্কার,” সে বলল, আমি ভুল চিন্তা করে আসছি, এবং ফলস্বরূপ ভুলই হয়েছে আমার ভাগ্য লিপি।
ইতোমধ্যে আমরা আমাদের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, চারিদিকে চাঁদের আলোর বন্যা যেন এবং তাকে বললাম, "হ্যারি, তুমি অবশ্যই এক পা সামনে বাড়বে এবং বিধাতার কাছে এ সংসারে চলার জন্য সঠিক পথ কামনা করবে।” বাইবেল থেকে এই পড়িটি উল্লেখ করলাম।
“সত্যকে জানবে তুমি, এবং এই সত্যই তোমাকে মুক্ত করবে।” (জন viii, 32) আপন মনে সত্যকে লাভ কর এবং তাতে তুমি তোমার ব্যর্থতা থেকে রেহাই পাবে। এভাবে সে যীশুখ্রীস্টের একজন গভীর অনুরাগী ভক্ত হয়ে উঠলো এবং তার চিন্তাধারা পুরোপুরি পাল্টে গেল এবং পাল্টে গেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোও, পাল্টে গেল ভুল চিন্তা এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজকর্ম, সমস্ত কিছু তার স্বভাব প্রকৃতি থেকে দূর হয়ে গেল। ত্রুটিপূর্ণ ধরণ পাল্টে ধর্মশীল সহজ সরল এক পথ বেছে আড়ে নিল। যখন থেকে সে নিজেকে সংশোধন করল তখন থেকে তার সবকিছুতে সঠিক ফল আসতে শুরু করল।
নিচে সাতটি বাস্তবসম্মত পাথেয় দেয়া হলো যেগুলো আপনার মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসবে। নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফিরে আসতে সহায়তা করবে, আপনার মধ্য থেকে সৃজনশীল নতুন চিন্তা উৎসারিত হবে, ভ্রমাত্মক ধরণ থেকে শুদ্ধাত্মক ধরণে উত্তরণের জন্য। চেষ্টা করুন, দিখন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন। অবশ্যই তার প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবেন।
১. পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য সবকিছুর জন্য ইচ্ছে করেই আশাবাদ নিয়ে কথাগুলো বলুন, আপনার কাজ সম্বন্ধে, আপনার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সবকিছু নিয়ে আশাপ্রদভাবে কথা বলার জন্য আপনার নিজের পথ চেয়ে আসুন। এটা কঠিন হবে, কারণ সম্ভবত আপনি দুঃখবাদী বা নৈরাশ্যবাদী বলে ওভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত। এই নেতিবাচক অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত করুন, এমনকি যদি তার জন্য ইচ্ছাশক্তিতে কাজে লাগাতে হয় তবুও।
২। চব্বিশ ঘণ্টার জন্য আশাবাদ নির্ভর কথা বলার পর ঠিক একইভাবে এক সপ্তার জন্য অনুশীলনটি চালিয়ে যান, তারপর আপনাকে এক বা দুদিনের বাস্ত ববাদী বলে অনুমোদন করা যেতে পারে। আপনি তখন আবিস্কার করতে সক্ষম হবেন যে, বাস্তববাদী শব্দটার অর্থ কী, যেখানে এক সপ্তাহ আগে আপনি আসলেই ছিলেন একজন অমঙ্গলবাদী, কিন্তু এখন যে আপনি 'বাস্ত ববাদী' শব্দটার অর্থ বেরকরছেন তা একবারেই ভিন্ন রকমের, এ হলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির নতুন আত্মপ্রকাশ। বেশিরভাগ লোকেরা বলে থাকেন যে, ওরা বাস্তববাদী হওয়াতে নিজেরা নিজেদের ঠকায়, তারা নেতিবাচক ছাড়া আর কিছু নয়।
আপনি যেমন আপনার শরীরকে নিয়মিত খাওয়ান ঠিক তেমনি আপনার মনকেও আপনাকে খাবার দিতে হবে এবং আপনার মনকে স্বাস্থ্যবান করতে হলে তাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মত চিন্তা করতে হবে। কাজেই, আজ থেকেই আপনি নেতিবাচক চিন্তার জায়গায় ইতিবাচক চিন্তা স্থানান্তর করুণ। প্রথমেই শুরু করুন নতুন নিয়ম দিয়ে এবং বিশ্বাস শক্তির উপর নির্ভর করে প্রতিটি শব্দের উপর জয়ী হবার জন্য নম্বর তুলতে থাকুন। কাজটা ঠিক এভাবেই চালিয়ে যেতে থাকুন যে পর্যন্ত না নতুন নিয়মের চারটি পুস্তকের এমন প্রতিটি খণ্ড লিখনের উপর চিহ্নিত করণের কাজ সমাপ্ত হয় অর্থাৎ মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন লিখিত চার খন্ড। বিশেষ করে মার্কের লিখা থেকে xi পদ ২২, ২৩, ২৪ চিহ্নিত করুন। ওখানে যে পদগুলো লিখিত আছে সেসবই আপনাকে আপনার নম্বর পূরণের শক্তি প্রদান করবে এবং সেগুলো আপনার চেতনার গভীরে ধারণ করে রাখুন।
তারপর সেই চিহ্নিত খণ্ড লিখনগুলো মুখস্ত করুন। একেকদিন একেকটা মুখস্থ করুন যে পর্যন্ত না চিহ্নিত পুরো তালিকাটি মুখস্থ বলতে না পারেন। এতে সময় লাগবে, কিন্তু মনে রাখুন এতে যে সময়টুকু লাগবে তার পড়তার থেকে বেশি সময় আপনি খরচ করেছেন নেতিবাচক চিন্তার পেছনে ছুটতে ছুটতে যা কিছু যত কিছু আপনি ভুলতে চেষ্টা এবং সময় দুটোই লাগবে।
আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে কে সবচেয়ে ইতিবাচক চিন্তার ধারক তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তার সামাজিক আচার-আচরণকে নিয়ে চর্চা করুন। আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের কিন্তু প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু কিছু সময়ের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে তাদের কাছাকাছি হোন, যে পর্যন্ত না তাদের নেতিবাচক শক্তিকে আপনি শোষণ করে নিচ্ছেন, তারপর আপনি আবার আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের মধ্যে ফিরে যেতে পারেন এবং তাদের মধ্যে আপনার নতুন লব্ধ চিন্তাগুলো মেলে ধরতে পারেন তাদের নেতিবাচকতা গ্রহণ না করে।
যুক্তিতর্ক এড়িয়ে চলুন, কিন্তু যখনই কোন নেতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখেন, তখনই ইতিবাচক এবং আশাবাদী মতবাদ দিয়ে তা প্রতিরোধ করুন।
অনেক প্রার্থনা করুন এবং সবসময় আপনার প্রার্থনা ধন্যবাদজ্ঞাপক করে তুলুন এই অনুভূতিতে যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে মহান এবং বিস্ময়কর কিছু দিচ্ছেন; কারণ যদি আপনি ভাবেন যে, সেই অর্থাৎ ঈশ্বরই নিশ্চয়ই আপনাকে সেসব দিচ্ছেন। যতটুকুতে আপনার বিশ্বাস তার চেয়ে বড় কোন আশীর্বাদ। তিনি আপনাকে দেবেন না। তিনি আপনাকে বিরাট কিছু দিতে চান, কিন্তু এমনকি তিনি আপনাকে এমন বড় কিছু নিতে বাধ্য করতে পারেন না, যা গ্রহণ করতে আপনি বিশ্বাস সহযোগে সজ্জিত হয়েছেন। “আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি হা হোক।” (মথি ix 29)
অপেক্ষাকৃত ভালো এবং সাফল্যপূর্ণ জীবন যাপনের পেছনে যে গোপন শক্তি তার মূলে হলো, জীর্ণ পুরাতন ও মৃত, রূগ্ন চিন্তা সেসব ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তার বদলে নতুন মূল, গতিশীল চিন্তাশক্তির উন্মেষ ঘটাতে হবে। আপনি এর উপর নির্ভর করতে পারেন- অন্ত প্রবাহী এক নতুন চিন্তা আপনাকে আপনার জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

আমেরিকার ইতিহাসে যে ক'জন জ্ঞানী ব্যক্তির আবির্ভাব হয়েছে তাদের মধ্যে উইলিয়াম জেম্স এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য এবং তারই উল্লেখিত একটি বক্তব্য আমরা নীচে দেখতে পাব। বক্তব্যটি আপনাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শক্তিধর। উইলিয়াম জেমস বলেছেন, "আমার প্রজন্মের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হলো যে, মানুষ তার মনোবৃত্তির পরিবর্তন ঘটিয়ে জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।” যেমনটা আপনি ভাববেন, আপনার জীবনটা তেমনই হবে। কাজেই আপনার মনের যত জীর্ণ পুরাতন, ক্লান্ত, শ্রান্ত বিবর্ণ-মলিন চিন্তা ধারণাগুলো আছে সেগুলো ধুয়ে মুছে ফেলুন। সেখানে মনকে নির্ভেজাল সৃজনশীল বিশ্বাস চিন্তায় এবং যত সৎ গুণাবলী আছে সেসবে ভরে ফেলুন এই পদ্ধতি চর্চার মধ্য দিয়ে আপনি আপনার জীবনের সত্যিকার পরিবর্তন ঘটিয়ে নতুন জীবন গঠন করতে পারেন।
ব্যক্তিত্ব পূণর্গঠনের এমন চিন্তা চেতনা আপনি কোথায় পাবেন? একজন ব্যবসায়ী নির্বাহীকে আমি জানি বিনীত একজন মানুষ কিন্তু কটির ধরনটি এমন যিনি কখনো কোন কাজে পরাজিত হননি।
কোন সমস্যা নয় উন্নয়নের পথে কোন বাধা নয় শ্রবং কোন বাধা বিঘ্নই কখনও তাকে নত করতে পারেনি। প্রতিটি কঠিন অবস্থারে অভাবিক আশাবাদী মনোভাব নিয়ে আক্রমণ করেছেন এবং তার প্রেমেই দৃঢ় প্রত্যয় ছিল যে তার সিদ্ধান্তই ঠিকমত কাজ করবে এবং দেখা গেছে যে কী অদ্ভূতভাবে সব সময় সবকিছু তার পক্ষেই কাজ করেছে। মনে হচ্ছে কি এক যাদুকরী স্পর্শ তার জীবনের উপর প্রভাব ফেলেছে।
এমন এক স্পর্শ যা কখনও ব্যর্থ হয়নি। লোকটি এমন নিশ্চিত পন্থা অবলম্বনের পিছনে একটি সুন্দর ব্যাখ্যা না থেকেই পারে না আর আমি অবশ্যই তার কাহিনী শুনতে চেয়েছিলাম কিন্তু তার বিনীত স্বভাবের কারণে এবং চাপা স্বভাববশত তার কাছ থেকে তার নিজের সম্বন্ধে কিছু টেনে বের করা কঠিন ছিল। একদিন যখন তিনি বেশ চমৎকার মেজাজে ছিলেন, সেদিন তার গোপন তথ্য আমাকে জানিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে তা অতি সহজ সরল কিন্তু কার্যকারী গোপন তথ্য। আমি তার কারখানার যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করছিলাম আধুনিক এবং হাল আমলের কাঠামো, এবং এর বেশির ভাগই এয়ার কন্ডিশন্ড। সর্বাধুনিক মেশিনপ্রত্র এবং উৎপাদন পদ্ধতি কারখানাটিকে একটি দক্ষতাপূর্ণ শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। শ্রমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত নীতি মনে হয় ত্রুটি পূর্ণ মানুষের মধ্যে যতটা সম্ভব তার কাছাকাছি পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় নিয়ে এসেছিলেন, ব্যবসা সুনামের একটি উৎসাহ উদ্দীপনা যেন পুরো প্রতিষ্ঠানে ব্যপ্তি লাভ করেছিল।
তার অফিসটি অত্যাধুনিকভাবে কারুকার্য করা হয়েছিল এবং সুন্দর সুন্দর ডেস্ক, উলেন কাপড়ের কাজ, বিদেশী কাঠের প্যানেল দিয়ে সাজানো হয়েছিল।
কারুকার্যের পরিকল্পনা করা হয়েছে বিস্ময়কর পাঁচটি রঙ একত্র করে এবং তা হয়েছে খুবই মনোরম। সব মিলিয়ে এটাই হলো শেষ কথা যে, এ অতি সুন্দর, তারপর অন্যকিছু। তারপর কল্পনা করুন, দারুণ সুচারুভাবে পলিশ করা মেহগিনি কাঠের ডেস্কের উপর আমি যখন দেখলাম বহু ব্যবহার ধন্য একটি পুরনো বাইবেল তখন আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম। অত্যাধুনিক কক্ষগুলোর মধ্যে ঐ বাইবেলটিই ছিল একমাত্র পুরাতন বস্তু। আমি মন্তব্য করলাম আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় যেন পুরনো বাইবেলটি এখানে এক অদ্ভূত অসংলগ্নতা। জবাবে বললেন, 'ঐ বইটি' বাইবেলটির দিকে আঙ্গুল তুলে দেখালেন, এ কারখানার যত অধ্যাধুিনিক যন্ত্রপাতি আছে তারমধ্যে এ বাইবেলটিই সর্বাপেক্ষা অত্যাধুনিক। (অন্যন্য ধর্মগ্রন্থও তাই) যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে করতে জরাজীর্ণ হয়ে যায় সাজসজ্জার ধরণ পাল্টে যেতে পারে কিন্তু ঐ বইটি আমাদের সবকিছুর চেয়ে এগিয়ে আছে, কিন্তু তবুও তা কখনও সেকেলে হয়ে যায় না। যখন আমি কলেজে গিয়েছিলাম আমার খ্রীষ্টান মা ঐ বাইবেলটি আমাকে দিয়েছিলেন এবং উপদেশ দিয়ে বলেছিলেন, যদি আমি বইটি পড়ি এবং এর শিক্ষাগুলো অনুশীলন করি তাহলে আমি শিখতে পারবে কিভাবে সাফল্যের মধ্য দিয়ে জীবন চালিয়ে নেয়া যায়। আমি ভেবেছিলাম তিনি শুধুমাত্র একজন চমৎকার বৃদ্ধা মহিলাই ছিলেন। মৃদু হেসে বললেন তিনি, 'আশ্চর্য : সন্ধিলগ্নে তাকে মনে হতো বুড়া কিন্তু আসলে তত বৃদ্ধা তিনি নন।' আমি তাকে তুষ্ট করার জন্যই আমি বাইবেলটি নিয়েছিলাম এবং সত্যি যে বছরের পর বছর বইটি পড়েই ছিল, আমি কখনও বইটির দিকে তাকিয়ে দেখিনি। আমার মনে হয়েছিল বইটি আমার কোন কাজে আসবে না।
“বেশ”, কিছুটা অমার্জিত ভাষায়ই বলতে থাকলেন তিনি, "আমি ছিলাম একজন মাদকাসক্ত। একজন ফালতু মানুষ ছিলাম আমি। তীব্র বিশৃঙ্খল এক জীবন ছিল আমার।"
প্রথম প্রথম সবকিছুই ভুল ভ্রান্তির মধ্যে দিয়ে চলছিল কারণ আমি ভ্রান্তি বিলাসে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলাম, আমার কাজকর্ম সবকিছু ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ। কোন কিছুতেই সাফল্য পাচ্ছিলাম না আমি, সবকিছুতে ব্যর্থতাই ছিল আমার একমাত্র পরিণতি। এখন আমি বুঝতে পারছি যে, আমার প্রধান সমস্যাই ছিল ত্রুটিপূর্ণ চিন্তা। আমি ছিলাম নেতিবাচকের ধারক, আমি ছিলাম ক্রুদ্ধ দাম্ভিক একগুঁয়ে। কেউ কিছু বলতে পারত না আমাকে। আমার এমন ধারনা ছিল যে, আমি যা বুঝি সেটাই ঠিক। সবার প্রতি কেমন পীড়াগ্রস্থ মনোভাব ছিল আমার অল্প হলেও বিস্ময়কর সত্যি যে কেউ আমাকে পছন্দ করত না। সত্যি বলতে কি, আমি একেবারেই ব্যর্থই হয়েছিলাম। এভাবেই চলছিল তার বিষাদময় জীবন। একদিন রাতে কিছু কাগজপত্রের উপর চোখ বুলাবার সময়, বলে চললেন তিনি, হঠাৎ করেই অনেকদিন ভুলে থাকা বাইবেলের দিকে চোখ পড়ে আমার। হারানোদিনের সব মনে পড়তে থাকে আমার এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে বাইবেলটি পড়তে থাকি আমি। আপনি জানেন কি, কী অদ্ভূত একটা ব্যাপার ঘটে গেল? এক মুহূর্তের মধ্যেই আমির সবকিছু অন্যরকম হয়ে গেল।
দেখুন, যখন আমি বাইবেল পড়া শুরু করি একটি বাক্য যেন লাফ দিয়ে আমার চোখের সামনে চলে আসে, একটিমাত্র বাক্য আমার জীবন পরিবর্তন করে ফেলে। এবং আমি যখন বলি পরিবর্তন হয়ে গেছে, অর্থাৎ আমি বুঝতে চাইছি পরিবর্তন হয়েই গেল। যখন থেকে আমি ঐ বাক্যটি পড়তে থাকি সবকিছু বিস্ময়করভাবে অন্যরকম হয়ে যায়।
কী সেই বিস্ময়কর বাক্যটি? আমি তা জানতে চেয়েছিলাম, এবং ধীরে ধীরে বললেন তিনি “ঈশ্বরই আমার জীবনের শক্তি.... এরই উপর আমি দৃঢ় রূপে বিশ্বাস স্থাপন করব (সাম সঙ্গীত xxvi. 1. 3)
"আমি জানিনা কেমন করে কেন সেই একটিমাত্র বাক্য আমার উপর এমন প্রভাব বিস্তার করল তিনি বলে চললেন, কিন্তু তা হয়েছিল। এখন আমি জানি যে, আমি কেমন দুর্বল ছিলাম এবং কেমন ব্যর্থ একজন মানুষ। কারণ আমার কোন বিশ্বাস ছিল না।
কোন আত্মবিশ্বাস ছিলনা। আমি ছিলাম খুব নেতিবাচক পরাজয় বরণে অভ্যস্ত এক মানুষ। কিন্তু ঐ দিনই কিছু একটা ঘটে গেল আমার মনে। আমি অনুমান করছি যা আমার মধ্যে ঘটলো তা হলো, অন্যকিছু, যাকে বলে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। আমার ধ্যান ধারনা পাল্টে গেল। নেতিবাচক একটি অবস্থা থেকে আমি ইতিবাচক একটি অবস্থায় পদর্পন করলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম দৃঢ় বিশ্বাসে ঈশ্বরকে অন্তরে ধরে রাখব আমি, এবং আন্তরিকভাবে সবচেয়ে যা ভালো তাই করব, বাইবেলে যেসব নীতিমালার কথা লিখিত হয়েছে তা মেনে চলতে সর্বশক্তি নিয়োগ করব। (সব ধর্মশাস্ত্রের জন্যও এটি প্রযোজ্য) যখন আমি তেমনটি করলাম কিছু নতুন ধরনের চিন্তা আমি ধারণ করলাম। ভিন্ন ধরনের চিন্তা চর্চা শুরু করলাম। আমি এক সময় আমার ব্যর্থতার জায়গাটা জুড়ে গেল আধ্যাত্মিক চিন্তন অভিজ্ঞতায় এবং নব্য চিন্তনের অন্তপ্রবাহ ক্রমে ক্রমে, কিন্তু সত্যিকারভাবে আমাকে পূর্ণগঠিত করতে থাকল। সুতরাং এখানেই আমি শেষ করছি সেই ব্যবসায়ী লোকটির কাহিনী। তিনি তার চিন্তাভাবনা পাল্টে ফেলেছিলেন যে, পুরনো চিন্তা ভাবনাগুলো তাকে হারিয়ে দিচ্ছিল পদে পদে এবং তিক্তভাবে, সে জায়গায় শেষ পর্যন্ত জয়ের পতাকা উড্ডীন হলো বিজয় গর্বে।
এই যে ঘটনা হলো, তার মধ্য দিয়ে মানুষের স্বভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক চিত্রিত হয়েছে। অর্থাৎ আপনি যদি ব্যর্থ হবার কথা এবং অসুখি হবার কথা ভাবতে পারেন তবে সেই আপনি আবার সাফল্য লাভ করার কথা এবং সুখি হবার কথাও ভাবতে পারেন। যে দুনিয়াতে আপনি বাস করছেন সেখানে প্রাথমিকভাবে বাইরের অবস্থা থেকে বা পরিস্থিতি থেকে কোন কিছু নির্ধারিত হয় না। কিন্তু হয় চিন্তাশক্তির দ্বারা যা যথারীতি আপনার মনকে জুড়ে রয়েছে। মার্কাস অরেলিয়াসের সেই কথা গুলোস্মরণ করুন, তিনি প্রাচীনকালের একজন বড় চিন্তাবিদ, তিনি বলেছেন, “মানুষের জীবন তেমনই হয় যেমনটা সেভাবে।”
আমেরিকার সুবিজ্ঞ পণ্ডিত, ঐক্যের জন্য যিনি সব সময় কাজ করেছেন, মি. রালফ উয়ালডো এমারসন, তিনি বলেছেন, "একজন মানুষ তেমনই হয়, সারাদিন যেমন সে ভাবে।” একজন বিখ্যাত মনস্তত্ববিদ বলেছেন, “মানুষের স্বভাবের এমন এক গভীর প্রবণতা রয়েছে যা তাকে ক্রমাগত কল্পনার মধ্য দিয়ে ঠিক তার আকাঙ্খিত বাস্তবতার পর্যায়ে নিয়ে যায়।"
এমন কথিত আছে যে 'চিন্তা' হলো এমন এক বস্তু, যার মধ্যে মূলত গতিশীল এক শক্তি নিহিত রয়েছে। যে অনুশীলন যারা করে তার শক্তির বিচারে একজন তাৎক্ষনিকভাবে এমন গুণবিচার করে তা নিরুপন করতে পারে।
আসলে আপনি নিজেই একটি পরিস্থিতির ভেতর বা বাইরের উদ্ভেয়দিকই ভাবতে পারেন। আপনার চিন্তার মাধ্যমে আপনি নিজেকে অসুস্থ করে ফেলতে পারেন। আবার ঐ একই চিন্তা শক্তির দ্বারা নিজেকে সুস্থ্যও করতে পারেন। শেষের ক্ষেত্রে চিন্ত াটি ভিন্ন এবং আরোগ্যকর ধরনের চিন্তা। এক ধরনের চিন্তা করুন এবং যার মাধ্যমে আপনি পরিস্থিতিকে আয়ত্বে আনতে পারবেন তা আগে চিহ্নিত করুন। আবার অন্যরকম চিন্তা করুন দেখবেন তার ফলও সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। কারো কোন অবস্থা তৈরি হয় চিন্তার দ্বারা এবং অঅেবস্থা উৎসারিত চিন্তার চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী।
ইতিবাচক চিন্তা করুন, উদাহারণ স্বরূপ আপনার ইতিবাচক চিন্তাশক্তি নিয়োজিত করলে দেখবেন সাফল্যদায়ী ফল উৎপাদন করেছে আপনার জন্য। ইতিবাচক চিন্তা আপনার চারিদিকে এক প্রসন্ন পরিবেশ তৈরি করেছে যা ঐ চিন্তা উত্থিত উন্নত ইতিবাচক ফল। অন্যদিকে নেতিবাচক চিন্তা করে দেখুন দেখবেন, আপনি অপ্রসন্ন পরিবেশের ঘেরা জালে আবদ্ধ হয়ে হাঁস ফাঁস করছেন।
আপনার পরিস্থিতির পরিবর্তনের পেছনের প্রথম উৎসটি হলো, আপনার ভিন্ন ধরনের চিন্তা অসন্তুষ্টিকর পরিস্থিতিকে আপনি কোনোভাবে ইতিবাচক বলে মেনে নেবেন না, কিন্তু মনে মনে একটি সুন্দর ইতিবাচক ছবি আকার দিন। যেমনটি হলে খুবই ভালো হয় বলে আপনি মনে করেন। ছবিটি মনশ্চক্ষুর সম্মুখে তুলে ধরুন একে সর্বাঙ্গ সুন্দর করে তুলুন, এর উপর বিশ্বাস রাখুন এর জন্য প্রার্থনা করুন এর পেছনে শ্রম দিন, দেখবেন ইতিবাচক চিন্তার মধ্য দিয়ে যে প্রতিবিম্ব আপনি মনে মনে কল্পনা করেছেন সেই অনুসারে তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিশ্বব্রহ্মণ্ডে এটি মহানতম একটি বিধান আমি যখন একজন অল্প বয়সের যুবক তখনই এই সত্য বিধান আমি আবিষ্কার করেছিলাম একথা আমি অকপটে বলার ইচ্ছা রাখি। অনেক পরে আমার জীবনে এ সত্য বিধান ধীর ধীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে এবং একে আমার একটি মহানতম বিধান বলে মনে হয়, যদি ও ঈশ্বরের সাথে আমার সম্পর্ক হওয়ার বিষয়টিও সর্বাপেক্ষা মহান এক আবিষ্কার। এবং গভীরভাবে ভাবতে গেলে এই বিধানটি ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক তৈরি হওয়ার একটি কারণ, এ থেকেই ব্যক্তির সাথে ঐশ্বশক্তির সংযোজক পথ তৈরি হয়।
এই মহান বিধান সংক্ষেপে এবং সাধারণভাবে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে যে আপনি যদি নৈতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে ফলাফল নেতিবাচকই হবে। যদি ইতিবাচক অর্থে চিন্তা করেন তবে তার ফলাফলও দাঁড়াবে ইতিবাচক। সৌভাগ্য লাভের এবং সাফল্য লাভের এই হলো অবাক করা বিধান। তিনটি মাত্র শব্দ, বিশ্বাস করুন এবং সফল হোন (believe and succeed)
খুব মজার এক পন্থায় আমি এই বিধান সম্বন্ধে জেনেছি। কয়েক বছর আগে আমাদের একটি দল, দলটি গঠিত হয়েছিল লোয়ে থোমাস ক্যাথেচইন এডি রিকেনবেকার, ব্রান্স রিকি, রেমন্ড থনবার্গ এবং আরও কয়েকজন মিলে আত্ম অণুপ্রেরণায় এবং স্বউদ্যোগে একটি ম্যাগাজিন প্রকাশের উদ্যোগ প্রতিষ্ঠা করি, ম্যাগাজিনের নাম 'গাইড পোষ্টস'। এই ম্যাগাজিনের দু'টো উদ্দেশ্য ছিল, প্রথমটি হলো, বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে যারা তাদের কষ্ট ভোগ জীয় করেছেন তাদের কাহিনী প্রকাশ, কারণ এই কাহিনীগুলো সাফল্যজনক ভাবে বাঁচতে, ভয়ভীতির উপর জয়ী হতে, কোন নাজুক অবস্থার উপর, কোন বাধা বিপত্তির উপর, বাবা বিয়ের উপর, এবং বিদ্বেষের উপর জয় লাভ করতে শিক্ষা দেয়। সার্বিক নেতিবাচক অবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে বিশ্বাসই মহাশক্তি, এ শিক্ষা দেয় এ কাহিনীগুলো।
দ্বিতীয়ত, একটি লাভহীন, অসাম্প্রদায়িক, পরস্পর বিশ্বাসী প্রকাশক হিসেবেই এই মহান শিক্ষা আমাদের দেয় যে, ইতিহাসের ঘটনা প্রবাহ ধারায় মধ্যমনি স্বয়ং বিধাতা এবং জাতিবৃন্দ তার উপর এবং তার বিধানের উপর বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠিত।
এই ম্যাগাজিন তার পাঠক পাঠিকাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইতিহাসে আমেরিকা হলো সেই মহান জাতি, যে জাতি একটি সঠিক ধর্মীর ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং আমরা যদি তা বজায় না রাখি তাহলে আমাদের 'মুক্তি' অধিকতর বাজে অবস্থার দিকে যাবে।
প্রকাশক হিসেবে মি. রেমন্ড থর্নবার্গ এবং সম্পাদক হিসেবে আমি এ ম্যাগাজিন থেকে কোন আর্থিক সহায়তা নেইনি। বিশ্বাসের উপর ভর করে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। সত্যি বলতে কি এর প্রথম অফিসগুলো ছিল নিউ ইয়ার্কের পলি নামক ছোট একটি গ্রামের এক মুদি দোকানের গুদামের উপর তলায়। কয়েকটি কক্ষ নিয়ে।
অফিসে ছিল ধার করা একজন টাইপিস্ট, কয়েকটি নরবরে চেয়ার, ব্যস, বড় মাপের কিছু ধারণা এবং বিশ্বাস ছাড়া আর কিছুই ছিলনা আমাদের। ধীরে ধীরে ২৫,০০০ হাজার গ্রাহকের একটি তালিকা হাতে এসে যায় আমাদের ভবিষ্যতটা মনে হয়েছিল নিশ্চিত সাফল্যমণ্ডিত কিন্তু হঠাৎ একদিন রাতে অফিসে আগুন লেগে গেল এবং ঘণ্টা খানেকের মধ্যে প্রকাশনা অফিস জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে গেল, এর সাথে সাথে গেল আমাদের সৌভাগ্যের আমাদের ভরসার সেই ২৫,০০০ গ্রাহকের তালিকাটাও। বোকার মত আমরা ঐ তালিকার কোন নকল কপি তৈরি করে রাখিনি।
লোয়েল থোমাস, অনুগত এবং 'গাইড পোষ্টস' ম্যাগাজিনের পৃষ্ঠপোষক এই দুর্ঘটনার শুরু থেকেই তার রেডিও মারফত এই দুঃখজনক পরিস্থিতি প্রচার করতে শুরু করেন এবং এর ফলস্বরূপ আমরা খুব শীঘ্রই ৩০,০০০ গ্রাহক পেয়ে যাই। আসলে এর মধ্যে পুরনো সব কজনতো ছিলই নতুন কয়েকজনও এসে যুক্ত হয়েছিল তাদের সাথে।
গ্রাহকের তালিকা মোটামুটি ৪০,০০০ এসে দাঁড়ায় কিন্তু খরচও বাড়তে থাকে আরো দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে ম্যাগাজিনটি মোট খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়ে গেল, কারণ এতে আমাদের বার্তাটি প্রচার করা জরুরী ছিল, কিন্তু এর পেছনে যে খরচ তা ছিল আমাদের প্রত্যাশার বাইরে, কাজেই দারুণ অর্থ সংকটে পড়লাম আমরা। আসলে একবার মনেই হয়েছিল এই ম্যাগাজিনের প্রকাশ চালিয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে অসম্ভব।
এই দশায় যখন পড়েছি, তখন আমরা একটি আহ্বান করলাম, এবং আমি নিশ্চিত যে আপনি জীবনে এমন দুঃখজনক, বাচক এবং আশা ভরসাহীন সভায় কখনও যোগ দেননি।
সভাটি দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়ল যেন আশাহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেলাম। বিল পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় টাকা পেতে কোথায় হাত পাতবো আমরা? যেন একটি পথ খুঁজে পেতে এমন মনে হলো যে গরু মেরে জুতা দান করব আমরা। একেবারে ভেঙ্গে পড়লাম, হতাশায় মন কানায় কানায় ভরে উঠলো।
একজন মহিলা এই সভায় আমন্ত্রিত হয়েছিলেন, যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি সম্মান ও শ্রদ্ধা করতাম। একটি কারণে তাকে এই সভায় অন্তভূক্ত করা হয়েছিল। কারণ আমাদের ম্যাগাজিনটির প্রকাশনা শুরু করার সময় তিনি আমাদের ২০০০ ডলার প্রদান করেছিলেন। আমরা আশা করেছিলাম একই জায়গায় দ্বিতীয়বারও হয়ত আলো এসে পড়তে পারে। কিন্তু এসময় তিনি আমাদের যা কিছু দিলেন তার দাম টাকার চেয়েও বেশি।
নৈরাশাপূর্ণ অন্ধকারময় এ সভায় সেই মহিলা অনেকক্ষণ একেবারে নীরব থাকলেন, কিন্তু অবশেষে তিনি কথা বললেন: "ভদ্রমহোদয়গণ আমার মনে হয়, আপনার খুবই খুশি হবেন যদি আমি আপনাদের এ পরিস্থিতিতে আরেকবার টাকা দিই। আপনাদের এই দুর্দশার দহন জ্বালা আমি টাকা দিয়ে নির্বাপন করতে পারি। কিন্তু এবার আমি আপনাদের এমন কি একটি সেন্টও দিতে যাচ্ছি না।”
কিন্তু এতে আমাদের দুর্দশার কোন সুরাহা হবে না। উল্টো আমাদের দুর্দশার পরিমাণ আরো বাড়বে। "কিন্তু” তিনি বলে চললেন, "আমি আপনাদের টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান কিছু দেব।”
তার কথা আমাদের খুব অবাক করে দিল, কারণ এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে টাকার চেয়ে মূল্যবান কিছু থাকতে পারে আমরা সম্ভবত তেমন কিছু চিন্তাই করতে পারছিলাম না।
“আমি আপনাদের একটি বিশেষ ধারণা দিতে যাচ্ছি,” তিনি বলে চললেন, "একটি গঠনমূলক ধারণা।"
'বেশ'গাছাড়াভাবে ভাবতে থাকলাম আমরা, যে একটি ধারণা দিয়ে আমরা কিভাবে আমাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করব?
আহ, কিন্তু ধারণা এমন এক ব্যাপার যে তা ঠিকই আপনাদের গুঞ্জনা বিল পরিশোধ করতে সাহায্য করবে। এই পৃথিবীতে প্রত্যেকটি সাফল্যজনক কাজের পেছনে যে প্রথম পরিকল্পনা তা হলো গঠনমূলক ধারণা পাকাপোক্ত করা। প্রথমে ধারণা করা তারপর এতে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা, তারপরে পদক্ষেপ হলো এই ধারণাকে বাস্তবায়িত করা। এ হলো সেই পথ যে পথে চূড়ান্ত সাফল্য। "এখন” তিনি বললেন, ধারণাটি হলো এমন, বর্তমান সমস্যাটি কি? আপনাদের সমস্যাটি হলো এই যে, এখন আপনাদের সবকিছুর অভাব। আপনাদের টাকার অভাব। আপনাদের গ্রাহকের অভাব। আপনাদের সরঞ্জামের অভাব। আপনাদের ধারণা বা বুদ্ধির অভাব। আপনাদের সাহসের অভাব। এই যে প্রয়োজনীয় এতো কিছুর অভাব আপনাদের, কিন্তু কেন? উত্তরটা সহজ, কারণ আপনারা অভাবের কথাই ভাবছেন। যদি আপনারা ভাবেন যে আপনাদের অভাব আছে তাহলে আপনারা এমন এক অবস্থা সৃষ্টি করেন যা অভাবের অবস্থাই জন্ম দেয়। আপনি যার অভাব বোধ করেন তার উপর আপনার মনের ক্রমাগত চাপ আপনার গঠনমূলক শক্তিকে হতাশায় দুর্বল করে ফেলে অথচ তা থাকলে আপনাদের গাইড পোস্টস ম্যাগাজিনের উন্নতি কল্পে উদ্যম যোগাতে পারত।
অনেককিছু করার দৃষ্টিকোন থেকে 'কঠোর পরিশ্রম করছেন আপনারা কিন্তু সবদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে কাজ তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন আপনারা,” অথচ তা আপনাদের সার্বিক প্রচেষ্টায় শক্তি যোগাতো। ইতিবাচক চিন্তাকে কাজে লাগাননি আপনারা। তার বদলে আপনারা ভেবেছেন শুধু অভাবের কথা।
এই পরিস্থিতির সংশোধন করতে চাইলে মানসিক অবস্থা পাল্টে ফেলতে হবে, এবং ভাবতে হবে সৌভাগ্যের কথা, সাফল্যের কথা। এর জন্য প্রয়োজন অনুশীলনের "কিন্তু তা খুব দ্রুত করা সম্ভব যদি আপনি নিশ্চিত বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেন। পদ্ধতিটা হলো মনশ্চক্ষে দেখা, অর্থাৎ গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন সাফল্যের সাথে চলতে; মনশ্চক্ষে এটাই দেখতে হবে। মনে মনে এমন একটি ছবি আঁকুন যে গাইডেড পাইন্টেস ম্যাগাজিন দারুণ এক ম্যাগাজিন সারাদেশে জুড়ে এ ম্যাগাজিন সমাদৃত। মনশ্চক্ষে দেখুন যে, বহুসংখ্যক গ্রাহক আপনাদের রয়েছে সবাই গভীর আগ্রহের সাথে এই অনুপ্রেরণাদায়ী বস্তুটি পড়ছে এবং লাভবান হচ্ছে। মনে মনে এমন এক জীবনের প্রতিকৃতি চিহ্নিত করুন যা এই মাসিক গাইডেড পোয়েটস ম্যাগাজিনে প্রকাশিত দর্শন শিক্ষার মাধ্যমে সাফল্যজনক পরিণতি লাভ করেছে।
“মনে মনে এমন ছবি আঁকবেন না যা কষ্ট বেদনায় মনকে ভারাক্রান্ত করে, কিন্তু মনকে তার ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন এবং মনশ্চক্ষে শক্তি এবং সাফল্যকেই কেবল দেখুন, অন্য কিছু নয়। মনশ্চক্ষে কল্পিত প্রাপ্তির এলাকা পর্যন্ত যখন আপনারা আপনাদের চিন্তাকে তুলে আনতে পারবেন তখন দেখবেন আপনারা আপনাদের কষ্ট বেদনাকে উপেক্ষা করতে পারছেন, বরং যতটা পারা কথা তার চেয়ে বেশিই পারছেন এবং এভাবে আপনারা আরও উৎসাহ উদ্দীপক দৃশ্যাবলিও পেয়ে যাচ্ছেন। আপনাদের সমস্যার উপর সবসময় আধিপত্য বিস্তার করে চলুন। কখনও নিজেকে সমস্যা মোকাবিলা করতে যাবেন না।” “আমাকে বলতে দিন,” ক্লিফ বললেন। “এ পরিস্থিতিতে নিজেদের চালিয়ে নেবার জন্য কত পরিমাণ গ্রাহক আপনাদের প্রয়োজন?” খুব দ্রুত ভাবলাম আমরা এবং বললাম: “৪০ হাজার গ্রাহক” আমাদের কাছে ছিল হাজার চল্লিশ গ্রাহক।
“ঠিক আছে,” বেশ দৃঢ়তার সাথে বললেন তিনি, এটা তেমন কোন কঠিন কাজ নয়। কাজটা সহজ। মনশ্চক্ষে দেখুন বেশ কয়েক লক্ষ গ্রাহক আপনাদের এই ম্যাগাজিন পড়ে গঠনমূলক কিছু সহায়তা পাচ্ছে এবং আপনারা তা পারেন। আসলে, যে মুহূর্তে আপনারা মনশ্চক্ষে ঐ গ্রাহকদের দেখছেন, ধরে নিন ইতোমধ্যে আপনারা তা পেয়েই গেছেন।”
আমার দিকে ঘুরে তিনি বললেন : “নারম্যান, এই মুহূর্তে আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন? ঐ দিকে তাকান, আপনার সামনে তাকান। আপনার মনশ্চক্ষে আপনি দেখতে পাচ্ছেন কি?” আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছিলাম না, এবং আমি সন্দেহের সাথেই বললাম : “বেশ, তা হতে পারে, কিন্তু তা বেশ খানিকটা জ্যাঁৎসা মনে হচ্ছে আমার কাছে।”
আমার প্রতি কিছুটা হতাশ হলেন তিনি। আমি ভেবেছিলাম, যখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন : “আপনি কি কাল্পনিক ভাবে এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন না?”
আমি অনুমান করছি যে, আমার কল্পনাশক্তি ঠিক মত কাজ করছিল না কারণ যা সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম তা হলো, বাস্তবে আমাদের ঐ ৪০ হাজার গ্রাহক।
তারপর তিনি আমার পুরনো বন্ধু রেমন্ড থর্নবার্গের দিকে ফিরলেন, যিনি বরাবরই বিজয় গর্বে মহিমান্বিত এবং আশীর্বাদপুষ্ট এক ব্যক্তি, এবং ভদ্রমহিলা তাকে তার ডাকনাম ধরে ডেকে বললেন, “পিংকি আপনি কি এক লক্ষ্য গ্রাহক মনশ্চক্ষুতে দেখতে পাচ্ছেন?"
আমি কিছুটা সন্দেহ করেছিলাম যে, পিংকি হয়ত তাদের দেখে থাকবেন। তিনি একজন রাবার শিল্প উৎপাদনকারী। তিনি স্বাধীনভাবে কিছু সময় এই মুনাফাহীন ম্যাগাজিনের অনুপ্রেরণা ও অগ্রগতির জন্য দিয়ে থাকেন এবং আপনি সাধারণভাবে চিন্তা করতে পারবেন না যে, এই রাবার শিল্পপতি এ ধরনের চন্তার কোন রকম সারা দেবেন। কিন্তু গঠনমূলক কোন চিন্তা করার মত মনোবৃত্তি তার আছে তার মুখের উপর মহিলার মোহিনী দৃষ্টি আমি লক্ষ্য করলাম। বিস্মিত দৃষ্টিতে তিনি সোজা মহিলার দিকে তাকিয়ে থাকলেন যখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন "আপনি কি এক লক্ষ গ্রাহক দেখতে পাচ্ছেন?"
"হ্যাঁ, বেশ আগ্রহের সাথে জোরে বলে উঠলেন তিনি, “হ্যাঁ, আমি তাদের দেখতে পাচ্ছি।” উত্তেজিত হয়ে আমি দাবি করলাম, কোথায়? তাদের দেখাবেন কি?
তখন আমিও মনশ্চক্ষুতে তাদের দেখতে শুরু করলাম। এখন, আমাদের ঐ বন্ধু আবার বলে চললেন, "আসুন আমরা সবাই একত্রে প্রণত হয়ে বিধাতার ধন্যবাদ দিই আমাদেরকে লক্ষ গ্রাহক দেবার জন্য।"
অকপটে ভাবলাম এতে করে বিধাতাকে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতিতেই ফেলা হলো, কিন্তু শাস্ত্রে লিখিত একটি বাণীতে এর সমর্থন পাওয়া গেল, সেখানে লিখা প্রার্থনায় বিশ্বাস সহকারে তুমি যা যা চাইবে তার সবকিছুই তোমাকে দেয়া হবে।” (মথি xxi .22) তার অর্থ হলো, যখন তুমি কিছু বাঞ্ছা কর একই সময়ে মনশ্চক্ষুতে দেখ যে, তোমার যাচিত বস্তু বাস্তবিকই পেয়ে গেছ। বিশ্বাস কর যে, যদি বিধাতার ইচ্ছা হয় এবং তার দৃষ্টিতে তা সঙ্গত হয়, এবং তা যদি স্বার্থপরভাবে না চাওয়া হয় কিন্তু তাতে যদি মানুষের কল্যাণ হয় তবে সেই মুহূর্তেই তা প্রদান করা হবে।
এই পথ অবলম্বন করতে যদি আপনাদের কষ্ট হয় তাহলে আমি বলতে চাই যে, এই মুহূর্ত থেকে যখন গাইড পোষ্টসে যে লিখা বের হচ্ছে এই সমসয় থেকেই এই ম্যাগাজিন আর কখনও কিছুর জন্য অভাবে পড়বেনা। এ ম্যাগাজিনের পিছনে অনেক ভালো ভালো বন্ধু জুটে গেল এবং তাদের পক্ষ থেকে ভালো ভরসাও পাওয়া গেল। সব সময় বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে পারল সহজেই, প্রয়োজনীয় সাজ সরঞ্জাম কিনতে পারলো নিজের খরচ নিজেই জোটাতে পারলো এবং আমি যখন এ কথাগুলো লিখছি তখন গাইডপোস্টস পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা প্রায় মিলিয়নের কাছাকাছি সীমার পৌঁছেছে। এবং আরও অনেক গ্রাহক নিয়মিত আসতে লাগলো। কোন কোন সময় এমনও দেখা গেল যে, প্রতিদিন তিন চার হাজার পর্যন্ত গ্রাহকও বাড়তে থাকলো।
এই ঘটনা আমি যে আমাদের গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের প্রচার প্রসার বাড়াবার জন্য উল্লেখ করছি তা নয়, যদিও আমি খুব শক্ত হাতে এই ম্যাগাজিন আমাদের পাঠকদের মাঝে পূর্ণর্বার ছাপতে শুরু করলাম, এবং আপনি যদি এর গ্রাহক হতে চান, তাহলে আরো তথ্যের জন্য গাইড পোস্টস পলিং নিউইয়র্ক, এ ঠিকানায় লিখুন। কিন্তু এ কাহিনী আমি বলছি কারণ আমি শ্রদ্ধা ও বিস্ময়ে এই অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলাম এবং অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, টলমল করে হলেও একটি বিধানের উপর আমি পতিত হয়েছি। ব্যক্তিগত সাফল্য লাভের জন্য এ এক বিস্ময়কর বিধান। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এ বিধান প্রয়োগ করবো এবং যেখানেই আমি তা করেছি সেখানেই এর অসাধারণ ফলাফল পাওয়া গেছে। আর যেখানে আমি তা করতে ব্যর্থ হয়েছি সেক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল হাতছাড়া হয়ে গেছে আমার।
এটা এমন একটি সাধারণ বিষয় অর্থাৎ আপনার সমস্যা বিধাতার হাতে ন্যস্ত করুন। চিন্তার মাধ্য দিয়ে নিজেকে সমস্যার উর্ধ্বে তুলে ধরুন যাতে সমস্যাটির নীচ থেকে উপর পর্যন্ত দৃষ্টিপাত করতে পারেন, শুধু উপরের অংশ টুকু নয়। বিধাতার ইচ্ছা অনুসারে একে যাচাই করে দেখুন। অর্থাৎ যা কিছু ভ্রান্তিপূর্ণ তারই জন্য সংগ্রাম করে জয়ী হতে চাওয়া ঠিক হবে না। প্রথমে নিশ্চিত হোন যে যা চাইছেন তা আধ্যাত্মিকভাবে এবং নৈতিকভাবে সঠিক কিনা। ভুল কিম্বা ত্রুটি পূর্ণ কিছু থেকে আপনি নিশ্চয়ই কখনও কোন সঠিক ফলাফল পেতে পারেন না। যদি আপনার চিন্তা ত্রুটিপূর্ণ হয় তবে তার ফলাফল ত্রুটিপূর্ণ হতে বাধ্য। যে ত্রুটিপূর্ণই হয় তবে তা ত্রুটিপূর্ণ তা কখনই সঠিক কিছু জেতে পারে না। যদি এর অস্তি
কাজেই নিশ্চিত হোন যে এটা সঠিক, তারপর বিধাতার নামে তা ধারণ করুন এবং মনশ্চক্ষুতে তার একটি ফলাফল দেখতে থাকুন। সৌভাগ্যের সাফল্যজনক সম্পাদনের এবং প্রাপ্তির ধারণাকে মনে মনে বদ্ধমূল করুন। কখনও ব্যর্থ হবার চিন্তা পোষণ করবেন না। মনে যদি পরাজিত হবার নেতিবাচক চিন্তা এসেই যায় তবে ইতিবাচক চিন্তার নিশ্চিত বোধকে বাড়িয়ে তাকে নির্বাসিত করুন। জোরে বলুন বিধাতা এখনই আমাকে জয়ী করবেন। এখনই তিনি আমার আরাধ্য প্রাপ্তি আমাকে দিচ্ছেন। যে মানসিক দৃষ্টি আপনি নিজেই তৈরি করেন এবং চেতনায় দৃঢ়ভাবে ধারন করেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে যদি আপনি অবিরত আপনার চিন্তায় দৃঢ়তা বজায় রাখেন এবং আধ্যবসায় সহকারে কাজে লাগিয়ে যান এবং কার্যকারিতা বজায় রাখেন এই সৃজনশীল পদ্ধতি এভাবে বর্ণিত হয়েছে। অন্ত:দৃষ্টিতে দেখুন, প্রার্থনায় ক্রিয়াশীল হোন এবং চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত করুন।
যেসব ব্যক্তিবর্গ তাদের সারা জীবনের পদচারণায় যেসব উল্লেখযোগ্য সাফল্য লাভ করেছেন তারা সবাই এই বিধানের মূল্য সম্বন্ধে অবগত ছিলেন।
হেনরী যে কাইজার নামে এক লোক আমাকে বলেছেন যে, একসময় তিনি নদীর তীরে সকাল বেলাকার আগন্তকদের জন্য একটি মজলিস তৈরি করছিলেন এবং প্রচণ্ড ঝড় আর বন্যা এসে সব মেশিনপত্র সমাধিস্ত করে দিয়ে গেল এবং যা যা করা হয়েছিল তার সবই ধ্বংস করে ফেলল। পানি সরে যাবার পর তিনি যখন ক্ষয়ক্ষতি দেখতে বের হয়েছেন, তখন তিনি দেখলেন যে, তার কর্মচারীরা সব মুখ ভার করে দাঁড়িয়ে আছে এবং কাদা পানির দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে সমাধিস্ত মেশিনপত্র দেখতে তিনি তাদের কাছে এসে একটু হেসে বললেন, তোমরা এত বিষণ্ণ কেন?
"আপনি কি দেখতে পাচ্ছেন না কি সর্বনাশ হয়ে গেছে আমাদের? সমস্ত মেশিনপত্র আমাদের কাদায় ঢাকা পড়ে গিয়েছে।
“কিসের কাদায় বেশ প্রফুল্ল মনে জিজ্ঞেস করলেন তিনি।
“কিসের কাদা মানে? অবাক হয়ে তার কথাটি পুনরাবৃত্তি করলেন সবাই। আপনার চারিদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখুন একেবারে কাদার সমুদ্র "ওহ, হাসলেন তিনি, আমিত কোন কাদাই দেখতে পাচ্ছি না।”
"আপনি কিভাবে একথা বলছেন? সবাই জিজ্ঞেস করলো তাকে।
"কারণ, বলতে শুরু করলেন মি. কাইজার আমি তো পরিষ্কার নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে আছি, এবং সেখানে, কোন কাদা টাদা নেই। সেখানে আাছে শুধু সূর্যালোক এবং আমি কখনও এমন কোন কাদা দেখিনি যা সূর্যালোকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে। অতি শীঘ্রই কাদা শুকিয়ে যাবে, এবং তোমাদের মেশিনের মেশিনপত্র সরিয়ে আনতে পারবে এবং আবার সবকিছু শুরু করতে পারবে।
কি নির্ভূল তার কথা। যদি আপনি নীচের কাদার দিকে তাকান, তবে আপনার মনে হবে আপনি হেরে গেছেন, আপনার পরাজয় আপনিই ডেকে আনবেন। আশাবাদী দর্শন প্রার্থনা আর বিশ্বাসের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে অনিবার্যভাবে সাফল্য লাভকে বাস্তবায়িত করবে।
আমার আর এক বন্ধু যার শুরুটা ছিল একেবারেই নিচু মানের কিন্তু পরবর্তীতে তার সাফল্য ছিল সর্বজন বিদিত। সেই স্কুল জীবন থেকে তাকে আমি জানি একেবারেই আনাড়ি এক ছেলে, আকর্ষণহীণ লজ্জাতুর এক গ্রাম্য ছেলে। কিন্তু তার সম্বল মাত্র ছিল তার চরিত্র এবং তীক্ষ্ম মেধা শক্তি, অন্তত আমি জীবনে যাদের সম্মুখিন হয়েছি তারমধ্যে অগ্রগণ্য। আজ সে তার পেশায় একজন সর্বজন পরিচিত ব্যক্তি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনার সাফল্যের পিছনে গোপন শক্তিটি কী
“সেই মানুষগুলো যারা বছরের পর বছর আমার সাথে কাজ করেছেন, এবং আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র একজন বালককে যে, অপরিমিত সুযোগ সুবিদা দিয়েছে এই ছিল তার জবাব।
"হ্যাঁ আমি জানি এ সত্যি কিন্তু আমি নিশ্চিত যে আপনার নিজস্ব কোনো কৌশল অবশ্যই আছে এবং এটা পেতে আমি খুবই আগ্রহী" "এ হলো আপনার সমস্যাগুলো সম্পর্কে আপনার চিন্তা ধারা কেমন তাই,” জবাবে সে কথাগুলো বলল।
"একটি সমস্যা যখন এসে যায় তখন আমি আমার মনের শক্তি দিয়ে তাকে আক্রমণ করি এবং ভেঙ্গে চুরমান করে দিই। এর উপর আমি আমার সমস্ত মানসিক শক্তি প্রয়োগ করি। দ্বিতীয়ত: এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করি। তৃতীয়ত: আমি মনে মনে সাফল্যের ছবি এঁকে ফেলি। চতুর্থত: আমি সব সময় নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, “কোন কাজটি সঠিক যা আমার করা উচিত?”
কারণ তিনি বললেন, "আমার নির্ধারিত বিষয় যদি ভুল হয় তবে তার ফলাফল সঠিক হওয়া সম্ভব নয়। এমন কোন ভুল নেই যা থেকে সঠিক ফলাফল আসতে পারে।” পঞ্চমত: আমি যা পেয়েছি তার সবই আমি দিয়ে দিচ্ছি। আমি জোর দিয়ে একথা বলতে চাই যে, যদি আপনি পরাজয়ের কথা ভাবেন তবে ঠিক তখনই সেই চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। বরং নতুন এবং ইতিবাচক চিন্তা করতে শুরু করুন। সমস্ত কষ্ট ভোগান্তির উপর জয় লাভ করতে এবং অভিষ্ট কাজে সাফল্য লাভ করতে সেই হল প্রথম এবং প্রধান কাজ।” ঠিক মুহুর্তে যখন আপনি এ বইটি পড়ছেন সম্ভাবনাময় ধারনাগুলো তখন আপনার মনে বিরাজ করছে। এগুলোকে বের করে এনে এবং এগুলোকে আরো উন্নীত করে আপনার আর্থিক সমস্যা আপনি সুরাহা করতে পারেন, আপনার ব্যবসায়িক অবস্থার পরিবর্তন সাধন করতে পারেন, নিজের এবং আপনার পরিবারের পরিচর্যা আরো বাড়িয়ে তুলতে পারেন। এবং আপনার ঝুকিপূর্ণ কাজে সাফল্য লাভ করতে পারেন। এসব সৃজনশীল চিন্তার দৃঢ় অন্তপ্রবাহ এবং বাস্তব প্রয়োগ ঘটিয়ে আপনি আপনার জীবনকে নতুনভাবে করতে এবং বরাবর এই নতুন অবস্থা ধরে রাখতে পারেন।
একটা সময় ছিল যখন নির্বোধের মত ধারণা আমি নির্দিধায় মেনে নিয়েছিলাম। বিশ্বাস এবং সৌভাগ্যের শক্তির কোন সম্পর্ক ছিল না, তাই যখন কোন এক ব্যক্তি যখন ধর্মশক্তির কথা বললেন, তখন থেকে কোনদিন এ ধারণাগুলোর সাফল্য লাভের ব্যাপারে সম্পৃক্ত করিনি সে আলাপটা হয়েছিল শুধু মাত্র কর্তব্য, নৈতিকতা এবং সামাজিক মূল্যবোধের উপর। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পারছি যে, এ ধরণের এবং ব্যক্তিবিশেষের উন্নতিকে সীমাবদ্ধ করে ফেলে। ধর্ম শিক্ষা দেয় যে, এ বিশ্বব্রহ্মান্ডে বিস্ময়কর শক্তি রয়েছে এবং তাই এই শক্তি ব্যক্তি বিশেষের মধ্যে নিহিত থাকতেই পারে। এমন এক শক্তি যা সমস্ত পরাজয়কে উড়িয়ে দিতে পারে। একজন মানুষকে কষ্ট ভোগান্তির অবস্থা থেকে উপরে তুলে ধরতে পারে। আনবিক শক্তির তেজষ্ক্রিয়তা আমরা দেখেছি। আমরা জানি এই বিশ্বব্রহ্মন্ড কি বিস্ময়কর এবং প্রচণ্ড শক্তির অস্তিত্ব রয়েছে। সেই একই প্রচণ্ড শক্তি রয়েছে মানুষের মনে। পৃথিবীর বুকে এমন কোন শক্তি নেই যা মানুষের মনের শক্তির সম্ভাবনাময় শক্তির চেয়ে বড়। একজন সাধারণ ব্যক্তির পক্ষেও তার ধারণার চাইতেও বড় ধরনের সাফল্য বয়ে আনতে সক্ষম।
এটা সত্যি যে যারা এই কথাগুলো সম্পর্কে যত্নশীল নয় তাদের কথা আলাদা। যখন আপনি সত্যিকারভাবে নিজেকে বুঝতে শেখেন তখন আপনি আবিস্কার করতে পারবেন যে, আপনার মনে এরকম সৃজনশীল ধারনা পুঞ্জিভূত রয়েছে। তাই আপনার আর কোন কিছুর অভাব থাকতে পারে না। ঐশ্বিশক্তির দ্বারা উদ্দীপ্ত হয়ে আপনি যদি আপনার মধ্যেকার শক্তির পুরোপুরি এবং যথাযথ ব্যবহার করতে পারেন তবে আপনার জীবনকে সাফল্যমন্ডিত করা সম্ভব।
আপনি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় যা কিছু করতে চাইবেন তা করা আপনার পক্ষে সম্ভব হবে, যে কোন কিছু আপনি বিশ্বাস করবেন অথবা মনশ্চক্ষুতে দর্শন করবেন, যে কোন কিছু যার জন্য আপনি প্রর্থনা করবেন এবং তার জন্য কাজ করবেন। আপনার মনের ভেতর গভীরভাবে তাকান। কারণ সেখানেই আছে অত্যাশ্চর্য বিস্ময়।
আপনার অবস্থা যেমনই হোক না কেন আপনি তার উত্তরণ ঘটাতে পারেন। প্রথম আপনার মনকে আপনি শান্ত করুন, যাতে মনের গভীর থেকে অনুপ্রেরণা উদয় হতে পারে। বিশ্বাস করুন যে বিধাতা এখনই আপনাকে সাহায্য করছে মনশ্চক্ষুতে সাফল্যই শুধু দেখুন অন্য কিছু নয়। আধাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার বিধান সমূহ আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃঢ়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন ব্যর্থতার ছবি নয়। আধ্যাত্মিক ভিতের উপর আপন জীবন প্রতিষ্ঠা করুন যাতে বিধাতার পারে আপনার মধ্যে সক্রিয় হতে পারে। মনে মনে দৃড়তার সাথে শুধুমাত্র সাফল্যের ছবি তুলে ধরুন, ব্যর্থতার ছবি নয়। এসব করুন এবং তাতে সৃজনশীল চিন্তাধারা আপনার মন থেকে স্বাধীন ধারায় বইতে শুরু করবে। এ এক অশ্চর্য বিধান, এমন একটা কিছু যা একজনের জীবনচিত্রই পাল্টে দিতে পারে কি আপনার নিজের জীবনটাও। নতুন চিন্তার অন্তপ্রবাহ আপনার অত্মিলব্ধ কষ্ট ভোগান্তি যা এখন আপনাকে ভুগিয়ে মারছে তাকে উড়িয়ে দিয়ে আপনাকে এক নতুন মানুষে রূপ দিতে পারে এবং আমি আবার বলছি প্রতিটি কষ্ট ভোগান্তি।
সর্বশেষ উল্লেখিত বিশ্লেষণে কেন একজন মানুষ সৃজনশীল এবং কৃতকার্য জীবন যাপনে ব্যর্থ হয় তার কারণ দেখানো হয়েছে এবং কারণটা হলো তার নিজের কৃত ভুল। তার ভাবনাই তো ত্রুটিপূর্ণ। তার চিন্তা ভাবনার সংশোধন করা প্রয়োজন। সঠিক চিন্তার অনুশীলন করা প্রয়োজন তার। যখন সাম সঙ্গীত ২৩ এ বলা হচ্ছে 'তিনি আমাকে ন্যায্যতার পথে পরিচালিত করেন। তার অর্থ শুধু এই নয় যে, এ পথ শুধুই সত্যানুরাগীর পথ। যাদের মন সৎ মানসিকতায় প্রতিষ্ঠিত ভাববাদী ইসাইয়া যখন বলছেন, "দুষ্টেরা তাদের পথ পরিত্যাগ করুক এবং অধার্মিকেরা পরিত্যাগ করুক দুষ্ট চিন্তা।” (ইসাইয় iv.7) তার অর্থ শধু এই নয় যে, একজন ব্যক্তি শুধু মন্দ থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কিছু করবে, কিন্তু তাকে তার চিন্তার ধরনও পাল্টাতে হবে, অসৎ চিন্তা পরিত্যাগ করে সৎচিন্তা করতে হবে। ভুল কিছু তাকে হটিয়ে দিয়ে সত্যে উপণীত হতে হবে। সাফাল্যপূর্ণ জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার সবচেয়ে গোপন বিষয়টি হলো জীবনে ভুলের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে এবং সত্যের পরিমাণ বাড়িয়ে তুলতে হবে। নতুন, সঠিক সুস্থ চিন্তা মনের মধ্য দিয়ে জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতির উপর সৃজনশীলতার সাথে প্রভাব বিস্তার করে থাকে, কারণ সত্য থেকে সব সময় সঠিক প্রক্রিয়ার উদ্ভব ঘটে এবং তাই, তা থেকে আসে সঠিক ফলাফল।
বেশ কয়েক বছর আগের কথা, এক যুবক ছেলেকে চিনতাম আমি এবং আমার সারাজীবনের যত অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এই ছেলেটিই ছিল সবচেয়ে বেশি ব্যর্থ এবং সবদিক থেকে। যদিও তার ছিল সম্ভাবনাময় এক মনোরম ব্যক্তিত্ব। কিন্তু সবকিছুতে ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। এক লোক তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং তাকে একটা কাজে নিয়োগ দেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই তার আগ্রহ শীতল হয়ে যায় এবং সে চাকরি হারাতে তার খুব বেশিদিন লাগেনি। এভাবে ব্যর্থ হয়ে যাওয়া বহুবার ঘটেছে তার জীবনে। কাজ হাতে পেয়ে সে অবস্থাতেই ব্যর্থ হয়েছে ছেলেটি। সবকিছুর সাথেই সংযোগ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে সে। সঠিক কিছু করতেই পারেনি সে এবং সে আমাকে জিজ্ঞেস করতো, "আমার কি এমন ভুল হচ্ছে, যার ফলে সবকিছুই ভুল হয়ে যাচ্ছে?"
তখনও তার মধ্যে অহমিকা বোধ ছিল খুবই প্রবল। সে ছিল দাম্ভিক এবং আত্মতুষ্ট এক মানুষ এবং উত্তেজিত হয়ে যাওয়া এবং সবাইকে দোষানো ছিল তার অভ্যাস কিন্তু নিজের দোষ ত্রুটি সে দেখতে পেত না। সে যে অফিসে সে কাজ করেছে সব জায়গাতেই কিছু না কিছু ভুল করেছে এবং রায় অরগানাইজেশন তাকে চাকরি দিয়েছে সবার সাথেই ভুল করেছে সে। তার জন্য সে অন্য সবাইকে দোষী করত কিন্তু নিজেকে নয়। সে কখনও নিজের ভেতরে তাকিয়ে দেখেনি। তার কখনও এমন মনে হয়নি যে তার নিজের ও ভুল থাকতে পারে।
যা হোক এক রাত্রে, সে আমার সাথে কথা বলতে চায় এবং যেহেতু আমাকে এক জায়গায় বক্তৃতা দেবার জন্য শ'খানেক মাইল ড্রাইভ করে যেতে হয়েছিল। কাজেই ঐ ছেলেটিই আমাকে সেখানে ড্রাইভ করে নিয়ে যায় এবং আবার নিয়েও আসে। ফেরার পথে তখন প্রায় মাঝ রাত, হামবার্গার এবং এককাপ কফি খাবার জন্য রাস্তায় পাশে এক দোকানে থামি আমরা। আমি জানি না ঐ হামবার্গার, স্যান্ডউইচে কি ছিল, সেই থেকে হামবার্গারের প্রতি আমার শ্রদ্ধা নতুন করে বেড়ে যায়, কারণ হঠাৎ করে সে চিৎকার করে বলতে থাকে, “আমি পেয়ে গেছি, আমি তা পেয়ে গেছি” কি পেয়ে গেছ তুমি? অবাক হয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম আমি।
আমি আমার উত্তর খুঁজে পেয়েছি। এখন আমি জানি আমার কি সমস্যা। এটাই হলো সেই যার জন্য আমার সবকিছু ভুল হয়ে যায়। কারণ আমি নিজেই এক মূর্তিমান ভুল।
হাত দিয়ে তার পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে বললাম, “শেষ পর্যন্ত তুমি তোমার সঠিক পথ খুঁজে পেয়েছ?”
“কেন স্বচ্ছ পাথরের মত এখন তা পরিস্কার,” সে বলল, আমি ভুল চিন্তা করে আসছি, এবং ফলস্বরূপ ভুলই হয়েছে আমার ভাগ্য লিপি।
ইতোমধ্যে আমরা আমাদের গাড়ির পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, চারিদিকে চাঁদের আলোর বন্যা যেন এবং তাকে বললাম, "হ্যারি, তুমি অবশ্যই এক পা সামনে বাড়বে এবং বিধাতার কাছে এ সংসারে চলার জন্য সঠিক পথ কামনা করবে।” বাইবেল থেকে এই পড়িটি উল্লেখ করলাম।
“সত্যকে জানবে তুমি, এবং এই সত্যই তোমাকে মুক্ত করবে।” (জন viii, 32) আপন মনে সত্যকে লাভ কর এবং তাতে তুমি তোমার ব্যর্থতা থেকে রেহাই পাবে। এভাবে সে যীশুখ্রীস্টের একজন গভীর অনুরাগী ভক্ত হয়ে উঠলো এবং তার চিন্তাধারা পুরোপুরি পাল্টে গেল এবং পাল্টে গেল তার ব্যক্তিগত অভ্যাসগুলোও, পাল্টে গেল ভুল চিন্তা এবং ত্রুটিপূর্ণ কাজকর্ম, সমস্ত কিছু তার স্বভাব প্রকৃতি থেকে দূর হয়ে গেল। ত্রুটিপূর্ণ ধরণ পাল্টে ধর্মশীল সহজ সরল এক পথ বেছে আড়ে নিল। যখন থেকে সে নিজেকে সংশোধন করল তখন থেকে তার সবকিছুতে সঠিক ফল আসতে শুরু করল।
নিচে সাতটি বাস্তবসম্মত পাথেয় দেয়া হলো যেগুলো আপনার মানসিকতার পরিবর্তন নিয়ে আসবে। নেতিবাচক থেকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির ফিরে আসতে সহায়তা করবে, আপনার মধ্য থেকে সৃজনশীল নতুন চিন্তা উৎসারিত হবে, ভ্রমাত্মক ধরণ থেকে শুদ্ধাত্মক ধরণে উত্তরণের জন্য। চেষ্টা করুন, দিখন চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকুন। অবশ্যই তার প্রতিক্রিয়া দেখতে পাবেন।
১. পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য সবকিছুর জন্য ইচ্ছে করেই আশাবাদ নিয়ে কথাগুলো বলুন, আপনার কাজ সম্বন্ধে, আপনার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে সবকিছু নিয়ে আশাপ্রদভাবে কথা বলার জন্য আপনার নিজের পথ চেয়ে আসুন। এটা কঠিন হবে, কারণ সম্ভবত আপনি দুঃখবাদী বা নৈরাশ্যবাদী বলে ওভাবেই কথা বলতে অভ্যস্ত। এই নেতিবাচক অভ্যাস থেকে নিজেকে বিরত করুন, এমনকি যদি তার জন্য ইচ্ছাশক্তিতে কাজে লাগাতে হয় তবুও।
২। চব্বিশ ঘণ্টার জন্য আশাবাদ নির্ভর কথা বলার পর ঠিক একইভাবে এক সপ্তার জন্য অনুশীলনটি চালিয়ে যান, তারপর আপনাকে এক বা দুদিনের বাস্ত ববাদী বলে অনুমোদন করা যেতে পারে। আপনি তখন আবিস্কার করতে সক্ষম হবেন যে, বাস্তববাদী শব্দটার অর্থ কী, যেখানে এক সপ্তাহ আগে আপনি আসলেই ছিলেন একজন অমঙ্গলবাদী, কিন্তু এখন যে আপনি 'বাস্ত ববাদী' শব্দটার অর্থ বেরকরছেন তা একবারেই ভিন্ন রকমের, এ হলো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির নতুন আত্মপ্রকাশ। বেশিরভাগ লোকেরা বলে থাকেন যে, ওরা বাস্তববাদী হওয়াতে নিজেরা নিজেদের ঠকায়, তারা নেতিবাচক ছাড়া আর কিছু নয়।
আপনি যেমন আপনার শরীরকে নিয়মিত খাওয়ান ঠিক তেমনি আপনার মনকেও আপনাকে খাবার দিতে হবে এবং আপনার মনকে স্বাস্থ্যবান করতে হলে তাকে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, স্বাস্থ্যসম্মত চিন্তা করতে হবে। কাজেই, আজ থেকেই আপনি নেতিবাচক চিন্তার জায়গায় ইতিবাচক চিন্তা স্থানান্তর করুণ। প্রথমেই শুরু করুন নতুন নিয়ম দিয়ে এবং বিশ্বাস শক্তির উপর নির্ভর করে প্রতিটি শব্দের উপর জয়ী হবার জন্য নম্বর তুলতে থাকুন। কাজটা ঠিক এভাবেই চালিয়ে যেতে থাকুন যে পর্যন্ত না নতুন নিয়মের চারটি পুস্তকের এমন প্রতিটি খণ্ড লিখনের উপর চিহ্নিত করণের কাজ সমাপ্ত হয় অর্থাৎ মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন লিখিত চার খন্ড। বিশেষ করে মার্কের লিখা থেকে xi পদ ২২, ২৩, ২৪ চিহ্নিত করুন। ওখানে যে পদগুলো লিখিত আছে সেসবই আপনাকে আপনার নম্বর পূরণের শক্তি প্রদান করবে এবং সেগুলো আপনার চেতনার গভীরে ধারণ করে রাখুন।
তারপর সেই চিহ্নিত খণ্ড লিখনগুলো মুখস্ত করুন। একেকদিন একেকটা মুখস্থ করুন যে পর্যন্ত না চিহ্নিত পুরো তালিকাটি মুখস্থ বলতে না পারেন। এতে সময় লাগবে, কিন্তু মনে রাখুন এতে যে সময়টুকু লাগবে তার পড়তার থেকে বেশি সময় আপনি খরচ করেছেন নেতিবাচক চিন্তার পেছনে ছুটতে ছুটতে যা কিছু যত কিছু আপনি ভুলতে চেষ্টা এবং সময় দুটোই লাগবে।
আপনার বন্ধু-বান্ধবদের মধ্যে কে সবচেয়ে ইতিবাচক চিন্তার ধারক তার একটি তালিকা তৈরি করুন এবং বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই তার সামাজিক আচার-আচরণকে নিয়ে চর্চা করুন। আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের কিন্তু প্রত্যাখ্যান করবেন না, কিন্তু কিছু সময়ের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টিকোন থেকে তাদের কাছাকাছি হোন, যে পর্যন্ত না তাদের নেতিবাচক শক্তিকে আপনি শোষণ করে নিচ্ছেন, তারপর আপনি আবার আপনার নেতিবাচক বন্ধুদের মধ্যে ফিরে যেতে পারেন এবং তাদের মধ্যে আপনার নতুন লব্ধ চিন্তাগুলো মেলে ধরতে পারেন তাদের নেতিবাচকতা গ্রহণ না করে।
যুক্তিতর্ক এড়িয়ে চলুন, কিন্তু যখনই কোন নেতিবাচক মনোভাবের প্রকাশ দেখেন, তখনই ইতিবাচক এবং আশাবাদী মতবাদ দিয়ে তা প্রতিরোধ করুন।
অনেক প্রার্থনা করুন এবং সবসময় আপনার প্রার্থনা ধন্যবাদজ্ঞাপক করে তুলুন এই অনুভূতিতে যে সৃষ্টিকর্তা আপনাকে মহান এবং বিস্ময়কর কিছু দিচ্ছেন; কারণ যদি আপনি ভাবেন যে, সেই অর্থাৎ ঈশ্বরই নিশ্চয়ই আপনাকে সেসব দিচ্ছেন। যতটুকুতে আপনার বিশ্বাস তার চেয়ে বড় কোন আশীর্বাদ। তিনি আপনাকে দেবেন না। তিনি আপনাকে বিরাট কিছু দিতে চান, কিন্তু এমনকি তিনি আপনাকে এমন বড় কিছু নিতে বাধ্য করতে পারেন না, যা গ্রহণ করতে আপনি বিশ্বাস সহযোগে সজ্জিত হয়েছেন। “আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি হা হোক।” (মথি ix 29)
অপেক্ষাকৃত ভালো এবং সাফল্যপূর্ণ জীবন যাপনের পেছনে যে গোপন শক্তি তার মূলে হলো, জীর্ণ পুরাতন ও মৃত, রূগ্ন চিন্তা সেসব ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে। তার বদলে নতুন মূল, গতিশীল চিন্তাশক্তির উন্মেষ ঘটাতে হবে। আপনি এর উপর নির্ভর করতে পারেন- অন্ত প্রবাহী এক নতুন চিন্তা আপনাকে আপনার জীবনকে নতুন করে গড়ে তুলতে সক্ষম।

📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 হৃদ-শূলের ব্যবস্থা পত্র

📄 হৃদ-শূলের ব্যবস্থা পত্র


দয়া করে হৃদ-শুলের একটি ব্যবস্থা পত্র আমাকে দিন।" এই কৌতুহলী এবং কিছুটা দুঃখজনক অনুরোধ আমাকে করেছিলেন এক লোক, তার ডাক্তার তাকে বলেছিলেন যে, তার অক্ষমতার অনুভূতি তার দেহের কারণে হয়নি হয়েছে তার মনের কারণে। তার ভোগান্তির কারণ হলো যে, সে তার দুঃখকে অতিক্রম করতে পারছে না। দুঃখের কারণেই তার ব্যক্তি সত্ত্বায় این ভোগান্তি যেন স্থায়ী আসন পেতে বসেছে।
তার ডাক্তার তাকে আধ্যাত্মিক পরামর্শ এবং চিকিৎসা নিতে বলেছিলেন। কাজেই ঔষধের পরিভাষা হিসেবে সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, "আধ্যাত্মিক কোন ব্যবস্থাপত্র আছে কি যা আমার মনের কষ্ট কমিয়ে দেবে? আমি বুঝতে পারি যে সবার জীবনের দুঃখ আসে এবং আমার উচিত অন্য সবার মত আমিও যেন তার সমনা- সামনি দাঁড়াতে সক্ষম হই। আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কোন শান্তি পাইনি।" মুখে দুঃখের কালো ছায়া এবং ক্লান্ত হাসি হেসে সে আবার আমাকে বললো, "হৃদ-শুলের একটি ব্যবস্থাপত্র দিন আমাকে।”
আসলে হৃদ-শুলের 'ব্যবস্থাপত্র' আছেও। ব্যবস্থাপত্রের একটি উপাদান হলো শারীরিক ক্রিয়াকলাপ। ভুক্তভোগী অবশ্যই বসে থাক এবং গুম হয়ে চিন্তা করা এড়িয়ে চলবে। একটি সংগত অনুক্রম শারীরিক ক্রিয়াকলাপের প্রতিকল্প হিসেবে কাজ করে এবং নিষ্ফলগুম হয়ে চিন্তা করা থেকে এবং মলের এবং মধ্যের যে এলাকা খিচড়ে থাকে তা কমিয়ে ফেলে। যেখানে আমাদের প্রতিফলদিটা ঘটে। তাই আমরা ভালো-মন্দের বিচার করি এবং মনোকষ্টে ভোগী। পেশীর ক্রিয়াকলাপ হলো মস্তিষ্কের অন্য একটি অংশকে কাজে লাগানো এবং সে কারণেই খিচড়ে ভাবটিকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পরিচালনা করে এবং এভাবেই যন্ত্রণা লাঘব হয়।
একজন গ্রাম্য উকিল খুব বলিষ্ঠ দর্শনজ্ঞান লোকটির, তিনি এক দুঃখিনী মহিলাকে বলেছিলেন যে, ভগ্ন হৃদয়ের সবচেয়ে ভালো ঔষধ হলো, "একটি ঘষার বুরুশ নেন এবং হাটুতে স্থাপন করে আপনার কাজে চলে যান। পুরুষের জন্য সর্বাপেক্ষা ভালো ঔষধ হলো, একটা কুঠার হাতে নিন এবং শারীরিকভাবে ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত কাঠ কুপিয়ে টুকরো টুকরো করতে থাকুন।” হৃদ-শুল পুরোপুরি এতেও নিশ্চিত নাও যায়, তবুও আপনার ভোগান্তি এতে উপশম হবে। অর্থাৎ শরীরটাকে পরাজয় মনোভাবাপন্ন অবস্থা থেকে রেহাই পাওয়ার এ হলো প্রাথমিক পদক্ষেপ যা আপনার আশে পাশে ঘটতে পারে, এমনকি যদিও কাজটি করা কঠিন, এবং জীবনের স্বাভাবিক গতিতে আবার ফিরে আসাও তেমনি কষ্টকর, জীবনের কার্যকলাপের মূল ধারায় ফিরে আসুন। আগে যাদের সাথে মিশতেন তাদের সাথে খোলামেলা মেলামেশা করুন। নতুন সঙ্গ গড়ে তুলুন। হাঁটাহাঁটি ঘোড়া কিম্বা গাড়িতে চড়া, সাঁতার কাটা, খেলাধুলা এসব করে রক্ত চলাচলকে আপনার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসুন। মূল্যবান কিছু পরিকল্পনার মধ্যে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলুন। দিনগুলো কোন সৃজনশীল কাজে ব্যয় করুন এবং শরীরকে খাটানো যায় এমন কাজে ব্যপৃত হোন। এমন কাজে লাগুন যাতে মনের স্বাস্থ্য অটুট থাকে, কিন্তু এদিকেও লক্ষ্য রাখবেন যে, কাজটি করছেন তা যেন দামের দিক থেকে ছোট না হয় এবং তা গঠনমূলক প্রকৃতির হয়। হালকাভাবে কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চললে হয়ত ব্যথা বেদনা ক্ষণস্থায়ীভাবে নিস্তেজ হতে পারে কিন্তু তা সারিয়ে তুলতে পারে না মোটেও। উদাহরণ স্বরূপ, দেখা যায় অনেকেই পার্টিতে যোগ দিচ্ছে, মদ খাচ্ছে ইত্যাদি।
হৃদ-শূল থেকে একটি চমৎকার এবং সাধারণ মুক্তির পথ হলো, দুঃখকে হটিয়ে দেয়া। আজকাল অত্যন্ত বোকামির একটি ব্যাপার দেখা যায় যে, কারো দুঃখিত হওয়াটা বা দুঃখিত ভাবটি দেখানো ঠিক নয়, অর্থাৎ কান্নাকাটি করা ঠিক নয় অথবা একজনের উচিত নয় স্বাভাবিক পদ্ধতি অনুসারেও চোখের পানি ফেলে ফেলে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করা। এ তো প্রাকৃতিক বিধানকে অস্বীকার করার নামান্তর। যখন ব্যথা অনুভূত হয় এবং দুঃখ আসে তখন তো কান্না আসবেই। এ শান্তি পাওয়ার একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই এই পদ্ধতি স্তুত করেছেন এবং এর নির্বিঘ্ন ব্যবহার হওয়া উচিত। ঈশ্বরের বিধানকেই।
আর এই দুঃখকে প্রতিরোধ করা একে করা, একে বোতলে পুড়ে রাখা, দুঃখের চাপ এড়াতে এসব করে, ব্যবহার করার ব্যর্থতা প্রকাশ করা হয়। মানুষের শরীরের অন্যান্য মতই অন্যান্য স্নায়ুর পদ্ধতির মতই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কিন্তু এর সবকিছুকেই অস্বীকার করা ঠিক হবে না। ভালোভাবে কান্নার মধ্য দিয়ে নারীই কি বা পুরুষই কি সবাই হৃদ-শূল থেকে অব্যাহতি পেতে পারে। যা হোক, আমি সাবধান করে দিতে চাই যে, এই কৌশলটি অযথা একটি অভ্যাসগত পদ্ধতিতে দাঁড়াতে দেয়া ঠিক হবে না। তেমন কিছু ঘটে গেলে তা অস্বাভাবিক প্রকৃতির দুঃখ বোধে এবং মানসিক বিকারে রূপ নিতে পারে। রীতি বিবর্জিত কোন কিছুকেই অনুমোদন করা ঠিক হবে না।
লোকজনের কাছ থেকে আমি অনেক চিঠিপত্র পাই তাদের প্রতিভাবান কেউ কেউ মারা গেছেন। বারবার একত্রে মিলিত হতো কিম্বা ঐ একই লোকজনের সাথে যাদের সাথে একটি যুগল বা পরিবার হিসেবে মেলামেশা করতেন, সেখানে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন। কাজেই তাদের সেই পুরনো দিনের জায়গা এবং বন্ধু বান্ধবদের এড়িয়ে চলতে শুরু করেছিল।
আমি একে মারাত্মক ভুল বলে মনে করি। হৃদ-শুল আরোগ্য করার গোপন বিষয়টি হলো, যতটা সম্ভব সাধারণ এবং স্বাভাবিক থাকা। এর ফল স্বরূপ কিন্তু আনুগত্যহীনতা বা উদাসীনতা আসে না। এই কর্মপন্থাটি অস্বাভাবিক দুঃখের অবস্থাকে পাশ কাটাবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক দুঃখ হলো, একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং এর স্বাভাবিকতা ব্যক্তি বিশেষের তার স্বাভাবিক কার্যে ফিরে আসার এবং দায়িত্বশীল হবার এবং সেসব কাজ আগের মতই চালিয়ে যাবার সামর্থের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে।
হৃদ-শুলের গভীরতা প্রতিকার অবশ্যই হলো সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে, তার প্রেরিত আরোগ্যকর আরামের মধ্যে। অনিবার্যভাবে হৃদ-শুলের মূল ব্যবস্থা-পত্র হলো বিশ্বস্ত মনোভাব নিয়ে শূন্য মনে শূন্য হৃদয়ে বিধাতার দিকে মুখ ফেরানো। অধ্যাবসায়ের সাথে আধ্যাত্মিকভাবে নিজেকে একেবারে মুক্ত করার মধ্য দিয়েই চূড়ান্তভাবে আসবে ভগ্ন হৃদয়ের আরোগ্য সাধন। এই প্রজন্ম পূর্ববতী যুগের মানুষের চেয়ে খুব বেশি ভুগেছে এবং তাদের আবার শেখা উচিত যে, সর্বকালের সেরা লোকগুলো কি শিখেছে, কি জেনেছে? যেমন, ধর্মকর্মাদির অনুকূলে কিছু কিছু করা ব্যতীত মানুষের ব্যথা ভোগান্তি ইত্যাদি আরোগ্য হওয়া দূরূহ।
যুগ শেষ্ঠ আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের একজন ছিলেন ব্রাদার লরেঞ্চ, যিনি বলেছেন, "যদি এ জীবনে আমরা স্বর্গের নির্মল প্রশান্তি সম্পর্কে জানতে পারি তবে আমরা অবশ্যই বিধাতার সাথে আন্তরিকভাবে, বিনীতভাবে প্রীতিজনক কথাবার্তা বলতে শিক্ষালাভ করবো।” দুঃখের ভার এবং মানসিক শারীরিক সাহায্য ছাড়াই বহনের চেষ্টা করা উচিৎ এমন পরামর্শ দেব না, রিপ এর ওজন একজন মানুষ যা বইতে পারে তার চেয়ে ভারি। হৃদ-শুল সবচেয়ে সরল এবং কার্যকর ব্যবস্থাপত্র হলো বিধাতার উপস্থিতি উপলব্ধি করার অনুশীলন করা। তাতে আপনার হৃদ-শুলের উপশম হবে এবং শেষমেশ আপনার ক্ষতও নিরাময় হবে। কী পুরুষ কী মহিলা যারাই প্রচণ্ড দুঃখের অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন তারা আমাদের বলেছেন যে, এ ব্যবস্থাপত্র ফলপ্রদ।
হৃদ-শুলের ব্যবস্থা পত্রটিতে আরেকটি গভীরভাবে আরোগ্যকর উপাদান হলো, জীবন ও মৃত্যু এবং মৃত্যুহীনতা সম্বন্ধে সন্তুষ্ট জন দর্শন জ্ঞান লাভ করা। কারণ আমার পক্ষ থেকে বলতে চাই যে, যখন আমি একটি অনড় বিশ্বাসে বিশ্বাসী যে মৃত্যু বলতে কিছু নেই, জীবন অখণ্ডনীয়, এখানে এবং লোকান্তরের জীবন একটিই একাল এবং অন্তিমকাল অবিচ্ছেদ্য, অর্থাৎ একটি অবাধ বিশ্বভ্রহ্মান্ড, এবং তারপরই আমি দেখতে পেলাম আমার সমগ্র জীবনের সবচেয়ে সন্তুষ্টজনক এবং বিশ্বাসযোগ্য দর্শন।
এই দৃঢ় বিশ্বাস সমূহ সুসংবদ্ধ ভিতের উপর নির্ভরশীল, যেমন ধর্মগ্রন্থগুলো এক্ষেত্রে সহায়ক। আমি বিশ্বাস করি যে, বাইবেল কুরআনসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো খুব সুক্ষ ব্যাখ্যা দেবে, এবং শেষমেশ বড় বড় সব প্রশ্নের ক্রমন্বিত বৈজ্ঞানিক ও অন্ত 'দৃষ্টি সম্পন্ন সমাধান দিতে পারে বলে প্রমাণিত হবে। একজন মানুষ যখন এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় তার আসলে কি ঘটে? বাইবেল কুরআনসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে খুব বিজ্ঞতার সাথে আমাদের তা জানিয়ে দেয় এবং আমরা আমাদের প্রগাঢ় বিশ্বাস দ্বারা এ সত্যকে জানতে পারি। হেনরি বার্গসন, একজন দার্শনিক, উনি বলেন যে, সত্যে প্রবেশ করার নিশ্চিতম পথ হলো অনুধাবন, অন্তরের স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞান দ্বারা তা করা যায়, নিশ্চিত কোনো বিষয়ের উপর হেতু দর্শনের মাধ্যমে তা করা যায়। তারপর মারাত্মক এক লম্ফ দিয়েও করা যায় এবং সত্য লাভের জন্য অনুভূতির দ্বারাও তা করা যায়। আপনার জানা কোনো উজ্জ্বল মুহূর্তে ফিরে আসুন। এ সেই পথ, সেই উপায়, যে ভাবে আমার মধ্যে এসব ঘটে।
আমি সম্পূর্ণরূপে, সর্বান্তকরণে, এ সত্যের প্রতি বিশ্বস্ত হয়েছি এবং আমি তাই লিখছি এবং এতে আমার কোন সন্দেহ নেই, এমনকি খুব সুক্ষ বিন্দু পরিমাণেও নয়। ধীরে ধীরে আমি এ ইতিবাচক সত্যে উপনীত হয়েছি, এখনই এমনই একটি মুহূর্ত এলো আমি তা জানতে পারলাম।
এ দর্শন কারো দুঃখকে দূরে সরিয়ে রাখবে না, যে দুঃখটি আসে কোন প্রিয়জনের মৃত্যুর এবং স্বাস্থ্যগত কারণে, জাগতিক কোনো বিচ্ছেদ বিরহ থেকে। কিন্তু এ দর্শন তত্ত্ব দুঃখকে আপনার মধ্য থেকে তুলে নেবে এবং অদৃশ্য হয়ে যাবে। আপনার মধ্যেকার অনিবার্য পরিস্থিতির যে গভীর সম্পর্কে একটি পরিষ্কার বোধগম্যতা আপনার মনকে ভরে দেবে। এবং এটা আপনাকে গভীরভাবে আশ্বস্ত করবে যে, মনে হবে আপনার কোন প্রিয়জনের বিয়োগ হয়নি। এই বিশ্বাসে ভর করে বেঁচে থাকুন এবং তাতে আপনি শান্তিতে থাকতে পারবেন এবং ব্যথা বেদনা আপনার হৃদয় থেকে বিদায় নিয়ে চলে যাবে।
পবিত্র বাইবেলের একটি বিস্ময়কর বাণীর কথা মনে প্রাণে স্মরণ করতে বলছি, অনুরোধ করছি-“চক্ষু যাহা দেখে নাই, কর্ণ যাহা শুনে নাই, মানুষের হৃদয়ে যাহা কখনও প্রবেশ করে নাই, ঈশ্বর তাদেরই জন্য তাহা প্রস্তুত করে রেখেছেন যাহারা তাকে ভালোবাসে।” (করিন্থীয়্যান II, 9)
এর অর্থ হলো যে, আপনি যা কোনো দিন দেখেননি, আর আপনি যা দেখেছেন সেতো তেমন কোনো ব্যাপারই নয়, যা হোক বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এই যে, আপনি এমন কোনো কিছুই দেখেননি যার সাথে ঈশ্বরকে যারা ভালোবাসে এবং তার উপর বিশ্বাস রাখে তাদের জন্য তিনি যে বিস্ময়কর কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন তার কোন তুলনা চলে। অধিকন্তু এতে বলা হয়েছে যে, আপনি এমন কিছু শুনেননি যার সাথে তিনি তাদের জন্য যে বিস্ময়কর কিছু সংরক্ষণ করে রেখেছেন। যারা তার শিক্ষা অনুস্বরণ করেন এবং তার পবিত্র শক্তিতে বেঁচে থাকেন তারাই তা শুনতে পাবেন। আপনি যে শুধু কখনও দেখেননি এবং শুনেনি তাই নয়, কিন্তু এমন কি আপনি কখনও তা অস্পষ্টও কল্পনা করেননি উনি আপনার জন্য যা করতে যাচ্ছেন। এই বাক্যটি তাদের জন্য, নিশ্চিত আরাম এবং অমরত্ব এবং পূণর্মিলন এবং সব ভালো কিছুর নিশ্চয়তা দেয় যারা ঈশ্বরের মধ্যে তাদের জীবনকে কেন্দ্রীভূত করেছেন।
অনেক বছর বাইবেল পড়ার পর এবং শত শত মানুষের জীবনের প্রতিটি ধাপের সাথে ঘনিষ্টভাবে সম্পর্কিত হওয়ার জন্য আমি সুনির্দিষ্টভাবে বলতে চাই যে আমি দেখেছি যে, বাইবেলের এই প্রতীজ্ঞামূলক বাণী সম্পূর্ণরূপে সত্যি। এমনকি আমাদের এই জগৎ সংসারের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। লোক সমাজের যারাই সত্যিকারভাবে খ্রীষ্টের এই বাণীর ওপর নির্ভরতার অনুশীলন করে, তাদের জীবনে সর্বাপেক্ষা অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে দেখেছি আমি। এই অনুচ্ছেদটি যারা পরলোকে রয়েছেন এবং আমাদের সাথে যাদের সম্পর্ক ছিল এবং আছে তার সাথেও সম্পর্কিত আমরা যখন বেঁচে থাকি, যারা আমাদের অগ্রজ এবং আমাদের আগেই যারা সেই বাধা অতিক্রম করেছেন, যাকে আমরা বলি মৃত্যু। আমি 'বাধা' শব্দটি ব্যবহার কুরছি আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য। ইতিমধ্যে আমরা মৃত্যু সম্বন্ধে ভেবে নিয়েছি যে মৃত্যু হলো, বাধা স্বরূপ অর্থাৎ ধারণাটি এমন যে, মৃত্যু হলো জীবন থেকে আমাদের বিচ্ছিন্ন করে দেবার মত কিছু।
বৈজ্ঞানিকরা আজকাল অতি মনস্তত্ব এবং অতীন্দ্রিয় বিষয়ের উপলব্ধি এবং পূর্ববর্তী জ্ঞান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এক মন থেকে আরেক মনের ভাবধারা সংযোগ, অতীন্দ্রিয় দৃষ্টি, (এসব কিছুকেই আগে অলীক বা হেয়ালী মানুষের হেয়ালী বস্তু বলে মনে করা হতো, কিন্তু এখন সেসব খুব বলিষ্ঠ, বৈজ্ঞানিকভাবে গবেষণাগারে ব্যবহৃত হচ্ছে) এসব ক্ষেত্রে কাজ করছেন, তারাই আজ প্রকাশ করছেন যে তারা নিজেরা এ সত্যিটি বিশ্বাস করছে যে, আত্মা স্থান এবং কালের বাধা অতিক্রম করে টিকে আছে। বস্তুত: আমরা ইতিহাসের এমন একদ্বার প্রান্তে এসে উপস্থিত হয়েছি যে যখন বৈজ্ঞানিকরা এই মহান সত্য আবিষ্কার করতে যাচ্ছেন এবং যা গবেষণাগারে আবিষ্কার নির্ভর সত্য হিসাবে প্রমাণিত হবে যে আত্মার অস্তিত্ব অবিনাশী মৃত্যুহীন।
বহুবছর ধরে বহুঘটনাবলী সংগ্রহ করেছি আমি, যে গুলোর যথার্থতা আমি গ্রহণ করছি এবং তা দৃঢ় প্রত্যয়ে সমর্থন করি যে আমরা একটি গতিশীল দুনিয়ায় বসবাস করি, জীবনই যেখানে মূলনীতি, মৃত্যু নয়। আমার সেসব মানুষের উপর দৃঢ় বিশ্বাস আছে যারা তাদের লব্ধ অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন এবং আমি তাতে পূর্ণ আস্থাবান যে, তারা এমন এক দুনিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে দুনিয়া আমাদেরকে আঘাত করেছে। অথবা জীবন জালে জড়িয়ে ফেলেছে যাতে মানুষের আত্মা, জীবনের উভয় পাড়ে একটি অখন্ড বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থায় বিরাজ করছে। আমাদের জানা মতে অপর পাড়ে জীবনের অবস্থা হলো মরণশীলতা, তা কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। যারা জীবনের অপর পাড়ে চলে গিয়েছে তারা আমাদের চেয়ে উচ্চতর এক অবস্থায় বসবাস করছে এবং তাদের বোধজ্ঞান আমাদের বোধজ্ঞান অপেক্ষা অনেকমাত্রায় উপরের স্তরের, এখনও আমাদের যারা প্রিয়জন তাদের অস্তিত্ব বিরাজ করছে এবং ঘটনাবলী সেদিকেই নির্দেশ করছে যে, তারা বেশি দূরে নেই এবং এর সাথে আরেকটি ঘটনার ইঙ্গিত মিলছে, কিন্তু তা একেবারে কম বাস্তব কিছু নয়, যে আমরা আবার তাদের সাথে মিলিত হব। ইত্যবসরে আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব যারা আত্মার জগতে বাস করছেন। উইলিয়াম ডোমস, আমেরিকার শ্রেষ্ঠ পন্ডিতদের একজন, সারা জীবন পরীক্ষা নীরিক্ষা করে বলেছেন, যে তিনি এভেবে আত্মপরিতৃপ্ত যে মানুষের মস্তিষ্ক হলো আত্মার অস্তিত্বের একমাত্র মাধ্যম এবং তাই মন এখন যেমন গঠিত অবস্থায় আছে কিন্তু শেষে তা বদলে যাবে। কারণ মস্তিষ্ক তার ধারককে বোধজ্ঞানের অনাক্রান্ত এলাকায় নিয়ে যাবে। যেহেতু আমাদের আধ্যাত্মিক প্রকৃতি এখানে এই পৃথিবীতে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং যেহেতু আমরা বয়সে বাড়ি এবং দিন দিন অভিজ্ঞতা লাভ করি তাই এই বিরাট দুনিয়ায় আমাদের চারিদিক সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠি এবং যখন আমরা ইহলোক ছেড়ে চলে যাই তখন শুধুমাত্র আমরা এক বিরাটের মাঝে পদার্পণ করি।
ইউরিপাইডিস, প্রাচীনকাল নিয়ে বড় বড় সব চিন্তাবিদদের একজন, তার এমন বিশ্বাস জন্মেছিল যে, আমাদের পরলোকের জীবন হবে এক অসীম বিরাটের মাঝে। সক্রেটিসও একই ধারণার সাথে একমত পোষণ করেছেন। সবচেয়ে সুখপ্রদ এব সারগর্ভ যে বাণী তাঁর মুখ থেকে বের হয়ে এসেছে তা হলো, "কোন দুষ্টাত্মার পক্ষে কোন সৎ লোকের পতন ঘটানো সম্ভব নয় না এ লোকে, না পরলোকে।"
নাতালিয়া কালমাস, রঙ্গিন চলচ্চিত্রের এক দক্ষ বৈজ্ঞানিক, তার বোনের মৃত্যু সম্পর্কে বলছেন। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই মহিলার সেই বর্ণনা অনুপ্রেরণা দানকারী 'গাইড পোস্ট' ম্যাগাজিনে ছাপা হয়েছিল।
নাতালিয়া কালমাস তার মরণাপন্ন বোনের কথা এভাবে উল্লেখ করছেন: "নাতালি, আমার কাছে প্রতিজ্ঞা কর যে, তুমি কখনও তাদেরকে আমার উপর ঔষধ প্রয়োগ করতে দেবে না। আমি বুঝতে পারছি তারা আমার ব্যথা উপশম করার চেষ্টা করছে, কিন্তু আমি প্রত্যেকটি দৈহিক অনুভূতি সম্পর্কে সাবধান থাকতে চাই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, মৃত্যু হবে খুবই সুন্দর এক অভিজ্ঞতা।”
"আমি প্রতিজ্ঞা করলাম। পরে, একা একা কাঁদলাম, কাঁদলাম তার সাহসের কথা ভেবে। তারপর রাতে যখন বিছানায় শুতে গেলাম, আমি বুঝতে পারলাম যে, আমি ভেবেছিলাম আমার বোন যে কষ্ট ভোগ করতে যাচ্ছে সেই হবে তার পরম জয়।”
দশদিন পর চরম সময় মৃত্যু একেবারে কাছে এসে পড়ল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তার পাশে বসে রইলাম আমি। অনেক কিছু নিয়ে আমাদের আলাপ হলো, এবং সারাটি সময় তার অত্যাশ্চর্য শান্তভাব, শাশ্বত জীবনের প্রতি অকপট আত্মবিশ্বাস দেখে বিস্মিত হলাম। দৈহিক নির্যাতন তাকে একবারের জন্যও তার আধ্যাত্মিক শক্তিকে পরাজিত করতে পারেনি। এতে এমন কিছু ছিল যে, ডাক্তাররা সাধারণভাবে তার কোন হিসাব মেলাতে পারেনি।
শেষের দিনগুলোতে সে বিড় বিড় করে একটি বাক্যই শুধু উচ্চারণ করত “হে প্রিয়তম দয়াময় প্রভু, আমার মন পরিচ্ছন্ন রাখ এবং আমাকে শান্তি দাও।"
এত কথা বলেছি আমরা যে, আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে সে ঘুমের দিকে ঝুকে পড়ছে। নার্সের কাছে রেখে আস্তে উঠে গিয়েছিলাম একটু বিশ্রাম নেবার জন্য। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুনলাম আমার বোন আমাকে ডাকছে। তাড়াতাড়ি তার কক্ষে চলে গেলাম। মুমূর্ষ অবস্থা, মৃত্যু যেন একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে।
“বিছানায় তার পাশে বসলাম এবং তার হাতটি আমার হাতে নিলাম। উত্তপ্ত হাত। তারপর মনে হলো সে বিছানা থেকে একটু উঁচু হয়ে বসে থাকার একটি অবস্থায় স্থির হলো। সে বলল, নাতালি, “ওরা অনেকেই এখানে এসেছে। ঐ যে, ফ্রেড.... আর রুথ...... ও এখানে কি করছে? ও আমি তো জানিই।
"বৈদ্যুতিক ধাক্কায় ঝাকি খেলাম যেন আমি বলেছিল রুথ। রুথ ছিল ওর কাজিন, সপ্তাহখানেক আগে হঠাৎই মারা যায় সে। কিন্তু ইলিয়ানরকে রুথের হঠাৎ মৃত্যুর খবরটি জানানো হয়নি।
"মেরুদন্ড দিয়ে যেন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এক স্রোত নেমে এলো। প্রায় ভীতিকর এক অবস্থার কাছাকাছি একটি অবস্থা অনুভব করেছিলাম আমি। বিড় বিড় করে রুথের নাম উচ্চারণ করেছিল সে।
"বিস্ময়করভাবে তার কণ্ঠস্বর ছিল পরিষ্কার। বিষয়টি খুবই বিভ্রান্তিকর। ওদের অনেকেই ছিল! সে যখন আমাকে আহবান করল, হঠাৎ করেই তার বাহু দুটো খুশিতে যেন বিস্তৃত হলো! চলে যাচ্ছি আমি, বলল সে।
"তারপর তার বাহু দুটো আমার গলার উপর নেমে এলো এবং আমার বাহুপাশে ঢলে পড়ল। তার আত্মার ইচ্ছা শেষপর্যন্ত তার চরম মানসিক ক্লেশকে উল্লাসে পরিণত করল।
"যখন আমি তার মাথাটি বালিশের উপর রাখলাম তখন তার মুখের উপর উষ্ণ শান্তিপূর্ণ হাসি ফুটেছিল। তার সোনালী বাদামী কেশ বালিশের উপর অবিন্যস্ত পড়ে ছিল। ফুলদানি থেকে একটি সাদা ফুল নিয়ে তার চুলের ভেতর গুঁজে দিলাম। তার ঐ সুন্দর গঠন, সুবিন্যাসিত দেহবল্লরী, ঢেউ খেলানো কেশরাশি শ্বেত শুভ্র ফুল, মৃদু হাসি এতসব মনোমুগ্ধী সম্ভার নিয়ে আবার একবার তাকালো এবং শেষবারের মত যেন এক স্কুল পড়ুয়া বালিকার মত।"
মৃত্যু পথযাত্রী এক বালিকার পাশে তার কাজিন রুথের নামের উল্লেখ এবং সুস্পষ্ট ঘটনা যে, সে তাকে পরিষ্কার দেখেছে আর তাই এ ঘটনা খুবই বিস্ময়কর এবং বার বার তা ঘটেছে এবং সে কারণেই এই ঘটনার প্রতি আমার মনোযোগ আকর্ষিত হয়েছে। এ বিস্ময়কর ব্যাপারটি খুবই ব্যক্তিগত এবং এই লব্ধ অভিজ্ঞতার বৈশিষ্টগুলো একই ধরণের যেমনটি আরো অনেকেই আমাকে বলেছেন এবং তার সাথে একই মিল প্রমাণিত হয়, কারণ সেসব ক্ষেত্রেও সেই একইভাবে নাম ধরে ডেকেছিল, যাদের মুখাবয় দেখেছিল, এবং আসলেই তারা সেখানে উপস্থিত ছিল।
তারা কোথায়? তারা কোন অবস্থায় আছে? কেমন ধরণের শরীর তাদের? এ প্রশ্নগুলো কঠিন। ধারণাগুলো বিভিন্ন আকৃতির এবং খুবই যুক্তিসঙ্গত, অথবা এমন কিছু ঠিক ঠিক বিশ্বাস করা যেতে পারে যে, তারা অন্য কোন কল্পিত কক্ষপথে বসবাস করে।
একটি বৈদ্যুতিক পাখা যখন স্থির অবস্থায় থাকে তখন ব্লেডের মধ্য দিয়ে কোন কিছু দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু যখন প্রবল বেগে ঘোরে তখন ব্লেডগুলোকে মনে হয় স্বচ্ছ। উচ্চতর কোন পর্যায়ে যে অবস্থায় আমাদের কোন প্রিয়জন বসবাস করে, বিশ্বব্রহ্মান্ডের নিচ্ছিদ্র গুণাবলী হয়ত কারো স্থির দৃষ্টির কাছে চলমান রহস্যের মত উন্মুক্ত হতে পারে। আমাদের জীবনের গভীর মুহূর্তগুলোতে এটা হলো সম্পূর্ণরূপে সম্ভব যে, সেই উচ্চতর পর্যায়ে প্রবেশ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব।
ইংরেজী সাহিত্যের কয়েকটি সুন্দরতম লাইনের একটিতে রবার্ট ইংগারসল এই মহান সত্য সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, “মৃত্যুর অন্ধকারে, একটি তারা দেখার এবং প্রেমের বাণী শুনার আশা রাখ এবং তাতে তুমি একটি পাখীর ডানার খসখস শব্দ শুনতে পাবে।"
একজন বিখ্যাত স্নায়ুতত্ত্ববিদ একলোক সম্ভন্ধে বলেছেন, লোকটি একেবারে যখন মৃত্যুর দ্বার প্রান্তে ঠিক তখনকার কথা। মুমূর্ষু সেই লোকটি তার বিছানার পাশে বসা ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে কিছু নাম ধরে ডাকতে থাকলেন, ডাক্তার সেই নামগুলো লিখে রেখেছিলেন। যে নামগুলো লিখেছিলেন তার একটি নামও ডাক্তারের পরিচিত ছিল না। পরে ডাক্তার তার মেয়েকে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ "এই লোকগুলো কে? তোমার বাবা এই লোকগুলো নাম ধরে ডেকেছিলেন যেন তিনি তাদের দেখতে পেয়েছিলেন।” মেয়েটি বলল, "ওরা সবাই আমাদের আত্মীয়," "অনেক আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।”
ডাক্তার বললেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন যে তার রোগী ঐ লোকগুলোকে দেখেছিলেন।
আমার দুই বন্ধু মি: এবং মিসেস উইলিয়াম সেজ, নিউ জার্সিতে থাকতেন এবং প্রায়ই আমি তাদের বাড়ি যেতাম। মি: সেজের স্ত্রী তাকে উইল বলে ডাকতেন, তিনিই প্রথম মারা যান। কয়েক বছর পর মিসেস সেজ যখন মৃত্যু সজ্জায় শায়িত, দারুণ বিস্ময়কর দেখতে লাগল তার মুখখানি, আশ্চর্য হাসিতে মুখখানি উজ্জল হয়ে উঠলো এবং তিনি বললেনঃ “কেন, এতো উইল।” যাহোক না কেন তিনি তার মৃত স্বামীকে দেখতে পেয়েছিলেন তাতে কোন সন্দেহ নেই।
আর্থার গডফ্রে, বিখ্যাত রেডিও ব্যক্তিত্ব, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি যখন একটি ডেস্ট্রয়ারের খাটে শুয়েছিলেন, হঠাৎ তার বাবা এসে তার পাশে দাঁড়ালেন। তিনি তার হাত প্রসারিত করে মৃদু-হাসলেন এবং বললেনঃ “এ পর্যন্তই, বেটা,” এবং গডফ্রে ও জবাবে বলেছিলেন: “এ পর্যন্তই বাবা,”।
পরে তাকে ঘুম থেকে জাগানো হলো এবং তার বাবার মৃত্যু সংবাদ সম্বলিত তার বার্তাটি হাতে তুলে দেয়া হলো। বার্তার মৃত্যুর সময় জানানো হয়েছিল এবং সময়টি ঠিক সেই সময় যখন গডফ্রে ঘুমন্ত অবস্থায় তার বাবাকে দেখেছিল মেরী মার্গারেট ম্যাকব্রাইড, ইনিও ছিলেন প্রখ্যাত রেডিও ব্যক্তিত্ব, তার মায়ের মৃত্যুতে দুঃখে খুবই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের মধ্যকার ভাবটি ছিল খুবই গভীর। এক রাতে তিনি জেগে উঠলেন এবং বিছানার কিনারে বসলেন। হঠাৎই তার এমন অনুভূতি হলো, তিনি নিজেই বলে উঠলেন "মা আমার সাথে ছিল।” তিনি তার মাকে দেখেওনি, তার কথাও শুনেনি, কিন্তু সেই সময় থেকে তিনি বলতে থাকেন যে, "আমি জানতাম যে আমার মা মারা যায়নি, অর্থাৎ তিনি কাছেই আছেন।”
স্বর্গত রুযপস জোনস, আমাদের সময়ের সবচেয়ে বিখ্যাত আধ্যাত্মিক নেতা, তার ছেলে লোয়েন সম্বন্ধে বলেন, ছেলেটি মারা গিয়েছে যখন তার বয়স মাত্র বার বছর। বাবার চোখে সে ছিল একটি আপেলের মত। ডঃ জোনস যখন সমুদ্র পথে ইউরোপ যাচ্ছেন তখন তার ছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। লিভার পুলে পৌঁছাবার আগের রাতে যখন তিনি তার খাটে শুয়েছিলেন, তখন হঠাৎ তার দুঃখের এক অদ্ভুত অনুভূতি হয়, যার সঠিক বর্ণনা বা ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব নয়। তারপর তিনি বললেন যে, তার যেন মনে হচ্ছিল তিনি ঈশ্বরের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ। দারুণ এক শান্তির অনুভূতি এবং এমন একটি গভীর বোধ জন্মালো যেন তার ছেলে তার কাছে চলে এসেছে।
লিভারপুলে অবতরণের পরপরই তাকে জানানো হয়েছিল যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই, আর মৃত্যুর সময়টি ঠিক সেই সময় যখন তিনি ঈম্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করেছিলেন এবং তার ছেলের চিরকালিন নৈকট্য অনুভব করেছিলেন। আমার গীর্জার একজন সদস্যা মিসেস ব্রাইসন কাল্ট, তার এক কাকীর কথা বলেন যে, তার স্বামী এবং তার তিনজন ছেলেমেয়ে তাদের বাড়িটি যখন অগ্নিদগ্ধ হয় তখন তারাও পুড়ে মারা যায়। কাকীর সারা শরীর খুব মারাত্মক ভাবে দগ্ধ হলেও তিনি আরো বছর তিনেক বেঁচেছিলেন। শেষমেশ যখন তিনি মৃত্যুশয্যায় শায়িত তখন হঠাৎ একদিন তার মুখখানি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, “ সবকিছু কত সুন্দর।” “ওরা আমার সাথে দেখা করতে আসছে। আমার বালিশগুলো তুলা দিয়ে ভরে দাও এবং আমাকে ঘুমাতে যেতে দাও।”
মিঃ এইচ. বি. ক্লার্ক, আমার একজন পুরনো বন্ধু, অনেকবছর তিনি নির্মাণ প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেছেন, আর এ ধরণের কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকার জন্য দুনিয়ার সব জায়গাতেই যাবার সুযোগ হয়েছিল তার। বিজ্ঞানসম্মত মন মানসিকতার লোক ছিলেন তিনি, একজন শান্ত, সংযত, তথ্যপূর্ণ, ভাবাবেগ শূন্যতা ধরণের মানসিকতার এক মানুষ। একদিন রাতে তার ব্যক্তিগত ডাক্তার আমাকে ডেকেছিলেন, তিনি বললেন যে, মাত্র কয়েক ঘণ্টার বেশি উনি বাঁচবেন বলে আমি আশা করি না। তার হৃদপিন্ডের ক্রিয়া মন্থর হয়ে পড়েছিল এবং রক্তচাপ অতিরিক্ত মাত্রায় কমে গিয়েছিল। মোটেও কোন প্রতিক্রিয়া ছিল না। ডাক্তার কোন আশাই দিলেন না।
আমি তার জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করলাম, অন্যরাও প্রার্থনা করতে থাকলো। পরদিন তিনি চোখ মেলে তাকালেন এবং কয়েকদিন পর তিনি তার র্ভুক্তক্তি ফিরে পেলেন। তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, রক্তচাপ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলো। তার দৈহিক শক্তি ফিরে পাবার পর তিনি বললেন: “আমার অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকার সময় খুবই অদ্ভুত কিছু ব্যাপার ঘটে যায় আমার মধ্যে। আমি এর কোন ব্যাখ্যা দিতে পারব না। মনে হয়েছিল অনেক দূরে কোথাও চলে গিয়েছি। সবচেয়ে সুন্দর এবং আকর্ষণীয় একটি জায়গায় ছিলাম আমি, জীবনে তেমন জায়গা কখনো দেখিনি। আমার চারিদিকে আলো আর আলো, অনেক মনোরম সে আলো। কিছু মুখ আমি দেখেছি হালকা আলোয়, মায়ামমতা ভরা সেসব মুখ, এবং আমার খুব শান্তি ও সুখ অনুভূত হচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে জীবনে কখনও তেমন সুখ আমি অনুভব করিনি।
তারপর এক ভাবনা এলো আমার মধ্যে; আমি অবশ্যই মারা যাচ্ছি। তারপর এমনটা ঘটলো আমার, 'সম্ভবত আমি মারা গিয়েছি। তারপর জোরে হেসে উঠলাম আমি, এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, সারা জীবন কেন আমি মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছি? একে তো ভয় পাবার কিছু নেই।” আমি জানতে চাইলাম, “কেমন লাগল আপনার মৃত্যুর অনুভূতি?” আবার কি জীবনে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন? আপনি বাঁচতে চেয়েছিলেন, যে কারণে আপনি মারা যাননি, যদিও ডাক্তার অনুভব করেছিলেন যে, আপনি মৃত্যুর একেবারে কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। আপনি কি বাঁচতে চেয়েছিলেন?
মৃদু হেসে তিনি বললেন, "এর মধ্যে তিলমাত্র ব্যতিক্রম কিছু ছিল না। যদি থাকত, আমার মনে হয় আমি সেই সুন্দর জায়গাতেই থেকে যেতে পছন্দ করতাম।" মতিভ্রম স্বপ্ন, কাল্পনিকবস্তু- আমি ওসব বিশ্বাস করি না। আমি অনেক বছর অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি। যারা এমন অবস্থার সান্নিধ্যে এসেছিলেন এবং এমন দর্শন লাভ করেছিলেন তারা সবাই সর্বসম্মতিক্রমে স্বীকার করেছেন সেই এক রকম সৌন্দর্য্যের কথা, আলোর কথা এবং শান্তির কথা, তাতে আমার মনে কোন সন্দেহ জাগেনি। বাইবেলের নতুন নিয়ম আমাদের খুবই আগ্রহ উদ্দীপকভাবে এবং সাধারণভাবে আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে জীবনের কোন বিনাশ নেই। এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, ক্রুশবিদ্ধ হবার পরও যীশুখ্রীষ্ট আবার বেশ কয়েকবার দর্শন দিয়েছেন, অদৃশ্য হয়েছেন, আবার আবির্ভূত হয়েছেন। কেউ কেউ তাকে নিজের চোখে দেখেছেন এবং তিনি তাদের চোখের সামনে থেকে অদৃশ্য হয়েছেন। আবার অন্যদের সামনে তিনি দর্শন দিয়েছেন, আবার অদৃশ্য হয়েছেন। ব্যাপারটিকে যেন এভাবে বলা যায় 'তোমরা আমাকে দেখতে পাচ্ছ এবং তারপরই তোমরা আমাকে দেখতে পাচ্ছ না।' এতে বোঝা যায় যে, তিনি আমাদের বলতে চেষ্টা করছেন যে যখন আমরা তাকে দেখতে পাই না, তার অর্থ এই নয় যে তিনি সেখানে নেই। দৃষ্টি শক্তির বাইরে চলে গেলেও তার অর্থ এই নয় যে, তিনি জীবন্ত নন। সময় সময় কারো কারো এমন দর্শন লাভের অভিজ্ঞতা লাভ হয়েছে যে, সেগুলো একই সত্যকে নির্দেশ করছে, অর্থাৎ তিনি কাছেই আছেন। তিনি কি বলেননিঃ কারণ আমি জীবিত আছি, তোমরাও জীবিত থাকবে।"
(যোহন xiv 14) অন্যভাবে বলতে গেলে, আমাদের প্রতিভাজন যারা মারা গেছেন তার বিশ্বাস অনুসারে তারাও আমাদের কাছেই আছেন এবং মাঝে মাঝে আমাদের স্বস্তির জন্য তারা কাছাকাছি আসেন।
এক ছেলে কোরিয়াতে যখন চাকুরিরত, তার মাকে একটি ঘটনার কথা লিখে জানাচ্ছে; “অদ্ভুত এক ব্যাপার ঘটছে আমার। একবার রাতে যখন ব্যাপারটি ঘটে আমি তখন ভয় পেয়ে যাই বললাম, বাবা আমার সাথে।” সেই দশ বছর আগে বাবা মারা গেছেন। তারপর ছেলেটি তার মাকে সতৃষ্ণভাবে জিজ্ঞেস করল; “মা তুমি কি মনে কর যে বাবা কোরিয়ার এই যুদ্ধক্ষেত্রে আসলেই আমার সাথে এখানে থাকতে পারে?” জবাবটি এমন; কেন নয়? কিভাবে আমরা একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রজন্মের নাগরিক হতে পারি এবং বিশ্বাস না করে পারি যে, এ ঘটনা সত্যি হতে পারে না। বার বার এমনটিই প্রমাণিত হচ্ছে যে, এ বিশ্বভ্রহ্মান্ড চলমান, নানান রহস্য, বৈদ্যুতিক প্রোটন নিউট্রন, আনবিক শক্তি, ইত্যাদিতে ভরপুর এবং এর সবই খুবই আশ্চর্যজনক যে আমরা এখনও তার অনেক কিছুই অনুধাবন করতে পারিনি।
এই বিশ্বভ্রহ্মান্ড এক বিরাট আধ্যাত্মিক সম্ভারে পূর্ণ এক জাকালো ভবন, এ জীবন্ত এবং জীবন রক্ষাকারী।
এলবার্ট ই ক্লিফ, সুপরিচিত একজন কানডিয়্যান লেখক, তার মৃত পিতা সম্পর্কে বলেন। তার মুমূর্ষ পিতা গভীর নিদ্রাচ্ছন্নতায় ডুবে আছেন এবং মনে হয়েছিল তিনি আর বেঁচে নেই। তারপর ক্ষণিকের এক পুনরুত্থানের ঘটনা ঘটে। তার চোখের পাতা কাঁপতে কাঁপতে খুলে গেল। দেয়ালের উপর প্রাচীন কালের সংক্ষিপ্ত নীতিবাক্য ঝুলান তাতে লিখা: আমি জানি যে আমার মুক্তিদাতা প্রভু জীবন্ত। মুমূর্ষ লোকটি তার চোখ খুললেন, এবং সে প্রীতি বাক্যের দিকে তাকালেন এবং বললেন: আমি জানি যে আমার মুক্তিদাতা জীবন্ত কারণ ওরা সবাই এখানে আমার চারিদিকে বিরাজমান-মা, বাবা, ভাইয়েরা, এবং বোনেরা।” অনেক আগে যারা এ দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছে তারা সবাই এখন এখানে, কিন্তু সুস্পষ্টতই তিনি তাদের দেখেছিলেন। কে তা অস্বীকার করবে?
স্বর্গত মিসেস থোমাস এ. এডিসন আমাকে বলেছেন যে, যখন তার বিখ্যাত স্বামী মরণাপন্ন তিনি তখন তার চিকিৎসকের কাছে ফিস ফিস করে বলেছেন; “জায়গাটি অনেক সুন্দর।" এডিসন ছিলেন জগদ্বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। সারাজীবন তিনি প্রপঞ্চ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন তথ্যানুসন্ধানী মন মানসিকতার মানুষ। কোন জিনিসের কার্যকারিতা না দেখে তিনি কোন সময় আগ বাড়িয়ে কোন কথা বলেনি। তিনি কখনও এমন বার্তা দেননি; 'জায়গাটি অনেক সুন্দর যদি তিনি জায়গাটি দেখেই না থাকেন তবে এই বাস্তববাদী লোকটার মুখে এমন কথা বলা অসম্ভব, কাজেই তিনি জানতেন তিনি যা বলছেন তা সত্যি।
অনেক বছর আগে একজন মিশনারী দক্ষিণ দ্বীপগুলোতে নরখাদক উপজাতিদের মধ্যে কাজ করতেন। অনেক মাস চেষ্টার পর গোত্র প্রধানকে তিনি খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষিত করতে পেরেছিলেন। একদিন বৃদ্ধ গোত্র প্রধান মিশনারী ধর্ম প্রচারককে বলেছিলেন; “আপনি কি মনে করতে পারছেন যে, ঠিক কখন প্রথম আমাদের মধ্যে এসেছেন আপনি?”
মিশনারী জবাবে বললেন, "অবশ্যই পারি।” “যখন বনের ভেতর দিয়ে গেলাম তখন আমার চারিদিকের শত্রুভাবাপন্ন শক্তি সম্পর্কে সতর্ক হয়ে উঠলাম।"
"তারা আসলে আপনাকে ঘিরে ফেলেছে;" গোত্র প্রধান বললেন; "কারণ আমরা আপনাকে হত্যা করার জন্য অনুসরণ করছিলাম, কিন্তু কিছু একটা কাজটা করতে বাধা দিল।"
মিশনারী জিজ্ঞেস করলেন, “কি ছিল সেই 'কিছু একটা'? “এখন তো আমরা বন্ধু, আমাকে বলুন” মিষ্টি সুরে কথা গুলো বলল সে, উজ্জল আলোয় আলোকিত দু'জন ব্যক্তি আপনার দু'পাশে যে হাঁটছিল, ওরা কারা?"
আমার বন্ধু, যোফ্রে ও হারা, বিখ্যাত গান লেখক, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের জনপ্রিয় গানের লেখক 'কেটি' (Katy) 'মৃত্যু বলে কিছু নেই, 'আমাকে এমন একজন মানুষ দাও এবং একটি ঘোড়া দাও, যে ঘোড়ায় চড়তে জানে, এসব গানের এবং অন্যান্য আরো গান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের এই যোদ্ধা কর্ণেল সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছুই বলে, এই কর্ণেলের সৈন্যদল এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। তিনি জানান যে, যখন তিনি ট্রেঞ্চের ভেতর এক দিক থেকে আরেক দিকে হাঁটাহাঁটি করছিলেন তিনি তাদের হাতগুলো এব তাদের অস্তিত্ব অনুভব করছিলেন।
তিনি জোফ্রে ও' হারাকে বলেছিলেনঃ "আমি আপনাকে বলছি, মৃত্যু বলে কোন কিছু নেই।” মি: ও' হারা 'মৃত্যু বলে কিছু নেই' এই কথাগুলো প্রয়োগ করে একটি মহান গান রচনা করেছিলেন।
যা হোক এসব গভীর এবং ধর্মানুভূতি সম্পন্ন বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন সন্দেহ নেই।
যাকে আমরা মৃত্যু বলি তারপরেও জীবন চলমান এ ধারণাকে আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি। আমি বিশ্বাস করি এই বিস্ময়কর ব্যাপারটির দুটো দিক আছে একটি দিক যেখানে আমরা এখন বসবাস করি আর বিস্ময়কর বিস্ময়টি হলো মৃত্যু, মৃত্যুর অপর যে দিক সেখানেও আমাদের জীবন চলমানই থাকবে। পরলৌকিক অবস্থাটি আমাদের মৃত্যু দিয়ে শুরু হয় না। আমরা এখন অনন্ত কালের মধ্যে আছি। আমরা অনন্ত কালের নাগরিক। আমরা শুধু আমাদের অভিজ্ঞতার পরিবর্তন করি যাকে আমরা বলি জীবন, এবং তা বদলায়, আমি ভালো কিছুর পিছু পিছু ছুটি।
আমার মা ছিলেন এক মহান আত্মার মানুষ, এবং এর প্রভাব সারাজীবন আমার উপর খুব বলিষ্ঠভাবে ক্রিয়া করবে এবং আমার এই অভিজ্ঞতাকে কোন কিছুই ছাড়িয়ে যেতে পারবে না। তিনি ছিলেন বিস্ময়কর এক অ্যালাপপট মানুষ। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ এবং সতর্ক মনের মানুষ। খ্রীষ্টান মিশনারী কাজের একজন নেত্রী হিসেবে তিনি সারা দুনিয়ার অনেক দেশ চষে বেরিয়েছেন এবং অনেকের সংস্পর্শে এসেছেন। তার জীবন ছিল পূর্ণ এবং সমৃদ্ধ। তার ছিল দারুণ রসবোধ। সঙ্গী হিসেবে তিনি ছিলেন দারুণ একজন, এবং সব সময় তার সাথে থাকতে আমার খুবই ভালো লাগ তো। যারাই তাকে চিনতো তারা সবাই তাকে সুবিবেচনার সাথে আচরণ করত; তিনি অসাধারণ মনোমুগ্ধকর এবং উৎসাহী এক ব্যক্তিত্বের মানুষ ছিলেন। সাবালকত্ব পর্যায়ে যখন এসেছি তখন যখনই সুযোগ করতে পেরেছি তার সাথে দেখা করতে বাড়িতে গিয়েছি আমি। সব সময় আমার প্রত্যাশা ছিল বাড়িতে পরিবারের কাছে ছুটে যাওয়া, কারণ সকালের নাস্তা খাবার সময় টেবিলে সবার সাথে একত্রে বসা এবং কথা বলার অভিজ্ঞতা ছিল সত্যিই উত্তেজনাকর। কি সুখকর পূর্ণমিলন-সবার সাথে কি চমৎকার সাক্ষাৎ লাভ। তারপর একদিন মৃত্যু তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল, তারপর দক্ষিণ ওহিত্তর ছোট্ট কবরস্থানে পরম যত্নে আর মমতায় তাকে সমাহিত করলাম, এই সেই ওহিও যেখানে তার বাল্যকাল কেটেছে। যেদিন তাকে শেষবারের মত চিরশয়নে রেখে এলাম, সেদিন আমার খুব খারাপ লেগেছিল এবং ভরাক্রান্ত হৃদয়ে সেখান থেকে ফিরে এলাম্ অন্তিম শয়নে বিশ্রামের জন্য। তার শেষ গৃহে যখন তাকে রাখতে গেলাম সময়টা তখন ছিল পুরোপুরি গ্রীষ্মকাল।
তারপর শরৎ এলো, এবং অনুভব করলাম যে আমি আমার মায়ের সাথে মিলিত হতে চাই। মাকে ছাড়া খুব একা একা লাগছিল, সেজন্য ঠিক করলাম যে আমি লিঞ্চবার্গে যাব। সারাটি রাত ট্রেনে বসে ভাবলাম, মনটা খারাপ হয়ে গেল, ভাবলাম কি-সুখের দিনগুলোই না ছিল আমাদের এখন তা অতীত এবং দিনগুলো সত্যিই কেমন বদলে গিয়েছে, আর কখনও তা আগের অবস্থায় ফিরে আসতে না।
তাই সেই ছোট্ট শহরটিতে আবার এলাম আমি। হাঁটতে হাঁটতে যখন কবরস্থানে এসে পৌঁছলাম তখন আবহাওয়া ছিল ঠাণ্ডা এবং আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। লোহার গেট খুলে ভেতরে ঢুকলাম এবং হাঁটার সময় এবং যেখানে একাকী বসলাম শুকনো পাতা খস খস করছিল। হঠাৎই মেঘ সরে গিয়ে সেখানে ঝলমলে রোদ দেখা দিল। সূর্যের আলো শরতের জাঁকালো আলোক সম্ভারে ঝলমলিয়ে দিলো, বাল্যকালে যে পাহাড়গুলোর কোলে বড় হয়েছিলাম আমি, এখনও সে জায়গাটিকে প্রচন্ড ভালোবাসি আমি, এবং এখানে অনেক আগে মা যখন বালিকা ছিলেন তখনও তিনিও এখানে খেলাধুলা করেছেন।
এসব যখন ভাবছি হঠাৎ করেই মনে হলো যেন মায়ের কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম। এখন কিন্তু আসলেই তার কণ্ঠস্বর শুনতে পাইনি আমি কিন্তু তেমনটিই মনে হয়েছিল। আমি নিশ্চিত যে, আমি আমার ভেতরের কর্ণে কণ্ঠস্বর শুনতে পেয়ে ছিলাম। বার্তাটি ছিল পরিষ্কার এবং সুষ্পষ্ট। তার সেই আগের স্মৃতিভরা কন্ঠে তিনি বললেন; “কেন তুমি মৃতদের মধ্যে জীবিতকে খুঁজ তো? আর্মি তো এখানে নেই। তোমার কি মনে হয় যে আমি এমন অন্ধকার এবং নিরানন্দ একটি জায়গায় থাকব? আমি সব সময় তোমার এবং আমার প্রীতিভাজনদের সাথে সাথেই আছি।” অন্তরলোকের আলোক বিচ্ছুরণে বিস্ময়কর ভাবে খুশি হয়ে উঠলাম আমি। আমি জানতাম আমি যা শুনেছিলাম তা সত্যি ছিল। যে বার্তাটি আমার কাছে এলো তা সত্যিকার শক্তি সহযোগেই এলো। আমি চিৎকার করতে পারতাম, এবং আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং স্মৃতিস্তম্ভের উপর চোখ ফেরালাম তাকিয়ে দেখলাম যে এটা আসলে কি, এটা একমাত্র জায়গা যেখানে মরণশীল অবশিংশট শায়িত থাকে। দেহটি সেখানে ছিল, নিশ্চিত হবার জন্য, কিন্তু এ ছিল শুধুই একটি কোট যা নিষ্কর্মা হয়ে পড়েছিল কারণ কোটটি যে পরিধান করত তার আর এটার কোন প্রয়োজন নেই। কিন্তু তিনি, যিনি ছিলেন গৌরবোজ্জলভাবে লাবণ্যময় আত্মায়, তিনি সেখানে ছিলেন না।
হাঁটতে হাঁটতে বের হয়ে এলাম সেখান থেকে এবং কদাচিৎ আমি আবার সেখানে ফিরে গিয়েছি। সেখানে যেতে এবং মায়ের কথা আর সেই পুরনো দিনের কথা ভাবতে আমার ভালোই লাগে, কিন্তু এ জায়গা এখন আর বিমর্ষ হয়ে থাকার জায়গা নয়। এ শুধুই এক প্রতীক, কারণ তিনি সেখানে নেই। তিনি এখন আমাদের সাথে অর্থাৎ তার প্রিয়জনদের সাথে আছেন। “কেন তোমরা মৃতের মাঝে জীবন্তকে খুঁজছ?” (লুক xiv.5)
বাইবেল পড়ুন কুরআন পড়ুন এবং বিশ্বাস করুন কারণ এখানে সৃষ্টিকর্তার মহত্বের কথা এবং আত্মার অমরত্বের কথা বলা হয়েছে। আন্তরিকভাবে এবং বিশ্বাসের সাথে প্রার্থনা করুন। প্রার্থনা এবং বিশ্বাস এদুটো বিষয়কে জীবনের অভ্যাস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করুন। সৃষ্টিকর্তার সাথে এবং যীশুখ্রীষ্টের সাথে সত্যিকার বন্ধুত্ব গড়ে তুলুন। যখন আপনি তা করবেন তখন দেখতে পাবেন আপনার মনের মধ্যে এই গভীর বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে যে এসব বিস্ময়কর বিষয় সমূহ ঠিকই সত্য।
“..... যদি তেমন না হতো, আমি আপনাকে বলতাম, (জন ১৪:২) যীশুখ্রীষ্টে বিশ্বাস স্থাপনের উপর আপনি নির্ভর করতে পারেন। পূত পবিত্র প্রকৃতির যা তাঁর উপর বিশ্বাস রাখতে এবং দৃঢ় বিশ্বাস ধারণ করতে তিনি দেবেন না যদি সত্যি হতো।
কাজেই এই বিশ্বাসে, যে বিশ্বাস খুবই বলিষ্ঠ, আ হিসেবে এবং অনন্ত কালের জন্য যা যুক্তিসঙ্গত, সেই আপন ব্যবস্থাপত্র দেয়া আছে। না তা সম্পূর্ণ এবং জীবনের উদ্দেশ্য হৃদ-শুলের জন্য

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00