📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 কিভাবে নিজের সুখ নিজেই তৈরি করতে হয়

📄 কিভাবে নিজের সুখ নিজেই তৈরি করতে হয়


আপনি সুখি হবেন কি সুখি হবেন না সে সিদ্ধান্ত কে নেবে? উত্তরটি হল- আপনি নেবেন।

টেলিভিশনের এক যশস্বী ব্যক্তির এক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে এক বুড়া লোক উপস্থিত ছিলেন। তিনি আসলে খুব অসাধারণ প্রকৃতির এক বুড়াই ছিলেন। তার মন্তব্যগুলো ছিল পুরোপুরি অচিন্তিতপূর্ব এবং অবশ্যই তা ছিল সম্পূর্ণরূপে মহরাবিহীন। তার মধ্যে থেকে এসব বুদবুদের মত স্বাভাবিক ভাবে উঠে আসত এবং এগুলো ছিল আনন্দব্যঞ্জক এবং সুখকর এবং যখনই তিনি যা কিছু বলেছেন তা ছিল খুবই অকপট, খুবই উপযুক্ত; যেকারণে সমস্ত শ্রোতাবৃন্দ সোল্লাসে হেসে উঠত। তারা তাকে ভালোবাসত। স্বনামধন্য এ লোকটিও অনুপ্রাণিতবোধ করতেন এবং অন্যদের সাথে সেই মজার সময়টুকু উপভোগ করতেন।

অবশেষে তিনি সেই বৃদ্ধলোকটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কেন আপনি এত উল্লসিত ছিলেন। 'নিশ্চয়ই আপনার এই আনন্দ উল্লাসের পেছনে বিস্ময়কর এবং গোপন কোন কারণ আছে।"

'না' সোজাসুজি জবাব দিলেন বুড়া, "বড় ধরণের গোপন রহস্য এর পেছনে নেই আমার।” আপনার মুখের উপর যেমন একটি মার্ক আছে থাকাটা যেমন স্বাভাবিক আমার ব্যাপারটিও তেমনি স্বাভাবিক। সকালে যখন আমি ঘুম থেকে উঠি, একটি ব্যাখ্যা দিতে লাগলেন তিনি, "আমার দুটো জিনিস পছন্দ আছে, হয় সুখি হব, না হয় অসুখি হব। এবং আপনার কি মনে হয়; আমি কোনটা হব? অবশ্যই আমি সুখি হওয়াকেই পছন্দ করব, এবং আমার মধ্যে যথেষ্ট পরিমাণই আছে।

এই যে ব্যাপারটি; তা মনে হতে পারে অতিমাত্রা সাধারণ এবং এও মনে হতে পারে যে, বুড়া হয়ত ভাসা ভাসা প্রকৃতির এক মানুষ, কিন্তু আমার মনে পড়ে যে আব্রাহাম লিংকনকে নিশ্চয়ই এমন ভাসা ভাসা অর্থাৎ অগভীর প্রকৃতির লোক বলে অভিযুক্ত করবে না, কারণ তিনি ও বলেছিলেন, “জনগণ মনে মনে যতটা সুখি হতে চাইবেন প্রায় ঠিক ততটাই সুখি হতে পারবেন।" যদি আপনি চান তাহলে আপনি সুখি হতেই পারেন। কোনোকিছুকে কোন বিশেষ গুণে বিভূষিত করা এ দুনিয়াতে সচেয়ে সোজা কাজ। অসুখি হবেন ঠিক এমন একটি সিদ্ধান্ত নিন। চারিদিকে যান, একে ওকে বলেন যে, আপনার কিছুই ভালো যাচ্ছে না, কোন কিছুতেই সন্তুষ্টি নেই আপনার এবং এতে আপনার অসুখি হওয়া নিশ্চিত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি আপনি এমন কথা বলেন, “সবকিছু সুন্দরই যাচ্ছে। জীবনটা বেশ ভালো সুখ আমি পছন্দ করি।” এবং আপনি তাতে আপনার পছন্দ করা চাওয়াটা পাওয়ার জন্য পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেন।

প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে ছোট ছোট ছেলে মেয়ে সুখের ব্যাপারে বেশি দক্ষতার পরিচয় দিয়ে থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক যদি তার মধ্য বয়স বা বৃদ্ধা বয়সে একজন কম বয়সের ছেলে বা মেয়ের প্রাণবন্ত ভাবটি গ্রহণ করতে পারে তাহলে তিনি হবেন একজন বিশিষ্ট লোক, কারণ তিনি সত্যিকারের সুখি বা প্রাণবন্ত মন মানসিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন। যার সাথে বিধাতা প্রদত্ত যৌবন সংযুক্ত হয়েছে। যীশুখ্রিস্টের দেয়া সুক্ষ ব্যাখ্যাটি স্মরণীয়, কারণ উনি আমাদের বলছেন যে “পৃথিবীতে তোমরা শিশুর মত হৃদয় ও মন নিয়ে বেঁচে থাক।” আবার অন্যভাবে বলেছেন, কখনও বৃদ্ধ বা নিরুৎসাহ বা শ্রান্ত হবে না। অতিমাত্রায় সংসারাভিজ্ঞ হতে যেয়ো না।"

আমার ছোট্ট মেয়ে এলিজাবেথ, নয় বছর বয়স সুখ সম্বন্ধে তার ধারণাটি কেমন দেখুন। একদিন আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, "মিষ্টি মেয়ে বলত তুমি কি সুখি?” জবাবে সে বলল, “অবশ্যই আমি সুখি।”

আবার তাকে জিজ্ঞাস করলাম, “তুমি কি সবসময় সুখি?” “অবশ্যই আমি সবসময়ই সুখি।” দ্বিধাহীন জবাব।

আমি জানতে চাইলাম, কি তোমাকে সুখি করে?

কেন সুখি তা আমি জানিনা, তবে আমি ঠিকই সুখি। আমি জোর দিয়েই বললাম, অবশ্যই কিছু না কিছু আছে যা তোমাকে সুখি করে।

সে বলল, “বেশ আমি তোমাকে বলছি কিভাবে আমি সুখি। আমার খেলার সাথীরা আমাকে সুখি করে। আমি তাদের পছন্দ করি। আমার স্কুল আমাকে সুখি করে। তাই প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভালো লাগে আমার "(আমি তাকে কিছুই বলিনি। কিন্তু সে কখনই তা আমার কাছ থেকে শুনত না "আমি আমার শিক্ষকদের পছন্দ করি। গীর্জায় যেতে ভালো লাগে আমার রবিবারের স্কুল এবং সেখানকার শিক্ষকদের ভালো লাগে আমার, আমার বোন মার্গারেটকে ভালোবাসি, আমি এবং ভাই জনকেও আমি ভালোবাসি। আমি আমার বাবা মাকেও ভালোবাসি, তারা আমার যত্ন নেন। অসুস্থ হলে ও আমার যত্ন নেন তারা এবং তারা আমাকে ভালোবাসে এবং তারা আমার খুব প্রিয়।”

এ হলো এলিজাবেথের সুখি হবার মূলসূত্র এবং আমার মনে হয় সে যা যা বলেছে অর্থাৎ তার খেলার সাথীরা, স্কুল, রবিবারের স্কুল তার শিক্ষকরা, গীর্জা ভাই, বোন বাবা মায়ের সেবা যত্ন, ভালোবাসা এসব কিছুই তার সুখি হবার উৎসগুলোর মধ্যেই নিহিত। আপনার জীবনের সর্বোচ্চ সুখকর সময়।

একদল ছেলেমেয়েকে বলা হয়েছিল যে, যে বিষয়গুলো তোমাদের সবচেয়ে সুখি করেছিল তার একটা তালিকা তৈরি করার জন্য। তাদের জবাবগুলো ছিল মনে বেশ দাগ কাটার মত।

ছেলেদের তালিকাটা এখানে তুলে দেয়া হল একটি দোয়েল পাখি উড়ছে তাকিয়ে আছে গভীর স্বচ্ছ পানির নীচে, পানি কেটে চলছে নৌকা ধনুক রেখা এঁকে, দ্রুতগতি রেলগাড়ি ধেয়ে চলছে সম্মুখে; নির্মাণ কাজের ক্রেনটি উত্তোলন করছে ভারি কোন বস্তু, এবং আমার পোষা কুকুরের দুটো চোখ।

এখানে তুলে দেয়া হলো মেয়েরা কেমন করে সুখি হয়েছিল সেই তালিকাঃ নদীর পানিতে রাস্তার বাতির প্রতিফলন; গাছ গাছালির ফাঁক দিয়ে দেখা লাল লাল দালানকোঠার ছাদ চিমনী হতে উর্ধ্বে ওঠে আসা ধোঁয়া। লাল মখমলের কাপড় মেঘেঢাকা চাঁদ, কখনও আড়ালে কখনও আধখোলা মুখে উঁকি মারছে এ বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের অসাধারণ সুরভির মধ্যে দারুণ কিছু একটা আছে। যা ওরা এসবের মধ্যে প্রকাশ করেছে, যদিও প্রকাশটা আধো আবরণে ঢাকা তবুও সুন্দর। তাই বলি যদি একজন সুখি মানুষ হতে চান তবে একটি পরিচ্ছন্ন আত্মাকে ধারণ করুন, ধারন করুণ সুন্দর দুটি চোখ। যা সাধারণ জায়গায় দেখতে পায় মনোহর কিছু, দেখতে পায় শিশুর সরলচিত্ত এবং আধ্যাত্মিক সরলতা।

আমাদের অনেকেই নিজেদের সুখ নিজেরাই প্রস্তুত করে। অবশ্য সব সুখই যে নিজেদের তৈরি তা নয়, সামাজিক অবস্থাও আমাদের বেশকিছু দল সুখই ওশি দুঃখ কষ্টের জন্য দায়ী। তবে এখনও এটা সত্যি যে, বহুলাংশে আমাদের চিন্তাশক্তি এবং মনোভাব যা আমরা আমাদের জীবন উপকরণ থেকে একটু একটু করে বের করে আনি তা আমাদের জন্য সুখপ্রদও হতে পারে আবার অসুখপ্রদও হতে পারে।

'পাঁচজন মানুষের মধ্যে চারজন মানুষই খুব একটা সুখী নয় যেমনটা তারা হতে পারে,' এ ধারণাটি ঘোষণা করে একটি বিখ্যাত লেখক এবং তিনি আরো বলেন, “সুখহীনতা হল মনের সবচেয়ে স্বাভাবিক একটি অবস্থা।"

একথা বলতে আমি দ্বিধাবোধ করব যে, মানুষের সুখবোধ এত নীচুস্তর পর্যন্ত আঘাত করতে পারে কিনা কিন্তু আমি অবশ্যই দেখতে পাই যে, আমি যতটুকু হিসাব করতে উদ্বিগ্নবোধ করি তার থেকে বেশিসংখ্যক লোক অসুখি জীবন যাপন করছেন। যেহেতু প্রতিটি মানুষের মৌলিক ইচ্ছা হল সুখের অবস্থায় থাকা কিন্তু তার জন্যতো কিছু করতে হবে। সুখি অবস্থা কার্যে পরিণত করা সম্ভব এবং সুখ পাওয়ার পদ্ধতি জটিল কিছু নয়। যে কেউ যদি সুখ পাবার বা সুখি হবার বাঞ্চা করে এবং যে সঠিক পদ্ধতি শেখে এবং সঠিক সূত্র প্রয়োগ করে সে সুখি হতে পারে।

একবার রেলগাড়ির ভোজনকক্ষে স্বামী স্ত্রী যুগলের বরাবর বসেছি এরা আমার কাছে অপরিচিত। মহিলাটি বহুমূল্যবান পোষাকে সজ্জিত, যেমন সুক্ষ পশুলোম হীরক এসব দ্রব্যে কারুকাজ খচিত পোষাক মহিলা পরেছিলেন কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হল অশান্তিতে সময় কাটছে মহিলার। বেশ জোরে জোরেই মহিলা সোজা সাপটা বলে দিলেন যে, গাড়িটা নোংরা এবং ঠাণ্ডা খাদ্য পরিবেশন একেবারে খারাপ, খাবার দাবারে কোন স্বাদগন্ধ নেই। নানানরকম নালিশ টালিশ করে সবকিছুর জন্য খুব বিরক্তি প্রকাশ করলেন।

কিন্তু অন্যদিকে তার স্বামী লোকটি কিন্তু সহানুভূতি সম্পন্ন অমায়িক এবং শান্তিপ্রিয় লোক। সুস্পষ্টভাবেই এটা বোঝা যায় যে, যা যেমন এসেছে উনি তার সবই সহজে মেনে নিতে পারছেন। আমার মনে হল যে তার স্ত্রীর এমন জটিল মনমানসিকতায় তিনি বিব্রতবোধ করছিলেন এবং কিছুটা হতাশও বোধ করছিলেন। যেহেতু তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রমোদ ভ্রমণে বের হয়েছিলেন।

আলাপচারিতা পরিবর্তন করার জন্য তিনি জানতে চাইলেন আমি কিসের সাথে জড়িত তারপর নিজের সম্পর্কে বললেন, উনি একজন আইন ব্যবসায়ী। তারপরই বড় একটা ভুল করে ফেললেন তিনি, দেঁ তো হাসি হেসে বললেন, তার স্ত্রী শিল্পসামগ্রী উৎপাদনের ব্যবসার সাথে জড়িত। বিস্মিত হবার মত ব্যাপার ছিল যে তাকে দেখে আমার মনে হয়নি তিনি শিল্পপতি বা সহকারী হবার মত কেউ একজন তাই জানতে চাইলাম: "উনি কি তৈরি করেন।" "অসন্তুষ্টিতে” তিনি জবাব দিলেন। "উনি নিজেই নিজের অসন্তুষ্টি উৎপাদন করেন।"

বরফের মত ঠাণ্ডা হওয়া সত্যে ও অবিবেচনাপ্রসূত এই ব্যাপারটি যেন টেবিলের উপর স্থির হয়ে পড়ল। তার এই বিজ্ঞ মন্তব্যে আমি কতার্থ হয়েছিলাম। কারণ ঐ মন্তব্য এটাই বলে দেয় যে, “অসংখ্য লোক তো তাই করে। তারা নিজেরাই তাদের অসন্তুষ্টি উৎপাদন করে"।

এটা আরো দুঃজনক বিষয় যে, মানুষের মনই অনেক সমস্যার জন্ম দেয় এবং তা আমাদের সুখকর অবস্থাকে এত দুর্বল করে দেয় যে, পরবর্তীতে বোকার মত আমরা নিজেরাই মনে আরো অসন্তুষ্টি জমা দিয়ে দিয়ে থাকি। নিজেদের অজস্র কষ্ট ক্লেশের সাথে কেমন বোকার মত আমরা আমাদের ব্যক্তিগত অসন্তুষ্টি আরো বেশি করে তৈরি করি। যার উপর হয়ত সামান্য বা কোনরকম নিয়ন্ত্রণই নেই আমাদের।

নিজেদের অসন্তুষ্টি বৃদ্ধির যে পথ মানুষ অবলম্বন করে সেদিকে জোর না দিয়ে আসুন আমরা বরং সেই পথ ও পদ্ধতির দিকে অগ্রসর হই। যার মাধ্যমে আমাদের দুঃখ কষ্ট অবসানের দিকে চিন্তা ভাবনা করেই আমাদের নানাবিধ অসন্তুষ্টি তৈরি করছি। একধরণের বিরূপ মনোভাব পোষণ করা আমাদের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেমন আমাদের এমন একটি অনুভূতি আছে যে, সবকিছুই খারাপ দিকে যাচ্ছে অথবা অন্যদের সম্বন্ধে ভাবি যে, ওরা যা পাবার উপযুক্ত নয় তাই ওরা পেয়ে যাচ্ছে এবং আমরা যা পাবার যোগ্য তা আমরা পাচ্ছি না। আমরা আমাদের দুঃখ কষ্টকে একটু একটু করে পরিপূর্ণ করে ফেলছি আমাদের চেতনাকে নানারকম বাজে অনুভূতির দ্বারা। যেমন, বিদ্বেষ, বাজে ইচ্ছা এবং ঘৃণা প্রকাশ দ্বারা অসন্তুষ্টি উৎপাদনকারী পদ্ধতি সবসময় ভয় এবং বিরক্তি উৎপাদনকারী উপাদানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার তৈরি করে। এসব বিষয়গুলো এই বইয়ের অন্যত্র আলোচনা করা হয়েছে। আমরা শুধুমাত্র বর্তমান সময়কেই নির্দেশ করতে চাই, এবং প্রচণ্ড জোর দিয়ে বলতে চাই যে, মেটিামুটি ভাবে সবার মধ্যে আনুপাতিকভাবে সুখহীনতার যে বিরাট অস্তিত্ব বর্তমান তার সবটাই নিজেদের তৈরি। তাহলে কিভাবে আমরা সুখহীনতার জায়গায় সুখি হবার মত অবস্থা তৈরি করতে পারবো। আমার রেলগাড়িতে ভ্রমণের এক ঘটনা থেকে এর একটি সদুত্তর পাওয়া যেতে পারে। একদিন সকালে একটি সেকেলে ধরনের পুলম্যান করে আমরা প্রায় মোটামুটি আধডজন লোক পুরুষদের বিশ্রাম কক্ষে বসে দাড়ি সেভ করছিলাম। সবসময়ই রেলগাড়ির এমন একটি আটসাট এবং জনার্কীন কক্ষে রাত্রি পার করার পর; এই আগন্তক দলটির একটু উল্লসিত হবার কোন ইচ্ছা ছিল না; এদের মধ্যে সামান্য কথাবার্তা চলছিল এবং বেশির ভাগ বিড় বিড় ছাড়া আর কিছুই ছিল না। এরপর এক লোক মুখে বিস্তৃত হাসি নিয়ে এসে কক্ষে প্রবেশ করলেন। উৎফুল্লমনে সুপ্রভাত বলে সবাইকে অভিবাদন জানালেন, কিন্তু সবাই তার প্রতি কোন আগ্রহ না দেখিয়ে বরং কিছুটা ক্রোধান্বিত ভাবই দেখালেন। যখন তিনি সেভ করতে যাচ্ছিলেন সম্ভবত একেবারেই অসতর্কভাবে হালকা ফুড়ফুড়ে মনে গুণ গুণ করে গান গাইছিলেন। এতে কিছু লোকের তন্দ্রীতে যেন একটু ঘা পড়ল। শেষমেশ তো একজন কিছুটা বিদ্রূপের সাথে বলেই ফেলল, "আজকের সকালে আপনাকে খুব খুশি মনে হচ্ছে! এত খুশি হবার কারণটা কী?”

“হ্যাঁ,” লোকটি জবাবে বললেন, “সত্যি কথা কি, আমি খুশি। আমি অবশ্যই উৎফুল্ল বোধ করছি।” তারপর আবার বললেন, "খুশি হবার ব্যাপারটা আমি অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছি।” লোকটি যা বললেন তাতো ছিল এই কিন্তু আমি নিশ্চিত যে বিশ্রামকক্ষের সবকজন লোক মনে মনে ঐ মজার কথা গুলো গেঁথে নিয়েই ট্রেন ছেড়েছেন। 'খুশি হবার ব্যাপারটিকে আমি অভ্যাসে পরিণত করেছি।'

ভাবতে গেলে এ উক্তিটি খুবই গভীর কারণ, সুখি হওয়া বা দুঃখী হওয়াটা নির্ভর করে আমাদের মনের মধ্যে যে অভ্যাসের আবাদ আমরা করি তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রার উপর। সারগর্ভ বাণীর যে সংগ্রহশালা, অর্থাৎ বাণী চিরন্তনী আমাদের বলে যে... "যার একটি হৃষ্টচিত্ত আছে তার আছে নিরন্তর আনন্দ।” (Proverbs XV.15) অন্যভাবে বলতে গেলে, হৃষ্ট চিত্ত ধরে রাখার আবাদ বা চর্চা করুন দেখবেন জীবন নিরন্তর আনন্দে ভরে ওঠেছে, তার মানে হল যে, আপনি প্রতিদিনই সুন্দর জীবন উপভোগ করতে পারবেন। সুখি অবস্থার অভ্যাস করনের মধ্যে দিয়েই এসে উপস্থিত হয় সুখি জীবন এবং যেহেতু আমরা অভ্যাসের চর্চা বা আবাদ করতে পারি, কাজেই নিজেদের সুখ নিজেরাই তৈরি করার ক্ষমতাও আমাদের আছে।

সুখি হবার অভ্যাসটি আরো উন্নত হতে পারে শুধুমাত্র সুখচিন্তনের অনুশীলনের মাধ্যমে। প্রথমে সুখচিন্তনের একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন এবং প্রতিদিন কয়েকবার তা মনের মধ্য দিয়ে পরিচালিত করুণ। যদি কোন একটি অসুখপ্রদ চিন্তা আপনার মনের ভেতর ঢুকে পড়ে অনতিবিলম্বে তা থামিয়ে দিন। সচেতনভাবেই তাকে মন থেকে দূর করে দিন এবং সকালে বিছানা ছাড়ার আগে, বেশ আয়েশ করে শুয়ে থাকুন এবং ধীরে ধীরে একটু একটু করে সুখচিন্তা আপনার সচেতন মনে বর্ষণ করতে থাকুন। সারাদিনে পেতে পারেন এমন সব সুখপ্রদ অভিজ্ঞতার ধারাবাহিক ছবি আপনার মনের উপর দিয়ে পরিচালিত করুন। এর আস্বাদন নিন। এধরনের চিন্তাগুলোর এভাবেই সুন্দর কিছু উৎপন্ন করতে বিশেষ সহায়ক হবে। এটা কখনই মনে গেঁথে বসতে দেবেন না, যে আজ আমার দিনটি ভালো যাবে না। কেবলমাত্র একথাটি দৃঢ়চিত্তে বলুন যে, আসলেই আমি সুখি হতে পারি। ছোট বড় সবধরনের হেতু বা কারণের সিন্ধান্ত নিজে নিন, দেখবেন অসুখকর অবস্থার বিষয় তা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এর ফলস্বরূপ দেখবেন যে, আপনি নিজেই নিজেকে জিজ্ঞেস করছেন; “আমার সবকিছুই খারাপ যাচ্ছে কেন? সব ব্যাপারই এমন কেন হচ্ছে?"

আপনার মননে একটি দিন আপনি কিভাবে শুরু করলেন, কার্যকরণ কিন্তু সরাসরি সেই পদাঙ্কই অনুসরণ করবে।

তারচেয়ে আপনি কাল আবার এই পরিকল্পনাটি নিয়ে চেষ্টা চালান। সুখন আপনি ঘুম থেকে ওঠেন তখন জোরে এই বাক্যটি তিনবার বলেন, "আজকের এই দিনটি বিধাতার সৃষ্টি; এই দিনটিতে আমি আনন্দে উল্লাসিত হব।” কেবলই আত্মস্থ হোন এবং বলুন এই দিনটিতে আমি আনন্দে উল্লাসিত হব। জোর দিয়ে পরিস্কার কণ্ঠে এবং নিশ্চয়তার ভাব নিয়ে জোরালোভাবে বার বার এই উক্তিটি অবশ্যই বাইবেলে উল্লিখিত এবং এটি একটি চমৎকার দুঃখনাশক ব্যবস্থা। প্রাত ভোজের আগে আপনি যদি এই উক্তিটি পুনপুন তিনবার বলেন এবং এর যা অর্থ তার উপর ধ্যান করেন, তাহলে ঐ দিনটির ধাত বদলে দিয়ে একটি সুন্দর মনস্তাত্বিক অবস্থা নিয়ে আপনি দিনটি শুরু করতে পারবেন।

কি কাপড় পরার সময়, কি সেভিং এর সময় কি প্রাতঃভোজনের সময়, নিম্নে উল্লেখিত কয়েকটি শব্দ জোরে জোরে বলুন, "আমি বিশ্বাস করি যে, আজকের দিনটি চমৎকার কাটতে যাচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি যে আজকের সমস্ত সমস্যা আমি স্বর্থকরূপে সমাধান করতে পারব। স্বাস্থ্যগতভাবে মানসিকভাবে এবং আবেগের দিক থেকেও আমি আজ ভালো কাটাব। বেঁচে থাকাটা সত্যিই বিস্ময়কর। আমার যা যা ছিল তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং এখন যা যা আছে তার সবকিছুর জন্য আমি কৃতজ্ঞ এবং আগামীতে যা যা আমি পাব তার জন্যও আমি কৃতজ্ঞ। কোনকিছুই আমা থেকে সরে যাচ্ছে না। সৃষ্টিকর্তা আমার সাথে সাথেই আছেন এবং তিনি আমাকে সবসময় দেখাশুনা করবেন। সমস্ত ভালোর জন্য তাকে ধন্যবাদ।

একসময় আমি এক অসুখি প্রকৃতির লোককে চিনতাম যে সবসময় প্রাতঃভোজনকালে তার স্ত্রীকে বলতেন, আর একটি কঠিন দিন কাটাতে যাচ্ছি। এটা যে তিনি আসলেই ভাবতেন তা নয়, কিন্তু এটা ছিল তার একটি মানসিক ছলের মতই, যাদ্বারা; যদি তিনি বলতেন যে আর একটি খারাপ দিন কাটাতে যাচ্ছি হয়ত দেখা যেতো যে ঐ দিনটি সুন্দরভাবেই কেটে যেতে পারতো। আসলে কিন্তু দিনটি তার শুরু হয়েছিল বাঝে ভাবেই, তাতে কিন্তু বিস্মিত হবার কিছুই ছিল না। কারণ যদি আপনি মনশ্চক্ষুতে দেখেন এক অসুখপ্রদ একটি ফল সম্বন্ধে নিশ্চিত হন, তবে তা দ্বারা আপনি ঠিক তেমন বাজে অবস্থার দিকেই বেঁকে পড়ছেন। কাজেই এর উল্টোটা করুণ, প্রতিদিনের শুরুতে এটাই ভাবুন যে আজকের দিনের ফলটি হবে সুখপ্রদ, এবং আপনি বিস্মিত হবেন এই দেখে যে সত্যি সত্যি কত ভালো কিছুই ঘটছে এ দিনটিতে।

কিন্তু এটা এমনি এমনি প্রয়োগ করলে হবে না, বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও নিশ্চয়তাজ্ঞাপক চিকিৎসা ব্যবস্থা হিসেবে একে প্রয়োগ করতে হবে যেমনটা আমি আপনাদের পরামর্শ দিয়েছি, নচেৎ সারাদিন ব্যাপী আপনিও আপনর কাজের এবং মনোভাবের উপর সুখি ভাবে বেঁচে থাকার মৌলিক নীতিগুলোকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন।

এমনই একটি অতি সাধারণ এবং মূল নীতি হল মানুষের অকাট্য ভালোবাসা এবং শুভেচ্ছা। আন্তরিক, সহানুভূতি প্রকাশের এবং কোমলতা প্রকাশের মধ্যে কি বিস্ময়কর সুখ রয়েছে তা সত্যি মুগ্ধ হবার মত। আমার বন্ধু ডা. স্যামুয়েল সুমেকার একবার তার এক ঘনিষ্ট বন্ধুর ভ্রমণ গাঁথা লিখলেন ইয়াং নাম্বে বন্ধুটি নিউইয়র্কের গ্যান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনের রেলস্টেশনে ৪২ নম্বর পোর্টার হিসেবে সুখ্যাত । জীবিকার জন্য যাত্রীদের ব্যাগ বয়ে থাকে কিন্তু তার আসল কাজ ছিল বিশ্বের বৃহত্তম রেলওয়ে স্টেশনগুলোর একটিতে পোর্টার হিসেবে খ্রিস্টীয় মনোভাক নিয়ে বেঁচে থাকা। যখন সে কোন লোকের সুটকেস বহন করত তখন সে তার জ্যাথে খ্রিস্টান সূলভ সখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করত। সে খুব সতর্কভাবে একজন খদ্দেরকে লক্ষ করত এটাই নিরীখ করার জন্য যে, যদি তাকে আরো সাহস এবং আশাভরসা দেয়া যায়। আর এ বিষয়ে কিভাবে অগ্রসর হতে হবে সেদিক থেকে সে ছিল খুবই নিপুন।

উদাহরণ স্বরূপ একদিন এক ছোটখাটো বৃদ্ধা মহিলা তাকে ট্রেনে তুলে দিতে অনুরোধ করলেন। বৃদ্ধাটি ছিলেন একটি হুইল চেয়ারে। কাজেই তিনি তাকে এলিভেটরে উঠালেন। যখন সে তাকে হুইল চেয়ারে করে এলিভেটরের ভেতর নিয়ে যায় তখন লক্ষ করল যে বৃদ্ধার চোখে পানি। এলিভেটর যখন নীচে নামলো র‍্যালস্টোন ইয়াং সেখানে দাঁড়ালো, তার চোখ বন্ধ করলো এবং বিধাতার উদ্দেশ্যে বলল, কিভাবে এ বৃদ্ধাকে সে সাহায্য করতে পারে, এবং বিধাতা তাকে একটি পথ দেখালেন। যখন তাকে নিয়ে এলিভেটরে রাখল, তারপর বলল, "ম্যাম যদি কিছু মনে না করেন তা হলে একটি কথা বলি, এবং তা হলো অত্যন্ত সুন্দর একটি টুপি আপনি পরে আছেন। তিনি চোখ ফিরে তাকালেন র‍্যালের দিকে এবং বললেন, তোমাকে ধন্যবাদ।

"এবং আমি বলতে পারি, আপনি যে পোষাকটি পড়ে আছেন তাও অনেক সুন্দর, আপনার এ পোষাকটি আমার খুবই পছন্দ।”

একজন মহিলা হওয়াতে, আমার কথাগুলো খুবই মনে ধরল তার এবং তার ভালো লাগছিল না। তা সত্যেও তিনি খুশি হয়ে উঠলেন এবং জানতে চাইলেন, আমার এসব জিনিস খুব সুন্দর কেন তুমি আমাকে বলছ? তোমার কথাগুলো আমাকে ভাবিয়ে তুলছে।

“বেশ, তাহলে বলছি, "আমি লক্ষ করলাম যে আপনি বেশ দুঃখিনী, দেখলাম যে আপনি নীরবে কাঁদছেন, এবং আমি বিধাতার কাছে জানতে চাইলাম যে, কিভাবে আপনাকে সাহায্য করতে পারি।” বিধাতা বললেন, “তার কাছে তার টুপির কথা বল।" "আর পোষাক সম্বন্ধে যে উল্লেখ করা হল তা নিজস্ব পরিকল্পনা থেকে করা হল।"

র‍্যালস্টোন তখন জিজ্ঞেস করলেন, এখন কি আপনার ভালো লাগছে না?

“না” তিনি জবাব দিলেন। "অনুক্ষণ আমি কষ্ট পাচ্ছি। আমি কখনও এ থেকে রেহাই পাইনি। মাঝে মাঝে আমি ভাবি এর বিরুদ্ধে আমি রুখে দাঁড়াতে পারব না। তুমি কি কোনভাবে বলতে পার যে, সারাক্ষণ মনে কষ্ট থাকলে তার অর্থ কি দাঁড়ায়।

র‍্যালস্টোন এর জবাবে বলল, "হ্যাঁ ম্যাম, আমি পারি, কারণ আমার একটি চোখ আমি হারিয়েছি, এবং তপ্ত লোহার মত আমাকে সারাদিন কষ্ট দেয়।"

"কিন্তু তোমাকে দেখে এখন সুখিই মনে হয়। কিভাবে তা সম্ভব করেছ?

ইতোমধ্যে মহিলা ট্রেনে তার আসন করে নিয়েছেন এবং আমি বললাম শুধুমাত্র প্রার্থনার সাহায্যে, ম্যাম, শুধুমাত্র প্রার্থনার সাহায্যে।

নরম গলায় মহিলা বললেন, শুধুমাত্র প্রার্থনার সাহায্যে তোমার কষ্ট চলে গেল?

“বেশ, জবাব দিল র‍্যালস্টোন, "হয়ত সবসময়ই তা হয় না। আমি বলতে পারি না যে তা হয়-ই কিন্তু তা সবসময় আপনাকে আপনার প্রচণ্ড কষ্টকে জয় করতে শক্তি যোগাবে। আপনি শুধু প্রার্থনারত থাকুন, ম্যাম, এবং আমিও আপনার জন্য প্রার্থনা করব।"

এই সময়টায় তার চোখের পানি শুকিয়ে গিয়েছিল, এবং তিনি সুন্দর হাসি মাখা মুখে র‍্যালস্টোনের দিকে তাকালেন, তার হাতটি নিজের হাতে তুলে নিলেন এবং বললেন, তুমি আমার জন্যে অনেক ভালো কিছু করলে।” একটি বছর পার হয়ে গেল, এবং একরাতে গ্রান্ড সেন্ট্রাল স্টেশনে র‍্যালস্টোন ইয়ং ভৃত্যটি ইনফরমেশন বুথে এলো। একজন যুবতি সেখানে অপেক্ষারত ছিলেন এবং বললেন, "আমি এক মৃতের কাছ থেকে একটি সংবাদ তোমার জন্য এনেছি। মৃত্যুর আগে আমার মা তোমাকে খুঁজে বের করতে বলেছেন এবং তোমাকে বলতে বলেছেন যে, গতবছর তুমি যখন তাকে হুইল চেয়ারে করে ট্রেনে তুলে দিয়েছিলে তখন তুমি তাকে কতখানি সাহায্য সহযোগিতা করে ছিলে। এমন কি পরলোক থেকেও তিনি সবসময় তোমাকে স্মরণ করবেন। তিনি তোমাকে এজন্য স্মরন করবেন কারণ তুমি তার প্রতি দয়া ও ভালোবাসা দেখিয়েছিলে এবং তুমি তার কষ্ট বুঝতে পেরেছিলে।” কথাগুলো বলতে বলতে মেয়েটির চোখ থেকে পানি ঝরছিল। এবং দুঃখে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছিলো।

র‍্যালস্টোন শান্তভাবে তাকে লক্ষ্য করছিল। তারপর বলল, "কাঁদবেন না, মিসি, কাঁদবেন না। কান্নাকাটি করা ঠিক নয়, তারচেয়ে বিধাতাকে ধন্যবাদ দিয়ে প্রার্থনা করুন।"

কিছুটা বিস্মিত হয়ে মেয়েটি বলল, "কেন আমি ধন্যবাদ দিয়ে প্রার্থনা করব?" 'কারণ, অনেক মানুষই আপনার থেকে কম বয়সে মা বাপ হারিয়ে এতিম হয়েছে। আপনি অনেক অনেকদিন আপনার মাকে সাথে পেয়েছেন, তাছাড়া আপনি এখনও তাকে সাথে পাচ্ছেন। আপনি আবার তাকে দেখতে পাবেন। তিনি আপনার কাছাকাছিই আছেন এবং সবসময় আপনার কাছাকাছিই থাকবেন। র‍্যালস্টোন আরো বলল, হয়ত, ঠিক এই মুহূর্তে তিনি আমাদের সাথেই আছেন আমাদের দুজনের সাথেই যখন আমরা কথা বলছি।

ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ থেমে গেল মেয়েটির, শুকিয়ে গেল চোখের পানিও। মায়ের মনে যেমনটি হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে র‍্যালস্টোনের মায়াজর কথা তার মেয়ের উপরও একই প্রভাব ফেলল। এতবড় স্টেশনে হাজারো মানুষের চলাচলের মধ্যে ঐ দুজন একজনের উপস্থিতি উপলব্ধি করছে যিনি আশ্চর্য্য ঐ ভুত্যকে অনুপ্রাণিত করেছেন চারিদিকের মানুষগুলোর মধ্যে ভালোবাসা ছড়াতে।

টলষ্টয় বলেছেন, "কোথায় ভালোবাসা ঈশ্বর” “ঈশ্বর নিজেই ভালোবাসা” এবং আমরা আরও একটু বাড়িয়ে বলতে পারি, যেখানে ঈশ্বর আছে আর ভালোবাসা আছে, সেখানে আনন্দও বিরাজমান। কাজেই সুখ পাবার প্রধান এবং বাস্তব নিয়ম হল ভালোবাসার চর্চা করা।

আমার এক সত্যিকারের সুখি বন্ধু এইচ, জি, ম্যাটার্ন, উনার স্ত্রীও সমান সুখি মহিলা, স্বামীর কাজের সুবাদে দুজনেই সারাদেশ ঘুরে বেড়ান। মি. ম্যাটার্ন সাথে করে বয়ে বেড়ান তার অসাধারণ বিজনেস কার্ডটি যার উল্টো পিঠে কিছু দার্শনিক তত্ব লিখা আর এ লিখা তার এবং তার স্ত্রীর জীবনে নিয়ে এসেছে অনাবিল আনন্দ, এমন কি আরো শত শত সৌভাগ্যবান মানুষের জীবনেও; যারা এই দুই ব্যক্তিত্বের সাচর্যে এসেছেন এবং একাত্ব অনুভব করেছেন।

কার্ডে লিখা কথাগুলো এরকম, "সুখি হবার পথ” 'ঘৃনাবোধ থেকে এবং উদ্বিগ্ন হওয়া থেকে আপনার হৃদয়কে মুক্ত রাখুন। সহজ সরল জীবন যাপন করুন। আশা করুন অল্প কিন্তু দান করুন বেশি। ভালোবাসা দিয়ে জীবনকে কানায় কানায় পূর্ণ করুণ। হৃদয় থেকে সূর্যের মত জ্যোতি চারিদিকে ছড়িয়ে দিন। নিজের স্বার্থ ভুলে অপরের মঙ্গল চিন্তা করুন। অপরের প্রতি তেমন কিছু করুন যেমনটা নিজের জন্য আশা করেন। সপ্তাহখানেক এমনটি যাচাই করে দেখুন। দেখবেন বিস্মিত হবার মত কিছু ঘটে গেছে।'

একথা গুলো যখন আপনি পড়েন তখন হয়ত বলতে পারেন, 'এর মধ্যে নতুন কিছুই নেই।' প্রকৃতপক্ষে এর মধ্যে নতুন কিছু আছে, যদিনা আপনি কোনদিন পরীক্ষা করে থাকেন তবে কেমন করে তা বুঝবেন।

যখন আপনি বিষয়টি শুরু করবেন দেখবেন এটি একেবারে নতুন তরতাজা, সুখের। সবচেয়ে অবাক করে দেবার মত, এবং সাফল্যজনকভাবে বেঁচে থাকার একটি সুন্দর পদ্ধতি যা আপনি কখনই প্রয়োগ করে দেখেননি।

আর যদি জীবনে তা প্রয়োগই করে না থাকেন তাহলে সারাজীবন এসব মৌলিক নীতিমালা শুধু শুধু জেনে কি লাভ! এমন অদক্ষতা ও অযোগ্যতার সাথে বেঁচে থাকা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ একবার এক লোক যে নাকি সারাজীবন গরীবির মাঝে কাটিয়েছে যদি সহসা তার দরজার সিড়ির সামনে স্বর্ণ দেখা যায় তাহলে বুঝতে হবে তার জীবনের এমন শুরুটা বুদ্ধিদীপ্ত নয়। এই সহজ সরল দর্শনই হলো সুখি হবার পথ। মাত্র একটি সপ্তাহ আপনি এই নিয়ম নীতিটা অনুশীলন করুন যেমনটা মি. ম্যাটার্ন পরামর্শ দেন, আর যদি দেখেন যে এতে প্রকৃত সুখ আপনার জীবনে বয়ে আনলো না। তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার অসুখি কারণটা আসলে বহু গভীরে বিদ্যমান।

অবশ্যই সুখি হবার নিয়মাবলীকে শক্তি দেবার জন্য এবং প্রদেয় কাজ করতে দেবার জন্য মনের প্রাণবন্ত গুণাবলীর মাধ্যমে উচিত ওগুলোকে সহযোগিতা দেয়া। আপনি সম্ভবত শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক শক্তি বা আধ্যাত্মিক নীতিমালাকে কার্যকরী ফলাফল নিশ্চিত করতে পারেন না।

যখন কোন ব্যক্তি আভ্যন্তরীনভাবে কার্যকরী আধ্যাত্মিক পরিবর্তন আনার অভিজ্ঞতা লাভ করে তখন সুখি হবার ধারণাগুলো প্রাপ্তি অসাধারণভাবে তার কাছে সহজ হয়ে যায়। যদি আপনি আধ্যাত্মিক নীতিমালুগালোকে ব্যবহার করতে শুরু করেন কোন প্রকার প্রস্তুতি ছাড়াই, তথাপি আপনি ধীরে ধীরে আভ্যন্তরীনভাবে আধ্যাত্মিক শক্তি উপলব্ধি করতে পারবেন। আমি আপনাকে নিশ্চিত বলতে পারি যে, সুখের প্রচণ্ডতম আকস্মিক অনুভূতি আপনি এথেকে পাবেন, যা কোনদিন আপনি উপলব্ধি করেন নি। আর এই সুখানুভূতি আপনার সাথে সাথেই থাকবে, যতদিন আপনি সৃষ্টিকর্তাকে মনের কেন্দ্রে স্থাপন করে জীবন কাটাবেন।

যখন দেশের এদিক সেদিক ভ্রমণ করছিলাম তখন ক্রমবর্ধণশীল সত্যিকারের সুখি মানুষদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলাম। এ বইতে লিখিত নীতিসমূহ এবং অন্যান্য বইতে যেসব উপস্থাপন করা হয়েছে অন্যান্য লিখায় যেগুলো প্রকাশ করা হয়েছে, কথায় কথায় ও অনেক প্রকাশ করা হয়েছে এবং অন্যান্য লেখক এবং বক্তারাও ঠিক একইভাবে আগ্রহী মানুষের কাজে তা প্রকাশ করেছেন। তাদের বেশ কিছু সংখ্যক মানুষ এই শিক্ষনীয় বিষয়গুলো অনুশীলন করছেন। অবাক হবার মত বিষয় হল যে অভ্যন্তরীণভাবে আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা দ্বারা কিভাবে মানুষ সুখি হবার জন্য মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে সব ধরনের মানুষই সব খানে আজ এই অভিজ্ঞতা লাভ করছে প্রকৃতপক্ষে, এবিষয়টি আমাদের সময়কার একটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের জনপ্রিয় বিস্ময়কর ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। এবং এটা যদি ক্রমশ উন্নত হতে থাকে এবং এর যদি বিস্তার ঘটে, তাহলে যে ব্যক্তি এধরনের আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করবে না, সে সেকেলে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং অনেক পেছনে পড়ে থাকবে। বর্তমান সময়ে আধ্যাত্মিকভাবে বেঁচে থাকাটা খুবই বুদ্ধিমানের কাজ।

সুখ তৈরির মত সারবস্তুর রূপান্তর সাধনের কাজে কেউ যদি অজ্ঞতা এবং অনীহা দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে সে সেকেলের হয়ে থাকায় অভ্যস্ত। অথচ আকজাল প্রায় সর্বত্র অনেকেই সুখি হবার বিষয়টিকে উপভোগ করছেন।

সম্প্রতি কোন এক শহরে যখন আমার বক্তৃতা দেয়া শেষ হয়েছে, তখন একজন লম্বা চওড়া ও শক্ত সমর্থ লোক আমার কাছে আসেন। তিনি আমার কাঁধের উপর এমন জোরে চাপড় মারেন যে তাতে আমি প্রায় পড়েই গিয়েছিলাম। গম্ভীর গর্জন করে তিনি আমাকে বললেন, ডাক্তার সাহেব একটি দল সম্বন্ধে কিছু প্রকাশ করে দেয়াকে কেমন মনে হয় আপনার? মি. স্মিথের বাড়িতে আমাদের একটি বড় দল অবস্থান করছে, এবং আপনি সেখানে এলে আমাদের খুব ভালো লাগব। আনন্দ ঘন হৈ চৈ হতে যাচ্ছে এখানে এবং আমি মনে করি আপনার এখানে একটু ঢু মেরে দেখা উচিত।

এভাবে লোকটি আমাকে তরতাজা আমন্ত্রণ করলেন। বেশ, তবে স্পষ্টতই কিন্তু প্রচারকদের জন্য এ দলটির থেকে যে শব্দ আসছে তা যথাযথ মনে হয় না, এবং তাই আমি একটু দ্বিধায় পড়ে গেলাম। আমি ভয় পেয়েছিলাম যে, আমিও না আবার ওদের ভঙ্গিতেই খিচতে থাকি। তাই আমি ওজর আপত্তি জানাতে থাকলাম।"

'ওহ্ ছাড়ুন তো এসব।' “কোন চিন্তা নেই এটি আপনার মনের মতই একটি দল। আপনি দেখে অবাক হয়ে যাবেন; জলদি আসুন। আপনি আপনার জীবনকেই হয়ত অপছন্দ করবেন আমাদেরটা দেখে।"

তো আমি রাজী হয়ে গেলাম, এবং প্রফুল্লমনা ও তেজদীপ্ত বন্ধুটির সাথে সাথে গেলাম এবং তিনি অর্থাৎ যখনই আমি যাদের সাক্ষাতকার নিয়েছি তাদের মধ্যেই সবচেয়ে প্রভাব সৃষ্টিকারী একজন ব্যক্তি। শীঘ্রই আমরা একটি বড়সড় বাড়িতে এলাম। গাছ গাছালীর মধ্যে চওড়া বিস্তীর্ণ গাড়ির রাস্তা একবারে সম্মুখের দরজা পর্যন্ত চলে গেছে বাড়িটির। খোলা জানালা পথে ভেতর থেকে যে হৈচৈ এর শব্দ আসছিল। তারমধ্যে থেকে কোন প্রশ্ন কানে এলো না। তাই ধরে নেয়া যায় যে সম্পূর্ণ দলটি বেশ উন্নতি পথে এগুচ্ছিল এবং আমি বিস্মিত হয়ে গিয়েছিলাম এ ভেবে যে, আমি কিসের ভেতর ঢুকতে যাচ্ছিলাম। আমার নিমন্ত্রণদাতা লোকটি বেশ সারা শব্দ কারেই আমাকে ঘরের ভেতর নিয়ে এলেন, এবং আমরা বেশ কিছুক্ষণ করমর্দন করতে করতেই কাটিয়ে দিলাম এবং তিনি আমাকে বিরাট এক আনন্দে উচ্চসিত দলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন, এরা ছিলেন আনন্দে উল্লাসিত বিরাট এক জনতা।

মদের দোকান দেখার আশায় চারিদিকে তাকালাম। কিন্তু তার একটিও চোখে পড়ল না। যা যা ওখানে খেতে দেয়া হয়েছিল তা হলো কফি, ফলের রস দ্রাক্ষারস, স্যান্ডুইচ, এবং আইসক্রীম, কিন্তু তার পরিমাণ ছিল অনেক। আমার বন্ধুকে উদ্দেশ্য করে বললাম, 'যে এরা এখানে এসে পৌঁছার আগে নিশ্চয়ই কোথাও থেমেছিলেন।'

মনে হলো বন্ধু লোকটি কিছুটা ধাক্কা খেলেন এবং বললেন, কোথাও থেমেছিলেন মানে? কেন আপনি বুঝতে পারছেন না, এই লোকগুলো তাদের সঠিক জীবনীশক্তি পেয়েছে, কিন্তু তেমন জীবনীশক্তি নয় যেমনটা আপনি ভাবছেন। আপনার কথা শুনে আমি আশ্চর্য হয়ে গিয়েছি আপনি কি বুঝতে পারছেন না যে কি কারণে এই লোকগুলো এত খুশি? তারা তাদের আধ্যাত্মিকতা নবায়ন করেছে। তারা একটা কিছু পেয়েছে নিজেদের মধ্যে যে বন্দীত্বদশা তাদের ছিল তা থেকে তারা মুক্ত হয়েছে। সত্যিকারভাবে বাঁচার জন্য তারা যা খুঁজে পেয়েছে সে হলো বিধাতা। তিনি অপরিহার্য এবং সাধুতাই সৎগুণ এই প্রকৃত সত্তার উপলব্ধি “হ্যাঁ, ওরা সঠিক জীবনীশক্তি পেয়েছে। কিন্তু তা সেরকম নয় যেমনটা আপনি একটি বোতল থেকে বের করতে পারেন তারা তাদের হৃদয়ে এ শক্তি ফিরে পেয়েছে।"

তরপর আমি দেখতে পেলাম যে, তিনি কি বুঝাতে চেয়েছেন। এই যে জনতা তাদের চেহারায় কোন দুঃখের ছাপ ছিল না। ছিল না কোনরকম নীরসভাব। এরা সবাই ছিলেন শহরের নেতৃবৃন্দ-কেউ ব্যবসায়ী কেউ আইনজ্ঞ কেউ ডাক্তার কেউ শিক্ষক, সামাজিক লোক এবং আরো অনেকেই ছিলেন সাধারণ গ্রাম্য জনতা, এবং এই আনন্দ সমাগমে তারা অসাধারণ সময় উপভোগ করছিলেন। কথা বলছিলেন বিধাতাকে নিয়ে, এবং এসবই তারা করছিলেন খুবই সাভাবিকভাবে যা কল্পনীয়। একজন আর একজনকে জানাচ্ছিলেন যে, তাদের জীবনে পুনরুজ্জীবিত আধ্যাত্মিক শক্তির মধ্য দিয়ে কেমন পরিবর্তন ঘটেছে।

এরমধ্যে যাদের সরল সোজা ধারণা আছে তাদের প্রতি আপনি হাসতেও পারেন না কিম্বা খুশিও হতে পারেন না। যখন আপনি একজন ধর্মপরায়ন ব্যক্তি হিসাবে অমন একটি আনন্দঘন সমাগমে যান।

এরপর বেশ চাঙ্গা মনে আমি ঐআনন্দ ঘন সমাগম থেকে বের হয়ে এলাম। মনে মনে বাইবেলের একটি বাণী আনাগোনা করছে, তা হলো তারই মাঝে ছিল জীবন এবং সে জীবন ছিল মানুষের জন্য জ্যোতি স্বরূপ (যোহন 1.4)।" এই সেই জ্যোতি যা আমি ঐ সুখি মানুষগুলোর মুখের উপর উদ্ভাসিত হয়ে থাকতে দেখলাম। অন্তরের উজ্জল আলো তাদের মুখের উপর প্রতিফলিত হতে দেখলাম এবং তা এসেছিল তাদের হর্ষোৎফুল্ল আধ্যাত্মিক কিছু একটা থেকে। যা তাদের মধ্যে তারা গ্রহণ করেছিলেন। জীবন অর্থ হলো জীবনীশক্তি, এবং ঐ লোকগুলো তাদের জীবনীশক্তি পাচ্ছিলেন বিধাতার কাছ থেকে। তারা সেই শক্তি খুঁজে পেয়েছেন যা, তা তাদের সুখ তৈরি করে দেয়।

এতো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়। আমি দৃঢ়তার সাথে বলতে সাহস করছি যে আপনার সম্প্রদায়ে, আপনি যদি ঐ ধরনের মানুষ খুঁজে পেতে চারিদিকে তাকান, তাহলে ঠিক উপরে বর্ণিত লোকগুলোর মত লোক আপনি অনেক দেখতে পাবেন। আপনি আপনার নিজস্ব শহরে যদি অমন লোক খুঁজে না পান তা হলে নিউইয়র্ক শহরের মার্বেল কলেজিয়েট গীর্জায় চলে আসুন এবং সেখানে তাদের অনেককেই আপনি দেখতে পাবেন। কিন্তু এই বইটি পড়লেও ঐ লোকগুলোর মত আপনিও একই রকম জীবনীশক্তি পাবেন যদি আগে সাধারণ এই নিয়মনীতিগুলো অনুশীলন করে নেন।

আপনি যখন পড়েন তখন বিশ্বাস করেন যে আপনি কি পড়ছেন কারণ তা সত্যি। তারপর এ বইটিতে যে বাস্তব পরামর্শ দেয়া হয়েছে তার উপর কাজ শুরু করুন এবং দেখবেন আপনিও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা লাভ করছেন এবং তা থেকেই এমন গুণসম্পন্ন সুখ উৎসারিত হচ্ছে। আমি জানি তা হবে। কারণ এমন অনেককেই আমি নির্দেশ দিয়েছি, এবং আগামী অধ্যায়গুলোতে আমি আরো নির্দেশ করব। যারা একইভাবে তাদের অত্যাবশ্যক এবং সুন্দর জীবন খুঁজে পেরেছেন। তারপর অন্তরে পরিবর্তিত হয়ে আপনি নিজের মধ্যে সুখ তৈরি করতে থাকিবেন, সুখহীনতা নয়। আর সেই সুখ হবে এমনই সুখ, এমনই গুণসম্পন্ন এবং চিরিত্রের যে তা দেখে আপনি বিস্ময়াভূত হয়ে যাবেন যে আপনি কি সবার সাথে একই জগতে বাস করছেন কিনা। সত্যি বলতে কি, তা কিন্তু একই জগতের অংশ নয় কারণ আপনিও অন্যদের মত একই রকম নন এবং আপনি যা যা নির্ধারণ করবেন যে, যে জগতে আপনি বাস করছেন এবং আপনি যেমনটি পরিবর্তিত হচ্ছেন আপনার জগৎটি ঠিক তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে।

যদি সুখের বিষয়টি আমাদের চিন্তার মাধ্যমে স্থিরকৃত হয় তাহলে যেসব চিন্তা ভাবনা হতাশা এবং উৎসাহহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেসব মন থেকে হটিয়ে দেয়া আবশ্যক। একাজটি প্রথমেই করা সম্ভব, যদি শুধু স্থির করি যে এটা করব। দ্বিতীয়ত সহজ একটি কৌশল কাজে লগিয়েও এটা করা সম্ভব যা আমি একজন ব্যবসায়ী লোককে পরামর্শ দিয়েছিলাম।

একদিন এক মধ্যাহ্নভোজে লোকটির সাথে আমার দেখা হয়েছিল এবং এমন বিষণ্ণতা থেকে তিনি মুক্ত হয়েছিলেন যে, তেমন ঘটনা প্রায় শোনা যায় না। তার কথাবার্তা ছিল অত্যধিক হতাশাব্যঞ্জক এবং তা আমাকে খুবই পীড়া দিয়েছিল। ব্যাপারটাকে তার দুঃখবাদ হিসাবে গণ্য করা যায়। তাকে কথা বলতে শুনলে আপনার মনে হবে তার জীবনের সবকিছুই ছিল ধ্বংসের জন্য। নিঃসন্দেহে লোকটি খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার জীবনে জমে উঠা সমস্যাগুলো তার মনকে অভিভূত করে ফেলেছিল। এমন একটি জগৎ থেকে তার মন মুক্তির পথ খুঁজে ফিরছিল নিজেকে একটি নিরাপদ অবস্থানে আশ্রয় পেতে চেয়েছিলেন। কারণ এই দুঃসহ অবস্থা তার শক্তি নিঃশেষ করে ফেলেছিল। তার এই কষ্টের প্রধানতম কারণ ছিল তার হতাশাজনক চিন্তার ধরণ। তিনি চেয়েছিলেন তার মধ্যে আলো এবং বিশ্বাসের সমন্বিত অনুপ্রবেশ। সুতরাং কিছুটা সাহসের সাথেই আমি বলব, “যদি আপনি ভালো অনুভব করতে চান এবং নিঃস্ব ভাবটির ইতি টানতে চান, তার জন্য আমি আপনাকে এমন কিছু দিতে পারি যাতে আপনার সুন্দর একটি ব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে।" একটুই নাসিকা ধ্বনি করে লোকটি বললেন, “কি করতে পারেন আপনি? আপনি কি অলৌকিক কাজ করতে পারেন?"

আমি বললাম, 'না' "কিন্তু আমি আপনাকে অলৌকিক কিছু ঘটাতে পারে তার সংস্পর্শে রাখতে পারি, যিনি আপনার দুঃখ কষ্টগুলো আপনার মধ্য থেকে নিস্কাশিত করতে পারবেন এবং একটি সহজ সুন্দর ঢালু পথ আপনার জীবনে এনে দিতে পারবেন, আমি এটাই বুঝাতে চাইছি।” এটুকু বলে আমি শেষ করলাম।

দৃশ্যত তিনি কৌতূহলী হয়ে উঠলেন কারণ, পরবর্তীতে তিনি আমার সংস্পর্শে এসেছেন এবং 'thought conditioners' নামে একটি বই তাকে আমি দিয়েছিলাম। এর মধ্যে চল্লিশটি স্বাস্থ্য এবং সুখ গড়ার মত চিন্তন রয়েছে। যেহেতু এটি একটি পকেট সাইজ পুস্তিকা তাই আমি তাকে পরামর্শ দিয়েছি যেন তিনি এটা সহজ মন্ত্রণার প্রয়োজনে বহন করেন এবং এ জাতীয় একটি চিন্তন বা ধ্যান যেন তিনি আপন মনে গেঁথে। তাই নিয়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত ধ্যান চালিয়ে যান। আমি তাকে আরো পরামর্শ দিলাম যেন তিনি বিষয় মুখস্ত করে ফেলেন, এভাবে তার চেতনার মধ্যে মিলে যাবে, এবং তিনি মনশ্চক্ষুতে দেখতে পাবেন যে এই স্বাস্থ্যহিতকর ধ্যান একটি শান্তিদায়ী এবং আরোগ্যকর প্রভাব তার মনের মধ্যে ফেলছে। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বললাম যে, যদি তিনি এই পরিকল্পনা অনুসরণ করে চলেন তা হলে এসব স্বাস্থ্যপ্রদ ধ্যান তার মনে পুঞ্জিভূত। এসব অসুস্থ চিন্তাগুলো মন থেকে হটিয়ে দেবে যেগুলো তার আনন্দ শক্তি এবং সৃজনশীল সমর্থকে গোপনে গোপনে ধবংস করে দিচ্ছিল।

এসব ধারণা প্রথম প্রথম তাকে কিছুটা অদ্ভূতভাবে অনুপ্রাণিত করছিল এবং এতে তার সন্দেহ ছিল, কিন্তু শেষ অবধি তিনি তা অনুসরণ করেছিলেন। প্রায় তিনি সপ্তাহ পর তিনি আমাকে টেলিফোনে ডাকলেন এবং চিৎকার করে বললেন, “বালক, এটা অবশ্যই কাজ করছে! এটা অদ্ভূত, বিস্ময়কর। আমি এতে প্রচুর উৎসাহ পেয়েছি, এবং আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি যে এটা সম্ভব!” তিনি পরম উৎসাহে এর অনুশীলন চালিয়ে যান এবং এখন তিনি সত্যিকার অর্থে একজন সুখি মানুষ। এই যে একটি সুখকর ফলাফল তিনি পেলেন। তার কারণ হলো, তার নিজের সুখ নিজে তৈরির ব্যাপারে তিনি তার শক্তি প্রয়োগে খুব দক্ষতা দেখিয়েছেন। পরে তিনি মন্তব্য করে বলেছেন যে, তার প্রথম মানসিক অতিক্রম ছিল সৎভাবে ঘটনাবলীর মুখোমুখি হওয়া; ঠিক যখন দুঃখ কাতরতা তাকে নিঃস্ব পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। এখনও যখন তিনি বাসায় থাকতেন, সময়টা কাটত তার আত্মকষ্টে এর আত্মনিগ্রহ মূলক চিন্তায়। উনি জানতেন যে এসব পীড়াদায়ক চিন্তাগুলোই তার কষ্টের কারণ ছিল, কিন্তু যে পর্যাপ্ত পরিমাণ পরিবর্তনের প্রয়োজন তার ছিল এবং যা তিনি প্রয়োজন মনে করেছিলেন তা করতে তিনি সংকুচিত হয়ে পড়তেন। কিন্তু যখন নির্দেশ মোতাবেক একটি প্রথাগত আধ্যাত্মিক চিন্তন মনের ভেতর প্রবেশ করালেন তখন প্রথমেই তিনি যা চাইলেন তাহলো একটি নতুন জীবন, তারপর তিনি অনুধাবন করলেন মনোমুগ্ধকর ঘটনা। যা তিনি পেতে পারতেন, তারপর আরো অভিভূতকর ঘটনা। যেগুলো তিনি পাচ্ছিলেন এর ফলাফল দাঁড়ালো এমন যে, তিন সপ্তাহের কিছু অধিক সময়ে আত্মোন্নতির পদ্ধতি প্রয়োগ করে তার জীবনে নতুন সুখস্বাচ্ছন্দ উপচে পড়তে লাগল।

সারা দুনিয়াব্যাপী প্রায় সর্বত্র আজ দলে দলে মানুষ নতুন সুখের সন্ধান পেয়েছেন। যদি প্রতিটি ছোটবড় গ্রামে ও শহরে ঠিক ঐ ধরনের একটি সংঘও থাকে তাহলে আমরাও আমাদের এই দেশটি জীবনের সুন্দর একটি গন্তব্যে আনতে সক্ষম হব এবং তা পারব খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে। কেমন হবে এসংঘ? আসুন আমি এর একটি ব্যাখ্যা দিচ্ছি।

পশ্চিমের একটি শহরে একবার বক্তব্য দিচ্ছিলাম্ সেখান থেকে হোটেল কক্ষে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয়ে গেল। একটু ঘুমিয়ে নেবার ইচ্ছে ছিল আমার। কারণ হলো প্লেন ধরার জন্য পরদিন ভোর সাড়ে পাঁচটায় আমাকে ঘুম থেকে উঠতে হবে। যখন বিছানায় যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি ঠিক তখন টেলিফোনটা বেজে উঠল। অপরপ্রান্ত থেকে এক মহিলা কথা বললেন "আমরা প্রায় পঞ্চাশ জন আমার বাড়িতে আপনার জন্য অপেক্ষা করছি।"

আমি তাকে ব্যাখ্যা দিয়ে বললাম যে, আমি তো আসতে পারব না; কারণ কাল ভোরে আমাকে প্লেন ধরতে হবে।

"ওহ! মহিলা বললেন, দুজন লোক আপনাকে আনবার জন্য এতক্ষণ পথে রওয়ানা হয়েছেন। আমরা আপনার জন্য প্রার্থনা করছি, এবং আমরা সবাই চাই যে এ শহর ছেড়ে যাবার আগে আপনি আমাদের মাঝে আসুন এবং আমাদের সাথে প্রার্থনা করুন!"

আমি খুশি হয়েছিলাম এবং সেখানে গিয়েছিলাম যদিও ঐ রাত্রে আমার খুব কম ঘুম হয়েছিল।

যে লোক দুটো আমার জন্য এসেছিলেন তারা দুজনেই ছিলেন মদ্যপ এবং তারা বিশ্বাসের শক্তিতে সুস্থ হয়েছিল। তারা পরবর্তীতে খুবই সুখি হয়েছিলেন, সবার কাছে এমন প্রীতিভাজন হয়েছিলেন যে, আপনারা তা কল্পনাও করতে পারবেন না।

যে বাড়িতে তারা আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন সে বাড়িটি সম্পূর্ণ ভরে গিয়েছিল। আগত লোকজন সিড়ি পথে, টেবিলগুলোর উপর এবং মেঝে পর্যন্ত বসেছিলেন। এমন কি একজন লোক বড় পিয়ানোটার উপরে বসেছিলেন, এবং তারা কি করছিলেন? তারা সবাই মিলে একটি প্রার্থনা সভা পরিচালনা করছিলেন। তারা আমাকে বললেন যে, এমন ষাটটি প্রার্থনা সংঘ এই শহরে সারাক্ষণ প্রার্থনা পরিচালনা করে চলেছেন। এমন একটি সভায় থাকার সৌভাগ্য আমার এর আগে কখনও হয়নি। এটা স্থূলবুদ্ধি বিশিষ্ট একটি সংঘ ব্যতীত কিছু ছিল না। তারা ছিলেন মুক্ত, সুখি জনতা এবং সত্যিকারের মানুষ। পরম বিস্ময়ে সারাকক্ষ ঘুরে বেড়াচ্ছি আমি। ঐ কক্ষটিতে উপস্থিত সবার জীবনীশক্তি ছিল বিস্ময়কর এবং তা ক্রমান্বয়ে আরো বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দলটি সশব্দে গান গাইতে শুরু করল, আমি কখনও এমনভাবে গান গাইতে শুনিনি। পুরো কক্ষটি অদ্ভুত প্রাণবন্ত হাসিতে ভরে গিয়েছিল।

তারপর একজন মহিলা উঠে দাঁড়ালেন। আমি দেখলাম তিনি তার পায়ে ঠেকা দিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন, “ওরা বলেছিল যে আমি আর কোনদিন হাঁটতে পারব না। আপনি কি দেখতে চান যে আমি হাঁটতে পারি কিনা?" তিনি কক্ষটির একদিক থেকে আরেকদিক হেঁটে দেখালেন কখন করে এটা সম্ভব হল? আমি জানতে চাইলাম দ্বিধাহীন জবাব, 'যীশুখ্রিস্ট'।

তারপর আর একজন সুদর্শনা যুবতী বললেন, "আপনি কখনও ঘুমের ঔষধ সেবনকারী আত্মঘাতউম্মুখ কোন Victim কে দেখেছেনও? আমিই তেমন একজন এবং আমি এখন সুস্থ।” ওখানে বসে ছিল মেয়েটি, সুন্দর একটি মেয়ে, বিনীত স্বভাবা আকর্ষণীয়া এক যুবতী, এবং সেও বলল, "যীশুখ্রিস্ট আমাকে সুস্থ করেছে।"

তারপর এক যুগল সবেগে সামনে এলেন যে, তার আবার পূণর্মিলিত হয়েছে এবং আগের তুলনায় এখন অনেক সুখি। জিজ্ঞেস করলাম এটা কিভাবে ঘটল? জবাবে তারা বলল, যীশুখ্রিস্ট ঘটিয়েছেন।'

আর এক লোক বললেন, যে তিনি এ্যালকোহল Victim, এবং তিনি তার পরিবারকে এমন একজায়গায় টেনে নামিয়েছেন যে তারা শেষ পর্যন্ত দারিদ্রসীমার নীচে এক অতি কষ্টকর জীবন যাপন করছিলেন এবং তিনি একেবারেই ব্যর্থ একজন লোক ছিলেন, এবং এখন আমার সামনে এসে যখন দাঁড়িয়েছেন একেবারে শক্ত সামর্থ স্বাস্থ্যবান এক ব্যক্তি। আমি জানতে চাইলাম কেমন করে আবার সোজা হয়ে দাঁড়ালেন? মাথা হেট করে বললেন, 'যীশুখ্রিস্ট সাহায্য করেছেন।'

তারপর আবার সজোরে আর একটি গান ধরলেন, তখন একজন বাতিগুলো নিবু নিবু করে দিলেন এবং সবাই হাত ধরাধরি করে চক্রাকারে দাঁড়ালেন তখন আমার এমন অদ্ভুত এক অনুভূতি হল যে মনে হলো যেন আমি কোন বৈদ্যুতিক তার ধরেছিলাম। সারা কক্ষ জুড়ে এক বিশেষ শক্তি অবস্থান করছিল। নিঃসন্দেহে ঐ দলটির মধ্যে আমিই ছিলাম সর্বাপেক্ষা আধ্যাত্মিকভাবে দুর্বল ব্যক্তি। ঐ মুহূর্তে আমার এটাই মনে হয়েছিল যে, ঐ বাড়িটিতে তখন স্বয়ং যীশুখ্রিস্ট উপস্থিত ছিলেন এবং ঐ লোকগুলো তাকে দেখতে পেয়েছিলেন। তারা খ্রিস্টের শক্তির ছোঁয়া অনুভব করেছিলেন। তিনি তাদেরকে নতুন জীবন দান করেছিলেন। এই জীবন যেন অদম্য আনন্দে উল্লাসে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছিল।

এটাই হলো সুখি হবার গোপন রহস্য। বাকি সব দ্বিতীয় পর্যায়ের। এই অভিজ্ঞতা লাভ করে দেখুন এবং দেখবেন একেবারে খাঁটি নিখাদ আনন্দ আপনি পেয়ে গেছেন, একেবারে সবার সেরা যা জগতে আশা করা যায়। এটা অবশ্যই ভুল করবেন না, জীবনে যা কিছু করুন না কেন এটাই হলো সুখ্যতম। যার যার ধর্ম মতে এটা অনুকরণ ও অনুশীলন করা যেতে পারে।

📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 আকস্মিক ক্রোধ এবং বিরক্তি থেকে বিরত হোন

📄 আকস্মিক ক্রোধ এবং বিরক্তি থেকে বিরত হোন


অনেকেই তাদের জীবনকে অযথাই ক্ষমতা এবং শক্তির অপব্যবহারের দ্বারা ক্রোধ এবং বিরক্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে কঠিন করে তোলে। আপনি কি কখনও ক্রোধ এবং বিরক্তি প্রকাশ করেন? এখানে একটি ছবি তুলে ধরা হল। তা থেকে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনিও তেমন কিছু করেন কিনা। 'ফিউম শব্দের অর্থ হলো সিদ্ধ' করা বাস্প ছেড়ে দেয়া, বাস্প নিষ্কাশিত করা। উত্তেজিত হওয়া মানসিক কষ্টে উম্মত্ত হওয়া, এবং বিক্ষুদ্ধ হওয়া। 'ফ্রেট' শব্দটির অর্থ ও সমভাবে বর্ণনা করা যেতে পারে।

এ হলো রাতের বেলায় পূর্বস্মৃতি স্মরণকারী খিটখিটে ও কিছুটা ক্রন্দনশীল, কিছুটা ঘ্যান ঘ্যানে স্বভাবের সন্তানের মত। সে ক্ষান্ত হয়; কেবলমাত্র আবার নতুন করে শুরু করার জন্য। এদের যা আছে তা হলো অস্বস্তিকর, বিরক্তিকর এবং বিদ্ধকারী ধরনের। কিছু ফ্রেট ছেলেমি স্বভাব ধরনের একটি শব্দ কিন্তু এ শব্দটি অনেক সময় অনেক বড়দের আবেগগত প্রতিক্রিয়াও ব্যাখ্যা করে। বাইবেল আমাদের উপদেশ দেয়, তোমরা বিরক্ত হয়ো না (সাম ....ii) আজকের দিনে। এটা খুবই বলিষ্ঠ পরামর্শ। আমাদের উচিত ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকা এবং শক্তির মনোভাব ধরে রাখা। যদি সফল জীবন যাপন করার জন্য আমাদের আগ্রহ থাকে তবে এ শক্তি গুলো আমাদের প্রয়োজন। এবং এসব করতে কিভাবে আমরা প্রবৃত্ত হতে পারি?

প্রথম পদক্ষেপে আপনাকে যা করতে হলো, আপনার গতিবেগ কমাতে হবে অথবা, গতিবেগের হার কিছু কিছু করে কমিয়ে নিয়ে আসতে হবে। আমরা সঠিক বুঝতে পারি না যে আমাদের জীবনের গতিশীলতা কতটা বুদ্ধিলাভ করেছে অথবা ঠিক কতটা গতিতে আমরা আমাদের জীবনকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছি। অনেকেই এই উর্ধ্বগতির প্রাবল্যে শারীরিক স্বাস্থ্যকে ধবংস করে ফেলছে কিন্তু তার চেয়েও দুঃখজনক হলো যে, এই করতে গিয়ে তারা তাদের মনকে ছিন্ন ভিন্ন করে ফেলছে এবং আত্মাকেও ফালি ফালি করে ফেলছে। অথচ একজন মানুষের পক্ষে শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ শান্তি বজায় রেখে এবং আবেগ গত দিক থেকে উচ্চ গতিশীলতা বজায় রেখেও চলা সম্ভব। এমনকি সে দৃষ্টিকোণ থেকে একজন সামর্থহীন ব্যক্তির পক্ষে ও উচ্চ গতিশীলতা বজায় রেখে বাঁচা সম্ভব হতে পারে। আমাদের চরিত্রই নির্ধারণ করে যে আমাদের জীবন ও মনের গতিবেগ কেমন হওয়া উচিত। মন যখন একটি সন্তপ্ত মনোভাব থেকে আরেকটি সন্তপ্ত মনোভাবের দিকে বিশৃঙ্খলভাবে ধেয়ে যায়, তখন এই সন্তপ্ত অবস্থার ফলশ্রুতি হিসেবে খিটখিটে মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আধুনিক জীবনে যে দ্রুতগতি মানুষের জীবনে অবধারিত হয়ে পড়েছে একে অবশ্যই হ্রাস করা প্রয়োজন। যদি না আমরা এর যে অত্যধিক উত্তেজনাকর অবস্থার কারণ থেকে উদ্ভূত দুর্বলকারী অবস্থার তিক্ততাকে গভীরভাবে ভোগ করতে না চাই। এই অত্যাধিক উত্তেজনা মানুষের শরীরে বিষাক্ততা উৎপাদন করে এবং এ থেকে তৈরি হয় আবেগজনিত পীড়া। আর এমনিভাবে আসে অবসন্নতা এবং নৈরাশ্যকর মনোভাব। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, সেসব বিষয়ে আমরা যদি ক্রোধান্বিত এবং বিরক্তির কাছে আত্ম সমর্পণ করি তাহলে আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে নানারকম কষ্ট নেমে আসে এবং তা জাতীয় এবং জাগতিক জীবনেও প্রভাব সৃষ্টি করে। যদি আবেগের এই অসাচ্ছন্দতার প্রভাব শারীরিকভাবে খুবই অবধারিত হয়ে পড়ে, তাহলে যাকে আমরা ব্যক্তির আভ্যন্তরীন সুগন্ধি বলে জানি অর্থাৎ আধ্যাত্মিক সুরভি হিসেবে জানি তার উপর এটা কতখানি প্রভাব ফেলতে পারে ভাবুন?

আধ্যাত্মিক শান্তি বজায় রাখা অসম্ভব যদি জীবনের গতিবেগ সন্তপ্ত অবস্থাতেই বাড়িয়ে দেয়া হয়। বিধাতা ঠিক এই গতিকে সমর্থন করবেন না। তিনি আপনার গতির সাথে সমতা রক্ষা করে চলবেন না। বস্তুত: তিনি বলেন, যদি তুমি এমন বাতুলতাপূর্ণ গতিতে সম্মুখে বাড়তে চাও বাড়, কিন্তু যখন তুমি শ্রান্ত হয়ে পড়বে আমি তখন তোমাকে নিরাময় করব। কিন্তু আমি তোমার জীবনকে খুবই সমৃদ্ধ করে তুলব যদি তুমি এখন মৃদুগতি সম্পন্ন হও এবং আমাতে বাঁচ আমাতে বিচরণ কর এবং আমারই মধ্যে তুমি বিদ্যমান থাক। বিধাতা চলেন উত্তেজিত বা ক্ষুব্ধ হয়ে, ধীর লয়ে এবং যথাযথ সংগঠিত অবস্থায়। আর বেঁচে থাকার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ গতির হার হলো বিধাতা প্রদত্ত গতির হার। বিধাতা যা কিছু করে থাকেন তা হয় সঠিকভাবে এবং ওসব তিনি তাড়াহুড়ো করে করেন না। তার না আছে ক্রোধ না আছে উত্তেজনা। তিনি শান্তিপূর্ণ এবং সে কারণেই তিনি দক্ষ। সেই শান্তি আমাদেরকেও দেয়া হয়েছে “তোমাদের কাছে আমি শান্তি রেখে যাচ্ছি আমারই শান্তি তোমাদের দান করছি।” (যোহন Xiv.29)

ভাবতে গেলে একদিক থেকে বর্তমান যুগের লোকেরা এক কারুণ্যের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে স্নায়ুগত চাপা উত্তেজনার প্রভাব কৃত্রিম উত্তেজনা, এবং নানা গোলমালই এসবের কারণ, কিন্তু এই মানসিক পীড়া শুধু শহরেই নয় প্রত্যন্ত প্রামাঞ্চলেও বিস্তৃত হয়ে পড়ে। কারণ হল বায়ু তরঙ্গ এই চাপা উত্তেজনাকে সেখানে চালান করে দেয়।

এক বৃদ্ধা মহিলার কাছ থেকে এমন একটি ব্যাপার শুনে আমি তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলাম, উনি বললেন, “জীবন খুবই নিত্যকার।” এ মন্তব্য নিশ্চিত ভাবেই আমাদের নিত্যদিনের মানসিক চাপ দায়দায়িত্ব এবং চাপা উত্তেজনার পরিমানকেই ইংগিত করে। এটা জেদী, নাছোরবান্দার মত আমাদের উপর উত্তেজনাকর চাপ প্রয়োগ করছে প্রতিদিন।

বিস্মিত হবার মত একটি বিষয় হলো যে, বর্তমান যুগের লোকেরা মানসিক চাপা উত্তেজনার সাথে খুব একটা অভ্যাস্ত কিনা যে কারণে তারা একটা অসুখি এবং আরামহীন জীবন কাটাচ্ছে শান্তির অভাবে।

বন-বনানীর এবং উপত্যকার গভীর প্রশান্তির আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে খুবই সুপরিচিত একটি ব্যাপার ছিল এবং আমাদের এঅবস্থার সাথে তারা অভ্যস্ত ছিল না। তাদের জীবনটা এমনই এক লয়ে বাঁধা ছিল। আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শান্তি এবং বিশ্রামের উৎসের প্রতি মন বসাতে অক্ষমতা প্রকাশ করি অথচ শরীর জগত আমাদের এই দিতে চায়।

গ্রীষ্মের কোন বিকেলে আমার স্ত্রী এবং আমি বনে হাঁটতে যাই লম্বা সময় নিয়ে। হাঁটতে হাঁটতে আমরা 'লেক মোহঙ্ক মাউন্টেন হাউসে' এসে থেমে যাই, যেটি আমেরিকার সবচেয়ে সুন্দর প্রাকৃতিক পার্কগুলোর মধ্যে একটি। ভারজিন মাউন্টেনের পামে ৭,৫০০ একর জমি নিয়ে তৈরি এ পার্কটির মাঝখানে একটি হ্রদের অবস্থান যেন বনের ভেতর একটি রত্নের মত উদ্ভাসিত। 'মোহঙ্ক' শব্দটির অর্থ আকাশের বুকে হ্রদ।

যুগ যুগ আগে ভূপৃষ্ঠের উপরের স্তরের কিছু বড় বড় আন্দোলনের কারণে এসব খাড়া পাহাড়ের জন্ম হয়েছে। শৈলান্তরীপে দৃষ্টিনন্দন অরণ্য থেকে আপনি বের হয়ে আসুন এবং পাহাড়িয়া এলাকার বড় বড় উপত্যকার দিকে বাহাড়ের পঞ্জরে পঞ্জরে করুন। এই অরণ্য রাজি পাহাড়, এবং উপত্যকা এমন সুসমন্বিতভাবে সৃষ্টি হয়েছে যে, যে গুলোর দিকে চোখ এবং আমাদের ঐ প্রাচীন সুর্যের দিকে আপনার দৃষ্টি বিত মেলে তাকালে জাগতিক সমস্ত বিশৃঙ্খলা থেকে আপনার মন বিমুখ এবং বিরত হয়ে যাবে। আজকের এই বিকেলে আমরা যখন এখন হাসি হাঁটি করছিলাম, সময়টায় গ্রীষ্মের বৃষ্টি এবং স্নিগ্ধ রোদের এক অপূর্ব সমাবেশ ঘটেছিল। বৃষ্টির পানিতে ভিজে গিয়েছিলাম আমরা এবং একারণে কিছুটা বিরক্ত হতে শুরু করেছিলাম কারণ আমাদের কাপড় নিঙড়াতে হয়েছিল। তারপর আমরা পরস্পর বলাবলি করলাম যে, বৃষ্টির পরিস্কার পানিতে ভিজে যাওয়াতে মানুষের কোনো ক্ষতি হয় না। বৃষ্টির পানিতে আমাদের মুখের উপর ঠাণ্ডা অনুভূত হয়, বেশ সতেজও লাগে, এবং আমরা সবসময় রোদে বসতে পারি এবং নিজেকে শুকিয়ে নিতে পারি। আমরা হেঁটে হেঁটে গাছের নীচে গেলাম এবং কথাবার্তা বলতে বলতে এক সময় শান্ত হয়ে গেলাম।

অরণ্যের নিস্তব্ধতাকে গভীরভাবে শ্রবণ করছিলাম। একটু কঠিন জ্ঞানে যদি ভাবি, তাহলে হয়ত মনে হবে, অরণ্য কখনও নিস্তব্ধ হয় না। এক ধরণের বিস্ময়কর কর্ম প্রক্রিয়া যেন সর্বদাই চলছে অরণ্য মাঝে, কিন্তু প্রকৃতি এমন কোনো রকম শ্রুতিকটু শব্দ করে না, যা এর বিরাট কার্যকলাপের সাথে সম্পর্কিত নয়। প্রকৃতির শব্দাবলি শান্ত, সুসমঞ্জস্য। আজকের এই সুন্দর বিকেলে প্রকৃতি যেন আমাদের উপর এর নিরাময়কারী শান্তির হাত স্থাপন করেছিল এবং আমরা অনুভব করতে পারছিলাম যে, আমাদের মনের চাপা উত্তেজনা একটু একটু করে মন থেকে সরে যাচ্ছে। ঠিক যখন আমরা এমন এক যাদুর মধ্যে পড়তে যাচ্ছিলাম তখন হালকা সুরের মুর্ছনা আমাদের কাছে এসে পৌঁছল। এ ছিল ভীষণ বৈচিত্রময় উচ্চ নিনাদি সুর। যা আমাদের স্নায়ুকে স্পর্শ করছিল। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই বনের মধ্য দিয়ে তিনজন যুব বয়সী লোক এলো, দুজন যুবতী একজন যুবক এবং পরে আরেকজন একটি বহনযোগ্য রেডিও বয়ে নিয়ে এলো।

ওরা তিনজন ছিল শহুরে লোক অরণ্যে। এসেছিল হাঁটবার জন্য এবং খুবই দুখঃজনক যে তাদের সাথে বয়ে এনেছিল হৈচৈ। অর্থাৎ হৈচৈ করতে করতে আসছিল ওরা। বেশ মার্জিতবোধ সম্পন্ন যুবক যুবতী ওরা আমাদের এখানে থামল এবং তাদের সাথে বেশ কিছুক্ষণ কথাবার্তাও হলো। একটু ইতস্তত: করতে করতেই ওদেরকে এই চপলতা ছেড়ে বনানীর সঙ্গীত মুর্ছানার দিকে কান পেতে শুনতে বললাম। কিন্তু তাদের শিক্ষা দেয়াটাই যে আমার কাজ এটা আমি অনুভব করিনি। এবং শেষমেশ তারা তাদের পথে পা বাড়াল।

আমরা মন্তব্য করলাম যে, কেমন ক্ষতিই না ওদের হলো, কারণ চাইলেই ওরা বনানীর শান্তিপূর্ণ পরিবেশটা উপভোগ করতে করতেই এর ভেতর দিয়ে যেতে পারত, কিন্তু ওরা কর্ণপাত করল না, বুঝল না জগত সংসারের মত এ সঙ্গীতও অতি পুরনো সুসমস্বর বিন্যাসে সৌকর্যমণ্ডিত এবং সুমধুর যার। সাথে মানুষের সৃষ্ট সুর কখনও সমতুল্য নয়। বৃক্ষরাজির মধ্যে দিয়ে বহমান সুরের মূর্ছনা পক্ষীকূলের হৃদয় নিড়ানো সুমিষ্ট স্বরলিপিই হলো এখানকার সঙ্গীতের পূর্ণাঙ্গ পটভূমি।

এসব এখনও আমাদের দেশে পরিদৃশ্যমান আমাদের অরণ্যে এবং বিস্তৃত সমভূমি এলাকায়, আমাদের উপত্যকায়, সমুদ্রের পার্ষত্য জাঁকজমকে, যেখানে সমুদ্রের শুভ্র ফেণারাশি নরম সৈকতের বালুতে এসে আছড়ে পড়ে। প্রকৃতির এই নিরাময় কাজের সাথে আমাদের এ সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। যীশুখ্রিস্টের একটি বাণী এখানে স্মরণ যোগ্য: "বিচ্ছিন্ন এক নির্জন জায়গায় আস তোমরা এবং কিছুক্ষণ সেখানে বিশ্রাম নাও (মার্ক ৬.৩১)

এমন কি আমি যখন একথাগুলো লিখি এবং আপনাদের এ সদুপদেশ দিই, তখন সেই উপমা আমি স্মরণ করি যেখানে যার প্রয়োজন আছে এবং এর মধ্য দিয়ে আমি নিজেকেও স্মরণ করি ঐ একই সত্যকে অনুশীলন করার জন্য। যা জোরের সাথে আমাদের বলে যে, আমরা যেন চিরস্থায়ীভাবে আমাদেরকে শান্তির জন্য সুশৃঙ্খল করে তুলি। যদি আমরা আমাদের জীবনে এর লভ্যাংশটুকু আশা করি।

শরৎকালের কোন একদিন মিসেস পিল এবং আমি আমাদের ছেলে জনকে দেখতে ম্যাসাচুসেটয়ে রওনা হলাম, ওখানে সে ডিয়ার ফিল্ড একাডেমীতে পড়াশুনা করে। আমরা তাকে বললাম, যে আমরা সকাল ১১টায় এসে পৌঁছব, এবং সেকেলে ধরনের তৎপরতার জন্য আমরা গর্বও বোধ করলাম। কাজেই সময়সূচী অনুযায়ী কিছুটা পিছনে পড়ে থাকার কারণে কিছুটা বিপদজনকভাবে গাড়ি চালাচ্ছিলাম আমরা। শরৎকালীন দৃশ্যবলীর মধ্যদিয়ে গাড়ি চলছিল, আমার স্ত্রী বলল, নরম্যান দেখেছ কেমন উজ্জ্বল পাহাড়ীয়া ঢাল?

আমি জিজ্ঞাসা করলাম, "কিশের পাহাড়িয়া ঢাল?” সে ব্যাখ্যা দিয়ে বলল, “ঐটা ঠিক পাহাড়ের অন্য দিকে চলে গেছে। সুন্দর ঐ গাছগুলোর দিকে চেয়ে দেখ।” কি গাছ? আসলে ইতিমধ্যে মাইলখানেক পথ পেছনে ফেলে এসেছি আমরা।

"আমার দেখা দারুণ চমৎকার দিনের মধ্যে ঐ দিনটি ছিল অন্যতম" এ হল আমার স্ত্রীর মন্তব্য। 'নিউ ইংল্যান্ডের পাহাড়িয়া ঢালে এমন মনোমুগ্ধকর বর্ণবিন্যাস আপনি কিভাবেই বা কল্পনা করতে পারতেন?' আসলে সে বলল, 'সুন্দর দৃশ্যাবলী আমার মনকে দারুণভাবে খুশি করেছে।'

তার এই মন্তব্য আমাকে এত প্রভাবিত করল যে, আমি গাড়ি থামিয়ে ফেললাম এবং পোয়া মাইলের মত পিছনে চলে গেলাম, পিছনে উঁচু পাহাড় ঘেরা শারদীয় বর্ণবৈচিত্রে সুশোভিত এক হ্রদের কাছে। সেখানে কিছুক্ষণ বসলাম, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখলাম সেই অনিন্দ্য সুন্দরকে এবং ধ্যানস্থ হয়ে গেলাম। বিধাতা তাঁর অসাধারণ মেধা এবং দক্ষতা দিয়ে বিচিত্র বর্ণে এ চিত্রাবলী রঞ্চিত করেছেন, আর এমন চোখ জুড়ানো বর্ণবিন্যাস ঘটানো কেবল তার একার পক্ষেই সম্ভব। হ্রদের শান্ত পানিতে তাঁর নিজের দীপ্তিই যেন প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ এই পাহাড়িয়া ঢালটুকুর যে অনুপম ছবি আয়না সদৃশ জলাশয়ে প্রতিবিম্বিত হয়েছে তা সত্যিই তুলনাহীন, যা ভোলো যায় না।

বেশ কিছুক্ষণ একেবারে কোন কথা না বলেই বসে থেকে কাটিয়ে দিলাম আমরা যে পর্যন্ত না আমার স্ত্রী একটি মাত্র যথার্থ উক্তির মাধ্যমে নিরবতা ভঙ্গ করল। তিনি আমাকে প্রশান্ত জলরাশির ধারে আসতে পরিচালিত করলেন (সাম xxii.2)। এগারটার সময় আমরা ডিয়ার ফিল্ডে এসে পৌছলাম, কিন্তু আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়লাম না। আসলে আমরা দারুণভাবে সতেজ অনুভব করছিলাম।

মনের চাপা উত্তেজনা কমাবার জন্য যে উত্তেজনা মনে হয় সর্বত্র আমাদের মানুষের উপর আধিপত্য বিস্তার করে আপনি স্বয়ং আপনার গতিবেগ কমিয়ে সেই চাপা উত্তেজনা কমানোর কাজ শুরু করতে পারেন। তা করতে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, গতি নিয়ন্ত্রণ করে ধীরে চলুন শান্ত হোন। আকস্মিক ভাবে ক্রুদ্ধ হয়ে যাবেন না। বিরক্তও হবেন না। শান্তিপূর্ণ ভাব বজায় রাখতে অনুশীলন করুন। অনুশীলন করুন বিধাতা প্রদত্ত শান্তি যা আপনাকে দিয়ে থাকে ধীশক্তি। (ফিলিপিয়্যানস iv.7) তারপর মনোযোগ দেন শান্ত শক্তিবোধের দিকে যা আপনার মধ্যে পারদর্শী হয়ে উঠবে।

আমার এক বন্ধুকে জোর করে বিশ্রাম নিতে বাধ্য করা হয়েছিল আর এই চাপ সৃষ্টির ফল কি দাঁড়িয়েছিল সে সম্বন্ধে আমাকে লিখেছেন, “জোর করে কাজকর্ম থেকে বিরত করে যে বিশ্রাম নিতে আমি বাধ্য হলাম তা থেকে আমি অনেক কিছুই শিখলাম। এখন আমি আগের থেকে বেশ ভালোভাবে বুঝি যে প্রশান্ত অবস্থায় আমরা বিধাতার উপস্থিতি ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে পারি। জীবন কর্দমাক্ত হয়ে যেতে পারে। কিন্তু লাউৎ-সি বলেন,” দাঁড়িয়ে থাকুন, দেখবেন একসময় কর্দমাক্ততা সরে গিয়ে পানি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

এক ডাক্তার এক রোগীকে অদ্ভুত কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন। রোগী লোকটি আক্রমণপ্রবণ ধরনের এক ব্যবসায়ী। উত্তেজিত হয়ে তিনি ডাক্তারকে বললেন যে, কি অতিরিক্ত পরিমাণ কাজ তাকে করতে হয়েছিল, এবং সমস্ত কাজই তিনি ভালোভাবে দ্রুত ইত্যাদি যেমনটা দরকার তেমনভাবে সম্পন্ন করেছেন।

"প্রতিরাতে আমি যে ব্রীফকেসটি বাসায় নিয়ে আসি তাতে নানা কাজ ঠাসা থাকে,” দুর্বল স্নায়ু লোকের মত কথাগুলো বললেন তিনি।

ডাক্তার শান্তভাবে জিজ্ঞাসা করলেন, “রাতে বাসায় ফেরার সময় এত কাজ কেন সাথে করে নিয়ে আসেন?"

ক্রুদ্ধ হয়ে তিনি বললেন, "আমাকে এগুলো সম্পন্ন করতেই হয়।” আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, "অন্য কেউ এগুলো করে দিতে পারতী, অথবা আপনাকে সাহায্য করতে পারে না?"

না, রুক্ষস্বরে কথাটি বললেন তিনি। "কেবলমাত্র আমিই একাজ করতে পারি।" 'কাজটি অবশ্যই ঠিকঠিকভাবে করতে হবে, আমি একাই শুধু তা করতে পারি। যেমনভাবে এটা করা দরকার এবং অবশ্যই আবার দ্রুতও করতে হবে। সবকিছুই নির্ভর করে আমার উপর।'

ডাক্তার জিজ্ঞেস করলেন, "যদি আমি একটি প্রেসক্রিপশন আপনাকে লিখে দিই, আপনি তা অনুসরণ করবেন?"

আপনারা বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, তার প্রেশক্রিপশনটা ছিল এমন, “প্রতিটি কর্ম দিবসে আপনাকে দুঘণ্টার জন্য কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দীর্ঘ পথ হাঁটাহাঁটি করতে হবে। তারপর সপ্তাহে একদিন আপনাকে আধাবেলার জন্য কাজ থেকে বিরত থেকে ঐ সময়টুকু কবরস্থানে কাটাতে হবে।

অবাক হয়ে রোগী জানতে চাইলেন, আধা বেলা আমি কবরে কাটাব কিসের জন্য?"

জবাবে ডাক্তার বললেন, কারণ আমি চাই সেখানে আপনি ঘুরে বেড়ান এবং যারা ওখানে চিরনিদ্রায় নিদ্রিত তাদের কবরের সমাধি প্রস্থরগুলোর দিকে আপনি চোখ মেলে তাকান। আমি আরো চাই যেন আপনি ঐ ঘটনার উপর ধ্যানস্ত হোন আপনার মত একই ঘটনা ওখানে শায়িত হয়ত অনেকের জীবনেই ঘটেছিল। এমন কি তারাও হয়ত আপনার মত ভাবতেন যে সারা দুনিয়ার ভার তাদের কাঁধের উপর ন্যস্ত। পবিত্র বিষয় নিয়ে ধ্যান করুন, ভাবুন যে আপনিও একদিন চিরদিনের মত ঠিক একই জায়গায় চলে যাবেন। কারণ এ জগতে সবার জীবনের পরিণতি ঐ একই রকম। কাজেই এ বিষয়টি যেমন আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তেমনি অন্যদের জন্যও, তারাও আপনার মতই একই কাজ করতে সক্ষম হবে এখন আপনি যা করছেন, আমার পরামর্শ হল যে, আপনি ঐ সমাধি প্রস্তরগুলোর একটার উপর শান্ত হয়ে বসুন, এবং বার বার এই উক্তিটি আওড়ান .... তোমার দৃষ্টিতে হে বিধাতা, এক সহস্র বছর যেন গত হয়ে যাওয়া কালকের একটি দিনের মত এবং রাতের একটি মাত্র প্রহরের মত। (সাম xc. 4)

রোগী লোকটির তাতে একটি ধারণা হল। তার দ্রুতগতিতে ছোটাছুটি কমিয়ে আনলেন। তিনি শিখলেন কিভাবে অন্যের উপর আস্থা রেখে কর্তব্য করতে দেয়া যায়। নিজের গুরুত্ব বুঝার বিষয়টিকে তিনি সাফল্যের সাথে সমাপন করলেন। ক্রুদ্ধ এবং বিরক্ত হওয়া থেকে বিরত হলেন তিনি। তিনি প্রশান্ত হলেন এবং সাথে সাথে এও দেখা গেল তিনি ভালোভাবেই কাজ কর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার প্রতিষ্ঠানের উত্তরোত্তর উন্নতি হতে থাকল এবং তিনি এ ও স্বীকার করেন যে তার ব্যবসা এখন ভালো অবস্থায় আছে।

প্রসিদ্ধ এক পণ্য প্রস্তুতকারক প্রচণ্ড মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন অত্যধিক উত্তেজনা প্রবণ মনের মানুষ ছিলেন যেমনটা তিনি বর্ণনা করেছেন। প্রতিদিন সকালে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠতেন এবং দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকতেন, তিনি এমন বেগে এবং দ্বিধাগ্রস্থভাবে হাঁটতেন যে, প্রাতঃরাশ সারতেন শুধুমাত্র সিদ্ধ নরম ডিম দিয়ে। কারণ দ্রুত গলা দিয়ে পেটে চলে যেত চিবুতে হত না। এই উত্তেজনা প্রসুত দ্রুততাকে তাকে অবসন্ন করে ফেলত, এবং মধ্যাহ্ন পর্যন্ত এই ধকল তাকে সহ্য করতে হতো। তারপর প্রতিরাতে প্রচণ্ড অবসন্ন শরীরে তাকে ঘুমিয়ে পড়তে হতো।

এটা এমনভাবে ঘটত যেন তার বাড়িটি কোন কুঞ্জ বনে অবস্থিত। ঘুমাতে না পেরে একদিন তিনি খুব ভোরে উঠে পড়লেন এবং জানালার ধারে বসে রইলেন। বেশ আগ্রহী হয়েই বসে রইলেন যাতে তার দৃষ্টিপথে কোন পাখির দেখা পান। এবং দেখলেন সত্যিই একটি পাখি তার পাখার ভেতর মুখ গুঁজে সুন্দর ঘুমাচ্ছে। পালকগুলো তার চারিদিকটা ঢেকে রেখেছে। যখন জেগে উঠল পাখিটি তখন পালকের ভেতর থেকে ঠোঁটটি বের করে নিয়ে এলো ঘুম ভাঙানো চোখে চারিদিকে তাকাল, তারপর একটি পা টান টান করে মেলে দিল যতদূর সম্ভব, এরইমধ্যে পায়ের উপর দিয়ে পাখাটিও মেলতে থাকল। দেখতে যেন একটি পাখার মত মনে হলো। পা ও পাখাটি এখন আবার আগের মত গুটিয়ে আনলো। একইভাবে এবার অন্য পা এবং পাখাটি টান টান করে মেলে ধরলো, যার ফলে সে তার মাথাটিও নীচু করে আবার পালকের ভেতর গুঁজে দিল আরো একটু তৃপ্তিকর দিবা নিদ্রার জন্যে। তরপর আবার মাথাটি বের করে নিয়ে এলো। এইবার পাখিটি চারিদিকে তাকালো একটু আগ্রহের সাথে, মাথাটি পেছন দিকে ছুড়ে দিল পাখাদুটো ও পাদুটো দুবার লম্বা করে টান টান করে মেলে দিল।

তারপর একটি গান তুলে ধরল, রোমাঞ্চকর সুস্বর সমন্বিত সুন্দর এক গান, যেন ঐ দিনটির প্রশংসা করছে গানের সুরে, পায়ে পায়ে লাফিয়ে পাখিটি ঠাণ্ডা পানি পান করে নিল এবং খাবার খুঁজতে থাকলো।

আমার ঐ অতিউত্তেজিত বন্ধুটি নিজেই বললেন, যদি ঐভাবে পাখি ঘুম থেকে উঠতে পারে ধীরে এবং আয়েশে তাহলে একটি দিন শুরু করার জন্য ঐ সুন্দর পন্থাটি আমার ক্ষেত্রেও অনুকরণীয় নয় কেন? তিনিও ঐ পাখির মত একই কাজ করে গেলেন, এমন কি গানও গাইলেন এবং লক্ষ্য করলেন যে গান বিশেষভাবে একটি উপকারী বিষয়, যা মানুষকে স্বস্তি দেবার একটি সুন্দর কৌশল।

একটু হেসে হেসে তিনি বললেন, আমি গান গাইতে পারি না, কিন্তু শান্ত হয়ে চেয়ারে বসতে এবং গাইতে অভ্যস করলাম আমি। যা গাইলাম তার অধিকাংশই ধর্মসংগীত এবং আনন্দদায়ক গান। কল্পনা করুন আমি গান গাইছি, কিন্তু আসলেই আমি গাইলাম। আমার স্ত্রী ভাবলো আমার স্বাভাবিক জ্ঞান গর্ম হারিয়ে গেছে। পাখিটি থেকে একটি মাত্র বিষয় আমার শেখা হয়েছিল তা হলো, ওর মত একটু প্রার্থনাও আমি করলাম তারপর একটু খাবার খেতেও ভালো লাগল অমিার এবং তাই আমি চমৎকার প্রাতরাশ অর্থাৎ লবনমাংস এবং ডিম খেতে চাইলাম। বেশ সময় নিয়ে নাস্তা খেলাম আমি। তারপর ঢিলেঢালা সুন্দর মানসিক অবস্থা নিয়ে কাজে গেলাম। এই যে বিষয়টি পাখির কাছ থেকে শিখলাম তা নিশ্চিতভাবেই আমার আগেকার সেই দিনগুলো চাপা উত্তেজনা থেকে রেহাই দিতে শেফিল, এবং এটা আমাকে সারাদিনের জন্য শান্তিপূর্ণ শিথিল মন নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে সাহায্য করল।

দৌড় প্রতিযোগিতার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি দলের এক পূর্বতন সদস্য আমাকে বলেছিল যে, তাদের দলের ধূর্ত প্রশিক্ষক প্রায়ই তাদের স্মরণ করিয়ে দিতেন যে "এটা অথবা যে কোন দৌড় প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করতে হলে, লাইনে দাঁড়াবে ধীরে।” তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে দ্রুত সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতে গেলে লড়াকু উদ্যম ভেঙ্গে যেতে পারে এবং যখন বিশেষ উদ্যম ভেঙ্গে যায় তখন এই বিরাট ত্রুটি সংশোধন করে জয় লাভের ছন্দে ফিরে আসতে আসতে দলের অন্যান্য প্রতিযোগী বিশৃংখল অবস্থায় থাকা অন্যান্যদের অতিক্রম করে আগে চলে যায়। পকৃতপক্ষেই এটি একটি বুদ্ধিদীপ্ত উপদেশ যে “দ্রুত দৌড়াও কিন্তু লাইনে দাঁড়াও ধীরে।"

ধীরে লাইনে দাঁড়াতে বা ধীরে কাজ করতে এবং দৃঢ় গতি বজায় রাখতে যার মধ্যে দিয়ে জয় হাতের মুঠোয় চলে আসবে। একজন দ্রুতগুতির শিকার যদি এগুলো অনুসরন করে তাহলে সে ভালো করবে এবং এপথেই তার মনেও আত্মায় আসবে ঐশ্বী শান্তি এবং আরো বলা যেতে পারে যে, তার স্নায়ু এবং পেশী সমূহের মধ্যেও তা আসবে।

আপনি কি কখনও আপনার মাংস পেশীতে আপনার শরীরের সংযোগস্থলে ঐশ্ম শান্তির কথা একটুও ভেবে দেখেছেন? সম্ভবত যদি আপনার শরীরেরে জোড়ায় জোড়ায় যদি ঐশ্বী শান্তি অবস্থান করে তবে সে জায়গাগুলোতে ব্যথা বেদনা অনুভূত হবে না। আপনার পেশীগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে যখন ঐশ্বীশান্তি যা দিয়ে ওগুলো গঠিত তা আপনার কাজকর্ম পরিচালনা করবে প্রতিদিন আপনার পেশীগুলোকে, শরীরের সংযোগস্থলগুলোকে, আপনার স্নায়ুকে একথাগুলো বলুন, তোমরা বিরক্তবোধ করো না। (সাম Xxxvii.1) আরাম কেদারায় অথবা বিছানায় শিথিলভাবে বিশ্রাম নিন, মাথা থেকে পা পর্যন্ত যত পেশি আছে প্রত্যেকটির কথা ভাবুন এবং প্রতিটি পেশীকে বলুন, ঐশ্বী শান্তি তোমাকে স্পর্শ করছে।” তারপর অনুভব করতে থাকুন যে, আপনার সারা শরীরের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রবাহিত হচ্ছে। নির্দিষ্ট এই কার্যধারায় মধ্য দিয়ে আপনার পেশী এবং সংযোগ স্থলগুলো যত্ন পাবে।

ধীরে চলুন, কারণ আপনি সত্যি সত্যিই যা কিছু যেখান থেকে থেকে সেন সেখানে যাবার পর আপনি তা পাবেন, যদি কাজ নিয়ে এদিকে আপনি কোনরকম পীড়ন বা চাপ ছাড়া অগ্রসর হতে পারেন। বিধাতার নির্দেশিত পথে এবং তাৱ প্রদত্ত শান্ত ও সংযত লয়ে যদি অগ্রসর হওয়া যায় তাহলে যা চান তা সেইখানে পাওয়া গেল না। তাহলে হয়ত ধরে নেয়া যায় যে, তা সেখানে ছিলও না যদি এটা ফসকে যায়ও সম্ভবত এটা ঠিক যে এটা ফসকে যাওয়া আপনার জন্য ভালো ছিল। সুতরাং নিশ্চিতভাবে একটি সাধারণ ও স্বাভাবিক গতিরে অন্বেষন করুন এবং বিকাশ ঘটান। মানসিক শান্তি বজায় রাখার জন্য অনুশীলন করুন স্বায়ুগত সমস্ত উত্তেজনা প্রতিরোধ করার কৌশল রপ্ত করুন। বিরতি দিয়ে দিয়ে দৃঢ়তার সাথে বলুন; “আমি এখন স্নায়ুগত উত্তেজনা পরিত্যাগ করছি, এটা আমার মধ্য থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।" আমি শান্তিতে আছি। কাজেই আকস্মিক ক্রোধ সম্বরণ করুন বিরক্তি পরিহার করে চলুন, শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করতে অভ্যাস করুন।

বেঁচে থাকার এমন অভিজ্ঞতা লাভের জন্য আমি আপনাদের এই পরামর্শ দিতে চাই যে, আপনারা শান্তিপূর্ণ চিন্তাগুলোর সার্বক্ষণিক পরিচর্যা করুন। প্রতিদিন আমরা এমন ক্রমন্বিতভাবে কাজ করব যাতে আমাদের শরীরের প্রতি যথার্থ যত্ন বজায় থাকে। আমরাও স্নান করি, দাঁত মাজি, ব্যায়াম করি ঠিক মনকে স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় টিকিয়ে রাখতে আমাদেরও উচিত এর পেছনে সময় দেয়া এবং সুপরিকল্পিত প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া। এটা করার একটি সুন্দর পথও আছে, তা হলো আপনি শান্ত হয়ে বসুন এবং স্মৃতি পর্দায় পূর্ণ ও ক্রমন্বিত চিন্তা চালিয়ে যেতে থাকুন। যাতে আপনার মনের সুস্বাস্থ্য বজায় থাকে। উদাহরণ স্বরূপ, আপনার চিন্তা স্রোতের মধ্যে দিয়ে এটি সুউচ্চপর্বতের একটি কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা, একটি রৌদ্রকরোজ্জল মিষ্টিজলাশয় শ্বেত- শুভ্র চন্দ্রালোকিত জলরাশি ইত্যাদি সুন্দর চিন্তাগুলো প্রবাহমান রাখুন।

চব্বিশ ঘণ্টায় অন্তত একবার দিনের সবচেয়ে কর্মব্যস্ত সময়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত উৎকৃষ্ট সময়ে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আপনি যাই করুন না কেন অন্তত দশ কি পনের মিনিটের জন্য কাজ থেকে বিরত থাকুন এবং প্রশান্তভাব বজায় রাখতে অভ্যাস করুন।

এমন কিছু সময় আছে যখন তাড়াহুড়া করে চলাফেরা করা খুব দৃঢ়তার সাথে দমন করতে হয়, এবং সেক্ষেত্রে জোরের সাথেই বলা যায় যে, এই অভ্যাস বন্ধ করার একমাত্র পথ হল এ থেকে বিরত হওয়া।

একবার কোন একটি নির্ধারিত তারিখে একবার কোনো এক শহরে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রেলগাড়িতে একটি সমিতির সাথে সাক্ষাত হয় আমার। দ্রুতবেগে আমি একটি বইয়ের দোকানে প্রবেশ করলাম, ওখানে আমার স্বাক্ষরদান কর্মসূচী ছিল, ওখান থেকে আরেকটি বইয়ের দোকানে যেতে হলো, ওখানেও আমার স্বাক্ষরদান কাজ অনুষ্ঠিত হল। সেখান থেকে তারা দ্রুত নিয়ে গেলেন দুপুরের খাবার খেতে। দুপুরের খাবার শেষে আমাকে দ্রুত একটি সভায় যোগ দিতে যেতে হলো।, সভা শেষে ছুটে এলাম হোটেলে, সেখানে কাপড় চোপড় পাল্টে আবার সুন্দরীকে আবার অভ্যর্থনা কক্ষে, ওখানে কয়েকশত লোক আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। তাদের সাথে সাক্ষাতের পর তিনগ্লাস ফলের সরবত পান করলাম আমি। তারপর সেখান থেকে দ্রুত ফিরে এলাম হোটেলে এবং বললাম ডিনারের পোষাক পরার জন্য আমার হাতে মাত্র বিশ মিনিট সময় আছে। যখন আমি পোষাক পড়ছিলাম টেলিফোনটা বেজে উঠল এবং একজন বলেই ফেলল, জলদি করুন জলদি করুন জলদি, আমরা এখনই ডিনার খেতে যাব।

উত্তেজিত হয়ে বিরবির করে বললাম হ্যাঁ আমি এখনি নীচে আসছি। খুব দ্রুত ঘর থেকে বের হলাম এবং এত উত্তেজিত ছিলাম যে চাবিটা যে তালায় ঢোকাব সেটাও হচ্ছিল না। খুব দ্রুত আমি অনুভব করলাম আমি যে পুরোপুরিভাবে পোষাকাদি পড়েছি সে ব্যাপারে আমার নিশ্চিত হওয়া দরকার এবং তা হয়ে আমি এলিভেটরের দিকে ছুটলাম। হঠাৎ করেই আমি থামলাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল। নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম আমি, এসবের অর্থ কি? এমন অবিরাম ছুটাছুটির মানেটা কি দাঁড়ায়? এতো একেবারে হাস্যকর।

এরপর আমি ঘোষণা করলাম আমি স্বাধীন, এবং বললাম যদি ডিনারে যাইও আমি তা পরোয়া করব না কথা বলা না বলাকেও পরোয়া করব না। আমি ডিনারে আমাকে যেতেই হবে এমন কি কথা এবং আমাকে একটি বক্তব্য দিতেই হবে বলে আমি মনে করি না। কাজেই ইচ্ছে করেই এবং ধীর গতিতে আমি আমার কক্ষে ফেরত আসলাম এবং সময় নিয়ে তালাটি খুললাম। নীচে যে লোকটি ছিল তাকে ফোন করে বললাম আপনি যদি খেতে চান তো খেতে থাকুন। যদি চানতো আমার জন্য একটু জায়গা রাখুন আমি একটু পরে নীচে আসছি। কিন্তু আমি আর ছুটাছুটি করতে চাই না।

সুতরাং আমি আমার কোটটি ছাড়লাম, এবং বসে পড়লাম, জুতা খুলে ফেললাম, পা দুটো আরাম করে টেবিলে তুলে নিলাম এবং শান্তভাবে বসে রইলাম। তারপর বাইবেলটি খুলে খুব ধীরে ধীরে ১২১ তম সাম সঙ্গীতটি পড়লাম, "পর্বত সমূহের উপর আমি আমার চক্ষু নিবদ্ধ করব যেখান থেকে আমার সাহায্য আসবে। তারপর বইটি বন্ধ করে নিজে নিজে কিছুক্ষণ কথা বললাম “এখন এসো স্বস্থিপূর্ণ সহজ সিথিল জীবন শুরু কর এবং তারপর আমি নিশ্চিত হলাম; বিধাতা এখানে উপস্থিত এবং তার শান্তি আমাকে স্পর্শ করছে।”

ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম যে, আমার কিছু খাবার প্রয়োজন নেই। যেমন করেই হোক আমি খুব বেশিই খাই। তাছাড়া রাতের খাবারটি গুণগত দিক থেকে হয়ত তত ভালোও হবে না এবং এখন আমি যদি একটু শান্ত থাকতে পারি তবে আটটার সময় আমি যে বক্তব্য দেব তা খুব চমৎকার হবে।

কাজেই আমি সেখানে বসে বসে বিশ্রাম নিলাম এবং মিনিট পনের প্রার্থনা করলাম, যখন আমি ঘর থেকে বের হলাম, তখন আমার মনে যে শান্তি এবং নিজের উপর যে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা আমি করেছিলাম তা কখনও ভুলব না। কিছু কিছু এ একটা জয় করা অর্থাৎ নিজের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চমৎকার অনুভূতি আমার মনকে ঘিরে রেখেছিল এবং আমি যখন খাবার কক্ষে গিয়ে পৌঁছালাম অন্যেরা তখন তাদের খাবারের প্রথম দফা শেষ করল। আমি যা খেতে পারলাম না তা হলো সুপ, স্বাভাবিকভাবে ধরতে গেলে তা বড় ধরনের কোনো লোকসান নয়।

ঘটনাটি ছিল বিধাতার নিরাময়কারী উপস্থিতির অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতা। এই যে মূল্যবান একটি অবস্থা আমার নাগালের মধ্যে পেলাম তা হলো, আমি ঐ ছুটাছুটি বাদ দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য বিরতি পালন করেছিলাম। শান্ত মনে বাইবেল পড়েছিলাম, আন্তরিকভাবে প্রার্থনা করেছিলাম এবং শান্তিপূর্ণ কিছু চিন্তাস্রোত কয়েক মুহূর্তের জন্য মনের মধ্যে সঞ্চারিত হতে দিয়েছিলাম।

ডাক্তারগণ সাধারণত মনে হয় অনুভব করেন যে অনেক শারীরিক কষ্টই এড়ানো যেতে পারে যদি ক্রুদ্ধ হওয়া ও বিরক্ত হওয়াকে এড়ানো বা জয় করা যায় এবং এটা করা সম্ভব যদি এই দর্শন তত্বের অনুশীলন করা যায়।

নিউইয়র্কের একজন প্রসিদ্ধ নাগরিক আমাকে বলেছিলেন যে, তার ডাক্তার তাকে পরামর্শ দিয়ে বলেছিলেন যে, আপনি আমাদের গীর্জার ক্লিনিকে আসুন কারণ প্রশান্ত মনে বাঁচার যে দর্শনতত্ব তা আপনার আরো উন্নত করা প্রয়োজন। আপনার শক্তির উৎসগুলো ইতোমধ্যে বেহিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

আমার ডাক্তার বলেন যে, আমি নিজেকে সংযত হবার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। তিনি আমাকে বলেন, আমি খুব কঠিনভাবে উত্তেজিত, অত্যাধিক টান টান অবস্থায় আছি আমি, তাই আমি হঠাৎ ক্রুদ্ধ এবং খুবই বিরক্ত হয়ে যাই, এবং শেষে আমার ডাক্তার ঘোষণা করলেন যে, আমার জন্য সবচেয়ে নিশ্চিত নিরাময় হলো বাঁচার জন্য শান্তভাব বজায় রাখার দর্শন তত্বটির অনুশীলন ও বাস্তবায়ন।

আমার দর্শণ পার্থী লোকটি উপরে উঠে আসলেন এবং মেঝের উপর দিয়ে এসে জানতে চাইলেন, কিন্তু এ পৃথিবীতে আমি তা কিভাবে করব? এটাতো বলা খুবই সহজ কিন্তু করা তত সহজ নয়।

তারপরও এই উত্তেজিত ভদ্রলোক বলেই চললেন যে, তার ডাক্তার তাকে বেঁচে থাকার জন্য, প্রশান্ত থাকার দর্শনতত্ত্ব অভ্যাস করার কাজ বা আরো উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরামর্শটি যেমনভাবে বর্ণিত হয়েছে তা খুবই সারগর্ভ কিন্তু তারপর তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বললেন, 'ডাক্তার সাহেব পরামর্শ দিয়ে বলেছেন যে, আমি আপনাকে এখানে গীর্জায় দেখতে পাচ্ছি।'

কারণ তিনি অনুভব করেন যে, যদি আমি বাস্তবিকভাবে ধর্মীয় বিশ্বাসকে ব্যবহার করতে শিখি তাহলে তা আমার মনে শান্তি বয়ে আনবে এবং আমার রক্তচাপও কমিয়ে আনবে। তখন আমি শারীরিকভাবে যথেষ্ট ভালো অনুভব করতে থাকব। যখন আমি ডাক্তার সাহেবের ব্যবস্থাপত্রটি যে সংগত এটাও বুঝতে পারি। তিনি অভিযোগ করে বললেন, কিভাবে পঞ্চাশ বছর বয়সের একজন লোক যিনি আমারই মত চড়া ধাতের মানুষ। তার জীবনের অভ্যাসগুলো হঠাৎ করেই বদলে ফেলতে পারে, কিভাবেই বা তথাকথিত প্রশান্ত জীবন যাপনের দর্শনতত্বকেও আরো উন্নত করে তুলতে পারে?

ওতো আসলে মনে হয় এক সমস্যা। কারণ তিনি এমন এক ব্যক্তি যার মধ্যে পূঞ্জীভূত উত্তেজনাকর এবং বিশ্লেষনোম্মুখ প্রবৃত্তির অস্তিত্ব বিদ্যমান। তিনি মেঝের উপর দিয়ে দ্রুত পায়চারী করলেন, টেবিল চাপড়ালেন তার কণ্ঠে ছিল চড়া সুর। তার আচার-আচরণ কথায়বার্তায় এমন এক ছাপ তিনি রাখলেন যে যাতে বুঝা গেল তিনি সম্পূর্ণরূপে বিরক্ত এবং হতবুদ্ধি একজন লোক। তার সবচেয়ে বাজে দিকটা তিনি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে ফেলছিলেন, কিন্তু তিনি পরিস্কার দেখিয়ে দিচ্ছিলেন তার ব্যক্তিত্বের আভ্যন্তরীন দিকটি কেমন, এবং তার এই অন্তরদৃষ্টি এইভাবে প্রকাশ করে ফেলছিলেন কিন্তু তিনি পরিস্কার দেখিয়ে দিচ্ছিন্নে তার ব্যক্তিত্বের আভ্যন্তরীন দিকটি কেমন, এবং তার এই অন্তরদৃষ্টি এভবে বুঝার জন্য আমাদের সুযোগ তৈরি করে দেয়। যখন আমি তার এসব কথা শুনলাম এবং তার মনোভাবটি লক্ষ্য করলাম, আমি আবারও বুঝতে পারলাম কোন যীশুখ্রিষ্ট মানুষের উপর তার স্মরণীয় অভিমতগুলো ব্যক্ত করেছেন। এর কারণ হলো মানুষের এমন সমস্যায় তার সমাধানটি এমন এবং আমি এর সত্যতা যাচাই করে দেখেছি। বাক চারিতার মধ্যে হঠাৎ বাক্য পরিবর্তন করে এর সুফল পাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে কোনো রকম ভূমিকা না করেই আমি বাইবেল থেকে প্রাসঙ্গিক কোনো উক্তি তুলে ধরেছি, যেমন, "যারা পরিশ্রান্ত এবং ভারাক্রান্ত, তারা আমার কাছে এসো এবং আমি তোমাদের বিশ্রাম দেবো।” (মথি xi. 28) এবং আরো বললাম, আমার শান্তি তোমাদের সাথে রেখে যাচ্ছি, আমার শান্তি তোমাদের দান করছি, জগৎ তোমাদের যে শান্তি দিতে পারে না, আমি তা তোমাদের প্রদান করছি। তোমাদের হৃদয় কষ্ট না পাক, না তা ভয়ে ভীত হোক (জন xiv.27) এবং আবারো বললাম "তুমি তাকেই সম্পূর্ণ শান্তিতে রাখবে, যার মন তোমাতে স্থিত।” (যিশাইয় xxvi. 3)

এই কথাগুলো ধীরে ধীরে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এবং সুচিন্তিতভাবে বললাম যখন এই কথাগুলো বলছিলাম, লক্ষ্য করলাম যে, আমার সাক্ষাত প্রার্থীর উত্তেজিত হওয়াটা থিতিয়ে পড়ল। তার মধ্যে একটি প্রশান্তভাব নেমে এলো। এবং আমরা দুজনেই নীরব হয়ে বসে থাকলাম। মনে হলো ওভাবে আমার বেশ কয়েক মিনিট বসে কাটালাম। হয়ত সময়টা অত লম্বা ছিল না কিন্তু শেষে তিনি একটি গভীর নিশ্বাস ছাড়লেন।

তিনি বললেন, “কেমন মজার ব্যাপার। আমার অনেক ভালো লাগছে এখন, কেমন অদ্ভূত ব্যাপার তাইনা?” আমার ধারণা এমন ব্যাপারটি ঘটলো এ বাণীগুলোর জন্যই।

আমি বললাম না শুধুমাত্র ঐ কথাগুলোর জন্যই নয়, যদিও মন জয় করবার প্রভাব ফেলার অদ্ভূত শক্তি আছে ঐ বাণীগুলোর কিন্তু ঠিক ঐ মুহূর্তে গভীর কিছু একটাও ঘটেছে। মিনিটখানেক আগে তিনি আপনাকে স্পর্শ করেছেন তিনি সেই উপরওয়ালা ডাক্তার তার নিরাময়কারী স্পর্শেই আপনি অদ্ভুত অনুভূতি লাভ করেছেন। তিনি এই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

আমার সাক্ষাৎপ্রার্থী এই নিশ্চয়তা ব্যাঞ্জক কথায় কোনরকম বিস্ময় প্রকাশ করলেন না, কিন্তু বেশ আগ্রহের সাথে এবং শোবেগ প্রবনভাবে স্বীকার করলেন, দৃঢ় বিশ্বাসের ভাবটি তার মুখের ছায়ায় ফুটে উঠলো। ঠিক তাই তিনি নিশ্চিত ছিলেন, আমি তাকে অনুভব করেছি, আপনি কি বুঝতে চাইছেন আমি তা বুঝতে পেরেছি। এখন আমি বুঝতে পারছি জীবন ধারণের জন্য প্রশান্তভাব বজায় রাখার যে দর্শন, তত্ত্বের অনুশীলন সে ব্যাপারে যীশুখ্রিস্ট আমাকে সাহায্য করবেন।

এই লোকটি দেখেছিলেন যে কিভাবে হাজার হাজার মানুষ সাধারণ এই বিশ্বাসটি আবিষ্কার করছে এবং এই নীতি অনুশীলন করে বুঝতে পারছে যে সব ধর্মই কিভাবে শান্তি এবং শান্ত ভাব মানুষের জীবনে বয়ে নিয়ে আসে এবং সে কারণেই শরীরে মনে এবং আত্মায় আসে নতুন শক্তি। আকস্মিক ক্রোধ এবং বিরক্তি নিবারণের এটাই হলো একমাত্র প্রতিষেধক।

মানুষের মনে এ পথেই আসে শান্তিপূর্ণভাব এবং এভাবেই উৎসারিত নতুন শক্তির স্পর্শ অনুভব করে। অবশ্যই এ লোকটিকে নতুন ধরনের চিন্তন এবং কর্মের শিক্ষা প্রদান আবশ্যক ছিল। এ কাজটি তার প্রতি করতে হয়েছে অংশত সুদক্ষ আধ্যাত্মিক সাহিত্যিকদের লিখিত পরামর্শের মাধ্যমে। উদাহরণ স্বরূপ আমরা তাকে গীর্জায় যাওয়ার অভ্যাস করতে শিক্ষা দিয়েছিলাম। (সর্ব ধর্মেই এমন ব্যাপার ফলপ্রসু)

আমরা তাকে শিখিয়েছিলাম গীর্জার উপাসনা কিভাবে থেরাপির মত কাজ করে। তাকে শেখানো হয়েছিল প্রার্থনার বিজ্ঞানসম্মত প্রয়োগ এবং শিথিল সহজ ভাব বজায় রাখার কায়দা এবং এই অনুশীলনের ফলশ্রুতি হিসেবে পরবর্তীতে তিনি একজন সুস্বাস্থ্যবান লোকে পরিণত হয়েছিলেন যদি কেউ এই অনুক্রম অনুসরণ করতে ইচ্ছে করে এবং আন্তরিকভাবে এই নীতিমালা দিনের পর দিন অনুশীলন করে, তাহলে আমি বিশ্বাস করি সে তার অভ্যান্তরীন শান্তি ও শক্তি বাড়িয়ে তুলতে সক্ষম হবে। এমন অনেক কৌশল এ বইটিতে বর্ণনা করা হয়েছে।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নিরাময়কারী এই কৌশল অনুশীলন প্রধানতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোন যাদুকরী কিম্বা সহজ কোন পথে আবেগগত নিয়ন্ত্রণ লাভ করা সম্ভব নয়। শুধুমাত্র কোন বই পড়েও আপনি এ বিষয়টির তেমন বিকাশ সাধন করতে পারবেন না, যদি তা প্রায়শ:ই আপনার সাহায্যকারী হিসেবেই কাজ করবে। একে বাস্তায়িত করতে হলে একমাত্র নিশ্চিত পথ হলো নিয়মিত এর উপর কাজ চালিয়ে যাওয়া। কোনরকম বিলম্ব না করে বৈজ্ঞানিক ভাবে এবং সৃজনশীল বিশ্বাসের বিকাশ সাধন করেই তা করতে হবে।

আমার পরমর্শ হলো যে, আপনি প্রাথমিক প্রক্রিয়াস্বরূপ করুন সাধারণভাবে এটা হবে শারীরিকভাবে শান্ত থাকার অনুশীলন, কক্ষের ভেতর ছোটাছুটি করবেন না। হাত পাকাবেন না, আঘাত করা, চিৎকার করা তর্ক বিতর্ক করা অথবা উপর নীচ হাঁটাহাঁটি করা থেকে বিরত থাকুন। উত্তেজনায় কাপতে থাকবেন না। মনে রাখবেন উত্তেজনা মানুষের শারীরিক গতিবিধির উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। কাজেই এসব করতে হলে কোন সাধারণ জায়গার শুধু করুণ এবং তা হবে শারীরিক গতিবিধির বিরাম সহকারে। শান্ত হয়ে দাঁড়ান, বসে পড়ুন, এবং শুয়ে পড়ুন। কন্ঠস্বর অবশ্যই নীচু সুরে বেঁধে রাখবেন।

শান্তভাব নিয়ন্ত্রণের বিকাশ সাধনের জন্য শান্তভাবে চিন্তা করা আবশ্যক কারণ চিন্তার ধরনটি সবসময় সংবেদনশীলভাবে শরীরের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং মনের মধ্যে আনাগোনা করে। আর এও সত্যি যে শরীরকে প্রথমে শান্ত করতে পারলে মনকেও শান্ত করা সম্ভব। বলা যেতে পারে যে, শারীরিক ভাব ভঙ্গি আকঙ্খিত মানসিক ভাবের পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

আমার কোন এক বক্তব্যে আমি নীচের ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলাম, ঘটনাটি ঘটেছিল আমাদের এক সমিতির সভায়। এক ভদ্রলোক আমার কাছ থেকে ঘটনাটি শুনে খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন এবং আন্তরিকভাবে একে সত্য বলে ধরে নিয়েছিলেন। যেমন পরামর্শ দেয়া হয়েছিল ঠিক তেমনিভাবে তিনি এ কৌশলটি প্রয়োগ করেন এবং আমাকে জানান যে, ক্রুদ্ধ হওয়া ও বিরক্ত হওয়া নিয়ন্ত্রনের কাজে খুবই ফলপ্রদভাবে কাজ করেছে।

যে সভায় আমি উপস্থিত ছিলাম ওখানে একটি বিষয় নিয়ে আলাপ আলোচনা চলছিল এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তা তিক্ত অবস্থায় চলে গিয়েছিল, মেজাজ খারাপ হতে হতে কলহ পর্যায়ে চলে গিয়েছিল এবং একজন তো একেবারেই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল। তীক্ষ্ম তীক্ষ্ম সব মন্তব্য ছুড়ে দিতে শুরু করল। হঠাৎ একজন উঠে দাঁড়ালেন এবং ইচ্ছা করেই গা থেকে কোটটি খুলে ফেললেন, খুলে ফেললেন কলারটিও এবং আরাম কেদারায় শুয়ে পড়লেন। এ দেখে তো সবাই অবাক এবং একজন জিজ্ঞেস করলেন, তিনি অসুস্থবোধ করছেন কিনা।

তিনি বললেন, “না, আমার ভালোই লাগছে কিন্তু মনে হচ্ছে আমি পাগল হতে শুরু করেছি এবং আমি জানতে পেরেছি যে শুয়ে শুয়ে পাগল হওয়া কঠিন ব্যাপার।”

তার কথা শুনে আমরা সবাই হেসে উঠলাম, এবং আমাদের দুঃচিন্তাটা এখানেই ভেঙ্গে গেল। তারপর আমাদের এই খামখেয়ালী বন্ধুটি ব্যাখ্যা করতে থাকলেন যে, তিনি নিজের সাথে ছোট একটি কৌশল খাটাবার চেষ্টা করছেন। তার ছিল ক্ষিপ্ত মেজাজ এবং যখন তার মনে হতো যে তিনি পাগল হতে চলেছেন, তখন তিনি লক্ষ্য করতেন যে, তার মুষ্টি দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং কণ্ঠ চড়া হয়ে যাচ্ছে, তখন উদ্দেশ্যমূলকভাবে তিনি তার আঙ্গুলগুলো প্রসারিত করে রাখতেন যাতে সেগুলো মুষ্টি বদ্ধ হতে না পারে। মানসিক চাপ এবং ক্রোধ বৃদ্ধি পাবার আনুপাতিক হার অনুসারে তার কণ্ঠস্বর নামিয়ে আনতেন এবং অতি নিম্নস্বরে কথা বলতেন তেঁতো হাসি হেসে বললেন, আপনি তো ফিস ফিস করে কথা বলে যুদ্ধ প্রদর্শন চালিয়ে যেতে পারেন।”

এই মূলনীতিটি আবেগগত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হতে পারে, অযথা বিরক্তিবোধ মানসিক চাপ ইত্যাদি সবকিছু পরীক্ষা নিরিক্ষা করে আবিস্কৃত হয়েছে, সব কিছুকেই নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। কাজেই প্রাথমিক পদক্ষেপ স্বরূপ শান্ত অবস্থা আয়ত্ব করার জন্য আপনার শারীরিক প্রতিক্রিয়া সুশৃঙ্খল করুন, আপনি অবাক হয়ে যাবেন যে, কত দ্রুত আপনার আবেগজনিত উত্তাপকে কমিয়ে আনতে পারে।

এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে এবং যখন আবেগজনিত উত্তাপ বিতারিত হয়ে যায় আকস্মিক ক্রোধ এবং বিরক্তিও তখন থিতিয়ে পড়ে। এর ফলশ্রুতি হিসেবে আপনি কতটা শক্তি এবং ক্ষমতা বাঁচাতে পারবেন তা দেখে বিস্ময়ে অভিভূত হয়ে যাবেন। তখন আপনি অনেক কম ক্লান্তি অনুভব করবেন।

অধিকন্তু এটা এমন এক পদ্ধতি যার অনুশীলনের মধ্য দিয়ে আপনি ঢিলে ঢালা এমনকি উদাসীনও হতে পারবেন নির্দিষ্ট একটি সীমা পর্যন্ত উদাসীন হওয়া অনুশীলন করা ভালো বৈ খারাপ কিছু নয়। এভাবেই মানুষ আবেগকে অনেকটা রুখে দেবার কৌশল রপ্ত করেছে। খুবই সুসংহত ব্যক্তি যারা তারা চর্চার মাধ্যমে খুব ভালোভাবে মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া অনেক মাত্রায় কমিয়ে আনতে সক্ষম।

স্বাভাবিকভাবে কেউ, অন্তত যিনি খুব সুসংহত ব্যক্তি তিনি তার একান্ত উৎসাহী, অনুভূতিশীল সমবেদনাপূর্ণ বৈশিষ্টকে হারাতে চান না। কারণ এগুলো তার মানবিক সম্পদ। কিন্তু ঢিলা মেজাজে চলার অনুশীলন একজন উত্তেজিত ব্যক্তিকে ভারসাম্যপূর্ণ আবেগঘন অবস্থায় নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

ছ'টি বিষয় নিয়ে গঠিত একটি সুন্দর কৌশল নীচে যা তুলে দেয়া হলো আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি যে, এর বিরাট উপকারিতা কিভাবে ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হওয়ার মাত্রা কমিয়ে ফেলছে। অগণিত মানুষকে আমি পরামর্শ দিয়েছি এ বিষয়গুলোকে প্রয়োগ করে দেখার জন্য যাতে তারা এর বিরাট মূল্য উপভোগ করতে পারে।

১। আরাম কেদারায় শিথিলভাবে বসুন। নিজেকে সম্পূর্ণরূপে চেয়ারে সমর্পণ করে দিন। পায়ের আঙ্গুলের ডগা থেকে আরম্ভ করে একেবারে মাথার চুলের ডগা পর্যন্ত শরীরের সমস্ত অংশে শিথিলভাব ধারন করুন। এ কথাগুলো বলে শিথিলভাব নিশ্চিত করুন: আমার আঙ্গুলের ডগা এখন সহজ শিথিল, আমার হাতের আঙ্গুল আমার মুখ বয়বের পেশি সব সবই এখন শিথিল।

২। নিজের মনের কথা এমনভাবে চিন্তা করুন তা যেন ঝড়ের সময়কার হ্রদের পানির উপরিভাগের মত, ঢেউয়ের তোড়ে আন্দোলিত এবং ভীষণ বিক্ষুব্ধ কিন্তু এখন ঢেউগুলো থিতিয়ে পড়েছে এবং হ্রদের উপরিভাগ এখন শান্ত এবং অসংক্ষুব্ধ।

৩। আপনার দেখা সবচেয়ে সুন্দর এবং শান্তিপূর্ণ দূশ্যবলী নিয়ে দু বা তিন মিনিট ভাবুন, উদাহরণস্বরূপ পর্বতের আড়ালে সূর্যাস্তের দৃশ্য, বা নিস্তব্ধতায় পূর্ণ ভোরের গভীর উপত্যকার কথা অথবা মধ্যাহ্নের বনরাজির কথা বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঢেউয়ের উপর ঝলমলে চাঁদের আলোর কথা এসব নিয়ে চিন্তা করুন।

৪। ধীরে ধীরে বার বার শান্তভাবে সৃষ্টিকর্তার সুন্দর সুরের সাথে পরপর কতগুলি বিশেষ শব্দমালা যেগুলো নিস্তব্ধতা প্রান্তি প্রকাশ করে যেমন: (ক) প্রশান্তি এ শব্দটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে এবং শান্তিপূর্ণ মন নিয়ে বলতে থাকুন (খ) ধৈর্য (গ) নিস্তব্ধতা এ ধরনের আরো যে সব শব্দ আছে সেগুলোও আপনি বার বার উচ্চারণ করতে থাকুন।

৫। আপনার জীবনের মানসিকভাবে মুক্ত থাকার সময়ের একটি তালিকা তৈরি করুন, যখন বিধাতার সযত্ন সেবা আপনি আপনার বিশেষ চেতনা শক্তির দ্বারা বুঝতে পারেন, এবং স্মরণ করুন কিভাবে আপনি বিরক্তবোধ করেছিলে এবং উদ্বিগ্ন হয়েছিলেন। আর এমন অবস্থায় কেমন করে তিনি আপনার মধ্য থেকে সমস্যাকে বের করে এনে আপনার যত্ন নিয়েছেন। তারপর আপনি জোরে জোরে পুরাতন স্তব গীতির এই লাইনটি উচ্চারণ করুন, দীর্ঘকাল তোমার শক্তি আমাকে রক্ষা করেছে। এও নিশ্চিত যে, সেই শক্তিই এখনও আমাকে পরিচালিত করছে।

৬। নীচে উল্লেখিত কথাগুলো বার বার বলুন, কারণ এই কথাগুলোর এমন বিস্ময়কর শক্তি আছে যা আপনার মনকে সহজ, সিথিল এবং শান্ত করে তুলতে পারে। তাকেই তুমি রাখবে নিশ্চিত শান্তিতে যার মন তোমাতে সুস্থির (যীশাইয় xxvi.3) দিনে কয়েকবার এই কথাগুলো উচ্চারণ করুন, যে মুহূর্তে সুযোগ পান সে মুহূর্তেই এই কথাগুলো স্মরণ করুন। সম্ভব হলে বেশ জোরে জোরেই বলুন, সুতরাং দিনের শেষে দেখা যাবে কথাগুলো আপনি অনেকবার বলে ফেলেছেন। এ কথাগুলোকে এমন বিশ্বাস নিয়ে কল্পনা করুন যেন, এগুলো কার্যকর সুক্ষ্মপথে মনে প্রবেশ করার মত মূল বিষয়বস্তু, চিন্তা শক্তির আনাচে কানাচে পৌঁছবার মত আরোগ্যকর ঔষধের মত। এ হলো মানসিক চাপ থেকে আপনাকে মুক্ত করার সুবিদিত ঔষধ।

যখন আপনি পরামর্শ অনুযায়ী এ অধ্যায়ে প্রদত্ত কৌশলগুলো নিয়ে বাস্তব প্রয়োগের কাজ শুরু করবেন দেখবেন, আপনার ক্রুদ্ধ ও বিরক্ত হবার প্রবনতা ক্রমশ: পরিবর্তিত হতে শুরু করেছে। ক্রমোন্নতির সরাসরি আনুপাতিক হার অনুসারে যে শক্তি আপনার মধ্য থেকে বের করে নেয়া হয়েছিল এই অসুখকর অভ্যাসের দ্বারা, আপনি এখন অনুভব করতে পারবেন যে, জীবনের দায় দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালনের জন্য আপনার সামর্থ কতখানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

৭। সবচেয়ে ভালো কিছু আশা করুন এবং তাই লাভ করুন।

📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের শক্তি

📄 ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের শক্তি


আমি আপনাদের কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষের কথা বলতে চাই, যারা এদের নিজেদের নানারকম সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন।
তারা একটি সাধারণ কিন্তু উচু মানের বাস্তব পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ে এর ফল দাঁড়িয়েছিল সুখকর এবং সাফল্যপূর্ণ। কোনভাবেই এ লোকগুলো আপনাদের থেকে আলাদা কিছু ছিল না। আপনাদের যে সমস্যা এবং কষ্ট ভোগ আছে, তাদেরও ঠিক তেমনই ছিল, কিন্তু সে সব কঠিন প্রশ্নের মোকাবিলা তারা করেছিলেন। তার সঠিক উত্তর খুঁজে পাবার জন্য একটি সাহায্যকারী সূত্র তারা পেয়েছিলেন। সেই একই সূত্র প্রয়োগ করে একই রকম ফলাফল আপনারাও পেতে পারেন।
প্রথমে এক স্বামী-স্ত্রী যুগলের কাহিনী আমি শোনাবো আপনাদের। তারা আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। বহু বছর ধরে 'বিল' অর্থাৎ স্বামী লোকটি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলো যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে তিনি তার কোম্পানীর মইয়ের একেবারে সর্বোচ্চ ধাপের পূর্ব ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভের জন্য তিনি সারিতে অপেক্ষমান ছিলেন এবং নিশ্চিত অনুভব করেছিলেন যে, বর্তমান সভাপতির অবসর গ্রহণের পর তিনিই ঐ পদের দিকে বাড়াবেন।
কেন তাঁর আকাঙ্খা প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হবে না? তাঁর পেছনে কোন সুস্পষ্ট কারণ ছিল না, কারণ তাঁর সামর্থের দ্বারা, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি বিশেষ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তাছাড়া তার এমন বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল যে, তিনি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেনই।
যাহোক শেষ পর্যন্ত ঐ পদটির জন্য অন্য লোক নিয়োগ করা হয় তাকে পাশ কাটিয়ে। খালি পদটি পূর্ণ করার জন্য বাইরে থেকে লোকটিকে আনা হয়।
আঘাতটি তার উপর নেমে আসার ঠিক পরক্ষণেই আমি শহরে এসে পৌঁছি। তার স্ত্রী মেরী বিশেষভাবেই শত্রুতাপরায়ন মনোবৃত্তি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাতে খাবারের সময় খুব তিক্ত মন নিয়ে তিনি সবকিছু আমাদের বললেন যে, কর্তৃপক্ষকে তিনি একথাগুলো বলতে চান। তীব্র হতাশা, লজ্জা, নৈরাশ্য সবকিছু একসাথে জ্বলন্ত রূদ্ররোষে ফেটে পড়ে এবং তার স্বামী এবং আমার উপর তা উদ্ধার করতে থাকেন।
কিন্তু অন্যদিকে বিল একেবারে শান্ত। সুস্পষ্টত: তিনি আঘাতপ্রাপ্ত, আশাহত এবং কিংকর্তব্যবিমুঢ়, তবুও বিষয়টি তিনি সাহসের সাথে গ্রহণ করেছেন।
আবশ্যিকভাবেই একজন ভদ্রলোক হওয়াতে এটা বিস্মিত হবার মত কিছু ছিলনা যে তিনি রাগান্বিত হতে পারেননি অথবা চরম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেরি চেয়েছিল তার স্বামী অবিলম্বে চাকুরিতে ইস্তফা দিক। তিনি তাকে বিশেষ জোরের সাথেই বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষকে কিছু কথা শুনিয়ে কাজে ইস্তফা দিতে। তাকে দেখে মনে হয়েছিল যে তিনি তেমন কাজ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, উল্টো তিনি বলেছিলেন যে, সম্ভবত নতুন লোকটির সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং তাকে যেকোন ভাবে সাহায্য করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
এ ধরণের মনোভাব খুব কষ্টকর একথা সবাই স্বীকার করবেন, কিন্তু তিনি কোম্পানীর হয়ে অনেকদিন কাজ করেছেন তাই অন্য কোথাও কাজ করে তিনি খুশি হতে পারবেন না, এবং তাছাড়া তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, এই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোম্পানী তাকে কাজে লাগাতেই পারে।
তখন তার স্ত্রী আমার দিকে ফিরে বললেন যে, এখানে আমি হলে কি করতাম? আমি তাকে বললাম যে তিনি যা ভালো মনে করছেন আমিও তাই করতাম, নিঃসন্দেহে হতাশবোধ করতাম এবং আঘাতও পেতাম, এবং তার এই ধীরে চলার নীতিকে যাতে ঘৃণা করা না হয় সে চেষ্টা ও করতাম, কারণ তীব্র ঘৃণা শুধু যে আত্মাকে ক্ষয় করে তাই নয়, চিন্তন পদ্ধতিকেও সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল করে ফেলে।
আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম, আমাদের এখন যা দরকার তা হলো 'ঐশ্বরিক দিক নির্দেশনা' এই অবস্থায় তা আমাদের সমস্ত জ্ঞানের উর্ধ্বে। এই সমস্যাটির মধ্যে আবেগজনিত এমন এক পরিতৃপ্তি আছে যে আমরা হয়ত অনেক লক্ষ্য নিয়ে এবং যুক্তিসংগতভাবে কোন কিছু ভাবতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলাম।
কাজেই আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আসুন আমরা কয়েকটি মিনিট নীরবতায় কাটাই, কেউ কিছু বলব না আমরা, শান্ত মনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রার্থনার মনোভাব নিয়ে বসে থাকব আমরা, আমাদের সমস্ত ভাবনাগুলো সেই বিশেষ একজনের দিকে ফিরিয়ে দেব যিনি বলেছেন: “যখন দুজন কি তিনজন আমার নামে একত্রিত হয়, সেখানে তাদের মধ্যে আমি উপস্থিত থাকি।” (মথি xviii 18-20)
সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বললাম, আমরা এখানে তিনজন মানুষ, এবং আমরা যদি সেই মহান শক্তির উপস্থিতি তার নামে এখানে নিশ্চিত করতে চাই তবে, আমাদের শান্ত করার জন্য তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন আমাদের সঠিক পথ দেখাবার জন্য।
মনের যে ভাবের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে তার স্ত্রীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তা তার পক্ষে সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু মূলত তিনি একজন বুদ্ধিমতি, এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলা ছিলেন। আর আমার পরিকল্পনাটির সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তিনি।
অবিলম্বে, নীরব কয়েকটি মিনিট কেটে যাবার পর, আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আমরা এখন হাত ধরাধরি করে দাঁড়াবো, এবং যদিও আমরা সাধারণ মানুষের একটি রেস্তোরায় ছিলাম তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, নীরবে শান্তভাবে একটি প্রার্থনা করব। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমি পথ নির্দেশনা যাচনা করলাম। বিল এবং তার স্ত্রীর মনের শান্তির জন্য অনুরোধ করলাম এবং আরও সামনে বেড়ে এমনকি নব নিযুক্ত কর্মচারীর জন্য ঐশী আশীর্বাদও যাচনা করলাম। আমি আরো ও প্রার্থনা করলাম, যাতে নতুন প্রশাসনের সাথে বিল নিজেকে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
প্রার্থনা শেষে আমরা কয়েক মিনিট নীরব কাটালাম, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিলের স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমি অনুমান করছি এভাবেই কাজটি করতে হবে। যখন আমি জানতে পারলাম আপনি আমাদের সাথে নৈশভোজ খেতে আসছেন তখনি আমি ভয়ের মধ্যে ছিলাম এই ভেবে যে, আপনি বুঝি এ বিষয়ে আমাদের খ্রীষ্ট ধর্মমতে অবস্থান নিতে বলবেন। খোলাখুলিই বলছি, আমি আসলে ঐ ভাবে বিষয়টি অনুভব করিনি। মনে মনে সেদ্ধ হচ্ছিলাম আমি, কিন্তু অবশ্যই এটা অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, এই সমস্যার সঠিক উত্তর এই পদ্ধতিতেই পাওয়া যাবে। আমি প্রগাঢ় বিশ্বাসের সাথে চেষ্টা করে দেখব, তা যত কষ্টকরই হোক না কেন।
মলিন হাসি হাসলেন তিনি, কিন্তু বিদ্বেষ এখন আর তার মুখাবয়বে দেখা গেল না।
সময় সময় আমি আমার বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এবং তাতে দেখা গেছে যে, তাদের আকাঙ্খা অনুসারে পুরোপুরি যতক্ষণ না পূর্ণ হয়েছে, তখন থেকেই ক্রমে ক্রমে তারা সুন্দরভাবে সন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এই নতুন ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তারা তাদের হতাশা এবাং বিদ্বেষ ও জয় করতে সক্ষম হয়েছে। এমন কি নিজেও গোপনে আমাকে বলেছেন যে, তিনি নুতন লোকটিকে পছন্দ করেছেন এবং তার সাথে কাজ কর্ম করতেও তার আনন্দই লাগছে। তিনি আমাকে বলেছেন যে নতুন সভাপতি সাহেব তাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে নানা পরামর্শ করেছেন এবং তাঁর মনে হয়েছে যে, তিনি তাঁর উপর নির্ভর করছেন।
অন্যদিকে মেরিও প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর সাথে হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে নিয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা দুজনে পারস্পারিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় এসেছিলেন।
এভাবে দুবছর কেটে গেল। একদিন আমি তাদের শহরে এসে ফোন করলাম তাদের।
“ওঃ, আমি খুবই উত্তেজিত হয়ে আছি, আমার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, উচ্ছসিত মেরি বললেন। আমি মন্তব্য করে বললাম যে, যা কিছু তার মনকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে তা অবশ্যই অসাধারণ গুরুত্ব বহন করে।
এই উক্তিকে অস্বীকার করে তিনি সজোরে বলে উঠলেনঃ "ওহ! সবচেয়ে বিস্ময়কর যা ঘটেছে তা হলো, মি: অমুক,” অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের নাম, "অন্য একটি বড় কোম্পানী তাকে বিশেষ একটি কাজের জন্য বড় প্রমোশন দিয়ে আমাদের কোম্পানী থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং” -একটু ভঙ্গিমা করে প্রশ্ন করলেন- "অনুমান করেন তো ব্যাপারটি কি? বিলকে কোম্পানীর নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি এখানে চলে আসুন এবং আমরা তিনজন একসাথে বিধাতাকে ধন্যবাদ দেব।”
পরে যখন আমরা একত্রে বসলাম, বিল বললেন: “আপনি জানেন কি, আমি অনুধাবন করতে শরু করেছি যে খ্রীষ্টধর্মটি মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। আধ্যাত্মিকভাবে বৈজ্ঞানিক নীতিনির্ভর সজ্ঞা অনুসরণ করে আমরা একটি সমস্যার সমাধান করেছি। সভয় শিহরণে আমি ভাবছি,” তিনি বললেন "এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য খ্রীষ্টীয় শিক্ষার মধ্যে যে সূত্রটি রয়েছে তাকে অনুসরণ না করলে আমরা কত ভয়ানক ভুলটি করতাম।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "খ্রীষ্ট ধর্ম ব্যবহারিক নয় এমন নির্বোধের মত ধারণার জন্য দায়ী কে? তিনজনে মিলে যেভাবে এই সমস্যাটি সমাধান করলাম, জীবনে আবার যদি কখনও কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে সেই সমস্যাকে আমি এভাবেই আঘাত করব।”
এমনিভাবে বেশ কয়েক বছর চলে গেল, এবং মেরিও বিলের জীবনে আরো যেসব সমস্যা এসেছিল, সেগুলো সমাধান করতে তারা একই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, একই রকম ফলাফল তারা লাভ করেছিলেন। 'সমস্যাকে বিধাতার হাতে সমর্পণ কর' এই পদ্ধতির দ্বারা তাদের সমস্যার সঠিক সমাধান লাভ করতে শিখেছিলেন।
সমস্যা সমাধানের আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো, বিধাতাকে আপন সমস্যায় অংশীদার হিসেবে ধারণা করা। বাইবেল এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও বর্ণিত অনেক ধারণার মধ্যে একটি হলো যে, বিধাতা আমাদের সাথেই বিরাজমান। প্রকৃতপক্ষে খ্রীষ্টধর্মের মধ্যেও দেখা যায় যে, এমন একটি ধারণা দিয়ে শুরু, তা হলো যখন খ্রীষ্টের জন্ম হয় তখন তাকে বলা হয়েছিল ঈমানুয়েল; অর্থাৎ বিধাতা আমাদের সাথে।
খ্রীষ্ট ধর্ম এবং অন্যান্য প্রায় সকল ধর্মেই এমন শিক্ষা দেয় যে, মানুষের সমস্ত ভোগান্তির সময়, তাদের সমস্যায় এবং জীবনের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিধাতা আমাদের কাছে কাছেই থাকেন। আমরা তার সাথে কথা বলতে পারি, তার উপর নির্ভর করতে পারি, তার কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারি, এবং অপরিমিত লাভজনক কিছু ও তার ইচ্ছার কাছ থেকে আমরা পেতে পারি, পেতে পারি তার সহযোগিতা।
বাস্তবিকভাবে সবাই সাধারণত এটাই বিশ্বাস করে যে, বিষয়ট সত্যি এবং অনেকেই এই সত্যের বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আপনার সমস্যায় সঠিক সমাধান পেতে হলে আপনার বিশ্বাসের চেয়ে একধাপ সামনে এগুতে হবে কারণ, একজন যখন এই বিশ্বাস প্রক্রিয়াটি নিয়ে যাচাই করতে চায় তখন তাকে এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে, এখন বিধাতা স্বয়ং উপস্থিত। বিশ্বাস শক্তি নিয়ে এমন অনুশীলন করতে হবে যে, অনুভবের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারবেন আপনার পাশে আপনার স্ত্রী যেমন বাস্তব অবস্থান করছেন, অথবা আপনার ব্যবসার অংশীদার বা আপনার ঘনিষ্টতম বন্ধু যেমন আপনার সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বিধাতাও রয়েছেন। তার সাথে কথা বলতে অভ্যাস করুন; বিশ্বাস করুন যে, তিনি আপনার কথা শুনতে পাচ্ছেন এবং আপনার সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছেন। অনুমান করুন যে তিনি আপনার মনকে চেতনার মাধ্যমে প্রভাবিত করছেন যাতে আপনার ধারণাগুলো এবং প্রয়োজনীয় অন্তদৃষ্টির বিষয়সমূহ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী হয়। সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন যে সমস্যা সমাধানের এই পদ্ধতিতে কোন ভুল হবে না, বরঞ্চ আপনার অভিপ্রেত কাজ আপনি সঠিকভাবে পরিচালিত হবেন যার ফল দাঁড়াবে সম্পূর্ণ সঠিক।
পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরে এক রোটারী ক্লাবে একবার আমি বক্তব্য রাখছিলাম, হঠাৎ এক ব্যবসায়ী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি আমাকে বললেন, সংবাদপত্রের কলামে আমার এক লিখা থেকে তিনি পড়েছেন - ড়ার বিষয়টি এমন : 'তার মনোভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং তার ব্যবসাটাকে রক্ষা করেছে।' স্বাভাবিকভাবেই আমি আগ্রাহান্বিত এবং খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে, ছোট্ট একটি কথা যা আমি বলেছিলাম তার এমন চমৎকার ফল দাঁড়াবে।
তিনি বললেন, “আমার ব্যবসা নিয়ে কঠিন সময় পাড় করছিলাম আমি।" "আসলে, আমি আমার ব্যবসাটা রক্ষা করতে পারব কি পারব না সেই প্রশ্নটাই ভয়ানকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছিল। বাজারের অবস্থা, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনৈতিক সন্ধিচ্যুতি ইত্যাদি সবকিছু গভীরভাবে আমার ব্যবসার লাইনকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এসব যেন দুর্ভাগ্য জনক পরিস্থিতির এক ধারাবাহিক এবং সংবদ্ধ আক্রমণ। আমি আপনার এই আর্টিকেলটি পড়েছি যাতে আপনি আপনার নতুন ধারণার মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন যে বিধাতার সাথে তাকে আপনার একজন অংশীদারস্বরূপ ভেবে কথা বলুন। আমি মনে করি আপনি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেনঃ 'বিধাতার সাথে নিজেকে কার্যকরভাবে মিলিত বা নিমগ্ন করা।'
প্রথম যখন আমি তা পড়ি, আমার মনে হয়েছিল বিকৃত-মস্তিষ্ক অদ্ভুত ধারণা।” এ প্রথিবীর একজন মানুষের পক্ষে, অর্থাৎ একজন মানুষ কীভাবে, বিধাতাকে তার সঙ্গী করতে পারে? তাছাড়া, আমি সবসময় বিধাতাকে ভেবেছি এক বিরাটের বিদ্যমানতা হিসেবে, মানুষের চেয়ে তিনি এত বড় যে, তার দৃষ্টিতে আমি একটি কীট তুল্য এবং এখন আপনি বলেছেন যে তাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। ধারণাটাকে মনে হয় নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ। তখন আমার এক বন্ধু আপনার একটি বই আমাকে দেয়, এবং সেখানে আমি দেখি সেই একই ধারণা সারা বইটিতে ছড়িয়ে আছে।
যারা বাস্তব জীবনে এই ধারণাটি প্রয়োগ করে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তাদের কথাই আপনি বইটিতে তুলে ধরেছেন। এও মনে হয় যে, তারা সবই সুবুদ্ধি সম্পন্ন লোক, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বারবার এমনই ধারণা ছিল যে ধর্ম যাজকরা আদর্শবাদী সংজ্ঞাকাৰ ছোৱা ব্যবসার কিছু বুঝেন না, বাস্তব ঘটনাবলী সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। কাজেই আমি ঠিক করি আপনাকে লিখব এবং লিখলাম শেষ পর্যন্ত, হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
“যা হোক, একদিন এক মজার ঘটনা ঘটল। ওদিন এত খারাপ মনে অফিসে গেলাম যে সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল ঘুষি মেরে মাথা ফাটিয়ে ব্রেনটাকে বের করে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হত এবং তাতে সমস্ত সমস্যা থেকে আমি রেহাই পেতাম বা আমাকে একেবারেই ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ঠিক তখনই বিধাতাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণাটি মাথায় এলো। দরজাটি বন্ধ করলাম আমি, তারপর চেয়ারে বসলাম এবং বাহুর উপর মাথা রেখে ডেস্কের উপর উপুর হলাম। এখানে আমি আপনার কাছে স্বীকার করতে পারি যে বহু বছরের মধ্যে ডজনবারের বেশি প্রার্থনা আমি করিনি।
এই ঘটনায় আমি আসলেই প্রার্থনা করেছিলাম। আমি বিধাতাকে বললাম যে আমি বিধাতাকে সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণা সম্পর্কে শুনেছিলাম, যদিও এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, এর সঠিক অর্থ কি, অথবা একজন কেমন করেই বা এমন করতে পারে। আমি তাকে বললাম যে, আমি নিমগ্ন ছিলাম, কিন্তু আতংকিত হওয়া ছাড়া আমি কোন ধারণাই পেলাম না, আর সে কারণেই আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলাম, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম এবং একেবারেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি বললাম: 'প্রভু, আমি তোমাকে আমার অংশীদার হবার খুব বেশি সুযোগ দিতে পারব না, কিন্তু অনুগ্রহ করে আমার সাথে একত্রিত হও এবং আমাকে সাহায্য কর। আমি জানি তুমি আমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পার, কিন্তু আমি তোমার সাহায্য পেতে চাই। কাজেই ঠিক এই মুহুর্তে আমি আমার ব্যবসা, নিজেকে, আমার পরিবার এবং আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু তোমার হস্তে সমর্পণ করছি। তোমার যা খুশি তাই কর। এমনকি জানিনা আমাকে তুমি কিভাবে কি করতে বলবে কিন্তু আমি শুনতে প্রস্তুত এবং আমি যদি পরিষ্কার করে বল তবে আমি তোমার উপদেশ অনুসরণ করব।
“বেশ,” তিনি আবার বলতে থাকলেন, “এই ছিল আমার প্রার্থনা। প্রার্থনা শেষ করে ডেস্কের কাছে বসলাম। আমি তখন অনুমান করছিলাম যে অলৌকিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুই ঘটল না। যাহোক, হঠাৎ করে আমি খুব শান্ত এবং আরাম বোধ করতে থাকলাম। আসলেই আমার মনে হচ্ছিল আমি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় কাটাচ্ছি। স্বাভাবিক কিছু ছাড়া তেমন কিছুই ঘটলো না সেদিন রাতেও কিছু ঘটলো না, কিন্তু পরেরদিন আমি যখন অফিসে গেলাম স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উজ্জলতর এবং আনন্দের একটা অনুভূতি আমি টের পেলাম আমার মনে। আত্মবিশ্বাস পাকা পোক্ত হতে থাকলো, মনে হলো কিছু একটা ঘটবে। এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল যে কেন আমি ওরকম অনুভব করছিলাম। কোন কিছুই আলাদা ছিল না। আসলে আপনি হয়ত বলতে পারেন যে এটা বাজে এবং ঝাপসা কিছু একটা, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল আলাদা, নিদেন পক্ষে অল্প হলেও আলাদা।
শান্তিপূর্ণতার এই অনুভূতিটি এখন আমার মধ্যে বিরাজ করছে এবং আমার ভালো লাগতে থাকল। প্রতিদিন প্রার্থনা করতে থাকলাম আমি এবং বিধাতার সাথে কথা বলতে লাগলাম যেমন আমি আমার অংশীদারের সাথে কথা বলতাম। আমার এ প্রার্থনা কিন্তু গীর্জার প্রার্থনার মত ছিল না, ঠিক মানুষে মানুষে যেমন কথা বলে তেমন। তারপর একদিন আমার অফিসে, হঠাৎ করেই একটা ধারণা আমার মনে এসে উদয় হলো। ব্যাপারটি ঠিক রুটি সেঁকার যন্ত্রে হঠাৎ করেই রুটি এসে উপস্থিত হবার মত অবস্থা। আমি নিজে নিজে বললাম: 'আচ্ছা, এ ব্যাপারে কি জান তুমি?' কারণ বিষয়টি এমনই যা কখনও আমার জীবনে ঘটেনি, কিন্তু আমি মুহুর্ত মধ্যে বুঝতে পারলাম যে, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আমাকে অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই আমার, কেন এ নিয়ে আগে কখনও ভাবিনি আমি। মনটা আমার খুবই গ্রন্থিবদ্ধ অবস্থায় ছিল, আমি অনুমান করছি মানসিকভাবে এটা কাজ করছিল না।
"আমি তাড়াতাড়ি খিলানের দিকে গেলাম।” তারপর তিনি থামলেন। “না, এটা খিলান ছিল না, এ ছিল আমার অংশীদার, আমার সাথে কথা বলছিলেন তিনিই। দ্রুতগতিতে আমি এই ধারণাটিকে কাজে লাগালাম এবং বিষয়টি আবর্তিত হতে শুরু করল। নতুন ধারণাগুলো আমার মনে প্রবাহিত হতে শুরু করল, এবং এমন অবস্থা সত্বেও আমি আবার আমার ব্যবসা ফিরে পেতে থাকলাম এবং তা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসলো। এতক্ষণ সাধারণ অবস্থাটি মোটামুটি চলনসই একটি অবস্থায় চলে এসেছে, এবং এখন আমি কষ্ট দুর্ভোগ থেকে মুক্ত।”
তারপর তিনি বললেন: "আমি আপনার মত ধর্ম প্রচারের কিছুই বুঝি না এবং যেমন বই আপনি লিখেন তেমন অভিজ্ঞতাও আমার নেই, অথবা এ বিষয়ে লিখা বইপত্র সম্বন্ধেও কিছু বুঝিনা বা জানিনা, কিন্তু এটুকু আপনাকে বলতে চাই যখনই ব্যবসায়ীদের সাথে আপনার কথা বলার সুযোগ হয় তাদেরকে বলুন যে, যদি তারা তাদের ব্যবসায়িক কাজে বিধাতাকে তাদের অংশীদার হিসাবে গণ্য করেন তবে তাদের প্রয়োগ করা ধারণার চেয়ে অনেক ভালো ভালো ধারণা তারা তার কাছ থেকে পাবেন, এবং এভাবে তাদের ধারণা গুলোকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করতে পারবেন। একথার মধ্য দিয়ে আমি যে শুধু টাকা পয়সার কথা বলছি তা নয়,” "যদিও আপনার লগ্নিকৃত একটি ভালো পন্থাও আপনার প্রয়োজন এবং আমি বিশ্বাস করি, বিধাতা-প্রদর্শিত ধারণাই হবে সেই বিশ্বস্ত পন্থা। কিন্তু তাদেরকে বলুন যে বিধাতার অংশীদারিত্বের যে পদ্ধতি সেটাই তাদের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।”
এই ঘটনাটি হল ঐশ্বশক্তি এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক, যা বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করছে তেমন অনেক ঘটনার একটি নিশ্চিত প্রমাণ স্বরূপ ঘটনা। আমি খুব একটা জোর দিয়ে সমস্যা সমাধানের কৌশলটির সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা। কিন্তু দেখা গেছে অনেক অনেক ক্ষেত্রে এর ফলাফল ঘটেছে বিস্ময়কর এবং সেগুলো আমার পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
অনেক অনেক প্রয়োজনীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ, সর্বপ্রথমে, একথা বুঝতে হবে যে, সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে আপনার নিজের ভেতর যে শক্তি রয়েছে তা সম্যকভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া জরুরী। ব্যক্তিগত সমস্যা সাফল্যজনকভাবে সমাধান করতে গিয়ে অনেকেই যে ব্যর্থ হয় তার পেছনের নিশ্চিত কারণ হলো, তাদের আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত ভোতা ভাবটি।
একজন ব্যবসায়ী নির্বাহী আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি যখন কোন অবস্থায় কোন কিছুর জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তখন মানবীয় মস্তিষ্কের জরুরী ক্ষমতার উপরই তিনি নির্ভর করে থাকেন। এ তার একটি বলিষ্ঠ সজ্ঞা যে, মানব জাতি যে বাড়তি ক্ষমতার অধিকর্তা জরুরী অবস্থায় সেই ক্ষমতাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের পর দিন বেঁচে থাকার জন্য জীবনের যে স্বাভাবিক পরিচালনা আমরা করি, সেখানে এই জরুরী ক্ষমতা সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু অনন্য সাধারণ পরিস্থিতিতে কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে তিনি এই বাড়তি শক্তিকে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য তলব করতে পারেন।
একজন ব্যক্তি যিনি তার কাজ করার বিশ্বাসকে উন্নীত করতে পারেন তবে তিনি তার এই সুপ্ত শক্তিকে সুপ্ত থাকতে দেন না, কিন্তু তার বিশ্বাস অনুপাতে সাধারণ কাজের সাথে সম্পর্কিত সকল অবস্থায় সেই সুপ্ত ক্ষমতার অনেকখানি তিনি কাজে লাগাতে পারেন। এই প্রক্রিয়া এটাই ব্যখা করে যে, কেন কিছু লোক তাদের সংকটের সময় এবং নিত্যদিনের প্রয়োজনে এই বৃহত্তর শক্তিকে অন্য কিছু অপেক্ষা নিশ্চিত প্রমাণ করে থাকে। এই ক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় সময়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে তারা একটি সাধারণ অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছেন অথচ একসময় নাটকীয়ভাবে প্রয়োজন ছাড়া তারা একে ভালোভাবে চিনত না বা জানত না।
যখন একটি কঠিন সমস্যা ঘাড়ের উপর এসে পড়ে, তখন তাকে কেমন করে মোকাবিলা করতে হয় আপনার তা জানা আছে কি? অদ্ভুত অস্বাভাবিক কঠিন সমস্যা যখন প্রচণ্ড আক্রমণে আপনাকে একেবারে ধরাশায়িত ফেলে তখন তা সমাধানের পরিষ্কার সজ্ঞায়িত পরিকল্পনা আপনার নাগালের মধ্যে আছে কি? অনেক মানুষই 'হলে হলো না হলে না হলো' পদ্ধতি প্রয়োগ এগোতে চায়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক বেশি এবং বার বার ব্যর্থ হন তারা
সমস্যা সমাধানে আপনার বৃহৎ শক্তি-ক্ষমতাকে ব্যবহার করার পরিকল্পনার গুরুত্বকে আমি জোর দিয়ে সমর্থন করতে পারি না।
এই যে সমস্যা সমাধান পদ্ধতি এর সাথে দু-তিনটি প্রার্থনা যা 'বিধাতার কাছে আত্মসমর্পণ' কৌশল সমৃদ্ধ এবং যা হবে বিধাতার সাথে অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠার মত এবং এর সাথে আপনার সেই আভ্যন্তরীণ ও জরুরী ক্ষমতা শক্তির সদ্ব্যবহার, এবং এর সাথে আরও একটি বিস্ময়কর কৌশল আপনার সংযোজন করা প্রয়োজন তা হলো, বিশ্বাস প্রযুক্ত মনোভাবের অনুশীলন বজায় রাখা।
মনে রাখতে হবে স্বাভাবিক বিশ্বাস যখন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয় জয় তখন অনিবার্য।
অনেক বছর আগে আমি যখন বাইবেল পড়ি তখন তা ভোরের আলোর মতই আমার মনকে উদ্ভাসিত করে তোলে এবং আমাকে যেন তা এ কথাই বলে যে, যদি আমার বিশ্বাস থাকে এবং যদি সত্যি সত্যিই তা থাকে তবে আমি আমার সমস্ত কষ্ট ভোগান্তি জয় করতে পারব, যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব। প্রতিটি পরাজয়ের উপর আধিপত্য করতে পারব, এবং আমার জীবনের সমস্ত জটিল সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে পারব। যে দিনটিতে আমার মনটি প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত হয়েছিল সেদিনটি আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি যদিও সেরাতম দিনটির হয়ত এখনো দেখা পাইনি। নিঃসন্দেহে অনেকের এ বইটি পড়বে যারা বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বাস শক্তির কোন ধারণাই যাদের হয়নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সেই ধারণাটি এখন আপনি পাবেন, কারণ বিশ্বাস কৌশলটি প্রশ্নাতীতভাবে এ দুনিয়াতে বিরাজমান অনেক সত্যের মধ্যে একটি শক্তিশালী সত্য, যে সত্য মানুষের জীবনকে স্বার্থকভাবে পরিচালনা করছে।
বাইবেলে সত্যের উপর বার বার জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি তোমার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও থাকে, তবে তোমার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না।” (মথি xviii, 20) বাইবেল একে সম্পূর্ণ ব্যক্ত করেছে। এটা বিভ্রম সৃষ্টি হবার মত কিছু একটা নয়, কল্পনাজনক কিছুও নয়। এটা সচিত্র ব্যাখ্যাও নয়, কোন প্রতীক ও নয়, কোন রূপক উপমা কাহিনী ও নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য ভিত্তিক ঘটনা- 'বিশ্বাস, এমনকি যদি একটি সরিষা দানার মতও হয়,' তাতেও আপনার সমস্যাসমূহ সমাধান হবে, আপনার যে কোন সমস্যা, আপনার যাবতীয় সমস্যা, শুধু যদি আপনি তা বিশ্বাস করেন এবং বিশ্বাসের অনুশীলন করেন আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি তা ফলপ্রসু হবে।” (মথি xviii, 29) প্রয়োজন হলো বিশ্বাসের, এবং সরাসরি আপনার বিশ্বাস অনুপাতে যতটুকু আপনার আছে, এবং যতটুকু তা প্রয়োগ করেন তেমন এবং ততটুকু ফলই আপনি পাবেন। অল্প বিশ্বাস আপনাকে অল্প ফলই দিবে, মধ্যম বিশ্বাস আপনাকে মধ্যম ফলই দেবে, বড় বিশ্বাস আপনাকে বড় ফলই দেবে। কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহানুভবতার প্রতীকিরূপে একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও আপনার থাকে, তবে আপনর সমস্যা সমাধানে তা বিস্ময়কর ফল দেবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আমার বন্ধু মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টের রোমাঞ্চকর কাহিনী বলছি শুনুন। আমার আগের বই, A Guide to Confident living, যখন সংক্ষিপ্ত কলেবরে Liberty magazine এ প্রকাশিত হচ্ছিল তখন আমি তাদের সাথে পরিচিত হই। ঐ সময়টাতে মেরিচ ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং খুব খারাপ ভাবে। তিনি যে শুধু তার কাজেই ব্যর্থ হচ্ছিলেন তা নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ভয় এবং বিরক্তিতে ভরে গিয়েছিল তার মন এবং এ যাবৎ আমি যত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন নেগেটিভ ব্যক্তি।
সুন্দর ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর হৃদয়ে সজ্জিত চমৎকার এক লোক ছিলেন তিনি, কিন্তু তিনি নিজে একথা স্বীকার করেছেন যে, তার জীবনটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।
আমার সংক্ষিপ্ত আকারে বইটি তিনি পড়েছেন, যে বইটতে 'সরিষা-দানা বিশ্বাসের' কথা খুব জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এই সময়টাতে তিনি তার পরিবারের সাথে ফিলাডেলফিয়াতে ছিলেন, দু ছেলে এবং তার স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট পরিবার। নিউইয়র্কে আমার গীর্জায় ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু কোন কারণে তিনি আমার সেক্রেটারীর সাথে যোগাযোগ করেননি। আমি এটা উল্লেখ করছি এটাই দেখাবার জন্য যে, ইতোমধ্যে তার মন মানসিকতা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছিল, কারণ স্বাভাবিকভাবে তিনি কখনও দ্বিতীয়বার আমাকে ডাকেননি, কারণ একটি দুর্বল চেষ্টা চালানোর পর সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দেয়া ছিল তার করুণ অভ্যাস স্বরূপ ব্যাপার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং গীর্জার প্রার্থনার সময় সূচীর সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধ্যবসায় সহকারে অপেক্ষা করেছেন। পরবর্তী রবিবার তার পরিবারকে নিয়ে তিনি সেই ফিলাডেলফিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্কে এসে গর্জিায় হাজির হয়েছেন, এবং বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও তিনি তার এই গীর্জায় আসা নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের পুরো ইতিহাস আমাকে শুনিয়েছেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তিনি নিজে কিছু করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে আমি কিছু ভেবেছি কিনা তার টাকা পয়সার সমস্যা, ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ঋণ সম্পর্কে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এবং প্রধানত তার নিজের সম্পর্কে যা ছিল খুবই জটিল এবং কষ্টে তিনি এতই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি তার এই অবস্থাকে একেবারেই আশাহীন অবস্থা বলে ধরে নিয়েছিলেন।
আমি তাকে এই বলে আশ্বস্ত করলাম যে, যদি তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তার মনকে সরল করেন এবং তার মনোভাবকে ঐশী চিন্তার ধরণের সাথে সমন্বিত করেন এবং যদি তার বিশ্বাসের কৌশলকে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে তার সব সমস্যারই সমাধান হবে।
তার এবং তার স্ত্রীর মনোভাব একই রকম, কিন্তু তাদের মন পরিষ্কার করতে হবে এবং মন থেকে বিরক্তি ভাবটা দূর করতে হবে। তারা ছিলেন সবার কাছে বুদ্ধিহীন উন্মাদের মত এবং কিছু লোকের কাছে আসলেই উন্মাদ বলে গণ্য হয়েছেন। তারা তখন নিরানন্দ একটা অবস্থার মধ্যে ছিলেন, তাই তাদের রূগ্ন চিন্তা কারণ ছিল তাদের এই অবস্থা, তাদের কাজে ব্যর্থতার জন্য নয়, কিন্তু অন্য লোকজনের নোংরা ব্যবহারের জন্যে। তারা আসলে রাতে শোবার সময় পরস্পর বলাবলি করতে যে, তারা কীভাবে কি বলে অন্যদের অপমানিত করবে। এ ধরনের অসুস্থ পরিবেশে তারা ঘুমাতে এবং বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাতে সাফল্যজনক কোন ফল তারা লাভ করতেন না।
মেরিচ ফ্লিন্ট প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বাস ধারণাটি মনে প্রাণে গ্রহণ করেছিলেন। এ ধারণাটি তাকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলো যে, আগে কখনও কোন কিছু তাকে এমন চেপে ধরেনি।
তার প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল, অবশ্যই তার ইচ্ছাশক্তি ছিল অসংগঠিত। কোন রকম ক্ষমতা বা শক্তি ছাড়াই তিনি প্রথমে চিন্তা করতেন এবং তা হয়েছে তার দীর্ঘদিনের হতাশাজনক অভ্যাসের কারণে, কিন্তু এখন তিনি এটা চেপে ধরেছেন নাছোড়বান্দার মত এমনকি মরিয়া হয়ে, এবং ঐ ধারণাকে সমানে রেখে যে, যদি তোমার 'একটি সরিষা দানার মতও বিশ্বাস থাকে, তবে তোমার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।' কিসের বলে তিনি বিশ্বাসে এমন নিমগ্ন হলেন। অবশ্যই, তার সাধ্যমত যতটা বিশ্বাস অনুশীলন তিনি করেছেন, সে অনুসারেই তার বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করেছে।
একদিন তিনি রান্নাঘরে গেলেন, ঐ সময় তার স্ত্রী সেখানে থালা বাসন ইত্যাদি ধোয়া মোছা করছিলেন। তিনি বললেন, “বিশ্বাস ধারণাটি রবিবার গীর্জায় অনুশীলন করা বেশি স্বাচ্ছন্দজনক, কিন্তু আমি এই ধারণাটি মনে পোষণ করতে পারছি না। এটা অনেকটা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছিলাম যদি একটি সরষে দানা পকেটে বহন করতে পারতাম, তবে দুর্বল মুহুর্তে আমি তা অনুভব করতে পারতাম এবং তা আমাকে বিশ্বাস ধারণ করতে সাহায্য করত। তিনি তখন তাকে জিজ্ঞাস করলেন, “আমাদের ওরকম একটি শস্য দানা আছে নাকি, অথবা ঐরকম কিছু ঠিক বাইবেলে যা বর্ণনা করা হয়েছে? আজই সরিষা দানা আমাদের ঘটিতে পাওয়া যাবে কি?
তিনি হাসলেন এবং বললেন, “একটি আধারে কিছু সরষে দানা আছে।” তিনি খুঁজে একটি সরষেদানা বের করলেন এবং তাকে দিলেন। মেরী এলিচ বললেন, “মেরিচ তুমি কি জান না, যে তোমার আসলে সত্যিকার একটি সরষে দানার প্রয়োজন নেই। ওতো একটি ধারণার প্রতীক বৈত নয়।” জবাবে তিনি বললেন, “ও সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা।" বাইবেলে সরিষা দানার কথা বলা হয়েছে, এবং আমি সেই সরিষা দানাই চাই। হতে পারে যে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতীক আমার প্রয়োজন।"
হাতের তালুতে নিয়ে তিনি সরষে দানাটির দিকে তাকালেন এবং বিস্ময়ের সাথে বললেনঃ এইটুকু বিশ্বাস যা আমার প্রয়োজন এই কি যথেষ্ট ছোট্ট এই সরিষা দানার সমপরিমাণ দানাটি হাতের তালুতে ধরে দেখতে থাকলেন; এবং তারপর তা পকেটে ভরে রাখলেন, বললেনঃ "যদি দিনে এর উপর আমার আঙ্গুল ও পড়ে তবুও আমার বিশ্বাস সৃষ্টির কাজে তা সাহায্য করবে।” কিন্তু সরিষা দানাটি এতই ছোট ছিল যে তিনি অচিরেই তা হারিয়ে ফেললেন, এবং আবার গেলেন সেই আচারের পাত্র থেকে আরেকটি দানা সংগ্রহের জন্য, শুধু এটাও হারাবার জন্য যেন। একদিন যখন আরেকটি দানা তার পকেট থেকে হারিয়ে গেল, ঠিক তখন ধারণাটি তার মনে স্পষ্ট উদিত হলো যে, কেন তিনি সরিষা দানাটি একটি প্লাষ্টিকের বলের ভেতর রাখেননি? তিনি বলটি তার পকেটে বহন করতে পারতেন। অথবা সার্বক্ষণিকভাবে তার ঘড়ির চেইনের উপর রাখতে পারতেন। যাতে তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও তার আছে, কাজেই তার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।'
একজন প্লাষ্টিক বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করলেন তিনি এবং জানতে চাইলেন কীভাবে একটি সরষেদানা প্লাষ্টিক বলের ভিতর ঢোকানো যেতে পারে এবং তা বের হয়ে যাবে না। বিশেষজ্ঞ বললেন, এটা করা সম্ভব নয় কারণ কোনদিন তেমন করা হয়নি এবং তার মোটেও কোন যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল না।
ইতোমধ্যে ফ্লিন্টের যথেষ্ট বিশ্বাস জন্মেছিল এ কথা বিশ্বাস করার জন্য যে, এমনকি যদি তার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকত তবে তিনি একটি সরিষা দানা প্লাষ্টিক বলে রাখতে পারতেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন, এবং কয়েক সপ্তাহ এর পেছনে লেগে থাকলেন, এবং চূড়ান্তভাবে সাফল্য লাভ করলেন। তিনি কয়েকটি রত্নাদির পোষাক তৈরি করলেন: হার, বো-পিন, চাবির চেইন, ব্রেচলেট এসব তৈরি করলেন এবং আমার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। ওগুলো খুবই সুন্দর হয়েছিল, এবং প্রত্যেকটির উপর পরিষ্কার এবং বৃত্তাকার কিছুর মধ্যে সরিষা দানা শোভা পাচ্ছিল। প্রত্যেকটির সাথে একটি করে কার্ড সেটে দেয়া হয়েছিল যার উপর লিখা ছিল, 'সরিষা দানা স্মরণে।' কার্ডে এও বলা হয়েছিল, কিভাবে এসব রত্নাদির ব্যবহার করা হবে; কিভাবে সরিষা দানা ব্যবহারকারীর মনে করিয়ে দেবে যে যদি তার বিশ্বাস থাকে, তবে তার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এসব বিক্রিয় দ্রব্য হিসেবে কোন চিন্তা ভাবনা করেছি কিনা। আমার একটু সন্দেহ ছিল। আমি তা স্বীকার করব, এবং লিখাগুলো গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের সম্পাদকের সাথে আলাপ করার জন্য গ্রেস আওয়ারস্মারকে দেখালাম। মহিলাটি ঐ রত্নখচিত শিখগুলো আমাদের পরস্পরের বন্ধু, মিঃ উয়াল্টার হোভিং বনউইট টেলার ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রেসিডেন্ট, দেশের সবচেয়ে বড় মাপের একজন কার্যনির্বাহী, তাকে দেখাতে নিয়ে গেলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ এই পরিকল্পনাটির একটি সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। আমার বিস্মিত হবার এবং আনন্দিত হবার বিষয়টি কল্পনাকরে দেখুন, যখন দেখলাম কয়েকদিন পরে নিউয়র্কের পত্রিকাগুলোতে দুই কলামের একট বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে, তাতে লিখাঃ 'বিশ্বাসের প্রতীক'-সত্যিকারের একটি সরিষাদানা ঝকঝকে কাঁচের ভেতর স্থাপন করে সঠিক অর্থ সম্বলিত একটি ব্রেচলেট তৈরি করা হয়েছে, এবং বিজ্ঞাপনে শাস্ত্রবানীর একটি পাঠ্যাংশ তুলে দেয়া হয়েছেঃ "যদি তোমাদের একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকে....
তবে তোমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু থাকবে না।” (মথি xvii.20) এই লিখাগুলো গরম কেকের মতই বিক্রি হয়েছিল। এখন দেশের শত শত এবং বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো এবং দোকানগুলো যারা ঐ রকম কঠিন সমস্যায় পড়েন তারা সবাই ঐ বাণী সমৃদ্ধ অলংকার গুলো সংরক্ষণ করে রাখেন।
মি: এবং মিসেস ফ্লিন্টের মধ্য পশ্চিম শহরে 'সরিষা দানা স্বারক' উৎপাদনের একটি কারখানা আছে। কৌতূহলজনক সন্দেহ নেই, তাই একজন ব্যর্থ মানুষ গীর্জায় যান, বাইবেলের বাণী শুনেন (অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থেও তা সম্ভব) এবং ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবসার দ্বার খুলে যায় তার জন্য। সম্ভবত বাইবেল সহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো আপনাদের একাগ্রচিত্তে পাঠ করা উচিৎ, উপাসনালয়ে ধর্ম উপদেশগুলো ও মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা প্রয়োজন। সম্ভবত তাতে আপনি শুধু যে আপনার জীবন পূর্ণগঠনের সঠিক ধারণা খুঁজে পাবেন তাই নয়, কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির ধারণাও আপনি খুঁজে পাবেন।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস শিল্প উৎপাদনকারীর এবং উৎপন্ন দ্রব্যের উভয় পক্ষের ব্যবসাই উন্নতি লাভ করেছে এবং তা হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধন করবে তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যাপারটি যেহেতু জনপ্রিয় এবং কার্যকর তাই অন্যরাও এগুলোর কপি তৈরি করেছেন, কিন্তু ফ্লিন্টের 'সরিষা দana স্মারক' হলো সর্বাপেক্ষা মূল উৎপাদক। বিশ্বাসের সেই ছোট্ট ছকটি প্রয়োগ করে যাদের জীবনে অদ্ভুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তা এই নব প্রজন্মে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একটি আধ্যাত্মিক কাহিনী। কিন্তু মিঃ মেরিচ এবং মেরী এলিচের উপর বিশ্বাস শক্তির প্রভাব যেভাবে কাজ করলো অর্থাৎ তাদের জীবনের যে পরিবর্তন হলে, তাদের চরিত্র পরিবর্তিত হলো। ব্যক্তিত্বের জটিলতা থেকে তারা যে মুক্তি লাভ করলো এতো বিশ্বাস্য শক্তির রীতিমত রোমাঞ্চকর প্রমাণ স্বরূপ। তারা কিন্তু এখন আর নেগেটিভ চরিত্রের নয়, তারা এখন পজিটিভ চরিত্রের মানুষ। তারা এখন আর পরাজিত নন, তারা এখন জয়ী ব্যক্তিত্ব। তারা এখন আর কাউকে ঘৃণা করেন না। তারা ক্রোধ, বিদ্বেষ এসবকে জয় করেছেন এবং তাদের হৃদয় এখন ভালোবাসায় পূর্ণ। তারা এখন নতুন দৃষ্টি ভঙ্গিতে, নতুন জ্ঞান শক্তিতে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের মানুষ। আমার জানা মতে তারা দু'জন সবচেয়ে অনুপ্রেরণাকারী ব্যক্তিত্ব।
যদি মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টকে জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে সমস্যার সঠিক সমাধান করা সম্ভব? জবাবে তারা আপনাকে বলবেন- 'বিশ্বাস ধারণ করুন- হ্যাঁ সত্যিই বিশ্বাস ধারণ করুন।' এবং আমাকে বিশ্বাস করুন, যে তারা জানেন বিশ্বাস কিভাবে ফলবান হয়।
যখন এ কাহিনী আপনি পড়ছেন যদি তখন আপনি নিজে নেগেটিভলি বলেন (এবং তা যদি নিগেটিভ ফলই দিতে থাকে), ফ্লিন্টযুগল আমার মত অত বাজে ভাবে তা ছেড়ে দিত না; আমি আপনাদের বলতে চাই যে, কদাচিৎ আমি ফ্লিন্টদের মত কাউকে অমন বাজে ভাবে হাল ছেড়ে দিতে দেখেছি। আমি আপনাদের আরও বলতে চাই যে, আপনার পরিস্থিতি যেমনই মরিয়া হোক না কেন আপনি ঐ চারটি কৌশল, যেগুলো এই অধ্যায়ে বর্ণিত হল তা যদি প্রয়োগ করেন, ফ্লিন্ট যুগল যেমন করলেন, তা হলে আপনিও, আপনার সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
এই অধ্যায়ে আমি সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখাবার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য দশটি বাস্তব কৌশল সম্পর্কে আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই:
১. একথা বিশ্বাস করুন যে প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি সমাধানের পথও অবশ্যই আছে।
২. শান্ত থাকুন। 'দুশ্চিন্তা' চিন্তাশক্তির প্রবাহ পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
৩. কোন জবাব খুঁজে পাবার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না। মনকে শিথিল রাখুন যাতে সমাধানের দার সহজেই খুলে যেতে পারে এবং জটিলতা পরিষ্কার হতে পারে।
৪. সমস্ত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে, নৈর্ব্যক্তিকভাবে এবং বিধিবদ্ধভাবে জড়ো করুন।
৫. এসব ঘটনা কাগজে লিখে তালিকাবদ্ধ করুন। এতে আপনার চিন্তা পরিষ্কার হবে, বিভিন্ন রকম উপকরণ একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনতে সাহায্য করবে। যেমন চিন্তা করছেন ওভাবে দেখতেও শিখুন। সমস্যা তখনি শুধু কাল্পনিক কিছু নয়, কিন্তু বাস্তব।
৬. আপনার সমস্যা নিয়ে প্রার্থনা করুন, নিশ্চিত ভাবে বিধাতা আপনার মনে আলোকপাত করবেন।
৭. ৭৩ নং সাম সংগীতে বিধাতার পথ প্রদর্শনের প্রতিজ্ঞার কথা বিশ্বাস করুন এবং তা যাচনা করুন: "তুমি তোমার পরামর্শ দিয়ে আমাকে পথ দেখাও।”
৮. অন্তর্দৃষ্টি এবং মনের স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানে আস্থা রাখুন।
৯. গীর্জা, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে যান (যার যার ধর্ম অনুসারে) এবং আপনার সমস্যা নিয়ে অবচেতন মনে যে চিন্তা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তা আরাধনার ভাবের সাথে সমন্বিত করুন। সৃজনশীল আধ্যাত্মিক চিন্তনের সঠিক 'উত্তর পেয়ে দেবার বিস্ময়কর শক্তি আছে।
১০. এসব পদক্ষেপ আপনি যদি বিশ্বাসের সাথে অনুসরণ করেন তবে তখন যে সদুত্তর আপনার মনে পরিপক্কতা লাভ করেছে, অথবা বাস্তবায়িত হবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সেটাই হলো আপনার সমস্যার সঠিক উত্তর।

আমি আপনাদের কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষের কথা বলতে চাই, যারা এদের নিজেদের নানারকম সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন।
তারা একটি সাধারণ কিন্তু উচু মানের বাস্তব পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ে এর ফল দাঁড়িয়েছিল সুখকর এবং সাফল্যপূর্ণ। কোনভাবেই এ লোকগুলো আপনাদের থেকে আলাদা কিছু ছিল না। আপনাদের যে সমস্যা এবং কষ্ট ভোগ আছে, তাদেরও ঠিক তেমনই ছিল, কিন্তু সে সব কঠিন প্রশ্নের মোকাবিলা তারা করেছিলেন। তার সঠিক উত্তর খুঁজে পাবার জন্য একটি সাহায্যকারী সূত্র তারা পেয়েছিলেন। সেই একই সূত্র প্রয়োগ করে একই রকম ফলাফল আপনারাও পেতে পারেন।
প্রথমে এক স্বামী-স্ত্রী যুগলের কাহিনী আমি শোনাবো আপনাদের। তারা আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। বহু বছর ধরে 'বিল' অর্থাৎ স্বামী লোকটি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলো যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে তিনি তার কোম্পানীর মইয়ের একেবারে সর্বোচ্চ ধাপের পূর্ব ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভের জন্য তিনি সারিতে অপেক্ষমান ছিলেন এবং নিশ্চিত অনুভব করেছিলেন যে, বর্তমান সভাপতির অবসর গ্রহণের পর তিনিই ঐ পদের দিকে বাড়াবেন।
কেন তাঁর আকাঙ্খা প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হবে না? তাঁর পেছনে কোন সুস্পষ্ট কারণ ছিল না, কারণ তাঁর সামর্থের দ্বারা, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি বিশেষ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তাছাড়া তার এমন বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল যে, তিনি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেনই।
যাহোক শেষ পর্যন্ত ঐ পদটির জন্য অন্য লোক নিয়োগ করা হয় তাকে পাশ কাটিয়ে। খালি পদটি পূর্ণ করার জন্য বাইরে থেকে লোকটিকে আনা হয়।
আঘাতটি তার উপর নেমে আসার ঠিক পরক্ষণেই আমি শহরে এসে পৌঁছি। তার স্ত্রী মেরী বিশেষভাবেই শত্রুতাপরায়ন মনোবৃত্তি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাতে খাবারের সময় খুব তিক্ত মন নিয়ে তিনি সবকিছু আমাদের বললেন যে, কর্তৃপক্ষকে তিনি একথাগুলো বলতে চান। তীব্র হতাশা, লজ্জা, নৈরাশ্য সবকিছু একসাথে জ্বলন্ত রূদ্ররোষে ফেটে পড়ে এবং তার স্বামী এবং আমার উপর তা উদ্ধার করতে থাকেন।
কিন্তু অন্যদিকে বিল একেবারে শান্ত। সুস্পষ্টত: তিনি আঘাতপ্রাপ্ত, আশাহত এবং কিংকর্তব্যবিমুঢ়, তবুও বিষয়টি তিনি সাহসের সাথে গ্রহণ করেছেন।
আবশ্যিকভাবেই একজন ভদ্রলোক হওয়াতে এটা বিস্মিত হবার মত কিছু ছিলনা যে তিনি রাগান্বিত হতে পারেননি অথবা চরম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেরি চেয়েছিল তার স্বামী অবিলম্বে চাকুরিতে ইস্তফা দিক। তিনি তাকে বিশেষ জোরের সাথেই বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষকে কিছু কথা শুনিয়ে কাজে ইস্তফা দিতে। তাকে দেখে মনে হয়েছিল যে তিনি তেমন কাজ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, উল্টো তিনি বলেছিলেন যে, সম্ভবত নতুন লোকটির সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং তাকে যেকোন ভাবে সাহায্য করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
এ ধরণের মনোভাব খুব কষ্টকর একথা সবাই স্বীকার করবেন, কিন্তু তিনি কোম্পানীর হয়ে অনেকদিন কাজ করেছেন তাই অন্য কোথাও কাজ করে তিনি খুশি হতে পারবেন না, এবং তাছাড়া তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, এই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোম্পানী তাকে কাজে লাগাতেই পারে।
তখন তার স্ত্রী আমার দিকে ফিরে বললেন যে, এখানে আমি হলে কি করতাম? আমি তাকে বললাম যে তিনি যা ভালো মনে করছেন আমিও তাই করতাম, নিঃসন্দেহে হতাশবোধ করতাম এবং আঘাতও পেতাম, এবং তার এই ধীরে চলার নীতিকে যাতে ঘৃণা করা না হয় সে চেষ্টা ও করতাম, কারণ তীব্র ঘৃণা শুধু যে আত্মাকে ক্ষয় করে তাই নয়, চিন্তন পদ্ধতিকেও সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল করে ফেলে।
আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম, আমাদের এখন যা দরকার তা হলো 'ঐশ্বরিক দিক নির্দেশনা' এই অবস্থায় তা আমাদের সমস্ত জ্ঞানের উর্ধ্বে। এই সমস্যাটির মধ্যে আবেগজনিত এমন এক পরিতৃপ্তি আছে যে আমরা হয়ত অনেক লক্ষ্য নিয়ে এবং যুক্তিসংগতভাবে কোন কিছু ভাবতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলাম।
কাজেই আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আসুন আমরা কয়েকটি মিনিট নীরবতায় কাটাই, কেউ কিছু বলব না আমরা, শান্ত মনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রার্থনার মনোভাব নিয়ে বসে থাকব আমরা, আমাদের সমস্ত ভাবনাগুলো সেই বিশেষ একজনের দিকে ফিরিয়ে দেব যিনি বলেছেন: “যখন দুজন কি তিনজন আমার নামে একত্রিত হয়, সেখানে তাদের মধ্যে আমি উপস্থিত থাকি।” (মথি xviii 18-20)
সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বললাম, আমরা এখানে তিনজন মানুষ, এবং আমরা যদি সেই মহান শক্তির উপস্থিতি তার নামে এখানে নিশ্চিত করতে চাই তবে, আমাদের শান্ত করার জন্য তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন আমাদের সঠিক পথ দেখাবার জন্য।
মনের যে ভাবের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে তার স্ত্রীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তা তার পক্ষে সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু মূলত তিনি একজন বুদ্ধিমতি, এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলা ছিলেন। আর আমার পরিকল্পনাটির সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তিনি।
অবিলম্বে, নীরব কয়েকটি মিনিট কেটে যাবার পর, আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আমরা এখন হাত ধরাধরি করে দাঁড়াবো, এবং যদিও আমরা সাধারণ মানুষের একটি রেস্তোরায় ছিলাম তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, নীরবে শান্তভাবে একটি প্রার্থনা করব। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমি পথ নির্দেশনা যাচনা করলাম। বিল এবং তার স্ত্রীর মনের শান্তির জন্য অনুরোধ করলাম এবং আরও সামনে বেড়ে এমনকি নব নিযুক্ত কর্মচারীর জন্য ঐশী আশীর্বাদও যাচনা করলাম। আমি আরো ও প্রার্থনা করলাম, যাতে নতুন প্রশাসনের সাথে বিল নিজেকে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
প্রার্থনা শেষে আমরা কয়েক মিনিট নীরব কাটালাম, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিলের স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমি অনুমান করছি এভাবেই কাজটি করতে হবে। যখন আমি জানতে পারলাম আপনি আমাদের সাথে নৈশভোজ খেতে আসছেন তখনি আমি ভয়ের মধ্যে ছিলাম এই ভেবে যে, আপনি বুঝি এ বিষয়ে আমাদের খ্রীষ্ট ধর্মমতে অবস্থান নিতে বলবেন। খোলাখুলিই বলছি, আমি আসলে ঐ ভাবে বিষয়টি অনুভব করিনি। মনে মনে সেদ্ধ হচ্ছিলাম আমি, কিন্তু অবশ্যই এটা অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, এই সমস্যার সঠিক উত্তর এই পদ্ধতিতেই পাওয়া যাবে। আমি প্রগাঢ় বিশ্বাসের সাথে চেষ্টা করে দেখব, তা যত কষ্টকরই হোক না কেন।
মলিন হাসি হাসলেন তিনি, কিন্তু বিদ্বেষ এখন আর তার মুখাবয়বে দেখা গেল না।
সময় সময় আমি আমার বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এবং তাতে দেখা গেছে যে, তাদের আকাঙ্খা অনুসারে পুরোপুরি যতক্ষণ না পূর্ণ হয়েছে, তখন থেকেই ক্রমে ক্রমে তারা সুন্দরভাবে সন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এই নতুন ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তারা তাদের হতাশা এবাং বিদ্বেষ ও জয় করতে সক্ষম হয়েছে। এমন কি নিজেও গোপনে আমাকে বলেছেন যে, তিনি নুতন লোকটিকে পছন্দ করেছেন এবং তার সাথে কাজ কর্ম করতেও তার আনন্দই লাগছে। তিনি আমাকে বলেছেন যে নতুন সভাপতি সাহেব তাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে নানা পরামর্শ করেছেন এবং তাঁর মনে হয়েছে যে, তিনি তাঁর উপর নির্ভর করছেন।
অন্যদিকে মেরিও প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর সাথে হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে নিয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা দুজনে পারস্পারিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় এসেছিলেন।
এভাবে দুবছর কেটে গেল। একদিন আমি তাদের শহরে এসে ফোন করলাম তাদের।
“ওঃ, আমি খুবই উত্তেজিত হয়ে আছি, আমার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, উচ্ছসিত মেরি বললেন। আমি মন্তব্য করে বললাম যে, যা কিছু তার মনকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে তা অবশ্যই অসাধারণ গুরুত্ব বহন করে।
এই উক্তিকে অস্বীকার করে তিনি সজোরে বলে উঠলেনঃ "ওহ! সবচেয়ে বিস্ময়কর যা ঘটেছে তা হলো, মি: অমুক,” অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের নাম, "অন্য একটি বড় কোম্পানী তাকে বিশেষ একটি কাজের জন্য বড় প্রমোশন দিয়ে আমাদের কোম্পানী থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং” -একটু ভঙ্গিমা করে প্রশ্ন করলেন- "অনুমান করেন তো ব্যাপারটি কি? বিলকে কোম্পানীর নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি এখানে চলে আসুন এবং আমরা তিনজন একসাথে বিধাতাকে ধন্যবাদ দেব।”
পরে যখন আমরা একত্রে বসলাম, বিল বললেন: “আপনি জানেন কি, আমি অনুধাবন করতে শরু করেছি যে খ্রীষ্টধর্মটি মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। আধ্যাত্মিকভাবে বৈজ্ঞানিক নীতিনির্ভর সজ্ঞা অনুসরণ করে আমরা একটি সমস্যার সমাধান করেছি। সভয় শিহরণে আমি ভাবছি,” তিনি বললেন "এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য খ্রীষ্টীয় শিক্ষার মধ্যে যে সূত্রটি রয়েছে তাকে অনুসরণ না করলে আমরা কত ভয়ানক ভুলটি করতাম।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "খ্রীষ্ট ধর্ম ব্যবহারিক নয় এমন নির্বোধের মত ধারণার জন্য দায়ী কে? তিনজনে মিলে যেভাবে এই সমস্যাটি সমাধান করলাম, জীবনে আবার যদি কখনও কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে সেই সমস্যাকে আমি এভাবেই আঘাত করব।”
এমনিভাবে বেশ কয়েক বছর চলে গেল, এবং মেরিও বিলের জীবনে আরো যেসব সমস্যা এসেছিল, সেগুলো সমাধান করতে তারা একই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, একই রকম ফলাফল তারা লাভ করেছিলেন। 'সমস্যাকে বিধাতার হাতে সমর্পণ কর' এই পদ্ধতির দ্বারা তাদের সমস্যার সঠিক সমাধান লাভ করতে শিখেছিলেন।
সমস্যা সমাধানের আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো, বিধাতাকে আপন সমস্যায় অংশীদার হিসেবে ধারণা করা। বাইবেল এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও বর্ণিত অনেক ধারণার মধ্যে একটি হলো যে, বিধাতা আমাদের সাথেই বিরাজমান। প্রকৃতপক্ষে খ্রীষ্টধর্মের মধ্যেও দেখা যায় যে, এমন একটি ধারণা দিয়ে শুরু, তা হলো যখন খ্রীষ্টের জন্ম হয় তখন তাকে বলা হয়েছিল ঈমানুয়েল; অর্থাৎ বিধাতা আমাদের সাথে।
খ্রীষ্ট ধর্ম এবং অন্যান্য প্রায় সকল ধর্মেই এমন শিক্ষা দেয় যে, মানুষের সমস্ত ভোগান্তির সময়, তাদের সমস্যায় এবং জীবনের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিধাতা আমাদের কাছে কাছেই থাকেন। আমরা তার সাথে কথা বলতে পারি, তার উপর নির্ভর করতে পারি, তার কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারি, এবং অপরিমিত লাভজনক কিছু ও তার ইচ্ছার কাছ থেকে আমরা পেতে পারি, পেতে পারি তার সহযোগিতা।
বাস্তবিকভাবে সবাই সাধারণত এটাই বিশ্বাস করে যে, বিষয়ট সত্যি এবং অনেকেই এই সত্যের বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আপনার সমস্যায় সঠিক সমাধান পেতে হলে আপনার বিশ্বাসের চেয়ে একধাপ সামনে এগুতে হবে কারণ, একজন যখন এই বিশ্বাস প্রক্রিয়াটি নিয়ে যাচাই করতে চায় তখন তাকে এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে, এখন বিধাতা স্বয়ং উপস্থিত। বিশ্বাস শক্তি নিয়ে এমন অনুশীলন করতে হবে যে, অনুভবের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারবেন আপনার পাশে আপনার স্ত্রী যেমন বাস্তব অবস্থান করছেন, অথবা আপনার ব্যবসার অংশীদার বা আপনার ঘনিষ্টতম বন্ধু যেমন আপনার সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বিধাতাও রয়েছেন। তার সাথে কথা বলতে অভ্যাস করুন; বিশ্বাস করুন যে, তিনি আপনার কথা শুনতে পাচ্ছেন এবং আপনার সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছেন। অনুমান করুন যে তিনি আপনার মনকে চেতনার মাধ্যমে প্রভাবিত করছেন যাতে আপনার ধারণাগুলো এবং প্রয়োজনীয় অন্তদৃষ্টির বিষয়সমূহ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী হয়। সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন যে সমস্যা সমাধানের এই পদ্ধতিতে কোন ভুল হবে না, বরঞ্চ আপনার অভিপ্রেত কাজ আপনি সঠিকভাবে পরিচালিত হবেন যার ফল দাঁড়াবে সম্পূর্ণ সঠিক।
পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরে এক রোটারী ক্লাবে একবার আমি বক্তব্য রাখছিলাম, হঠাৎ এক ব্যবসায়ী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি আমাকে বললেন, সংবাদপত্রের কলামে আমার এক লিখা থেকে তিনি পড়েছেন - ড়ার বিষয়টি এমন : 'তার মনোভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং তার ব্যবসাটাকে রক্ষা করেছে।' স্বাভাবিকভাবেই আমি আগ্রাহান্বিত এবং খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে, ছোট্ট একটি কথা যা আমি বলেছিলাম তার এমন চমৎকার ফল দাঁড়াবে।
তিনি বললেন, “আমার ব্যবসা নিয়ে কঠিন সময় পাড় করছিলাম আমি।" "আসলে, আমি আমার ব্যবসাটা রক্ষা করতে পারব কি পারব না সেই প্রশ্নটাই ভয়ানকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছিল। বাজারের অবস্থা, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনৈতিক সন্ধিচ্যুতি ইত্যাদি সবকিছু গভীরভাবে আমার ব্যবসার লাইনকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এসব যেন দুর্ভাগ্য জনক পরিস্থিতির এক ধারাবাহিক এবং সংবদ্ধ আক্রমণ। আমি আপনার এই আর্টিকেলটি পড়েছি যাতে আপনি আপনার নতুন ধারণার মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন যে বিধাতার সাথে তাকে আপনার একজন অংশীদারস্বরূপ ভেবে কথা বলুন। আমি মনে করি আপনি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেনঃ 'বিধাতার সাথে নিজেকে কার্যকরভাবে মিলিত বা নিমগ্ন করা।'
প্রথম যখন আমি তা পড়ি, আমার মনে হয়েছিল বিকৃত-মস্তিষ্ক অদ্ভুত ধারণা।” এ প্রথিবীর একজন মানুষের পক্ষে, অর্থাৎ একজন মানুষ কীভাবে, বিধাতাকে তার সঙ্গী করতে পারে? তাছাড়া, আমি সবসময় বিধাতাকে ভেবেছি এক বিরাটের বিদ্যমানতা হিসেবে, মানুষের চেয়ে তিনি এত বড় যে, তার দৃষ্টিতে আমি একটি কীট তুল্য এবং এখন আপনি বলেছেন যে তাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। ধারণাটাকে মনে হয় নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ। তখন আমার এক বন্ধু আপনার একটি বই আমাকে দেয়, এবং সেখানে আমি দেখি সেই একই ধারণা সারা বইটিতে ছড়িয়ে আছে।
যারা বাস্তব জীবনে এই ধারণাটি প্রয়োগ করে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তাদের কথাই আপনি বইটিতে তুলে ধরেছেন। এও মনে হয় যে, তারা সবই সুবুদ্ধি সম্পন্ন লোক, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বারবার এমনই ধারণা ছিল যে ধর্ম যাজকরা আদর্শবাদী সংজ্ঞাকাৰ ছোৱা ব্যবসার কিছু বুঝেন না, বাস্তব ঘটনাবলী সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। কাজেই আমি ঠিক করি আপনাকে লিখব এবং লিখলাম শেষ পর্যন্ত, হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
“যা হোক, একদিন এক মজার ঘটনা ঘটল। ওদিন এত খারাপ মনে অফিসে গেলাম যে সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল ঘুষি মেরে মাথা ফাটিয়ে ব্রেনটাকে বের করে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হত এবং তাতে সমস্ত সমস্যা থেকে আমি রেহাই পেতাম বা আমাকে একেবারেই ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ঠিক তখনই বিধাতাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণাটি মাথায় এলো। দরজাটি বন্ধ করলাম আমি, তারপর চেয়ারে বসলাম এবং বাহুর উপর মাথা রেখে ডেস্কের উপর উপুর হলাম। এখানে আমি আপনার কাছে স্বীকার করতে পারি যে বহু বছরের মধ্যে ডজনবারের বেশি প্রার্থনা আমি করিনি।
এই ঘটনায় আমি আসলেই প্রার্থনা করেছিলাম। আমি বিধাতাকে বললাম যে আমি বিধাতাকে সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণা সম্পর্কে শুনেছিলাম, যদিও এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, এর সঠিক অর্থ কি, অথবা একজন কেমন করেই বা এমন করতে পারে। আমি তাকে বললাম যে, আমি নিমগ্ন ছিলাম, কিন্তু আতংকিত হওয়া ছাড়া আমি কোন ধারণাই পেলাম না, আর সে কারণেই আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলাম, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম এবং একেবারেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি বললাম: 'প্রভু, আমি তোমাকে আমার অংশীদার হবার খুব বেশি সুযোগ দিতে পারব না, কিন্তু অনুগ্রহ করে আমার সাথে একত্রিত হও এবং আমাকে সাহায্য কর। আমি জানি তুমি আমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পার, কিন্তু আমি তোমার সাহায্য পেতে চাই। কাজেই ঠিক এই মুহুর্তে আমি আমার ব্যবসা, নিজেকে, আমার পরিবার এবং আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু তোমার হস্তে সমর্পণ করছি। তোমার যা খুশি তাই কর। এমনকি জানিনা আমাকে তুমি কিভাবে কি করতে বলবে কিন্তু আমি শুনতে প্রস্তুত এবং আমি যদি পরিষ্কার করে বল তবে আমি তোমার উপদেশ অনুসরণ করব।
“বেশ,” তিনি আবার বলতে থাকলেন, “এই ছিল আমার প্রার্থনা। প্রার্থনা শেষ করে ডেস্কের কাছে বসলাম। আমি তখন অনুমান করছিলাম যে অলৌকিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুই ঘটল না। যাহোক, হঠাৎ করে আমি খুব শান্ত এবং আরাম বোধ করতে থাকলাম। আসলেই আমার মনে হচ্ছিল আমি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় কাটাচ্ছি। স্বাভাবিক কিছু ছাড়া তেমন কিছুই ঘটলো না সেদিন রাতেও কিছু ঘটলো না, কিন্তু পরেরদিন আমি যখন অফিসে গেলাম স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উজ্জলতর এবং আনন্দের একটা অনুভূতি আমি টের পেলাম আমার মনে। আত্মবিশ্বাস পাকা পোক্ত হতে থাকলো, মনে হলো কিছু একটা ঘটবে। এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল যে কেন আমি ওরকম অনুভব করছিলাম। কোন কিছুই আলাদা ছিল না। আসলে আপনি হয়ত বলতে পারেন যে এটা বাজে এবং ঝাপসা কিছু একটা, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল আলাদা, নিদেন পক্ষে অল্প হলেও আলাদা।
শান্তিপূর্ণতার এই অনুভূতিটি এখন আমার মধ্যে বিরাজ করছে এবং আমার ভালো লাগতে থাকল। প্রতিদিন প্রার্থনা করতে থাকলাম আমি এবং বিধাতার সাথে কথা বলতে লাগলাম যেমন আমি আমার অংশীদারের সাথে কথা বলতাম। আমার এ প্রার্থনা কিন্তু গীর্জার প্রার্থনার মত ছিল না, ঠিক মানুষে মানুষে যেমন কথা বলে তেমন। তারপর একদিন আমার অফিসে, হঠাৎ করেই একটা ধারণা আমার মনে এসে উদয় হলো। ব্যাপারটি ঠিক রুটি সেঁকার যন্ত্রে হঠাৎ করেই রুটি এসে উপস্থিত হবার মত অবস্থা। আমি নিজে নিজে বললাম: 'আচ্ছা, এ ব্যাপারে কি জান তুমি?' কারণ বিষয়টি এমনই যা কখনও আমার জীবনে ঘটেনি, কিন্তু আমি মুহুর্ত মধ্যে বুঝতে পারলাম যে, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আমাকে অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই আমার, কেন এ নিয়ে আগে কখনও ভাবিনি আমি। মনটা আমার খুবই গ্রন্থিবদ্ধ অবস্থায় ছিল, আমি অনুমান করছি মানসিকভাবে এটা কাজ করছিল না।
"আমি তাড়াতাড়ি খিলানের দিকে গেলাম।” তারপর তিনি থামলেন। “না, এটা খিলান ছিল না, এ ছিল আমার অংশীদার, আমার সাথে কথা বলছিলেন তিনিই। দ্রুতগতিতে আমি এই ধারণাটিকে কাজে লাগালাম এবং বিষয়টি আবর্তিত হতে শুরু করল। নতুন ধারণাগুলো আমার মনে প্রবাহিত হতে শুরু করল, এবং এমন অবস্থা সত্বেও আমি আবার আমার ব্যবসা ফিরে পেতে থাকলাম এবং তা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসলো। এতক্ষণ সাধারণ অবস্থাটি মোটামুটি চলনসই একটি অবস্থায় চলে এসেছে, এবং এখন আমি কষ্ট দুর্ভোগ থেকে মুক্ত।”
তারপর তিনি বললেন: "আমি আপনার মত ধর্ম প্রচারের কিছুই বুঝি না এবং যেমন বই আপনি লিখেন তেমন অভিজ্ঞতাও আমার নেই, অথবা এ বিষয়ে লিখা বইপত্র সম্বন্ধেও কিছু বুঝিনা বা জানিনা, কিন্তু এটুকু আপনাকে বলতে চাই যখনই ব্যবসায়ীদের সাথে আপনার কথা বলার সুযোগ হয় তাদেরকে বলুন যে, যদি তারা তাদের ব্যবসায়িক কাজে বিধাতাকে তাদের অংশীদার হিসাবে গণ্য করেন তবে তাদের প্রয়োগ করা ধারণার চেয়ে অনেক ভালো ভালো ধারণা তারা তার কাছ থেকে পাবেন, এবং এভাবে তাদের ধারণা গুলোকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করতে পারবেন। একথার মধ্য দিয়ে আমি যে শুধু টাকা পয়সার কথা বলছি তা নয়,” "যদিও আপনার লগ্নিকৃত একটি ভালো পন্থাও আপনার প্রয়োজন এবং আমি বিশ্বাস করি, বিধাতা-প্রদর্শিত ধারণাই হবে সেই বিশ্বস্ত পন্থা। কিন্তু তাদেরকে বলুন যে বিধাতার অংশীদারিত্বের যে পদ্ধতি সেটাই তাদের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।”
এই ঘটনাটি হল ঐশ্বশক্তি এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক, যা বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করছে তেমন অনেক ঘটনার একটি নিশ্চিত প্রমাণ স্বরূপ ঘটনা। আমি খুব একটা জোর দিয়ে সমস্যা সমাধানের কৌশলটির সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা। কিন্তু দেখা গেছে অনেক অনেক ক্ষেত্রে এর ফলাফল ঘটেছে বিস্ময়কর এবং সেগুলো আমার পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
অনেক অনেক প্রয়োজনীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ, সর্বপ্রথমে, একথা বুঝতে হবে যে, সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে আপনার নিজের ভেতর যে শক্তি রয়েছে তা সম্যকভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া জরুরী। ব্যক্তিগত সমস্যা সাফল্যজনকভাবে সমাধান করতে গিয়ে অনেকেই যে ব্যর্থ হয় তার পেছনের নিশ্চিত কারণ হলো, তাদের আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত ভোতা ভাবটি।
একজন ব্যবসায়ী নির্বাহী আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি যখন কোন অবস্থায় কোন কিছুর জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তখন মানবীয় মস্তিষ্কের জরুরী ক্ষমতার উপরই তিনি নির্ভর করে থাকেন। এ তার একটি বলিষ্ঠ সজ্ঞা যে, মানব জাতি যে বাড়তি ক্ষমতার অধিকর্তা জরুরী অবস্থায় সেই ক্ষমতাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের পর দিন বেঁচে থাকার জন্য জীবনের যে স্বাভাবিক পরিচালনা আমরা করি, সেখানে এই জরুরী ক্ষমতা সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু অনন্য সাধারণ পরিস্থিতিতে কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে তিনি এই বাড়তি শক্তিকে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য তলব করতে পারেন।
একজন ব্যক্তি যিনি তার কাজ করার বিশ্বাসকে উন্নীত করতে পারেন তবে তিনি তার এই সুপ্ত শক্তিকে সুপ্ত থাকতে দেন না, কিন্তু তার বিশ্বাস অনুপাতে সাধারণ কাজের সাথে সম্পর্কিত সকল অবস্থায় সেই সুপ্ত ক্ষমতার অনেকখানি তিনি কাজে লাগাতে পারেন। এই প্রক্রিয়া এটাই ব্যখা করে যে, কেন কিছু লোক তাদের সংকটের সময় এবং নিত্যদিনের প্রয়োজনে এই বৃহত্তর শক্তিকে অন্য কিছু অপেক্ষা নিশ্চিত প্রমাণ করে থাকে। এই ক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় সময়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে তারা একটি সাধারণ অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছেন অথচ একসময় নাটকীয়ভাবে প্রয়োজন ছাড়া তারা একে ভালোভাবে চিনত না বা জানত না।
যখন একটি কঠিন সমস্যা ঘাড়ের উপর এসে পড়ে, তখন তাকে কেমন করে মোকাবিলা করতে হয় আপনার তা জানা আছে কি? অদ্ভুত অস্বাভাবিক কঠিন সমস্যা যখন প্রচণ্ড আক্রমণে আপনাকে একেবারে ধরাশায়িত ফেলে তখন তা সমাধানের পরিষ্কার সজ্ঞায়িত পরিকল্পনা আপনার নাগালের মধ্যে আছে কি? অনেক মানুষই 'হলে হলো না হলে না হলো' পদ্ধতি প্রয়োগ এগোতে চায়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক বেশি এবং বার বার ব্যর্থ হন তারা
সমস্যা সমাধানে আপনার বৃহৎ শক্তি-ক্ষমতাকে ব্যবহার করার পরিকল্পনার গুরুত্বকে আমি জোর দিয়ে সমর্থন করতে পারি না।
এই যে সমস্যা সমাধান পদ্ধতি এর সাথে দু-তিনটি প্রার্থনা যা 'বিধাতার কাছে আত্মসমর্পণ' কৌশল সমৃদ্ধ এবং যা হবে বিধাতার সাথে অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠার মত এবং এর সাথে আপনার সেই আভ্যন্তরীণ ও জরুরী ক্ষমতা শক্তির সদ্ব্যবহার, এবং এর সাথে আরও একটি বিস্ময়কর কৌশল আপনার সংযোজন করা প্রয়োজন তা হলো, বিশ্বাস প্রযুক্ত মনোভাবের অনুশীলন বজায় রাখা।
মনে রাখতে হবে স্বাভাবিক বিশ্বাস যখন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয় জয় তখন অনিবার্য।
অনেক বছর আগে আমি যখন বাইবেল পড়ি তখন তা ভোরের আলোর মতই আমার মনকে উদ্ভাসিত করে তোলে এবং আমাকে যেন তা এ কথাই বলে যে, যদি আমার বিশ্বাস থাকে এবং যদি সত্যি সত্যিই তা থাকে তবে আমি আমার সমস্ত কষ্ট ভোগান্তি জয় করতে পারব, যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব। প্রতিটি পরাজয়ের উপর আধিপত্য করতে পারব, এবং আমার জীবনের সমস্ত জটিল সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে পারব। যে দিনটিতে আমার মনটি প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত হয়েছিল সেদিনটি আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি যদিও সেরাতম দিনটির হয়ত এখনো দেখা পাইনি। নিঃসন্দেহে অনেকের এ বইটি পড়বে যারা বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বাস শক্তির কোন ধারণাই যাদের হয়নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সেই ধারণাটি এখন আপনি পাবেন, কারণ বিশ্বাস কৌশলটি প্রশ্নাতীতভাবে এ দুনিয়াতে বিরাজমান অনেক সত্যের মধ্যে একটি শক্তিশালী সত্য, যে সত্য মানুষের জীবনকে স্বার্থকভাবে পরিচালনা করছে।
বাইবেলে সত্যের উপর বার বার জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি তোমার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও থাকে, তবে তোমার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না।” (মথি xviii, 20) বাইবেল একে সম্পূর্ণ ব্যক্ত করেছে। এটা বিভ্রম সৃষ্টি হবার মত কিছু একটা নয়, কল্পনাজনক কিছুও নয়। এটা সচিত্র ব্যাখ্যাও নয়, কোন প্রতীক ও নয়, কোন রূপক উপমা কাহিনী ও নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য ভিত্তিক ঘটনা- 'বিশ্বাস, এমনকি যদি একটি সরিষা দানার মতও হয়,' তাতেও আপনার সমস্যাসমূহ সমাধান হবে, আপনার যে কোন সমস্যা, আপনার যাবতীয় সমস্যা, শুধু যদি আপনি তা বিশ্বাস করেন এবং বিশ্বাসের অনুশীলন করেন আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি তা ফলপ্রসু হবে।” (মথি xviii, 29) প্রয়োজন হলো বিশ্বাসের, এবং সরাসরি আপনার বিশ্বাস অনুপাতে যতটুকু আপনার আছে, এবং যতটুকু তা প্রয়োগ করেন তেমন এবং ততটুকু ফলই আপনি পাবেন। অল্প বিশ্বাস আপনাকে অল্প ফলই দিবে, মধ্যম বিশ্বাস আপনাকে মধ্যম ফলই দেবে, বড় বিশ্বাস আপনাকে বড় ফলই দেবে। কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহানুভবতার প্রতীকিরূপে একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও আপনার থাকে, তবে আপনর সমস্যা সমাধানে তা বিস্ময়কর ফল দেবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আমার বন্ধু মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টের রোমাঞ্চকর কাহিনী বলছি শুনুন। আমার আগের বই, A Guide to Confident living, যখন সংক্ষিপ্ত কলেবরে Liberty magazine এ প্রকাশিত হচ্ছিল তখন আমি তাদের সাথে পরিচিত হই। ঐ সময়টাতে মেরিচ ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং খুব খারাপ ভাবে। তিনি যে শুধু তার কাজেই ব্যর্থ হচ্ছিলেন তা নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ভয় এবং বিরক্তিতে ভরে গিয়েছিল তার মন এবং এ যাবৎ আমি যত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন নেগেটিভ ব্যক্তি।
সুন্দর ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর হৃদয়ে সজ্জিত চমৎকার এক লোক ছিলেন তিনি, কিন্তু তিনি নিজে একথা স্বীকার করেছেন যে, তার জীবনটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।
আমার সংক্ষিপ্ত আকারে বইটি তিনি পড়েছেন, যে বইটতে 'সরিষা-দানা বিশ্বাসের' কথা খুব জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এই সময়টাতে তিনি তার পরিবারের সাথে ফিলাডেলফিয়াতে ছিলেন, দু ছেলে এবং তার স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট পরিবার। নিউইয়র্কে আমার গীর্জায় ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু কোন কারণে তিনি আমার সেক্রেটারীর সাথে যোগাযোগ করেননি। আমি এটা উল্লেখ করছি এটাই দেখাবার জন্য যে, ইতোমধ্যে তার মন মানসিকতা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছিল, কারণ স্বাভাবিকভাবে তিনি কখনও দ্বিতীয়বার আমাকে ডাকেননি, কারণ একটি দুর্বল চেষ্টা চালানোর পর সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দেয়া ছিল তার করুণ অভ্যাস স্বরূপ ব্যাপার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং গীর্জার প্রার্থনার সময় সূচীর সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধ্যবসায় সহকারে অপেক্ষা করেছেন। পরবর্তী রবিবার তার পরিবারকে নিয়ে তিনি সেই ফিলাডেলফিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্কে এসে গর্জিায় হাজির হয়েছেন, এবং বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও তিনি তার এই গীর্জায় আসা নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের পুরো ইতিহাস আমাকে শুনিয়েছেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তিনি নিজে কিছু করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে আমি কিছু ভেবেছি কিনা তার টাকা পয়সার সমস্যা, ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ঋণ সম্পর্কে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এবং প্রধানত তার নিজের সম্পর্কে যা ছিল খুবই জটিল এবং কষ্টে তিনি এতই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি তার এই অবস্থাকে একেবারেই আশাহীন অবস্থা বলে ধরে নিয়েছিলেন।
আমি তাকে এই বলে আশ্বস্ত করলাম যে, যদি তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তার মনকে সরল করেন এবং তার মনোভাবকে ঐশী চিন্তার ধরণের সাথে সমন্বিত করেন এবং যদি তার বিশ্বাসের কৌশলকে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে তার সব সমস্যারই সমাধান হবে।
তার এবং তার স্ত্রীর মনোভাব একই রকম, কিন্তু তাদের মন পরিষ্কার করতে হবে এবং মন থেকে বিরক্তি ভাবটা দূর করতে হবে। তারা ছিলেন সবার কাছে বুদ্ধিহীন উন্মাদের মত এবং কিছু লোকের কাছে আসলেই উন্মাদ বলে গণ্য হয়েছেন। তারা তখন নিরানন্দ একটা অবস্থার মধ্যে ছিলেন, তাই তাদের রূগ্ন চিন্তা কারণ ছিল তাদের এই অবস্থা, তাদের কাজে ব্যর্থতার জন্য নয়, কিন্তু অন্য লোকজনের নোংরা ব্যবহারের জন্যে। তারা আসলে রাতে শোবার সময় পরস্পর বলাবলি করতে যে, তারা কীভাবে কি বলে অন্যদের অপমানিত করবে। এ ধরনের অসুস্থ পরিবেশে তারা ঘুমাতে এবং বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাতে সাফল্যজনক কোন ফল তারা লাভ করতেন না।
মেরিচ ফ্লিন্ট প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বাস ধারণাটি মনে প্রাণে গ্রহণ করেছিলেন। এ ধারণাটি তাকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলো যে, আগে কখনও কোন কিছু তাকে এমন চেপে ধরেনি।
তার প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল, অবশ্যই তার ইচ্ছাশক্তি ছিল অসংগঠিত। কোন রকম ক্ষমতা বা শক্তি ছাড়াই তিনি প্রথমে চিন্তা করতেন এবং তা হয়েছে তার দীর্ঘদিনের হতাশাজনক অভ্যাসের কারণে, কিন্তু এখন তিনি এটা চেপে ধরেছেন নাছোড়বান্দার মত এমনকি মরিয়া হয়ে, এবং ঐ ধারণাকে সমানে রেখে যে, যদি তোমার 'একটি সরিষা দানার মতও বিশ্বাস থাকে, তবে তোমার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।' কিসের বলে তিনি বিশ্বাসে এমন নিমগ্ন হলেন। অবশ্যই, তার সাধ্যমত যতটা বিশ্বাস অনুশীলন তিনি করেছেন, সে অনুসারেই তার বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করেছে।
একদিন তিনি রান্নাঘরে গেলেন, ঐ সময় তার স্ত্রী সেখানে থালা বাসন ইত্যাদি ধোয়া মোছা করছিলেন। তিনি বললেন, “বিশ্বাস ধারণাটি রবিবার গীর্জায় অনুশীলন করা বেশি স্বাচ্ছন্দজনক, কিন্তু আমি এই ধারণাটি মনে পোষণ করতে পারছি না। এটা অনেকটা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছিলাম যদি একটি সরষে দানা পকেটে বহন করতে পারতাম, তবে দুর্বল মুহুর্তে আমি তা অনুভব করতে পারতাম এবং তা আমাকে বিশ্বাস ধারণ করতে সাহায্য করত। তিনি তখন তাকে জিজ্ঞাস করলেন, “আমাদের ওরকম একটি শস্য দানা আছে নাকি, অথবা ঐরকম কিছু ঠিক বাইবেলে যা বর্ণনা করা হয়েছে? আজই সরিষা দানা আমাদের ঘটিতে পাওয়া যাবে কি?
তিনি হাসলেন এবং বললেন, “একটি আধারে কিছু সরষে দানা আছে।” তিনি খুঁজে একটি সরষেদানা বের করলেন এবং তাকে দিলেন। মেরী এলিচ বললেন, “মেরিচ তুমি কি জান না, যে তোমার আসলে সত্যিকার একটি সরষে দানার প্রয়োজন নেই। ওতো একটি ধারণার প্রতীক বৈত নয়।” জবাবে তিনি বললেন, “ও সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা।" বাইবেলে সরিষা দানার কথা বলা হয়েছে, এবং আমি সেই সরিষা দানাই চাই। হতে পারে যে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতীক আমার প্রয়োজন।"
হাতের তালুতে নিয়ে তিনি সরষে দানাটির দিকে তাকালেন এবং বিস্ময়ের সাথে বললেনঃ এইটুকু বিশ্বাস যা আমার প্রয়োজন এই কি যথেষ্ট ছোট্ট এই সরিষা দানার সমপরিমাণ দানাটি হাতের তালুতে ধরে দেখতে থাকলেন; এবং তারপর তা পকেটে ভরে রাখলেন, বললেনঃ "যদি দিনে এর উপর আমার আঙ্গুল ও পড়ে তবুও আমার বিশ্বাস সৃষ্টির কাজে তা সাহায্য করবে।” কিন্তু সরিষা দানাটি এতই ছোট ছিল যে তিনি অচিরেই তা হারিয়ে ফেললেন, এবং আবার গেলেন সেই আচারের পাত্র থেকে আরেকটি দানা সংগ্রহের জন্য, শুধু এটাও হারাবার জন্য যেন। একদিন যখন আরেকটি দানা তার পকেট থেকে হারিয়ে গেল, ঠিক তখন ধারণাটি তার মনে স্পষ্ট উদিত হলো যে, কেন তিনি সরিষা দানাটি একটি প্লাষ্টিকের বলের ভেতর রাখেননি? তিনি বলটি তার পকেটে বহন করতে পারতেন। অথবা সার্বক্ষণিকভাবে তার ঘড়ির চেইনের উপর রাখতে পারতেন। যাতে তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও তার আছে, কাজেই তার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।'
একজন প্লাষ্টিক বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করলেন তিনি এবং জানতে চাইলেন কীভাবে একটি সরষেদানা প্লাষ্টিক বলের ভিতর ঢোকানো যেতে পারে এবং তা বের হয়ে যাবে না। বিশেষজ্ঞ বললেন, এটা করা সম্ভব নয় কারণ কোনদিন তেমন করা হয়নি এবং তার মোটেও কোন যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল না।
ইতোমধ্যে ফ্লিন্টের যথেষ্ট বিশ্বাস জন্মেছিল এ কথা বিশ্বাস করার জন্য যে, এমনকি যদি তার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকত তবে তিনি একটি সরিষা দানা প্লাষ্টিক বলে রাখতে পারতেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন, এবং কয়েক সপ্তাহ এর পেছনে লেগে থাকলেন, এবং চূড়ান্তভাবে সাফল্য লাভ করলেন। তিনি কয়েকটি রত্নাদির পোষাক তৈরি করলেন: হার, বো-পিন, চাবির চেইন, ব্রেচলেট এসব তৈরি করলেন এবং আমার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। ওগুলো খুবই সুন্দর হয়েছিল, এবং প্রত্যেকটির উপর পরিষ্কার এবং বৃত্তাকার কিছুর মধ্যে সরিষা দানা শোভা পাচ্ছিল। প্রত্যেকটির সাথে একটি করে কার্ড সেটে দেয়া হয়েছিল যার উপর লিখা ছিল, 'সরিষা দানা স্মরণে।' কার্ডে এও বলা হয়েছিল, কিভাবে এসব রত্নাদির ব্যবহার করা হবে; কিভাবে সরিষা দানা ব্যবহারকারীর মনে করিয়ে দেবে যে যদি তার বিশ্বাস থাকে, তবে তার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এসব বিক্রিয় দ্রব্য হিসেবে কোন চিন্তা ভাবনা করেছি কিনা। আমার একটু সন্দেহ ছিল। আমি তা স্বীকার করব, এবং লিখাগুলো গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের সম্পাদকের সাথে আলাপ করার জন্য গ্রেস আওয়ারস্মারকে দেখালাম। মহিলাটি ঐ রত্নখচিত শিখগুলো আমাদের পরস্পরের বন্ধু, মিঃ উয়াল্টার হোভিং বনউইট টেলার ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রেসিডেন্ট, দেশের সবচেয়ে বড় মাপের একজন কার্যনির্বাহী, তাকে দেখাতে নিয়ে গেলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ এই পরিকল্পনাটির একটি সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। আমার বিস্মিত হবার এবং আনন্দিত হবার বিষয়টি কল্পনাকরে দেখুন, যখন দেখলাম কয়েকদিন পরে নিউয়র্কের পত্রিকাগুলোতে দুই কলামের একট বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে, তাতে লিখাঃ 'বিশ্বাসের প্রতীক'-সত্যিকারের একটি সরিষাদানা ঝকঝকে কাঁচের ভেতর স্থাপন করে সঠিক অর্থ সম্বলিত একটি ব্রেচলেট তৈরি করা হয়েছে, এবং বিজ্ঞাপনে শাস্ত্রবানীর একটি পাঠ্যাংশ তুলে দেয়া হয়েছেঃ "যদি তোমাদের একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকে....
তবে তোমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু থাকবে না।” (মথি xvii.20) এই লিখাগুলো গরম কেকের মতই বিক্রি হয়েছিল। এখন দেশের শত শত এবং বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো এবং দোকানগুলো যারা ঐ রকম কঠিন সমস্যায় পড়েন তারা সবাই ঐ বাণী সমৃদ্ধ অলংকার গুলো সংরক্ষণ করে রাখেন।
মি: এবং মিসেস ফ্লিন্টের মধ্য পশ্চিম শহরে 'সরিষা দানা স্বারক' উৎপাদনের একটি কারখানা আছে। কৌতূহলজনক সন্দেহ নেই, তাই একজন ব্যর্থ মানুষ গীর্জায় যান, বাইবেলের বাণী শুনেন (অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থেও তা সম্ভব) এবং ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবসার দ্বার খুলে যায় তার জন্য। সম্ভবত বাইবেল সহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো আপনাদের একাগ্রচিত্তে পাঠ করা উচিৎ, উপাসনালয়ে ধর্ম উপদেশগুলো ও মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা প্রয়োজন। সম্ভবত তাতে আপনি শুধু যে আপনার জীবন পূর্ণগঠনের সঠিক ধারণা খুঁজে পাবেন তাই নয়, কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির ধারণাও আপনি খুঁজে পাবেন।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস শিল্প উৎপাদনকারীর এবং উৎপন্ন দ্রব্যের উভয় পক্ষের ব্যবসাই উন্নতি লাভ করেছে এবং তা হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধন করবে তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যাপারটি যেহেতু জনপ্রিয় এবং কার্যকর তাই অন্যরাও এগুলোর কপি তৈরি করেছেন, কিন্তু ফ্লিন্টের 'সরিষা দana স্মারক' হলো সর্বাপেক্ষা মূল উৎপাদক। বিশ্বাসের সেই ছোট্ট ছকটি প্রয়োগ করে যাদের জীবনে অদ্ভুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তা এই নব প্রজন্মে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একটি আধ্যাত্মিক কাহিনী। কিন্তু মিঃ মেরিচ এবং মেরী এলিচের উপর বিশ্বাস শক্তির প্রভাব যেভাবে কাজ করলো অর্থাৎ তাদের জীবনের যে পরিবর্তন হলে, তাদের চরিত্র পরিবর্তিত হলো। ব্যক্তিত্বের জটিলতা থেকে তারা যে মুক্তি লাভ করলো এতো বিশ্বাস্য শক্তির রীতিমত রোমাঞ্চকর প্রমাণ স্বরূপ। তারা কিন্তু এখন আর নেগেটিভ চরিত্রের নয়, তারা এখন পজিটিভ চরিত্রের মানুষ। তারা এখন আর পরাজিত নন, তারা এখন জয়ী ব্যক্তিত্ব। তারা এখন আর কাউকে ঘৃণা করেন না। তারা ক্রোধ, বিদ্বেষ এসবকে জয় করেছেন এবং তাদের হৃদয় এখন ভালোবাসায় পূর্ণ। তারা এখন নতুন দৃষ্টি ভঙ্গিতে, নতুন জ্ঞান শক্তিতে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের মানুষ। আমার জানা মতে তারা দু'জন সবচেয়ে অনুপ্রেরণাকারী ব্যক্তিত্ব।
যদি মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টকে জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে সমস্যার সঠিক সমাধান করা সম্ভব? জবাবে তারা আপনাকে বলবেন- 'বিশ্বাস ধারণ করুন- হ্যাঁ সত্যিই বিশ্বাস ধারণ করুন।' এবং আমাকে বিশ্বাস করুন, যে তারা জানেন বিশ্বাস কিভাবে ফলবান হয়।
যখন এ কাহিনী আপনি পড়ছেন যদি তখন আপনি নিজে নেগেটিভলি বলেন (এবং তা যদি নিগেটিভ ফলই দিতে থাকে), ফ্লিন্টযুগল আমার মত অত বাজে ভাবে তা ছেড়ে দিত না; আমি আপনাদের বলতে চাই যে, কদাচিৎ আমি ফ্লিন্টদের মত কাউকে অমন বাজে ভাবে হাল ছেড়ে দিতে দেখেছি। আমি আপনাদের আরও বলতে চাই যে, আপনার পরিস্থিতি যেমনই মরিয়া হোক না কেন আপনি ঐ চারটি কৌশল, যেগুলো এই অধ্যায়ে বর্ণিত হল তা যদি প্রয়োগ করেন, ফ্লিন্ট যুগল যেমন করলেন, তা হলে আপনিও, আপনার সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
এই অধ্যায়ে আমি সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখাবার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য দশটি বাস্তব কৌশল সম্পর্কে আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই:
১. একথা বিশ্বাস করুন যে প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি সমাধানের পথও অবশ্যই আছে।
২. শান্ত থাকুন। 'দুশ্চিন্তা' চিন্তাশক্তির প্রবাহ পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
৩. কোন জবাব খুঁজে পাবার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না। মনকে শিথিল রাখুন যাতে সমাধানের দার সহজেই খুলে যেতে পারে এবং জটিলতা পরিষ্কার হতে পারে।
৪. সমস্ত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে, নৈর্ব্যক্তিকভাবে এবং বিধিবদ্ধভাবে জড়ো করুন।
৫. এসব ঘটনা কাগজে লিখে তালিকাবদ্ধ করুন। এতে আপনার চিন্তা পরিষ্কার হবে, বিভিন্ন রকম উপকরণ একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনতে সাহায্য করবে। যেমন চিন্তা করছেন ওভাবে দেখতেও শিখুন। সমস্যা তখনি শুধু কাল্পনিক কিছু নয়, কিন্তু বাস্তব।
৬. আপনার সমস্যা নিয়ে প্রার্থনা করুন, নিশ্চিত ভাবে বিধাতা আপনার মনে আলোকপাত করবেন।
৭. ৭৩ নং সাম সংগীতে বিধাতার পথ প্রদর্শনের প্রতিজ্ঞার কথা বিশ্বাস করুন এবং তা যাচনা করুন: "তুমি তোমার পরামর্শ দিয়ে আমাকে পথ দেখাও।”
৮. অন্তর্দৃষ্টি এবং মনের স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানে আস্থা রাখুন।
৯. গীর্জা, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে যান (যার যার ধর্ম অনুসারে) এবং আপনার সমস্যা নিয়ে অবচেতন মনে যে চিন্তা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তা আরাধনার ভাবের সাথে সমন্বিত করুন। সৃজনশীল আধ্যাত্মিক চিন্তনের সঠিক 'উত্তর পেয়ে দেবার বিস্ময়কর শক্তি আছে।
১০. এসব পদক্ষেপ আপনি যদি বিশ্বাসের সাথে অনুসরণ করেন তবে তখন যে সদুত্তর আপনার মনে পরিপক্কতা লাভ করেছে, অথবা বাস্তবায়িত হবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সেটাই হলো আপনার সমস্যার সঠিক উত্তর।

আমি আপনাদের কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষের কথা বলতে চাই, যারা এদের নিজেদের নানারকম সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন।
তারা একটি সাধারণ কিন্তু উচু মানের বাস্তব পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ে এর ফল দাঁড়িয়েছিল সুখকর এবং সাফল্যপূর্ণ। কোনভাবেই এ লোকগুলো আপনাদের থেকে আলাদা কিছু ছিল না। আপনাদের যে সমস্যা এবং কষ্ট ভোগ আছে, তাদেরও ঠিক তেমনই ছিল, কিন্তু সে সব কঠিন প্রশ্নের মোকাবিলা তারা করেছিলেন। তার সঠিক উত্তর খুঁজে পাবার জন্য একটি সাহায্যকারী সূত্র তারা পেয়েছিলেন। সেই একই সূত্র প্রয়োগ করে একই রকম ফলাফল আপনারাও পেতে পারেন।
প্রথমে এক স্বামী-স্ত্রী যুগলের কাহিনী আমি শোনাবো আপনাদের। তারা আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। বহু বছর ধরে 'বিল' অর্থাৎ স্বামী লোকটি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলো যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে তিনি তার কোম্পানীর মইয়ের একেবারে সর্বোচ্চ ধাপের পূর্ব ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভের জন্য তিনি সারিতে অপেক্ষমান ছিলেন এবং নিশ্চিত অনুভব করেছিলেন যে, বর্তমান সভাপতির অবসর গ্রহণের পর তিনিই ঐ পদের দিকে বাড়াবেন।
কেন তাঁর আকাঙ্খা প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হবে না? তাঁর পেছনে কোন সুস্পষ্ট কারণ ছিল না, কারণ তাঁর সামর্থের দ্বারা, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি বিশেষ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তাছাড়া তার এমন বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল যে, তিনি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেনই।
যাহোক শেষ পর্যন্ত ঐ পদটির জন্য অন্য লোক নিয়োগ করা হয় তাকে পাশ কাটিয়ে। খালি পদটি পূর্ণ করার জন্য বাইরে থেকে লোকটিকে আনা হয়।
আঘাতটি তার উপর নেমে আসার ঠিক পরক্ষণেই আমি শহরে এসে পৌঁছি। তার স্ত্রী মেরী বিশেষভাবেই শত্রুতাপরায়ন মনোবৃত্তি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাতে খাবারের সময় খুব তিক্ত মন নিয়ে তিনি সবকিছু আমাদের বললেন যে, কর্তৃপক্ষকে তিনি একথাগুলো বলতে চান। তীব্র হতাশা, লজ্জা, নৈরাশ্য সবকিছু একসাথে জ্বলন্ত রূদ্ররোষে ফেটে পড়ে এবং তার স্বামী এবং আমার উপর তা উদ্ধার করতে থাকেন।
কিন্তু অন্যদিকে বিল একেবারে শান্ত। সুস্পষ্টত: তিনি আঘাতপ্রাপ্ত, আশাহত এবং কিংকর্তব্যবিমুঢ়, তবুও বিষয়টি তিনি সাহসের সাথে গ্রহণ করেছেন।
আবশ্যিকভাবেই একজন ভদ্রলোক হওয়াতে এটা বিস্মিত হবার মত কিছু ছিলনা যে তিনি রাগান্বিত হতে পারেননি অথবা চরম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেরি চেয়েছিল তার স্বামী অবিলম্বে চাকুরিতে ইস্তফা দিক। তিনি তাকে বিশেষ জোরের সাথেই বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষকে কিছু কথা শুনিয়ে কাজে ইস্তফা দিতে। তাকে দেখে মনে হয়েছিল যে তিনি তেমন কাজ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, উল্টো তিনি বলেছিলেন যে, সম্ভবত নতুন লোকটির সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং তাকে যেকোন ভাবে সাহায্য করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
এ ধরণের মনোভাব খুব কষ্টকর একথা সবাই স্বীকার করবেন, কিন্তু তিনি কোম্পানীর হয়ে অনেকদিন কাজ করেছেন তাই অন্য কোথাও কাজ করে তিনি খুশি হতে পারবেন না, এবং তাছাড়া তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, এই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোম্পানী তাকে কাজে লাগাতেই পারে।
তখন তার স্ত্রী আমার দিকে ফিরে বললেন যে, এখানে আমি হলে কি করতাম? আমি তাকে বললাম যে তিনি যা ভালো মনে করছেন আমিও তাই করতাম, নিঃসন্দেহে হতাশবোধ করতাম এবং আঘাতও পেতাম, এবং তার এই ধীরে চলার নীতিকে যাতে ঘৃণা করা না হয় সে চেষ্টা ও করতাম, কারণ তীব্র ঘৃণা শুধু যে আত্মাকে ক্ষয় করে তাই নয়, চিন্তন পদ্ধতিকেও সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল করে ফেলে।
আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম, আমাদের এখন যা দরকার তা হলো 'ঐশ্বরিক দিক নির্দেশনা' এই অবস্থায় তা আমাদের সমস্ত জ্ঞানের উর্ধ্বে। এই সমস্যাটির মধ্যে আবেগজনিত এমন এক পরিতৃপ্তি আছে যে আমরা হয়ত অনেক লক্ষ্য নিয়ে এবং যুক্তিসংগতভাবে কোন কিছু ভাবতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলাম।
কাজেই আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আসুন আমরা কয়েকটি মিনিট নীরবতায় কাটাই, কেউ কিছু বলব না আমরা, শান্ত মনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রার্থনার মনোভাব নিয়ে বসে থাকব আমরা, আমাদের সমস্ত ভাবনাগুলো সেই বিশেষ একজনের দিকে ফিরিয়ে দেব যিনি বলেছেন: “যখন দুজন কি তিনজন আমার নামে একত্রিত হয়, সেখানে তাদের মধ্যে আমি উপস্থিত থাকি।” (মথি xviii 18-20)
সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বললাম, আমরা এখানে তিনজন মানুষ, এবং আমরা যদি সেই মহান শক্তির উপস্থিতি তার নামে এখানে নিশ্চিত করতে চাই তবে, আমাদের শান্ত করার জন্য তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন আমাদের সঠিক পথ দেখাবার জন্য।
মনের যে ভাবের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে তার স্ত্রীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তা তার পক্ষে সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু মূলত তিনি একজন বুদ্ধিমতি, এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলা ছিলেন। আর আমার পরিকল্পনাটির সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তিনি।
অবিলম্বে, নীরব কয়েকটি মিনিট কেটে যাবার পর, আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আমরা এখন হাত ধরাধরি করে দাঁড়াবো, এবং যদিও আমরা সাধারণ মানুষের একটি রেস্তোরায় ছিলাম তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, নীরবে শান্তভাবে একটি প্রার্থনা করব। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমি পথ নির্দেশনা যাচনা করলাম। বিল এবং তার স্ত্রীর মনের শান্তির জন্য অনুরোধ করলাম এবং আরও সামনে বেড়ে এমনকি নব নিযুক্ত কর্মচারীর জন্য ঐশী আশীর্বাদও যাচনা করলাম। আমি আরো ও প্রার্থনা করলাম, যাতে নতুন প্রশাসনের সাথে বিল নিজেকে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
প্রার্থনা শেষে আমরা কয়েক মিনিট নীরব কাটালাম, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিলের স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমি অনুমান করছি এভাবেই কাজটি করতে হবে। যখন আমি জানতে পারলাম আপনি আমাদের সাথে নৈশভোজ খেতে আসছেন তখনি আমি ভয়ের মধ্যে ছিলাম এই ভেবে যে, আপনি বুঝি এ বিষয়ে আমাদের খ্রীষ্ট ধর্মমতে অবস্থান নিতে বলবেন। খোলাখুলিই বলছি, আমি আসলে ঐ ভাবে বিষয়টি অনুভব করিনি। মনে মনে সেদ্ধ হচ্ছিলাম আমি, কিন্তু অবশ্যই এটা অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, এই সমস্যার সঠিক উত্তর এই পদ্ধতিতেই পাওয়া যাবে। আমি প্রগাঢ় বিশ্বাসের সাথে চেষ্টা করে দেখব, তা যত কষ্টকরই হোক না কেন।
মলিন হাসি হাসলেন তিনি, কিন্তু বিদ্বেষ এখন আর তার মুখাবয়বে দেখা গেল না।
সময় সময় আমি আমার বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এবং তাতে দেখা গেছে যে, তাদের আকাঙ্খা অনুসারে পুরোপুরি যতক্ষণ না পূর্ণ হয়েছে, তখন থেকেই ক্রমে ক্রমে তারা সুন্দরভাবে সন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এই নতুন ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তারা তাদের হতাশা এবাং বিদ্বেষ ও জয় করতে সক্ষম হয়েছে। এমন কি নিজেও গোপনে আমাকে বলেছেন যে, তিনি নুতন লোকটিকে পছন্দ করেছেন এবং তার সাথে কাজ কর্ম করতেও তার আনন্দই লাগছে। তিনি আমাকে বলেছেন যে নতুন সভাপতি সাহেব তাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে নানা পরামর্শ করেছেন এবং তাঁর মনে হয়েছে যে, তিনি তাঁর উপর নির্ভর করছেন।
অন্যদিকে মেরিও প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর সাথে হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে নিয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা দুজনে পারস্পারিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় এসেছিলেন।
এভাবে দুবছর কেটে গেল। একদিন আমি তাদের শহরে এসে ফোন করলাম তাদের।
“ওঃ, আমি খুবই উত্তেজিত হয়ে আছি, আমার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, উচ্ছসিত মেরি বললেন। আমি মন্তব্য করে বললাম যে, যা কিছু তার মনকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে তা অবশ্যই অসাধারণ গুরুত্ব বহন করে।
এই উক্তিকে অস্বীকার করে তিনি সজোরে বলে উঠলেনঃ "ওহ! সবচেয়ে বিস্ময়কর যা ঘটেছে তা হলো, মি: অমুক,” অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের নাম, "অন্য একটি বড় কোম্পানী তাকে বিশেষ একটি কাজের জন্য বড় প্রমোশন দিয়ে আমাদের কোম্পানী থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং” -একটু ভঙ্গিমা করে প্রশ্ন করলেন- "অনুমান করেন তো ব্যাপারটি কি? বিলকে কোম্পানীর নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি এখানে চলে আসুন এবং আমরা তিনজন একসাথে বিধাতাকে ধন্যবাদ দেব।”
পরে যখন আমরা একত্রে বসলাম, বিল বললেন: “আপনি জানেন কি, আমি অনুধাবন করতে শরু করেছি যে খ্রীষ্টধর্মটি মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। আধ্যাত্মিকভাবে বৈজ্ঞানিক নীতিনির্ভর সজ্ঞা অনুসরণ করে আমরা একটি সমস্যার সমাধান করেছি। সভয় শিহরণে আমি ভাবছি,” তিনি বললেন "এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য খ্রীষ্টীয় শিক্ষার মধ্যে যে সূত্রটি রয়েছে তাকে অনুসরণ না করলে আমরা কত ভয়ানক ভুলটি করতাম।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "খ্রীষ্ট ধর্ম ব্যবহারিক নয় এমন নির্বোধের মত ধারণার জন্য দায়ী কে? তিনজনে মিলে যেভাবে এই সমস্যাটি সমাধান করলাম, জীবনে আবার যদি কখনও কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে সেই সমস্যাকে আমি এভাবেই আঘাত করব।”
এমনিভাবে বেশ কয়েক বছর চলে গেল, এবং মেরিও বিলের জীবনে আরো যেসব সমস্যা এসেছিল, সেগুলো সমাধান করতে তারা একই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, একই রকম ফলাফল তারা লাভ করেছিলেন। 'সমস্যাকে বিধাতার হাতে সমর্পণ কর' এই পদ্ধতির দ্বারা তাদের সমস্যার সঠিক সমাধান লাভ করতে শিখেছিলেন।
সমস্যা সমাধানের আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো, বিধাতাকে আপন সমস্যায় অংশীদার হিসেবে ধারণা করা। বাইবেল এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও বর্ণিত অনেক ধারণার মধ্যে একটি হলো যে, বিধাতা আমাদের সাথেই বিরাজমান। প্রকৃতপক্ষে খ্রীষ্টধর্মের মধ্যেও দেখা যায় যে, এমন একটি ধারণা দিয়ে শুরু, তা হলো যখন খ্রীষ্টের জন্ম হয় তখন তাকে বলা হয়েছিল ঈমানুয়েল; অর্থাৎ বিধাতা আমাদের সাথে।
খ্রীষ্ট ধর্ম এবং অন্যান্য প্রায় সকল ধর্মেই এমন শিক্ষা দেয় যে, মানুষের সমস্ত ভোগান্তির সময়, তাদের সমস্যায় এবং জীবনের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিধাতা আমাদের কাছে কাছেই থাকেন। আমরা তার সাথে কথা বলতে পারি, তার উপর নির্ভর করতে পারি, তার কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারি, এবং অপরিমিত লাভজনক কিছু ও তার ইচ্ছার কাছ থেকে আমরা পেতে পারি, পেতে পারি তার সহযোগিতা।
বাস্তবিকভাবে সবাই সাধারণত এটাই বিশ্বাস করে যে, বিষয়ট সত্যি এবং অনেকেই এই সত্যের বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আপনার সমস্যায় সঠিক সমাধান পেতে হলে আপনার বিশ্বাসের চেয়ে একধাপ সামনে এগুতে হবে কারণ, একজন যখন এই বিশ্বাস প্রক্রিয়াটি নিয়ে যাচাই করতে চায় তখন তাকে এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে, এখন বিধাতা স্বয়ং উপস্থিত। বিশ্বাস শক্তি নিয়ে এমন অনুশীলন করতে হবে যে, অনুভবের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারবেন আপনার পাশে আপনার স্ত্রী যেমন বাস্তব অবস্থান করছেন, অথবা আপনার ব্যবসার অংশীদার বা আপনার ঘনিষ্টতম বন্ধু যেমন আপনার সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বিধাতাও রয়েছেন। তার সাথে কথা বলতে অভ্যাস করুন; বিশ্বাস করুন যে, তিনি আপনার কথা শুনতে পাচ্ছেন এবং আপনার সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছেন। অনুমান করুন যে তিনি আপনার মনকে চেতনার মাধ্যমে প্রভাবিত করছেন যাতে আপনার ধারণাগুলো এবং প্রয়োজনীয় অন্তদৃষ্টির বিষয়সমূহ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী হয়। সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন যে সমস্যা সমাধানের এই পদ্ধতিতে কোন ভুল হবে না, বরঞ্চ আপনার অভিপ্রেত কাজ আপনি সঠিকভাবে পরিচালিত হবেন যার ফল দাঁড়াবে সম্পূর্ণ সঠিক।
পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরে এক রোটারী ক্লাবে একবার আমি বক্তব্য রাখছিলাম, হঠাৎ এক ব্যবসায়ী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি আমাকে বললেন, সংবাদপত্রের কলামে আমার এক লিখা থেকে তিনি পড়েছেন - ড়ার বিষয়টি এমন : 'তার মনোভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং তার ব্যবসাটাকে রক্ষা করেছে।' স্বাভাবিকভাবেই আমি আগ্রাহান্বিত এবং খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে, ছোট্ট একটি কথা যা আমি বলেছিলাম তার এমন চমৎকার ফল দাঁড়াবে।
তিনি বললেন, “আমার ব্যবসা নিয়ে কঠিন সময় পাড় করছিলাম আমি।" "আসলে, আমি আমার ব্যবসাটা রক্ষা করতে পারব কি পারব না সেই প্রশ্নটাই ভয়ানকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছিল। বাজারের অবস্থা, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনৈতিক সন্ধিচ্যুতি ইত্যাদি সবকিছু গভীরভাবে আমার ব্যবসার লাইনকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এসব যেন দুর্ভাগ্য জনক পরিস্থিতির এক ধারাবাহিক এবং সংবদ্ধ আক্রমণ। আমি আপনার এই আর্টিকেলটি পড়েছি যাতে আপনি আপনার নতুন ধারণার মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন যে বিধাতার সাথে তাকে আপনার একজন অংশীদারস্বরূপ ভেবে কথা বলুন। আমি মনে করি আপনি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেনঃ 'বিধাতার সাথে নিজেকে কার্যকরভাবে মিলিত বা নিমগ্ন করা।'
প্রথম যখন আমি তা পড়ি, আমার মনে হয়েছিল বিকৃত-মস্তিষ্ক অদ্ভুত ধারণা।” এ প্রথিবীর একজন মানুষের পক্ষে, অর্থাৎ একজন মানুষ কীভাবে, বিধাতাকে তার সঙ্গী করতে পারে? তাছাড়া, আমি সবসময় বিধাতাকে ভেবেছি এক বিরাটের বিদ্যমানতা হিসেবে, মানুষের চেয়ে তিনি এত বড় যে, তার দৃষ্টিতে আমি একটি কীট তুল্য এবং এখন আপনি বলেছেন যে তাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। ধারণাটাকে মনে হয় নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ। তখন আমার এক বন্ধু আপনার একটি বই আমাকে দেয়, এবং সেখানে আমি দেখি সেই একই ধারণা সারা বইটিতে ছড়িয়ে আছে।
যারা বাস্তব জীবনে এই ধারণাটি প্রয়োগ করে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তাদের কথাই আপনি বইটিতে তুলে ধরেছেন। এও মনে হয় যে, তারা সবই সুবুদ্ধি সম্পন্ন লোক, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বারবার এমনই ধারণা ছিল যে ধর্ম যাজকরা আদর্শবাদী সংজ্ঞাকাৰ ছোৱা ব্যবসার কিছু বুঝেন না, বাস্তব ঘটনাবলী সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। কাজেই আমি ঠিক করি আপনাকে লিখব এবং লিখলাম শেষ পর্যন্ত, হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
“যা হোক, একদিন এক মজার ঘটনা ঘটল। ওদিন এত খারাপ মনে অফিসে গেলাম যে সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল ঘুষি মেরে মাথা ফাটিয়ে ব্রেনটাকে বের করে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হত এবং তাতে সমস্ত সমস্যা থেকে আমি রেহাই পেতাম বা আমাকে একেবারেই ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ঠিক তখনই বিধাতাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণাটি মাথায় এলো। দরজাটি বন্ধ করলাম আমি, তারপর চেয়ারে বসলাম এবং বাহুর উপর মাথা রেখে ডেস্কের উপর উপুর হলাম। এখানে আমি আপনার কাছে স্বীকার করতে পারি যে বহু বছরের মধ্যে ডজনবারের বেশি প্রার্থনা আমি করিনি।
এই ঘটনায় আমি আসলেই প্রার্থনা করেছিলাম। আমি বিধাতাকে বললাম যে আমি বিধাতাকে সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণা সম্পর্কে শুনেছিলাম, যদিও এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, এর সঠিক অর্থ কি, অথবা একজন কেমন করেই বা এমন করতে পারে। আমি তাকে বললাম যে, আমি নিমগ্ন ছিলাম, কিন্তু আতংকিত হওয়া ছাড়া আমি কোন ধারণাই পেলাম না, আর সে কারণেই আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলাম, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম এবং একেবারেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি বললাম: 'প্রভু, আমি তোমাকে আমার অংশীদার হবার খুব বেশি সুযোগ দিতে পারব না, কিন্তু অনুগ্রহ করে আমার সাথে একত্রিত হও এবং আমাকে সাহায্য কর। আমি জানি তুমি আমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পার, কিন্তু আমি তোমার সাহায্য পেতে চাই। কাজেই ঠিক এই মুহুর্তে আমি আমার ব্যবসা, নিজেকে, আমার পরিবার এবং আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু তোমার হস্তে সমর্পণ করছি। তোমার যা খুশি তাই কর। এমনকি জানিনা আমাকে তুমি কিভাবে কি করতে বলবে কিন্তু আমি শুনতে প্রস্তুত এবং আমি যদি পরিষ্কার করে বল তবে আমি তোমার উপদেশ অনুসরণ করব।
“বেশ,” তিনি আবার বলতে থাকলেন, “এই ছিল আমার প্রার্থনা। প্রার্থনা শেষ করে ডেস্কের কাছে বসলাম। আমি তখন অনুমান করছিলাম যে অলৌকিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুই ঘটল না। যাহোক, হঠাৎ করে আমি খুব শান্ত এবং আরাম বোধ করতে থাকলাম। আসলেই আমার মনে হচ্ছিল আমি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় কাটাচ্ছি। স্বাভাবিক কিছু ছাড়া তেমন কিছুই ঘটলো না সেদিন রাতেও কিছু ঘটলো না, কিন্তু পরেরদিন আমি যখন অফিসে গেলাম স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উজ্জলতর এবং আনন্দের একটা অনুভূতি আমি টের পেলাম আমার মনে। আত্মবিশ্বাস পাকা পোক্ত হতে থাকলো, মনে হলো কিছু একটা ঘটবে। এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল যে কেন আমি ওরকম অনুভব করছিলাম। কোন কিছুই আলাদা ছিল না। আসলে আপনি হয়ত বলতে পারেন যে এটা বাজে এবং ঝাপসা কিছু একটা, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল আলাদা, নিদেন পক্ষে অল্প হলেও আলাদা।
শান্তিপূর্ণতার এই অনুভূতিটি এখন আমার মধ্যে বিরাজ করছে এবং আমার ভালো লাগতে থাকল। প্রতিদিন প্রার্থনা করতে থাকলাম আমি এবং বিধাতার সাথে কথা বলতে লাগলাম যেমন আমি আমার অংশীদারের সাথে কথা বলতাম। আমার এ প্রার্থনা কিন্তু গীর্জার প্রার্থনার মত ছিল না, ঠিক মানুষে মানুষে যেমন কথা বলে তেমন। তারপর একদিন আমার অফিসে, হঠাৎ করেই একটা ধারণা আমার মনে এসে উদয় হলো। ব্যাপারটি ঠিক রুটি সেঁকার যন্ত্রে হঠাৎ করেই রুটি এসে উপস্থিত হবার মত অবস্থা। আমি নিজে নিজে বললাম: 'আচ্ছা, এ ব্যাপারে কি জান তুমি?' কারণ বিষয়টি এমনই যা কখনও আমার জীবনে ঘটেনি, কিন্তু আমি মুহুর্ত মধ্যে বুঝতে পারলাম যে, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আমাকে অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই আমার, কেন এ নিয়ে আগে কখনও ভাবিনি আমি। মনটা আমার খুবই গ্রন্থিবদ্ধ অবস্থায় ছিল, আমি অনুমান করছি মানসিকভাবে এটা কাজ করছিল না।
"আমি তাড়াতাড়ি খিলানের দিকে গেলাম।” তারপর তিনি থামলেন। “না, এটা খিলান ছিল না, এ ছিল আমার অংশীদার, আমার সাথে কথা বলছিলেন তিনিই। দ্রুতগতিতে আমি এই ধারণাটিকে কাজে লাগালাম এবং বিষয়টি আবর্তিত হতে শুরু করল। নতুন ধারণাগুলো আমার মনে প্রবাহিত হতে শুরু করল, এবং এমন অবস্থা সত্বেও আমি আবার আমার ব্যবসা ফিরে পেতে থাকলাম এবং তা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসলো। এতক্ষণ সাধারণ অবস্থাটি মোটামুটি চলনসই একটি অবস্থায় চলে এসেছে, এবং এখন আমি কষ্ট দুর্ভোগ থেকে মুক্ত।”
তারপর তিনি বললেন: "আমি আপনার মত ধর্ম প্রচারের কিছুই বুঝি না এবং যেমন বই আপনি লিখেন তেমন অভিজ্ঞতাও আমার নেই, অথবা এ বিষয়ে লিখা বইপত্র সম্বন্ধেও কিছু বুঝিনা বা জানিনা, কিন্তু এটুকু আপনাকে বলতে চাই যখনই ব্যবসায়ীদের সাথে আপনার কথা বলার সুযোগ হয় তাদেরকে বলুন যে, যদি তারা তাদের ব্যবসায়িক কাজে বিধাতাকে তাদের অংশীদার হিসাবে গণ্য করেন তবে তাদের প্রয়োগ করা ধারণার চেয়ে অনেক ভালো ভালো ধারণা তারা তার কাছ থেকে পাবেন, এবং এভাবে তাদের ধারণা গুলোকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করতে পারবেন। একথার মধ্য দিয়ে আমি যে শুধু টাকা পয়সার কথা বলছি তা নয়,” "যদিও আপনার লগ্নিকৃত একটি ভালো পন্থাও আপনার প্রয়োজন এবং আমি বিশ্বাস করি, বিধাতা-প্রদর্শিত ধারণাই হবে সেই বিশ্বস্ত পন্থা। কিন্তু তাদেরকে বলুন যে বিধাতার অংশীদারিত্বের যে পদ্ধতি সেটাই তাদের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।”
এই ঘটনাটি হল ঐশ্বশক্তি এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক, যা বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করছে তেমন অনেক ঘটনার একটি নিশ্চিত প্রমাণ স্বরূপ ঘটনা। আমি খুব একটা জোর দিয়ে সমস্যা সমাধানের কৌশলটির সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা। কিন্তু দেখা গেছে অনেক অনেক ক্ষেত্রে এর ফলাফল ঘটেছে বিস্ময়কর এবং সেগুলো আমার পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
অনেক অনেক প্রয়োজনীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ, সর্বপ্রথমে, একথা বুঝতে হবে যে, সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে আপনার নিজের ভেতর যে শক্তি রয়েছে তা সম্যকভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া জরুরী। ব্যক্তিগত সমস্যা সাফল্যজনকভাবে সমাধান করতে গিয়ে অনেকেই যে ব্যর্থ হয় তার পেছনের নিশ্চিত কারণ হলো, তাদের আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত ভোতা ভাবটি।
একজন ব্যবসায়ী নির্বাহী আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি যখন কোন অবস্থায় কোন কিছুর জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তখন মানবীয় মস্তিষ্কের জরুরী ক্ষমতার উপরই তিনি নির্ভর করে থাকেন। এ তার একটি বলিষ্ঠ সজ্ঞা যে, মানব জাতি যে বাড়তি ক্ষমতার অধিকর্তা জরুরী অবস্থায় সেই ক্ষমতাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের পর দিন বেঁচে থাকার জন্য জীবনের যে স্বাভাবিক পরিচালনা আমরা করি, সেখানে এই জরুরী ক্ষমতা সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু অনন্য সাধারণ পরিস্থিতিতে কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে তিনি এই বাড়তি শক্তিকে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য তলব করতে পারেন।
একজন ব্যক্তি যিনি তার কাজ করার বিশ্বাসকে উন্নীত করতে পারেন তবে তিনি তার এই সুপ্ত শক্তিকে সুপ্ত থাকতে দেন না, কিন্তু তার বিশ্বাস অনুপাতে সাধারণ কাজের সাথে সম্পর্কিত সকল অবস্থায় সেই সুপ্ত ক্ষমতার অনেকখানি তিনি কাজে লাগাতে পারেন। এই প্রক্রিয়া এটাই ব্যখা করে যে, কেন কিছু লোক তাদের সংকটের সময় এবং নিত্যদিনের প্রয়োজনে এই বৃহত্তর শক্তিকে অন্য কিছু অপেক্ষা নিশ্চিত প্রমাণ করে থাকে। এই ক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় সময়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে তারা একটি সাধারণ অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছেন অথচ একসময় নাটকীয়ভাবে প্রয়োজন ছাড়া তারা একে ভালোভাবে চিনত না বা জানত না।
যখন একটি কঠিন সমস্যা ঘাড়ের উপর এসে পড়ে, তখন তাকে কেমন করে মোকাবিলা করতে হয় আপনার তা জানা আছে কি? অদ্ভুত অস্বাভাবিক কঠিন সমস্যা যখন প্রচণ্ড আক্রমণে আপনাকে একেবারে ধরাশায়িত ফেলে তখন তা সমাধানের পরিষ্কার সজ্ঞায়িত পরিকল্পনা আপনার নাগালের মধ্যে আছে কি? অনেক মানুষই 'হলে হলো না হলে না হলো' পদ্ধতি প্রয়োগ এগোতে চায়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক বেশি এবং বার বার ব্যর্থ হন তারা
সমস্যা সমাধানে আপনার বৃহৎ শক্তি-ক্ষমতাকে ব্যবহার করার পরিকল্পনার গুরুত্বকে আমি জোর দিয়ে সমর্থন করতে পারি না।
এই যে সমস্যা সমাধান পদ্ধতি এর সাথে দু-তিনটি প্রার্থনা যা 'বিধাতার কাছে আত্মসমর্পণ' কৌশল সমৃদ্ধ এবং যা হবে বিধাতার সাথে অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠার মত এবং এর সাথে আপনার সেই আভ্যন্তরীণ ও জরুরী ক্ষমতা শক্তির সদ্ব্যবহার, এবং এর সাথে আরও একটি বিস্ময়কর কৌশল আপনার সংযোজন করা প্রয়োজন তা হলো, বিশ্বাস প্রযুক্ত মনোভাবের অনুশীলন বজায় রাখা।
মনে রাখতে হবে স্বাভাবিক বিশ্বাস যখন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয় জয় তখন অনিবার্য।
অনেক বছর আগে আমি যখন বাইবেল পড়ি তখন তা ভোরের আলোর মতই আমার মনকে উদ্ভাসিত করে তোলে এবং আমাকে যেন তা এ কথাই বলে যে, যদি আমার বিশ্বাস থাকে এবং যদি সত্যি সত্যিই তা থাকে তবে আমি আমার সমস্ত কষ্ট ভোগান্তি জয় করতে পারব, যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব। প্রতিটি পরাজয়ের উপর আধিপত্য করতে পারব, এবং আমার জীবনের সমস্ত জটিল সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে পারব। যে দিনটিতে আমার মনটি প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত হয়েছিল সেদিনটি আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি যদিও সেরাতম দিনটির হয়ত এখনো দেখা পাইনি। নিঃসন্দেহে অনেকের এ বইটি পড়বে যারা বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বাস শক্তির কোন ধারণাই যাদের হয়নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সেই ধারণাটি এখন আপনি পাবেন, কারণ বিশ্বাস কৌশলটি প্রশ্নাতীতভাবে এ দুনিয়াতে বিরাজমান অনেক সত্যের মধ্যে একটি শক্তিশালী সত্য, যে সত্য মানুষের জীবনকে স্বার্থকভাবে পরিচালনা করছে।
বাইবেলে সত্যের উপর বার বার জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি তোমার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও থাকে, তবে তোমার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না।” (মথি xviii, 20) বাইবেল একে সম্পূর্ণ ব্যক্ত করেছে। এটা বিভ্রম সৃষ্টি হবার মত কিছু একটা নয়, কল্পনাজনক কিছুও নয়। এটা সচিত্র ব্যাখ্যাও নয়, কোন প্রতীক ও নয়, কোন রূপক উপমা কাহিনী ও নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য ভিত্তিক ঘটনা- 'বিশ্বাস, এমনকি যদি একটি সরিষা দানার মতও হয়,' তাতেও আপনার সমস্যাসমূহ সমাধান হবে, আপনার যে কোন সমস্যা, আপনার যাবতীয় সমস্যা, শুধু যদি আপনি তা বিশ্বাস করেন এবং বিশ্বাসের অনুশীলন করেন আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি তা ফলপ্রসু হবে।” (মথি xviii, 29) প্রয়োজন হলো বিশ্বাসের, এবং সরাসরি আপনার বিশ্বাস অনুপাতে যতটুকু আপনার আছে, এবং যতটুকু তা প্রয়োগ করেন তেমন এবং ততটুকু ফলই আপনি পাবেন। অল্প বিশ্বাস আপনাকে অল্প ফলই দিবে, মধ্যম বিশ্বাস আপনাকে মধ্যম ফলই দেবে, বড় বিশ্বাস আপনাকে বড় ফলই দেবে। কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহানুভবতার প্রতীকিরূপে একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও আপনার থাকে, তবে আপনর সমস্যা সমাধানে তা বিস্ময়কর ফল দেবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আমার বন্ধু মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টের রোমাঞ্চকর কাহিনী বলছি শুনুন। আমার আগের বই, A Guide to Confident living, যখন সংক্ষিপ্ত কলেবরে Liberty magazine এ প্রকাশিত হচ্ছিল তখন আমি তাদের সাথে পরিচিত হই। ঐ সময়টাতে মেরিচ ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং খুব খারাপ ভাবে। তিনি যে শুধু তার কাজেই ব্যর্থ হচ্ছিলেন তা নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ভয় এবং বিরক্তিতে ভরে গিয়েছিল তার মন এবং এ যাবৎ আমি যত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন নেগেটিভ ব্যক্তি।
সুন্দর ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর হৃদয়ে সজ্জিত চমৎকার এক লোক ছিলেন তিনি, কিন্তু তিনি নিজে একথা স্বীকার করেছেন যে, তার জীবনটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।
আমার সংক্ষিপ্ত আকারে বইটি তিনি পড়েছেন, যে বইটতে 'সরিষা-দানা বিশ্বাসের' কথা খুব জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এই সময়টাতে তিনি তার পরিবারের সাথে ফিলাডেলফিয়াতে ছিলেন, দু ছেলে এবং তার স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট পরিবার। নিউইয়র্কে আমার গীর্জায় ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু কোন কারণে তিনি আমার সেক্রেটারীর সাথে যোগাযোগ করেননি। আমি এটা উল্লেখ করছি এটাই দেখাবার জন্য যে, ইতোমধ্যে তার মন মানসিকতা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছিল, কারণ স্বাভাবিকভাবে তিনি কখনও দ্বিতীয়বার আমাকে ডাকেননি, কারণ একটি দুর্বল চেষ্টা চালানোর পর সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দেয়া ছিল তার করুণ অভ্যাস স্বরূপ ব্যাপার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং গীর্জার প্রার্থনার সময় সূচীর সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধ্যবসায় সহকারে অপেক্ষা করেছেন। পরবর্তী রবিবার তার পরিবারকে নিয়ে তিনি সেই ফিলাডেলফিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্কে এসে গর্জিায় হাজির হয়েছেন, এবং বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও তিনি তার এই গীর্জায় আসা নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের পুরো ইতিহাস আমাকে শুনিয়েছেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তিনি নিজে কিছু করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে আমি কিছু ভেবেছি কিনা তার টাকা পয়সার সমস্যা, ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ঋণ সম্পর্কে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এবং প্রধানত তার নিজের সম্পর্কে যা ছিল খুবই জটিল এবং কষ্টে তিনি এতই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি তার এই অবস্থাকে একেবারেই আশাহীন অবস্থা বলে ধরে নিয়েছিলেন।
আমি তাকে এই বলে আশ্বস্ত করলাম যে, যদি তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তার মনকে সরল করেন এবং তার মনোভাবকে ঐশী চিন্তার ধরণের সাথে সমন্বিত করেন এবং যদি তার বিশ্বাসের কৌশলকে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে তার সব সমস্যারই সমাধান হবে।
তার এবং তার স্ত্রীর মনোভাব একই রকম, কিন্তু তাদের মন পরিষ্কার করতে হবে এবং মন থেকে বিরক্তি ভাবটা দূর করতে হবে। তারা ছিলেন সবার কাছে বুদ্ধিহীন উন্মাদের মত এবং কিছু লোকের কাছে আসলেই উন্মাদ বলে গণ্য হয়েছেন। তারা তখন নিরানন্দ একটা অবস্থার মধ্যে ছিলেন, তাই তাদের রূগ্ন চিন্তা কারণ ছিল তাদের এই অবস্থা, তাদের কাজে ব্যর্থতার জন্য নয়, কিন্তু অন্য লোকজনের নোংরা ব্যবহারের জন্যে। তারা আসলে রাতে শোবার সময় পরস্পর বলাবলি করতে যে, তারা কীভাবে কি বলে অন্যদের অপমানিত করবে। এ ধরনের অসুস্থ পরিবেশে তারা ঘুমাতে এবং বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাতে সাফল্যজনক কোন ফল তারা লাভ করতেন না।
মেরিচ ফ্লিন্ট প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বাস ধারণাটি মনে প্রাণে গ্রহণ করেছিলেন। এ ধারণাটি তাকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলো যে, আগে কখনও কোন কিছু তাকে এমন চেপে ধরেনি।
তার প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল, অবশ্যই তার ইচ্ছাশক্তি ছিল অসংগঠিত। কোন রকম ক্ষমতা বা শক্তি ছাড়াই তিনি প্রথমে চিন্তা করতেন এবং তা হয়েছে তার দীর্ঘদিনের হতাশাজনক অভ্যাসের কারণে, কিন্তু এখন তিনি এটা চেপে ধরেছেন নাছোড়বান্দার মত এমনকি মরিয়া হয়ে, এবং ঐ ধারণাকে সমানে রেখে যে, যদি তোমার 'একটি সরিষা দানার মতও বিশ্বাস থাকে, তবে তোমার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।' কিসের বলে তিনি বিশ্বাসে এমন নিমগ্ন হলেন। অবশ্যই, তার সাধ্যমত যতটা বিশ্বাস অনুশীলন তিনি করেছেন, সে অনুসারেই তার বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করেছে।
একদিন তিনি রান্নাঘরে গেলেন, ঐ সময় তার স্ত্রী সেখানে থালা বাসন ইত্যাদি ধোয়া মোছা করছিলেন। তিনি বললেন, “বিশ্বাস ধারণাটি রবিবার গীর্জায় অনুশীলন করা বেশি স্বাচ্ছন্দজনক, কিন্তু আমি এই ধারণাটি মনে পোষণ করতে পারছি না। এটা অনেকটা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছিলাম যদি একটি সরষে দানা পকেটে বহন করতে পারতাম, তবে দুর্বল মুহুর্তে আমি তা অনুভব করতে পারতাম এবং তা আমাকে বিশ্বাস ধারণ করতে সাহায্য করত। তিনি তখন তাকে জিজ্ঞাস করলেন, “আমাদের ওরকম একটি শস্য দানা আছে নাকি, অথবা ঐরকম কিছু ঠিক বাইবেলে যা বর্ণনা করা হয়েছে? আজই সরিষা দানা আমাদের ঘটিতে পাওয়া যাবে কি?
তিনি হাসলেন এবং বললেন, “একটি আধারে কিছু সরষে দানা আছে।” তিনি খুঁজে একটি সরষেদানা বের করলেন এবং তাকে দিলেন। মেরী এলিচ বললেন, “মেরিচ তুমি কি জান না, যে তোমার আসলে সত্যিকার একটি সরষে দানার প্রয়োজন নেই। ওতো একটি ধারণার প্রতীক বৈত নয়।” জবাবে তিনি বললেন, “ও সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা।" বাইবেলে সরিষা দানার কথা বলা হয়েছে, এবং আমি সেই সরিষা দানাই চাই। হতে পারে যে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতীক আমার প্রয়োজন।"
হাতের তালুতে নিয়ে তিনি সরষে দানাটির দিকে তাকালেন এবং বিস্ময়ের সাথে বললেনঃ এইটুকু বিশ্বাস যা আমার প্রয়োজন এই কি যথেষ্ট ছোট্ট এই সরিষা দানার সমপরিমাণ দানাটি হাতের তালুতে ধরে দেখতে থাকলেন; এবং তারপর তা পকেটে ভরে রাখলেন, বললেনঃ "যদি দিনে এর উপর আমার আঙ্গুল ও পড়ে তবুও আমার বিশ্বাস সৃষ্টির কাজে তা সাহায্য করবে।” কিন্তু সরিষা দানাটি এতই ছোট ছিল যে তিনি অচিরেই তা হারিয়ে ফেললেন, এবং আবার গেলেন সেই আচারের পাত্র থেকে আরেকটি দানা সংগ্রহের জন্য, শুধু এটাও হারাবার জন্য যেন। একদিন যখন আরেকটি দানা তার পকেট থেকে হারিয়ে গেল, ঠিক তখন ধারণাটি তার মনে স্পষ্ট উদিত হলো যে, কেন তিনি সরিষা দানাটি একটি প্লাষ্টিকের বলের ভেতর রাখেননি? তিনি বলটি তার পকেটে বহন করতে পারতেন। অথবা সার্বক্ষণিকভাবে তার ঘড়ির চেইনের উপর রাখতে পারতেন। যাতে তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও তার আছে, কাজেই তার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।'
একজন প্লাষ্টিক বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করলেন তিনি এবং জানতে চাইলেন কীভাবে একটি সরষেদানা প্লাষ্টিক বলের ভিতর ঢোকানো যেতে পারে এবং তা বের হয়ে যাবে না। বিশেষজ্ঞ বললেন, এটা করা সম্ভব নয় কারণ কোনদিন তেমন করা হয়নি এবং তার মোটেও কোন যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল না।
ইতোমধ্যে ফ্লিন্টের যথেষ্ট বিশ্বাস জন্মেছিল এ কথা বিশ্বাস করার জন্য যে, এমনকি যদি তার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকত তবে তিনি একটি সরিষা দানা প্লাষ্টিক বলে রাখতে পারতেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন, এবং কয়েক সপ্তাহ এর পেছনে লেগে থাকলেন, এবং চূড়ান্তভাবে সাফল্য লাভ করলেন। তিনি কয়েকটি রত্নাদির পোষাক তৈরি করলেন: হার, বো-পিন, চাবির চেইন, ব্রেচলেট এসব তৈরি করলেন এবং আমার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। ওগুলো খুবই সুন্দর হয়েছিল, এবং প্রত্যেকটির উপর পরিষ্কার এবং বৃত্তাকার কিছুর মধ্যে সরিষা দানা শোভা পাচ্ছিল। প্রত্যেকটির সাথে একটি করে কার্ড সেটে দেয়া হয়েছিল যার উপর লিখা ছিল, 'সরিষা দানা স্মরণে।' কার্ডে এও বলা হয়েছিল, কিভাবে এসব রত্নাদির ব্যবহার করা হবে; কিভাবে সরিষা দানা ব্যবহারকারীর মনে করিয়ে দেবে যে যদি তার বিশ্বাস থাকে, তবে তার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এসব বিক্রিয় দ্রব্য হিসেবে কোন চিন্তা ভাবনা করেছি কিনা। আমার একটু সন্দেহ ছিল। আমি তা স্বীকার করব, এবং লিখাগুলো গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের সম্পাদকের সাথে আলাপ করার জন্য গ্রেস আওয়ারস্মারকে দেখালাম। মহিলাটি ঐ রত্নখচিত শিখগুলো আমাদের পরস্পরের বন্ধু, মিঃ উয়াল্টার হোভিং বনউইট টেলার ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রেসিডেন্ট, দেশের সবচেয়ে বড় মাপের একজন কার্যনির্বাহী, তাকে দেখাতে নিয়ে গেলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ এই পরিকল্পনাটির একটি সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। আমার বিস্মিত হবার এবং আনন্দিত হবার বিষয়টি কল্পনাকরে দেখুন, যখন দেখলাম কয়েকদিন পরে নিউয়র্কের পত্রিকাগুলোতে দুই কলামের একট বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে, তাতে লিখাঃ 'বিশ্বাসের প্রতীক'-সত্যিকারের একটি সরিষাদানা ঝকঝকে কাঁচের ভেতর স্থাপন করে সঠিক অর্থ সম্বলিত একটি ব্রেচলেট তৈরি করা হয়েছে, এবং বিজ্ঞাপনে শাস্ত্রবানীর একটি পাঠ্যাংশ তুলে দেয়া হয়েছেঃ "যদি তোমাদের একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকে....
তবে তোমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু থাকবে না।” (মথি xvii.20) এই লিখাগুলো গরম কেকের মতই বিক্রি হয়েছিল। এখন দেশের শত শত এবং বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো এবং দোকানগুলো যারা ঐ রকম কঠিন সমস্যায় পড়েন তারা সবাই ঐ বাণী সমৃদ্ধ অলংকার গুলো সংরক্ষণ করে রাখেন।
মি: এবং মিসেস ফ্লিন্টের মধ্য পশ্চিম শহরে 'সরিষা দানা স্বারক' উৎপাদনের একটি কারখানা আছে। কৌতূহলজনক সন্দেহ নেই, তাই একজন ব্যর্থ মানুষ গীর্জায় যান, বাইবেলের বাণী শুনেন (অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থেও তা সম্ভব) এবং ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবসার দ্বার খুলে যায় তার জন্য। সম্ভবত বাইবেল সহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো আপনাদের একাগ্রচিত্তে পাঠ করা উচিৎ, উপাসনালয়ে ধর্ম উপদেশগুলো ও মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা প্রয়োজন। সম্ভবত তাতে আপনি শুধু যে আপনার জীবন পূর্ণগঠনের সঠিক ধারণা খুঁজে পাবেন তাই নয়, কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির ধারণাও আপনি খুঁজে পাবেন।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস শিল্প উৎপাদনকারীর এবং উৎপন্ন দ্রব্যের উভয় পক্ষের ব্যবসাই উন্নতি লাভ করেছে এবং তা হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধন করবে তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যাপারটি যেহেতু জনপ্রিয় এবং কার্যকর তাই অন্যরাও এগুলোর কপি তৈরি করেছেন, কিন্তু ফ্লিন্টের 'সরিষা দana স্মারক' হলো সর্বাপেক্ষা মূল উৎপাদক। বিশ্বাসের সেই ছোট্ট ছকটি প্রয়োগ করে যাদের জীবনে অদ্ভুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তা এই নব প্রজন্মে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একটি আধ্যাত্মিক কাহিনী। কিন্তু মিঃ মেরিচ এবং মেরী এলিচের উপর বিশ্বাস শক্তির প্রভাব যেভাবে কাজ করলো অর্থাৎ তাদের জীবনের যে পরিবর্তন হলে, তাদের চরিত্র পরিবর্তিত হলো। ব্যক্তিত্বের জটিলতা থেকে তারা যে মুক্তি লাভ করলো এতো বিশ্বাস্য শক্তির রীতিমত রোমাঞ্চকর প্রমাণ স্বরূপ। তারা কিন্তু এখন আর নেগেটিভ চরিত্রের নয়, তারা এখন পজিটিভ চরিত্রের মানুষ। তারা এখন আর পরাজিত নন, তারা এখন জয়ী ব্যক্তিত্ব। তারা এখন আর কাউকে ঘৃণা করেন না। তারা ক্রোধ, বিদ্বেষ এসবকে জয় করেছেন এবং তাদের হৃদয় এখন ভালোবাসায় পূর্ণ। তারা এখন নতুন দৃষ্টি ভঙ্গিতে, নতুন জ্ঞান শক্তিতে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের মানুষ। আমার জানা মতে তারা দু'জন সবচেয়ে অনুপ্রেরণাকারী ব্যক্তিত্ব।
যদি মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টকে জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে সমস্যার সঠিক সমাধান করা সম্ভব? জবাবে তারা আপনাকে বলবেন- 'বিশ্বাস ধারণ করুন- হ্যাঁ সত্যিই বিশ্বাস ধারণ করুন।' এবং আমাকে বিশ্বাস করুন, যে তারা জানেন বিশ্বাস কিভাবে ফলবান হয়।
যখন এ কাহিনী আপনি পড়ছেন যদি তখন আপনি নিজে নেগেটিভলি বলেন (এবং তা যদি নিগেটিভ ফলই দিতে থাকে), ফ্লিন্টযুগল আমার মত অত বাজে ভাবে তা ছেড়ে দিত না; আমি আপনাদের বলতে চাই যে, কদাচিৎ আমি ফ্লিন্টদের মত কাউকে অমন বাজে ভাবে হাল ছেড়ে দিতে দেখেছি। আমি আপনাদের আরও বলতে চাই যে, আপনার পরিস্থিতি যেমনই মরিয়া হোক না কেন আপনি ঐ চারটি কৌশল, যেগুলো এই অধ্যায়ে বর্ণিত হল তা যদি প্রয়োগ করেন, ফ্লিন্ট যুগল যেমন করলেন, তা হলে আপনিও, আপনার সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
এই অধ্যায়ে আমি সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখাবার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য দশটি বাস্তব কৌশল সম্পর্কে আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই:
১. একথা বিশ্বাস করুন যে প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি সমাধানের পথও অবশ্যই আছে।
২. শান্ত থাকুন। 'দুশ্চিন্তা' চিন্তাশক্তির প্রবাহ পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
৩. কোন জবাব খুঁজে পাবার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না। মনকে শিথিল রাখুন যাতে সমাধানের দার সহজেই খুলে যেতে পারে এবং জটিলতা পরিষ্কার হতে পারে।
৪. সমস্ত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে, নৈর্ব্যক্তিকভাবে এবং বিধিবদ্ধভাবে জড়ো করুন।
৫. এসব ঘটনা কাগজে লিখে তালিকাবদ্ধ করুন। এতে আপনার চিন্তা পরিষ্কার হবে, বিভিন্ন রকম উপকরণ একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনতে সাহায্য করবে। যেমন চিন্তা করছেন ওভাবে দেখতেও শিখুন। সমস্যা তখনি শুধু কাল্পনিক কিছু নয়, কিন্তু বাস্তব।
৬. আপনার সমস্যা নিয়ে প্রার্থনা করুন, নিশ্চিত ভাবে বিধাতা আপনার মনে আলোকপাত করবেন।
৭. ৭৩ নং সাম সংগীতে বিধাতার পথ প্রদর্শনের প্রতিজ্ঞার কথা বিশ্বাস করুন এবং তা যাচনা করুন: "তুমি তোমার পরামর্শ দিয়ে আমাকে পথ দেখাও।”
৮. অন্তর্দৃষ্টি এবং মনের স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানে আস্থা রাখুন।
৯. গীর্জা, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে যান (যার যার ধর্ম অনুসারে) এবং আপনার সমস্যা নিয়ে অবচেতন মনে যে চিন্তা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তা আরাধনার ভাবের সাথে সমন্বিত করুন। সৃজনশীল আধ্যাত্মিক চিন্তনের সঠিক 'উত্তর পেয়ে দেবার বিস্ময়কর শক্তি আছে।
১০. এসব পদক্ষেপ আপনি যদি বিশ্বাসের সাথে অনুসরণ করেন তবে তখন যে সদুত্তর আপনার মনে পরিপক্কতা লাভ করেছে, অথবা বাস্তবায়িত হবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সেটাই হলো আপনার সমস্যার সঠিক উত্তর।

আমি আপনাদের কিছুসংখ্যক সৌভাগ্যবান মানুষের কথা বলতে চাই, যারা এদের নিজেদের নানারকম সমস্যা সমাধানের সঠিক উপায় খুঁজে পেয়েছিলেন।
তারা একটি সাধারণ কিন্তু উচু মানের বাস্তব পরিকল্পনা অনুসরণ করেছিলেন এবং প্রতিটি বিষয়ে এর ফল দাঁড়িয়েছিল সুখকর এবং সাফল্যপূর্ণ। কোনভাবেই এ লোকগুলো আপনাদের থেকে আলাদা কিছু ছিল না। আপনাদের যে সমস্যা এবং কষ্ট ভোগ আছে, তাদেরও ঠিক তেমনই ছিল, কিন্তু সে সব কঠিন প্রশ্নের মোকাবিলা তারা করেছিলেন। তার সঠিক উত্তর খুঁজে পাবার জন্য একটি সাহায্যকারী সূত্র তারা পেয়েছিলেন। সেই একই সূত্র প্রয়োগ করে একই রকম ফলাফল আপনারাও পেতে পারেন।
প্রথমে এক স্বামী-স্ত্রী যুগলের কাহিনী আমি শোনাবো আপনাদের। তারা আমার দীর্ঘ দিনের বন্ধু। বহু বছর ধরে 'বিল' অর্থাৎ স্বামী লোকটি কঠোর পরিশ্রম করতে থাকলো যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে তিনি তার কোম্পানীর মইয়ের একেবারে সর্বোচ্চ ধাপের পূর্ব ধাপ পর্যন্ত না পৌঁছলেন। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সভাপতির পদ লাভের জন্য তিনি সারিতে অপেক্ষমান ছিলেন এবং নিশ্চিত অনুভব করেছিলেন যে, বর্তমান সভাপতির অবসর গ্রহণের পর তিনিই ঐ পদের দিকে বাড়াবেন।
কেন তাঁর আকাঙ্খা প্রতিবন্ধকতা মুক্ত হবে না? তাঁর পেছনে কোন সুস্পষ্ট কারণ ছিল না, কারণ তাঁর সামর্থের দ্বারা, অনুশীলন এবং অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়গুলোতে তিনি বিশেষ শিক্ষা লাভ করেছিলেন। তাছাড়া তার এমন বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল যে, তিনি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেনই।
যাহোক শেষ পর্যন্ত ঐ পদটির জন্য অন্য লোক নিয়োগ করা হয় তাকে পাশ কাটিয়ে। খালি পদটি পূর্ণ করার জন্য বাইরে থেকে লোকটিকে আনা হয়।
আঘাতটি তার উপর নেমে আসার ঠিক পরক্ষণেই আমি শহরে এসে পৌঁছি। তার স্ত্রী মেরী বিশেষভাবেই শত্রুতাপরায়ন মনোবৃত্তি নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলেন। রাতে খাবারের সময় খুব তিক্ত মন নিয়ে তিনি সবকিছু আমাদের বললেন যে, কর্তৃপক্ষকে তিনি একথাগুলো বলতে চান। তীব্র হতাশা, লজ্জা, নৈরাশ্য সবকিছু একসাথে জ্বলন্ত রূদ্ররোষে ফেটে পড়ে এবং তার স্বামী এবং আমার উপর তা উদ্ধার করতে থাকেন।
কিন্তু অন্যদিকে বিল একেবারে শান্ত। সুস্পষ্টত: তিনি আঘাতপ্রাপ্ত, আশাহত এবং কিংকর্তব্যবিমুঢ়, তবুও বিষয়টি তিনি সাহসের সাথে গ্রহণ করেছেন।
আবশ্যিকভাবেই একজন ভদ্রলোক হওয়াতে এটা বিস্মিত হবার মত কিছু ছিলনা যে তিনি রাগান্বিত হতে পারেননি অথবা চরম প্রতিক্রিয়াশীল হওয়াও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। মেরি চেয়েছিল তার স্বামী অবিলম্বে চাকুরিতে ইস্তফা দিক। তিনি তাকে বিশেষ জোরের সাথেই বলেছিলেন, কর্তৃপক্ষকে কিছু কথা শুনিয়ে কাজে ইস্তফা দিতে। তাকে দেখে মনে হয়েছিল যে তিনি তেমন কাজ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন, উল্টো তিনি বলেছিলেন যে, সম্ভবত নতুন লোকটির সাথে কাজ চালিয়ে যাওয়া এবং তাকে যেকোন ভাবে সাহায্য করাই সবচেয়ে ভালো হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন।
এ ধরণের মনোভাব খুব কষ্টকর একথা সবাই স্বীকার করবেন, কিন্তু তিনি কোম্পানীর হয়ে অনেকদিন কাজ করেছেন তাই অন্য কোথাও কাজ করে তিনি খুশি হতে পারবেন না, এবং তাছাড়া তিনি অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, এই দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে কোম্পানী তাকে কাজে লাগাতেই পারে।
তখন তার স্ত্রী আমার দিকে ফিরে বললেন যে, এখানে আমি হলে কি করতাম? আমি তাকে বললাম যে তিনি যা ভালো মনে করছেন আমিও তাই করতাম, নিঃসন্দেহে হতাশবোধ করতাম এবং আঘাতও পেতাম, এবং তার এই ধীরে চলার নীতিকে যাতে ঘৃণা করা না হয় সে চেষ্টা ও করতাম, কারণ তীব্র ঘৃণা শুধু যে আত্মাকে ক্ষয় করে তাই নয়, চিন্তন পদ্ধতিকেও সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল করে ফেলে।
আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম, আমাদের এখন যা দরকার তা হলো 'ঐশ্বরিক দিক নির্দেশনা' এই অবস্থায় তা আমাদের সমস্ত জ্ঞানের উর্ধ্বে। এই সমস্যাটির মধ্যে আবেগজনিত এমন এক পরিতৃপ্তি আছে যে আমরা হয়ত অনেক লক্ষ্য নিয়ে এবং যুক্তিসংগতভাবে কোন কিছু ভাবতে অক্ষম হয়ে পড়েছিলাম।
কাজেই আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আসুন আমরা কয়েকটি মিনিট নীরবতায় কাটাই, কেউ কিছু বলব না আমরা, শান্ত মনে বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রার্থনার মনোভাব নিয়ে বসে থাকব আমরা, আমাদের সমস্ত ভাবনাগুলো সেই বিশেষ একজনের দিকে ফিরিয়ে দেব যিনি বলেছেন: “যখন দুজন কি তিনজন আমার নামে একত্রিত হয়, সেখানে তাদের মধ্যে আমি উপস্থিত থাকি।” (মথি xviii 18-20)
সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে বললাম, আমরা এখানে তিনজন মানুষ, এবং আমরা যদি সেই মহান শক্তির উপস্থিতি তার নামে এখানে নিশ্চিত করতে চাই তবে, আমাদের শান্ত করার জন্য তিনি আমাদের মাঝে উপস্থিত থাকবেন আমাদের সঠিক পথ দেখাবার জন্য।
মনের যে ভাবের জন্য নিজেকে উপযোগী করে তুলতে তার স্ত্রীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছিল, তা তার পক্ষে সহজ কাজ ছিল না, কিন্তু মূলত তিনি একজন বুদ্ধিমতি, এবং সুন্দর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মহিলা ছিলেন। আর আমার পরিকল্পনাটির সাথে নিজেকে যুক্ত করেছিলেন তিনি।
অবিলম্বে, নীরব কয়েকটি মিনিট কেটে যাবার পর, আমি পরামর্শ দিয়ে বললাম যে, আমরা এখন হাত ধরাধরি করে দাঁড়াবো, এবং যদিও আমরা সাধারণ মানুষের একটি রেস্তোরায় ছিলাম তারপরও আমি সিদ্ধান্ত নিলাম যে, নীরবে শান্তভাবে একটি প্রার্থনা করব। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমি পথ নির্দেশনা যাচনা করলাম। বিল এবং তার স্ত্রীর মনের শান্তির জন্য অনুরোধ করলাম এবং আরও সামনে বেড়ে এমনকি নব নিযুক্ত কর্মচারীর জন্য ঐশী আশীর্বাদও যাচনা করলাম। আমি আরো ও প্রার্থনা করলাম, যাতে নতুন প্রশাসনের সাথে বিল নিজেকে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারে এবং আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
প্রার্থনা শেষে আমরা কয়েক মিনিট নীরব কাটালাম, তারপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিলের স্ত্রী বললেন: হ্যাঁ, আমি অনুমান করছি এভাবেই কাজটি করতে হবে। যখন আমি জানতে পারলাম আপনি আমাদের সাথে নৈশভোজ খেতে আসছেন তখনি আমি ভয়ের মধ্যে ছিলাম এই ভেবে যে, আপনি বুঝি এ বিষয়ে আমাদের খ্রীষ্ট ধর্মমতে অবস্থান নিতে বলবেন। খোলাখুলিই বলছি, আমি আসলে ঐ ভাবে বিষয়টি অনুভব করিনি। মনে মনে সেদ্ধ হচ্ছিলাম আমি, কিন্তু অবশ্যই এটা অনুধাবন করতে পারছিলাম যে, এই সমস্যার সঠিক উত্তর এই পদ্ধতিতেই পাওয়া যাবে। আমি প্রগাঢ় বিশ্বাসের সাথে চেষ্টা করে দেখব, তা যত কষ্টকরই হোক না কেন।
মলিন হাসি হাসলেন তিনি, কিন্তু বিদ্বেষ এখন আর তার মুখাবয়বে দেখা গেল না।
সময় সময় আমি আমার বন্ধুদের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি এবং তাতে দেখা গেছে যে, তাদের আকাঙ্খা অনুসারে পুরোপুরি যতক্ষণ না পূর্ণ হয়েছে, তখন থেকেই ক্রমে ক্রমে তারা সুন্দরভাবে সন্তুষ্ট হতে শুরু করেছে এই নতুন ধরণের আয়োজনের মধ্য দিয়ে। তারা তাদের হতাশা এবাং বিদ্বেষ ও জয় করতে সক্ষম হয়েছে। এমন কি নিজেও গোপনে আমাকে বলেছেন যে, তিনি নুতন লোকটিকে পছন্দ করেছেন এবং তার সাথে কাজ কর্ম করতেও তার আনন্দই লাগছে। তিনি আমাকে বলেছেন যে নতুন সভাপতি সাহেব তাকে প্রায়ই ডেকে নিয়ে নানা পরামর্শ করেছেন এবং তাঁর মনে হয়েছে যে, তিনি তাঁর উপর নির্ভর করছেন।
অন্যদিকে মেরিও প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর সাথে হৃদ্যতা পূর্ণ সম্পর্ক গড়ে নিয়েছেন এবং প্রকৃতপক্ষে তারা দুজনে পারস্পারিক সহযোগীতার ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ একটি অবস্থায় এসেছিলেন।
এভাবে দুবছর কেটে গেল। একদিন আমি তাদের শহরে এসে ফোন করলাম তাদের।
“ওঃ, আমি খুবই উত্তেজিত হয়ে আছি, আমার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, উচ্ছসিত মেরি বললেন। আমি মন্তব্য করে বললাম যে, যা কিছু তার মনকে এমন অবস্থায় নিয়ে এসেছে তা অবশ্যই অসাধারণ গুরুত্ব বহন করে।
এই উক্তিকে অস্বীকার করে তিনি সজোরে বলে উঠলেনঃ "ওহ! সবচেয়ে বিস্ময়কর যা ঘটেছে তা হলো, মি: অমুক,” অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের নাম, "অন্য একটি বড় কোম্পানী তাকে বিশেষ একটি কাজের জন্য বড় প্রমোশন দিয়ে আমাদের কোম্পানী থেকে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এবং” -একটু ভঙ্গিমা করে প্রশ্ন করলেন- "অনুমান করেন তো ব্যাপারটি কি? বিলকে কোম্পানীর নতুন সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি এখানে চলে আসুন এবং আমরা তিনজন একসাথে বিধাতাকে ধন্যবাদ দেব।”
পরে যখন আমরা একত্রে বসলাম, বিল বললেন: “আপনি জানেন কি, আমি অনুধাবন করতে শরু করেছি যে খ্রীষ্টধর্মটি মোটেও কাল্পনিক কিছু নয়। আধ্যাত্মিকভাবে বৈজ্ঞানিক নীতিনির্ভর সজ্ঞা অনুসরণ করে আমরা একটি সমস্যার সমাধান করেছি। সভয় শিহরণে আমি ভাবছি,” তিনি বললেন "এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য খ্রীষ্টীয় শিক্ষার মধ্যে যে সূত্রটি রয়েছে তাকে অনুসরণ না করলে আমরা কত ভয়ানক ভুলটি করতাম।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "খ্রীষ্ট ধর্ম ব্যবহারিক নয় এমন নির্বোধের মত ধারণার জন্য দায়ী কে? তিনজনে মিলে যেভাবে এই সমস্যাটি সমাধান করলাম, জীবনে আবার যদি কখনও কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে সেই সমস্যাকে আমি এভাবেই আঘাত করব।”
এমনিভাবে বেশ কয়েক বছর চলে গেল, এবং মেরিও বিলের জীবনে আরো যেসব সমস্যা এসেছিল, সেগুলো সমাধান করতে তারা একই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন, একই রকম ফলাফল তারা লাভ করেছিলেন। 'সমস্যাকে বিধাতার হাতে সমর্পণ কর' এই পদ্ধতির দ্বারা তাদের সমস্যার সঠিক সমাধান লাভ করতে শিখেছিলেন।
সমস্যা সমাধানের আরেকটি কার্যকর পদ্ধতি হলো, বিধাতাকে আপন সমস্যায় অংশীদার হিসেবে ধারণা করা। বাইবেল এবং অন্যান্য শাস্ত্রেও বর্ণিত অনেক ধারণার মধ্যে একটি হলো যে, বিধাতা আমাদের সাথেই বিরাজমান। প্রকৃতপক্ষে খ্রীষ্টধর্মের মধ্যেও দেখা যায় যে, এমন একটি ধারণা দিয়ে শুরু, তা হলো যখন খ্রীষ্টের জন্ম হয় তখন তাকে বলা হয়েছিল ঈমানুয়েল; অর্থাৎ বিধাতা আমাদের সাথে।
খ্রীষ্ট ধর্ম এবং অন্যান্য প্রায় সকল ধর্মেই এমন শিক্ষা দেয় যে, মানুষের সমস্ত ভোগান্তির সময়, তাদের সমস্যায় এবং জীবনের সার্বিক পরিস্থিতিতে বিধাতা আমাদের কাছে কাছেই থাকেন। আমরা তার সাথে কথা বলতে পারি, তার উপর নির্ভর করতে পারি, তার কাছ থেকে সাহায্য পেতে পারি, এবং অপরিমিত লাভজনক কিছু ও তার ইচ্ছার কাছ থেকে আমরা পেতে পারি, পেতে পারি তার সহযোগিতা।
বাস্তবিকভাবে সবাই সাধারণত এটাই বিশ্বাস করে যে, বিষয়ট সত্যি এবং অনেকেই এই সত্যের বিষয় অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আপনার সমস্যায় সঠিক সমাধান পেতে হলে আপনার বিশ্বাসের চেয়ে একধাপ সামনে এগুতে হবে কারণ, একজন যখন এই বিশ্বাস প্রক্রিয়াটি নিয়ে যাচাই করতে চায় তখন তাকে এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে যে, এখন বিধাতা স্বয়ং উপস্থিত। বিশ্বাস শক্তি নিয়ে এমন অনুশীলন করতে হবে যে, অনুভবের মধ্য দিয়ে বুঝতে পারবেন আপনার পাশে আপনার স্ত্রী যেমন বাস্তব অবস্থান করছেন, অথবা আপনার ব্যবসার অংশীদার বা আপনার ঘনিষ্টতম বন্ধু যেমন আপনার সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক তেমনিভাবে বিধাতাও রয়েছেন। তার সাথে কথা বলতে অভ্যাস করুন; বিশ্বাস করুন যে, তিনি আপনার কথা শুনতে পাচ্ছেন এবং আপনার সমস্যা নিয়ে চিন্তা করছেন। অনুমান করুন যে তিনি আপনার মনকে চেতনার মাধ্যমে প্রভাবিত করছেন যাতে আপনার ধারণাগুলো এবং প্রয়োজনীয় অন্তদৃষ্টির বিষয়সমূহ সমস্যা সমাধানে কার্যকরী হয়। সুনিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন যে সমস্যা সমাধানের এই পদ্ধতিতে কোন ভুল হবে না, বরঞ্চ আপনার অভিপ্রেত কাজ আপনি সঠিকভাবে পরিচালিত হবেন যার ফল দাঁড়াবে সম্পূর্ণ সঠিক।
পশ্চিমাঞ্চলের এক শহরে এক রোটারী ক্লাবে একবার আমি বক্তব্য রাখছিলাম, হঠাৎ এক ব্যবসায়ী আমাকে বাধা দিলেন। তিনি আমাকে বললেন, সংবাদপত্রের কলামে আমার এক লিখা থেকে তিনি পড়েছেন - ড়ার বিষয়টি এমন : 'তার মনোভাবের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে এবং তার ব্যবসাটাকে রক্ষা করেছে।' স্বাভাবিকভাবেই আমি আগ্রাহান্বিত এবং খুশি হয়েছিলাম এই ভেবে যে, ছোট্ট একটি কথা যা আমি বলেছিলাম তার এমন চমৎকার ফল দাঁড়াবে।
তিনি বললেন, “আমার ব্যবসা নিয়ে কঠিন সময় পাড় করছিলাম আমি।" "আসলে, আমি আমার ব্যবসাটা রক্ষা করতে পারব কি পারব না সেই প্রশ্নটাই ভয়ানকভাবে দেখা দিতে শুরু করেছিল। বাজারের অবস্থা, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী প্রক্রিয়া, দেশের অর্থনৈতিক সন্ধিচ্যুতি ইত্যাদি সবকিছু গভীরভাবে আমার ব্যবসার লাইনকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে এসব যেন দুর্ভাগ্য জনক পরিস্থিতির এক ধারাবাহিক এবং সংবদ্ধ আক্রমণ। আমি আপনার এই আর্টিকেলটি পড়েছি যাতে আপনি আপনার নতুন ধারণার মাধ্যমে আমাকে অনুপ্রাণিত করেছেন যে বিধাতার সাথে তাকে আপনার একজন অংশীদারস্বরূপ ভেবে কথা বলুন। আমি মনে করি আপনি এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছেনঃ 'বিধাতার সাথে নিজেকে কার্যকরভাবে মিলিত বা নিমগ্ন করা।'
প্রথম যখন আমি তা পড়ি, আমার মনে হয়েছিল বিকৃত-মস্তিষ্ক অদ্ভুত ধারণা।” এ প্রথিবীর একজন মানুষের পক্ষে, অর্থাৎ একজন মানুষ কীভাবে, বিধাতাকে তার সঙ্গী করতে পারে? তাছাড়া, আমি সবসময় বিধাতাকে ভেবেছি এক বিরাটের বিদ্যমানতা হিসেবে, মানুষের চেয়ে তিনি এত বড় যে, তার দৃষ্টিতে আমি একটি কীট তুল্য এবং এখন আপনি বলেছেন যে তাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার হিসেবে গ্রহণ করা উচিৎ। ধারণাটাকে মনে হয় নির্বুদ্ধিতাপূর্ণ। তখন আমার এক বন্ধু আপনার একটি বই আমাকে দেয়, এবং সেখানে আমি দেখি সেই একই ধারণা সারা বইটিতে ছড়িয়ে আছে।
যারা বাস্তব জীবনে এই ধারণাটি প্রয়োগ করে অভিজ্ঞতা লাভ করেছে তাদের কথাই আপনি বইটিতে তুলে ধরেছেন। এও মনে হয় যে, তারা সবই সুবুদ্ধি সম্পন্ন লোক, কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমি পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার বারবার এমনই ধারণা ছিল যে ধর্ম যাজকরা আদর্শবাদী সংজ্ঞাকাৰ ছোৱা ব্যবসার কিছু বুঝেন না, বাস্তব ঘটনাবলী সম্পর্কেও তাদের ধারণা নেই। কাজেই আমি ঠিক করি আপনাকে লিখব এবং লিখলাম শেষ পর্যন্ত, হাসতে হাসতে বললেন তিনি।
“যা হোক, একদিন এক মজার ঘটনা ঘটল। ওদিন এত খারাপ মনে অফিসে গেলাম যে সত্যি সত্যি মনে হচ্ছিল ঘুষি মেরে মাথা ফাটিয়ে ব্রেনটাকে বের করে দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হত এবং তাতে সমস্ত সমস্যা থেকে আমি রেহাই পেতাম বা আমাকে একেবারেই ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ঠিক তখনই বিধাতাকে আমার সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণাটি মাথায় এলো। দরজাটি বন্ধ করলাম আমি, তারপর চেয়ারে বসলাম এবং বাহুর উপর মাথা রেখে ডেস্কের উপর উপুর হলাম। এখানে আমি আপনার কাছে স্বীকার করতে পারি যে বহু বছরের মধ্যে ডজনবারের বেশি প্রার্থনা আমি করিনি।
এই ঘটনায় আমি আসলেই প্রার্থনা করেছিলাম। আমি বিধাতাকে বললাম যে আমি বিধাতাকে সঙ্গী বা অংশীদার করার ধারণা সম্পর্কে শুনেছিলাম, যদিও এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, এর সঠিক অর্থ কি, অথবা একজন কেমন করেই বা এমন করতে পারে। আমি তাকে বললাম যে, আমি নিমগ্ন ছিলাম, কিন্তু আতংকিত হওয়া ছাড়া আমি কোন ধারণাই পেলাম না, আর সে কারণেই আমি হতবুদ্ধি হয়ে পড়েছিলাম, কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলাম এবং একেবারেই সাহস হারিয়ে ফেলেছিলাম। আমি বললাম: 'প্রভু, আমি তোমাকে আমার অংশীদার হবার খুব বেশি সুযোগ দিতে পারব না, কিন্তু অনুগ্রহ করে আমার সাথে একত্রিত হও এবং আমাকে সাহায্য কর। আমি জানি তুমি আমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পার, কিন্তু আমি তোমার সাহায্য পেতে চাই। কাজেই ঠিক এই মুহুর্তে আমি আমার ব্যবসা, নিজেকে, আমার পরিবার এবং আমার ভবিষ্যৎ সবকিছু তোমার হস্তে সমর্পণ করছি। তোমার যা খুশি তাই কর। এমনকি জানিনা আমাকে তুমি কিভাবে কি করতে বলবে কিন্তু আমি শুনতে প্রস্তুত এবং আমি যদি পরিষ্কার করে বল তবে আমি তোমার উপদেশ অনুসরণ করব।
“বেশ,” তিনি আবার বলতে থাকলেন, “এই ছিল আমার প্রার্থনা। প্রার্থনা শেষ করে ডেস্কের কাছে বসলাম। আমি তখন অনুমান করছিলাম যে অলৌকিক কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুই ঘটল না। যাহোক, হঠাৎ করে আমি খুব শান্ত এবং আরাম বোধ করতে থাকলাম। আসলেই আমার মনে হচ্ছিল আমি একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থায় কাটাচ্ছি। স্বাভাবিক কিছু ছাড়া তেমন কিছুই ঘটলো না সেদিন রাতেও কিছু ঘটলো না, কিন্তু পরেরদিন আমি যখন অফিসে গেলাম স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক উজ্জলতর এবং আনন্দের একটা অনুভূতি আমি টের পেলাম আমার মনে। আত্মবিশ্বাস পাকা পোক্ত হতে থাকলো, মনে হলো কিছু একটা ঘটবে। এটা ব্যাখ্যা করা কঠিন ছিল যে কেন আমি ওরকম অনুভব করছিলাম। কোন কিছুই আলাদা ছিল না। আসলে আপনি হয়ত বলতে পারেন যে এটা বাজে এবং ঝাপসা কিছু একটা, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ছিল আলাদা, নিদেন পক্ষে অল্প হলেও আলাদা।
শান্তিপূর্ণতার এই অনুভূতিটি এখন আমার মধ্যে বিরাজ করছে এবং আমার ভালো লাগতে থাকল। প্রতিদিন প্রার্থনা করতে থাকলাম আমি এবং বিধাতার সাথে কথা বলতে লাগলাম যেমন আমি আমার অংশীদারের সাথে কথা বলতাম। আমার এ প্রার্থনা কিন্তু গীর্জার প্রার্থনার মত ছিল না, ঠিক মানুষে মানুষে যেমন কথা বলে তেমন। তারপর একদিন আমার অফিসে, হঠাৎ করেই একটা ধারণা আমার মনে এসে উদয় হলো। ব্যাপারটি ঠিক রুটি সেঁকার যন্ত্রে হঠাৎ করেই রুটি এসে উপস্থিত হবার মত অবস্থা। আমি নিজে নিজে বললাম: 'আচ্ছা, এ ব্যাপারে কি জান তুমি?' কারণ বিষয়টি এমনই যা কখনও আমার জীবনে ঘটেনি, কিন্তু আমি মুহুর্ত মধ্যে বুঝতে পারলাম যে, এটা এমন একটি ব্যাপার যা আমাকে অনুসরণ করতে হবে। এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই আমার, কেন এ নিয়ে আগে কখনও ভাবিনি আমি। মনটা আমার খুবই গ্রন্থিবদ্ধ অবস্থায় ছিল, আমি অনুমান করছি মানসিকভাবে এটা কাজ করছিল না।
"আমি তাড়াতাড়ি খিলানের দিকে গেলাম।” তারপর তিনি থামলেন। “না, এটা খিলান ছিল না, এ ছিল আমার অংশীদার, আমার সাথে কথা বলছিলেন তিনিই। দ্রুতগতিতে আমি এই ধারণাটিকে কাজে লাগালাম এবং বিষয়টি আবর্তিত হতে শুরু করল। নতুন ধারণাগুলো আমার মনে প্রবাহিত হতে শুরু করল, এবং এমন অবস্থা সত্বেও আমি আবার আমার ব্যবসা ফিরে পেতে থাকলাম এবং তা একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসলো। এতক্ষণ সাধারণ অবস্থাটি মোটামুটি চলনসই একটি অবস্থায় চলে এসেছে, এবং এখন আমি কষ্ট দুর্ভোগ থেকে মুক্ত।”
তারপর তিনি বললেন: "আমি আপনার মত ধর্ম প্রচারের কিছুই বুঝি না এবং যেমন বই আপনি লিখেন তেমন অভিজ্ঞতাও আমার নেই, অথবা এ বিষয়ে লিখা বইপত্র সম্বন্ধেও কিছু বুঝিনা বা জানিনা, কিন্তু এটুকু আপনাকে বলতে চাই যখনই ব্যবসায়ীদের সাথে আপনার কথা বলার সুযোগ হয় তাদেরকে বলুন যে, যদি তারা তাদের ব্যবসায়িক কাজে বিধাতাকে তাদের অংশীদার হিসাবে গণ্য করেন তবে তাদের প্রয়োগ করা ধারণার চেয়ে অনেক ভালো ভালো ধারণা তারা তার কাছ থেকে পাবেন, এবং এভাবে তাদের ধারণা গুলোকে মূল্যবান সম্পদে পরিণত করতে পারবেন। একথার মধ্য দিয়ে আমি যে শুধু টাকা পয়সার কথা বলছি তা নয়,” "যদিও আপনার লগ্নিকৃত একটি ভালো পন্থাও আপনার প্রয়োজন এবং আমি বিশ্বাস করি, বিধাতা-প্রদর্শিত ধারণাই হবে সেই বিশ্বস্ত পন্থা। কিন্তু তাদেরকে বলুন যে বিধাতার অংশীদারিত্বের যে পদ্ধতি সেটাই তাদের সমস্যা সমাধানের সবচেয়ে সঠিক পদ্ধতি।”
এই ঘটনাটি হল ঐশ্বশক্তি এবং মানুষের মধ্যেকার সম্পর্ক, যা বাস্তব ক্ষেত্রে কাজ করছে তেমন অনেক ঘটনার একটি নিশ্চিত প্রমাণ স্বরূপ ঘটনা। আমি খুব একটা জোর দিয়ে সমস্যা সমাধানের কৌশলটির সম্পর্কে কিছু বলতে চাইনা। কিন্তু দেখা গেছে অনেক অনেক ক্ষেত্রে এর ফলাফল ঘটেছে বিস্ময়কর এবং সেগুলো আমার পর্যবেক্ষণাধীন রয়েছে।
অনেক অনেক প্রয়োজনীয় ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানের জন্য, এটা গুরুত্বপূর্ণ, সর্বপ্রথমে, একথা বুঝতে হবে যে, সমস্যাগুলো সঠিকভাবে সমাধানের ক্ষেত্রে আপনার নিজের ভেতর যে শক্তি রয়েছে তা সম্যকভাবে বুঝতে হবে। দ্বিতীয়ত, একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া জরুরী। ব্যক্তিগত সমস্যা সাফল্যজনকভাবে সমাধান করতে গিয়ে অনেকেই যে ব্যর্থ হয় তার পেছনের নিশ্চিত কারণ হলো, তাদের আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত ভোতা ভাবটি।
একজন ব্যবসায়ী নির্বাহী আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি যখন কোন অবস্থায় কোন কিছুর জন্য নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তখন মানবীয় মস্তিষ্কের জরুরী ক্ষমতার উপরই তিনি নির্ভর করে থাকেন। এ তার একটি বলিষ্ঠ সজ্ঞা যে, মানব জাতি যে বাড়তি ক্ষমতার অধিকর্তা জরুরী অবস্থায় সেই ক্ষমতাকে সহায়ক শক্তি হিসেবে যথাযথভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দিনের পর দিন বেঁচে থাকার জন্য জীবনের যে স্বাভাবিক পরিচালনা আমরা করি, সেখানে এই জরুরী ক্ষমতা সুপ্ত অবস্থায় থাকে, কিন্তু অনন্য সাধারণ পরিস্থিতিতে কোন ব্যক্তি যদি প্রয়োজন মনে করেন তবে তিনি এই বাড়তি শক্তিকে প্রয়োজনীয় সময়ের জন্য তলব করতে পারেন।
একজন ব্যক্তি যিনি তার কাজ করার বিশ্বাসকে উন্নীত করতে পারেন তবে তিনি তার এই সুপ্ত শক্তিকে সুপ্ত থাকতে দেন না, কিন্তু তার বিশ্বাস অনুপাতে সাধারণ কাজের সাথে সম্পর্কিত সকল অবস্থায় সেই সুপ্ত ক্ষমতার অনেকখানি তিনি কাজে লাগাতে পারেন। এই প্রক্রিয়া এটাই ব্যখা করে যে, কেন কিছু লোক তাদের সংকটের সময় এবং নিত্যদিনের প্রয়োজনে এই বৃহত্তর শক্তিকে অন্য কিছু অপেক্ষা নিশ্চিত প্রমাণ করে থাকে। এই ক্ষমতাকে প্রয়োজনীয় সময়ে তুলে আনার ক্ষেত্রে তারা একটি সাধারণ অভ্যাস তৈরি করে নিয়েছেন অথচ একসময় নাটকীয়ভাবে প্রয়োজন ছাড়া তারা একে ভালোভাবে চিনত না বা জানত না।
যখন একটি কঠিন সমস্যা ঘাড়ের উপর এসে পড়ে, তখন তাকে কেমন করে মোকাবিলা করতে হয় আপনার তা জানা আছে কি? অদ্ভুত অস্বাভাবিক কঠিন সমস্যা যখন প্রচণ্ড আক্রমণে আপনাকে একেবারে ধরাশায়িত ফেলে তখন তা সমাধানের পরিষ্কার সজ্ঞায়িত পরিকল্পনা আপনার নাগালের মধ্যে আছে কি? অনেক মানুষই 'হলে হলো না হলে না হলো' পদ্ধতি প্রয়োগ এগোতে চায়, কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক বেশি এবং বার বার ব্যর্থ হন তারা
সমস্যা সমাধানে আপনার বৃহৎ শক্তি-ক্ষমতাকে ব্যবহার করার পরিকল্পনার গুরুত্বকে আমি জোর দিয়ে সমর্থন করতে পারি না।
এই যে সমস্যা সমাধান পদ্ধতি এর সাথে দু-তিনটি প্রার্থনা যা 'বিধাতার কাছে আত্মসমর্পণ' কৌশল সমৃদ্ধ এবং যা হবে বিধাতার সাথে অংশীদারিত্বের প্রতিষ্ঠার মত এবং এর সাথে আপনার সেই আভ্যন্তরীণ ও জরুরী ক্ষমতা শক্তির সদ্ব্যবহার, এবং এর সাথে আরও একটি বিস্ময়কর কৌশল আপনার সংযোজন করা প্রয়োজন তা হলো, বিশ্বাস প্রযুক্ত মনোভাবের অনুশীলন বজায় রাখা।
মনে রাখতে হবে স্বাভাবিক বিশ্বাস যখন প্রগাঢ় আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয় জয় তখন অনিবার্য।
অনেক বছর আগে আমি যখন বাইবেল পড়ি তখন তা ভোরের আলোর মতই আমার মনকে উদ্ভাসিত করে তোলে এবং আমাকে যেন তা এ কথাই বলে যে, যদি আমার বিশ্বাস থাকে এবং যদি সত্যি সত্যিই তা থাকে তবে আমি আমার সমস্ত কষ্ট ভোগান্তি জয় করতে পারব, যে কোন পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে পারব। প্রতিটি পরাজয়ের উপর আধিপত্য করতে পারব, এবং আমার জীবনের সমস্ত জটিল সমস্যাগুলোকে সমাধান করতে পারব। যে দিনটিতে আমার মনটি প্রভাতের স্নিগ্ধ আলোয় আলোকিত হয়েছিল সেদিনটি আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি যদিও সেরাতম দিনটির হয়ত এখনো দেখা পাইনি। নিঃসন্দেহে অনেকের এ বইটি পড়বে যারা বেঁচে থাকার জন্য বিশ্বাস শক্তির কোন ধারণাই যাদের হয়নি। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি সেই ধারণাটি এখন আপনি পাবেন, কারণ বিশ্বাস কৌশলটি প্রশ্নাতীতভাবে এ দুনিয়াতে বিরাজমান অনেক সত্যের মধ্যে একটি শক্তিশালী সত্য, যে সত্য মানুষের জীবনকে স্বার্থকভাবে পরিচালনা করছে।
বাইবেলে সত্যের উপর বার বার জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, যদি তোমার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও থাকে, তবে তোমার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই থাকবে না।” (মথি xviii, 20) বাইবেল একে সম্পূর্ণ ব্যক্ত করেছে। এটা বিভ্রম সৃষ্টি হবার মত কিছু একটা নয়, কল্পনাজনক কিছুও নয়। এটা সচিত্র ব্যাখ্যাও নয়, কোন প্রতীক ও নয়, কোন রূপক উপমা কাহিনী ও নয়, কিন্তু সম্পূর্ণ সত্য ভিত্তিক ঘটনা- 'বিশ্বাস, এমনকি যদি একটি সরিষা দানার মতও হয়,' তাতেও আপনার সমস্যাসমূহ সমাধান হবে, আপনার যে কোন সমস্যা, আপনার যাবতীয় সমস্যা, শুধু যদি আপনি তা বিশ্বাস করেন এবং বিশ্বাসের অনুশীলন করেন আপনার বিশ্বাস অনুসারেই আপনার প্রতি তা ফলপ্রসু হবে।” (মথি xviii, 29) প্রয়োজন হলো বিশ্বাসের, এবং সরাসরি আপনার বিশ্বাস অনুপাতে যতটুকু আপনার আছে, এবং যতটুকু তা প্রয়োগ করেন তেমন এবং ততটুকু ফলই আপনি পাবেন। অল্প বিশ্বাস আপনাকে অল্প ফলই দিবে, মধ্যম বিশ্বাস আপনাকে মধ্যম ফলই দেবে, বড় বিশ্বাস আপনাকে বড় ফলই দেবে। কিন্তু সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহানুভবতার প্রতীকিরূপে একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাসও আপনার থাকে, তবে আপনর সমস্যা সমাধানে তা বিস্ময়কর ফল দেবে।
উদাহরণ স্বরূপ, আমার বন্ধু মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টের রোমাঞ্চকর কাহিনী বলছি শুনুন। আমার আগের বই, A Guide to Confident living, যখন সংক্ষিপ্ত কলেবরে Liberty magazine এ প্রকাশিত হচ্ছিল তখন আমি তাদের সাথে পরিচিত হই। ঐ সময়টাতে মেরিচ ক্রমাগত ব্যর্থ হচ্ছিলেন এবং খুব খারাপ ভাবে। তিনি যে শুধু তার কাজেই ব্যর্থ হচ্ছিলেন তা নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন। ভয় এবং বিরক্তিতে ভরে গিয়েছিল তার মন এবং এ যাবৎ আমি যত লোকের সাক্ষাৎ পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি অন্যতম একজন নেগেটিভ ব্যক্তি।
সুন্দর ব্যক্তিত্ব এবং সুন্দর হৃদয়ে সজ্জিত চমৎকার এক লোক ছিলেন তিনি, কিন্তু তিনি নিজে একথা স্বীকার করেছেন যে, তার জীবনটা বিশৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল।
আমার সংক্ষিপ্ত আকারে বইটি তিনি পড়েছেন, যে বইটতে 'সরিষা-দানা বিশ্বাসের' কথা খুব জোর দিয়ে বলা হয়েছে। এই সময়টাতে তিনি তার পরিবারের সাথে ফিলাডেলফিয়াতে ছিলেন, দু ছেলে এবং তার স্ত্রী নিয়ে ছোট্ট পরিবার। নিউইয়র্কে আমার গীর্জায় ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু কোন কারণে তিনি আমার সেক্রেটারীর সাথে যোগাযোগ করেননি। আমি এটা উল্লেখ করছি এটাই দেখাবার জন্য যে, ইতোমধ্যে তার মন মানসিকতা পরিবর্তিত হতে শুরু করেছিল, কারণ স্বাভাবিকভাবে তিনি কখনও দ্বিতীয়বার আমাকে ডাকেননি, কারণ একটি দুর্বল চেষ্টা চালানোর পর সবকিছু ছেড়ে ছুড়ে দেয়া ছিল তার করুণ অভ্যাস স্বরূপ ব্যাপার, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এবং গীর্জার প্রার্থনার সময় সূচীর সংবাদ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অধ্যবসায় সহকারে অপেক্ষা করেছেন। পরবর্তী রবিবার তার পরিবারকে নিয়ে তিনি সেই ফিলাডেলফিয়া থেকে গাড়ি চালিয়ে নিউইয়র্কে এসে গর্জিায় হাজির হয়েছেন, এবং বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেও তিনি তার এই গীর্জায় আসা নিয়মিত চালিয়ে গিয়েছেন।
পরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের পুরো ইতিহাস আমাকে শুনিয়েছেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করেছেন, তিনি নিজে কিছু করতে পারবেন কিনা সে সম্পর্কে আমি কিছু ভেবেছি কিনা তার টাকা পয়সার সমস্যা, ঋণ পরিস্থিতি সম্পর্কে তার ঋণ সম্পর্কে, ভবিষ্যৎ সম্পর্কে, এবং প্রধানত তার নিজের সম্পর্কে যা ছিল খুবই জটিল এবং কষ্টে তিনি এতই হতবুদ্ধি হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি তার এই অবস্থাকে একেবারেই আশাহীন অবস্থা বলে ধরে নিয়েছিলেন।
আমি তাকে এই বলে আশ্বস্ত করলাম যে, যদি তিনি নিজে ব্যক্তিগতভাবে তার মনকে সরল করেন এবং তার মনোভাবকে ঐশী চিন্তার ধরণের সাথে সমন্বিত করেন এবং যদি তার বিশ্বাসের কৌশলকে যথার্থভাবে কাজে লাগাতে পারেন, তাহলে তার সব সমস্যারই সমাধান হবে।
তার এবং তার স্ত্রীর মনোভাব একই রকম, কিন্তু তাদের মন পরিষ্কার করতে হবে এবং মন থেকে বিরক্তি ভাবটা দূর করতে হবে। তারা ছিলেন সবার কাছে বুদ্ধিহীন উন্মাদের মত এবং কিছু লোকের কাছে আসলেই উন্মাদ বলে গণ্য হয়েছেন। তারা তখন নিরানন্দ একটা অবস্থার মধ্যে ছিলেন, তাই তাদের রূগ্ন চিন্তা কারণ ছিল তাদের এই অবস্থা, তাদের কাজে ব্যর্থতার জন্য নয়, কিন্তু অন্য লোকজনের নোংরা ব্যবহারের জন্যে। তারা আসলে রাতে শোবার সময় পরস্পর বলাবলি করতে যে, তারা কীভাবে কি বলে অন্যদের অপমানিত করবে। এ ধরনের অসুস্থ পরিবেশে তারা ঘুমাতে এবং বিশ্রাম নিতে চেষ্টা করতেন, কিন্তু তাতে সাফল্যজনক কোন ফল তারা লাভ করতেন না।
মেরিচ ফ্লিন্ট প্রকৃতপক্ষেই বিশ্বাস ধারণাটি মনে প্রাণে গ্রহণ করেছিলেন। এ ধারণাটি তাকে এমনভাবে চেপে ধরেছিলো যে, আগে কখনও কোন কিছু তাকে এমন চেপে ধরেনি।
তার প্রতিক্রিয়া ছিল দুর্বল, অবশ্যই তার ইচ্ছাশক্তি ছিল অসংগঠিত। কোন রকম ক্ষমতা বা শক্তি ছাড়াই তিনি প্রথমে চিন্তা করতেন এবং তা হয়েছে তার দীর্ঘদিনের হতাশাজনক অভ্যাসের কারণে, কিন্তু এখন তিনি এটা চেপে ধরেছেন নাছোড়বান্দার মত এমনকি মরিয়া হয়ে, এবং ঐ ধারণাকে সমানে রেখে যে, যদি তোমার 'একটি সরিষা দানার মতও বিশ্বাস থাকে, তবে তোমার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।' কিসের বলে তিনি বিশ্বাসে এমন নিমগ্ন হলেন। অবশ্যই, তার সাধ্যমত যতটা বিশ্বাস অনুশীলন তিনি করেছেন, সে অনুসারেই তার বিশ্বাস ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি লাভ করেছে।
একদিন তিনি রান্নাঘরে গেলেন, ঐ সময় তার স্ত্রী সেখানে থালা বাসন ইত্যাদি ধোয়া মোছা করছিলেন। তিনি বললেন, “বিশ্বাস ধারণাটি রবিবার গীর্জায় অনুশীলন করা বেশি স্বাচ্ছন্দজনক, কিন্তু আমি এই ধারণাটি মনে পোষণ করতে পারছি না। এটা অনেকটা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আমি ভাবছিলাম যদি একটি সরষে দানা পকেটে বহন করতে পারতাম, তবে দুর্বল মুহুর্তে আমি তা অনুভব করতে পারতাম এবং তা আমাকে বিশ্বাস ধারণ করতে সাহায্য করত। তিনি তখন তাকে জিজ্ঞাস করলেন, “আমাদের ওরকম একটি শস্য দানা আছে নাকি, অথবা ঐরকম কিছু ঠিক বাইবেলে যা বর্ণনা করা হয়েছে? আজই সরিষা দানা আমাদের ঘটিতে পাওয়া যাবে কি?
তিনি হাসলেন এবং বললেন, “একটি আধারে কিছু সরষে দানা আছে।” তিনি খুঁজে একটি সরষেদানা বের করলেন এবং তাকে দিলেন। মেরী এলিচ বললেন, “মেরিচ তুমি কি জান না, যে তোমার আসলে সত্যিকার একটি সরষে দানার প্রয়োজন নেই। ওতো একটি ধারণার প্রতীক বৈত নয়।” জবাবে তিনি বললেন, “ও সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা।" বাইবেলে সরিষা দানার কথা বলা হয়েছে, এবং আমি সেই সরিষা দানাই চাই। হতে পারে যে বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতীক আমার প্রয়োজন।"
হাতের তালুতে নিয়ে তিনি সরষে দানাটির দিকে তাকালেন এবং বিস্ময়ের সাথে বললেনঃ এইটুকু বিশ্বাস যা আমার প্রয়োজন এই কি যথেষ্ট ছোট্ট এই সরিষা দানার সমপরিমাণ দানাটি হাতের তালুতে ধরে দেখতে থাকলেন; এবং তারপর তা পকেটে ভরে রাখলেন, বললেনঃ "যদি দিনে এর উপর আমার আঙ্গুল ও পড়ে তবুও আমার বিশ্বাস সৃষ্টির কাজে তা সাহায্য করবে।” কিন্তু সরিষা দানাটি এতই ছোট ছিল যে তিনি অচিরেই তা হারিয়ে ফেললেন, এবং আবার গেলেন সেই আচারের পাত্র থেকে আরেকটি দানা সংগ্রহের জন্য, শুধু এটাও হারাবার জন্য যেন। একদিন যখন আরেকটি দানা তার পকেট থেকে হারিয়ে গেল, ঠিক তখন ধারণাটি তার মনে স্পষ্ট উদিত হলো যে, কেন তিনি সরিষা দানাটি একটি প্লাষ্টিকের বলের ভেতর রাখেননি? তিনি বলটি তার পকেটে বহন করতে পারতেন। অথবা সার্বক্ষণিকভাবে তার ঘড়ির চেইনের উপর রাখতে পারতেন। যাতে তাকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও তার আছে, কাজেই তার কাছে অসম্ভব বলে কিছুই নেই।'
একজন প্লাষ্টিক বিশেষজ্ঞের সাথে আলাপ করলেন তিনি এবং জানতে চাইলেন কীভাবে একটি সরষেদানা প্লাষ্টিক বলের ভিতর ঢোকানো যেতে পারে এবং তা বের হয়ে যাবে না। বিশেষজ্ঞ বললেন, এটা করা সম্ভব নয় কারণ কোনদিন তেমন করা হয়নি এবং তার মোটেও কোন যুক্তিসঙ্গত কারণও ছিল না।
ইতোমধ্যে ফ্লিন্টের যথেষ্ট বিশ্বাস জন্মেছিল এ কথা বিশ্বাস করার জন্য যে, এমনকি যদি তার একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকত তবে তিনি একটি সরিষা দানা প্লাষ্টিক বলে রাখতে পারতেন। তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন, এবং কয়েক সপ্তাহ এর পেছনে লেগে থাকলেন, এবং চূড়ান্তভাবে সাফল্য লাভ করলেন। তিনি কয়েকটি রত্নাদির পোষাক তৈরি করলেন: হার, বো-পিন, চাবির চেইন, ব্রেচলেট এসব তৈরি করলেন এবং আমার উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিলেন। ওগুলো খুবই সুন্দর হয়েছিল, এবং প্রত্যেকটির উপর পরিষ্কার এবং বৃত্তাকার কিছুর মধ্যে সরিষা দানা শোভা পাচ্ছিল। প্রত্যেকটির সাথে একটি করে কার্ড সেটে দেয়া হয়েছিল যার উপর লিখা ছিল, 'সরিষা দানা স্মরণে।' কার্ডে এও বলা হয়েছিল, কিভাবে এসব রত্নাদির ব্যবহার করা হবে; কিভাবে সরিষা দানা ব্যবহারকারীর মনে করিয়ে দেবে যে যদি তার বিশ্বাস থাকে, তবে তার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নয়।
তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন যে, এসব বিক্রিয় দ্রব্য হিসেবে কোন চিন্তা ভাবনা করেছি কিনা। আমার একটু সন্দেহ ছিল। আমি তা স্বীকার করব, এবং লিখাগুলো গাইডপোস্টস ম্যাগাজিনের সম্পাদকের সাথে আলাপ করার জন্য গ্রেস আওয়ারস্মারকে দেখালাম। মহিলাটি ঐ রত্নখচিত শিখগুলো আমাদের পরস্পরের বন্ধু, মিঃ উয়াল্টার হোভিং বনউইট টেলার ডিপার্টমেন্ট স্টোরের প্রেসিডেন্ট, দেশের সবচেয়ে বড় মাপের একজন কার্যনির্বাহী, তাকে দেখাতে নিয়ে গেলাম। তিনি তৎক্ষণাৎ এই পরিকল্পনাটির একটি সম্ভাবনা দেখতে পেলেন। আমার বিস্মিত হবার এবং আনন্দিত হবার বিষয়টি কল্পনাকরে দেখুন, যখন দেখলাম কয়েকদিন পরে নিউয়র্কের পত্রিকাগুলোতে দুই কলামের একট বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে, তাতে লিখাঃ 'বিশ্বাসের প্রতীক'-সত্যিকারের একটি সরিষাদানা ঝকঝকে কাঁচের ভেতর স্থাপন করে সঠিক অর্থ সম্বলিত একটি ব্রেচলেট তৈরি করা হয়েছে, এবং বিজ্ঞাপনে শাস্ত্রবানীর একটি পাঠ্যাংশ তুলে দেয়া হয়েছেঃ "যদি তোমাদের একটি সরিষা দানার মত বিশ্বাস ও থাকে....
তবে তোমাদের পক্ষে অসম্ভব বলে কিছু থাকবে না।” (মথি xvii.20) এই লিখাগুলো গরম কেকের মতই বিক্রি হয়েছিল। এখন দেশের শত শত এবং বড় বড় ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলো এবং দোকানগুলো যারা ঐ রকম কঠিন সমস্যায় পড়েন তারা সবাই ঐ বাণী সমৃদ্ধ অলংকার গুলো সংরক্ষণ করে রাখেন।
মি: এবং মিসেস ফ্লিন্টের মধ্য পশ্চিম শহরে 'সরিষা দানা স্বারক' উৎপাদনের একটি কারখানা আছে। কৌতূহলজনক সন্দেহ নেই, তাই একজন ব্যর্থ মানুষ গীর্জায় যান, বাইবেলের বাণী শুনেন (অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থেও তা সম্ভব) এবং ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যবসার দ্বার খুলে যায় তার জন্য। সম্ভবত বাইবেল সহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থগুলো আপনাদের একাগ্রচিত্তে পাঠ করা উচিৎ, উপাসনালয়ে ধর্ম উপদেশগুলো ও মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করা প্রয়োজন। সম্ভবত তাতে আপনি শুধু যে আপনার জীবন পূর্ণগঠনের সঠিক ধারণা খুঁজে পাবেন তাই নয়, কিন্তু ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নতির ধারণাও আপনি খুঁজে পাবেন।
এ ক্ষেত্রে বিশ্বাস শিল্প উৎপাদনকারীর এবং উৎপন্ন দ্রব্যের উভয় পক্ষের ব্যবসাই উন্নতি লাভ করেছে এবং তা হাজার হাজার মানুষের কল্যাণ সাধন করবে তাতে সন্দেহ নেই। কাজেই ব্যাপারটি যেহেতু জনপ্রিয় এবং কার্যকর তাই অন্যরাও এগুলোর কপি তৈরি করেছেন, কিন্তু ফ্লিন্টের 'সরিষা দana স্মারক' হলো সর্বাপেক্ষা মূল উৎপাদক। বিশ্বাসের সেই ছোট্ট ছকটি প্রয়োগ করে যাদের জীবনে অদ্ভুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে তা এই নব প্রজন্মে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর একটি আধ্যাত্মিক কাহিনী। কিন্তু মিঃ মেরিচ এবং মেরী এলিচের উপর বিশ্বাস শক্তির প্রভাব যেভাবে কাজ করলো অর্থাৎ তাদের জীবনের যে পরিবর্তন হলে, তাদের চরিত্র পরিবর্তিত হলো। ব্যক্তিত্বের জটিলতা থেকে তারা যে মুক্তি লাভ করলো এতো বিশ্বাস্য শক্তির রীতিমত রোমাঞ্চকর প্রমাণ স্বরূপ। তারা কিন্তু এখন আর নেগেটিভ চরিত্রের নয়, তারা এখন পজিটিভ চরিত্রের মানুষ। তারা এখন আর পরাজিত নন, তারা এখন জয়ী ব্যক্তিত্ব। তারা এখন আর কাউকে ঘৃণা করেন না। তারা ক্রোধ, বিদ্বেষ এসবকে জয় করেছেন এবং তাদের হৃদয় এখন ভালোবাসায় পূর্ণ। তারা এখন নতুন দৃষ্টি ভঙ্গিতে, নতুন জ্ঞান শক্তিতে সম্পূর্ণ নতুন ধরণের মানুষ। আমার জানা মতে তারা দু'জন সবচেয়ে অনুপ্রেরণাকারী ব্যক্তিত্ব।
যদি মেরিচ এবং মেরী এলিচ ফ্লিন্টকে জিজ্ঞেস করেন যে, কিভাবে সমস্যার সঠিক সমাধান করা সম্ভব? জবাবে তারা আপনাকে বলবেন- 'বিশ্বাস ধারণ করুন- হ্যাঁ সত্যিই বিশ্বাস ধারণ করুন।' এবং আমাকে বিশ্বাস করুন, যে তারা জানেন বিশ্বাস কিভাবে ফলবান হয়।
যখন এ কাহিনী আপনি পড়ছেন যদি তখন আপনি নিজে নেগেটিভলি বলেন (এবং তা যদি নিগেটিভ ফলই দিতে থাকে), ফ্লিন্টযুগল আমার মত অত বাজে ভাবে তা ছেড়ে দিত না; আমি আপনাদের বলতে চাই যে, কদাচিৎ আমি ফ্লিন্টদের মত কাউকে অমন বাজে ভাবে হাল ছেড়ে দিতে দেখেছি। আমি আপনাদের আরও বলতে চাই যে, আপনার পরিস্থিতি যেমনই মরিয়া হোক না কেন আপনি ঐ চারটি কৌশল, যেগুলো এই অধ্যায়ে বর্ণিত হল তা যদি প্রয়োগ করেন, ফ্লিন্ট যুগল যেমন করলেন, তা হলে আপনিও, আপনার সমস্যাগুলো সমাধান করতে সক্ষম হবেন।
এই অধ্যায়ে আমি সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন পদ্ধতি দেখাবার চেষ্টা করেছি। এখন আমি আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য দশটি বাস্তব কৌশল সম্পর্কে আপনাদের পরামর্শ দিতে চাই:
১. একথা বিশ্বাস করুন যে প্রতিটি সমস্যার জন্য একটি সমাধানের পথও অবশ্যই আছে।
২. শান্ত থাকুন। 'দুশ্চিন্তা' চিন্তাশক্তির প্রবাহ পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করে।
৩. কোন জবাব খুঁজে পাবার জন্য চাপ প্রয়োগ করবেন না। মনকে শিথিল রাখুন যাতে সমাধানের দার সহজেই খুলে যেতে পারে এবং জটিলতা পরিষ্কার হতে পারে।
৪. সমস্ত ঘটনা নিরপেক্ষভাবে, নৈর্ব্যক্তিকভাবে এবং বিধিবদ্ধভাবে জড়ো করুন।
৫. এসব ঘটনা কাগজে লিখে তালিকাবদ্ধ করুন। এতে আপনার চিন্তা পরিষ্কার হবে, বিভিন্ন রকম উপকরণ একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় আনতে সাহায্য করবে। যেমন চিন্তা করছেন ওভাবে দেখতেও শিখুন। সমস্যা তখনি শুধু কাল্পনিক কিছু নয়, কিন্তু বাস্তব।
৬. আপনার সমস্যা নিয়ে প্রার্থনা করুন, নিশ্চিত ভাবে বিধাতা আপনার মনে আলোকপাত করবেন।
৭. ৭৩ নং সাম সংগীতে বিধাতার পথ প্রদর্শনের প্রতিজ্ঞার কথা বিশ্বাস করুন এবং তা যাচনা করুন: "তুমি তোমার পরামর্শ দিয়ে আমাকে পথ দেখাও।”
৮. অন্তর্দৃষ্টি এবং মনের স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞানে আস্থা রাখুন।
৯. গীর্জা, মসজিদ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে যান (যার যার ধর্ম অনুসারে) এবং আপনার সমস্যা নিয়ে অবচেতন মনে যে চিন্তা স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে তা আরাধনার ভাবের সাথে সমন্বিত করুন। সৃজনশীল আধ্যাত্মিক চিন্তনের সঠিক 'উত্তর পেয়ে দেবার বিস্ময়কর শক্তি আছে।
১০. এসব পদক্ষেপ আপনি যদি বিশ্বাসের সাথে অনুসরণ করেন তবে তখন যে সদুত্তর আপনার মনে পরিপক্কতা লাভ করেছে, অথবা বাস্তবায়িত হবার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে সেটাই হলো আপনার সমস্যার সঠিক উত্তর।

📘 দ্য পাওয়ার অফ পজিটিভ থিংকিং > 📄 জীবনীশক্তি যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে

📄 জীবনীশক্তি যখন অবসন্ন হয়ে পড়ে


এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

এক মহিলা আমি যেমনটি শুনেছি এক ঔষধের দোকানে গেলেন এবং শরীর ও মনের যন্ত্রণা লাঘব করার জন্যে এক বোতল ঔষধ চাইলেন।
অবশ্যই এ ধরণের ঔষধ, ঔষধের দোকানে মেলে না। কারণ এধরণের ঔষধ ট্যাবলেট আকারে কিম্বা বোতলে খুঁজে পাওয়া যায় না। কিন্তু দেহ-মনের যন্ত্রণা লাঘব কিম্বা উপশমকারী ঔষধ আছে, এবং আমাদের অনেকেরই তা দরকার। এটা এমন এক প্রেসক্রিপশন যা যৌথভাবে তৈরি হয়েছে প্রার্থনা বিশ্বাস এবং প্রাণবন্ত আধ্যাত্মিক চিন্তনের মাধ্যমে।
বিভিন্নভাবে গুনে বেছে দেখা গেছে যে আজকের দিনে যত রোগী আছে তার মধ্যে শতকরা ৫০ থেকে ৭৫ জনই অসুস্থ হয় তাদের ত্রুটিপূর্ণ মানসিক অবস্থার প্রভাবে এবং এমন হয় তাদের আবেগ ও দৈহিক ক্ষতিজনিত কারণে। কাজেই এ অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়ার ঔষধ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনেক মানুষ আছে যারা স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অবস্থার থেকে নিম্ন পর্যায়ে, তারা দেখতে পারেন যে একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধান আছে, যা ডাক্তারের চিকিৎসা বিধানের সাথে সংযুক্ত এবং তাদের কাছে তা বিরাট মূল্যবান।
আধ্যাত্মিক এবং আবেগজনিত চিকিৎসা ক্ষয়িষ্ণু জীবনীশক্তিকে ফিরিয়ে আনতে পারে কোন একটি বড় কোম্পানী প্ল্যানের পাঠানো সেলস ম্যানেজারের বর্ণনা থেকে আমি তা জানতে পারি। এই সেলস এক্সিকিউটিভ যাকে আগে সবাই একজন দক্ষ এবং শক্তিশালী দক্ষ গাড়িচালক হিসেবে জানত। এখন তার সামর্থ এবং শক্তির মারাত্মক পতন হয়েছে। তিনি তার সৃজনশীল নিপূণতা হারিয়ে ফেলেছেন। আগে তার বিক্রি করার ধ্যান-ধারণা ছিল অসাধারণ এবং সর্বজনবিদিত। কিন্তু অচিরেই তার সহকারীরা দেখতে পেল যে এই সেলস ম্যানেজার এখন দৃষ্টিকটুভাবে ঘুমাচ্ছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছিল যেন তিনি কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করেন। এবং কোম্পানী তাকে বিশ্রামের জন্য প্রথমে আটলান্টিক শহরে এবং পরে ফ্লোরিডা শহরে পাঠান সুস্থ্য করে তোলার জন্য। এই যে দু'টো অবকাশ যাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল মনে হতে পারে যে, এ থেকে সুফলদায়ী নিশ্চিত কোন উন্নতি তার ঘটবে না।
আমাদের যে ধর্মনির্ভর মানসিক রোগের চিকিৎসা কেন্দ্র আছে সে সম্পর্কে তার চিকিৎসকের জানা ছিল, তাই কোম্পানীর প্রেসিডেন্টকে তিনি সুপারিশ করেছিলেন যাতে তার সেলস ম্যানেজার আমাদের সথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। প্রেসিডেন্ট তাকে আমাদের কাছে আসতে বলেন, কিন্তু কাজটি করেন তিনি রুষ্ট মনে, কারণ তাকে গীর্জায় পাঠানোর ব্যাপারটিতে তার মনের সমর্থন ছিল না।
ক্ষুণ্নমনে লোকটি বললেন, “কী সুন্দর প্রেরন কাজ,” যখন তারা একজন ব্যবসায়ীকে কোন ধর্ম প্রচারকের কাছে পাঠান, তারপর বেশ উত্তেজনার সাথে বললেন, আমার ধারনা আমাকে সাথে করে আপনি প্রার্থনা শুরু করে দেবেন এবং বাইবেল ও পাঠ করবেন তাই না?
জবাবে বললাম, "আমি মোটেও বিস্মিত হব না, কারণ কোন কোন সময় আমাদের কষ্ট বা দুর্ভোগ এমন এক জায়গায় আক্রমণ করে তখন প্রার্থনা এবং বাইবেলীয় চিকিৎসা বা (যে কোন ধর্মশাস্ত্র) তার উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
নিজেকে তিনি বেশ রাগচটা এবং অসহযোগী হিসেবেই প্রমান করলেন, যে পর্যন্ত না চূড়ান্তভাবে আমি তাকে বলতে বাধ্য হলাম যে, “আমি আপনাকে স্পষ্ট বলতে চাই যে, আমাদের সহযোগীতা করা আপনার পক্ষে ভালো ছিল অথবা তা যদি না করেন তো আপনাকে গুলি করা হবে।”
তিনি পাল্টা প্রশ্ন করলেন, "এ কথা আপনাকে কে বলল? 'মনিব," আমি বললাম। আসলে তিনি বলতে চান যে, যদি আমরা আপনাকে সোজা পথে না আনতে পারি তবে আপনার সাথে কোম্পানীর সম্পর্ক শেষ হতে যাচ্ছে এবং এর জন্য আপনার মনিব খুব দুঃখ পাচ্ছেন।
আপনি কখনও কারো মুখে এমন অভিভূত ভাব ইতিপূর্বে দেখেননি। একটু যেন তুতলিয়ে তুতলিয়ে তিনি বললেন, "আমাকে কি করা উচিৎ বলে মনে করেন আপনি?
জবাবে বললাম, 'প্রায়ই আপনি যে অবস্থায় পড়েছেন সে অবস্থায় যখন একজন মানুষ পড়েন তখন তার মন ভয়, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা, ক্রোধ, অপরাধবোধ, অথবা সব মিলিয়ে একটি যাচ্ছেতাই অবস্থায় পড়ে যান। যখন এই আবেগজনিত বাঁধাগুলো জমা হতে হতে একটি বিশেষ ওজনে ভারী হয়ে পড়ে, তখন সে ব্যক্তি ঐ ভার আর বইতে পারে না এবং ভেঙ্গে পড়ে। তখন আবেগের, আধ্যাত্মিক এবং বুদ্ধি বৃত্তিসঞ্জাত শক্তির উৎসগুলো বাধাগ্রস্থ হয়ে পড়ে। সুতরাং তাতে একজন মানুষ রাগে বা বিরক্তিতে, ভয়ে, অপরাধ বোধে যেন কাঁদায় নিমজ্জিত হয়ে যাবার মত অবস্থায় এসে দাঁড়ায়। আমি আপনার কষ্টভোগের ব্যাপারে কিছু জানিনা কিন্তু আমি আপনাকে এটুকু বলব যে আপনি আমাকে একজন সহানুভূতি সম্পন্ন বন্ধু বলে মনে করুন। যার সাথে সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্তভাবে কথা বলা যায় এবং তাই দয়া করে আমাকে আপনার সবকথা খুলে বলুন। আমি তাকে জোর দিয়ে বললাম যে, কোন কিছু গোপন না করা খুব জরুরী এবং সে কারণে তার মনে যত ভয়ভীতি বিরক্তি বা অপরাধবোধ সব কিছু খুলে বলে মনকে একেবারে খালি করা উচিৎ। আমি আপনাকে এটুকু আশ্বস্ত করতে পারি যে, আমাদের মধ্যে যে কথাবার্তা হবে তা সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখা হবে। আপনার কোম্পানী চায় যে আপনি আবার সেখানে ফিরে আসুন, এবং আগের মত প্রচণ্ড দক্ষতা সম্পন্ন একজন ব্যক্তির মতই।"
ধীরে ধীরে তার মনের যত কষ্ট সব তিনি স্বীকার করলেন। একের পর এক অনেক পাপ করেছেন তিনি, এবং এসব তাকে সম্পূর্ণরূপে মিথ্যাচারের গোলকধাঁধায় জড়িয়ে ফেলেছে। এসব প্রকাশ হয়ে পড়ার এক ভীতিকর অবস্থার মধ্যে বসবাস করছিলেন তিনি, এবং এসব কিছুই তার মনের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার সবচেয়ে করুণতম কারণ ছিল। এতে তার মনের আবর্জনা কিছুটা কমে গেল।
তাকে দিয়ে কথা বলানো বেশ কঠিন কাজ ছিল, কারণ তিনি আবশ্যিকভাবেই একজন সুন্দর ব্যক্তিত্বের লোক ছিলেন এবং প্রচণ্ড লজ্জাবোধ শক্তি ছিল তার। আমি তাকে বললাম যে, আমি তার মৌনতার কারণটি বুঝতে পেরেছি, তাতে তার চিকিৎসা করা যাবে কিন্তু মনখুলে পুরোপুরি সব কথা না বললে একটি সম্পূর্ণ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। যখন সবকিছু সম্পন্ন হলো, জীবনে আমি কখনও ভুলবো না যে, কিভাবে তিনি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন। পায়ে দাঁড়িয়ে তিনি বিস্তৃত সব বলতে থাকলেন। পায়ের ডগার উপর দাঁড়ালেন তিনি, সিলিংএর দিকে আঙ্গুল বিস্তৃত করে এবং গভীর নিশ্বাস টেনে তিনি বলতে শুরু করলেন, তিনি বললেন, "আমার আমার ভালো লাগছে মুক্তি এবং প্রশান্তি নাটকীয় প্রকাশ ভঙ্গীর মত লাগছিল কথাগুলো। তারপর আমি তাকে উপদেশ দিয়ে বললাম তিনি যেন প্রার্থনা করেন এবং ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চান এবং তিনি যেন তাকে শান্তি এবং পরিচ্ছন্নতায় ভরে দেন।
“আপনি কি মনে করছেন যে, আমার জোরে স্যারে প্রার্থনা করা উচিৎ? সন্দিগ্ধ চিত্তে জানতে চাইলেন লোকটি। "জীবনে কখনোও ওভাবে প্রার্থনা করিনি আমি।”
আমি বললাম 'হ্যাঁ এটা একটা চমৎকার অভ্যাস এবং আপনাকে তা শক্তি যোগাবে।' সহজ সরল একটি প্রার্থনা ছিল এটি এবং বেশ ভালোভাবেই আমি তা মনে করতে পারি, তিনি যা বলেছিলেন তা হলো, প্রিয় ঈশ্বর, আমি একজন নোংরা মানুষে পরিণত হয়েছি এবং যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য আমি দুঃখিত। আমার সমস্ত অপরাধের কথা আমি আমার বন্ধুকে জানিয়েছি। এখন আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং অনুরোধ করছি আমাকে শান্তিতে পূর্ণ করে দাও। আমাকে শক্তিও দাও যেন আমি আবার এমন অন্যায় কাজ না করি। আবার পরিচ্ছন্ন হবার কাজে ভালো হবার পথে অনেক অনেক ভালো হতে আমাকে তুমি সাহায্য কর”। ঐদিনই তিনি তার অফিসে ফিরে গেলেন তাকে আর কখনও কিছু বলতে হয়নি, এবং কিছু বলার প্রয়োজনও ছিল না কারণ শীঘ্রই তিনি আবার স্বদর্পে স্বমহিমায় আপন কাজে অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং ঐ শহরে তিনি এখন সেরা সেলস ম্যানেজার।
পরে আমি তার প্রেসিডেন্টের সাথে দেখা করেছি। তিনি বলেছিলেন বিলকে, আপনি কী করেছেন আমি জানিনা, কিন্তু সে তো দেখছি এক আগুনের গোলা।
“আমি তো কিছুই করিনি, যা করার তা করেছে বিধাতা স্বয়ং।” “হ্যাঁ,” “আমি বুঝতে পারছি। যাহোক এখন সে পুরোদস্তুর আগের বিল।”
যখন এই লোকটির জীবনী শক্তি অবসন্ন হয়ে পড়েছিল, তিনি স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রক্রিয়া প্রয়োগ করেছিলেন তার স্বাভাবিক দক্ষতা ফিরিয়ে আনার জন্য। শরীর ও মনের কষ্ট দূর করার জন্য তিনি কিছু ঔষধ প্রয়োগ করেছিলেন, যে ঔষধ তাকে আধ্যাত্মিক এবং মানসিক দিক থেকেই সুস্থ করে তুলেছে।
কলোরাডো ইউনিভার্সিটির অন্তর্ভূক্ত মেডিক্যাল স্কুল দৃঢ়তার সাথে বলে যে সাধারণ হাসপাতালে জরিপ করে দেখা গেছে, যে সমস্ত রোগের মধ্যে তিন ভাগের একভাগ রোগী প্রকৃতিগতভাবে জৈবিক কারণে আক্রান্ত হয়। তিনভাগের একভাগ রোগের উৎপত্তি হয় আবেগজনিত কারণে। Mind and body লেখক ডা. ফ্ল্যান্ডার্স জানবার বলেন, এবং জৈবিকভাবে একত্রে; তিনভাগ রোগের একভাগ সৃষ্টি হয় পরিস্কার আবেগজনিত রোগ শারীরিক বা মানসিক সেটা প্রশ্ন নয়। কিন্তু প্রতিটি রোগের প্রচণ্ডতা কতটুকু সেটাই প্রশ্ন। প্রতিটি চিন্তাশীল মানুষ যারা সবাই কখনও ব্যপারগুলোর বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে দেখেছেন তারা সবাই একমত যে, ডাক্তারদের কথাই ঠিক যখন তারা আমাদের বলেন যে বিরক্তি, ঘৃণ্য বিদ্বেষ, দুষ্ট ইচ্ছা, ঈর্ষা শত্রুতা পরায়নতা, এসব এমন এক ধানের মানষ্কৃিত যা থেকে রুগ্ন স্বাস্থ্যের উৎপত্তি ঘটে থাকে। ক্রুদ্ধ হয়ে দেখুন এবং ক্রুদ্ধভাবের অনুভূতিকে আপনার উদরগহ্বরে তলিয়ে দিয়ে নিজেই একটু অভিজ্ঞতা লাভ করুন। দেখবেন পেটটা অসুস্থ মনে হচ্ছে। শরীরে রাসায়নিক বস্তুর যে প্রতিক্রিয়া ঘাটে আবেগজনিত তীব্রতা থেকে উদ্ভুত এবং এর ফলশ্রুতি হিসেবে আসে রুম স্বাস্থ্যের অনুভূতি। কী প্রচণ্ডভাবে, কী মৃদুভাবে লম্বা সময় ধরে এমন অবস্থা চলা উচিৎ, তাতে শরীরের স্বাভাবিক অবস্থা আরো খারাপের দিকে যাবে।
আমার এক পরিচিত লোক, পেশায় ডাক্তার, তিনি আমাকে বলেছিলেন যে রোগীটি মারা গেল ঘৃণা বিদ্বেষের কারণে। ডাক্তার সাহেব আসলে অনুভব করতে পেরেছিলেন যে, রোগীটি মারা গেল তার পেছনের কারণ হলো, দীর্ঘদিনের লালিত ঘৃণাবোধ "তিনি তার শরীরকে এমনভাবে ক্ষতি করেছেন যে, তাতে তার রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে গিয়েছিল। এ কথা ডাক্তার ব্যাখ্যা করে বললেন "কাজেই যখন দারুন দৈহিক পীড়া তাকে আক্রমণ করলো তখন এ কষ্ট কাটিয়ে উঠবার মত বা নবায়িত করার মত কোন শক্তি তার ছিল না। এভাবেই ভেতরে ভেতরে তিনি তার রুগ্ন চিন্তাসম্ভূত দৃঢ়মূল বিদ্বেষের দ্বারা শারীরিকভাবে নিজেকে ধ্বংস করেছেন।”
ডাক্তার চালস মাইনার কুপার সেনফ্রান্সিসকোর এক ডাক্তার তার এক লেখার এরকম নাম করণ করেছেন- Heart to heart Advice about heart trouble. তিনি বলেছেন- "আপনি অবশ্যই আপনার আবেগসঞ্জাত প্রতি ক্রিয়াকে সংযত রাখবেন। যখন আমি আপনাকে একথা বলছি তখন একজন রোগীর রক্ত চাপ এক লাফে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ষাট ডিগ্রি বেড়ে যেতে দেখেছি। এবং ঘটনাটি ঘটেছে ক্রোধের বিস্ফোরণ থেকে, আপনি বুঝতে পারছেন যে এ ধরনের প্রতিক্রিয়া হৃদপিণ্ডের উপর কী পরিমাণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।' কোন ব্যক্তি, যে খুব দ্রুত ঘোড়া টিপে তিনি লিখেছেন যে, সে অপরকে দোষারোপ করতে অভ্যস্ত এবং কাজটা করে সে অপরের দোষ ত্রুটি দেখে আবেগতাড়িত হয়ে, যখন সে আরো বিজ্ঞতার পরিচয় দিতে পারতো। যদি সে শুধুমাত্র সে যা করলো তা যদি এড়িয়ে চলতে পারতো। কিন্তু একে এড়িয়ে চলা তার পক্ষে অসম্ভব। তিনি স্কটল্যাণ্ডের শল্য চিকিৎসক জন হান্টারের কথা উল্লেখ করেছেন। ডা; হান্টারের নিজের হার্টের অবস্থাই খারাপ ছিল, এবং আবেগের প্রাবল্য তার হার্টের উপর কিভাবে প্রভাব ফেলছিল সে সম্পর্কেও তার পুরোপুরি জানা ছিল। তিনি বলেছিলেন যে, তার জীবনটা ছিল যে কোন ব্যাক্তি কাছে অরক্ষিত এবং যে কেউ তাকে উত্যক্ত করতে পারত। এবং প্রকৃতপক্ষে তার মৃত্যু হবার কারণটা ছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হবার ফলশ্রতি এবং তার পেছনের কারণ হলো, প্রবল রাগে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন তিনি এবং তখন তিনি নিজেকে সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভুলে গিয়েছিলেন।
ডা: কুপার পরিশেষে বলেন, “যখনই কোন কাজের সমস্যা অধিনাকে বিরক্ত করতে শুরু করে অথবা আপনি ক্রুদ্ধ হতে শুরু করেন, তখন নিজেকে পুরোপুরি নমনীয় করে ফেলুন। এটা আপনার ভেতরের গোলমালের অবলম্বনকে ক্ষয় করবে। আপনার হৃদয় চায় যে ঐটা শীর্ণকায় উৎফুল্ল এবং ধীর স্থির একজন মানুষের মধ্যে স্থায়ীভাবে স্থিত হয়। এবং যিনি বুদ্ধিমত্তার সাথে স্বাস্থ্যগত মানসিক এবং আবেগপূর্ণ কাজ কর্মকে সংযতভাবে সমাধান করবেন।
সুতরাং, আপনি যদি অবস্থা সাম্য থেকে নীচে অবস্থান করেন তাহলে আমি এটাই ইঙ্গিত করবো যে, আত্মবিশ্বেষণের সন্দিগ্ধচিত্তে কিছু করছেন। সততার সাথে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন যে, আপনি কোন দুষ্ট চিন্তা অথবা কোন বিরক্তি বা কোন বিদ্বেষকে মনে আশ্রয় দিচ্ছেন কিনা, তা যদি দিয়ে থাকেন তবে এক্ষুনি তাকে মন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিন। একমুহূর্ত দেরি না করে তা থেকে মুক্তি লাভ করুন। ওসব তো অন্য কাউকে আপনি কোন আঘাত করে না। ওসব সেই ব্যক্তির কোন ক্ষতিও করেনা যার বিরুদ্ধে আপনার এমন অনুভূতি, কিন্তু জীবনের প্রতিটিদিন প্রতিটি রাতকে খেয়ে ফেলছে। অনেক মানুষই দুর্বল স্বাস্থ্যজনিত কষ্ট ভোগ করে থাকে, কিন্তু তা তারা কি খায় তার সাথে সম্পর্কিত নয়। কিন্তু এ ভোগান্তির কারণ হলো, কী তাদের খেয়ে ফেলছে। আবেগজনিত পীড়া আপনার উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায়, আপনার শক্তিকে গোপনে ধ্বংস করে, আপনার দক্ষতা কমিয়ে আপনার স্বাস্থ্যের অধিকতর পতন ঘটিয়ে এবং অবশ্যই ওগুলো আপনার সুখ স্বাচ্ছন্দকে আপনার কাছ থেকে নিষ্কাশিত করে নিয়ে যায়।
সুতরাং, আজ আমরা বুঝতে পারছি যে, চিন্তা ভাবনার ধরণ ধারণ স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। আমরা অনুধাবন করতে পারছি একজন ব্যক্তি বিরক্তি ও রোষের মাধ্যমে নিজেকে অসুস্থ্য করে ফেলে। আমরা জানি যে, অপরাধজনক চিন্তা বা কাজ করে একজন তার স্বাস্থ্যের মধ্যে ভয় নানান রকমের বিরূপ লক্ষণাদি প্রকাশ করতে পারে। ভয় কিম্বা উদ্বেগের ফলশ্রুতি হিসেবে একজনের শরীরে নির্দিষ্ট কোন বিরূপ লক্ষনও প্রকাশ করতে পারে। আমরা এও জানি যে এ ধরনের অবস্থা থেকে ভুক্তভোগী আরোগ্যও লাভ করতে পারে। যখন সে তার চিন্তা ভাবনাগুলোর পরিবর্তন ঘটায়।
সম্প্রতি এক রোগ নির্ণয়ক ব্যাক্তি এক যুবতী মহিলা সম্পর্কে আমাকে বলেছেন, ঐ মেয়েটি ১০২ তাপমাত্রা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। মেয়েটি সন্ধিবাতে আক্রান্ত ছিল, এবং তার সন্ধিস্থল বিশ্রীভাবে ফুলে উঠেছিল।
ব্যাপারটা আগাগোড়া পরীক্ষা করে ডাক্তার তাকে কোন চিকিৎসা না দিয়ে শুধুমাত্র ব্যাথা কমানোর ঔষধ দিয়েছিলেন। দু'দিন পর যুবতী মেয়েটি ডাক্তারকে জিজ্ঞেস কললো, এমন অবস্থা আমার কতদিন থাকবে এবং কতদিনইবা আমাকে হাসপাতালে পড়ে থাকতে হবে?
জবাবে ডাক্তার বললেন, আমার মনে হয় আমি তোমাকে অবশ্যই বলব, 'যে সম্ভবত তোমাকে ছ'মাস হাসপাতালে থাকতে হবে।'
আপনি বোঝাতে চাইছেন যে, ছয়মাসের আগে আমি বিয়ে করতে পারব না? আমি দুঃখিত ডাক্তার বললেন, “এর থেকে ভালো কোন কথা তোমাকে আমি শুনাতে পারব না।” কথাবার্তা হচ্ছিল সন্ধ্যে বেলায়। কিন্তু পরেরদিন সকাল বেলায় রোগীর গায়ের উত্তাপ স্বাভাবিক হয়ে গেল এবং তার সন্ধি এলাকায় ফলাও এবং পায়ের পাও অদৃশ্য হয়ে গেল। এই যে অদ্ভূত পরিবর্তন তার মধ্যে ঘটলো ডাক্তার তোর কোন হদিশ না পেয়ে। কয়েকদিন তাকে পর্যবেক্ষণ করার জন্য রেখে বাড়িতে পাঠিয়ে দিলেন।
এক মাসের মধ্যে আগের মত সমস্যাকে সাথে নিয়ে মেয়েটি আবার হাসপাতালে ভর্তি হলো। তাপমাত্রা ১০২ সন্ধিস্থল ফুলে গেছে আগের মতই। কিন্তু কারণটা কি। প্রশ্ন করতে করতে প্রকাশ পেল যে, তার বাবা কোন এক বিশেষ ব্যক্তির সাথে তাকে বিয়ে দেবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন, আর ঐ লোকটার সাথে বিয়ে দেবার কারণ হলো তার বাবা এ লোকটাকে তার ব্যবসায়িক রত্ন বলের মনে করেন। মেয়েটি তার বাবাকে ভালোবাসত তাই সে তার বাবার কথায় রাজি হলো। কিন্তু যাকে সে ভালোবাসত না তাকে বিয়ে করার ইচ্ছা তার ছিলনা। সুতরাং তার অবচেতন মন তার সাহায্যে এগিয়ে এলো বিরূপভাবে। মেয়েটিকে গ্রন্থিজ্বরে আক্রমণ করলো এবং শারীরিক উত্তাপ বেড়ে গেল। ডাক্তান তার বাবাকে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করে বললেন যদি তিনি মেয়েকে ঐ লোকটির সাথে বিয়ে দিতে শক্তি প্রয়োগ করেন, তবে মেয়েটি হয়ত বরবাত হয়ে যাবে। যখন ডাক্তার বললেন যে, তার বিয়ে করার প্রয়োজন নেই তখন মেয়েটি খুব শীঘ্রই সেরে উঠলো এবং স্থায়ীভাবে।
আবার এমনটা ধারণা করবেন না যে, আপনার যদি বাত রোগ হয়ে থাকে তবে তা হয়েছে অনাকাঙ্খিত কোন ব্যক্তির সাথে বিয়ে হবার কারণে। যে ঘটনা উপরে তুরে ধরা হলো, তা আমাদের এটাই দেখায় যে, মানসিক কষ্ট শারীরিক অবস্থার উপর গভীর প্রভাব ফেলে।
এক মনস্তত্ববিদের একটি বক্তব্য আমি খুব আগ্রহ সহকারে পড়েছিলাম যে, শিশুরা তার আশেপাশের লোকদের চেয়ে অধিক তাড়াতাড়ি ভয় ও ঘৃণা বোধে আক্রান্ত হতে পারে এবং তা থেকে হাম বা অন্য কোন ক্ষতিকর রোগ তাদের আক্রমণ করতে পারে। ভীতি নামক ভাইরাস তাদের অবচেতন মনের গুপ্ত কুঠরির গভীরে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে সারাজীবনের জন্য থেকে যেতে পারে। কিন্তু মনস্তত্ববিদ আরো বলেন, সৌভাগ্যক্রমে শিশুরা ভালোবাসা এবং ভালোকিছু এবং বিশ্রাম ও সহজে ধরতে পারে এবং তাই তারা স্বাভাবিক হয়ে যায়। স্বাস্থ্যবান শিশুতে এবং পরে প্রাপ্ত বয়স্কে পদার্পণ করে।
Ladies Home Journal, এ একটি লিখায় কন্সট্যান্স জে, ফাস্টার উল্লেখ করেছেন, Temple University of medical school এর ডা. এডওয়ার্ড উইচ এর কথা, তিনি তার এক বক্তৃতায় আমেরিকান কলেজ অব ফিজিসিয়ানদের উদ্দেশ্যে বলেছেন দীর্ঘমেয়াদী পেশী এবং গ্রন্থি ব্যথার ভোগান্তির শিকার যারা হয়ত নিকটবর্তী কারো প্রতি বিদ্ধেষ লালনের কারনেই এমন দশায় পড়েছে। তিনি আরো বললেন যে, এ ধরণের লোকেরা সাধারণত একেবারেই অসাবধান যে তারা দীর্ঘমেয়াদী বিদ্বেষ পোষণ করছে।
সম্ভাব্যবোধ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে লেখক আরো পরিষ্কার করে বলেন যে, এ বিষয়ে আরো অধিক জোর দিয়ে বলা উচিত যে, আবেগ এবং অনুভতি রোগের জীবানুর মতই বাস্তব এবং কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। বিরোধী উদ্ভূত ব্যথা এবং ভোগান্তি প্রাথমিকভাবে ঘটে থাকে আবেগ থেকে তা কাল্পনিক কিছু নয়।
নানা জীবানু থেকে (bacteria) উদ্ভুত রোগের মতই বাস্তব। কোন কারণেই রোগীকে তার এই বেড়ে ওঠা রোগ সম্পর্কে দোষ দেয়া যাবে না যে, তারা সচেতনভাবেই এটা হতে দিয়েছে। এই ধরণের ব্যক্তিরা তাদের মনের কোন রোগে ভুগছে না, বরং তাদের বিশৃঙ্খলা অনুভূতির কারনেই ভুগছে। এবং প্রায়ই এটা হয়ে থাকে বৈবাহিক কিম্বা পিতামাতার সাথে বাচ্চাদের কোন সমস্যাজনিত কারণে।
একই ম্যাগাজিনের লিখায় মিসেস নামের একজন তার হাতে এ্যাগজিমা হওয়ায় শল্য চিকিৎসকের কাছে অস্ত্রোপচার করতে এসেছিলেন। ডাক্তার একে সবকিছু খুলে বলার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন আস্তে আস্তে প্রকাশ পেতে থাকল যে, তিনি একজন কঠোর প্রকৃতির মহিলা ছিলেন। ঠোঁটজোড়া পাতলা এং তীক্ষ্ম। তার বাতের সমস্যাও ছিল।
ডাক্তার মিসেসকে মনস্তত্ববিদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন তিনি অল্পতেই বুঝতে পারলেন যে, তার জীবনে তিনি কিছু উত্তেজনাকর অবস্থায় পড়েছিলেন এবং তাই বাহ্যিকভাবে চর্মরোগে রূপান্ত হয়েছিল। রিত হচ্ছিল। এভাবেই নিজের লোকেদের উপর রূদ্র রোষ প্রকাশ করে উত্তেজনা কিছুর উপর বা ব্যক্তির উপর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
শেষে ডাক্তার তাকে স্পষ্ট জিজ্ঞেস করলেন, কিসে আপনাকে খেয়ে ফেলছে?'আপনি কোন কিছুর প্রতি খুব ত্যাক্ত বিরক্ত তাইনা?
বন্দুকে বারূদ পোড়ার শিকের মত শক্ত হয়ে গেলেন তিনি এবং সার্জারী কক্ষ থেকে হন হন করে বের হয়ে গেলেন, কাজেই আমি বুঝতে পারলাম যে, ঠিক জায়গাটিতেই আঘাত করেছি। কয়েকদিন পর আবার ফিরে এলেন মহিলা। এ্যাগজিমার কারণে শরীর মনে তার যে কষ্ট হয়েছিল সে কারণেই তিনি আমার সাহায্য নিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন, এমন কি এমনও বলা যায় যে, ঘৃণা করা ছাড়তে হয়েছিল তাকে।
সম্পত্তিগত ইচ্ছাপত্রকে কেন্দ্র করে পারিবারিক গণ্ডগোলের উৎপত্তি এবং এ কারণেই মিসেস এক্স এর ছোট ভাই তার সাথে বাজে আচরণ করে। যখন তিনি শত্রুভাবাপন্ন অবস্থা থেকে মুক্ত হন, তিনি ভালো হয়ে যান, এবং যখন তিনি তার ভাইয়ের সাথে ঝগড়া মিটিয়ে ফেলেন চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে। তার এ্যাগজিয়া উধাও হয়ে যায়।
তাই দেখা যায় যে, আবেগজনিত উপদ্রব এবং সাধারণ সর্দি লাগার মধ্যেও একটা সম্পর্ক আছে এবং ব্যাপারটি চিহ্নিত করেছেন University of Pennsy Lvania Medical School এর ডাক্তার L. J. Saul, তিনি এ বিষয়ের উপর গবেষণা করেছেন। আবেগজাত উপদ্রব নাক এবং খেলায় সাবলীল রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে বিশ্বাস করা হয়। গ্রন্থিরস পরলেও তা ক্ষতি সাধন করে। এই কারণগুলো শ্লৈষ্মিক ঝিল্লীকে অধিকতর সংবেদনশীল করে তোলাতে সহজেই সর্দি সংক্রামক বা জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যেতে পারে।
Columbia University College of Physicians and Surgeons. ডা. এ্যাডমান্ড পি. ফাওলার বলেন, "এক ধরনের সর্দি মেডিক্যাল ছাত্রদের পরীক্ষার সময় আক্রামণ করতে দেখা যায় এবং এক ধরনের সর্দি অনেক যাত্রীকেই তাদের ভ্রমণের আগে বা পরে পেয়ে বসতে দেখা যায়। যে সব মহিলারা বড় বড় পরিবারের সেবা যত্ন করেন তাদের ক্ষেত্রে ও এমন সর্দির ব্যাপারটি লক্ষ্য করা যায়। আবার এমনও দেখা যায় যে, কারো দাদী-নানী বাড়িতে থাকতে এলে কোন একজন হয়ত সর্দি রোগে আক্রান্ত হয়ে যায়, আবার দাদী-নাদী চলে গেলে সর্দি ও চলে যায়।” (ডা. ফাওলার অবশ্য কোন নাতী নাতনীর উপর দাদী-নানীর সর্দির প্রভাবের কথা সুনির্দিষ্ট করে দেখাননি। সম্ভবত তারও সর্দি ছিল।)
ডা. ফাওলার তার আরেক রোগীর একটি ঘটনা বললেন, পঁচিশ বছর বয়সের এ যুবতী একজন বিক্রয় কর্মী। সে যখন শল্য চিকিৎসা কেন্দ্রে আসেন তখন তার নাকটি ছিল বন্ধ, নসিকা ছিদ্রের ধার ছিল লালচে এবং অস্বাভাবিক ভাবে রক্ত সঞ্চয়ের জন্য পীড়িত এবং এর সাথে মাথা ব্যথা এবং মৃদু শারীরিক উত্তাপেও ভুগছিল মেয়েটি। এই লক্ষণগুলো তার মধ্যে প্রায় দু সপ্তাহ ধরে চলছিল। প্রশ্ন করতে করতে যে তথ্যটি বের হয়ে এলো তা হলো, মেয়েটি তার বাগদত্ত পুরুষটির সাথে কয়েক ঘণ্টা প্রচণ্ড ঝগড়া করার পর থেকেই এই লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে থাকে।
স্থানীয়ভাবে কিছু চিকিৎসা করায় তার ঠান্ডা সর্দি কেটে যায় কিন্তু কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুবতী মেয়েটি অন্য একটি সমস্যা নিয়ে আসে। এবার তার একই সমস্যা দেখা দেয় একজন মাংস বিক্রেতার সাথে কথা কাটা কাটির পর। এবারও স্থানীয় চিকিৎসাতে সে সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু মেয়েটি বার বার ঐ একটি সমস্যায় ভুগতে থাকে এবং প্রতিবারেই দেখা যায় কোন না কোন কারণে প্রচণ্ড রাগারাগিই এর কারণ। চূড়ান্তভাবে ডা. ফাউলার এর কারণ খুঁজে পাবার জন্য পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বুঝতে পারেন যে, তার এই দীর্ঘদিন ধরে সর্দিতে ভোগার পেছনে যে কারণটি দায়ী তা হলো তার বদমেজাজ। যখন থেকে সে শান্ত ধীর স্থির জীবন যাপন করতে শিখে তখন থেকে তার হাঁচি এবং কষ্টকর নিঃশ্বাস প্রশ্বাস উধাও হতে শুরু করলো
এখনো মানুষ চিন্তা করে যে, বাইবেলে বলা হয়েছে কাউকে ঘৃণা করো না এবং ক্রুদ্ধ হয়ো না। অর্থাৎ ওটা একটা তাত্ত্বিক উপদেশ কিন্তু বাইবেল কাল্পনিক তত্ত্ব বিষয়ক কিতাব নয়। বাইবেল ও কুরআন বিশাল জ্ঞান ভান্ডার। (প্রতিটি ধর্মগ্রন্থও তাই) সুন্দর জীবন এবং সুন্দর স্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচার বাস্তবসম্মত উপদেশে পূর্ণ গ্রন্থটি। ক্রোধ, বিদ্বেষ এবং অপরাধ আপনাকে অসুস্থ করে ফেলে, আধুনিক চিকিৎসাবিদরা আমাদের এসব কথা বলেন, যা আরেকবার প্রমাণ করে যে ব্যক্তিগত কুশলাদির জন্য পবিত্র বাইবেল একটি আধুনিক বই, কিন্তু অনেকেই বইটিকে উপেক্ষা করে অথবা বইটিকে শুধুমাত্র একটি ধর্মগ্রন্থ হিসেবেই মূল্যায়ন করে এবং নিশ্চিতভাবে মনে করে যে, বইটি বাস্তব সম্মত কিছু একটা নয়। অবশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই যে অন্যান্য বইয়ের চেয়ে বাইবেল, কুরআন এবং অন্যান্য ধর্ম গ্রন্থ গুলোই বেশি পড়া হয়।
তার কারণ হলো, গ্রন্থটিতে আমরা শুধু আমাদের ভুল ভ্রান্তিটাই ধরতে পারি তা নয় কিন্তু কি করে সে সমস্ত ভুল ভ্রান্তি সংশোধন করা যায় তাও আবিষ্কার করতে পারি।
ডা. ফাওলার আমাদের ছেলেমেয়েরা যে আবেগজনিত সর্দিতে ভোগে তার প্রতি মনোযোগ দিতে বলেন। তিনি আমাদের জানান যে, ছেলে মেয়েদের দীর্ঘমেয়াদি সর্দির আক্রমণ ঘটে পরিবারের ভগ্নদশা থেকে। পরিবারে যখন কোন নতুন শিশু জন্ম নেয় তখন অগ্রজের নিশ্বাস প্রশ্বাসজনিত ইনফেকশন হতে দেখা যায়, কারণ তখন নিজের মধ্যে একরম তাচ্ছিল্য এবং ঈর্ষা অনুভব করে। নয় বছরের এক ছেলের বাবা ছিল সেচ্ছাচারী এবং মা ছিল প্রশ্রয়দানকারী। দু'জনের মধ্যে একজনের কঠিন আচরণ এবং অন্যজনের সহিষ্ণুতা বা অনুকম্পা সুস্পষ্টতই ছেলেটিকে একটি উপদ্রবের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তার বাবা তাকে শান্তি দেবে। বিশেষ করে এই ভয়ে সে কুঁকড়ে থাকত। ছেলেটি কয়েক বছর ধরে কার্শি এবং শ্বাস কষ্টে ভোগে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেল যে সে যখন বাপ-মা থেকে দূরে ক্যাম্পে থাকতে গেল তখন তার সর্দি সমস্যা উধাও হয়ে গেল।
যেহেতু উত্তেজনা, ক্রোধ, ঘৃণা এবং বিদ্বেষের শরীর ও মনকে অসুস্থ্য করে ফেলার শক্তি আছে, কিন্তু তার প্রতিকারও তো থাকার কথা, কি সেই প্রতিকার? স্পস্টতই তা হলো মন মানসিকতাকে সুন্দর ইচ্ছা দ্বারা ক্ষমাশীলতার দ্বারা, বিশ্বাস, ভালোবাসা এবং শান্ত সৌম্যতার দ্বারা পরিপূর্ণ করা। কিন্তু কিভাবে তা সম্পাদন করা যেতে পারে? নীচে এ সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেয়া হলো। ক্রোধে আক্রান্ত এমন অনেক আবেগপ্রবণ ব্যক্তি তাদের দুর্দশায় সাফল্যের সাথে এগুলো ব্যবহার করেছেন। এসব পরামর্শের সামঞ্জস্য প্রয়োগ আপনাদের মধ্যে কুশল সমৃদ্ধ অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
১। মনে রাখবেন ক্রোধ হলো এক ধরণের আবেগ, এবং আবেগের সময়ই উষ্ণ, এমনকি বেশ উত্তপ্তও হয়ে থাকে। কাজেই আবেগ কমাতে হলে তাকে ঠাণ্ডা করতে হবে। এবং কিভাবে তা ঠাণ্ডা করবেন? যখন একজন ব্যক্তি ক্রুদ্ধ হয়, তখন দেখা যায় তার মুষ্ঠি দৃঢ়ভাবে যেন কিছু চেপে ধরতে চায়, কুঁচকে উড়াও তীক্ষ্ম হয়ে যায় পেশী উত্তেজনায় টান টান হয়ে ওঠে, দেহ শক্ত হয়ে যায় মনস্তাত্বিকভাবে আপনি লড়াই করার জন্য আত্মবিশ্বাসী এবং পুরোপুরি আত্মনিয়ন্ত্রিত, এবং দেহরস সারা শরীরের বিচ্ছুরিত হচ্ছে। একজন প্রাচীন গুহাবাসীর মতই সে স্নায়ু চাপে পরিচালিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই এরনের আবেগজনিত উত্তাপ প্রতিহত করুন। আর একথা সত্যি যে আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না, তার জন্য দরকার পানির। এক্ষেত্রেও মনের শীতলতা দিয়ে এ উত্তাপকে জমিয়ে ফেলুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই ইচ্ছা শক্তির দ্বারা হাতকে দৃঢ় মুষ্ঠিবদ্ধতা থেকে মুক্ত করে রাখুন। আঙ্গুলগুলো সোজা করে রাখুন। বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার কন্ঠস্বর নীচু খাদে নামিয়ে আনুন, এমনকি ফিস ফিস শব্দের সমপর্যায়ে নিয়ে আসুন। মনে রাখবেন যে, ফিস ফিস শব্দ করে কারো সাথে বাক যুদ্ধ করা যায় না। চেয়ারে শরীরটাকে এলিয়ে দিন অথবা যদি সম্ভব হয় এমন কি শুয়েও পড়তে পারেন,। কারণ শায়িত অবস্থায় উন্মাদ হওয়া কঠিন।
২। জোরে শব্দ করে বলুন, "বুদ্ধিহীন হয়ে যেওনা। কারণ বুদ্ধিহীনতা আমাকে কোথাও পৌঁছে দিতে পারবে না, কাজেই একে বর্জন করুণ। ঠিক সেই মুহূর্তে প্রার্থনা করা হয়ত কিছুটা কঠিন হবে, কিন্তু চেষ্টা করুন অন্তত সৃষ্টিকর্তাকে মানস পর্দায় ধারন করুন এবং দিওয়ানা হয়ে শুধু তার কথাই ভাবুন। তা হয়ত করা শক্ত, কিন্তু দেখা যাবে আপনার চেষ্টা আপনার ক্রুদ্ধ আবেগকে ছিন্ন করে দিয়েছে।
৩. রুদ্ররোষ ঠান্ডা করার সবচেয়ে ভালো একটি কৌশল সম্পর্কে পরামর্শ দিয়েছেন মিসেস গ্রেস আওয়ারসলার। তিনি আগে স্বাভাবিকভাবে যে কৌশলটি কাজে লাগিয়েছেন তা হলো 'দশ' পর্যন্ত গণনা পদ্ধতি', কিন্তু তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, বিধাতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করার সময় প্রথম দশটি শব্দ খুব ভালোভাবে কাজ করেছে। “হে আমাদের স্বর্গস্থ পিতা, তোমার নাম পুজিত হোক" যখন আপনি ক্রুদ্ধ তখন ঐ বিশেষ শব্দগুলো দশবার বলুন এবং তাতে আপনার ক্রোধ আপনার উপর আধিপত্য করার শক্তি হারাবে।
৪। ক্রোধ হল এমন এক অবস্থা যা দীর্ঘসময় ধরে মনের ভেতর জড়ো হওয়া বহুবিধ ছোট খাট উত্তেজনার প্রচণ্ডতা প্রকাশ করে থাকে। এই যে উত্তেজনা এগুলো কিছুটা ছোটখাট কিন্তু এর একটা আরেকটার সাথে সংযুক্ত হয়ে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে এগুলো এমন প্রচণ্ডভাবে জ্বলে উঠে যে, তা প্রায় আমাদের অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়। কাজেই কি কি কারণে আপনার মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় তার একটা তালিকা তৈরি করুন। কোন ব্যপার নয় যে কেমন ফলস্বরূপ এর আগমন ঘটতে পারে। অথবা প্রতিটি ব্যাপারই কেমন অসংগত হতে পারে কিন্তু ঠিক একইভাবে এর তালিকা তৈরি করুন। এমনটা করার উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধে ভরা ছোট ছোট নদীগুলোকে শুকিয়ে ফেলা, যেগুলো ক্রোধে ভরা বড় নদীগুলোকে খাবার যোগান দেয়।
৫। প্রতিটি পৃথক পৃথক উত্তেজনাকে একেকটি প্রখন্দার বিষয়ে পরিণত করুন। প্রতিটি বিষয়ে জয় লাভ করার চেষ্টা করুন একবারে একটা। আপনার সমস্ত ক্রোধ ধ্বংস করার চেষ্টা করার বদলে, যেগুলোকে আমরা কঠিন শক্তি হিসেবে সনাক্ত করেছি প্রার্থনার দ্বারা তার প্রতিটি বিরক্তি বিতৃষ্ণা যেগুলো আপনার ক্রোধকে খাবার দিয়ে উজ্জীবিত করে থাকে তা ছেটে ফেলা সম্ভব। এভাবে আপনি আপনার ক্রোধকে দুর্বল করতে পারবেন এমন একটি জায়গা পর্যন্ত যেখানটায় আপনি তাৎক্ষনিকভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।
৬। নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন যাতে সবসময় ক্রোধের প্রচণ্ড ও আকস্মিক অনুভূতি থেকে আপনি বলতে পারেন, আবেগতারিত হবার কারণে যা আমার উপর ঘটছে তা কি আমার জন্য মূল্যবান কিছু? আমি নিজে নিজেই বোকা বনে যাচ্ছি। এভাবে আমি বন্ধু বান্ধব সব হারিয়ে ফেলব। এই কৌশলটির পুরোপুরি ফল যাতে পাওয়া যায় তার জন্য প্রতিদিন কিছু সময় নিজে নিজে বলতে অভ্যাস করুন, এটা কখনও ভালো কাজে লাগার মত মূল্যবান কিছু নয়, বরঞ্চ যে কোন বিষয়ে ক্ষিপ্ত করে তুলবে। আরো নিশ্চিত হোন যে, এটা ঐ রকম কিছুর তুল্য সমান নয় যে, ১০০০ হাজার ডলার মূল্যের আবেগ পাঁচ সেন্ট মূল্যের উত্তেজনার মত হবে।
৭। যখন কোন কাষ্টদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি হয় যত শীঘ্র সম্ভব তাকে সহজ সরল করে ফেলুন। একটা মিনিট ও গুম হয়ে চিন্তা করবেন না, তাতে আপনার কোন উপকার হবে না। অবস্থা বুঝে কিছু একটা করুন। মনে মনে রাগ করার কোন সুযোগ দিবেন না। অথবা আত্মজাত দুঃখ করুণাকে কোনভাবেই লালন করবেন না। ক্রুদ্ধ চিন্তা লালন করে, বিষণ্ণ হয়ে থাকবেন না। যে মুহূর্তে আপনার অনুভূতি পীড়িত বোধ করে ঠিক তখনই সেরকম কিছু করুন। আপনার আঙ্গুলে আঘাত লাগলে আপনি যা করেন, অতিসত্তর আরোগ্যকর কিছু সেক্ষেত্রে প্রয়োগ করুন। যদি তা না করেন তাহলে পরিস্থিতি সার্বিক হারে বিকৃত হয়ে যেতে পারে। সুতরাং অনতিবিলম্বে সৃষ্ট ক্ষতের উপর কিছু আধ্যাত্মিক আয়োডিন প্রয়োগ করুন এবং সেই আয়োডিন হলো ভালোবাসা ও ক্ষমাসিক্ত প্রার্থনা।
৮। দুঃখ কষ্ট নিষ্কাশিত হবার মানসিক প্রণালী সক্রিয় রাখুন অর্থাৎ মনকে খোলা মেলা রাখুন এবং দুঃখ কষ্টকে বের করে দিন। বিশ্বস্ত মনে হয় এমন কারো কাছে যান এবং তার কাছে আপনার মনের এসব তপ্ত বস্তু ঢেলে দিন যে পর্যন্ত না এর সমস্ত চিহ্ন পর্যন্ত আপনার মধ্যে থেকে বিলুপ্ত না হয়, তারপর এসব ভুলে যান।
৯। স্বাভাবিকভাবে সেই ব্যক্তির জন্য প্রার্থনা করতে শুরু করুন যে ব্যক্তি আপনার অনুভূতিকে আঘাত করেছে। যে পর্যন্ত না আপনার বিদ্বেষ ভাবটি পিতিয়ে না পড়ে সে পর্যন্ত চালিয়ে যেতে থাকুন। এমন মঙ্গল কামনা কোন কোন সময় দেখবেন মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনি আপনার ফল পেয়ে যাবেন। কোন এক লোক এই চমৎকার পদ্ধতিটি প্রয়োগ করে আমাকে বলেছেন সে তিনি তার দুঃখকষ্ট ভাবটি থিতিয়ে পড়া এবং শান্তি ফিরে আসা পর্যন্ত প্রার্থনায় রায়িত সময়ের একটা হিসেব রেখেছিলেন। তিনি বললেন যে, এর জন্য চেয়েছিলেন প্রার্থনা করতে হয়েছিল তাকে ঠিক তার নিজস্ব ধরনে প্রার্থনা করেছিলেন তিনি নিশ্চিত ইতিবাচকভাবে কাজ করতে থাকে তার এই প্রার্থনা।
১০। ছোট্ট এই প্রার্থনাটি বলুন, খ্রিস্টের ভালোবাসায় আমার হৃদয় পূর্ন হোক। (যার যার ধর্ম গুরুকে স্মরণ করুণ) তারপর এর সাথে এই লাইনটি ও বলুন (যীশুর ভালোবাসা (অমুক অমুকের ... প্রয়োজন মত নাম বসিয়ে নিন।) এবং আমার আত্মা প্লাবিত কুরুক) এই প্রার্থনা করুন এবং এমনটা মনে করেই করুন যে আপনি এ থেকে মুক্তি পাবেন।
১১। যীশু খ্রীষ্টের সেই উপদেশটি অনুসরণ করুন অর্থাৎ আপনার শত্রুকে সত্তরবার সাতবার (৭০০৭) ক্ষমা করুন অর্থাৎ সংখ্যাটি দাঁড়ায় ৪৯০ বার। কিন্তু অত সংখ্যান্কবার ক্ষমার আগেই আপনি বুঝতে পারবেন যে, আপনার নিজেকে বিদ্বেষ মুক্ত লাগছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে এই অসভ্য, বিশৃঙ্খল আদিম উত্তেজনা যেগুলো আপনার মধ্যে অগ্নিশিখার মত জ্বলছে এবং দাউ দাউ করে উর্ধ্বমুখী হয়ে উঠছে। তাকে বশীভূত করতে সেইসব ধর্ম গুরুদের হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন যুগে যুগে যারা আমাদের উদ্ধার করতে এই জগতে আবির্ভূত হয়েছেন যীশুখ্রীষ্টের কাছে এই আবেদন রেখে এই পাঠটি শেষ করুন, এমনকি তুমি তো একজন মানুষের নিয়ম নীতিও পরিবর্তন করতে পার কাজেই এখন আমি তোমাকে এই প্রার্থনা জানাচ্ছি যে, তুমি আমার স্নায়ুর পরিবর্তন করে দাও। যেহেতু তুমি আমার মাংসজনিত পাপের উপর আধিপত্য করতে পার তাই আমাকে এমন শক্তি দাও, যেন আমি আমার ইচ্ছাকৃত পাপের উপর শক্তি প্রয়োগ করতে পারি। আমার মেজাজের তপ্ততাকে তোমার নিয়ন্ত্রণাধীনে রাখ। আমার স্নায়ুশক্তির উপর তোমার আরোগ্যকর শান্তি দান কর এবং আমার আত্মার উপর ও সেই শান্তি বর্ষণ কর। যদি আপনি ক্রুদ্ধ মেজাজে বেষ্টিত হয়ে পড়েন তবে উপরিউক্ত প্রার্থনাটি দিনে তিনবার আবৃত্তি করুন। এমন পরামর্শও দেয়া যেতে পারে যে প্রার্থনাটি আপনি একটি কার্ডে ছাপুন এবং আপনার ডেস্কের ভেতর রেখে দিন, অথবা রান্নাঘরের কুলুঙ্গিতে অথবা আপনার পকেট বইয়ের ভেতরেও রেখে দিতে পারেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00