📄 সক্রিয়তা অনুশীলন করুন
সেরা ধ্যানধারণাই সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়, যদি না তা কাজে প্রয়োগ করা হয়। যে ধারণাটি কাজে প্রয়োগ করা হয়েছে তা অন্য যেকোনো অলস ধারণার চেয়ে শতগুণ ভালো। সফল মানুষেরা সবসময় সক্রিয় বা কর্মতৎপর হন, তারা কাজ করায় বিশ্বাসী। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ তাদের কাজ ক্রমাগত পিছিয়ে দেয়।
সক্রিয় হওয়ার জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতির দোহাই দেবেন না। কোনো কিছুই ১০০ শতাংশ নিখুঁত হয় না। কাজ করার মাধ্যমেই ভয় দূর হয়। যে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন তা শুরু করে দিলেই দেখবেন ভয় উবে গিয়েছে।
কাজ শুরু করলে অনুপ্রেরণা আপনিই আসে। অনেক সময় প্রেরণার জন্য প্রতীক্ষায় বসে না থেকে 'যান্ত্রিক উপায়ে' কাজ শুরু করা উচিত। মনোসংযোগের জন্য কাগজ-কলম ব্যবহার করুন। পেন্সিল দিয়ে কাগজে কিছু লিখতে থাকলে বা নকশা আঁকতে থাকলে মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ কাজে কেন্দ্রীভূত হয়।
'এখনই শুরু করব'—এই মানসিকতা গড়ে তুলুন। 'আগামীকাল', 'পরে' বা 'আরেকটু ভালো সময় এলে'—এগুলো ব্যর্থতার লক্ষণ। প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া বা উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষমতা আপনাকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলবে। আপনার কাজের ক্ষেত্রে বা সমাজে যদি কোনো উন্নতির প্রয়োজন দেখেন, তবে নিজেই তা শুরু করুন। জেহাদ ঘোষণা করুন উন্নতির পক্ষে এবং স্বেচ্ছায় কাজে এগিয়ে আসুন। যারা সক্রিয় ও তৎপর, বাকিরা তাদেরই অনুসরণ করে।
📄 পরাজয়কে কীভাবে জয়ে পরিণত করা যায়
পরাজয় বা ব্যর্থতার প্রতি আপনার প্রতিক্রিয়া কী, তার ওপরই আপনার সাফল্য নির্ভর করে। সফল মানুষ পরাজয় থেকে শিক্ষা নেয় এবং নিজেকে সংশোধন করে। হেরে যাওয়ার পর যারা হাল ছেড়ে দেয় বা ভাগ্যের দোহাই দেয় তারা কোনোদিন সফল হতে পারে না।
পরাজয়কে জয়ে পরিণত করার উপায়:
১। নিজের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিন।
২। নিজের গঠনমূলক সমালোচনা করার সাহস রাখুন।
৩। ভাগ্যকে দোষ দেবেন না। পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করুন।
৪। অধ্যবসায়ের সাথে সাথে নতুনভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করুন। একই পথে ব্যর্থ হলে ভিন্ন পথে চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন পরাজয় কেবল মনের একটি অবস্থা। প্রতিটি সমস্যার একটি সমাধান আছে। যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে সমাধান আছে, তবে আপনার মন তা খুঁজে বের করবে। যখন আপনি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তখন একটু বিরতি নিন এবং নতুন করে চিন্তা করুন। প্রতিটি ঘটনার একটি ভালো দিক থাকে, সেই ভালো দিকটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।
📄 নিজেকে গড়ে তুলতে লক্ষ্য স্থির করুন
মানুষের প্রতিটি অগ্রগতি তার কল্পনায় আগে লক্ষ্য হিসেবে জন্ম নেয়। লক্ষ্য হলো একটি সুনিশ্চিত উদ্দেশ্য যার জন্য মানুষ তৎপর হয়ে কাজ করে। লক্ষ্য স্থির না করা পর্যন্ত প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া অসম্ভব।
আজ থেকে ১০ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান তার একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করুন। লক্ষ্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে জীবনকে তিনটি ভাগে ভাগ করুন: কর্মক্ষেত্র, পরিবার এবং সামাজিক জীবন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—দশ বছর পর আপনার আয় কত হবে? আপনি কতটুকু দায়িত্ব গ্রহণ করতে চান? আপনার পরিবারের জীবনযাত্রার মান কেমন হবে? আপনার সামাজিক অবদান কী হবে?
লক্ষ্যের প্রতি নিজেকে সমর্পণ করুন। যখন আপনার লক্ষ্যটি আপনার মনে দৃঢ়ভাবে গেঁথে যাবে, আপনার অবচেতন মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনাকে সেই পথে পরিচালিত করবে। এটি আপনাকে প্রতিদিনের কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। এক লাফে শিখরে পৌঁছানো যায় না, তাই এক একটি পদক্ষেপে অগ্রসর হোন।
📄 ৩০ দিনে উন্নতির গাইড
ক- এই বদঅভ্যাসগুলি ছাড়ব:
১। কাজ স্থগিত রাখা।
২। না-ধর্মী, হতাশাদায়ক কথাবার্তা।
৩। দিনে ৬০ মিনিটের বেশি টিভি দেখা।
৪। পরচর্চা করা।
খ- এই সু-অভ্যাসগুলো শুরু করব:
১। প্রতিদিন সকালে নিজের চেহারা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা।
২। আগের দিন রাত্রে পরের দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা।
৩। সুযোগ পেলেই অন্যের প্রশংসা করা।
গ- এই কাজগুলি করে আমার নিয়োগকর্তার দৃষ্টিতে আমার উপযোগিতা বৃদ্ধি করব:
১। আমার নিম্নস্থদের বিকাশের আরো সুযোগ দেব।
২। আমার কোম্পানির কাজকর্মের বিষয়ে ও গ্রাহকদের বিষয়ে আরো জানব।
৩। কোম্পানিকে আরো কার্যকর করে তোলার জন্য তিনটি বিশেষ পরামর্শ দেব।
ঘ- বাড়িতে এগুলি করে আমার উপযোগিতা বৃদ্ধি করব:
১। আমার স্ত্রীর ছোট ছোট অবদান, যা আমি এখনও পর্যন্ত উপেক্ষা করছি, সেগুলির জন্য তার প্রশংসা করব।
২। সপ্তাহে একবার পরিবারের সবার সঙ্গে বিশেষ কিছু একটা করব।
৩। প্রতিদিন একঘণ্টা পরিবারের প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগ দেব।
ঙ- এভাবে আমার মনকে আরো তীক্ষ্ণ, বিচক্ষণ করে তুলব:
১। প্রতি সপ্তাহে দু'ঘণ্টা আমার পেশা সম্পর্কিত পত্রিকা পড়ায় মনোনিবেশ করব।
২। একটি স্বাবলম্বনের বই পড়ব।
৩। চারটে নতুন বন্ধু তৈরি করব।
৪। দিনে ৩০ মিনিট শান্তভাবে, ভাবনা চিন্তায় মনোঃসংযোগ করব।