📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?

📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?


সৃজনশীলতা অর্থাৎ যে কোনো কাজ করার একটি উন্নততর পথের অন্বেষণ। ঘরে বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে-যে কোনো রকমের সাফল্যের মূলে আছে আরো ভালোমতো কাজ করার উপায়ের উদ্ভাবন।

পদক্ষেপ এক: বিশ্বাস করুন, কাজটা করা সম্ভব। কাজটা করা সম্ভব-এই বিশ্বাসই কীভাবে-করা-সম্ভব সেই পথটা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। যখনই আপনি একটা কাজকে অসম্ভব মনে করবেন, আপনার মনও কেন অসম্ভব তা প্রমাণ করার কারণ খুঁজবে। বিশ্বাস থেকেই সৃজনশীলতার উদ্ভব হয়।

বিশ্বাসের সাহায্যে সৃষ্টিশীল প্রতিভার উদ্ভবের দু'টি উপায়:
১। আপনার মন থেকে, আপনার কথাবার্তা থেকে 'অসম্ভব' শব্দটা মুছে ফেলুন।
২। এমন একটা কাজের কথা মনে করুন যা অনেকদিন যাবৎ করতে চাইছেন অথচ কিছুতেই করতে পারছেন না। এবার কেন কাজটা করা সম্ভব তার একটা তালিকা তৈরি করুন।

সফল মানুষ মনে করে: কীভাবে আমার কাজে উন্নতি করা যায়? কীভাবে আরো ভালো কাজ করা যায়? উন্নতিকে আপনার শ্রেষ্ঠতম পণ্য করে তুলুন। 'আরো ভালো করতে পারি', এই জীবনদর্শন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সফল প্রগতিশীল মানুষ আরো বেশি কাজ করার সুযোগ সাগ্রহে স্বীকার করে নেয়। মনকে সজাগ রাখতে প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন। বড় বড় মানুষ অন্যের কথা শোনে, তুচ্ছ মানুষ শুধু কথা বলে। অন্যদের পরামর্শ ও ধ্যানধারণা আপনার মনকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করবে।

নতুন ধারণা আপনার কল্পনাপ্রসূত ফল। আইডিয়া বিকশিত করতে হলে এগুলি জরুরি:
১। আইডিয়াকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। নতুন আইডিয়া এলে তৎক্ষণাৎ লিখে রাখুন।
২। সেই আইডিয়াগুলি আবার পরীক্ষা করে দেখুন। আইডিয়ার একটি ফাইল তৈরি করুন।
৩। আইডিয়ার চাষ করতে হবে। আইডিয়া বৃদ্ধি করতে হবে। তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন।

আপনার সৃজনশীল শক্তি বিকাশের ৫টি উপায়:
১। প্রথাগত পুরাতনি চিন্তাধারা যেন আপনার মনের প্রতিবন্ধক না হয়। নতুন পন্থা অনুসরণ করুন।
২। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'আরো উন্নতি কীভাবে করা যায়?'
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'কীভাবে আরো বেশি কাজ করা যায়?'
৪। প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন।
৫। মনকে প্রসারিত করুন। নতুন আইডিয়া শিখতে পারে এমন মানুষের সংস্রব খুঁজুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করবেন তাই হয়ে উঠবেন

📄 আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করবেন তাই হয়ে উঠবেন


ভাবনা চিন্তা দেখেই মানুষের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়। নিজেদের প্রতি আমাদের মনোভাব দেখে অন্যরাও আমাদের সঙ্গে সে-রকমই ব্যবহার করে। আমাদের যেমন ব্যবহার পাওয়া যায় বলে মনে হয়, সে রকম ব্যবহারই আমরা বাস্তব জগতে পাই। মনোভাব থেকেই আচরণে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। নিজেকে যে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, সে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য নিজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে; তাহলে বাকিরাও আপনাকে গুরুত্ব দেবে।

আপনার আত্ম-সম্মান বাড়ানো ও অন্যদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম পাওয়ার উপায়:
১। নিজের চেহারা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুন: চেহারা কথা বলে। সুসজ্জিত মানুষকে দেখলে ভালো ধারণা হয়। সঠিক পোশাক পরুন। দ্বিগুণ দামে অর্ধেক পরিমাণ জিনিস কিনুন অর্থাৎ জিনিসের গুণমানের দিকে নজর দিন। সুন্দর চেহারা আপনার আত্মপ্রত্যয় বাড়ায়।
২। নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন: যে রাজমিস্ত্রি নিজেকে এক বিশাল গির্জার নির্মাতা বলেছিল সে ভবিষ্যতে অনেক উপরে উঠেছিল। নিজের কাজের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পদোন্নতি ও সম্মান নির্ধারণ করে।
৩। দিনে বেশ কয়েকবার নিজের উৎসাহবর্ধন করুন: নিজেকে নিজের কাছে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন তৈরি করুন। নিজের বিশেষ গুণগুলি নিয়ে একটি ৬০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন তৈরি করুন এবং তা প্রতিদিন নিজেকে পড়ে শোনান।
৪। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কী এভাবে কাজ করে?': যখন দুশ্চিন্তা হবে বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তখন এই প্রশ্নের সাহায্যে নিজেকে পরিচালিত করুন।

মনে রাখবেন: নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখান, নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মতো ভাবনা চিন্তা করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 পরিবেশ সামলাতে শিখুন, প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন

📄 পরিবেশ সামলাতে শিখুন, প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন


মনটা এক অদ্ভুত মেশিন। শরীর যেমন আমাদের খাবার-দাবারের প্রতিফলন, মন পরিবেশের প্রভাবের প্রতিফলন। পরিবেশ আমাদের গড়ে তোলে, আমাদের ভাবনা চিন্তাকে প্রভাবিত করে। উচ্চাভিলাষী মানুষের সঙ্গে থেকে আমরাও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠি। প্রগতিশীল মানুষের সংস্পর্শে থাকুন।

নিজেকে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করার উপায়:
১। যারা বলে কাজটা অসম্ভব, তারা প্রায় অনিবার্যভাবে অফল মানুষ। তাদের থেকে দূরে থাকুন। মহৎ ব্যক্তি বড় বিশাল ভাবনা চিন্তাকে কখনই হেসে উড়িয়ে দেয় না।
২। সঠিক পরামর্শের উৎস সম্বন্ধে সজাগ থাকুন। সফল মানুষের পরামর্শ নিন। প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে সেই বিষয়টির বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করুন।
৩। আপনার সামাজিক পরিবেশ 'প্রথম শ্রেণি'র করে তুলুন। নতুন নতুন মানুষের সাথে মেলামেশা করুন। ভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। এতে আপনার চিন্তার পরিধি বাড়বে।
৪। মনকে বিষিয়ে যেতে দেবেন না। পরনিন্দা বা পরচর্চাকে প্রশ্রয় দেবেন না। পরচর্চা মানেই অন্যের বিষয়ে নিন্দা করা যা আপনার ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেয়। অন্যের ব্যাপারে আলোচনা করুন, তবে তা যেন ইতিবাচক হয়।
৫। সব কাজে প্রথম শ্রেণিতে থাকবেন। প্রথম শ্রেণির জিনিসে আসলে সাশ্রয়ই হয়। সস্তার তিন অবস্থার চেয়ে একটি ভালো জিনিস ব্যবহার করা বা ভালো সেবার সান্নিধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়।

পরিবেশ যেন আপনার স্বপক্ষে কাজ করে। সফল মানুষের পরামর্শ নিন, মনকে প্রগতিশীল রাখুন এবং সবসময় প্রথম শ্রেণির মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন।

টিকাঃ
১. 'সস্তার তিন অবস্থা' একটি প্রচলিত বাংলা প্রবাদ যার অর্থ সস্তা জিনিসের স্থায়িত্ব কম হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের সঙ্গী করে নিন

📄 আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে নিজের সঙ্গী করে নিন


আপনি কী অন্যের মনের কথা বুঝতে পারেন? অপরের মনের কথা বোঝা কিন্তু খুব সহজ ব্যাপার। হয়তো আপনি এভাবে কথাটা ভেবে দেখেননি, অথচ আপনি কিন্তু প্রতিদিন অন্যের মনের কথা পড়ার চেষ্টা করছেন, অন্যরাও আপনার মনের ভাব বোঝার চেষ্টা করছে।

কী করে এমন হয়? দৃষ্টিভঙ্গি বুঝে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এমনটি হয়। কয়েক বছর আগে বিং ক্রসবীর গাওয়া জনপ্রিয় গান 'ইউ ডোন্ট নীড টু নো দ্য ল্যাঙ্গুয়েজ টু সে ইউ আর ইন লাভ' মনে আছে কী? ঐ সহজ সরল গানের ভাষায় লুকিয়ে রয়েছে মনোস্তত্ত্বের গূঢ় কথা। ভালোবাসার কোনো ভাষা নেই। যে কখনো ভালোবেসেছে সেই জানে এ কথা।

একই রকমভাবে 'তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে' বা 'আমি তোমাকে মোটেই পছন্দ করি না' কিংবা 'আমার মনে হয় আপনি একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' বা 'তাচ্ছিল্যের পাত্র' কিংবা 'তোমার নিজের কাজটা বেশ পছন্দ' বা 'আমি বিরক্ত' বা 'আমি ক্ষুধার্ত' বোঝাতে ভাষা জানা বা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। এর জন্য কোনো শব্দেরই দরকার হয় না।

আমাদের ভাবনা চিন্তা আমাদের কাজে, ভঙ্গিতে স্পষ্ট ভাবে ধরা পড়ে। দৃষ্টিভঙ্গি বা আচরণ ভঙ্গি মনের আয়না। এতে ভাবনা চিন্তার প্রতিফলন লক্ষণীয়। ডেস্কে বসা ভদ্রলোকের দিকে তাকালে তার মনের ভাবটা বুঝতে পারবেন। তার ভঙ্গি ও আচরণ দেখে কাজের প্রতি মনোভাব বোঝা যায়। সেলসম্যান, ছাত্র, স্বামী-স্ত্রী, সবার মনোভাব বোঝা সম্ভব।

ভঙ্গি যে শুধু চোখে দেখা যায় তাই নয়, শোনাও যায়। যখন কোনো সেক্রেটারি 'সুপ্রভাত, মি. সুমেকারের অফিস থেকে বলছি,' কথাগুলি বলে তখন শুধু যে ঐ অফিসের পরিচয় জানায় তাই নয়, সে বলে, 'আমি আপনার সঙ্গে কথা বলে আনন্দিত, আমার আপনাকে ভালো লেগেছে, আপনি গুরুত্বপূর্ণ মানুষ, আমি নিজের কাজকে ভালোবাসি।' অথচ আরেকজন সেক্রেটারি ঐ একই কথা বলে অথচ মনে হয় 'দূর ছাই, জ্বালিয়ে মারল! ফোন কেন করেছেন? আমার কাজটা বড় বিরক্তিকর আর আপনারা আরো বিরক্ত করেন।'

মুখভঙ্গি, গলার আওয়াজ ও সুর শুনে মনের ভাবটা সহজেই বোঝা যায়। নেতৃত্বের ক্ষেত্রে সঠিক মনোভাব থাকলে আমাদের ক্ষমতা সর্বাধিক ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে, সুফল অবশ্যম্ভাবী হয়।

এই তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব বিকশিত করুন:
১। 'সক্রিয়' মনোভাব রাখুন।
২। 'আপনি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' মনোভাব পোষণ করুন।
৩। 'কাজ সবার আগে' মনোভাব পোষণ করুন।

অন্যদের কাজে উদ্দীপ্ত উৎসুক করে তোলার আগে নিজে উৎসাহিত হয়ে উঠুন। ইতিহাস থেকে আমরা শিখি—ছাত্রদের উৎসাহের অভাবের আসল কারণ প্রফেসরের নিজের উদ্দীপনার অভাব। যার নিজের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনার অভাব, সে কিছুতেই অন্যদের মনে উৎসাহ জাগাতে পারবে না। উৎসাহ বৃদ্ধি করার উপায় হলো—গভীরভাবে অধ্যয়ন করে দেখুন। যে বিষয়টিতে আপনার কোনো আগ্রহ নেই সেই বিষয়টিতে উৎসাহিত হয়ে ওঠার জন্য বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করুন। গভীরভাবে দেখলে আপনার উৎসাহ উদ্দীপনা বাড়বে।

সব কাজেই চাই আগ্রহ ও উদ্দীপনা। হাত মেলানোর সময় সোৎসাহে এগিয়ে আসুন, জোরে হাত মেলান। আপনার হাসিটাকে জীবন্ত করে তুলুন। 'আপনি-গুরুত্বপূর্ণ' মনোভাব বিকশিত করুন। প্রতিটি মানুষ নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে চায়। কোনো মানুষকে গুরুত্ব দিলে সে আপনার জন্য আরো তৎপর হয়ে কাজ করবে। অন্যদের গুরুত্বপূর্ণ অনুভব করায় সাহায্য করে আপনিই লাভবান হবেন, নিজের গুরুত্বটা উপলব্ধি করবেন।

অন্যদের গুরুত্ব দেওয়ার তিনটি উপায়:
১। অন্যের প্রশংসা করতে শিখুন।
২। লোকদের নাম উল্লেখ করে ডাকার অভ্যাস করুন।
৩। সব প্রশংসা নিজে নিয়ে নেবেন না, বাকিদের তাতে অংশ দিন।

কাজে প্রাধান্য দিন, অর্থ আপনাকে অনুসরণ করতে বাধ্য। কোম্পানি বেতন বাড়ালে তবেই ভালো কাজ করব—এভাবে ভাবা ভুল। আরো ভালো করে দেখাতে পারলে তবেই বেতন বাড়বে। কাজ ও সেবার বীজ বপন করলে তবেই ফল পাওয়া যাবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px