📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়

📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়


সাফল্য যাচাই করতে গেলে তা ইঞ্চি বা পাউন্ড, কলেজের ডিগ্রী বা পারিবারিক ঐতিহ্য দিয়ে করা যায় না, মানুষের চিন্তার পরিমাপ তার সাফল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বোধ হয় নিজেকে তুচ্ছ মনে করা, নিজেকে ঠকানো। নিজের সঠিক মূল্যায়নের একটি উপায় বলি:
১। নিজের পাঁচটি বিশেষ গুণ খুঁজে বের করুন।
২। প্রতিটি গুণের পাশে এমন তিনজনের নাম উল্লেখ করুন যারা খুবই সফল হয়েছিল অথচ আপনার মতো গুণ হয়তো তাদের নেই। এরপর দেখবেন অন্তত একটি বিষয়ে আপনি অনেক সফল মানুষের চেয়ে সেরা।

বড় বড় চিন্তা করার জন্য এমন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করতে হবে যাতে কল্পনায় বড় বড় গঠনাত্মক ছবি ভেসে ওঠে। উচ্চাকাঙ্ক্ষীর শব্দ সম্ভার গড়ে তোলার চারটি উপায় হলো:
১। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য বড় বড়, আশাপ্রদ, আনন্দদায়ক বাক্য ও শব্দ প্রয়োগ করুন। যখনই কেউ প্রশ্ন করবে 'কেমন আছেন?' উত্তর দিন, 'খুব ভালো' বা 'বেশ আছি'!
২। অন্যদের বর্ণনা করতে উজ্জ্বল, আনন্দবর্ধক, প্রীতিদায়ক শব্দ ও বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।
৩। অন্যদের উৎসাহিত করে তোলার জন্য গঠনাত্মক, হ্যাঁ-ধর্মী ভাষা ব্যবহার করুন। অকৃত্রিম প্রশংসা সাফল্যের সাধনী হতে পারে।
৪। পরিকল্পনার পরিলেখ্য বোঝাতে গঠনমূলক শব্দ প্রয়োগ করুন। বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার সমর্থন জোগাড় করুন।

কী আছে শুধু তাই নয়, কী করা যায় তাও ভেবে দেখুন। চিন্তাশীল বিদ্বান মানুষ শুধু যা দৃশ্যমান তাই দেখে না, কী করা যায় তাও দেখার অনুশীলন করেন। মূল্য বৃদ্ধির অনুশীলন করুন: ১. সবকিছু মূল্যে অভিযোজন করতে শিখুন। ২. মানুষের মূল্য বাড়াতে শিখুন। ৩. নিজের মূল্য বাড়াতে শিখুন।

তুচ্ছ ব্যাপারগুলি উপেক্ষা করার তিনটি পন্থা:
১. আসল উদ্দেশ্য, বড় লক্ষ্যটিতে মনোযোগ দিন। মহৎ উদ্দেশ্যটা মনে রাখতে হবে।
২. প্রশ্ন করুন, 'এটা কী খুব জরুরি?' ঝগড়া, কলহ বা নৈরাশ্য দূর করার এক অমোঘ ওষুধ হলো নিজেকে এই প্রশ্ন করা।
৩. তুচ্ছতার ফাঁদে আটকে পড়বেন না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিন।

মনে রাখবেন, বড় বড় ভাবনা চিন্তায় অবশ্যই সুফল পাওয়া যায়। নিজেকে ঠকাবেন না। বড় উজ্জ্বল শব্দ ব্যবহার করুন। দৃষ্টি প্রসারিত করুন। আপনার কাজের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটা জেনে নিন এবং তুচ্ছতাকে উপেক্ষা করতে শিখুন। বড় মাপের মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বড় বড় ভাবনা চিন্তা করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?

📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?


সৃজনশীলতা অর্থাৎ যে কোনো কাজ করার একটি উন্নততর পথের অন্বেষণ। ঘরে বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে-যে কোনো রকমের সাফল্যের মূলে আছে আরো ভালোমতো কাজ করার উপায়ের উদ্ভাবন।

পদক্ষেপ এক: বিশ্বাস করুন, কাজটা করা সম্ভব। কাজটা করা সম্ভব-এই বিশ্বাসই কীভাবে-করা-সম্ভব সেই পথটা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। যখনই আপনি একটা কাজকে অসম্ভব মনে করবেন, আপনার মনও কেন অসম্ভব তা প্রমাণ করার কারণ খুঁজবে। বিশ্বাস থেকেই সৃজনশীলতার উদ্ভব হয়।

বিশ্বাসের সাহায্যে সৃষ্টিশীল প্রতিভার উদ্ভবের দু'টি উপায়:
১। আপনার মন থেকে, আপনার কথাবার্তা থেকে 'অসম্ভব' শব্দটা মুছে ফেলুন।
২। এমন একটা কাজের কথা মনে করুন যা অনেকদিন যাবৎ করতে চাইছেন অথচ কিছুতেই করতে পারছেন না। এবার কেন কাজটা করা সম্ভব তার একটা তালিকা তৈরি করুন।

সফল মানুষ মনে করে: কীভাবে আমার কাজে উন্নতি করা যায়? কীভাবে আরো ভালো কাজ করা যায়? উন্নতিকে আপনার শ্রেষ্ঠতম পণ্য করে তুলুন। 'আরো ভালো করতে পারি', এই জীবনদর্শন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সফল প্রগতিশীল মানুষ আরো বেশি কাজ করার সুযোগ সাগ্রহে স্বীকার করে নেয়। মনকে সজাগ রাখতে প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন। বড় বড় মানুষ অন্যের কথা শোনে, তুচ্ছ মানুষ শুধু কথা বলে। অন্যদের পরামর্শ ও ধ্যানধারণা আপনার মনকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করবে।

নতুন ধারণা আপনার কল্পনাপ্রসূত ফল। আইডিয়া বিকশিত করতে হলে এগুলি জরুরি:
১। আইডিয়াকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। নতুন আইডিয়া এলে তৎক্ষণাৎ লিখে রাখুন।
২। সেই আইডিয়াগুলি আবার পরীক্ষা করে দেখুন। আইডিয়ার একটি ফাইল তৈরি করুন।
৩। আইডিয়ার চাষ করতে হবে। আইডিয়া বৃদ্ধি করতে হবে। তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন।

আপনার সৃজনশীল শক্তি বিকাশের ৫টি উপায়:
১। প্রথাগত পুরাতনি চিন্তাধারা যেন আপনার মনের প্রতিবন্ধক না হয়। নতুন পন্থা অনুসরণ করুন।
২। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'আরো উন্নতি কীভাবে করা যায়?'
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'কীভাবে আরো বেশি কাজ করা যায়?'
৪। প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন।
৫। মনকে প্রসারিত করুন। নতুন আইডিয়া শিখতে পারে এমন মানুষের সংস্রব খুঁজুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করবেন তাই হয়ে উঠবেন

📄 আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করবেন তাই হয়ে উঠবেন


ভাবনা চিন্তা দেখেই মানুষের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়। নিজেদের প্রতি আমাদের মনোভাব দেখে অন্যরাও আমাদের সঙ্গে সে-রকমই ব্যবহার করে। আমাদের যেমন ব্যবহার পাওয়া যায় বলে মনে হয়, সে রকম ব্যবহারই আমরা বাস্তব জগতে পাই। মনোভাব থেকেই আচরণে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। নিজেকে যে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, সে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য নিজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে; তাহলে বাকিরাও আপনাকে গুরুত্ব দেবে।

আপনার আত্ম-সম্মান বাড়ানো ও অন্যদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম পাওয়ার উপায়:
১। নিজের চেহারা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুন: চেহারা কথা বলে। সুসজ্জিত মানুষকে দেখলে ভালো ধারণা হয়। সঠিক পোশাক পরুন। দ্বিগুণ দামে অর্ধেক পরিমাণ জিনিস কিনুন অর্থাৎ জিনিসের গুণমানের দিকে নজর দিন। সুন্দর চেহারা আপনার আত্মপ্রত্যয় বাড়ায়।
২। নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন: যে রাজমিস্ত্রি নিজেকে এক বিশাল গির্জার নির্মাতা বলেছিল সে ভবিষ্যতে অনেক উপরে উঠেছিল। নিজের কাজের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পদোন্নতি ও সম্মান নির্ধারণ করে।
৩। দিনে বেশ কয়েকবার নিজের উৎসাহবর্ধন করুন: নিজেকে নিজের কাছে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন তৈরি করুন। নিজের বিশেষ গুণগুলি নিয়ে একটি ৬০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন তৈরি করুন এবং তা প্রতিদিন নিজেকে পড়ে শোনান।
৪। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কী এভাবে কাজ করে?': যখন দুশ্চিন্তা হবে বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তখন এই প্রশ্নের সাহায্যে নিজেকে পরিচালিত করুন।

মনে রাখবেন: নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখান, নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মতো ভাবনা চিন্তা করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 পরিবেশ সামলাতে শিখুন, প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন

📄 পরিবেশ সামলাতে শিখুন, প্রথম শ্রেণির মানুষ হয়ে উঠুন


মনটা এক অদ্ভুত মেশিন। শরীর যেমন আমাদের খাবার-দাবারের প্রতিফলন, মন পরিবেশের প্রভাবের প্রতিফলন। পরিবেশ আমাদের গড়ে তোলে, আমাদের ভাবনা চিন্তাকে প্রভাবিত করে। উচ্চাভিলাষী মানুষের সঙ্গে থেকে আমরাও উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে উঠি। প্রগতিশীল মানুষের সংস্পর্শে থাকুন।

নিজেকে সাফল্যের জন্য প্রস্তুত করার উপায়:
১। যারা বলে কাজটা অসম্ভব, তারা প্রায় অনিবার্যভাবে অফল মানুষ। তাদের থেকে দূরে থাকুন। মহৎ ব্যক্তি বড় বিশাল ভাবনা চিন্তাকে কখনই হেসে উড়িয়ে দেয় না।
২। সঠিক পরামর্শের উৎস সম্বন্ধে সজাগ থাকুন। সফল মানুষের পরামর্শ নিন। প্রশ্ন বা জিজ্ঞাসা থাকলে সেই বিষয়টির বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিকেই প্রশ্ন করুন।
৩। আপনার সামাজিক পরিবেশ 'প্রথম শ্রেণি'র করে তুলুন। নতুন নতুন মানুষের সাথে মেলামেশা করুন। ভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। এতে আপনার চিন্তার পরিধি বাড়বে।
৪। মনকে বিষিয়ে যেতে দেবেন না। পরনিন্দা বা পরচর্চাকে প্রশ্রয় দেবেন না। পরচর্চা মানেই অন্যের বিষয়ে নিন্দা করা যা আপনার ব্যক্তিত্বকে ছোট করে দেয়। অন্যের ব্যাপারে আলোচনা করুন, তবে তা যেন ইতিবাচক হয়।
৫। সব কাজে প্রথম শ্রেণিতে থাকবেন। প্রথম শ্রেণির জিনিসে আসলে সাশ্রয়ই হয়। সস্তার তিন অবস্থার চেয়ে একটি ভালো জিনিস ব্যবহার করা বা ভালো সেবার সান্নিধ্যে থাকা বাঞ্ছনীয়।

পরিবেশ যেন আপনার স্বপক্ষে কাজ করে। সফল মানুষের পরামর্শ নিন, মনকে প্রগতিশীল রাখুন এবং সবসময় প্রথম শ্রেণির মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলুন।

টিকাঃ
১. 'সস্তার তিন অবস্থা' একটি প্রচলিত বাংলা প্রবাদ যার অর্থ সস্তা জিনিসের স্থায়িত্ব কম হয় এবং শেষ পর্যন্ত তা ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়ায়।

ফন্ট সাইজ
15px
17px