📄 আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলুন, ভয় জড়তা দূর করুন
বন্ধুরা যখন বলে, 'অযথা ভয় পাচ্ছো। চিন্তার কোনো কারণ নেই। এগুলি তোমার উদ্ভট কল্পনা মাত্র,' মনে রাখবেন তারা আপনার মঙ্গল কামনা করেন। তবে আমি জানি, আপনিও জানি, এ রকম ভয়ের ওষুধে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। 'এ তোমার কল্পনা মাত্র' চিকিৎসা পদ্ধতি আত্ম-প্রত্যয় গড়ে তুলতে পারে না, ভয়টাকে নির্মূল করতে পারে না। ভয় জিনিসটি আসল ও সত্যিকার অনুভূতি। ভয় সাফল্যের প্রথম ও প্রধান শত্রু। ভয়ে মানুষ সুযোগ হারায়, ভয় শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়, ভয় মানুষকে রোগগ্রস্ত করে ফেলে, আয়ু কমিয়ে দেয়।
সক্রিয়তা বা কর্মতৎপরতা সত্যি ভয় দূর করে। অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব ভয় বাড়ায়। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে, যতক্ষণ না সক্রিয় হয়ে ওঠা যায় ততক্ষণ ঐ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। আশাতেই সবের শুরু, তবে আশার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠলেই বিজয়ী হওয়া যায়। সক্রিয়তার এই পদ্ধতি কাজে ব্যবহার করুন। এরপর যখনই ভয় পাবেন, নিজেকে অবিচলিত রাখবেন। তারপর এই প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজে বের করবেন: ভয় দূর করার জন্য আমি কী করতে পারি? ভয়টাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। তারপর উপযুক্ত কাজটি করুন।
ভয়কে দূর করে আত্মপ্রত্যয় ফিরে পাওয়ার জন্য এই দু'টি কাজ করুন: ১. ভয়কে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। কেন ভয় পাচ্ছেন সেই কারণটা খুঁজে বের করুন। ২. এবার সক্রিয় হয়ে উঠুন। প্রতিটি ভয়ের কোনো না কোনো সমাধান আছে। আর মনে রাখবেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভয়টাকে আরো বড়, আরো ভয়াবহ করে তোলে। তাই তৎপর হয়ে কাজ করুন, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন।
স্মৃতি ব্যাঙ্কের সুউচ্চ পরিচালনার জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে দু'টি কাজ করতে পারেন: ১. আপনার ব্যাঙ্কে শুধুই আশাবাদী ও গঠনমূলক চিন্তা ভাবনা সংগ্রহ করুন। ২. মনের ব্যাঙ্ক থেকে ভালো গঠনমূলক চিন্তা বেছে তুলুন। মন থেকে জঞ্জাল চিন্তাগুলি ঝেড়ে ফেলুন।
মানুষ একে অপরকে ভয় পায় কেন? অন্যদের সঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা করলে তাদের প্রতি সঙ্কোচ বা ভীতি দূর হবে। অন্যজনও আপনার মতোই মানুষ, তাকে ভয় কিসের? মানুষকে সঠিকভাবে বোঝার দু'টি উপায়: ১. অন্যজনের উপযুক্ত মূল্যায়ন করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ, আপনি নিজেও। ২. অন্যদের বোঝার চেষ্টা করুন। যারা দুর্ব্যবহার করছে তাদের কথা বলতে দিন, তারপর সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ভুলে যান।
সঠিক পথে চললে বিবেক সন্তুষ্ট থাকে, মন পরিষ্কার থাকে। ফলে গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস। জেনে-শুনে ভুল করলে দু'টি কুপ্রভাব পড়ে। এক, আমরা অপরাধ বোধে ভুগি যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। দুই, ব্যাপারটা ক্রমশ অন্যান্যরাও জেনে যায়, তারাও আমাদের উপর বিশ্বাস হারায়। সঠিক পথ বেছে নিন, নিজের আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করুন। এটিই সফল হওয়ার চাবিকাঠি।
আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য আচরণে দৃঢ় প্রত্যয় আনতে হবে। নিচে আত্মপ্রত্যয় গড়ে তোলার পাঁচটি নির্দেশ দেওয়া হলো:
১। সামনের সারিতে বসুন। সামনে বসলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
২। চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস করুন। এতে আপনার আত্ম-প্রত্যয় বাড়বে ও অন্যদের আপনার প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।
৩। হাঁটার গতি ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিন। সপ্রতিভভাবে হাঁটা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
৪। কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করুন। কথা বলা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভিটামিন। সব উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিন।
৫। মন খুলে হাসুন। প্রাণখুলে হাসলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন। প্রাণ ভরা হাসি ভয় দূর করে, চিন্তাকে হারিয়ে দেয়, নৈরাশ্যকে জব্দ করে।
এই পাঁচটি পন্থা কাজে প্রয়োগ করুন এবং নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন—'আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, প্রচুর আত্মবিশ্বাস'।
📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়
সাফল্য যাচাই করতে গেলে তা ইঞ্চি বা পাউন্ড, কলেজের ডিগ্রী বা পারিবারিক ঐতিহ্য দিয়ে করা যায় না, মানুষের চিন্তার পরিমাপ তার সাফল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বোধ হয় নিজেকে তুচ্ছ মনে করা, নিজেকে ঠকানো। নিজের সঠিক মূল্যায়নের একটি উপায় বলি:
১। নিজের পাঁচটি বিশেষ গুণ খুঁজে বের করুন।
২। প্রতিটি গুণের পাশে এমন তিনজনের নাম উল্লেখ করুন যারা খুবই সফল হয়েছিল অথচ আপনার মতো গুণ হয়তো তাদের নেই। এরপর দেখবেন অন্তত একটি বিষয়ে আপনি অনেক সফল মানুষের চেয়ে সেরা।
বড় বড় চিন্তা করার জন্য এমন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করতে হবে যাতে কল্পনায় বড় বড় গঠনাত্মক ছবি ভেসে ওঠে। উচ্চাকাঙ্ক্ষীর শব্দ সম্ভার গড়ে তোলার চারটি উপায় হলো:
১। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য বড় বড়, আশাপ্রদ, আনন্দদায়ক বাক্য ও শব্দ প্রয়োগ করুন। যখনই কেউ প্রশ্ন করবে 'কেমন আছেন?' উত্তর দিন, 'খুব ভালো' বা 'বেশ আছি'!
২। অন্যদের বর্ণনা করতে উজ্জ্বল, আনন্দবর্ধক, প্রীতিদায়ক শব্দ ও বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।
৩। অন্যদের উৎসাহিত করে তোলার জন্য গঠনাত্মক, হ্যাঁ-ধর্মী ভাষা ব্যবহার করুন। অকৃত্রিম প্রশংসা সাফল্যের সাধনী হতে পারে।
৪। পরিকল্পনার পরিলেখ্য বোঝাতে গঠনমূলক শব্দ প্রয়োগ করুন। বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার সমর্থন জোগাড় করুন।
কী আছে শুধু তাই নয়, কী করা যায় তাও ভেবে দেখুন। চিন্তাশীল বিদ্বান মানুষ শুধু যা দৃশ্যমান তাই দেখে না, কী করা যায় তাও দেখার অনুশীলন করেন। মূল্য বৃদ্ধির অনুশীলন করুন: ১. সবকিছু মূল্যে অভিযোজন করতে শিখুন। ২. মানুষের মূল্য বাড়াতে শিখুন। ৩. নিজের মূল্য বাড়াতে শিখুন।
তুচ্ছ ব্যাপারগুলি উপেক্ষা করার তিনটি পন্থা:
১. আসল উদ্দেশ্য, বড় লক্ষ্যটিতে মনোযোগ দিন। মহৎ উদ্দেশ্যটা মনে রাখতে হবে।
২. প্রশ্ন করুন, 'এটা কী খুব জরুরি?' ঝগড়া, কলহ বা নৈরাশ্য দূর করার এক অমোঘ ওষুধ হলো নিজেকে এই প্রশ্ন করা।
৩. তুচ্ছতার ফাঁদে আটকে পড়বেন না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিন।
মনে রাখবেন, বড় বড় ভাবনা চিন্তায় অবশ্যই সুফল পাওয়া যায়। নিজেকে ঠকাবেন না। বড় উজ্জ্বল শব্দ ব্যবহার করুন। দৃষ্টি প্রসারিত করুন। আপনার কাজের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটা জেনে নিন এবং তুচ্ছতাকে উপেক্ষা করতে শিখুন। বড় মাপের মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বড় বড় ভাবনা চিন্তা করুন।
📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?
সৃজনশীলতা অর্থাৎ যে কোনো কাজ করার একটি উন্নততর পথের অন্বেষণ। ঘরে বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে-যে কোনো রকমের সাফল্যের মূলে আছে আরো ভালোমতো কাজ করার উপায়ের উদ্ভাবন।
পদক্ষেপ এক: বিশ্বাস করুন, কাজটা করা সম্ভব। কাজটা করা সম্ভব-এই বিশ্বাসই কীভাবে-করা-সম্ভব সেই পথটা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। যখনই আপনি একটা কাজকে অসম্ভব মনে করবেন, আপনার মনও কেন অসম্ভব তা প্রমাণ করার কারণ খুঁজবে। বিশ্বাস থেকেই সৃজনশীলতার উদ্ভব হয়।
বিশ্বাসের সাহায্যে সৃষ্টিশীল প্রতিভার উদ্ভবের দু'টি উপায়:
১। আপনার মন থেকে, আপনার কথাবার্তা থেকে 'অসম্ভব' শব্দটা মুছে ফেলুন।
২। এমন একটা কাজের কথা মনে করুন যা অনেকদিন যাবৎ করতে চাইছেন অথচ কিছুতেই করতে পারছেন না। এবার কেন কাজটা করা সম্ভব তার একটা তালিকা তৈরি করুন।
সফল মানুষ মনে করে: কীভাবে আমার কাজে উন্নতি করা যায়? কীভাবে আরো ভালো কাজ করা যায়? উন্নতিকে আপনার শ্রেষ্ঠতম পণ্য করে তুলুন। 'আরো ভালো করতে পারি', এই জীবনদর্শন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
সফল প্রগতিশীল মানুষ আরো বেশি কাজ করার সুযোগ সাগ্রহে স্বীকার করে নেয়। মনকে সজাগ রাখতে প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন। বড় বড় মানুষ অন্যের কথা শোনে, তুচ্ছ মানুষ শুধু কথা বলে। অন্যদের পরামর্শ ও ধ্যানধারণা আপনার মনকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করবে।
নতুন ধারণা আপনার কল্পনাপ্রসূত ফল। আইডিয়া বিকশিত করতে হলে এগুলি জরুরি:
১। আইডিয়াকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। নতুন আইডিয়া এলে তৎক্ষণাৎ লিখে রাখুন।
২। সেই আইডিয়াগুলি আবার পরীক্ষা করে দেখুন। আইডিয়ার একটি ফাইল তৈরি করুন।
৩। আইডিয়ার চাষ করতে হবে। আইডিয়া বৃদ্ধি করতে হবে। তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন।
আপনার সৃজনশীল শক্তি বিকাশের ৫টি উপায়:
১। প্রথাগত পুরাতনি চিন্তাধারা যেন আপনার মনের প্রতিবন্ধক না হয়। নতুন পন্থা অনুসরণ করুন।
২। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'আরো উন্নতি কীভাবে করা যায়?'
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'কীভাবে আরো বেশি কাজ করা যায়?'
৪। প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন।
৫। মনকে প্রসারিত করুন। নতুন আইডিয়া শিখতে পারে এমন মানুষের সংস্রব খুঁজুন।
📄 আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করবেন তাই হয়ে উঠবেন
ভাবনা চিন্তা দেখেই মানুষের ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হয়। নিজেদের প্রতি আমাদের মনোভাব দেখে অন্যরাও আমাদের সঙ্গে সে-রকমই ব্যবহার করে। আমাদের যেমন ব্যবহার পাওয়া যায় বলে মনে হয়, সে রকম ব্যবহারই আমরা বাস্তব জগতে পাই। মনোভাব থেকেই আচরণে পার্থক্যের সৃষ্টি হয়। নিজেকে যে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে না, সে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে না। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার জন্য নিজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে; তাহলে বাকিরাও আপনাকে গুরুত্ব দেবে।
আপনার আত্ম-সম্মান বাড়ানো ও অন্যদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা সম্ভ্রম পাওয়ার উপায়:
১। নিজের চেহারা গুরুত্বপূর্ণ করে তুলুন: চেহারা কথা বলে। সুসজ্জিত মানুষকে দেখলে ভালো ধারণা হয়। সঠিক পোশাক পরুন। দ্বিগুণ দামে অর্ধেক পরিমাণ জিনিস কিনুন অর্থাৎ জিনিসের গুণমানের দিকে নজর দিন। সুন্দর চেহারা আপনার আত্মপ্রত্যয় বাড়ায়।
২। নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন: যে রাজমিস্ত্রি নিজেকে এক বিশাল গির্জার নির্মাতা বলেছিল সে ভবিষ্যতে অনেক উপরে উঠেছিল। নিজের কাজের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি আপনার পদোন্নতি ও সম্মান নির্ধারণ করে।
৩। দিনে বেশ কয়েকবার নিজের উৎসাহবর্ধন করুন: নিজেকে নিজের কাছে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন তৈরি করুন। নিজের বিশেষ গুণগুলি নিয়ে একটি ৬০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপন তৈরি করুন এবং তা প্রতিদিন নিজেকে পড়ে শোনান।
৪। জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'গুরুত্বপূর্ণ মানুষ কী এভাবে কাজ করে?': যখন দুশ্চিন্তা হবে বা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তখন এই প্রশ্নের সাহায্যে নিজেকে পরিচালিত করুন।
মনে রাখবেন: নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ দেখান, নিজের কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করুন এবং গুরুত্বপূর্ণ মানুষের মতো ভাবনা চিন্তা করুন।