📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 ব্যর্থতার ব্যাধি, এক্সকিউসাইটিস সারিয়ে তুলুন

📄 ব্যর্থতার ব্যাধি, এক্সকিউসাইটিস সারিয়ে তুলুন


সাফল্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার সময় আপনার প্রধান বিষয়টি হবে মানুষ। মানুষের অধ্যয়ন করুন। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানুষের অধ্যয়ন করে সাফল্যের প্রণালীটি আবিষ্কার করুন, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন। এক্ষুণি এ কাজটা শুরু করে দিন। মানুষের মনোভাব নিয়ে সুগভীরভাবে অধ্যয়ন করলে দেখবেন ব্যর্থ মানুষগুলি এক ভয়ানক ব্যাধিতে আক্রান্ত। সেই ব্যাধির নাম এক্সকিউসাইটিস। আর বেশির ভাগ জনতার মধ্যে এই রোগের কয়েকটি লক্ষণ অবশ্যই বিদ্যমান থাকে।

লক্ষ করবেন, এই এক্সকিউসাইটিস কিন্তু একটা সফল মানুষ ও এক ব্যর্থ মানুষের মধ্যে প্রভেদের প্রধান কারণ। আপনি দেখবেন মানুষ যত বেশি সফল সে ততই কম এই রোগ লক্ষণ অর্থাৎ অজুহাত দেখায়। যে মানুষটি কখনও কোথাও পৌঁছাতে পারেননি, যার জীবনে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাই নেই সে হাজারটা অজুহাত দেখায়। যার জীবনে তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি তারা অন্যদের বোঝায় কেন করেনি, কেন করে না, কেন পারে না ও কেন তারা নয়। সফল ব্যক্তির জীবন অধ্যয়ন করলে দেখবেন, ইনিও কিন্তু অতি সাধারণ বাকিদের মতো নানা অজুহাত দেখাতে পারবেন, কিন্তু তা করেননি।

রুসভেল্ট তার অচল পা দু'টির অজুহাত দিতে পারতেন; ট্রুম্যান 'কলেজ শিক্ষার অভাব'কে ব্যর্থতার কারণ বলে অভিহিত করতে পারতেন; কেনেডি বলতে পারতেন, 'এতো অল্প বয়সে কী করে প্রেসিডেন্ট হব' জনসন ও আইস্যানহাওয়ার হৃদরোগের অজুহাত দেখাতে পারতেন। অন্যান্য যে কোনো রোগের মতোই এক্সকিউসাইটিস যথাযথ চিকিৎসা না হলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এই রোগাগ্রস্ত মানুষের চিন্তা ভাবনা অনেকটা এরকম: 'আমার যতটা সফল হওয়া উচিত আমি ততোটা সফল না, নিজের এই ব্যর্থতার কী অজুহাত দেওয়া যায়? ভগ্নস্বাস্থ্য? শিক্ষার অভাব? বয়স বেশি? খুব কম বয়স? দুর্ভাগ্য? ব্যক্তিগত দুর্ভোগ? বউ ভালো না? পরিবারের দোষ?'

অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত এই ব্যর্থ মানুষটি 'ভালো' একটি অজুহাত খুঁজে বের করে সেটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এরপর নিজের অ-সামর্থের কারণ বোঝাতে গিয়ে নিজেকে ও অন্যদের ঐ অজুহাত শোনায়। যতবার এই রোগাগ্রস্ত মানুষটি অজুহাত দেখায় ততোই তার অবচেতন মনে গভীরভাবে এই অজুহাত গেঁথে যায়। গঠনমূলক বা নিরাশাজনক যে কোনো ধরনের চিন্তা ভাবনা বার বার করলে মনে গভীর প্রভাব পড়ে। এক্সকিউসাইটিসের রুগী প্রথমদিকে ভালো মতোই বোঝে যে কারণগুলি সে বলছে তা নিতান্তই অজুহাত, মোটেই সত্যি নয়। তবে, যতবার সে ঐ অজুহাতের পুনরাবৃত্তি করে, ততোই বদ্ধপরিকর হয়ে যায় যে ঐ অজুহাতে সত্য, ঐ অজুহাতই তার ব্যর্থতার মূল কারণ। তাই প্রথম পদক্ষেপ হলো, নিজের চিন্তার গতি সঠিক ও সাফল্যের পথে নিয়ে আসার জন্য নিজেকে ব্যর্থতার ব্যাধি এক্সকিউসাইটিস থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

চারটি অতি পরিচিত এক্সকিউসাইটিস:
(ক) 'কী করব, স্বাস্থ্যটা যে মোটেই ভালো যাচ্ছে না': স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অজুহাত রয়েছে চির পরিচিত 'শরীর ভালো নাই' অথবা বিশেষ ভাবে 'আমার এই শারীরিক কষ্ট রয়েছে।' একটি মানুষ জীবনে যা করতে চান তা করতে না পারলে, আরো দায়িত্ব নিতে না চাইলে, সাফল্য না পেলে 'শরীর ভালো নেই' অজুহাতটি নানাভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিসে আক্রান্ত তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, এটাই কী আসল কারণ? একটু চিন্তা করে দেখুন-সফল মানুষগুলিও কিন্তু স্বাস্থ্যকে অজুহাত করে তুলতে পারে-কিন্তু তারা তো তা করে না। ডাক্তার বন্ধুরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো রোগগ্রস্ত। অনেকেই আংশিক বা সার্বিকভাবে এই স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিসের শরণাপন্ন হয়, তবে সাফল্যে আগ্রহী মানুষ কিন্তু কখনই তা করে না।

স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিস নিরাময়ের চারটি উপায়:
১। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনোরকম আলোচনাই করবেন না। রোগের ব্যাপারে, তা যদি সামান্য সর্দি কাশিও হয়, যত আলোচনা করবেন তা ততোই গুরুতর হয়ে উঠবে। অসুস্থতার ব্যাপারে কথাবার্তা বলা অনেকটা আগাছায় সার দেওয়ার মতো। তাছাড়া, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করাটা একটা বদভ্যাস।
২। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় মোটেই দেবেন না। হাজার হাজার হার্ট সচেতন মানুষকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে নিষেধ করা হয় কারণ দুশ্চিন্তা মনকে অসুস্থ করে তোলে।
৩। আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞবোধ করুন যে আপনি যেমন আছেন, বেশ ভালো আছেন। একটা পুরানো প্রবাদ মনে পড়ে গেলো ‘নিজের জুতোজোড়া দেখে বড় দুঃখ হত, একদিন দেখলাম একটা লোকের পা নেই।' অসুস্থ বোধ করার অবিরাম নালিশ বন্ধ করুন, যেমনটি আছেন তাতেই সুখী হন।
৪। নিজেকে প্রায়ই মনে করিয়ে দিন, 'মরচে ধরার চেয়ে ক্ষয়ে যাওয়া ভালো।' জীবনটা আপনার, উপভোগ করুন। অপচয় করবেন না।

(খ) 'কিন্তু সফল হওয়ার জন্য যে বুদ্ধি চাই': বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস অর্থাৎ 'আমি বোকা' ব্যর্থতার একটি অতি পরিচিত কারণ। বোধবুদ্ধির ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ দু'টি বড় ভুল করে: ১। আমরা নিজেদের বোধশক্তির কম দাম দিই। ২। অপরের বোধশক্তিকে বেশি মূল্য দিই। আপনার কতখানি বুদ্ধি আছে তা জরুরি নয়। যা জরুরি তা হলো আপনি নিজের বোধবুদ্ধির কতখানি সদ্ব্যবহার করছেন। যে চিন্তা আপনার বোধবুদ্ধিকে দিশা নির্দেশ দিচ্ছে তা আপনার বোধশক্তি পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস নিরাময়ের তিনটি উপায়: ১। আপনার বুদ্ধি কম অথচ অন্যের বুদ্ধি বেশি, এমনটি কখনই মনে করবেন না। ২। প্রতিদিন বারবার নিজেকে মনে করিয়ে দিন, 'আমার মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি আমার বুদ্ধির চেয়ে বেশি জরুরি।' ৩। তথ্য মনে রাখার ক্ষমতার চেয়ে চিন্তা ভাবনার ক্ষমতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এ কথাটা মনে রাখবেন।

(গ) 'কোনো লাভ নেই। আমি বুড়ো হয়ে গিয়েছি (আমার বয়স কম)': বয়সের এক্সকিউসাইটিস অর্থাৎ কখনই বয়সটা ঠিক নয় নামক ব্যর্থতার ব্যাধি হরেক রকমের। বয়সের এক্সকিউসাইটিসের নিরাময়ের পন্থাগুলি হলো: ১। আপনার বর্তমান বয়সের প্রতি আশাবাদী মনোভাব রাখুন। ২। আপনার উৎপাদন ক্ষমতার আয়ুষ্কাল হিসাব করে দেখুন। ৩। জীবনে যা করতে চেয়েছেন, যা করতে চান তা করায় আগামী দিনগুলি সদ্ব্যবহার করুন।

(ঘ) 'কিন্তু আমার ব্যাপারটা আলাদা, দুর্ভাগ্য আমার চিরসাথী': সব কিছুর মূলে একটা কারণ আছে। কারণ ছাড়া কিছু হয় না। যে কোনো পেশায় যারা শীর্ষে পৌঁছায় তার মূলে থাকে তাদের উন্নততর দৃষ্টিভঙ্গি, তারা পরিশ্রমী এবং বোধবুদ্ধি সদ্ব্যবহার করতে জানেন। ভাগ্যের এক্সকিউসাইটিস থেকে নিষ্কৃতির দু'টি উপায়: ১। কারণ ও পরিণাম-এ নিয়মটা মেনে নিন। ২। অলীক স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। সাফল্যের শ্রমহীন সহজ পন্থা খুঁজতে নিজের বুদ্ধির অপচয় করবেন না। পদোন্নতি, জয়লাভ, জীবনে সেরা জিনিসগুলির জন্য ভাগ্যের ভরসায় বসে থাকবেন না। যে গুণগুলি বিকাশ করলে জীবনে বিজয়ী হওয়া যায় সেগুলির বিকাশে মনোনিবেশ করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলুন, ভয় জড়তা দূর করুন

📄 আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলুন, ভয় জড়তা দূর করুন


বন্ধুরা যখন বলে, 'অযথা ভয় পাচ্ছো। চিন্তার কোনো কারণ নেই। এগুলি তোমার উদ্ভট কল্পনা মাত্র,' মনে রাখবেন তারা আপনার মঙ্গল কামনা করেন। তবে আমি জানি, আপনিও জানি, এ রকম ভয়ের ওষুধে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। 'এ তোমার কল্পনা মাত্র' চিকিৎসা পদ্ধতি আত্ম-প্রত্যয় গড়ে তুলতে পারে না, ভয়টাকে নির্মূল করতে পারে না। ভয় জিনিসটি আসল ও সত্যিকার অনুভূতি। ভয় সাফল্যের প্রথম ও প্রধান শত্রু। ভয়ে মানুষ সুযোগ হারায়, ভয় শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়, ভয় মানুষকে রোগগ্রস্ত করে ফেলে, আয়ু কমিয়ে দেয়।

সক্রিয়তা বা কর্মতৎপরতা সত্যি ভয় দূর করে। অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব ভয় বাড়ায়। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে, যতক্ষণ না সক্রিয় হয়ে ওঠা যায় ততক্ষণ ঐ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। আশাতেই সবের শুরু, তবে আশার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠলেই বিজয়ী হওয়া যায়। সক্রিয়তার এই পদ্ধতি কাজে ব্যবহার করুন। এরপর যখনই ভয় পাবেন, নিজেকে অবিচলিত রাখবেন। তারপর এই প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজে বের করবেন: ভয় দূর করার জন্য আমি কী করতে পারি? ভয়টাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। তারপর উপযুক্ত কাজটি করুন।

ভয়কে দূর করে আত্মপ্রত্যয় ফিরে পাওয়ার জন্য এই দু'টি কাজ করুন: ১. ভয়কে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। কেন ভয় পাচ্ছেন সেই কারণটা খুঁজে বের করুন। ২. এবার সক্রিয় হয়ে উঠুন। প্রতিটি ভয়ের কোনো না কোনো সমাধান আছে। আর মনে রাখবেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভয়টাকে আরো বড়, আরো ভয়াবহ করে তোলে। তাই তৎপর হয়ে কাজ করুন, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন।

স্মৃতি ব্যাঙ্কের সুউচ্চ পরিচালনার জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে দু'টি কাজ করতে পারেন: ১. আপনার ব্যাঙ্কে শুধুই আশাবাদী ও গঠনমূলক চিন্তা ভাবনা সংগ্রহ করুন। ২. মনের ব্যাঙ্ক থেকে ভালো গঠনমূলক চিন্তা বেছে তুলুন। মন থেকে জঞ্জাল চিন্তাগুলি ঝেড়ে ফেলুন।

মানুষ একে অপরকে ভয় পায় কেন? অন্যদের সঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা করলে তাদের প্রতি সঙ্কোচ বা ভীতি দূর হবে। অন্যজনও আপনার মতোই মানুষ, তাকে ভয় কিসের? মানুষকে সঠিকভাবে বোঝার দু'টি উপায়: ১. অন্যজনের উপযুক্ত মূল্যায়ন করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ, আপনি নিজেও। ২. অন্যদের বোঝার চেষ্টা করুন। যারা দুর্ব্যবহার করছে তাদের কথা বলতে দিন, তারপর সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ভুলে যান।

সঠিক পথে চললে বিবেক সন্তুষ্ট থাকে, মন পরিষ্কার থাকে। ফলে গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস। জেনে-শুনে ভুল করলে দু'টি কুপ্রভাব পড়ে। এক, আমরা অপরাধ বোধে ভুগি যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। দুই, ব্যাপারটা ক্রমশ অন্যান্যরাও জেনে যায়, তারাও আমাদের উপর বিশ্বাস হারায়। সঠিক পথ বেছে নিন, নিজের আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করুন। এটিই সফল হওয়ার চাবিকাঠি।

আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য আচরণে দৃঢ় প্রত্যয় আনতে হবে। নিচে আত্মপ্রত্যয় গড়ে তোলার পাঁচটি নির্দেশ দেওয়া হলো:
১। সামনের সারিতে বসুন। সামনে বসলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
২। চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস করুন। এতে আপনার আত্ম-প্রত্যয় বাড়বে ও অন্যদের আপনার প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।
৩। হাঁটার গতি ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিন। সপ্রতিভভাবে হাঁটা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
৪। কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করুন। কথা বলা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভিটামিন। সব উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিন।
৫। মন খুলে হাসুন। প্রাণখুলে হাসলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন। প্রাণ ভরা হাসি ভয় দূর করে, চিন্তাকে হারিয়ে দেয়, নৈরাশ্যকে জব্দ করে।

এই পাঁচটি পন্থা কাজে প্রয়োগ করুন এবং নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন—'আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, প্রচুর আত্মবিশ্বাস'।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়

📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়


সাফল্য যাচাই করতে গেলে তা ইঞ্চি বা পাউন্ড, কলেজের ডিগ্রী বা পারিবারিক ঐতিহ্য দিয়ে করা যায় না, মানুষের চিন্তার পরিমাপ তার সাফল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বোধ হয় নিজেকে তুচ্ছ মনে করা, নিজেকে ঠকানো। নিজের সঠিক মূল্যায়নের একটি উপায় বলি:
১। নিজের পাঁচটি বিশেষ গুণ খুঁজে বের করুন।
২। প্রতিটি গুণের পাশে এমন তিনজনের নাম উল্লেখ করুন যারা খুবই সফল হয়েছিল অথচ আপনার মতো গুণ হয়তো তাদের নেই। এরপর দেখবেন অন্তত একটি বিষয়ে আপনি অনেক সফল মানুষের চেয়ে সেরা।

বড় বড় চিন্তা করার জন্য এমন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করতে হবে যাতে কল্পনায় বড় বড় গঠনাত্মক ছবি ভেসে ওঠে। উচ্চাকাঙ্ক্ষীর শব্দ সম্ভার গড়ে তোলার চারটি উপায় হলো:
১। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য বড় বড়, আশাপ্রদ, আনন্দদায়ক বাক্য ও শব্দ প্রয়োগ করুন। যখনই কেউ প্রশ্ন করবে 'কেমন আছেন?' উত্তর দিন, 'খুব ভালো' বা 'বেশ আছি'!
২। অন্যদের বর্ণনা করতে উজ্জ্বল, আনন্দবর্ধক, প্রীতিদায়ক শব্দ ও বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।
৩। অন্যদের উৎসাহিত করে তোলার জন্য গঠনাত্মক, হ্যাঁ-ধর্মী ভাষা ব্যবহার করুন। অকৃত্রিম প্রশংসা সাফল্যের সাধনী হতে পারে।
৪। পরিকল্পনার পরিলেখ্য বোঝাতে গঠনমূলক শব্দ প্রয়োগ করুন। বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার সমর্থন জোগাড় করুন।

কী আছে শুধু তাই নয়, কী করা যায় তাও ভেবে দেখুন। চিন্তাশীল বিদ্বান মানুষ শুধু যা দৃশ্যমান তাই দেখে না, কী করা যায় তাও দেখার অনুশীলন করেন। মূল্য বৃদ্ধির অনুশীলন করুন: ১. সবকিছু মূল্যে অভিযোজন করতে শিখুন। ২. মানুষের মূল্য বাড়াতে শিখুন। ৩. নিজের মূল্য বাড়াতে শিখুন।

তুচ্ছ ব্যাপারগুলি উপেক্ষা করার তিনটি পন্থা:
১. আসল উদ্দেশ্য, বড় লক্ষ্যটিতে মনোযোগ দিন। মহৎ উদ্দেশ্যটা মনে রাখতে হবে।
২. প্রশ্ন করুন, 'এটা কী খুব জরুরি?' ঝগড়া, কলহ বা নৈরাশ্য দূর করার এক অমোঘ ওষুধ হলো নিজেকে এই প্রশ্ন করা।
৩. তুচ্ছতার ফাঁদে আটকে পড়বেন না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিন।

মনে রাখবেন, বড় বড় ভাবনা চিন্তায় অবশ্যই সুফল পাওয়া যায়। নিজেকে ঠকাবেন না। বড় উজ্জ্বল শব্দ ব্যবহার করুন। দৃষ্টি প্রসারিত করুন। আপনার কাজের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটা জেনে নিন এবং তুচ্ছতাকে উপেক্ষা করতে শিখুন। বড় মাপের মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বড় বড় ভাবনা চিন্তা করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?

📄 কীভাবে সৃজনশীল ভাবনা চিন্তা ও কল্পনা করা যায়?


সৃজনশীলতা অর্থাৎ যে কোনো কাজ করার একটি উন্নততর পথের অন্বেষণ। ঘরে বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, সমাজে-যে কোনো রকমের সাফল্যের মূলে আছে আরো ভালোমতো কাজ করার উপায়ের উদ্ভাবন।

পদক্ষেপ এক: বিশ্বাস করুন, কাজটা করা সম্ভব। কাজটা করা সম্ভব-এই বিশ্বাসই কীভাবে-করা-সম্ভব সেই পথটা খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। যখনই আপনি একটা কাজকে অসম্ভব মনে করবেন, আপনার মনও কেন অসম্ভব তা প্রমাণ করার কারণ খুঁজবে। বিশ্বাস থেকেই সৃজনশীলতার উদ্ভব হয়।

বিশ্বাসের সাহায্যে সৃষ্টিশীল প্রতিভার উদ্ভবের দু'টি উপায়:
১। আপনার মন থেকে, আপনার কথাবার্তা থেকে 'অসম্ভব' শব্দটা মুছে ফেলুন।
২। এমন একটা কাজের কথা মনে করুন যা অনেকদিন যাবৎ করতে চাইছেন অথচ কিছুতেই করতে পারছেন না। এবার কেন কাজটা করা সম্ভব তার একটা তালিকা তৈরি করুন।

সফল মানুষ মনে করে: কীভাবে আমার কাজে উন্নতি করা যায়? কীভাবে আরো ভালো কাজ করা যায়? উন্নতিকে আপনার শ্রেষ্ঠতম পণ্য করে তুলুন। 'আরো ভালো করতে পারি', এই জীবনদর্শন ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

সফল প্রগতিশীল মানুষ আরো বেশি কাজ করার সুযোগ সাগ্রহে স্বীকার করে নেয়। মনকে সজাগ রাখতে প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন। বড় বড় মানুষ অন্যের কথা শোনে, তুচ্ছ মানুষ শুধু কথা বলে। অন্যদের পরামর্শ ও ধ্যানধারণা আপনার মনকে সৃজনশীল হতে সাহায্য করবে।

নতুন ধারণা আপনার কল্পনাপ্রসূত ফল। আইডিয়া বিকশিত করতে হলে এগুলি জরুরি:
১। আইডিয়াকে হারিয়ে যেতে দেবেন না। নতুন আইডিয়া এলে তৎক্ষণাৎ লিখে রাখুন।
২। সেই আইডিয়াগুলি আবার পরীক্ষা করে দেখুন। আইডিয়ার একটি ফাইল তৈরি করুন।
৩। আইডিয়ার চাষ করতে হবে। আইডিয়া বৃদ্ধি করতে হবে। তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করুন।

আপনার সৃজনশীল শক্তি বিকাশের ৫টি উপায়:
১। প্রথাগত পুরাতনি চিন্তাধারা যেন আপনার মনের প্রতিবন্ধক না হয়। নতুন পন্থা অনুসরণ করুন।
২। প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'আরো উন্নতি কীভাবে করা যায়?'
৩। নিজেকে প্রশ্ন করুন, 'কীভাবে আরো বেশি কাজ করা যায়?'
৪। প্রশ্ন করা ও কথা শোনা অভ্যাস করুন।
৫। মনকে প্রসারিত করুন। নতুন আইডিয়া শিখতে পারে এমন মানুষের সংস্রব খুঁজুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px