📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 বিশ্বাস করুন, আপনি অবশ্যই সফল হবেন

📄 বিশ্বাস করুন, আপনি অবশ্যই সফল হবেন


সাফল্য শব্দটির বিভিন্ন সুন্দর গঠনমূলক ব্যাখ্যা দেওয়া যায়। সাফল্য অর্থাৎ ব্যক্তিগত সমৃদ্ধি একটি সুন্দর বাড়ি, ছুটিতে বেড়াতে যাওয়া, ঘুরে বেড়ানো, নিত্য নতুন জিনিস, আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানদের সর্বশ্রেষ্ঠ সুযোগসুবিধা দেওয়া। সাফল্য মানে মন জয় করা, নেতৃত্ব করা, কর্মক্ষেত্রে ও সামাজিক জীবনে সবার আদর্শ হয়ে ওঠা। সাফল্য মানে স্বাধীনতা, দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, ভয়, হতাশা ও ব্যর্থতা থেকে মুক্তি। সাফল্য মানে আত্মসম্মান, জীবনে অবিরাম ও সত্যিকার সুখ সন্তুষ্টি পাওয়া, যারা আপনার উপর নির্ভরশীল তাদের জন্য আরো কিছু করার ক্ষমতা অর্জন করা। সাফল্য মানে জিত। জীবনের লক্ষ্যই হ'ল সাফল্য কৃতিত্ব।

প্রতিটি মানুষ চায় সাফল্য। সকলেই জীবনে সবচেয়ে সেরা জিনিস কামনা করে। কেউ-ই সাদামাটা জীবনধারা চায় না, হামাগুড়ি দিয়ে চলতে চান না কেউ-ই। কেউ-ই দ্বিতীয় শ্রেণির মানুষ হতে চান না, জোর করে তাকে ঐ শ্রেণিতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে সে মোটেই খুশি হয় না। বাইবেলের উক্তিতে সফল হওয়ার কয়েকটি ব্যবহারিক উপায় নিহিত রয়েছে, তাতে জানানো হয়েছে যে বিশ্বাসে পাহাড়কেও টলানো যায়।

বিশ্বাস করুন, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করুন, আপনি পাহাড়ও ঠেলে সরিয়ে দিতে পারবেন। অনেকেরই এই অদ্ভুত ক্ষমতার উপর আস্থা নেই। আপনি হয়তো কখনও লোক মুখে এসব মন্তব্য শুনেছেন, 'পর্বত সরে যাও' এই কথাটুকু বলে পর্বত সরানো যায় এমন ধারণা বোকামি। এ সম্পূর্ণ অসম্ভব ব্যাপার। যারা এভাবে চিন্তা করেন তারা কিন্তু বিশ্বাস ও অলীক কল্পনা একথা দুটো গুলিয়ে ফেলেছে। আর সত্যিই তো চিন্তা করলেই যে পর্বত টলানো যায় তা তো নয়। ইচ্ছে করলেই এক্সিকিউটিভ সুইট পাওয়া যায় না। কল্পনা করলেই পাঁচ বেডরুমের, তিনটি বাথরুমের বাড়ি বা মোটা মাইনের চাকরি পাওয়া যায় না। ইচ্ছে হলেই নেতা হয়ে উঠা যায় না। তবে বিশ্বাস থাকলে পর্বতও টলানো যায়। 'সফল হবই'-এ বিশ্বাস থাকলে আপনি অবশ্যই সাফল্য পাবেন।

বিশ্বাস এক অদ্ভুত, বিপুল শক্তি, এটা কোনো ম্যাজিক বা অলৌকিক ব্যাপার নয়। বিশ্বাস এভাবে কাজ করে 'আমি দৃঢ় নিশ্চিত-আমি পারবো' এই বিশ্বাস মনোবল বাড়ায়, কাজে দক্ষতা ও শক্তি পাওয়া যায়। আমি পারবো বিশ্বাস করতে শুরু করুন তাহলে পরে কী করা যায় অর্থাৎ পরবর্তী পদক্ষেপগুলি কী হবে তা মাথায় আসবে।

প্রতিদিন দেশের কত শত তরুণ কাজে যোগ দেয়। এর প্রত্যেকেই মনে মনে 'আশা করে' একদিন সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছাবে। তবে এদের মধ্যে বেশির ভাগ তরুণের মনে চূড়ায় পৌঁছানোর বিশ্বাসটা কিন্তু থাকে না। তাই তারা শীর্ষে পৌঁছাতে পারে না। যেহেতু তারা মনে করে যে সিঁড়ি বেয়ে ওঠা অসম্ভব, তাই ঐ শীর্ষে পৌঁছানোর সিঁড়িটাই তারা খুঁজে পায় না। তারা আর পাঁচটা 'সাধারণ' মানুষের মতোই আচরণ করে।

তবে এই তরুণদের মধ্যে অল্প কয়েকজনের মনে দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে তারা অবশ্যই সফল হবে। কাজের প্রতি এদের মনোভাবে হলো 'শীর্ষে পৌঁছাতে হবে।' এই আস্থায় তারা সত্যি শীর্ষে পৌঁছে যায়। তারা সাফল্যে বিশ্বাস করে বিশ্বাস করে যে সাফল্য অসম্ভব নয়। তাই তারা পদস্থ কর্মচারীদের আচরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে লক্ষ করে। একজন সফল মানুষ কীভাবে সমস্যার মোকাবিলা করে, সিদ্ধান্ত নেয় তা শিখে নেয়। তারা সফল মানুষের মনোভাব গভীরভাবে অধ্যয়ন করে। যে মনে মনে বিশ্বাস করে 'সফল হবই', সে কীভাবে সফল হওয়া যায় সেই পথটিও খুঁজতে শুরু করে।

আমার পরিচিত এক ভদ্রমহিলা দু'বছর আগে সিদ্ধান্ত নিলেন মোবাইল হোম অর্থাৎ ভ্রাম্যমান বাড়ি বিক্রির একটা সেলস এজেন্সি শুরু করবেন। অনেকেই কিন্তু তাকে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিল। তিনি তাদের কথা শুনে কাজটা শুরু করলেন না। ঐ মহিলার কাছে সঞ্চয় ছিল $ ৩০০০ এরও কম, তাকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে ন্যূনতম অর্থলগ্নির পরিমাণ বহুলাংশে বেশি হবে। তাকে বলা হয়, 'এখন প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা এত বেশি তাছাড়া ব্যবসা সামলানো দূরে থাক, মোবাইল হোম বিক্রির কোনো অভিজ্ঞতা আছে কী?' ওর পরামর্শ দাতা প্রশ্ন করেছিল। তা সত্ত্বেও ঐ মহিলার নিজের উপর আস্থা ছিল, সাফল্যের ক্ষমতা নিহিত ছিল তার মধ্যে। উনি স্বীকার করেন যে যথেষ্ট পুঁজি তার কাছে নেই, ব্যবসা ক্ষেত্র প্রতিযোগিতামূলক ও তা অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। 'তবে' উনি বলেছিলেন, 'আমি যতটা প্রমাণ সংগ্রহ করতে পেরেছি তাতে বোঝা যায় মোবাইল হোমের চাহিদা ক্রমশ বাড়বে। তাছাড়া আমি প্রতিযোগিতার বিষয়টা ভালোমতো বুঝে নিয়েছি। আমি জানি যে এই শহরে যে কোনো লোকের চেয়ে ভালোভাবে আমি এগুলো কী করতে পারবো। হয়তো কাজ করতে গিয়ে কিছু ভুল ত্রুটিও হবে, তাহলেও আমি খুব শিগগির শীর্ষে পৌঁছাবো।' আর সত্যিই তাই হয়েছিল। বিনিয়োগের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে ওর বিশেষ অসুবিধা হয়নি। এই ব্যবসায় নিশ্চিত সাফল্য সম্বন্ধে ওর দৃঢ় বিশ্বাস দেখে দু'জন বিনিয়োগকারী সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন এবং দৃঢ় বিশ্বাসী এই মহিলা 'অসম্ভব'কে সম্ভব করে তোলেন-উনি এমন একটি ট্রেলার উৎপাদকের খোঁজ পেলেন যে নগদ অর্থ ছাড়াই তাকে সীমিত মাত্রায় যন্ত্রপাতি দিয়ে সাহায্য করেছিল। গত বছর এই মহিলা $ ১০০০,০০০ দামের ট্রেলার বিক্রি করেন। 'আগামী বছর' উনি বললেন, 'আশা করি $ ২০০০,০০০ এর বেশি বিক্রি করতে পারবো।'

বিশ্বাস, দৃঢ় বিশ্বাস কাজ করার উপায় খুঁজে বার করে, কীভাবে কাজটা করতে হবে তা জানতে সাহায্য করে। আর আপনার নিজের প্রতি আস্থা দেখে অন্যরাও আপনার প্রতি আস্থাবান হবে।

বেশির ভাগ মানুষের মধ্যে এই আস্থার অভাব দেখা যায় তবে কয়েকজন, অর্থাৎ ইউএস এ-র সাফল্যপুরীর বাসিন্দাদের মধ্যে এর অভাব নেই। মিডওয়েস্টার্ন রাজ্যে হাইওয়ে বিভাগে কর্মরত আমার এক বন্ধু কয়েক সপ্তাহ আগে আমায় 'পর্বত টলানো'র অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন। 'গত মাসে', আমার বন্ধু বলতে শুরু করেন, 'আমাদের ডিপার্টমেন্ট বেশ কয়েকটা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানিকে নোটিশ মারফত জানায় যে আমাদের হাইওয়ে তৈরি করার প্রোগ্রামে আমরা আটটা ব্রিজ বানাবো এবং সেজন্য কয়েকটা কোম্পানিকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে। ব্রিজের খরচ পড়বে $ ৫০০০,০০০। যে ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে তারা ডিজাইন বাবদ ৪ শতাংশ কমিশন বা $ ২০০০,০০০ পাবে।'

'এ ব্যাপারে ২১টা ইঞ্জিনিয়ারিং সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, সবচেয়ে বড় চারটে সংগঠন তৎক্ষণাৎ সম্মতি জানিয়ে প্রস্তাব জমা করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাকি ১৭ টি কোম্পানি অপেক্ষাকৃত ছোট ছিল, এদের প্রত্যেকের সংগঠনে ৩ থেকে ৭ জন ইঞ্জিনিয়ার ছিল। প্রকল্পের আয়তন দেখে এদের মধ্যে ১৬টা কোম্পানি ঘাবড়ে যায়; প্রকল্পটা ভালোমতো দেখে শুনে, মাথা নেড়ে বলে, 'এ আমাদের পক্ষে অতিরিক্ত বড়। সত্যি যদি সামলাতে পারতাম! তবে জানি চেষ্টা করাও বৃথা।' তবে এই ছোট সংগঠনগুলির মধ্যে একটি কোম্পানি, যাদের কাছে ৩ জন ইঞ্জিনিয়ার ছিল, পরিকল্পনা দেখে বলল, 'আমরা এ কাজটা পারবো। আমরাও প্রস্তাব পেশ করবো।' এরা সত্যি তাই করেছিল, কাজটাও পেয়েছিল। যারা বিশ্বাস করে যে পর্বত টলানো যায়, তারা সত্যি তেমনটি করে দেখাতে পারে। তবে যাদের বিশ্বাস নেই, তারা ব্যর্থ হয়। এই বিশ্বাসই কাজের সক্ষমতা জাগিয়ে তোলে।

সত্যি কথা বলতে আজকে আধুনিক যুগে বিশ্বাস শুধু পর্বত টলানো নয় অনেক বৃহত্তর কাজ করতে পারছে। মহাকাশ অভিযানে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বস্তুত আসল উপাদানই ছিল মহাকাশে মানুষের বিজয় সম্ভব-এ বিশ্বাস। মহাশূন্যে ভ্রমণ করা যায়, এই অটল বিশ্বাস না থাকলে আমাদের বৈজ্ঞানিকদের মনে এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ, উদ্দীপনা ও সাহস জেগে উঠতো না। ক্যান্সারের নিরাময় সম্ভব-এই বিশ্বাসই ক্যান্সারের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব করে তুলবে। কয়েক বছর আগে ইংলিশ চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করার কথা হচ্ছিল যা ইংল্যান্ডকে বাকি মহাদেশের সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। এখন সেই সুড়ঙ্গ রয়েছে, কারণ ঐ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষগুলির পরিচালনায় আস্থা ছিল।

যে কোনো সেরা বই, নাটক, থিয়েটার, বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের মূল শক্তি-উৎকৃষ্ট পরিণামের উপায় আস্থা। প্রতিটি সফল ব্যবসা, চর্চা ও রাজনৈতিক সংগঠনের পেছনে রয়েছে সাফল্য বিশ্বাস। সফল মানুষের সাফল্যের মূলে যে একান্ত জরুরি উপাদান রয়েছে তা হলো সাফল্যের ও বিজয়ে তাদের আস্থা। বিশ্বাস করুন সত্যি আপনি সফল হবেন, আপনি সাফল্য পেতে বাধ্য। গত কয়েক বছরে আমি এমন অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছি যারা ব্যবসায় ও অন্যান্য জীবিকায় অসফল হয়েছে। ব্যর্থতার নানা কারণ, নানা অজুহাত শুনেছি। এই সব ব্যর্থ মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটা জরুরি ব্যাপার লক্ষ করলাম। অতি সাধারণ ভাবেই এই অসফল মানুষগুলি মন্তব্য করেছে, 'সত্যি কথা বলতে কী, আমি আশা করিনি এটা সফল হবে অথবা শুরু করার আগেই আমার মনে দ্বিধা ছিল বলে এই ব্যর্থতায় আমি তেমন অবাক হইনি।' চেষ্টা করে দেখছি তবে সফল হব না, দৃষ্টিভঙ্গি ব্যর্থতা আনতে বাধ্য। অবিশ্বাস নিরাশার চিহ্ন। যখন মনে অবিশ্বাস বা দ্বিধা জাগে, মন সেই অবিশ্বাসকে সমর্থন করার নানা 'কারণ' খোঁজে। অধিকাংশ ব্যর্থতার মূল কারণই হলো দ্বিধা, অবিশ্বাস, মনের অবচেতনে ব্যর্থ হওয়ার ইচ্ছা, সফল না হওয়ার ইচ্ছা।

মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ব্যর্থতা অনিবার্য। জয়ের আশা রাখুন, নিশ্চয়ই সফল হবেন। সম্প্রতি এক তরুণ গল্পকার আমার সঙ্গে নিজের লেখা অভিলাষ নিয়ে আলাপ আলোচনা করছিলেন। কথা প্রসঙ্গে এক প্রখ্যাত লেখকের বিষয়ে আলোচনা ওঠে। 'ও', ইনি বলেন, 'ক-বাবু অসাধারণ লেখক, আমি তো কোনোদিনই ওর মতো সফল হতে পারবো না।' এর কথায় আমি হতাশ হই কারণ এই দ্বিতীয় লেখকটিকে আমি চিনতাম। উনি অসাধারণ বুদ্ধিমান বা কল্পনা শক্তি সম্পন্ন মানুষ না, অসাধারণ কিছুই নেই ওর মধ্যে, তবে ওর মধ্যে রয়েছে অসাধারণ আত্মবিশ্বাস। ওঁর বিশ্বাস উনি সর্বশ্রেষ্ঠ লেখকদের মধ্যে একজন, তাই উনি কাজও করেন সেরা মানের। পথ প্রদর্শককে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা ভালো। তার কাছ থেকে শিখুন। তাকে ইষ্ট দেবতা করে তুলবেন না। বিশ্বাস করুন, আপনি তার চেয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন। আস্থা রাখুন, আপনি আরো অগ্রসর হতে পারবেন। যারা নিজেদের দ্বিতীয় শ্রেণির মনে করে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির মতোই কাজ করে।

দেখুন, বিশ্বাস একটা থার্মোস্ট্যাটের মতো, আমরা জীবনে যে কাজগুলি করি তা নিয়ন্ত্রণ করে। যে মানুষটা অতি সাধারণ জীবন-যাপন করছে তাকে দেখুন। তার বিশ্বাস যে তার কোনো মূল্য নেই, তাই জীবনের কাছ থেকে যৎসামান্যই পাচ্ছে সে। তার বিশ্বাস জীবনে সে বিশেষ কিছু করতে পারবে না, তাই সে অসফল হচ্ছে। সে মনে করে যে সে গুরুত্বপূর্ণ নয় তাই সে যা করে সে সব কাজই মূল্যহীন হয়ে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, নিজের কাছে নিজের আরো ক্ষুদ্র আরো ব্যর্থ হয়ে যাবে। আর যেহেতু আমরা নিজেদের যেমন মনে করি বাকি জগৎটাও তেমন ভাবেই দেখে তাই বাকিদের চোখেও আমাদের মূল্য থাকবে না।

আর, ক্রমশ অগ্রগামী এক ব্যক্তিকে অধ্যয়ন করা যাক। এর বিশ্বাস এ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব তাই সকলেই একে গুরুত্ব দেয়। এ মনে করে বিশাল ও কঠিন দায়িত্ব পূরণ করা সম্ভব তাই এ সফল হয়। এ যা কাজ করে, মানুষের প্রতি এর আচরণ, এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও চিন্তা ভাবনা, মনোভাব সবকিছুই জানায় 'ইনি একজন পেশাদার, ইনি বিশিষ্ট ব্যক্তি।' মানুষ নিজেরই চিন্তা ভাবনার পরিণাম স্বরূপ। বৃহতে আস্থা রাখুন। নিজের থার্মোস্ট্যাট এগিয়ে নিন। মনে প্রাণে সম্পূর্ণ আস্থা রাখুন আপনি সফল হবেন, এই আস্থার ভিত্তিতেই সাফল্য অর্জন করুন। বৃহতে আস্থা রাখুন, নিজেও বড় হয়ে উঠুন।

এক কারখানায় উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত দু'জন ফোরম্যান হলেন মি. বিজেতা ও মি. ব্যর্থতা। মি. বিজেতা গঠনাত্মক, আশাবাদী চিন্তা ভাবনার উদ্ভব করার দায়িত্বপ্রাপ্ত। কাজটা আপনি কেন করতে পারবেন, আপনি কেন এই কাজের যোগ্য, কেনই বা কাজটা করবেন এ সবের কারণ খুঁজে বার করায় ইনি বিশেষজ্ঞ। অন্য ফোরম্যান মি. ব্যর্থতা তৈরি করে নিরাশাজনক, না-ধর্মী চিন্তাধারা—আপনি কেন পারবেন না, কেন আপনি দুর্বল ও অক্ষম এসব চিন্তা ভাবনার উদ্ভবে সুদক্ষ ইনি। 'আপনি কেন অসফল হবেন' চিন্তাধারা এর বৈশিষ্ট্য।

মি. বিজেতা ও মি. ব্যর্থতা দু'জনেই কিন্তু খুবই বাধ্য। ক্ষণকালের মধ্যে আপনার আদেশের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। শুধু অপেক্ষা এদের মধ্যে যে কোনো একজন ফোরম্যানকে সামান্যতম ইঙ্গিত দেওয়ার। গঠনাত্মক সংকেতে মি. বিজেতা কাজ শুরু করে দেবে। একই ভাবে অন্য সংকেতে না-ধর্মী মি. ব্যর্থতা তৎপর হয়ে উঠবে। এই দু'জন ফোরম্যান কীভাবে আপনার জন্য কর্মতৎপরতা জোগাড় করে একটা উপায় বলি। নিজেকে বলুন, 'আজকের দিনটা বড় বিশ্রী' তৎক্ষণাৎ মি. ব্যর্থতা সজাগ হয়ে উঠবে, আপনার কথার সততা প্রমাণ করার জন্য বেশ কিছু তথ্য উপস্থিত করবে। বলবে আজ ভারী শীত বা গরম, ব্যবসা ভালো চলবে না, বিক্রি কম হবে, সবার মন মেজাজ খারাপ থাকবে, আপনি অসুস্থ বোধ করবেন, আপনার স্ত্রী খিটখিট করবে। মি. ব্যর্থতা খুবই কর্মপটু। মুহূর্তের মধ্যে সে আপনাকে প্রমাণ করে দেবে যে দিনটা বাস্তবিকই মন্দ। আপনি সচেতন হয়ে ব্যাপারটা বোঝার আগেই দিনটা খারাপ কাটবে।

অথচ নিজেকে বলুন, 'দিনটা বড় সুন্দর।' এবার মি. বিজেতা জেগে উঠবে। বলবে, 'কী সুন্দর দিন! আবহাওয়াটা কী দারুণ, বেঁচে থাকা বড় সুখের! আজ অনেকগুলো কাজ সারতে পারব।' আর দিনটা সত্যি সুমধুর হয়ে উঠবে। এভাবে মি. ব্যর্থতা যখন আপনাকে বোঝাবে যে মি. স্মিথের কাছে বিক্রি করা কত কষ্ট সাধ্য ব্যাপার, মি. বিজেতা কিন্তু বলবে আপনি বিক্রি করতে পারবেন। মি. ব্যর্থতা আপনাকে বুঝিয়ে দেবে যে আপনি অবশ্যই অসফল হবেন, এদিকে মি. বিজেতা জানাবে আপনি অবশ্যই সফল হবেন। মি. ব্যর্থতা টমকে অপছন্দ করার অজস্র কারণ খুঁজে বার করবে, এদিকে মি. বিজেতা টমকে পছন্দ করার বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে দেবে। এই ফোরম্যানদের যত বেশি কাজের ভার দেবেন, এরা ততই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। যদি মি. ব্যর্থতাকে বেশি কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে সে আরো কিছু কর্মীকে কাজে নিযুক্ত করবে এবং এরা আপনার সমস্ত মন জুড়ে রাজত্ব করবে। ক্রমশ এই ভদ্রলোক চিন্তা উৎপাদনকারী সম্পূর্ণ বিভাগটি নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসবে ও আপনার সব চিন্তা ভাবনা না-ধর্মী হয়ে উঠবে। মি. ব্যর্থতাকে বরখাস্ত করাই এক্ষেত্রে বুদ্ধিমানের কাজ হবে এর তো কোনো প্রয়োজন নেই। এমন লোকের দরকার নেই। যে বলবে আপনি পারবেন না, প্রস্তুত নন, আপনি ব্যর্থ হবেন ইত্যাদি। মি. ব্যর্থতা লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনাকে কোনোই সাহায্য করবে না, তাই তাকে বাতিল করে দিন। ১০০ শতাংশ সময় মি. বিজেতাকে কাজে ব্যস্ত রাখুন। যে কোনো চিন্তা মনে প্রবেশ করা মাত্র মি. বিজেতাকে সক্রিয় হয়ে উঠতে বলুন। আপনি কীভাবে সফল হবেন তা এই ভদ্রলোক আপনাকে জানাবে।

বিশ্বাসের শক্তি বিকশিত করা ও সুদৃঢ় করার তিনটি উপায়:
১। সাফল্যের কথা ভাবুন, ব্যর্থতার ভাবনাকে প্রশ্রয় দেবেন না। কর্মক্ষেত্রে, বাড়ি সর্বত্রই ব্যর্থতার বদলে সাফল্যের চিন্তা করুন। কঠিন পরিস্থিতিতে চিন্তা করুন 'আমি জিতব', 'আমি হয়তো হেরে যাব' নয়। আপনার চিন্তা ভাবনা ধ্যানধারণায় 'আমি তেমন যোগ্য নই' নয়। আপনার চিন্তা ভাবনা ধ্যানধারণায় 'আমি সফল হব' ধারণাটি বদ্ধমূল করে তুলুন। সাফল্যের চিন্তা আপনার মনকে সফল হওয়ার পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে সাহায্য করে। ব্যর্থতার চিন্তাও ঐ একই ভাবে কাজ করে। ব্যর্থতার ভাবনা মনকে ব্যর্থতার অন্যান্য বিষয়গুলি নিয়ে ভাবিয়ে তোলে।
২। নিয়মিত ভাবে নিজেকে মনে করিয়ে দিন যে আপনি নিজেকে যেমনটি মনে করেন আপনি কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো। সফল মানুষেরা মহামানব নয়। সাফল্যের জন্য অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার দরকার হয় না। সাফল্য কোনো অলৌকিক ব্যাপার নয়। সৌভাগ্যের সাথে সাফল্যের কোনো সম্পর্ক নেই। সফল মানুষটিও সাধারণ মানুষ তবে তার নিজের ওপর, নিজের কাজের ওপর আস্থা আছে। কখনো নিজেকে ছোট করবেন না।
৩। বড় বড় আশা রাখুন। আপনার বিশ্বাসের আয়তন যতখানি ততোটাই বড় হবে আপনার সাফল্যের আয়তন। ছোট ছোট লক্ষ্য স্থির করলে প্রাপ্তিও হবে যৎসামান্য। বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করুন, বিপুল সাফল্য পাবেন। তাছাড়া মনে রাখবেন বড় বড় কল্পনা ও ধারণা, বড় পরিকল্পনা করা ছোট ধ্যানধারণা, ছোট ছোট পরিকল্পনা থেকে অনেক সহজ, দুঃসাধ্য নয়।

অন্য কেউ আপনার জন্য এ কাজ করতে পারবে না। জীবনে যারা শীর্ষে পৌঁছায় তারা সকলেই অবিরাম ও সচেতনভাবে আত্মবিশ্বাস ও বৃদ্ধির পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে। আপনার সাফল্যের ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামের বিষয়বস্তু অর্থাৎ 'কী করতে হবে' গড়ে উঠবে সফল মানুষের মনোভাব ও কর্মপন্থার ভিত্তিতে। তারা কীভাবে নিজেদের পরিচালনা করে? কীভাবে বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে? কীভাবে অপরের কাছে তারা শ্রদ্ধেয় হয়ে ওঠে? তারা অসাধারণ কেন? তারা কেমন চিন্তা করে? নিজেকে নিজের গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক মনে করুন, দেখবেন কত কিছু যে শেখার সুযোগ আছে! নিজের গবেষণাগারে যেহেতু আপনি নিজেই পরিচালক, তাই বাকি বৈজ্ঞানিকদের মতো আপনিও অধ্যয়ন করুন প্রয়োগ করে দেখুন।

আপনি নিজেকেই হয়তো প্রশ্ন করবেন 'জন এতো সফল! অথচ টম অতি সাধারণ জীবন যাপন করছে কেন?' কয়েকজনের অসংখ্য বন্ধু থাকে আবার কারুর বন্ধু সংখ্যা হাতে গোনা যায়, এমন কেন? 'একজন একটা কথা বললে হাসিমুখে তা স্বীকার করে নেওয়া হয় আবার ঐ একই কথা আরেকজন বললে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয় কেন?' প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর, পর্যবেক্ষণের এই অতি সরল পদ্ধতির সাহায্যে আপনি মহামূল্য জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। নিজেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক করে তোলার দু'টি বিশেষ উপায় বলি। অধ্যয়নের জন্য আপনার পরিচিত দু'জন খুব সফল ও সম্পূর্ণ ব্যর্থ মানুষকে বেছে নিন। এই বইটির একটি প্রধান উদ্দেশ্য হলো, এটা আপনার পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বিকশিত করে তোলায় সাহায্য করবে, মানুষের আচরণ বুঝতে সাহায্য করবে। আপনি যে সাফল্য ও কৃতিত্বের পথে এগিয়ে চলেছেন এই উপলব্ধির চেয়ে বেশি সন্তোষজনক আর কিছুই হতে পারে না। নিজের গুণগুলি সম্পূর্ণ বিকশিত করার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জও আর কিছু নেই।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 ব্যর্থতার ব্যাধি, এক্সকিউসাইটিস সারিয়ে তুলুন

📄 ব্যর্থতার ব্যাধি, এক্সকিউসাইটিস সারিয়ে তুলুন


সাফল্য নিয়ে চিন্তা ভাবনা করার সময় আপনার প্রধান বিষয়টি হবে মানুষ। মানুষের অধ্যয়ন করুন। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মানুষের অধ্যয়ন করে সাফল্যের প্রণালীটি আবিষ্কার করুন, তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করুন। এক্ষুণি এ কাজটা শুরু করে দিন। মানুষের মনোভাব নিয়ে সুগভীরভাবে অধ্যয়ন করলে দেখবেন ব্যর্থ মানুষগুলি এক ভয়ানক ব্যাধিতে আক্রান্ত। সেই ব্যাধির নাম এক্সকিউসাইটিস। আর বেশির ভাগ জনতার মধ্যে এই রোগের কয়েকটি লক্ষণ অবশ্যই বিদ্যমান থাকে।

লক্ষ করবেন, এই এক্সকিউসাইটিস কিন্তু একটা সফল মানুষ ও এক ব্যর্থ মানুষের মধ্যে প্রভেদের প্রধান কারণ। আপনি দেখবেন মানুষ যত বেশি সফল সে ততই কম এই রোগ লক্ষণ অর্থাৎ অজুহাত দেখায়। যে মানুষটি কখনও কোথাও পৌঁছাতে পারেননি, যার জীবনে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনাই নেই সে হাজারটা অজুহাত দেখায়। যার জীবনে তেমন কিছুই করে উঠতে পারেনি তারা অন্যদের বোঝায় কেন করেনি, কেন করে না, কেন পারে না ও কেন তারা নয়। সফল ব্যক্তির জীবন অধ্যয়ন করলে দেখবেন, ইনিও কিন্তু অতি সাধারণ বাকিদের মতো নানা অজুহাত দেখাতে পারবেন, কিন্তু তা করেননি।

রুসভেল্ট তার অচল পা দু'টির অজুহাত দিতে পারতেন; ট্রুম্যান 'কলেজ শিক্ষার অভাব'কে ব্যর্থতার কারণ বলে অভিহিত করতে পারতেন; কেনেডি বলতে পারতেন, 'এতো অল্প বয়সে কী করে প্রেসিডেন্ট হব' জনসন ও আইস্যানহাওয়ার হৃদরোগের অজুহাত দেখাতে পারতেন। অন্যান্য যে কোনো রোগের মতোই এক্সকিউসাইটিস যথাযথ চিকিৎসা না হলে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এই রোগাগ্রস্ত মানুষের চিন্তা ভাবনা অনেকটা এরকম: 'আমার যতটা সফল হওয়া উচিত আমি ততোটা সফল না, নিজের এই ব্যর্থতার কী অজুহাত দেওয়া যায়? ভগ্নস্বাস্থ্য? শিক্ষার অভাব? বয়স বেশি? খুব কম বয়স? দুর্ভাগ্য? ব্যক্তিগত দুর্ভোগ? বউ ভালো না? পরিবারের দোষ?'

অজুহাতের ব্যাধিতে আক্রান্ত এই ব্যর্থ মানুষটি 'ভালো' একটি অজুহাত খুঁজে বের করে সেটাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এরপর নিজের অ-সামর্থের কারণ বোঝাতে গিয়ে নিজেকে ও অন্যদের ঐ অজুহাত শোনায়। যতবার এই রোগাগ্রস্ত মানুষটি অজুহাত দেখায় ততোই তার অবচেতন মনে গভীরভাবে এই অজুহাত গেঁথে যায়। গঠনমূলক বা নিরাশাজনক যে কোনো ধরনের চিন্তা ভাবনা বার বার করলে মনে গভীর প্রভাব পড়ে। এক্সকিউসাইটিসের রুগী প্রথমদিকে ভালো মতোই বোঝে যে কারণগুলি সে বলছে তা নিতান্তই অজুহাত, মোটেই সত্যি নয়। তবে, যতবার সে ঐ অজুহাতের পুনরাবৃত্তি করে, ততোই বদ্ধপরিকর হয়ে যায় যে ঐ অজুহাতে সত্য, ঐ অজুহাতই তার ব্যর্থতার মূল কারণ। তাই প্রথম পদক্ষেপ হলো, নিজের চিন্তার গতি সঠিক ও সাফল্যের পথে নিয়ে আসার জন্য নিজেকে ব্যর্থতার ব্যাধি এক্সকিউসাইটিস থেকে সুরক্ষিত রাখুন।

চারটি অতি পরিচিত এক্সকিউসাইটিস:
(ক) 'কী করব, স্বাস্থ্যটা যে মোটেই ভালো যাচ্ছে না': স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অজুহাত রয়েছে চির পরিচিত 'শরীর ভালো নাই' অথবা বিশেষ ভাবে 'আমার এই শারীরিক কষ্ট রয়েছে।' একটি মানুষ জীবনে যা করতে চান তা করতে না পারলে, আরো দায়িত্ব নিতে না চাইলে, সাফল্য না পেলে 'শরীর ভালো নেই' অজুহাতটি নানাভাবে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিসে আক্রান্ত তবে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে, এটাই কী আসল কারণ? একটু চিন্তা করে দেখুন-সফল মানুষগুলিও কিন্তু স্বাস্থ্যকে অজুহাত করে তুলতে পারে-কিন্তু তারা তো তা করে না। ডাক্তার বন্ধুরা বলেন, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। প্রত্যেকেই কোনো না কোনো রোগগ্রস্ত। অনেকেই আংশিক বা সার্বিকভাবে এই স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিসের শরণাপন্ন হয়, তবে সাফল্যে আগ্রহী মানুষ কিন্তু কখনই তা করে না।

স্বাস্থ্যের এক্সকিউসাইটিস নিরাময়ের চারটি উপায়:
১। নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে কোনোরকম আলোচনাই করবেন না। রোগের ব্যাপারে, তা যদি সামান্য সর্দি কাশিও হয়, যত আলোচনা করবেন তা ততোই গুরুতর হয়ে উঠবে। অসুস্থতার ব্যাপারে কথাবার্তা বলা অনেকটা আগাছায় সার দেওয়ার মতো। তাছাড়া, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা করাটা একটা বদভ্যাস।
২। স্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তাকে প্রশ্রয় মোটেই দেবেন না। হাজার হাজার হার্ট সচেতন মানুষকে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে নিষেধ করা হয় কারণ দুশ্চিন্তা মনকে অসুস্থ করে তোলে।
৩। আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞবোধ করুন যে আপনি যেমন আছেন, বেশ ভালো আছেন। একটা পুরানো প্রবাদ মনে পড়ে গেলো ‘নিজের জুতোজোড়া দেখে বড় দুঃখ হত, একদিন দেখলাম একটা লোকের পা নেই।' অসুস্থ বোধ করার অবিরাম নালিশ বন্ধ করুন, যেমনটি আছেন তাতেই সুখী হন।
৪। নিজেকে প্রায়ই মনে করিয়ে দিন, 'মরচে ধরার চেয়ে ক্ষয়ে যাওয়া ভালো।' জীবনটা আপনার, উপভোগ করুন। অপচয় করবেন না।

(খ) 'কিন্তু সফল হওয়ার জন্য যে বুদ্ধি চাই': বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস অর্থাৎ 'আমি বোকা' ব্যর্থতার একটি অতি পরিচিত কারণ। বোধবুদ্ধির ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ দু'টি বড় ভুল করে: ১। আমরা নিজেদের বোধশক্তির কম দাম দিই। ২। অপরের বোধশক্তিকে বেশি মূল্য দিই। আপনার কতখানি বুদ্ধি আছে তা জরুরি নয়। যা জরুরি তা হলো আপনি নিজের বোধবুদ্ধির কতখানি সদ্ব্যবহার করছেন। যে চিন্তা আপনার বোধবুদ্ধিকে দিশা নির্দেশ দিচ্ছে তা আপনার বোধশক্তি পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। বুদ্ধিমত্তার এক্সকিউসাইটিস নিরাময়ের তিনটি উপায়: ১। আপনার বুদ্ধি কম অথচ অন্যের বুদ্ধি বেশি, এমনটি কখনই মনে করবেন না। ২। প্রতিদিন বারবার নিজেকে মনে করিয়ে দিন, 'আমার মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি আমার বুদ্ধির চেয়ে বেশি জরুরি।' ৩। তথ্য মনে রাখার ক্ষমতার চেয়ে চিন্তা ভাবনার ক্ষমতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এ কথাটা মনে রাখবেন।

(গ) 'কোনো লাভ নেই। আমি বুড়ো হয়ে গিয়েছি (আমার বয়স কম)': বয়সের এক্সকিউসাইটিস অর্থাৎ কখনই বয়সটা ঠিক নয় নামক ব্যর্থতার ব্যাধি হরেক রকমের। বয়সের এক্সকিউসাইটিসের নিরাময়ের পন্থাগুলি হলো: ১। আপনার বর্তমান বয়সের প্রতি আশাবাদী মনোভাব রাখুন। ২। আপনার উৎপাদন ক্ষমতার আয়ুষ্কাল হিসাব করে দেখুন। ৩। জীবনে যা করতে চেয়েছেন, যা করতে চান তা করায় আগামী দিনগুলি সদ্ব্যবহার করুন।

(ঘ) 'কিন্তু আমার ব্যাপারটা আলাদা, দুর্ভাগ্য আমার চিরসাথী': সব কিছুর মূলে একটা কারণ আছে। কারণ ছাড়া কিছু হয় না। যে কোনো পেশায় যারা শীর্ষে পৌঁছায় তার মূলে থাকে তাদের উন্নততর দৃষ্টিভঙ্গি, তারা পরিশ্রমী এবং বোধবুদ্ধি সদ্ব্যবহার করতে জানেন। ভাগ্যের এক্সকিউসাইটিস থেকে নিষ্কৃতির দু'টি উপায়: ১। কারণ ও পরিণাম-এ নিয়মটা মেনে নিন। ২। অলীক স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন। সাফল্যের শ্রমহীন সহজ পন্থা খুঁজতে নিজের বুদ্ধির অপচয় করবেন না। পদোন্নতি, জয়লাভ, জীবনে সেরা জিনিসগুলির জন্য ভাগ্যের ভরসায় বসে থাকবেন না। যে গুণগুলি বিকাশ করলে জীবনে বিজয়ী হওয়া যায় সেগুলির বিকাশে মনোনিবেশ করুন।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলুন, ভয় জড়তা দূর করুন

📄 আত্মপ্রত্যয় গড়ে তুলুন, ভয় জড়তা দূর করুন


বন্ধুরা যখন বলে, 'অযথা ভয় পাচ্ছো। চিন্তার কোনো কারণ নেই। এগুলি তোমার উদ্ভট কল্পনা মাত্র,' মনে রাখবেন তারা আপনার মঙ্গল কামনা করেন। তবে আমি জানি, আপনিও জানি, এ রকম ভয়ের ওষুধে তেমন সুফল পাওয়া যায় না। 'এ তোমার কল্পনা মাত্র' চিকিৎসা পদ্ধতি আত্ম-প্রত্যয় গড়ে তুলতে পারে না, ভয়টাকে নির্মূল করতে পারে না। ভয় জিনিসটি আসল ও সত্যিকার অনুভূতি। ভয় সাফল্যের প্রথম ও প্রধান শত্রু। ভয়ে মানুষ সুযোগ হারায়, ভয় শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়, ভয় মানুষকে রোগগ্রস্ত করে ফেলে, আয়ু কমিয়ে দেয়।

সক্রিয়তা বা কর্মতৎপরতা সত্যি ভয় দূর করে। অনিশ্চয়তা ও বিলম্ব ভয় বাড়ায়। কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে, যতক্ষণ না সক্রিয় হয়ে ওঠা যায় ততক্ষণ ঐ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসা যায় না। আশাতেই সবের শুরু, তবে আশার সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠলেই বিজয়ী হওয়া যায়। সক্রিয়তার এই পদ্ধতি কাজে ব্যবহার করুন। এরপর যখনই ভয় পাবেন, নিজেকে অবিচলিত রাখবেন। তারপর এই প্রশ্নের উত্তরটা খুঁজে বের করবেন: ভয় দূর করার জন্য আমি কী করতে পারি? ভয়টাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। তারপর উপযুক্ত কাজটি করুন।

ভয়কে দূর করে আত্মপ্রত্যয় ফিরে পাওয়ার জন্য এই দু'টি কাজ করুন: ১. ভয়কে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিন। কেন ভয় পাচ্ছেন সেই কারণটা খুঁজে বের করুন। ২. এবার সক্রিয় হয়ে উঠুন। প্রতিটি ভয়ের কোনো না কোনো সমাধান আছে। আর মনে রাখবেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভয়টাকে আরো বড়, আরো ভয়াবহ করে তোলে। তাই তৎপর হয়ে কাজ করুন, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন।

স্মৃতি ব্যাঙ্কের সুউচ্চ পরিচালনার জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য বিশেষভাবে দু'টি কাজ করতে পারেন: ১. আপনার ব্যাঙ্কে শুধুই আশাবাদী ও গঠনমূলক চিন্তা ভাবনা সংগ্রহ করুন। ২. মনের ব্যাঙ্ক থেকে ভালো গঠনমূলক চিন্তা বেছে তুলুন। মন থেকে জঞ্জাল চিন্তাগুলি ঝেড়ে ফেলুন।

মানুষ একে অপরকে ভয় পায় কেন? অন্যদের সঠিকভাবে বোঝার চেষ্টা করলে তাদের প্রতি সঙ্কোচ বা ভীতি দূর হবে। অন্যজনও আপনার মতোই মানুষ, তাকে ভয় কিসের? মানুষকে সঠিকভাবে বোঝার দু'টি উপায়: ১. অন্যজনের উপযুক্ত মূল্যায়ন করুন। মনে রাখবেন প্রতিটি মানুষ গুরুত্বপূর্ণ, আপনি নিজেও। ২. অন্যদের বোঝার চেষ্টা করুন। যারা দুর্ব্যবহার করছে তাদের কথা বলতে দিন, তারপর সম্পূর্ণ ব্যাপারটা ভুলে যান।

সঠিক পথে চললে বিবেক সন্তুষ্ট থাকে, মন পরিষ্কার থাকে। ফলে গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস। জেনে-শুনে ভুল করলে দু'টি কুপ্রভাব পড়ে। এক, আমরা অপরাধ বোধে ভুগি যা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করে। দুই, ব্যাপারটা ক্রমশ অন্যান্যরাও জেনে যায়, তারাও আমাদের উপর বিশ্বাস হারায়। সঠিক পথ বেছে নিন, নিজের আত্মবিশ্বাস সুদৃঢ় করুন। এটিই সফল হওয়ার চাবিকাঠি।

আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার জন্য আচরণে দৃঢ় প্রত্যয় আনতে হবে। নিচে আত্মপ্রত্যয় গড়ে তোলার পাঁচটি নির্দেশ দেওয়া হলো:
১। সামনের সারিতে বসুন। সামনে বসলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে।
২। চোখে চোখ রেখে কথা বলার অভ্যাস করুন। এতে আপনার আত্ম-প্রত্যয় বাড়বে ও অন্যদের আপনার প্রতি বিশ্বাস বাড়বে।
৩। হাঁটার গতি ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিন। সপ্রতিভভাবে হাঁটা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।
৪। কথাবার্তায় অংশগ্রহণ করুন। কথা বলা আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ভিটামিন। সব উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিন।
৫। মন খুলে হাসুন। প্রাণখুলে হাসলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবেন। প্রাণ ভরা হাসি ভয় দূর করে, চিন্তাকে হারিয়ে দেয়, নৈরাশ্যকে জব্দ করে।

এই পাঁচটি পন্থা কাজে প্রয়োগ করুন এবং নিজেকে প্রতিদিন মনে করিয়ে দিন—'আমার মধ্যে আত্মবিশ্বাস আছে, প্রচুর আত্মবিশ্বাস'।

📘 দ্যা ম্যাজিক অব থিংকিং বিগ 📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়

📄 কীভাবে বড় বড় চিন্তা ভাবনা করা যায়


সাফল্য যাচাই করতে গেলে তা ইঞ্চি বা পাউন্ড, কলেজের ডিগ্রী বা পারিবারিক ঐতিহ্য দিয়ে করা যায় না, মানুষের চিন্তার পরিমাপ তার সাফল্যের পরিমাণ নির্ধারণ করে। মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা বোধ হয় নিজেকে তুচ্ছ মনে করা, নিজেকে ঠকানো। নিজের সঠিক মূল্যায়নের একটি উপায় বলি:
১। নিজের পাঁচটি বিশেষ গুণ খুঁজে বের করুন।
২। প্রতিটি গুণের পাশে এমন তিনজনের নাম উল্লেখ করুন যারা খুবই সফল হয়েছিল অথচ আপনার মতো গুণ হয়তো তাদের নেই। এরপর দেখবেন অন্তত একটি বিষয়ে আপনি অনেক সফল মানুষের চেয়ে সেরা।

বড় বড় চিন্তা করার জন্য এমন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করতে হবে যাতে কল্পনায় বড় বড় গঠনাত্মক ছবি ভেসে ওঠে। উচ্চাকাঙ্ক্ষীর শব্দ সম্ভার গড়ে তোলার চারটি উপায় হলো:
১। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করার জন্য বড় বড়, আশাপ্রদ, আনন্দদায়ক বাক্য ও শব্দ প্রয়োগ করুন। যখনই কেউ প্রশ্ন করবে 'কেমন আছেন?' উত্তর দিন, 'খুব ভালো' বা 'বেশ আছি'!
২। অন্যদের বর্ণনা করতে উজ্জ্বল, আনন্দবর্ধক, প্রীতিদায়ক শব্দ ও বাক্যাংশ ব্যবহার করুন।
৩। অন্যদের উৎসাহিত করে তোলার জন্য গঠনাত্মক, হ্যাঁ-ধর্মী ভাষা ব্যবহার করুন। অকৃত্রিম প্রশংসা সাফল্যের সাধনী হতে পারে।
৪। পরিকল্পনার পরিলেখ্য বোঝাতে গঠনমূলক শব্দ প্রয়োগ করুন। বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবার সমর্থন জোগাড় করুন।

কী আছে শুধু তাই নয়, কী করা যায় তাও ভেবে দেখুন। চিন্তাশীল বিদ্বান মানুষ শুধু যা দৃশ্যমান তাই দেখে না, কী করা যায় তাও দেখার অনুশীলন করেন। মূল্য বৃদ্ধির অনুশীলন করুন: ১. সবকিছু মূল্যে অভিযোজন করতে শিখুন। ২. মানুষের মূল্য বাড়াতে শিখুন। ৩. নিজের মূল্য বাড়াতে শিখুন।

তুচ্ছ ব্যাপারগুলি উপেক্ষা করার তিনটি পন্থা:
১. আসল উদ্দেশ্য, বড় লক্ষ্যটিতে মনোযোগ দিন। মহৎ উদ্দেশ্যটা মনে রাখতে হবে।
২. প্রশ্ন করুন, 'এটা কী খুব জরুরি?' ঝগড়া, কলহ বা নৈরাশ্য দূর করার এক অমোঘ ওষুধ হলো নিজেকে এই প্রশ্ন করা।
৩. তুচ্ছতার ফাঁদে আটকে পড়বেন না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিন।

মনে রাখবেন, বড় বড় ভাবনা চিন্তায় অবশ্যই সুফল পাওয়া যায়। নিজেকে ঠকাবেন না। বড় উজ্জ্বল শব্দ ব্যবহার করুন। দৃষ্টি প্রসারিত করুন। আপনার কাজের বৃহত্তর উদ্দেশ্যটা জেনে নিন এবং তুচ্ছতাকে উপেক্ষা করতে শিখুন। বড় মাপের মানুষ হয়ে ওঠার জন্য বড় বড় ভাবনা চিন্তা করুন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px