📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 গৃহকর্ম

📄 গৃহকর্ম


গৃহ একটি সামান্য ছোট্ট জায়গা হলেও এটি একটি মূল্যবান আশীর্বাদ। দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ব্যক্তির একমাত্র আশ্রয়স্থল তার গৃহ। এটি ছুটিতে থাকার পরেও সান্ত্বনা খোঁজার জায়গা, নিজের আপন বাড়িটিই একমাত্র স্বস্তির জায়গা। নিজের বাড়ির মতো শান্তি ও স্বস্তি অন্য কারো বাড়িতে কখনোই পাওয়া যায় না। এটি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আন্তরিকতা, সান্ত্বনা, স্বস্তি ও বিশ্রামের এমন এক জায়গা যেখানে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই ভালো গুণাবলিগুলোর চর্চার মাধ্যমে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হয়। এটি মনুষ্যজাতির প্রশিক্ষণের একমাত্র কর্মশালা এবং শিশুদের স্বশিক্ষিত ও মহৎপ্রাণ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র ভিত্তি।

পরিবার একটি ছোট্ট সংগঠন, যা থেকে বৃহত্তর সংগঠন সমাজের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পরিবারই যেমন সমাজের অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে, তেমনি পরিবারের ভুল শিক্ষা সমাজের বৃহত্তর পতনের কারণ হয়। পরিবার যদিও ছোট্ট একটি পরিবেশ, তবুও এটি বৃহত্তর সমাজের একটি অংশ। এখানে মানুষ একটি অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং সে কারণেই একটি জাতির সংশোধন, উন্নতি এবং অগ্রগতি অবশ্যই পরিবারের উন্নতির মাধ্যমে শুরু করা উচিত। এক-একটি পরিবারের পরিবর্তন ও উন্নতি ছাড়া একটি সমাজ কখনো পরিবর্তন হয় না, সমাজের উন্নতি হয় না।

এই সংবেদনশীল সমাজের উন্নতির জন্য, বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক উন্নতির জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনাসহ একটা বিশাল দায়িত্ব মহিলাদের ওপর বর্তায়। সুতরাং মহিলারা পরিবারের প্রতি তাদের আচার-আচরণ, সামাজিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা ও চর্চাসহ পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে কোনো একটি জাতির অগ্রগতি বা অবনতি নির্ধারণ করতে পারে।

তাই একজন গৃহিণীর কাজ খুবই সংবেদনশীল, শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানজনক। যারা পারিবারিক ইউনিটকে অবমূল্যায়ন করে এবং এই ক্ষেত্রটি তৈরিতে লজ্জা পায়, তারা আসলে এর মূল্যবোধ ও সম্মানের জায়গাটা সম্পর্কে অজ্ঞ। একজন গৃহিণীকে তার অবস্থান নিয়ে গর্ব করা উচিত। তিনি সমাজের মঙ্গলার্থে সম্মান ও ত্যাগের পদে অধিষ্ঠিত। তাঁর কাছেই একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি দেশ; একটি স্বশিক্ষিত, রুচিসম্মত ও আদর্শ জাতির প্রত্যাশা করা যায়। শিক্ষিত মহিলাদের এই অবস্থানে একটি বৃহত্তর দায়িত্ব রয়েছে এবং তাঁর এই দায়িত্বশীলতায় তিনি অন্যের কাছে একদিন আদর্শ হবেন। তাঁদের ব্যবহারিকভাবে এটি প্রমাণ করা উচিত যে—শিক্ষিত হয়েও গৃহবধূ হওয়া পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নয়, বরং এটি তাঁকে একজন আদর্শ গৃহিণী হতে সহায়তা করে; একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের পরিবর্তনে যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদের বিয়ে করা হয়—সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে। তুমি সফল।”৫৬

আরেক বর্ণনায় এসেছে—
অর্থ: “তোমরা সৌন্দর্য দেখে নারীদের বিয়ে কোরো না। হয়তো সৌন্দর্যের গরিমা তাকে ধ্বংস করে দেবে। সম্পদ দেখে বিয়ে কোরো না। হয়তো সম্পদ তাকে পথভ্রষ্ট করে দেবে। বরং দ্বীনদারি দেখে বিয়ে করো। নাক-কান কাটা কালো কোনো দাসী দ্বীনদার হলে সেই শ্রেষ্ঠ।”৫৭

একজন শিক্ষিত মহিলার উচিত তাঁর পরিবারকে, তাঁদের পারিবারিক নিয়মকানুনকে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে পরিচালনা করা। তাঁর গৃহকর্মের জন্য তাঁর গর্বিত হওয়া উচিত এবং এটাও প্রমাণ করা জরুরি যে—একজন অশিক্ষিত গৃহিণীর চেয়ে একজন শিক্ষিত গৃহিণী অনেক ভালো। শিক্ষিত হওয়ার অজুহাতে গৃহকর্ম পরিত্যাগ করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গঠনের মূল ভিত্তিটি হারাবে। পড়াশোনার উদ্দেশ্য নিজের দায়িত্বগুলো এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আরও ভালোভাবে সম্পাদন করতে সহায়তা করে।

আদালতে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলছিলেন—
‘উচ্চশিক্ষিত একটি মেয়েকে আমি বিবাহ করেছি। আমার স্ত্রী ঘরের কোনো কাজ করতে পারবে না বলে আমাকে জানিয়েছে। যতবারই আমি তার প্রতিবাদ করেছি, ততবারই সে আমাকে বলেছে যে—“শিক্ষিত মহিলার জন্য গৃহকর্ম নয়।” সে নিজেকে পরিবর্তন করতে মোটেও প্রস্তুত নয়। এমনকি সে আমাকে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার পরিবর্তে একজন দাসীকে বিয়ে করে নিতে বলেছে! দুদিন আগে আমি আমার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন এবং আমার কিছু বন্ধুবান্ধবকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। খাবারের সময় আমি টেবিলের কাপড় বিছিয়ে দিলাম এবং আমার স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার ফ্রেমযুক্ত প্রশংসাপত্রটি মাঝখানে রেখে দিলাম। তারপর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আমার স্ত্রী প্রতি রাতে আমার জন্য যে নৈশভোজ প্রস্তুত করে তা আপনারা পর্যবেক্ষণ করুন।’

আল্লাহ তাআলা বলেন—
অর্থ: “পুরুষরা নারীদের ওপর ক্ষমতাশীল। কারণ, আল্লাহ তাদের পরস্পরের মাঝে তারতম্য দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের সম্পদ হতে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা স্বামীর অনুগত।”৫৮

হাফেয ইবনে কাসীর অত্র আয়াতের তাফসিরে বলেন, “পুরুষ নারীর তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ সে তার গার্ডিয়ান, অভিভাবক, তার ওপর কর্তৃত্বকারী ও তাকে সংশোধনকারী, যদি সে বিপথগামী বা লাইনচ্যুত হয়।” এ ব্যাখ্যা রাসূলের হাদিস দ্বারাও সমর্থিত।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের আদেশ করতাম স্বামীদের সেজদা করার জন্য। সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর হাতে আমার জীবন, নারী তার স্বামীর সব হক আদায় করা ব্যতীত আল্লাহর হক আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি স্বামী যদি তাকে তলব করে, সে যেন উটের পিঠ থেকে নেমে এসে হলেও তার ডাকে সাড়া দেয়।”৫৯

এখন চলুন আমরা সবাই কয়েকজন শিক্ষিত মহিলার গৃহিণী হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মতামত পড়ে আসি—

মিসেস রোজিনা সুলতানা একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী নারী। তিনি বলেছিলেন—
‘পারিবারিক বিষয়াদিতে গৃহবধূর দক্ষ হওয়া উচিত। স্বামীর জন্য একজন ভালো সঙ্গিনী, সন্তানের জন্য একজন ভালো মা এবং অতিথিদের জন্য একজন অতিথিপরায়ণ নারী।’

শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মিসেস জাহানারা বলেছিলেন—
‘আমি বিশ্বাস করি যে—একজন সত্যিকারের গৃহিণী তিনিই, যিনি অফিসের কাজে নিযুক্ত হন না। কারণ আমাদের দেশে অফিসের চাকরিতে পর্দা করা এবং সন্তান পরিচর্যার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। অফিসের একজন মহিলা তাঁর স্বামীর ও সন্তানদের খাবার সম্পর্কে সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকেন।’

মেডিসিন অনুষদের সুপারিনটেনডেন্ট মিসেস ফাতিমা বলেছিলেন—
‘একজন গৃহবধূকে শুধু সম্ভাব্য বাজেটের মধ্যে একটি পরিষ্কার এবং নিরাপদ বাড়িতে থাকলেই যথেষ্ট। স্বামীর সাথে সুখ ও দুঃখের কথাগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়া উচিত। তাঁর স্বামীর মানসিক ও সামাজিক অবস্থা অবশ্যই তিনি উপেক্ষা করবেন না।’

মিসেস সুমাইয়া বলেছিলেন—
‘গৃহিণী হলো তিনি যিনি তাঁর পরিবারের অস্বাস্থ্যকর ও অপ্রয়োজনীয় বিনোদনগুলো কমিয়ে দেন এবং বাড়ির সামগ্রিক বিষয়গুলোর উন্নতি করার চেষ্টা করেন। একইসাথে তিনি আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখে চলাচল করতে সক্ষম।’

সুনান নাসায়িতে আবূ হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, কোনো নারী সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে তাকায়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে আদেশ দেয়। যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”

টিকাঃ
৫৬ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৬৩৫।
৫৭ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৯।
৫৮ সূরা নিসা: ৩৪।
৫৯ বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭১১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১২।
সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮৩০।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

📄 ঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন


গৃহিণীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা। পরিচ্ছন্নতা হলো স্বাস্থ্যের চাবিকাঠি। এটি অসুস্থতা ও বহু রোগের জীবাণুকে প্রতিরোধ করে এবং পরিবারের সদস্যদের পরিচ্ছন্ন গৃহের প্রতি আকৃষ্ট করে। গৃহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হলে এটি একটি পরিবারের আদর্শেরও ধারক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ: “পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।”৬১ আল্লাহর নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ: “তোমরা নিজেদের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখো। আঙিনা অপরিচ্ছন্ন রাখা ইহুদিদের কাজ।”৬২ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন— অর্থ: “নিশ্চয় আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্রতা পছন্দ করেন। তিনি পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন। সুতরাং তোমরা আঙিনা পরিচ্ছন্ন রাখো। ইহুদিদের মতো হয়ো না।”৬৩

আপনার ঘরটি সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। দিনে একবার ধুলাবালি পরিষ্কার করুন এবং দেয়াল, দরজা, জানালা এবং অন্যান্য আসবাবপত্র থেকে সমস্ত দাগ এবং ময়লা অপসারণ করুন। আবর্জনা সবসময় ঢাকনাওয়ালা ডাস্টবিনে ফেলুন এবং তা অন্যান্য ঘর ও রান্নাঘর থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্বে রাখুন। ডাস্টবিনটি নিয়মিত পরিষ্কার করুন। আবর্জনা বাড়ির আশেপাশে ফেলবেন না।

আপনার বাচ্চাদের উঠোনে বা বাড়ির আঙিনায় বা বাগানে প্রস্রাব করতে দেবেন না। আর যদি করেই ফেলে তাহলে জায়গাটি তাড়াতাড়ি ধুয়ে ফেলুন। কেননা ময়লা আবর্জনাই হচ্ছে মারাত্মক জীবাণুদের কেন্দ্রস্থল। নোংরা থালাবাসন ফেলে রাখবেন না, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধুয়ে ফেলুন। ময়লার ওপর মারাত্মক জীবাণু বংশবিস্তার করে। এটি আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। থালাবাসন পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে, পরিষ্কার একটি জায়গায় শুকানোর জন্য রাখা উচিত।

কোনো কক্ষ বা রান্নাঘরের আশপাশে নোংরা কাপড় রাখা উচিত নয়, থাকলে সরিয়ে ফেলুন। বাচ্চাদের নোংরা কিছুই রাখবেন না। বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ধুয়ে ফেলুন। সমস্ত জামাকাপড় এবং বিশেষ করে অন্তর্বাসগুলো পরিচ্ছন্ন রাখুন। রান্নার আগে মাংস, শাকসবজি ও খাবারের সকল উপাদান ধুয়ে নিয়ে রান্না করুন এবং খাওয়ার আগে সমস্ত ফলমূল ধুয়ে নিন বা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভিজিয়ে রেখে খাবেন। কারণ কিছু কিছু ফলকে বিষাক্ত পদার্থ দিয়ে স্প্রে করা হয়।

যে কোনো খাবার খাওয়ার আগে আপনার হাত ধুয়ে নিন এবং আপনার বাচ্চাদেরকেও হাত ধোয়ার জন্য অভ্যস্ত করুন। খাওয়ার পরে নিজের হাতসহ মুখ ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে প্রত্যেকবার খাওয়ার পর দাঁত ব্রাশ করা উচিত এবং দাঁতের সুস্থতার জন্য রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা আবশ্যক। আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— অর্থ: “যদি না আমার উম্মত অথবা (তিনি বলেছেন) মানুষের জন্য কঠিন হতো তবে আমি তাদের প্রত্যেক সালাতের সঙ্গে মিসওয়াকের নির্দেশ (ওয়াজিব ঘোষণা) দিতাম।”৬৪

সপ্তাহে একবার নখ কেটে ফেলুন। দীর্ঘ নখ রাখা স্বাস্থ্যকর নয়, কারণ দীর্ঘ নখের নিচে জীবাণু বাস করে। শুক্রবার নখ কাটার একটি উপযুক্ত দিন। সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বা প্রতি দুইদিনে একদিন গোসল করুন। আর যদি সম্ভব হয় তাহলে প্রতিদিন গোসল করা উচিত। আবু সাঈদ খুদরি রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— অর্থ: “জুমার দিন (শুক্রবার) গোসল করা প্রতিটি সাবালক ব্যক্তির জন্য ওয়াজিব।”৬৫ আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— অর্থ: “প্রতিটি মুসলিমের অবশ্য কর্তব্য হলো, (অন্তত) প্রতি সাত দিনে একবার তার মাথা ও শরীর ধৌত করা।”৬৬

একজন মানুষকে তার পরিচ্ছন্নতার জন্য অবশ্যই নিজের বগলের নিচের, পাশাপাশি অন্যান্য জায়গা থেকে শেভ বা অন্য উপায়ে সমস্ত চুল সরিয়ে ফেলতে হবে। শরীরে লুকানো চুলগুলো ক্রমবর্ধমান এবং তা জীবাণুর বসবাসের জন্য উপযুক্ত জায়গা। মাছিদের সংস্পর্শের খাবার ডাস্টবিনে ফেলে দিন। কারণ মাছি অনেকরকম বিপজ্জনক জীবাণু বহন করে। আমাদের পবিত্র ইসলাম ধর্ম মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার জন্য দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দেয়। আবু মালেক আশআরি রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ: “পবিত্রতা-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক।”৬৭ মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছিলেন— অর্থ: “তোমরা বাহন ও পোশাক পরিপাটি করো। যেন তোমাদেরকে অন্যদের মাঝে তিলকের মতো উজ্জ্বল দেখায়। নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা নোংরামি ও অপরিচ্ছন্নতা পছন্দ করেন না।”৬৮ হযরত জাবের রাযিআল্লাহু আনহু বলেন— অর্থ: 'একবার নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির ময়লা এলোমেলো চুল দেখে বললেন— “এই লোক কি তার চুলগুলোও গুছিয়ে রাখতে অক্ষম!” আরেক ব্যক্তির কাপড় নোংরা দেখে বললেন— “তার কাছে কি কাপড় ধোয়ার মতো সামান্য পানিও নেই!”৬৯ এছাড়াও, আবু হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— “যে ব্যক্তি হাত পরিষ্কার না করেই হাতে গোশতের গন্ধ ও তৈলাক্ততা নিয়ে ঘুমালো, এতে তার কোনো ক্ষতি হলে সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।”৭০

টিকাঃ
৬১ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২৩; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ৩৫১৭।
৬২ তাবারানি আউসাত, হাদিস নং: ৪০৫৭।
৬৩ জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ২৭৯৯।
৬৪ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৮৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৫২।
৬৫ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৮০।
৬৬ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৮৯৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৮৪৯।
৬৭ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২২৩।
৬৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৭৬২৪; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০৮৯।
৬৯ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১৪৮৫; আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪০৬২।
৭০ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৪৬৭০।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 একটি সুবিন্যস্ত গৃহ

📄 একটি সুবিন্যস্ত গৃহ


একটি সুসজ্জিত, পরিপাটি গৃহ অনেকগুলো কারণে একটি অগোছালো ও বিশৃঙ্খল গৃহ থেকে সুন্দর ও আকর্ষণীয়। প্রথমত—একটি সুসজ্জিত এবং গোছানো ঘর দেখতে আকর্ষণীয়, সুন্দর এবং এর শ্রী বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। এই সৌন্দর্য কারও বিরক্তিকর কারণ হয় না বরং এটি মানুষের মনে সৌন্দর্যস্পৃহা এবং আনন্দের সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয়ত—গৃহের প্রতিদিনের কাজ করা একজন গৃহিণীর জন্য সহজ হবে। কারণ তিনি জানেন কোথায় কোন জিনিসটি রাখা আছে, যা তাকে কোনো কিছু খুঁজে বের করার ঝামেলা থেকে পরিত্রাণ দেবে এবং তার সময়ও নষ্ট হবে না। ফলস্বরূপ, গৃহিণী তার কাজ নিয়ে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে উঠবে না।

তৃতীয়ত—একটি পরিচ্ছন্ন গৃহ স্বামী ও তার স্ত্রীকে গৃহের প্রতি আকৃষ্ট করে এবং এর মাধ্যমে একজন গৃহিণীর রুচিবোধ, গুণ ও সৌন্দর্য গৃহে প্রতিফলিত হয়। নেককার নারীরা আনুগত্যশীল হয়। তারা সর্বদা স্বামীর আনুগত্য করে। নারীর জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হকের পর স্বামীর হকের মতো অবশ্য কর্তব্য কোনো হক নেই। আল্লাহ তাআলা বিষয়টি চমৎকারভাবে তুলে ধরে বলেন— অর্থ: “পুণ্যময়ী নারীরা স্বামীর অনুগতা এবং তার অনুপস্থিতিতে (স্বামীর ধন ও নিজেদের ইজ্জত) রক্ষাকারিণী হয়।”৭১

চতুর্থত—একটি সুবিন্যস্ত গৃহ তার পরিবারের জন্য গর্ব ও প্রশংসার উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। যখনই বাড়িতে কেউ বেড়াতে আসে, তারা গৃহের সাজ-সৌন্দর্য দেখে গৃহিণীর বুদ্ধিমত্তা ও রুচিশীলতার প্রশংসা করে। স্ত্রী হচ্ছে গৃহের পরিচারিকা, গৃহরাজ্যের রানি। স্বামীর সম্পদ সংরক্ষণ করুন। স্বামীর সাধ্যের অতীত এমন কোনো আবদার কিংবা প্রয়োজন পেশ করা থেকে বিরত থাকুন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন— অর্থ: “স্ত্রী স্বীয় স্বামীর ঘর ও সন্তানের দেখাশোনার জিম্মাদার। এ জিম্মাদারির ব্যাপারে তাকে জবাবদিহিতার সম্মুখীন করা হবে।”৭২

বাড়ির দামি ফার্নিচার ও আসবাবপত্র বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং ফার্নিচারগুলো কী রকম সুবিন্যস্ত, পরিপাটি করে সাজানো আছে তার ওপর বাড়ির সৌন্দর্য ও আকর্ষণীয়তা নির্ভর করে। আপনি অবশ্যই অনেক ধনী লোকের বাড়ি দেখেছেন যেখানে অনেক দামি, বিলাসবহুল আসবাব থাকা সত্ত্বেও তা বিরক্তির সৃষ্টি করে। অন্যদিকে একটি মধ্যবিত্ত বা দরিদ্র পরিবারের পরিপাটিতা ও রুচিবোধ তার গৃহকে উপভোগ্য করে তোলে।

সুতরাং, গৃহকে আকর্ষণীয় ও পরিপাটি করে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা একজন গৃহিণীর অন্যতম কর্তব্য। একজন বুদ্ধিমান ও রুচিশীল গৃহিণী জানেন কীভাবে একটি গৃহকে সাজাতে হয়। তবে কিছু কিছু জিনিস এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয়।

১. থালাবাসন সুবিন্যস্ত করে রাখা:
থালাবাসন স্তূপাকারে এক জায়গায় গাদাগাদি করে রাখবেন না। ছুরি, কাঁটাচামচ জাতীয় আসবাবগুলো এক জায়গায় করে রাখবেন এবং থালাবাসন আলাদা জায়গায় রাখবেন। অতিথিদের জন্য যেসব আসবাব, জিনিসপত্র রয়েছে তা আলাদা করে রাখুন এবং নিত্যব্যবহার্য তৈজসপত্র আলাদা জায়গায় রাখুন। এমন করে, প্রত্যেকটি জিনিসের ক্ষেত্রেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। প্রত্যেকটি জিনিস তার যথাযথ জায়গায় রাখুন, যেন পরিবারের প্রত্যেক সদস্য তা খুব সহজেই খুঁজে পায়, এমনকি অন্ধকারেও।

কিছু কিছু গৃহিণী বিশ্বাস করেন যে—এই জাতীয় ব্যবস্থাপনা শুধু ধনী গৃহিণীদের পক্ষেই উপযুক্ত। কিন্তু এই বিশ্বাসটি একেবারেই ভিত্তিহীন। গরিব বা মধ্যবিত্ত পরিবারেরও তাদের বাসনকোসন, বিছানা এবং জামাকাপড়সহ সকল আসবাবপত্র সুবিন্যস্ত করে রাখা উচিত এবং তা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ—স্ত্রীর নিজের, স্বামীর এবং সন্তানদের পোশাক আলাদা করে রাখা উচিত। শীতের পোশাক ও গরমের পোশাক অবশ্যই আলাদা আলাদা অবস্থানে থাকবে। নোংরা কাপড়ের জন্য নিজস্ব জায়গা থাকতে হবে। স্বর্ণ-অলংকারও তাদের যথাযথ জায়গায় রাখতে হবে।

আপনার সন্তানদেরকে বই, জামাকাপড়, খেলনা ইত্যাদি পরিপাটি করে রাখতে শেখান। আপনি যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি হন তাহলে অবশ্যই আপনার বাচ্চারা পরিপাটি হয়ে গড়ে উঠবে। কারণ বাচ্চারা তাদের বাবা-মাকেই অনুসরণ করে বেড়ে ওঠে এবং তাদের আচার-আচরণ, গুণাবলি, সুশৃঙ্খলতা এবং রুচিশীলতা নিজের মধ্যে ধারণ করে। অপরিচ্ছন্ন অগোছালো মহিলারা তাদের ঘর নোংরা হওয়ার জন্য তাদের বাচ্চাদের দোষারোপ করেন। অথচ বাচ্চারা কিন্তু পরিচ্ছন্নতা জ্ঞান তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকেই শেখে। যদি বাবা-মা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হন তাহলে প্রাকৃতিকভাবেই তাদের সন্তানরা তাদের গুণাবলি ধারণ করে বেড়ে ওঠে এবং পরিপাটি হতে বাধ্য।

আপনার সমস্ত অর্থ, দরকারি কাগজপত্র বা নথিপত্র, প্রশংসাপত্র এবং অলংকার নিরাপদ স্থানে, বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখুন। কোনো জিনিস হারিয়ে ফেলা বা ভেঙে ফেলার জন্য আপনার বাচ্চাকে মারধর বা শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। কারণ সেটি আপনারই দোষ যে—আপনি তা নিরাপদ স্থানে না রেখে বাচ্চার নাগালের মধ্যে রেখেছেন। এক ব্যক্তি তার কিছু টাকা টেবিলের ওপর রেখে, তার স্ত্রীকে একটি নিরাপদ জায়গায় রাখতে বলে ঘর থেকে বের হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর লোকটি বাড়ি ফিরে এসে তার রেখে যাওয়া টাকা পেল না। লোকটি উদ্বিগ্ন হয়ে টাকার থলেটি বাসার ভেতরে এবং বাইরে খুঁজতে লাগল এবং বাগানের দিকে আসতেই লক্ষ্য করল তার ৫ বছরের ছেলেটি বাগানের ভেতরে কিছু পোড়াচ্ছে। তাৎক্ষণাৎ বাচ্চাটির মা অতি ক্রুদ্ধ হয়ে বাচ্চাটির কাছে গেল এবং তার ছেলেকে উপরে তুলে সজোরে মাটিতে আছড়ে ফেলল। মারাত্মকভাবে আঘাত পাওয়ার কারণে ছেলেটি সাথে সাথেই মারা গেল। মহিলাটি নিজের ছেলের লাশের দিকে তাকিয়ে খুবই ভীত হয়ে গিয়েছিল। লোকটি বাগান থেকে বের হয়ে আসতেই এই দুর্ঘটনা স্বচক্ষে দেখল। তারপরই সে স্ত্রীকে মারা শুরু করল এবং চিন্তা করল তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের কাছে যাবে। কিন্তু সে মোটরসাইকেলে করে পুলিশ স্টেশনে পৌঁছাবার আগেই এক্সিডেন্ট করে। পরে তাকে হাসপাতালের 'ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে' ভর্তি করা হয়। আপনার কী মনে হয়, এই ঘটনার জন্য দায়ী কে? আপনি নিজের সাথে মিলিয়ে ঘটনাটির বিচার করুন। সম্ভবত, আপনিও এমন কোনো ঘটনার সাথে পরিচিত হয়ে থাকতে পারেন।

ওষুধ, প্যারাফিন, পেট্রোল, বিষাক্ত জাতীয় জিনিস বাচ্চাদের নাগালের বাইরে রাখা উচিত। খাবার অথবা পানির মতো দেখতে কিছু পেলেই বাচ্চারা তা মুখে দিয়ে বসে। অবহেলা করে তাদের জীবন বিপন্ন করবেন না। এমন অনেক শিশু আছে যারা তাদের বাবা-মায়ের অসতর্কতার কারণে চিরতরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছে। দুই ভাইবোন, যথাক্রমে ৬ বছর এবং ৪ বছর; তারা ভুল করে বিষাক্ত ডিডিটির একটি দ্রবণ খেয়ে ফেলে। ৪ বছরের বোনটি মারা যায় এবং ভাইটি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। বাচ্চা দুটি তাদের নিজ বাড়িতেই ছিল এবং তারা তৃষ্ণা নিবারণের জন্য পানি ভেবে ডিডিটির মিশ্রণটি খেয়ে ফেলে। তাদের মা হাসপাতালে মিশ্রণটির ব্যাপারে জানায় যে—মিশ্রণটি ইঁদুর মারার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। আরও দুটি বাচ্চা পানি ভেবে ভুলক্রমে কেরোসিন তেল খেয়ে ফেলেছিল। অন্য একটি বাচ্চা তার মায়ের দশটি ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছিল। সবগুলি বাচ্চাকেই পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।

অবশেষে আপনাকে এটিই মনে করিয়ে দিতে চাই যে—পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে আপনি একেবারে অস্বস্তির পর্যায়ে নিয়ে যাবেন না। কারণ এই অস্বস্তি একটা বড় ধরনের সমস্যা। অপরদিকে এক ব্যক্তি বলেছিলেন— “আমি আমার স্ত্রীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেছি। আমি প্রতিদিন কাজ শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে যখন বাসায় ফিরি, আমার স্ত্রী কয়েকবার আমাকে হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার থাকতে বলে। তিনি চান আমি যেন আমার জামাকাপড় সঠিক অবস্থানে রাখি। বিয়ের আগের সময়টা আমি খুব স্বাধীন ছিলাম কিন্তু বিয়ের পর থেকে ৪ বছর যাবত আমি কারাগারের মতো আবদ্ধ জীবনযাপন করছি। একজন মানুষকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কেন এত চিন্তা করতে হবে? এটা অবশ্যই একটি মানসিক সমস্যা আর এই অন্ধকারচ্ছন্ন অস্বস্তি আমি একদম সহ্য করতে পারি না।”

একজন মানুষের জীবনের সমস্ত ক্ষেত্রে একটি পরিমিত আচরণ হচ্ছে সর্বোত্তম। এত বেশি বিশৃঙ্খল, অগোছালো হওয়া উচিত নয় যে—তা একজন মানুষের সাধারণ জীবনযাপনকে ব্যাহত করে। আবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়ে শুচিবাই স্বভাব, মানসিক সমস্যার পর্যায়ে চলে যাওয়া যাবে না। মধ্যমপন্থাই উত্তম পন্থা। ইসলাম মধ্যপন্থার ধর্ম। কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করা যাবে না, তেমনি ছাড়াছাড়িও করা যায় না। উভয়টাই পরিত্যাজ্য। আর এ মধ্যপন্থার নির্দেশ প্রতিটি ক্ষেত্রেই। যেমন, আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় বান্দাদের গুণাবলি উল্লেখ করতে গিয়ে বলেছেন— অর্থ: “আর তারা যখন ব্যয় করে তখন অপব্যয় করে না এবং কার্পণ্যও করে না। বরং মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে।”৭৩ এমনিভাবে এ মধ্যপন্থা জীবনের সর্বক্ষেত্রে অনুসরণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে।

টিকাঃ
৭১ সূরা নিসা: ৩৪।
৭২ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫২০০; বাইহাকি, হাদিস নং: ৭৩৬০।
৭৩ সূরা আল ফুরকান: ৬৭।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 খাদ্য প্রস্তুত করা

📄 খাদ্য প্রস্তুত করা


পরিবারের সকলের জন্য খাদ্য প্রস্তুত করাও একজন গৃহিণীর গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। একজন ভালো গৃহিণী একইসাথে একজন ভালো রাঁধুনিও বটে, যিনি স্বল্প ব্যয়ে সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করতে সক্ষম। কিন্তু একজন অদক্ষ গৃহিণী দামি ও ভালো উপকরণ থাকা সত্ত্বেও সুস্বাদু খাবার প্রস্তুত করতে পারেন না। সুস্বাদু খাবারের মাধ্যমে স্বামী তার স্ত্রীর দিকে আকর্ষিত হন। একজন স্বামী, যার স্ত্রী ভালো রান্না করেন, তিনি খুব উপভোগ করেন ও তৃপ্তি নিয়ে খাবার খান।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
অর্থ: “মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানত, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকত।”৭৪

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন—
অর্থ: “পরিবারের জন্য তুমি যা ব্যয় করবে তার প্রতিদান অবশ্যই পাবে। এমনকি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দিবে, তার প্রতিদানও।”৭৫

এমনকি হাদিসে এটাও উল্লেখ করা আছে—
অর্থ: "তোমাদের প্রত্যেকে নিজ স্ত্রীর সাথে সহবাস করাও সদকা।"৭৬

হযরত আবু বকর রাযিআল্লাহু আনহু-এর কন্যা আসমা রাযিআল্লাহু আনহা বলেন—
অর্থ: 'আমি নিজে আমার স্বামী যুবাইরের সংসারের সব কাজ করতাম। তার কিছু ঘোড়া ছিল, আমি সেগুলো দেখাশোনা করতাম। সংসারের সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল ঘোড়া পালন। আমি সেগুলোর জন্য ঘাস কাটতাম এবং যাবতীয় সব দেখাশোনা করতাম।”৭৭ আরেক বর্ণনায় আছে, তিনি আরও বলেন, 'আমি বালতিতে করে দূর থেকে পানি আনতাম। আটা পিষতাম। রুটি বানাতাম। তিন মাইল দূরের বাগান থেকে খেজুরের বোঝা মাথায় করে নিয়ে আসতাম”।৭৮

সুস্বাদু রন্ধনপ্রণালীর জন্য অনেকগুলো রেসিপি আছে, যার সবগুলো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। কিন্তু এই রেসিপির উপর অনেক ভালো ভালো বই আছে, যেগুলো রান্নার কাজে অনেকে ব্যবহার করে থাকেন। তবে কিছু পয়েন্ট মনে রাখা জরুরি—

খাওয়ার উদ্দেশ্য কিন্তু শুধু পেট ভরা নয়। এটি যেন একইসাথে শরীরের পুষ্টি এবং ভিটামিন সরবরাহ করে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে, যার মাধ্যমে আমাদের দেহপ্রক্রিয়া সচল থাকে। দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো মাছ, মাংস, ফলমূল, শাকসবজি এবং শস্য থেকে পাওয়া যায়। এই পুষ্টি উপাদানগুলোকে ৬টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ৬টি শ্রেণি উল্লেখ করা হলো:
▶ পানি।
▶ খনিজ জাতীয় পদার্থ। যেমন—ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ইত্যাদি।
▶ শর্করা জাতীয় পদার্থ।
▶ চর্বি জাতীয় পদার্থ।
▶ প্রোটিন।
▶ ভিটামিন এ, বি, সি, ডি, ই, কে ইত্যাদি।

একজন মানুষের দেহের ওজনের বেশিরভাগ অংশই হচ্ছে পানি। শক্ত খাবারগুলোকে পানি অন্ত্রে শোষণের উপযোগী করে তোলে, হজমে সাহায্য করে এবং শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হাড়, দাঁত, মাংসপেশির গঠন ও ক্রিয়াকলাপের নিয়ন্ত্রণের জন্য খনিজ পদার্থ ও পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্বোহাইড্রেট তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে। প্রোটিন দেহের বৃদ্ধিতে পুরনো বা মৃত কোষগুলোর প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে। ভিটামিনগুলো শরীরের বৃদ্ধিতে, হাড় শক্তিশালীকরণে, দেহের রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে এবং একটি সুস্থ স্বাভাবিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রম বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপরোক্ত সবগুলি পদার্থ শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়।

অপুষ্টিজনিত কারণ অনেক অসুস্থতার সৃষ্টি করে এবং তা মারাত্মক রূপও ধারণ করতে পারে। খাবারের গুণগত মান খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এবং একজন মানুষের জীবনচক্র, তার সুখ-দুঃখ, তার সৌন্দর্য, কদর্যতা, সুস্থ স্নায়ুতন্ত্র এমনকি মানসিক ব্যাধিগুলোর সাথে খাবারের সম্পর্ক সমানুপাতিক। আমরা তাই-ই যা আমরা খাই। যদি কেউ তার খাবার পর্যবেক্ষণ করেন এবং খাদ্যাভ্যাসের যত্ন নেন তবে তিনি কম অসুস্থ হন। গুণগত মান বিচার না করে কেবল সুস্বাদু খাবার খাওয়া মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। গুণগত মান দেখে, পুষ্টিকর খাবারই আমাদের গ্রহণ করা উচিত।

সঠিক খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ না করার ফলে কারো স্বাস্থ্য যদি একবার ভেঙে যায় তাহলে তাকে অবশ্যই চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আগের মতো স্বাস্থ্য আবার ফিরে পাওয়া বেশ কঠিন। মিকদাম ইবনে মাদীকারিব রাযিআল্লাহু আনহু বলেন—
অর্থ: 'আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, "মানুষ পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র ভর্তি করে না। যতটুকু আহার করলে মেরুদণ্ড সোজা রাখা সম্ভব, ততটুকু খাদ্যই কোনো ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট। এরপরও যদি কারো আরও খেতেই হয়, তবে সে পেটের এক-তৃতীয়াংশ আহারের জন্য, এক-তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য রাখবে।”৭৯

যেহেতু একটি পরিবারের রন্ধন প্রণালী ও খাবার প্রস্তুত করার দায়িত্ব গৃহিণীর উপর, তাই তাকে সবার স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রেখে পুষ্টিকর ও গুণমানসম্পন্ন খাদ্য প্রস্তুত করতে হবে। তার ছোট্ট একটি অসতর্কতা পরিবারের সবার স্বাস্থ্য ঝুঁকির এবং অসুস্থতার কারণ হতে পারে। সুতরাং একজন গৃহিণীর ভালো রান্না করা ছাড়াও খাবারের গুণগত মান শনাক্ত করার সক্ষমতা থাকা উচিত।

প্রথমত—তাকে এমন সব খাবার তৈরি করতে হবে যা সঠিক এবং সুষম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং যা একজন মানুষের দেহের কাজগুলো সঠিকভাবে চালনা করতে সক্ষম। একবার নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক নারীকে জিজ্ঞেস করলেন—
অর্থ: “তুমি তোমার স্বামীর সাথে কেমন আচরণ কর?” তিনি বললেন, 'নিজের সাধ্যের মধ্যে আমি তার সেবা-যত্নে বিন্দুমাত্রও ত্রুটি করি না।' নবিজী বললেন, “সাবধান থেকো! তার সেবাই তোমাকে জান্নাতে পৌঁছাবে বা জাহান্নামে”।৮০

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৮১

দ্বিতীয়ত—সকল মানুষের খাদ্যতালিকা এক রকম নয়। বয়স, শরীরের আকার এবং অন্যান্য সম্ভাব্য কারণগুলি আমাদের দেহের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তার মাত্রা নির্ধারণ করে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়:
১. একটি শিশু, যার বাড়ন্ত শরীর, মাঝারি বয়সী ব্যক্তির তুলনায় তার আরও বেশি ক্যালসিয়াম প্রয়োজন।
২. যুবকদের খাদ্য তালিকায় শর্করা জাতীয় খাদ্যদ্রব্য প্রয়োজন। কারণ শর্করা জাতীয় খাদ্য শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করে; তারা সবসময় কোনো না কোনো ক্রিয়াকর্মের মধ্যেই থাকে। একজন মানুষের কাজের ধরনও নির্ধারণ করে প্রতিদিন তার কী ধরনের খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করা উচিত। উদাহরণস্বরূপ—একজন শ্রমিকের চর্বি, চিনি এবং স্টার্চযুক্ত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। কারণ তিনি খুব সক্রিয়, সবসময় কাজের মধ্যেই থাকেন।

খাদ্যদ্রব্যের ভিন্নতার আরেকটি কারণ হচ্ছে আবহাওয়া। আমাদের শরীরে পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা গ্রীষ্ম এবং শীত ঋতুতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এছাড়াও একজন অসুস্থ ব্যক্তি ও একজন সুস্থ ব্যক্তির খাদ্যদ্রব্যের তালিকা আলাদা হয়। একজন ভালো গৃহিণীর এই সমস্ত বিষয়ের প্রতি সমানভাবে দৃষ্টি রাখা উচিত।

তৃতীয়ত—এটি সত্য যে, কারো বয়স যদি চল্লিশ বা তার বেশি অতিক্রম করে, তখন তার চর্বি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। সম্ভবত কিছু লোক এই স্থূলতাকে সুস্বাস্থ্যের চিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন। কিন্তু তাদের এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। স্থূলতা কখনোই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী নয়। এটি একটি অসুস্থতা, যা হার্ট, রক্তচাপ, কিডনি, পিত্তথলি এবং যকৃতের উপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো কঠিন রোগ হতে পারে। চিকিৎসা উৎস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান মতে—পাতলা লোকেরা স্থূল ও চর্বিযুক্ত লোকদের চেয়ে বেশি দিন বেঁচে থাকে।

চল্লিশ বছর বয়সের পরে একজন ব্যক্তির সক্রিয়তা কমে যায়। তার কাজকর্মে আর আগের মতো ব্যস্ততা থাকে না। যার ফলে তার বেশি ফ্যাট, চিনি এবং স্টার্চযুক্ত খাবারের প্রয়োজন হয় না। ক্যালরিগুলো আগের মতো আর শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না, যা শরীরের মেদ বাড়িয়ে দেয়। তাই, এই খাদ্যদ্রব্যের ব্যবহার যত বেশি হ্রাস করা যায় ততই স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

যে মহিলা তার স্বামীর স্বাস্থ্যের যত্ন নিচ্ছেন তাকে অবশ্যই একটি বিশেষ ডায়েট অনুসরণ করা উচিত, যেন তার স্বাস্থ্য এবং মেদ না বেড়ে যায়। তাকে খুবই স্বল্প পরিমাণে মিষ্টি, চর্বি এবং ক্রিম জাতীয় খাবার খাওয়ানো উচিত। তবে ডিম, কলিজা, হাঁস-মুরগি, মাছ, লাল মাংস এবং পনির বেশি পরিমাণে খেতে হবে। দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্যও তার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী হতে পারে যদি তা ডাক্তার দ্বারা অনুমোদিত হয়। অতিরিক্ত ভারী ব্যক্তির জন্য প্রচুর পরিমাণে ফলমূল এবং শাকসবজি গ্রহণ করা উচিত।

আপনি যদি আপনার স্বামীর প্রতি বিরক্ত হন বা আপনি যদি বিধবা হতে পছন্দ করেন অথবা যদি চান কোনো মামলা-মোকদ্দমার ঝুঁকি ছাড়াই আপনার স্বামীকে হত্যা করবেন, তাহলে আপনাকে বেশি কিছু করতে হবে না। আপনি শুধু তার সামনে প্রচুর পরিমাণে সুস্বাদু এবং চর্বিযুক্ত খাবার রাখুন। তাকে যতটা সম্ভব বারগার, ভাত এবং কেক খেতে উৎসাহিত করুন। ফলস্বরূপ আপনি তার কাছ থেকে মুক্তি পাবেন। এবং আপনি যে কেবল তাকে হত্যা করতে পারবেন তা নয়, তিনি আপনাকে এই সমস্ত সুস্বাদু খাবার খাওয়ানোর জন্য ধন্যবাদও জানাতে পারেন।

নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীর মুখাপেক্ষী হওয়া সত্ত্বেও তার কৃতজ্ঞতা আদায় করে না, আল্লাহ তাআলা তার দিকে ফিরেও তাকান না।"৮২

আপনি হয়তোবা এটিও বলতে পারেন যে—এই ধরনের পরিকল্পনা শুধু ধনী ব্যক্তিদের জন্যই সম্ভব। কারণ তারা চাইলে যেকোনো ধরনের খাবার কিনতে পারেন। যারা তত স্বচ্ছল পরিবারের নয় তাদের জন্য এই পরিকল্পনা অসম্ভব বলেও মনে করতে পারেন। তবে একজন মানুষের একথাও ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে—সমস্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার খুবই সহজলভ্য এবং প্রাকৃতিক খাবারগুলিতেই সেই পুষ্টিগুণ লুকানো থাকে।

রান্নায় অভিজ্ঞ একজন মহিলা আপনাকে বলতে পারবেন যে—ফলমূল, শাকসবজি, সিরিয়াল বা ভক্ষ্যশস্য জাতীয় খাদ্য এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে একজন ব্যক্তি তার শরীরের জন্য সমস্ত পুষ্টির চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারেন। একজন ব্যক্তি এসব উপাদানগুলি মিলিয়ে খুব সুস্বাদুভাবে তার জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতে পারেন, যা একইসাথে স্বাস্থ্যকর এবং সস্তা।

টিকাঃ
৭৪ তাবারানি, হাদিস নং: ১৬৭৪৭।
৭৫ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ২৭৪২-৩৯৩৬।
৭৬ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২৩২৯; সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৫৫৩।
৭৭ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১৮২।
৭৮ সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ২১৮৩।
৭৯ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ১৫৯৫; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ২৩৮০।
৮০ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৯০০৩; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১৮।
৮১ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৯৪।
৮২ সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৯০৮৬; বায়হাকি, হাদিস নং: ১৪৭২০; মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮২০।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00