📄 মুখ গোমড়া করে থাকবেন না
মুখ গোমড়া করে চুপ করে থাকবেন না। কিছু মহিলার এমন স্বভাব আছে যে—স্বামীর প্রতি বিরক্ত হলে মুখ গোমড়া করে রাখে। কথা বলতে চায় না। সংসারের কাজ করে না। খায় না, বাচ্চাদের মারে বা দোষারোপ করে। তারা বিশ্বাস করে যে—কথা না বলা বা ঝগড়া করা স্বামীদের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার সর্বোত্তম উপায়। এই মনোভাবটি লোকটিকে কেবলমাত্র শাস্তি দিতেই ব্যর্থ হয় না, বরং পরিশেষে তাকে প্রতিশোধপরায়ণও করে তোলে। তখন একের পর এক ঝগড়ার কারণে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। মহিলাটি বিলাপ করতে শুরু করে দেয় এবং তখন লোকটিও তাই করে। মহিলা কথা বলতে অস্বীকার করে এবং লোকটি তখন প্রতিশোধ নেয়। মহিলাটি কিছু একটা করলে, পুরুষটিও ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত একই কাজ করতে থাকে এবং আত্মীয় বা বন্ধুদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে পুনর্মিলন না করা পর্যন্ত একই রকম চলতে থাকে। তবে এমন না যে তারা প্রথমবারের মতো ঝগড়া করছে। এরপর সবকিছু আগের মতো চলতে থাকলেও তিক্ততার স্বাদ রয়ে যায়।
অতএব, আজীবন পারিবারিক কলহ-বিবাদের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাবা-মা কিংবা সন্তান কারো পক্ষেই সুখকর হবে না। বখাটে তরুণদের বেশিরভাগই এই ধরণের পরিবার থেকে আসে এবং অপরাধ ও দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে যায়। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবক তার বাবা-মাকে তার অপরাধের জন্য দোষ দিয়ে বলেছিল— 'আমার বাবা-মা প্রতিদিন ঝগড়া করে তাদের আত্মীয়দের কাছে চলে যেতেন। আমি রাস্তায় এদিক ওদিকে ঘুরে বেড়াতাম। আমি তখন অন্যদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে পরে চুরি করেছিলাম।'
দশ বছরের এক কিশোরী সমাজকর্মীদের বলেছিল— 'আমার অস্পষ্টভাবে মনে আছে যে—একদিন রাতে আমার বাবা-মা কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক করেছিলেন। পরের দিন, আমার মা চলে গেলেন এবং কয়েক দিন পরে, বাবা আমাকে আমার খালার কাছে নিয়ে গেলেন। কিছুদিন পর এক বৃদ্ধ মহিলা আমার খালার বাড়ি থেকে আমাকে রাজশাহী নিয়ে আসেন। এখন কয়েক বছর হয়ে গেছে, আমি তার সাথে আছি এবং এতটা কষ্ট সহ্য করেছি যে—আমি তার কাছে আর ফিরে যেতে চাই না।'
এক শিক্ষক বলেছিলেন— সে আমার শিক্ষার্থী ছিল। সে তার পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করছিলো না। কোনো সমস্যায় ভুগছে বলে মনে হতো। তাকে সর্বদা চিন্তাগ্রস্থ দেখাতো। এমনকি সে বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে স্কুলের উঠোনে বসে থাকতো। দুদিন আগে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে বাড়ি যাচ্ছে না কেন? সে জবাব দিয়েছিল যে—সে একজন বৃদ্ধ মহিলার সাথে বসবাস করত, যে তাকে অপক্সন্দ করত এবং তাই সে আর কোনোভাবে বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। আমি তার বাবা-মা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বললো যে—তারা পৃথক হয়ে গেছে।
প্রিয় বোন!
আপনার মনে রাখতে হবে যে—আপনার স্বামী যদি তার সাথে কথা না বলার জন্য আপনার প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান, তবে তিনি আপনাকে মারার মতো কঠোর পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলস্বরূপ আপনি বাড়ি ছেড়ে বাবা-মার কাছে চলে গেলে আপনার পিতা-মাতা হস্তক্ষেপ করবে এবং আপনাদের মধ্যে মনোমালিন্য আরও বৃদ্ধি পাবে। শেষমেষ আপনাদের বিবাহবিচ্ছেদও হতে পারে, এতে করে আপনি আপনার স্বামীর চেয়েও বেশি কিছু হারাবেন। আপনাকে সারা জীবন একা থাকতে হতে পারে। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই আপনি এই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করবেন।
একজন মহিলা বলেছিলেন— 'কিছুদিন আগে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমি আমার স্বামীর সেবা-যত্নের ব্যাপারে বেশি কিছু জানতাম না এবং সেও আমার দেখাশোনা করার বিষয়ে তেমন বেশি কিছু জানত না। আমরা প্রতিদিনই ঝগড়া করতাম। এক সপ্তাহ আমি কথা বলিনি এবং পরের সপ্তাহ তিনিও আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন। শুধুমাত্র শুক্রবারে, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের মধ্যস্থতার কারণে আমরা ভালো ভাবে থাকতাম। ধীরে ধীরে আমার স্বামী আমার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েন এবং আমাকে তালাক দিয়ে পুনরায় বিয়ে করার কথা ভাবেন। যেহেতু আমি তখন ছোট ছিলাম তাই আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে রাজি ছিলাম না এবং বিবাহবিচ্ছেদে আপত্তি জানালাম না। আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেল এবং আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলাম। শীঘ্রই আমি বুঝতে পারি যে বিপদ আসন্ন। বেশির ভাগ লোক, যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তারা আমার সাথে প্রতারণা করতে চেয়েছিল। আমি আমার প্রাক্তন স্বামীর সাথে পুনর্মিলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং তার বাসায় গেলাম। সেখানে একজন ভদ্রমহিলার সাথে সাক্ষাত হলো যিনি নিজেকে তার স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিলেন। বাড়ি ফেরার সময় আমি সারা পথ কাঁদতে থাকলাম। আমি আমার বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করতে থাকলাম, তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।'
বাইশ বছরের এক যুবতী মহিলা; যিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পরে তার সন্তান নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন এবং বোনের বিয়ের রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামীর সাথে মুখ গোমড়া করে কথা না বলে হাসিমুখে থাকার ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। আপনি যদি তার উপর বিরক্ত হন তবে ধৈর্য ধরুন। আপনি শান্ত থাকুন এবং শান্তভাবে আপনার বিরক্তির ব্যাপারটি তাকে বুঝিয়ে বলুন। আপনি উদাহরণস্বরূপ তাকে বলতে পারেন, 'আপনি গতকাল আমাকে অপমান করেছেন, বা আপনি আমার চাহিদাকে অগ্রাহ্য করেছেন, আমার সাথে আপনার এইরকম আচরণ করা কি ন্যায়সংগত?' এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যে আপনাকে কেবল মানসিক প্রশান্তিই দিবে তা না, বরং তাকেও সতর্ক করবে। তারপরে তিনি তার অন্যায় কাজগুলো শোধরাবার চেষ্টা করবেন এবং আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং ভালো ব্যবহার করবেন। ফলস্বরূপ, তিনি তার আচরণ পর্যালোচনা করবেন এবং নিজেকে সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা করবেন।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ : “কোনো মুসলমানের জন্য হালাল নয় অপর মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি কথা না বলা, সাক্ষাতে দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ সে, যে আগে সালাম দিয়ে বিবাদ মিটিয়ে ফেলে।”৪১ আরেক বর্ণনায় আছে, "তিন দিনের বেশি কথা না বলা অবস্থায় কেউ মারা গেলে সে জাহান্নামী হবে।”৪২
টিকাঃ
৪১. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬২৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৫৩২।
৪২. আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৯১৪।
📄 স্বামীর রাগান্বিত অবস্থায় নীরব থাকুন
ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
অর্থ : নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “তোমরা শিক্ষা প্রদান কর, মানুষের উপর সহজ কর, কঠোরতা আরোপ করো না। তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়ে গেলে সে যেন চুপ থাকে।”৪৩
একজন মানুষের কর্মজীবনে নানান ধরনের মানুষের সাথে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও পরিচিতি ঘটে। একইসাথে তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়। দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে তিনি যখন বাড়ি ফিরে আসেন তখন ছোট ছোট অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতেই তিনি দ্বিগুণ রাগান্বিত হয়ে যান। এমতাবস্থায় তিনি তার পরিবারকেও অপমান করে বসতে পারেন।
কিন্তু একজন ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন মহিলা যদি তার স্বামীর চেঁচামেচি ও অপমানের প্রতি নীরব থাকেন; তার মনের অবস্থা প্রকাশ করার সুযোগ দেন তাহলে এক সময় স্বামী তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার রাগের জন্য অনুশোচনা করেন। এমনকি তিনি যদি লক্ষ্য করেন যে- তার রাগের প্রতি স্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই তাহলে তিনি স্ত্রীর কাছে ক্ষমাও চাইতে পারেন। এবং এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারটি মাত্র ২/৩ ঘণ্টার মধ্যে একটি স্বাভাবিক শান্তিপ্রিয় পরিস্থিতিতে ফিরে আসে।
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- “তোমার জীবনসঙ্গী যদি রাগান্বিত হয়, তবে তুমি শান্ত হয়ে যাও। কারণ, একজন আগুন হলে অপরজনের পানি হওয়া প্রয়োজন।”
তাই স্বামীর যে কোনো অবস্থা সামলে নেওয়ার জন্য একজন জ্ঞান ও ধৈর্যসম্পন্ন স্ত্রী প্রয়োজন। কিন্তু স্ত্রী যদি তার স্বামীর সংবেদনশীল অবস্থা বুঝতে না পারেন তাহলে তিনিও উল্টো তার স্বামীর সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করবেন, তার অপমানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবেন; অভিশাপ দেবেন। তাদের ঝগড়া বিবাহ বিচ্ছেদের মতো মারাত্মক পর্যায়েও চলে যেতে পারে। এরকম ছোট ছোট ঝগড়ার কারণে অনেক পরিবার, অনেকগুলি সম্পর্কের ইতি ঘটে।
এমনকি এমন ঘটনাও ঘটে যেখানে স্বামী এতোটাই রাগান্বিত হয়ে যায় যে- আগ্নেয়গিরির মতো তিনি ফেটে পড়েন এবং তার স্ত্রীকে হত্যার মতো অপরাধ পর্যন্ত করে ফেলেন।
রাগ ক্রোধ বিষয়ে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- অর্থ : “নিশ্চয় রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তান আগুনের তৈরি। নিশ্চয় পানির দ্বারা আগুন নির্বাপিত হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয় সে যেন অজু করে নেয়।” ৪৪
এক ব্যক্তি খোদ নিজেকে, তার স্ত্রী এবং সৎ মাকে ক্রোধের বশে হত্যা করে ফেলে। ধারণা করা হয় যে- এই দম্পতির বিবাহের আগে থেকেই অনেকগুলো বিষয়ে ঝগড়া ও তর্ক-বিতর্ক ছিল। ঘটনার রাতে কাজ শেষে স্বামী ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরেছিলেন। কোনো একটি কারণে সে রাতে তাদের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া শুরু হয়। স্বামী স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন, স্ত্রীকে আঘাত করেন। স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশের কাছে সাহায্য চাইবে। কিন্তু স্বামী ক্রোধের বশে বন্দুক নিয়ে তার স্ত্রীকে গুলি করে। ঘটনাক্রমে সে তার সৎ মাকেও গুলি করে এবং অবশেষে গুলিবিদ্ধ করে নিজেকেও শেষ করে দেয়।
রাগ দমন সম্পর্কে হাদিসে বলা আছে- দুই ব্যক্তি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অদূরে বসে পরস্পর ঝগড়া করছিল। রাগে তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে উঠলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
অর্থ : “আমি একটি বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তবে তার এ অবস্থা কেটে যাবে। সে বাক্যটি হলো- أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)”৪৫
স্বামীর ক্রোধের প্রতি মহিলার নীরব থাকাটাই কি শ্রেয় হতো না? মহিলাটি যদি ধৈর্য ধারণ করতেন এবং প্রতিক্রিয়া না দেখাতেন তাহলে কি এই তিনটি জীবনের এই পরিণতি ঘটতো? আপনি কোনটি পছন্দ করবেন? কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নাকি স্বামীর রাগের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জীবনের মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনা?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থ : “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৪৬
এক সেকেন্ডের জন্যও আপনারা ভাববেন না, এখানে লোকটির অবস্থান রক্ষিত হচ্ছে এবং সে দোষী নয়। একেবারেই না; লোকটি এখানে অবশ্যই দোষী। পরিবারের উপর তার রাগ প্রয়োগ করা ভুল ছিল। স্ত্রীর শরীরে আঘাত করার অধিকারও তিনি রাখেন না।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও। কারণ, তাদেরকে পাঁজরের হাড্ডি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়ের মধ্যে উপরেরটি সবচেয়ে বেশি বাঁকা। যদি তা সোজা করতে চাও, ভেঙে ফেলবে। আর রেখে দিলেও তার বক্রতা দূর হবে না। তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার উপদেশ গ্রহণ কর।”৪৭
হযরত জাবের রাযিআল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত- অর্থ : 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেছেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ রয়েছে। তোমরা তাদের মালিক নও, আবার তারা তোমাদের থেকে মুক্তও নয়। তাদের কর্তব্য, তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে জায়গা না দেওয়া, যাদের তোমরা অপছন্দ কর। যদি এর বিপরীত করে তবে তাদের এতটুকু প্রহার কর, যাতে শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। তোমাদের কর্তব্য সাধ্য মোতাবেক তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা।”৪৮
প্রহারের সংজ্ঞায় ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসির দাগ বিহীন প্রহার বলেছেন। হাসান বসরিও তাই বলেছেন-
অর্থ : অর্থাৎ- “যে প্রহারের কারণে শরীরে দাগ পড়ে না, অঙ্গহানি হয় না।”৪৯
মুআবিয়াহ আল কুশাইরি রাযিআল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, আমাদের স্ত্রীদের (হক) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন-
অর্থ : "কখনও চেহারায় আঘাত করবে না। গালিগালাজ করবে না। ঘর থেকে বের করে দিবে না। তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তা পরিধান করাবে।”৫০
একজন মহিলার উচিত ইসলামিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া এবং তার স্বামীর ক্রোধের প্রতি প্রতিক্রিয়া না দেখানো, হোক সেটা সঠিক বা ভুল। কোনো পরিস্থিতিতে স্বামী যদি তার ক্রোধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তবুও স্ত্রীর উচিত পরিবারকে বাঁচানোর স্বার্থে ধৈর্য ধারণ করা ও নীরব থাকা।
মহিলারা সাধারণত ভাবেন যে- স্বামীর ক্রোধের সম্মুখীন হয়ে নীরব হয়ে থাকা তার পক্ষে অসম্মানজনক। তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ। কিন্তু পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি রাগ, ক্ষোভ ঝাড়া এবং অপমান করা সত্ত্বেও স্ত্রী তার প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ধৈর্য ধারণ করে এবং তার শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঠিক তখনই স্বামী তার ভুল বুঝতে পারে। স্ত্রীর প্রতি রূঢ় ব্যবহারের জন্য অনুশোচনা করে। একইসাথে, স্ত্রীর উপর তার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন চলে আসে। কারণ তার স্ত্রীর অপমান করার ক্ষমতা ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার স্বামীকে ক্ষমা করে দেন। এবং স্বামী তার স্ত্রীকে একটি উদার মনের সুন্দর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে থাকেন। স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা অনেকগুলি পাল্লায় খুলে যায়। এরই অনুশোচনায় তিনি যদি তার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান তবে এতে স্ত্রীর মর্যাদা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন-
অর্থ : “রাগের সময় অপরকে হারিয়ে দেওয়া বীরত্ব নয়। প্রকৃত কৃতিত্ব হলো, রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারা।”৫১
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন-
অর্থ : “যে কোন মুসলমানের ভুল ক্ষমা করে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার ভুল ক্ষমা করবেন।”৫২
নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষমাকারী বান্দার সম্মান ও শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেন।”৫৩
টিকাঃ
৪৩ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২১৩৬।
৪৪ আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৭৮৪।
৪৫ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৩২৮২; বাইহাকি, হাদিস নং: ৮২৮৩।
৪৬ তাবারানি আওসাত, হাদিস নং: ১১৮।
৪৭ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫১৮৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৬৫০।
৪৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২০৬৯৫; ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫১।
৪৯ তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/৬০৬।
৫০ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২০০৪৫; বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭২৬।
৫১ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬১১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৬৪৩।
৫২ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৬৫০; বাইহাকি, হাদিস নং: ৩১৬১।
৫৩ সহিহ মুসলিম: ৬৫৯২; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৪৮, মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭২০৬।
📄 স্বামীর শখকে সম্মান করুন
প্রায় প্রত্যেক পুরুষেরই কিছু না কিছু শখ থাকে। ঘরে বসে অবসর সময়ে স্ট্যাম্প বা বই সংগ্রহ করা, বাগান করা বা ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করা। এই ধরনের শখগুলিকে 'সর্বোত্তম এবং স্বাস্থ্যকর' বিনোদনমূলক শখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এই ছোট ছোট শখগুলি এতোটাই কার্যকরী যে- এগুলি পুরুষদের তাদের বাড়ির দিকে আকর্ষণ করে। পাশাপাশি তাদেরকে অলস সময় কাজের মাধ্যমে কাটাতেও সহায়তা করে। অলস হতে দেখে কেউ হতাশও হয়ে উঠতে পারে, যা একেবারেই উচিত নয়।
এটি সত্যি যে- মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত লোকদের চিকিৎসার অন্যতম উপায় হলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজে ব্যস্ত রাখা। অপরদিকে, আমরা যারা অন্যের চেয়ে বেশি কাজ করি তারা সাধারণত মানসিক ব্যাধি দ্বারা কম আক্রান্ত হই এবং বিপজ্জনক পেশার দিকে কম আকৃষ্ট হই।
সুতরাং! মহিলাদের উচিত তাদের স্বামীর ভালো শখগুলোকে সম্মান করা এবং তাদের শখের কাজগুলিকে সময়ের অপচয়, সস্তা এবং অকেজো ভাবা মোটেই উচিত নয়।
মহিলাদের অবশ্যই তাদের এই কাজগুলোতে উৎসাহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থ : “আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের আদেশ করতাম স্বামীদের সেজদা করার জন্য। সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, নারী তার স্বামীর সব হক আদায় করা ব্যতীত, আল্লাহর হক আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি স্বামী যদি তাকে তলব করে, সে যেন উটের পিঠ থেকে নেমে এসে হলেও তার ডাকে সাড়া দেয়।”৫৪
আল্লাহ তাআলা বলেন-
অর্থ : “পুরুষরা নারীদের উপর ক্ষমতাশীল। কারণ- আল্লাহ তাদের পরস্পরের মাঝে তারতম্য দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা স্বামীর অনুগত।”৫৫
নেককার নারী সে; যে আনুগত্যশীল। অর্থাৎ যে নারী সর্বদা স্বামীর আনুগত্য করে। নারীর জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হকের পর স্বামীর হকের মতো অবশ্য কর্তব্য কোনো হক নেই।
টিকাঃ
৫৪ বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭১১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১২।
৫৫ সূরা নিসা: ৩৪।
📄 গৃহকর্ম
গৃহ একটি সামান্য ছোট্ট জায়গা হলেও এটি একটি মূল্যবান আশীর্বাদ। দিনশেষে ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফেরা ব্যক্তির একমাত্র আশ্রয়স্থল তার গৃহ। এটি ছুটিতে থাকার পরেও সান্ত্বনা খোঁজার জায়গা, নিজের আপন বাড়িটিই একমাত্র স্বস্তির জায়গা। নিজের বাড়ির মতো শান্তি ও স্বস্তি অন্য কারো বাড়িতে কখনোই পাওয়া যায় না। এটি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, আন্তরিকতা, সান্ত্বনা, স্বস্তি ও বিশ্রামের এমন এক জায়গা যেখানে স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই ভালো গুণাবলিগুলোর চর্চার মাধ্যমে শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত হয়। এটি মনুষ্যজাতির প্রশিক্ষণের একমাত্র কর্মশালা এবং শিশুদের স্বশিক্ষিত ও মহৎপ্রাণ আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার একমাত্র ভিত্তি।
পরিবার একটি ছোট্ট সংগঠন, যা থেকে বৃহত্তর সংগঠন সমাজের গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই পরিবারই যেমন সমাজের অগ্রগতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে, তেমনি পরিবারের ভুল শিক্ষা সমাজের বৃহত্তর পতনের কারণ হয়। পরিবার যদিও ছোট্ট একটি পরিবেশ, তবুও এটি বৃহত্তর সমাজের একটি অংশ। এখানে মানুষ একটি অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা ভোগ করে এবং সে কারণেই একটি জাতির সংশোধন, উন্নতি এবং অগ্রগতি অবশ্যই পরিবারের উন্নতির মাধ্যমে শুরু করা উচিত। এক-একটি পরিবারের পরিবর্তন ও উন্নতি ছাড়া একটি সমাজ কখনো পরিবর্তন হয় না, সমাজের উন্নতি হয় না।
এই সংবেদনশীল সমাজের উন্নতির জন্য, বাচ্চাদের মানসিক, শারীরিক বা সামাজিক উন্নতির জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং পরিচালনাসহ একটা বিশাল দায়িত্ব মহিলাদের ওপর বর্তায়। সুতরাং মহিলারা পরিবারের প্রতি তাদের আচার-আচরণ, সামাজিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় শিক্ষা ও চর্চাসহ পুরো প্রক্রিয়াটির মাধ্যমে কোনো একটি জাতির অগ্রগতি বা অবনতি নির্ধারণ করতে পারে।
তাই একজন গৃহিণীর কাজ খুবই সংবেদনশীল, শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানজনক। যারা পারিবারিক ইউনিটকে অবমূল্যায়ন করে এবং এই ক্ষেত্রটি তৈরিতে লজ্জা পায়, তারা আসলে এর মূল্যবোধ ও সম্মানের জায়গাটা সম্পর্কে অজ্ঞ। একজন গৃহিণীকে তার অবস্থান নিয়ে গর্ব করা উচিত। তিনি সমাজের মঙ্গলার্থে সম্মান ও ত্যাগের পদে অধিষ্ঠিত। তাঁর কাছেই একটি পরিবার, একটি সমাজ, একটি দেশ; একটি স্বশিক্ষিত, রুচিসম্মত ও আদর্শ জাতির প্রত্যাশা করা যায়। শিক্ষিত মহিলাদের এই অবস্থানে একটি বৃহত্তর দায়িত্ব রয়েছে এবং তাঁর এই দায়িত্বশীলতায় তিনি অন্যের কাছে একদিন আদর্শ হবেন। তাঁদের ব্যবহারিকভাবে এটি প্রমাণ করা উচিত যে—শিক্ষিত হয়েও গৃহবধূ হওয়া পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থান নয়, বরং এটি তাঁকে একজন আদর্শ গৃহিণী হতে সহায়তা করে; একটি পরিবার, সমাজ ও দেশের পরিবর্তনে যিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “চারটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে মেয়েদের বিয়ে করা হয়—সম্পদ, বংশমর্যাদা, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারি। সুতরাং তুমি দ্বীনদারিকেই প্রাধান্য দেবে। তুমি সফল।”৫৬
আরেক বর্ণনায় এসেছে—
অর্থ: “তোমরা সৌন্দর্য দেখে নারীদের বিয়ে কোরো না। হয়তো সৌন্দর্যের গরিমা তাকে ধ্বংস করে দেবে। সম্পদ দেখে বিয়ে কোরো না। হয়তো সম্পদ তাকে পথভ্রষ্ট করে দেবে। বরং দ্বীনদারি দেখে বিয়ে করো। নাক-কান কাটা কালো কোনো দাসী দ্বীনদার হলে সেই শ্রেষ্ঠ।”৫৭
একজন শিক্ষিত মহিলার উচিত তাঁর পরিবারকে, তাঁদের পারিবারিক নিয়মকানুনকে সর্বোত্তম পদ্ধতিতে পরিচালনা করা। তাঁর গৃহকর্মের জন্য তাঁর গর্বিত হওয়া উচিত এবং এটাও প্রমাণ করা জরুরি যে—একজন অশিক্ষিত গৃহিণীর চেয়ে একজন শিক্ষিত গৃহিণী অনেক ভালো। শিক্ষিত হওয়ার অজুহাতে গৃহকর্ম পরিত্যাগ করা মোটেও উচিত নয়। কারণ এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাদের গঠনের মূল ভিত্তিটি হারাবে। পড়াশোনার উদ্দেশ্য নিজের দায়িত্বগুলো এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং এটি তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আরও ভালোভাবে সম্পাদন করতে সহায়তা করে।
আদালতে দাঁড়িয়ে এক ব্যক্তি বলছিলেন—
‘উচ্চশিক্ষিত একটি মেয়েকে আমি বিবাহ করেছি। আমার স্ত্রী ঘরের কোনো কাজ করতে পারবে না বলে আমাকে জানিয়েছে। যতবারই আমি তার প্রতিবাদ করেছি, ততবারই সে আমাকে বলেছে যে—“শিক্ষিত মহিলার জন্য গৃহকর্ম নয়।” সে নিজেকে পরিবর্তন করতে মোটেও প্রস্তুত নয়। এমনকি সে আমাকে সম্পর্ক ছিন্ন করে তার পরিবর্তে একজন দাসীকে বিয়ে করে নিতে বলেছে! দুদিন আগে আমি আমার স্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন এবং আমার কিছু বন্ধুবান্ধবকে রাতের খাবারের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। খাবারের সময় আমি টেবিলের কাপড় বিছিয়ে দিলাম এবং আমার স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার ফ্রেমযুক্ত প্রশংসাপত্রটি মাঝখানে রেখে দিলাম। তারপর সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললাম, আমার স্ত্রী প্রতি রাতে আমার জন্য যে নৈশভোজ প্রস্তুত করে তা আপনারা পর্যবেক্ষণ করুন।’
আল্লাহ তাআলা বলেন—
অর্থ: “পুরুষরা নারীদের ওপর ক্ষমতাশীল। কারণ, আল্লাহ তাদের পরস্পরের মাঝে তারতম্য দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের সম্পদ হতে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা স্বামীর অনুগত।”৫৮
হাফেয ইবনে কাসীর অত্র আয়াতের তাফসিরে বলেন, “পুরুষ নারীর তত্ত্বাবধায়ক। অর্থাৎ সে তার গার্ডিয়ান, অভিভাবক, তার ওপর কর্তৃত্বকারী ও তাকে সংশোধনকারী, যদি সে বিপথগামী বা লাইনচ্যুত হয়।” এ ব্যাখ্যা রাসূলের হাদিস দ্বারাও সমর্থিত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের আদেশ করতাম স্বামীদের সেজদা করার জন্য। সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যাঁর হাতে আমার জীবন, নারী তার স্বামীর সব হক আদায় করা ব্যতীত আল্লাহর হক আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি স্বামী যদি তাকে তলব করে, সে যেন উটের পিঠ থেকে নেমে এসে হলেও তার ডাকে সাড়া দেয়।”৫৯
এখন চলুন আমরা সবাই কয়েকজন শিক্ষিত মহিলার গৃহিণী হওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মতামত পড়ে আসি—
মিসেস রোজিনা সুলতানা একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী নারী। তিনি বলেছিলেন—
‘পারিবারিক বিষয়াদিতে গৃহবধূর দক্ষ হওয়া উচিত। স্বামীর জন্য একজন ভালো সঙ্গিনী, সন্তানের জন্য একজন ভালো মা এবং অতিথিদের জন্য একজন অতিথিপরায়ণ নারী।’
শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মিসেস জাহানারা বলেছিলেন—
‘আমি বিশ্বাস করি যে—একজন সত্যিকারের গৃহিণী তিনিই, যিনি অফিসের কাজে নিযুক্ত হন না। কারণ আমাদের দেশে অফিসের চাকরিতে পর্দা করা এবং সন্তান পরিচর্যার প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে। অফিসের একজন মহিলা তাঁর স্বামীর ও সন্তানদের খাবার সম্পর্কে সর্বদা উদ্বিগ্ন থাকেন।’
মেডিসিন অনুষদের সুপারিনটেনডেন্ট মিসেস ফাতিমা বলেছিলেন—
‘একজন গৃহবধূকে শুধু সম্ভাব্য বাজেটের মধ্যে একটি পরিষ্কার এবং নিরাপদ বাড়িতে থাকলেই যথেষ্ট। স্বামীর সাথে সুখ ও দুঃখের কথাগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়া উচিত। তাঁর স্বামীর মানসিক ও সামাজিক অবস্থা অবশ্যই তিনি উপেক্ষা করবেন না।’
মিসেস সুমাইয়া বলেছিলেন—
‘গৃহিণী হলো তিনি যিনি তাঁর পরিবারের অস্বাস্থ্যকর ও অপ্রয়োজনীয় বিনোদনগুলো কমিয়ে দেন এবং বাড়ির সামগ্রিক বিষয়গুলোর উন্নতি করার চেষ্টা করেন। একইসাথে তিনি আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রেখে চলাচল করতে সক্ষম।’
সুনান নাসায়িতে আবূ হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল, কোনো নারী সবচেয়ে ভালো? তিনি বললেন—
অর্থ: “যে নারী স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন স্বামী তার দিকে তাকায়। যে নারী স্বামীর আনুগত্য করে, যখন স্বামী তাকে আদেশ দেয়। যে নারী স্বামীর সম্পদ ও নিজ নফসের ব্যাপারে এমন কোনো কর্মে লিপ্ত হয় না, যা স্বামীর অপছন্দ।”
টিকাঃ
৫৬ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫০৯০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৬৩৫।
৫৭ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫৯।
৫৮ সূরা নিসা: ৩৪।
৫৯ বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭১১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১২।
সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮৩০।