📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 তার নেতৃত্ব মেনে চলুন

📄 তার নেতৃত্ব মেনে চলুন


প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং সংস্থার একজন দায়িত্বশীল পরিচালক প্রয়োজন। যে কোনো ধরনের সামাজিক জোট এবং সংস্থায় কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, এই ধরনের জোটের বিষয়গুলো পরিচালনা করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন, যিনি দায়িত্বগুলো সমন্বয় করতে পারেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক জোট হচ্ছে 'পরিবার'। এই জোটের বিষয়াবলি পরিচালনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ব্যাপার। নিঃসন্দেহে, একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অবশ্যই গভীর বোঝাপড়া এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। তবে এমন একজন পরিচালকও থাকতে হবে যিনি পরিবারের কাজগুলো দায়িত্বশীলতার সাথে করতে পারেন। বলাই বাহুল্য, যদি পরিবার এমন কোনো ব্যক্তিকে মান্য না করে, যিনি পরিবারের সদস্যদের সংগঠিত করতে পারেন, তবে তা থেকে অশান্তি এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। অতএব, হয়ত স্বামীর পরিবারের পরিচালক হিসেবে কাজ করা উচিত এবং স্ত্রী তাকে অনুসরণ করবে, কিংবা না হয় তার বিপরীত। তবে যেহেতু পুরুষরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে যৌক্তিক দিক প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, তাই তারা আরও ভালো তত্ত্বাবধান করতে পারেন।

মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরিফে এরশাদ করেছেন যে—
অর্থ: “পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। কারণ, আল্লাহ তাদের একের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা গোপন বিষয় রক্ষা করে, যেহেতু আল্লাহ গোপন রাখেন। যদি স্ত্রীদের অবাধ্যতার আশংকা করো তবে প্রথমে তাদের সৎ উপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা থেকে পৃথক করো এবং তারপরও অনুগত না হলে তাদেরকে শাসন করো। এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের সাথে কর্কশ আচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত- মহীয়ান।”৩৬

আর তাই, পরিবারের সদস্যদের জন্য লাভজনক যে— পুরুষ সদস্যকে অভিভাবক হিসেবে মেনে চলা এবং সকল কাজ তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা। তবে কারও মনে করা উচিত নয় যে ঘরের মহিলাদের মর্যাদাকে এখানে হীন করা হয়েছে, কিন্তু এটা সত্য যে— ঘরে শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য স্বামীর কর্তৃত্ব প্রয়োজন। যে সব মহিলারা পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে ভাবতে পারেন তারা এটি সহজেই বুঝতে পারবেন।

এক মহিলা বলেছিলেন—
'বাংলাদেশে আমাদের একটি ভালো ঐতিহ্য ছিল; যা দুর্ভাগ্যক্রমে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে। এই রীতিতে ঘরের পুরুষ মানুষটি পারিবারিক বিষয়াবলির দায়িত্বে থাকতেন। তিনি কর্তা হিসেবে নিয়োজিত হতেন। ইদানীং পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে এবং পরিবারে কে তাদের দায়িত্ব নেবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি যে— এখনকার মহিলাদের কমবেশি পুরুষের সমান সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তার স্বামীকে বাড়ির প্রধান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এই পুরোনো ঐতিহ্যটি আজকের তরুণীদের কাছে তুলে ধরতে হবে, যারা বিবাহ করতে চায়। তার বিয়ের পোশাক পরে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করা উচিত এবং কাফন পরা অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'

তবে এটা সত্য যে— দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে পুরুষরা সকল পারিবারিক কাজে অংশ নিতে পারে না। বাস্তবে স্ত্রী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সংসার পরিচালনা করে। কিন্তু তবুও পুরুষের শাসন করার অধিকার রয়েছে এবং একইভাবে তাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। সুতরাং, তার উচিত পরিবারের যে কোনো বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করা বা পরামর্শ দেওয়া। স্ত্রীর কোনোভাবেই তার নেতৃত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়। অন্যথায়, লোকটি নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং স্ত্রীকে একজন রূঢ় এবং অকৃতজ্ঞ নারী হিসেবে বিবেচনা করবেন। তিনি তার বিরুদ্ধে বিরক্তি পোষণ করতে পারেন। এমনকি পরবর্তী পর্যায়ে স্ত্রীর বৈধ ইচ্ছাপূরণ থেকেও বিরত থাকতে পারেন।

রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
অর্থ: “একজন ভালো মহিলা তার স্বামীর ইচ্ছার প্রতি মনোযোগ দেয় এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে।”৩৭

আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, নিজের সতীত্বের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে, তবে তার জন্য জান্নাতের সবগুলো দরজা খুলে যায়।”৩৮

নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “কোনো মানুষকে সেজদা করা বৈধ হলে আমি নারীদেরকে আদেশ করতাম তারা যেন নিজের স্বামীকে সেজদা করে। যদি কারো স্বামী তাকে আদেশ করে এক পাহাড়ের পাথর আরেক পাহাড়ে জমা করতে, তবে তার সেটাই করা উচিত।”৩৯

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন—
অর্থ: “সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো স্ত্রী হিসেবে এমন নারী পাওয়া, যে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, মুখে মুখে তর্ক করে স্বামীকে কষ্ট দেয়।”৪০

প্রিয় বোন! আপনার স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নিন। পরিবারের সকল বিষয়ে তাকে তদারক করতে দিন। তার আদেশ লঙ্ঘন করবেন না। ঘরোয়া ও পারিবারিক বিষয়ে তার অংশগ্রহণে বাধা দেবেন না বা বিরোধিতা করবেন না। এমনকি আপনার দক্ষতা রয়েছে এমন বিষয়েও তার অংশগ্রহণকে অগ্রাহ্য করবেন না। কার্যত তাকে ক্ষমতাহীন করে দেবেন না। তাকে মাঝে মাঝে আপনার কাজেও অংশ নিতে দিন। আপনার সন্তানদের তার শাসনকে শ্রদ্ধা করতে এবং তাদের সকল বিষয়ে তাদের বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিতে শিক্ষা দিন। আপনার সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই পিতামাতার আদেশের অবাধ্য না হওয়া শিখতে হবে। জীবনে যখন কঠিন সময় আসবে এবং জীবন উত্থান-পতনে ভরে উঠবে তখন ধৈর্যশীল হোন। ভাগ্যের চাকা সর্বদা আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ঘোরে না। মানুষকে নানা ধরনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়। অনেকে চাকরি হারিয়ে ফেলে। আবার কেউ কেউ তার সমস্ত ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা, যারা একে অপরের প্রতি আনুগত্যের শপথ করেছেন এবং বিবাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের জীবনের পথে একে অপরের হাতে হাত রেখে চলা উচিত। এ বন্ধন এতটাই দৃঢ় হওয়া উচিত যেন সুস্থতা-অসুস্থতায় কিংবা দারিদ্র্য-স্বচ্ছলতায় বা ভালো-খারাপ সময়গুলোতে তাদের একত্রে ধরে রাখতে পারে।

প্রিয় বোন!
যদি আপনার স্বামী দরিদ্র হয়ে যায় তবে অবশ্যই তার বিপদে আপনাকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখতে হবে। যদি সে অসুস্থ হয়ে ঘরে বা হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে, তবে তার প্রতি আপনার আরও সহনশীল হতে হবে। আপনাকে অবশ্যই তার সেবা শুশ্রূষা করতে হবে। প্রয়োজনে তার পাশে থাকতে হবে এবং তার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনার নিজের টাকা থাকলে তার চিকিৎসার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যদি অসুস্থ হন তাহলে আপনার স্বামীই আপনার চিকিৎসার খরচ বহন করবে। আপনি কি স্বামীর সুস্থতার চেয়ে আপনার অর্থ-সম্পদ ধরে রাখা বেশি পছন্দ করবেন? আপনি যদি এইরকম সংবেদনশীল সময়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি আপনার উপর হতাশ হবেন এবং এমনকি আপনার সাথে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ডাক্তার তাকে বলেছিলেন— হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে তাকে ওষুধ ও ভালো খাবার খেতে হবে। সে তার স্ত্রীকে বলেছিল যে— সে যা সঞ্চয় করেছে সেখান থেকে তাকে যেন কিছু টাকা ঋণ হিসেবে দেয় এবং ভালো খাবার ও ওষুধ কিনে আনে। কিন্তু এতে সে দ্বিমত পোষণ করে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ফলস্বরূপ তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হয়েছিল। এখন তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এমন মহিলার সাথে সে আর থাকতে ইচ্ছুক নয় যার কাছে কিনা তার স্বামীর চেয়ে অর্থের প্রাধান্য বেশি। এই মহিলাকে কীভাবে একজন ‘স্ত্রী’ হিসেবে মানতে পারেন?

প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিই স্বীকার করবে যে— উপরোক্ত ক্ষেত্রে, লোকটিই সঠিক ছিল। এই ধরনের মহিলা; যে তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় করতে চান না, তিনি ‘স্ত্রীধর্ম’ এর মতো সম্মানিত অবস্থানের যোগ্য নন।

প্রিয় বোন!
আপনার স্বামী অসুস্থতায় ভুগলে তার প্রতি নির্দয় আচরণ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কীভাবে আপনি তাকে এবং আপনার সন্তানদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন? আপনি এমন একজনকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারেন যার সাথে আপনি অনেক আনন্দময় দিন এবং রাত কাটিয়েছেন? আপনি কীভাবে জানবেন যে— একই রকম ভাগ্য আবারও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কি না? আপনি কীভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে অন্য কোনো লোক তার চেয়েও ভালো হবে? জেদি এবং স্বার্থপর হয়ে উঠবেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার নিজের সম্মান ও সন্তানদের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করুন এবং নিজেকে উৎসর্গ করে দিন। ধৈর্য ধরুন এবং আপনার বাচ্চাদের নিষ্ঠা, ভালোবাসা এবং ধৈর্যের শিক্ষা দিন। নিশ্চিত থাকুন, এই দুনিয়া এবং পরকালে আপনাকে সম্মানের সাথে পুরস্কৃত করা হবে। আপনার স্বামীর সেবা-যত্ন করা তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের সর্বোত্তম পন্থা যা জিহাদের স্তরে স্থাপন করা হয়েছে।

টিকাঃ
৩৬ সূরা নিসা: ৩৪।
৩৭ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
৩৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৬১৬; তাবারানি, হাদিস নং: ৪৫৯৮।
৩৯ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২১৯৮৬।
৪০ মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩২।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 মুখ গোমড়া করে থাকবেন না

📄 মুখ গোমড়া করে থাকবেন না


মুখ গোমড়া করে চুপ করে থাকবেন না। কিছু মহিলার এমন স্বভাব আছে যে—স্বামীর প্রতি বিরক্ত হলে মুখ গোমড়া করে রাখে। কথা বলতে চায় না। সংসারের কাজ করে না। খায় না, বাচ্চাদের মারে বা দোষারোপ করে। তারা বিশ্বাস করে যে—কথা না বলা বা ঝগড়া করা স্বামীদের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার সর্বোত্তম উপায়। এই মনোভাবটি লোকটিকে কেবলমাত্র শাস্তি দিতেই ব্যর্থ হয় না, বরং পরিশেষে তাকে প্রতিশোধপরায়ণও করে তোলে। তখন একের পর এক ঝগড়ার কারণে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। মহিলাটি বিলাপ করতে শুরু করে দেয় এবং তখন লোকটিও তাই করে। মহিলা কথা বলতে অস্বীকার করে এবং লোকটি তখন প্রতিশোধ নেয়। মহিলাটি কিছু একটা করলে, পুরুষটিও ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত একই কাজ করতে থাকে এবং আত্মীয় বা বন্ধুদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে পুনর্মিলন না করা পর্যন্ত একই রকম চলতে থাকে। তবে এমন না যে তারা প্রথমবারের মতো ঝগড়া করছে। এরপর সবকিছু আগের মতো চলতে থাকলেও তিক্ততার স্বাদ রয়ে যায়।

অতএব, আজীবন পারিবারিক কলহ-বিবাদের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাবা-মা কিংবা সন্তান কারো পক্ষেই সুখকর হবে না। বখাটে তরুণদের বেশিরভাগই এই ধরণের পরিবার থেকে আসে এবং অপরাধ ও দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে যায়। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবক তার বাবা-মাকে তার অপরাধের জন্য দোষ দিয়ে বলেছিল— 'আমার বাবা-মা প্রতিদিন ঝগড়া করে তাদের আত্মীয়দের কাছে চলে যেতেন। আমি রাস্তায় এদিক ওদিকে ঘুরে বেড়াতাম। আমি তখন অন্যদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে পরে চুরি করেছিলাম।'

দশ বছরের এক কিশোরী সমাজকর্মীদের বলেছিল— 'আমার অস্পষ্টভাবে মনে আছে যে—একদিন রাতে আমার বাবা-মা কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক করেছিলেন। পরের দিন, আমার মা চলে গেলেন এবং কয়েক দিন পরে, বাবা আমাকে আমার খালার কাছে নিয়ে গেলেন। কিছুদিন পর এক বৃদ্ধ মহিলা আমার খালার বাড়ি থেকে আমাকে রাজশাহী নিয়ে আসেন। এখন কয়েক বছর হয়ে গেছে, আমি তার সাথে আছি এবং এতটা কষ্ট সহ্য করেছি যে—আমি তার কাছে আর ফিরে যেতে চাই না।'

এক শিক্ষক বলেছিলেন— সে আমার শিক্ষার্থী ছিল। সে তার পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করছিলো না। কোনো সমস্যায় ভুগছে বলে মনে হতো। তাকে সর্বদা চিন্তাগ্রস্থ দেখাতো। এমনকি সে বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে স্কুলের উঠোনে বসে থাকতো। দুদিন আগে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে বাড়ি যাচ্ছে না কেন? সে জবাব দিয়েছিল যে—সে একজন বৃদ্ধ মহিলার সাথে বসবাস করত, যে তাকে অপক্সন্দ করত এবং তাই সে আর কোনোভাবে বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। আমি তার বাবা-মা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বললো যে—তারা পৃথক হয়ে গেছে।

প্রিয় বোন!
আপনার মনে রাখতে হবে যে—আপনার স্বামী যদি তার সাথে কথা না বলার জন্য আপনার প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান, তবে তিনি আপনাকে মারার মতো কঠোর পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলস্বরূপ আপনি বাড়ি ছেড়ে বাবা-মার কাছে চলে গেলে আপনার পিতা-মাতা হস্তক্ষেপ করবে এবং আপনাদের মধ্যে মনোমালিন্য আরও বৃদ্ধি পাবে। শেষমেষ আপনাদের বিবাহবিচ্ছেদও হতে পারে, এতে করে আপনি আপনার স্বামীর চেয়েও বেশি কিছু হারাবেন। আপনাকে সারা জীবন একা থাকতে হতে পারে। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই আপনি এই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করবেন।

একজন মহিলা বলেছিলেন— 'কিছুদিন আগে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমি আমার স্বামীর সেবা-যত্নের ব্যাপারে বেশি কিছু জানতাম না এবং সেও আমার দেখাশোনা করার বিষয়ে তেমন বেশি কিছু জানত না। আমরা প্রতিদিনই ঝগড়া করতাম। এক সপ্তাহ আমি কথা বলিনি এবং পরের সপ্তাহ তিনিও আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন। শুধুমাত্র শুক্রবারে, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের মধ্যস্থতার কারণে আমরা ভালো ভাবে থাকতাম। ধীরে ধীরে আমার স্বামী আমার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েন এবং আমাকে তালাক দিয়ে পুনরায় বিয়ে করার কথা ভাবেন। যেহেতু আমি তখন ছোট ছিলাম তাই আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে রাজি ছিলাম না এবং বিবাহবিচ্ছেদে আপত্তি জানালাম না। আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেল এবং আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলাম। শীঘ্রই আমি বুঝতে পারি যে বিপদ আসন্ন। বেশির ভাগ লোক, যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তারা আমার সাথে প্রতারণা করতে চেয়েছিল। আমি আমার প্রাক্তন স্বামীর সাথে পুনর্মিলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং তার বাসায় গেলাম। সেখানে একজন ভদ্রমহিলার সাথে সাক্ষাত হলো যিনি নিজেকে তার স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিলেন। বাড়ি ফেরার সময় আমি সারা পথ কাঁদতে থাকলাম। আমি আমার বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করতে থাকলাম, তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।'

বাইশ বছরের এক যুবতী মহিলা; যিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পরে তার সন্তান নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন এবং বোনের বিয়ের রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

প্রিয় বোন!
আপনার স্বামীর সাথে মুখ গোমড়া করে কথা না বলে হাসিমুখে থাকার ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। আপনি যদি তার উপর বিরক্ত হন তবে ধৈর্য ধরুন। আপনি শান্ত থাকুন এবং শান্তভাবে আপনার বিরক্তির ব্যাপারটি তাকে বুঝিয়ে বলুন। আপনি উদাহরণস্বরূপ তাকে বলতে পারেন, 'আপনি গতকাল আমাকে অপমান করেছেন, বা আপনি আমার চাহিদাকে অগ্রাহ্য করেছেন, আমার সাথে আপনার এইরকম আচরণ করা কি ন্যায়সংগত?' এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যে আপনাকে কেবল মানসিক প্রশান্তিই দিবে তা না, বরং তাকেও সতর্ক করবে। তারপরে তিনি তার অন্যায় কাজগুলো শোধরাবার চেষ্টা করবেন এবং আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং ভালো ব্যবহার করবেন। ফলস্বরূপ, তিনি তার আচরণ পর্যালোচনা করবেন এবং নিজেকে সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা করবেন।

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ : “কোনো মুসলমানের জন্য হালাল নয় অপর মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি কথা না বলা, সাক্ষাতে দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ সে, যে আগে সালাম দিয়ে বিবাদ মিটিয়ে ফেলে।”৪১ আরেক বর্ণনায় আছে, "তিন দিনের বেশি কথা না বলা অবস্থায় কেউ মারা গেলে সে জাহান্নামী হবে।”৪২

টিকাঃ
৪১. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬২৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৫৩২।
৪২. আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৯১৪।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 স্বামীর রাগান্বিত অবস্থায় নীরব থাকুন

📄 স্বামীর রাগান্বিত অবস্থায় নীরব থাকুন


ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন-
অর্থ : নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “তোমরা শিক্ষা প্রদান কর, মানুষের উপর সহজ কর, কঠোরতা আরোপ করো না। তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয়ে গেলে সে যেন চুপ থাকে।”৪৩

একজন মানুষের কর্মজীবনে নানান ধরনের মানুষের সাথে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও পরিচিতি ঘটে। একইসাথে তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীনও হতে হয়। দিনশেষে ক্লান্ত শরীরে তিনি যখন বাড়ি ফিরে আসেন তখন ছোট ছোট অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতেই তিনি দ্বিগুণ রাগান্বিত হয়ে যান। এমতাবস্থায় তিনি তার পরিবারকেও অপমান করে বসতে পারেন।

কিন্তু একজন ধর্মীয় জ্ঞানসম্পন্ন মহিলা যদি তার স্বামীর চেঁচামেচি ও অপমানের প্রতি নীরব থাকেন; তার মনের অবস্থা প্রকাশ করার সুযোগ দেন তাহলে এক সময় স্বামী তার ভুল বুঝতে পারেন এবং তার রাগের জন্য অনুশোচনা করেন। এমনকি তিনি যদি লক্ষ্য করেন যে- তার রাগের প্রতি স্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া নেই তাহলে তিনি স্ত্রীর কাছে ক্ষমাও চাইতে পারেন। এবং এর মধ্য দিয়ে তাদের পরিবারটি মাত্র ২/৩ ঘণ্টার মধ্যে একটি স্বাভাবিক শান্তিপ্রিয় পরিস্থিতিতে ফিরে আসে।

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত- “তোমার জীবনসঙ্গী যদি রাগান্বিত হয়, তবে তুমি শান্ত হয়ে যাও। কারণ, একজন আগুন হলে অপরজনের পানি হওয়া প্রয়োজন।”

তাই স্বামীর যে কোনো অবস্থা সামলে নেওয়ার জন্য একজন জ্ঞান ও ধৈর্যসম্পন্ন স্ত্রী প্রয়োজন। কিন্তু স্ত্রী যদি তার স্বামীর সংবেদনশীল অবস্থা বুঝতে না পারেন তাহলে তিনিও উল্টো তার স্বামীর সাথে চিৎকার চেঁচামেচি করবেন, তার অপমানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখাবেন; অভিশাপ দেবেন। তাদের ঝগড়া বিবাহ বিচ্ছেদের মতো মারাত্মক পর্যায়েও চলে যেতে পারে। এরকম ছোট ছোট ঝগড়ার কারণে অনেক পরিবার, অনেকগুলি সম্পর্কের ইতি ঘটে।

এমনকি এমন ঘটনাও ঘটে যেখানে স্বামী এতোটাই রাগান্বিত হয়ে যায় যে- আগ্নেয়গিরির মতো তিনি ফেটে পড়েন এবং তার স্ত্রীকে হত্যার মতো অপরাধ পর্যন্ত করে ফেলেন।

রাগ ক্রোধ বিষয়ে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- অর্থ : “নিশ্চয় রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে। আর শয়তান আগুনের তৈরি। নিশ্চয় পানির দ্বারা আগুন নির্বাপিত হয়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয় সে যেন অজু করে নেয়।” ৪৪

এক ব্যক্তি খোদ নিজেকে, তার স্ত্রী এবং সৎ মাকে ক্রোধের বশে হত্যা করে ফেলে। ধারণা করা হয় যে- এই দম্পতির বিবাহের আগে থেকেই অনেকগুলো বিষয়ে ঝগড়া ও তর্ক-বিতর্ক ছিল। ঘটনার রাতে কাজ শেষে স্বামী ক্লান্ত শরীরে বাসায় ফিরেছিলেন। কোনো একটি কারণে সে রাতে তাদের মধ্যে পুনরায় ঝগড়া শুরু হয়। স্বামী স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন, স্ত্রীকে আঘাত করেন। স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশের কাছে সাহায্য চাইবে। কিন্তু স্বামী ক্রোধের বশে বন্দুক নিয়ে তার স্ত্রীকে গুলি করে। ঘটনাক্রমে সে তার সৎ মাকেও গুলি করে এবং অবশেষে গুলিবিদ্ধ করে নিজেকেও শেষ করে দেয়।

রাগ দমন সম্পর্কে হাদিসে বলা আছে- দুই ব্যক্তি নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অদূরে বসে পরস্পর ঝগড়া করছিল। রাগে তাদের একজনের চেহারা লাল হয়ে উঠলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
অর্থ : “আমি একটি বাক্য জানি, যদি সে তা পড়ে তবে তার এ অবস্থা কেটে যাবে। সে বাক্যটি হলো- أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ (আমি আল্লাহর কাছে অভিশপ্ত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।)”৪৫

স্বামীর ক্রোধের প্রতি মহিলার নীরব থাকাটাই কি শ্রেয় হতো না? মহিলাটি যদি ধৈর্য ধারণ করতেন এবং প্রতিক্রিয়া না দেখাতেন তাহলে কি এই তিনটি জীবনের এই পরিণতি ঘটতো? আপনি কোনটি পছন্দ করবেন? কয়েক মুহূর্তের নীরবতা নাকি স্বামীর রাগের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে জীবনের মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনা?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থ : “আমি কি বলে দেবো তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে জান্নাতি কারা? যারা মমতাময়ী, অধিক সন্তান প্রসবকারী, স্বামীবান্ধব, নিজের দোষ বা স্বামীর দোষ উভয় ক্ষেত্রেই সে স্বামীর হাতে হাত রেখে বলে, আপনি সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমার চোখে ঘুম নামবে না।”৪৬

এক সেকেন্ডের জন্যও আপনারা ভাববেন না, এখানে লোকটির অবস্থান রক্ষিত হচ্ছে এবং সে দোষী নয়। একেবারেই না; লোকটি এখানে অবশ্যই দোষী। পরিবারের উপর তার রাগ প্রয়োগ করা ভুল ছিল। স্ত্রীর শরীরে আঘাত করার অধিকারও তিনি রাখেন না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- অর্থ : “তোমরা নারীদের কল্যাণকামী হও। কারণ, তাদেরকে পাঁজরের হাড্ডি দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। পাঁজরের হাড়ের মধ্যে উপরেরটি সবচেয়ে বেশি বাঁকা। যদি তা সোজা করতে চাও, ভেঙে ফেলবে। আর রেখে দিলেও তার বক্রতা দূর হবে না। তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণকামিতার উপদেশ গ্রহণ কর।”৪৭

হযরত জাবের রাযিআল্লাহু আনহু থেকে সহীহ মুসলিমে বর্ণিত- অর্থ : 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্বের ভাষণে বলেছেন, “তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর, তারা তোমাদের কাছে আবদ্ধ রয়েছে। তোমরা তাদের মালিক নও, আবার তারা তোমাদের থেকে মুক্তও নয়। তাদের কর্তব্য, তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে জায়গা না দেওয়া, যাদের তোমরা অপছন্দ কর। যদি এর বিপরীত করে তবে তাদের এতটুকু প্রহার কর, যাতে শরীরের কোনো স্থানে দাগ না পড়ে। তোমাদের কর্তব্য সাধ্য মোতাবেক তাদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করা।”৪৮

প্রহারের সংজ্ঞায় ইবনে আব্বাস ও অন্যান্য মুফাসসির দাগ বিহীন প্রহার বলেছেন। হাসান বসরিও তাই বলেছেন-
অর্থ : অর্থাৎ- “যে প্রহারের কারণে শরীরে দাগ পড়ে না, অঙ্গহানি হয় না।”৪৯

মুআবিয়াহ আল কুশাইরি রাযিআল্লাহু আনহু এর সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বললাম, আমাদের স্ত্রীদের (হক) সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন-
অর্থ : "কখনও চেহারায় আঘাত করবে না। গালিগালাজ করবে না। ঘর থেকে বের করে দিবে না। তোমরা যা খাবে তাদেরকেও তা খাওয়াবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তা পরিধান করাবে।”৫০

একজন মহিলার উচিত ইসলামিক জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া এবং তার স্বামীর ক্রোধের প্রতি প্রতিক্রিয়া না দেখানো, হোক সেটা সঠিক বা ভুল। কোনো পরিস্থিতিতে স্বামী যদি তার ক্রোধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তবুও স্ত্রীর উচিত পরিবারকে বাঁচানোর স্বার্থে ধৈর্য ধারণ করা ও নীরব থাকা।

মহিলারা সাধারণত ভাবেন যে- স্বামীর ক্রোধের সম্মুখীন হয়ে নীরব হয়ে থাকা তার পক্ষে অসম্মানজনক। তার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ার কারণ। কিন্তু পরিস্থিতি প্রকৃতপক্ষে তার বিপরীত। যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর প্রতি রাগ, ক্ষোভ ঝাড়া এবং অপমান করা সত্ত্বেও স্ত্রী তার প্রতি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ধৈর্য ধারণ করে এবং তার শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে ঠিক তখনই স্বামী তার ভুল বুঝতে পারে। স্ত্রীর প্রতি রূঢ় ব্যবহারের জন্য অনুশোচনা করে। একইসাথে, স্ত্রীর উপর তার একটি ইতিবাচক পরিবর্তন চলে আসে। কারণ তার স্ত্রীর অপমান করার ক্ষমতা ও সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তার স্বামীকে ক্ষমা করে দেন। এবং স্বামী তার স্ত্রীকে একটি উদার মনের সুন্দর মানুষ হিসেবে বিবেচনা করতে থাকেন। স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা অনেকগুলি পাল্লায় খুলে যায়। এরই অনুশোচনায় তিনি যদি তার স্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান তবে এতে স্ত্রীর মর্যাদা দ্বিগুণ বেড়ে যায়।

নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন-
অর্থ : “রাগের সময় অপরকে হারিয়ে দেওয়া বীরত্ব নয়। প্রকৃত কৃতিত্ব হলো, রাগের সময় নিজেকে সংবরণ করতে পারা।”৫১

মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন-
অর্থ : “যে কোন মুসলমানের ভুল ক্ষমা করে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন তার ভুল ক্ষমা করবেন।”৫২

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন, “আল্লাহ তাআলা ক্ষমাকারী বান্দার সম্মান ও শ্রদ্ধা বাড়িয়ে দেন।”৫৩

টিকাঃ
৪৩ মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২১৩৬।
৪৪ আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৭৮৪।
৪৫ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৩২৮২; বাইহাকি, হাদিস নং: ৮২৮৩।
৪৬ তাবারানি আওসাত, হাদিস নং: ১১৮।
৪৭ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৫১৮৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৩৬৫০।
৪৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২০৬৯৫; ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫১।
৪৯ তাফসিরে ইবনে কাসির: ১/৬০৬।
৫০ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২০০৪৫; বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭২৬।
৫১ সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬১১৪; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৬৪৩।
৫২ সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৬৫০; বাইহাকি, হাদিস নং: ৩১৬১।
৫৩ সহিহ মুসলিম: ৬৫৯২; জামে তিরমিজি, হাদিস নং: ১১৪৮, মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭২০৬।

📘 দ্য কেয়ারিং ওয়াইফ > 📄 স্বামীর শখকে সম্মান করুন

📄 স্বামীর শখকে সম্মান করুন


প্রায় প্রত্যেক পুরুষেরই কিছু না কিছু শখ থাকে। ঘরে বসে অবসর সময়ে স্ট্যাম্প বা বই সংগ্রহ করা, বাগান করা বা ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করা। এই ধরনের শখগুলিকে 'সর্বোত্তম এবং স্বাস্থ্যকর' বিনোদনমূলক শখ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই ছোট ছোট শখগুলি এতোটাই কার্যকরী যে- এগুলি পুরুষদের তাদের বাড়ির দিকে আকর্ষণ করে। পাশাপাশি তাদেরকে অলস সময় কাজের মাধ্যমে কাটাতেও সহায়তা করে। অলস হতে দেখে কেউ হতাশও হয়ে উঠতে পারে, যা একেবারেই উচিত নয়।

এটি সত্যি যে- মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত লোকদের চিকিৎসার অন্যতম উপায় হলো তাদের নির্দিষ্ট কিছু কাজে ব্যস্ত রাখা। অপরদিকে, আমরা যারা অন্যের চেয়ে বেশি কাজ করি তারা সাধারণত মানসিক ব্যাধি দ্বারা কম আক্রান্ত হই এবং বিপজ্জনক পেশার দিকে কম আকৃষ্ট হই।

সুতরাং! মহিলাদের উচিত তাদের স্বামীর ভালো শখগুলোকে সম্মান করা এবং তাদের শখের কাজগুলিকে সময়ের অপচয়, সস্তা এবং অকেজো ভাবা মোটেই উচিত নয়।

মহিলাদের অবশ্যই তাদের এই কাজগুলোতে উৎসাহিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-
অর্থ : “আমি যদি আল্লাহ ব্যতীত কাউকে সেজদা করার নির্দেশ দিতাম, তবে নারীদের আদেশ করতাম স্বামীদের সেজদা করার জন্য। সেই আল্লাহর শপথ করে বলছি, যার হাতে আমার জীবন, নারী তার স্বামীর সব হক আদায় করা ব্যতীত, আল্লাহর হক আদায়কারী হিসেবে গণ্য হবে না। এমনকি স্বামী যদি তাকে তলব করে, সে যেন উটের পিঠ থেকে নেমে এসে হলেও তার ডাকে সাড়া দেয়।”৫৪

আল্লাহ তাআলা বলেন-
অর্থ : “পুরুষরা নারীদের উপর ক্ষমতাশীল। কারণ- আল্লাহ তাদের পরস্পরের মাঝে তারতম্য দান করেছেন এবং পুরুষরা তাদের সম্পদ ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা স্বামীর অনুগত।”৫৫

নেককার নারী সে; যে আনুগত্যশীল। অর্থাৎ যে নারী সর্বদা স্বামীর আনুগত্য করে। নারীর জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের হকের পর স্বামীর হকের মতো অবশ্য কর্তব্য কোনো হক নেই।

টিকাঃ
৫৪ বাইহাকি, হাদিস নং: ১৪৭১১, মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৮১২।
৫৫ সূরা নিসা: ৩৪।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00