📄 বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকুন
বেশিরভাগ স্ত্রীলোকের মাঝে এই রীতি প্রচলিত যে—যখন তারা কোনো অনুষ্ঠান বা আয়োজনে যায়, তখন তারা তাদের সবচাইতে ভালো পোশাক ও অলঙ্কার দিয়ে নিজেদের অলংকৃত করে। তারপর যখন তারা বাড়ি ফিরে, তারা তাদের পোশাক খুলে পুরনো ও ময়লা পোশাক পরে নেয়।
এইসব স্ত্রীলোকেরা বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকে না এবং বাড়িতে নিজেকে সুসজ্জিত রাখে না। তারা এলোমেলো চুল, দাগ পড়ে যাওয়া কাপড়-চোপড় নিয়ে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ায়। আসলে কিন্তু এর উল্টো করা উচিত ছিল। কারণ, একজন নারীর উচিত তার স্বামীর সামনে সুন্দর ও পরিপাটি হয়ে থেকে তার হৃদয় জয় করে নেয়া। যাতে করে তার হৃদয়ে অন্য কোনো মহিলার জন্য কোনো প্রকার স্থান তৈরি না হয়। সে কেন নিজের স্বামী ব্যতীত অন্যের জন্য সাজবে? একজন মহিলার কি পরপুরুষের সামনে তার সৌন্দর্য প্রকাশ করে তাদের জন্য সমস্যার কারণ হওয়া উচিত? নবি কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন—
অর্থ: “যে মহিলা সুগন্ধি ব্যবহার করে ঘর থেকে বের হয়, তার নামাজ কবুল হয় না, যতক্ষণ না সে নাপাক ব্যক্তির মতো গোসল করে পবিত্র হয়।”
আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪১৭৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৩৫৬; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ৪০০২।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন— “নারীদের ওপর পুরুষগণ শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী।”<sup>৩৪</sup>
সম্মানিত বোন! একজন পুরুষের মন জয় করা, বিশেষ করে দীর্ঘদিনের জন্য, মোটেও সহজ কাজ নয়। এটা ভুলেও ভাবা উচিত নয় যে—সে তো আমাকে ভালোবাসে। তার সামনে আমাকে সুন্দর রূপে পেশ করার প্রয়োজন নেই বা নতুন করে আর তার মন জয় করা ও তাকে প্রলুব্ধ করার দরকার নেই। আপনাকে অবশ্যই সবসময় আপনার প্রতি তার ভালোবাসা বজায় রাখতে চেষ্টা করে যেতে হবে। এটা নিশ্চিত থাকুন যে—আপনার স্বামী অবশ্যই একজন পাক-পবিত্রা, পরিপাটি মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে পছন্দ করবে। কখনো মুখ খুলে না বললেও এটাই সত্যি। আপনি যদি ঘরে তার জন্য নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন না করেন এবং তার অভ্যন্তরীণ আকাঙ্ক্ষা পূরণ না করেন; তাহলে সে হয়তো-বা বাড়ির বাইরে সুন্দরী মহিলাদের দিকে নজর দিতে পারে এবং সে আপনার প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বিপথগামী হয়ে যেতে পারে।
যখনি আপনার স্বামী একজন সুন্দরী মহিলার সাক্ষাৎ লাভ করেন, তার সাথে তখন তিনি আপনাকে তুলনা করেন। আপনি যদি অপরিচ্ছন্ন, উস্কখুস্ক ও উদাসীন হন তবে অন্য সুন্দরী মহিলাদের দেখে আপনার স্বামীর তাদেরকে আকাশের হূর-পরী বলে বোধ হবে। তাই বাড়িতে সুন্দর ও পরিপাটি থাকার চেষ্টা করুন যাতে করে আপনার স্বামী যেন আপনার ওপর আগ্রহ হারিয়ে না ফেলে।
নিচে একজন স্বামীর লেখা ফেসবুক পোস্টটি দেখুন—
‘আমার স্ত্রী এবং আমার কাজের মেয়েকে দেখে কেউ এটা বলতে পারবে না যে আসলে কোনটা আমার স্ত্রী এবং কোনটা আমার কাজের মেয়ে। আমি আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি যে—আমি মাঝে মাঝে ভাবি, ইশ, আমার স্ত্রী যদি অনুষ্ঠানে পরে যাওয়ার জন্য রেখে দেয়া পোশাকগুলো মাঝে মাঝে বাড়িতে পরতো! যদি সে তার ময়লা, ছেঁড়া জামাগুলো না পরে বাহিরে ছুড়ে ফেলে দিতো! আমি মাঝে মাঝে তাকে বলেছি যে—প্রিয়া, শুধুমাত্র ছুটির দিনগুলোতে হলেও বাড়িতে সুন্দর পোশাকগুলো পরিধান করো। সে তিক্ত সুরে জবাব দিলো—আমাকে তো আর বাড়িতে অমন সেজেগুজে থাকার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি কোনোদিন আমি আমার সহকর্মীদের সামনে নোংরা রূপে যাই তবে তা আমার জন্য লজ্জাজনক হবে।’
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন যে—বাসাবাড়ির কাজ করার সময় বা রান্নাবান্নার কাজের সময় তো ভালো জামাকাপড় পরে সেজেগুজে থাকা যায় না। এটা হয়তো সত্যি। ঠিক আছে—তবে একজন গৃহিনী কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্যে ভিন্ন ভিন্ন জামা পরিধান করতে পারে। যেমন ঘরের কাজের সময় কাজ করার জামা পরে কাজ করতে পারে। যখন সে তার স্বামীর সাথে অবস্থান করবে বা বাড়ি ফিরবে তখন ভালো জামাটা পরিধান করে থাকতে পারে। আপনি সবসময়ই আপনার চুলগুলো আঁচড়িয়ে রাখতে পারেন এবং ঘরের কাজ শেষে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে ফেলতে পারেন। এটা একজন মহিলার কর্তব্য যে—সুগন্ধি ব্যবহার করে, সবচাইতে উত্তম পোশাক পরিধান করে, নিজেকে সুন্দর করে অলংকৃত করে ওই অবস্থায় স্বামীর সান্নিধ্য লাভ করা। মহিলাদের সাজসজ্জা ছেড়ে দেয়া উচিত নয়, হোক সেটা শুধুমাত্র গলার হার দিয়েই। তার হাত খালি থাকা উচিত নয়, হোক সেখানে একটু মেহেদি দেয়া। এমনকি বুড়ো মহিলাদেরও সাজসজ্জা ছাড়া উচিত নয়।
আপনার স্বামীর জন্য একজন সেবিকা হয়ে যান তার অসুস্থতার ও প্রয়োজনের সময়। উভয়েরই উভয়ের সেবা প্রয়োজন। একজন সেবিকাই পারে প্রেম ও যত্নের মাধ্যমে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে সুস্থ করে তুলতে। পুরুষেরা একটা শিশু বৈ কিছু নয়, যারা শুধুমাত্র শারীরিকভাবে বেড়ে উঠেছে। তাদেরও স্নেহের প্রয়োজন পড়ে। একজন পুরুষের যখন একজন মহিলার সাথে বিবাহ হয়, সে তখন তাকে তার কঠিন ও অসুস্থতার সময়ে খুব কাছের মতো করে চায়।
হে বোন!
যদি আপনার স্বামী কখনো অসুস্থ হন, তখন স্বাভাবিক সময়ের চাইতে তার প্রতি আরো বেশি খেয়াল রাখুন। তার প্রতি নিজের সহানুভূতি প্রকাশ করুন এবং এটা বুঝান যে তার এই অবস্থায় আপনি সত্যিই মর্মাহত। তাকে সান্ত্বনা দিন, তার সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং ছেলে মেয়েদের শান্ত ও চুপচাপ রাখুন যাতে তার আরামের ব্যাঘাত না ঘটে।
তার যদি ডাক্তারের অথবা ওষুধের দরকার পড়ে তো তা জোগাড় করে দিন। তার দেহের জন্য উপকারী এবং তিনি যা খেতে চান তা রান্না করে দিন। তার স্বাস্থ্য সম্পর্কে ঘন ঘন জিজ্ঞাসা করুন। যত বেশি সময় সম্ভব তার বিছানার পাশেই থাকুন। জিজ্ঞাসা করুন তিনি কেমন বোধ করছেন। রাতে যদি তার ভালো ঘুম না হয়, তা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করুন। দিনের বেলায় তার ঘর শান্ত রাখুন যাতে সে আরামে বিশ্রাম নিতে পারে। তার প্রতি আপনার যত্ন তাকে তাড়াতাড়ি সুস্থ করে তুলতে সহায়তা করবে। এতে আপনার স্বামী আপনার ওপর সন্তুষ্ট থাকবে এবং আপনাকে আরো বেশি ভালোবাসবে। অবশ্যই আপনি যখন অসুস্থ হবেন আপনার স্বামীও আপনার এরূপ সেবা করবে।
টিকাঃ
৩৪. সূরা আন-নিসা: ৩৪।
📄 গোপনীয়তা রক্ষা করুন
মহিলারা সাধারণত তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে জানতে চায়। যেমন—তার উপার্জন, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা এবং তার কাজ ইত্যাদি। তারা চায় যে তার স্বামী তার কাছ থেকে কোনো কিছুই গোপন না করে। অন্যদিকে পুরুষেরা তাদের সবকিছু তার স্ত্রীকে বলতে রাজি হয় না। এর ফলস্বরূপ অনেক স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হয়। কিছু মহিলা এটা ভেবে বসে যে তার স্বামী তাকে বিশ্বাস করে না, তার মেসেজগুলো পড়তে দেয় না, তার উপার্জন সম্পর্কে কিছু জানায় না, তার সাথে ভালোভাবে কথা বলে না, মাঝে মাঝে মিথ্যাও বলে।
কিন্তু আসলে সত্যি বলতে পুরুষেরা এসব গোপনীয়তা তার স্ত্রীর সাথে ভাগাভাগিতে আপত্তি করে না। কিন্তু তারা এটা বিশ্বাস করে যে স্ত্রীরা গোপনীয়তা রাখতে পারে না। না চাইলেও তারা গোপন বিষয়গুলো অন্যকে ভুলে-ভালে বলে ফেলে, যা তার স্বামীর জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। কেউ যদি কারো সম্পর্কে কোনো গোপন তথ্য জানতে চায় তবে এর জন্য তার স্ত্রীর সাথে কিছুক্ষণ কথা বলাই যথেষ্ট।
কিছু কিছু স্ত্রী তার স্বামীর গোপন তথ্যগুলো জেনে তাকে হুমকি দেয় এবং এভাবে তার স্বামীর বিশ্বাসের অপব্যবহার করে। তুলনামূলকভাবে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের আবেগের প্রভাব বেশি হয়ে থাকে। মহিলারা যখন রাগান্বিত হয় তখন তাদের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং এ অবস্থায় তার স্বামীর গোপন বিষয়গুলো নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই যদি কোনো মহিলা তার স্বামীর গোপনীয়তা সম্পর্কে আগ্রহী হয় তবে অবশ্যই তাকে বিশেষ সতর্কতার সহিত থাকতে হবে যাতে সে আবেগবশত তার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত এগুলো কখনো প্রকাশ করে না বসে। তার আত্মীয় বা কাছের বন্ধুকেও এগুলো বলা উচিত নয়। আপনি যদি কাউকে কিছু বলে দেন তাহলে তো এটা আর গোপনীয়তা রক্ষা হলো না।
অতএব, তিনিই জ্ঞানী যিনি তার গোপনীয়তা কারো কাছে প্রকাশ করেন না। জ্ঞানী ব্যক্তি নিজেই তার গোপনীয়তার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
অর্থ : “তোমরা লক্ষ্য অর্জনের জন্য গোপনীয়তা অবলম্বন করো। কেননা প্রত্যেক সার্থক ব্যক্তি হিংসার শিকার হয়।”৩৬
হজরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন—
“তোমার গোপন বিষয় তোমার হাতে বন্দী। যখন তা প্রকাশ করে দিবে তুমি তার হাতে বন্দী হয়ে যাবে।”
টিকাঃ
৩৬. বাইহাকি, হাদিস নং : ৬৬৫৫; তাবারানি, হাদিস নং : ১৬৬০৯।
📄 তার নেতৃত্ব মেনে চলুন
প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, কারখানা এবং সংস্থার একজন দায়িত্বশীল পরিচালক প্রয়োজন। যে কোনো ধরনের সামাজিক জোট এবং সংস্থায় কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপরন্তু, এই ধরনের জোটের বিষয়গুলো পরিচালনা করার জন্য একজন পরিচালকের প্রয়োজন, যিনি দায়িত্বগুলো সমন্বয় করতে পারেন। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামাজিক জোট হচ্ছে 'পরিবার'। এই জোটের বিষয়াবলি পরিচালনা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং কঠিন ব্যাপার। নিঃসন্দেহে, একটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অবশ্যই গভীর বোঝাপড়া এবং সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকতে হবে। তবে এমন একজন পরিচালকও থাকতে হবে যিনি পরিবারের কাজগুলো দায়িত্বশীলতার সাথে করতে পারেন। বলাই বাহুল্য, যদি পরিবার এমন কোনো ব্যক্তিকে মান্য না করে, যিনি পরিবারের সদস্যদের সংগঠিত করতে পারেন, তবে তা থেকে অশান্তি এবং চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারে। অতএব, হয়ত স্বামীর পরিবারের পরিচালক হিসেবে কাজ করা উচিত এবং স্ত্রী তাকে অনুসরণ করবে, কিংবা না হয় তার বিপরীত। তবে যেহেতু পুরুষরা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে যৌক্তিক দিক প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, তাই তারা আরও ভালো তত্ত্বাবধান করতে পারেন।
মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআন শরিফে এরশাদ করেছেন যে—
অর্থ: “পুরুষেরা নারীদের অভিভাবক। কারণ, আল্লাহ তাদের একের ওপর অপরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং পুরুষেরা নিজের ধন-সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সতী-সাধ্বী স্ত্রীরা অনুগত। স্বামীর অনুপস্থিতিতে তারা গোপন বিষয় রক্ষা করে, যেহেতু আল্লাহ গোপন রাখেন। যদি স্ত্রীদের অবাধ্যতার আশংকা করো তবে প্রথমে তাদের সৎ উপদেশ দাও। এরপর তাদের শয্যা থেকে পৃথক করো এবং তারপরও অনুগত না হলে তাদেরকে শাসন করো। এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের সাথে কর্কশ আচরণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত- মহীয়ান।”৩৬
আর তাই, পরিবারের সদস্যদের জন্য লাভজনক যে— পুরুষ সদস্যকে অভিভাবক হিসেবে মেনে চলা এবং সকল কাজ তার তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা। তবে কারও মনে করা উচিত নয় যে ঘরের মহিলাদের মর্যাদাকে এখানে হীন করা হয়েছে, কিন্তু এটা সত্য যে— ঘরে শৃঙ্খলা রক্ষা করার জন্য স্বামীর কর্তৃত্ব প্রয়োজন। যে সব মহিলারা পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে ভাবতে পারেন তারা এটি সহজেই বুঝতে পারবেন।
এক মহিলা বলেছিলেন—
'বাংলাদেশে আমাদের একটি ভালো ঐতিহ্য ছিল; যা দুর্ভাগ্যক্রমে ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে গেছে। এই রীতিতে ঘরের পুরুষ মানুষটি পারিবারিক বিষয়াবলির দায়িত্বে থাকতেন। তিনি কর্তা হিসেবে নিয়োজিত হতেন। ইদানীং পরিস্থিতি বদলে যাচ্ছে এবং পরিবারে কে তাদের দায়িত্ব নেবে সে বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। আমি বিশ্বাস করি যে— এখনকার মহিলাদের কমবেশি পুরুষের সমান সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তার স্বামীকে বাড়ির প্রধান হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। এই পুরোনো ঐতিহ্যটি আজকের তরুণীদের কাছে তুলে ধরতে হবে, যারা বিবাহ করতে চায়। তার বিয়ের পোশাক পরে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করা উচিত এবং কাফন পরা অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে আসা উচিত।'
তবে এটা সত্য যে— দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার কারণে পুরুষরা সকল পারিবারিক কাজে অংশ নিতে পারে না। বাস্তবে স্ত্রী তার ইচ্ছা অনুযায়ী সংসার পরিচালনা করে। কিন্তু তবুও পুরুষের শাসন করার অধিকার রয়েছে এবং একইভাবে তাকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়া উচিত। সুতরাং, তার উচিত পরিবারের যে কোনো বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করা বা পরামর্শ দেওয়া। স্ত্রীর কোনোভাবেই তার নেতৃত্ব অস্বীকার করা উচিত নয়। অন্যথায়, লোকটি নিজেকে অসহায় মনে করবে এবং স্ত্রীকে একজন রূঢ় এবং অকৃতজ্ঞ নারী হিসেবে বিবেচনা করবেন। তিনি তার বিরুদ্ধে বিরক্তি পোষণ করতে পারেন। এমনকি পরবর্তী পর্যায়ে স্ত্রীর বৈধ ইচ্ছাপূরণ থেকেও বিরত থাকতে পারেন।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—
অর্থ: “একজন ভালো মহিলা তার স্বামীর ইচ্ছার প্রতি মনোযোগ দেয় এবং তার ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করে।”৩৭
আল্লাহর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—
অর্থ: “নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, নিজের সতীত্বের হেফাজত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে, তবে তার জন্য জান্নাতের সবগুলো দরজা খুলে যায়।”৩৮
নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন—
অর্থ: “কোনো মানুষকে সেজদা করা বৈধ হলে আমি নারীদেরকে আদেশ করতাম তারা যেন নিজের স্বামীকে সেজদা করে। যদি কারো স্বামী তাকে আদেশ করে এক পাহাড়ের পাথর আরেক পাহাড়ে জমা করতে, তবে তার সেটাই করা উচিত।”৩৯
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন—
অর্থ: “সবচেয়ে দুর্ভাগ্য হলো স্ত্রী হিসেবে এমন নারী পাওয়া, যে তার স্বামীর সাথে দুর্ব্যবহার করে, মুখে মুখে তর্ক করে স্বামীকে কষ্ট দেয়।”৪০
প্রিয় বোন! আপনার স্বামীর কর্তৃত্ব মেনে নিন। পরিবারের সকল বিষয়ে তাকে তদারক করতে দিন। তার আদেশ লঙ্ঘন করবেন না। ঘরোয়া ও পারিবারিক বিষয়ে তার অংশগ্রহণে বাধা দেবেন না বা বিরোধিতা করবেন না। এমনকি আপনার দক্ষতা রয়েছে এমন বিষয়েও তার অংশগ্রহণকে অগ্রাহ্য করবেন না। কার্যত তাকে ক্ষমতাহীন করে দেবেন না। তাকে মাঝে মাঝে আপনার কাজেও অংশ নিতে দিন। আপনার সন্তানদের তার শাসনকে শ্রদ্ধা করতে এবং তাদের সকল বিষয়ে তাদের বাবার কাছ থেকে অনুমতি নিতে শিক্ষা দিন। আপনার সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই পিতামাতার আদেশের অবাধ্য না হওয়া শিখতে হবে। জীবনে যখন কঠিন সময় আসবে এবং জীবন উত্থান-পতনে ভরে উঠবে তখন ধৈর্যশীল হোন। ভাগ্যের চাকা সর্বদা আমাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ঘোরে না। মানুষকে নানা ধরনের কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। অনেকে অসুস্থ হয়। অনেকে চাকরি হারিয়ে ফেলে। আবার কেউ কেউ তার সমস্ত ধন-সম্পদ হারিয়ে ফেলে। প্রত্যেকটি মানুষের জীবনেই নানা ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। একজন পুরুষ এবং একজন মহিলা, যারা একে অপরের প্রতি আনুগত্যের শপথ করেছেন এবং বিবাহের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন, তাদের জীবনের পথে একে অপরের হাতে হাত রেখে চলা উচিত। এ বন্ধন এতটাই দৃঢ় হওয়া উচিত যেন সুস্থতা-অসুস্থতায় কিংবা দারিদ্র্য-স্বচ্ছলতায় বা ভালো-খারাপ সময়গুলোতে তাদের একত্রে ধরে রাখতে পারে।
প্রিয় বোন!
যদি আপনার স্বামী দরিদ্র হয়ে যায় তবে অবশ্যই তার বিপদে আপনাকে সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখতে হবে। যদি সে অসুস্থ হয়ে ঘরে বা হাসপাতালে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে, তবে তার প্রতি আপনার আরও সহনশীল হতে হবে। আপনাকে অবশ্যই তার সেবা শুশ্রূষা করতে হবে। প্রয়োজনে তার পাশে থাকতে হবে এবং তার জন্য অর্থ ব্যয় করতে হবে। আপনার নিজের টাকা থাকলে তার চিকিৎসার জন্য আপনাকে খরচ করতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যদি অসুস্থ হন তাহলে আপনার স্বামীই আপনার চিকিৎসার খরচ বহন করবে। আপনি কি স্বামীর সুস্থতার চেয়ে আপনার অর্থ-সম্পদ ধরে রাখা বেশি পছন্দ করবেন? আপনি যদি এইরকম সংবেদনশীল সময়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হন, তবে তিনি আপনার উপর হতাশ হবেন এবং এমনকি আপনার সাথে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তও নিতে পারেন।
কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েছিল। ডাক্তার তাকে বলেছিলেন— হোম কোয়ারেন্টিনে থেকে তাকে ওষুধ ও ভালো খাবার খেতে হবে। সে তার স্ত্রীকে বলেছিল যে— সে যা সঞ্চয় করেছে সেখান থেকে তাকে যেন কিছু টাকা ঋণ হিসেবে দেয় এবং ভালো খাবার ও ওষুধ কিনে আনে। কিন্তু এতে সে দ্বিমত পোষণ করে এবং বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ফলস্বরূপ তাকে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করতে হয়েছিল। এখন তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এমন মহিলার সাথে সে আর থাকতে ইচ্ছুক নয় যার কাছে কিনা তার স্বামীর চেয়ে অর্থের প্রাধান্য বেশি। এই মহিলাকে কীভাবে একজন ‘স্ত্রী’ হিসেবে মানতে পারেন?
প্রত্যেক বিবেকবান ব্যক্তিই স্বীকার করবে যে— উপরোক্ত ক্ষেত্রে, লোকটিই সঠিক ছিল। এই ধরনের মহিলা; যে তার স্বামীর চিকিৎসার জন্য অর্থ ব্যয় করতে চান না, তিনি ‘স্ত্রীধর্ম’ এর মতো সম্মানিত অবস্থানের যোগ্য নন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামী অসুস্থতায় ভুগলে তার প্রতি নির্দয় আচরণ না করার বিষয়ে সতর্ক থাকুন। কীভাবে আপনি তাকে এবং আপনার সন্তানদের ছেড়ে চলে যেতে পারেন? আপনি এমন একজনকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারেন যার সাথে আপনি অনেক আনন্দময় দিন এবং রাত কাটিয়েছেন? আপনি কীভাবে জানবেন যে— একই রকম ভাগ্য আবারও আপনার জন্য অপেক্ষা করছে কি না? আপনি কীভাবে নিশ্চিত হতে পারেন যে অন্য কোনো লোক তার চেয়েও ভালো হবে? জেদি এবং স্বার্থপর হয়ে উঠবেন না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং আপনার নিজের সম্মান ও সন্তানদের স্বার্থে ত্যাগ স্বীকার করুন এবং নিজেকে উৎসর্গ করে দিন। ধৈর্য ধরুন এবং আপনার বাচ্চাদের নিষ্ঠা, ভালোবাসা এবং ধৈর্যের শিক্ষা দিন। নিশ্চিত থাকুন, এই দুনিয়া এবং পরকালে আপনাকে সম্মানের সাথে পুরস্কৃত করা হবে। আপনার স্বামীর সেবা-যত্ন করা তার প্রতি ভক্তি প্রদর্শনের সর্বোত্তম পন্থা যা জিহাদের স্তরে স্থাপন করা হয়েছে।
টিকাঃ
৩৬ সূরা নিসা: ৩৪।
৩৭ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ৭৪২১; সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং: ৩২৩১।
৩৮ মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ১৬১৬; তাবারানি, হাদিস নং: ৪৫৯৮।
৩৯ ইবনে মাজা, হাদিস নং: ১৮৫২; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং: ২১৯৮৬।
৪০ মুসতাদরাক, হাদিস নং: ২৭৩২।
📄 মুখ গোমড়া করে থাকবেন না
মুখ গোমড়া করে চুপ করে থাকবেন না। কিছু মহিলার এমন স্বভাব আছে যে—স্বামীর প্রতি বিরক্ত হলে মুখ গোমড়া করে রাখে। কথা বলতে চায় না। সংসারের কাজ করে না। খায় না, বাচ্চাদের মারে বা দোষারোপ করে। তারা বিশ্বাস করে যে—কথা না বলা বা ঝগড়া করা স্বামীদের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার সর্বোত্তম উপায়। এই মনোভাবটি লোকটিকে কেবলমাত্র শাস্তি দিতেই ব্যর্থ হয় না, বরং পরিশেষে তাকে প্রতিশোধপরায়ণও করে তোলে। তখন একের পর এক ঝগড়ার কারণে জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। মহিলাটি বিলাপ করতে শুরু করে দেয় এবং তখন লোকটিও তাই করে। মহিলা কথা বলতে অস্বীকার করে এবং লোকটি তখন প্রতিশোধ নেয়। মহিলাটি কিছু একটা করলে, পুরুষটিও ক্লান্ত না হওয়া পর্যন্ত একই কাজ করতে থাকে এবং আত্মীয় বা বন্ধুদের মধ্যস্থতার মাধ্যমে পুনর্মিলন না করা পর্যন্ত একই রকম চলতে থাকে। তবে এমন না যে তারা প্রথমবারের মতো ঝগড়া করছে। এরপর সবকিছু আগের মতো চলতে থাকলেও তিক্ততার স্বাদ রয়ে যায়।
অতএব, আজীবন পারিবারিক কলহ-বিবাদের মধ্য দিয়ে যাওয়া বাবা-মা কিংবা সন্তান কারো পক্ষেই সুখকর হবে না। বখাটে তরুণদের বেশিরভাগই এই ধরণের পরিবার থেকে আসে এবং অপরাধ ও দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে যায়। চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক যুবক তার বাবা-মাকে তার অপরাধের জন্য দোষ দিয়ে বলেছিল— 'আমার বাবা-মা প্রতিদিন ঝগড়া করে তাদের আত্মীয়দের কাছে চলে যেতেন। আমি রাস্তায় এদিক ওদিকে ঘুরে বেড়াতাম। আমি তখন অন্যদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে পরে চুরি করেছিলাম।'
দশ বছরের এক কিশোরী সমাজকর্মীদের বলেছিল— 'আমার অস্পষ্টভাবে মনে আছে যে—একদিন রাতে আমার বাবা-মা কোনো বিষয় নিয়ে তর্ক করেছিলেন। পরের দিন, আমার মা চলে গেলেন এবং কয়েক দিন পরে, বাবা আমাকে আমার খালার কাছে নিয়ে গেলেন। কিছুদিন পর এক বৃদ্ধ মহিলা আমার খালার বাড়ি থেকে আমাকে রাজশাহী নিয়ে আসেন। এখন কয়েক বছর হয়ে গেছে, আমি তার সাথে আছি এবং এতটা কষ্ট সহ্য করেছি যে—আমি তার কাছে আর ফিরে যেতে চাই না।'
এক শিক্ষক বলেছিলেন— সে আমার শিক্ষার্থী ছিল। সে তার পড়াশোনায় ভালো ফলাফল করছিলো না। কোনো সমস্যায় ভুগছে বলে মনে হতো। তাকে সর্বদা চিন্তাগ্রস্থ দেখাতো। এমনকি সে বাড়ি ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি বাদ দিয়ে স্কুলের উঠোনে বসে থাকতো। দুদিন আগে আমি তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, সে বাড়ি যাচ্ছে না কেন? সে জবাব দিয়েছিল যে—সে একজন বৃদ্ধ মহিলার সাথে বসবাস করত, যে তাকে অপক্সন্দ করত এবং তাই সে আর কোনোভাবে বাড়ি ফিরে যেতে চায় না। আমি তার বাবা-মা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। সে বললো যে—তারা পৃথক হয়ে গেছে।
প্রিয় বোন!
আপনার মনে রাখতে হবে যে—আপনার স্বামী যদি তার সাথে কথা না বলার জন্য আপনার প্রতি কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান, তবে তিনি আপনাকে মারার মতো কঠোর পদক্ষেপও গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলস্বরূপ আপনি বাড়ি ছেড়ে বাবা-মার কাছে চলে গেলে আপনার পিতা-মাতা হস্তক্ষেপ করবে এবং আপনাদের মধ্যে মনোমালিন্য আরও বৃদ্ধি পাবে। শেষমেষ আপনাদের বিবাহবিচ্ছেদও হতে পারে, এতে করে আপনি আপনার স্বামীর চেয়েও বেশি কিছু হারাবেন। আপনাকে সারা জীবন একা থাকতে হতে পারে। পরবর্তীতে নিশ্চয়ই আপনি এই বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করবেন।
একজন মহিলা বলেছিলেন— 'কিছুদিন আগে আমার বিয়ে হয়েছিল। আমি আমার স্বামীর সেবা-যত্নের ব্যাপারে বেশি কিছু জানতাম না এবং সেও আমার দেখাশোনা করার বিষয়ে তেমন বেশি কিছু জানত না। আমরা প্রতিদিনই ঝগড়া করতাম। এক সপ্তাহ আমি কথা বলিনি এবং পরের সপ্তাহ তিনিও আমার সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেন। শুধুমাত্র শুক্রবারে, বন্ধুবান্ধব এবং আত্মীয়দের মধ্যস্থতার কারণে আমরা ভালো ভাবে থাকতাম। ধীরে ধীরে আমার স্বামী আমার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েন এবং আমাকে তালাক দিয়ে পুনরায় বিয়ে করার কথা ভাবেন। যেহেতু আমি তখন ছোট ছিলাম তাই আমি নিজেকে পরিবর্তন করতে রাজি ছিলাম না এবং বিবাহবিচ্ছেদে আপত্তি জানালাম না। আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেল এবং আমি একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিলাম। শীঘ্রই আমি বুঝতে পারি যে বিপদ আসন্ন। বেশির ভাগ লোক, যাদের সাথে আমার দেখা হয়েছিল, তারা আমার সাথে প্রতারণা করতে চেয়েছিল। আমি আমার প্রাক্তন স্বামীর সাথে পুনর্মিলন করার সিদ্ধান্ত নিলাম এবং তার বাসায় গেলাম। সেখানে একজন ভদ্রমহিলার সাথে সাক্ষাত হলো যিনি নিজেকে তার স্ত্রী হিসাবে পরিচয় দিলেন। বাড়ি ফেরার সময় আমি সারা পথ কাঁদতে থাকলাম। আমি আমার বিবাহবিচ্ছেদের জন্য আফসোস করতে থাকলাম, তবে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।'
বাইশ বছরের এক যুবতী মহিলা; যিনি বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ার পরে তার সন্তান নিয়ে বাবা-মায়ের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন এবং বোনের বিয়ের রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।
প্রিয় বোন!
আপনার স্বামীর সাথে মুখ গোমড়া করে কথা না বলে হাসিমুখে থাকার ব্যাপারটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। আপনি যদি তার উপর বিরক্ত হন তবে ধৈর্য ধরুন। আপনি শান্ত থাকুন এবং শান্তভাবে আপনার বিরক্তির ব্যাপারটি তাকে বুঝিয়ে বলুন। আপনি উদাহরণস্বরূপ তাকে বলতে পারেন, 'আপনি গতকাল আমাকে অপমান করেছেন, বা আপনি আমার চাহিদাকে অগ্রাহ্য করেছেন, আমার সাথে আপনার এইরকম আচরণ করা কি ন্যায়সংগত?' এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি যে আপনাকে কেবল মানসিক প্রশান্তিই দিবে তা না, বরং তাকেও সতর্ক করবে। তারপরে তিনি তার অন্যায় কাজগুলো শোধরাবার চেষ্টা করবেন এবং আপনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন এবং ভালো ব্যবহার করবেন। ফলস্বরূপ, তিনি তার আচরণ পর্যালোচনা করবেন এবং নিজেকে সুশৃঙ্খল করার চেষ্টা করবেন।
মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন— অর্থ : “কোনো মুসলমানের জন্য হালাল নয় অপর মুসলমানের সাথে তিন দিনের বেশি কথা না বলা, সাক্ষাতে দুজন দুদিকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া। তাদের মাঝে শ্রেষ্ঠ সে, যে আগে সালাম দিয়ে বিবাদ মিটিয়ে ফেলে।”৪১ আরেক বর্ণনায় আছে, "তিন দিনের বেশি কথা না বলা অবস্থায় কেউ মারা গেলে সে জাহান্নামী হবে।”৪২
টিকাঃ
৪১. সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ৬২৩৭; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং: ৬৫৩২।
৪২. আবু দাউদ, হাদিস নং: ৪৯১৪।